বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তার ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়া এবং চিকিৎসা নেওয়ার কথা এবার নিজেই জানিয়েছেন।
শুক্রবার নেতানিয়াহু নিজের বার্ষিক স্বাস্থ্য বিষয়ক তথ্য প্রকাশ করে জানান, তিনি প্রোস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং প্রাথমিক পর্যায়েই তিনি এর চিকিৎসা নিয়েছেন।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তার প্রোস্টেট সার্জারি হয়। এরপর এক রুটিন চেকআপে ধরা পড়ে তার প্রোস্টেটে ছোট একটি ক্যানসারযুক্ত টিউমার রয়েছে। ছড়িয়ে পড়ার আগেই সেটি শনাক্ত হয়। এরপর জেরুজালেমের হাদাসাহ মেডিকেল সেন্টারে সফল চিকিৎসায় ক্যানসার টিউমারটি নির্মