ছবি- সংগৃহীত
শাসনের সীমানা নির্ধারণের জন্য উনিশ শতকে ব্রিটিশদের তৈরি করা একটি রেখা ২০২৬ সালে এসেও সংঘাতের ক্ষেত্রে পরিণত হলো। ২০২১ সালে তালেবানরা আফগানিস্তানের ক্ষমতায় বসার পর পাকিস্তানের সঙ্গে এই সীমান্তে সংঘর্ষ হয়েছে ৭৪টি। শুক্রবার ৭৫ নম্বর সংঘর্ষকে ‘সম্মুখ বা প্রকাশ্য যুদ্ধ’ হিসেবে ঘোষণা করেছে ইসলামাবাদ। প্রতিবেশী দুই দেশের বিবাদমান এই সীমান্তের নাম ‘ডুরান্ড লাইন’।
সিআইএর নথির তথ্য অনুযায়ী, ১৮৯৩ সালে ভারত আর আফগানিস্তানকে ভাগ করতে এই সীমান্ত রেখা তৈরি করে দেন তৎকালীন ব্রিটিশ কর্মকর্তা স্যার মর্টিমার ডুরান্ড। আফগানিস্তানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন তৎকালীন শাসক আব্দুর রহমান খান। কিন্তু এতে পশতুন সম্প্রদায় ভিন্ন দুই দেশে বিভক্ত হওয়ায় ‘ডুরান্ড লাইন’ ঘিরে বিতর্ক এখনো টিকে আছে। ১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান ভাগের পর ইসলামাবাদ রেখাটিকে স্বীকৃতি দিলেও আফগানিস্তান অস্বীকার করে আসছে।
প্রায় ২ হাজার ৬১১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সীমান্তে পাকিস্তানের দুই প্রদেশ বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়া। বছরের পর বছর ধরে সীমান্ত ঘিরে সংঘাতের বড় ধাক্কা সামলাচ্ছেন প্রদেশ দুটির বাসিন্দারা।
পাকিস্তানের দাবি, এই অঞ্চলকেন্দ্রিক জঙ্গিগোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান বা টিটিপিসহ অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীকে প্রশ্রয় দেয় আফগানিস্তানের তালেবান সরকার। এসব সন্ত্রাসীদের দমন করতেই তারা আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল ও সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে হামলা চালিয়েছে। তবে টিটিপিকে প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ ২০২১ সালে ক্ষমতায় বসার পর থেকেই অস্বীকার করছে কাবুলের বর্তমান প্রশাসন।
উত্তেজনার কেন্দ্রে টিটিপি
আলজাজিরা বলছে, টিটিপি ২০০৭ সালে পাকিস্তানে আত্মপ্রকাশ করলেও তালেবানের সঙ্গে তাদের গভীর আদর্শিক, সামাজিক ও ভাষাগত সম্পর্ক আছে। গত কয়েক বছর ধরে খনিজ সমৃদ্ধ প্রদেশ বেলুচিস্তানের স্বাধীনতাকামী সংগঠন ‘বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)’ ও টিটিপি সশস্ত্র হামলার ঘটনা ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছে। ইসলামাবাদের অভিযোগ, তালেবান সরকার এসব হামলার সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে জড়িত।
টিটিপির বিরুদ্ধে অভিযানের কথা বলে গত বছরের অক্টোবরে কাবুলে বিমান হামলা চালিয়েছিল ইসলামাবাদ। এরপর দুই দেশের মধ্যে টানা কয়েকদিন সীমান্তবর্তী এলাকায় সংঘাত হয়। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৭০ জন প্রাণ হারান। পরে তুরস্ক ও কাতারের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও তা কয়েকদিনের মধ্যে ভেঙে পড়ে।
দুই দেশের মধ্যে প্রায়ই বিচ্ছিন্নভাবে সংঘাতের শুরুটা হয় ২০২১ সালে। সে বছর আফগানিস্তান থেকে চলে যায় ন্যাটো ও মার্কিন সেনারা। ক্ষমতায় বসে তালেবান। ন্যাটো ও মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বেশ কয়েক বছর কাজ করেছেন আফগান বংশোদ্ভূত সামি ওমারি। তিনি দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার নিরাপত্তা ও কৌশলগত বিষয়ের বিশ্লেষক হিসেবে পরিচিত।
শুক্রবার আলজাজিরাকে সামি জানিয়েছেন, প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে ২০২১ সালের পর মোট ৭৫টি সংঘর্ষ হয়েছে। এর মধ্যে শুক্রবারের ঘটনাসহ পাকিস্তান সাত দফায় কাবুলে বিমান হামলা চালিয়েছে।
ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক থিঙ্কট্যাঙ্ক স্টিমসন সেন্টারের দক্ষিণ এশিয়া কর্মসূচির পরিচালক এলিজাবেথ থ্রেলকেল্ড বলেছেন, দেশ দুটির মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘর্ষ আকস্মিক ঘটনা নয়। বরং গত কয়েক মাস ধরে চলা চরম উত্তেজনার বহিঃপ্রকাশ।
থ্রেলকেল্ড বলেন, ‘এর মাঝে আমরা পাকিস্তানের অভ্যন্তরে বেশ কিছু বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলা হতে দেখেছি। একের পর এক ওই হামলাগুলোর পর দুই দেশের সম্পর্ক তিক্ত হওয়া এবং পরিস্থিতি আবারও সংঘাতের দিকে মোড় নেওয়াতে আমি মোটেও অবাক হইনি।’
তালেবান কেন টিটিপিকে থামায় না
বিশ্লেষকদের মতে, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে আফগানিস্তানের ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সংঘাত পর্যবেক্ষণ সংস্থা ‘আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটা’ -এর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক পার্ল পান্ডে আলজাজিরাকে বলেন, ‘আফগান তালেবান সম্ভবত টিটিপির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে অনিচ্ছুক।’
এর পেছনে দুটি কারণের কথা উল্লেখ করেছেন পান্ডে। প্রথমত, দুই গোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিনের সখ্যতা। অন্য কারণটি ‘ইসলামিক স্টেট খোরসান প্রভিন্স (আইএসকেপি)’ কেন্দ্রিক। এই সংগঠনটি তালেবানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পরিচিত। বিরোধীতা করলে টিটিপি আইএসকেপিতে যোগ দিতে পারে বলে শঙ্কা আছে তালেবানদের মধ্যে।
পার্ল পান্ডে বলেন, কিন্তু পরিস্থিতি এখন এমন হয়েছে যে, আফগান তালেবান যদি টিটিপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয় তবে পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি অনিবার্য।
সংঘাত কেন সীমান্তে তীব্র
আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে পাকিস্তান বিমান হামলা চালালেও আকাশপথে পাল্টা জবাব দিতে পারেনি তালেবান। আলজাজিরার সাংবাদিক কামাল হায়দার জানিয়েছেন, কাবুলের কোনো বিমান বাহিনী নেই। ফলে আন্তঃসীমান্ত হামলার ক্ষেত্রে ইসলামাবাদ সুবিধাজনক অবস্থায় আছে।
পাকিস্তানের বাহিনী কি সীমান্ত অতিক্রম করবে? কামাল হায়দার বলেছেন, এর সম্ভাবনা খুবই কম। তবে ভারী কামানের গোলা ব্যবহার করে সীমান্তে উভয় পক্ষের ক্রমাগত গুলি বিনিময় চলতেই থাকবে- এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
কেন ডুরান্ড লাইনে অস্বীকৃতি
ব্রিটিশদের তৈরি করা এই রাজনৈতিক সীমান্ত রেখা ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত সর্বজন স্বীকৃত ছিল। কিন্তু ১৯৪৭ সালে উপমহাদেশ বিভক্ত হয়ে ভারত ও পাকিস্তান সৃষ্টি হলে আফগানিস্তান রেখাটিকে সীমানা হিসেবে প্রত্যাখ্যান করে।
২০১২ সালে প্রকাশিত সিআইএর একটি নথিতে বলা হয়েছে, আফগানিস্তানের এই প্রত্যাখ্যানের মূল ভিত্তি হলো- ডুরান্ড চুক্তি। এতে ডুরান্ড লাইনকে সীমানা হিসেবে বর্ণনা করা হয়নি। বিষয়টির ব্যাখ্যায় সিআইএর প্রতিবেদনে স্যার ওলাফ ক্যারো নামে এক বিশেষজ্ঞের মন্তব্য যুক্ত করা হয়।
ওলাফ ক্যারোর মতে, চুক্তিটির সময় ডুরান্ড লাইনকে তৎকালীন আফগান শাসক আব্দুর রহমানের শাসনের সীমানা হিসেবে বর্ণনা করা হয়। কারণ পশতুন সম্প্রদায়কে ব্রিটিশরা তাদের প্রশাসনিক ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত করতে চায়নি। তাই তারা এই রেখার মাধ্যমে পূর্ব ও দক্ষিণ দিকের অঞ্চল থেকে আব্দুর রহমানের কর্তৃত্ব বাদ দিয়ে নিজেদের (ব্রিটিশ) কর্তৃত্ব বিস্তার করতে চেয়েছিল। তাই আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে এর কোনো গুরুত্ব ছিল না।
ভারতীয় গণমাধ্যম মিন্ট বলছে, তালেবানসহ আফগানিস্তানের পরবর্তী প্রতিটি সরকারই ডুরান্ড লাইনকে প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের যুক্তি, এই রেখাটি জাতিগত পশতুন ও বেলুচ সম্প্রদায়ের মাতৃভূমিকে দ্বিখণ্ডিত করেছে।
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজে ৭ জাহাজে মাইন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি ইরানের। ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে সাতটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করার দাবি করেছে ইরান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এই জলপথে জাহাজ চলাচলে সহায়তা অব্যাহত রাখলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার রাতভর হামলার শিকার হওয়া সাতটি জাহাজের মধ্যে চারটি থেকে তেল স্থানান্তরের কাজ চলছিল। হামলার পর জাহাজগুলোতে আগুন ধরে যায়। অন্য তিনটি জাহাজ মাইনে আঘাত হানার পর চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে বলে দাবি করেছে ইরান। তবে এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। হামলায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজগুলোর কোন দেশের পতাকা ছিল, সে বিষয়েও বিস্তারিত জানানো হয়নি।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে হুঁশিয়ারি দিয়েছে আইআরজিসি। তাদের বক্তব্য, ওয়াশিংটন যদি প্রণালির অন্যান্য অংশ দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচলে সহায়তা করে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোও ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে সংঘাত এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোতেও ছড়িয়ে পড়বে।’ এটিকে তারা গুরুতর সতর্কবার্তা হিসেবে উল্লেখ করেছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হতো। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই জলপথে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
কিম জং উন। ছবি: সংগৃহীত
সীমান্তের নতুন সেতু অতিক্রম করে উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন চীনের দানদং শহরে অত্যন্ত গোপনে এক ঝটিকা সফর সম্পন্ন করেছেন। দীর্ঘ ১২ বছর আগে নির্মিত ‘নিউ ইয়ালু রিভার ব্রিজ’ আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় এই প্রতীকী সফর অনুষ্ঠিত হলো। শনিবারের (২৪ অক্টোবর) এই একদিনের ঝটিকা সফর শেষে তিনি ইতোমধ্যেই স্বদেশে ফিরে গেছেন।
সফরকালে কিম জং উনের সঙ্গী ছিলেন চীনের চতুর্থ শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা ওয়াং হুনিং। তিনি চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের পক্ষ থেকে উত্তর কোরীয় নেতার কাছে আন্তরিক শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন। দুই নেতা একসঙ্গে স্থানীয় একটি অটোমোবাইল কারখানা পরিদর্শন করেন এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। এসময় কিম জানান, চীনের সঙ্গে ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব রক্ষা এবং ব্যবহারিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে প্রস্তুত রয়েছে পিয়ংইয়ং।
বিশেষ এই সফরটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যা ১৯৫০-১৯৫৩ সালের কোরিয় যুদ্ধে চীনের অংশগ্রহণের বর্ষপূর্তির ঠিক আগের দিন। সেই স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দানদং-এর কোরিয় যুদ্ধ স্মৃতিসৌধে যান কিম ও ওয়াং। সেখানে উত্তর কোরিয়ার পক্ষে যুদ্ধ করে প্রাণ উৎসর্গকারী চীনা সৈন্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন কিম জং উন। সফর শেষে নতুন সেতুর গোড়ায় এসে কিমকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানান ওয়াং হুনিং।
বিশ্লেষকদের মতে, ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নতুন চার লেনের সেতু চালুর মাধ্যমে চীন ও উত্তর কোরিয়ার বাণিজ্যের বড় বাধা দূর হলো। তবে কেবল অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বেইজিং ও মস্কোর সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ থেকে নিজের অবস্থান শক্ত করার কৌশল হিসেবেই কিম জং উনের এই হঠাৎ ও রহস্যময় চীন সফরকে দেখছেন আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র:আল-জাজিরা
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে আবারও বড় ধরনের হামলা বা কড়া অবরোধের চিন্তাভাবনা করছেন। তবে এতে একটুও দমে না গিয়ে ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, পারস্য উপসাগরে তারা কোনো মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে ঘেঁষতে দেবে না।
ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আলি আবদুল্লাহি কড়া ভাষায় ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, পারস্য উপসাগরে আবার মার্কিন সৈন্য পাঠানোর স্বপ্ন ট্রাম্পকে কবরে নিয়ে যেতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে তারা নাকি ইরানের সামরিক শক্তি ধ্বংস করেছে, অথচ নিজেদের যুদ্ধজাহাজগুলো ইরানের সীমানার কাছে পাঠাতে তারা ভয় পাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যেকোনো হামলার উপযুক্ত জবাব দিতে তেহরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
চীনে কিম জং উনের ২৪ ঘন্টার ‘রহস্যজনক’ সফর
এই সংঘাতের আতঙ্কে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু-হু করে বেড়ে প্রতি ব্যারেলে ১১৭ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ ‘হরমুজ প্রণালি’-তে একের পর এক তেলবাহী জাহাজে হামলা চলছে। পাশাপাশি ইয়েমেনের হুথি যোদ্ধাদের সঙ্গে সৌদি আরবের লড়াইও নতুন করে বেড়ে চলেছে।
সংঘাত থামাতে ইস্তাম্বুলে তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইউরোপীয় দেশগুলো বৈঠক করলেও সেখানে যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান উপস্থিত ছিল না। তুরস্ক সতর্ক করেছে, ইরানে নতুন হামলা পুরো অঞ্চলে আগুন জ্বালিয়ে দেবে। তবে ইরান পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, মার্কিন হামলা ও অত্যাচার না থামলে তারা কোনো আলোচনায় বসবে না এবং হরমুজ প্রণালিও মুক্ত করবে না।
সূত্র: আল-জাজিরা
মেগান মার্কেল ও তার বাবা থমাস মার্কেল। ছবি: সংগৃহীত
ব্রিটিশ রাজপরিবারের বধূ ও প্রিন্স হ্যারির স্ত্রী মেগান মার্কেলের বাবা থমাস মার্কেলের বিরুদ্ধে শিশুদের যৌন নিপীড়নের আপত্তিকর ছবি জমানোর এক মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর চরম ক্ষোভ ও গভীর মানসিক কষ্ট প্রকাশ করেছেন ডাচ অব সাসেক্স মেগান। এক বিবৃতিতে তিনি জানান, এমন বিভৎস খবর শুনে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত ও বিপর্যস্ত। ঘটনার শিকার হওয়া নিরীহ শিশুদের নিরাপত্তার কথা ভেবে তিনি গভীরভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
যুক্তরাজ্যের ‘দ্য সান’ পত্রিকার একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়, মেগানের সৎ ভাই থমাস মার্কেল জুনিয়র ফিলিপাইনে তাদের বাবার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে এই আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও উদ্ধার করেন। তার দাবি, বাবার ড্রয়ার ও কম্পিউটারের হার্ডড্রাইভে শত শত শিশু নির্যাতনের ছবি ছিল। এরপরই তিনি ফিলিপাইন পুলিশ, যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই এবং শিশু সুরক্ষা সংস্থায় গিয়ে সরাসরি অভিযোগ করেন। ফিলিপাইন প্রশাসন ও যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই বর্তমানে যৌথভাবে এই ঘটনার তদন্ত করছে। তবে মেগানের বাবা থমাস মার্কেল সিনিয়র তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
বর্তমানে ফ্লোরিডায় চিকিৎসাধীন ৮২ বছর বয়সি থমাস জানান, তার ছেলে সম্পূর্ণ মিথ্যা গল্প ফেঁদেছে। মেগানের বোন সামান্থা মার্কলও বাবার পক্ষে কথা বলেছেন। তিনি দাবি করেন, এই কম্পিউটারগুলো দুই বছর ধরে অন্য মানুষদের হাতে ছিল এবং তার ভাই বানিয়ে বানিয়ে মিথ্যা অভিযোগ করছেন। এই ঘটনার পর মেগান মার্কেল তার বাবার সঙ্গে দীর্ঘদিনের দূরত্বের আসল কারণ স্পষ্ট করেছেন। তিনি জানান, আজ থেকে আট বছর আগে অর্থাৎ ২০১৮ সালেই পুলিশের পক্ষ থেকে তার বাবার বিরুদ্ধে কিছু আপত্তিকর অভিযোগের বিষয়ে তাকে জানানো হয়েছিল।
মেগান বলেন, এতদিন সংবাদমাধ্যমে নানা কথা ছড়ানো হলেও, মূলত সন্তানদের সুরক্ষার কথা ভেবেই তিনি বাবাকে নিজের পরিবার থেকে দূরে রেখেছিলেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এবার অন্তত মানুষ বুঝতে পারবে যে কেন তিনি এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং তিনি আশা করেন ভুক্তভোগী শিশুরা যেন দ্রুত ন্যায়বিচার পায়।
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের জন্য সামনে এক বড় ধরণের ‘চমক’ অপেক্ষা করছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি সেনাদের ওপর হামলার ঘটনার পর সেখানে বড় ধরণের সামরিক অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি তিনি এই মন্তব্য করেন।
ইসরাইলের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু স্পষ্ট জানান, ফিলিস্তিনকে কোনোভাবেই স্বাধীন রাষ্ট্র হতে না দেওয়া তাদের নির্বাচনের মূল লক্ষ্য। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের সোজা উত্তর না দিয়ে তিনি বলেন, হঠাৎ এবং আচমকা পদক্ষেপ নেওয়াই তার বেশি পছন্দ। নেতানিয়াহু আরও জানান, ফিলিস্তিন থেকে আসা যেকোনো সংকট মোকাবিলায় কিছু গোপন কৌশল ব্যবহার করা হবে, যা এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না। তবে ফিলিস্তিনি প্রশাসনের জন্য খুব শীঘ্রই এক বড় ধাক্কা আসতে চলেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের দাবি তুলে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন ছাড়াই তারা আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের আওতায় আরও কয়েকটি আরব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বের চুক্তি বাড়াবেন। অন্তত দুটিরও বেশি দেশের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, সেই দেশগুলো ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের কোনো শর্ত দেবে না, কারণ তারা ভালো করেই জানে যে ইসরাইল তা কখনোই মেনে নেবে না।
সূত্র: আল-জাজিরা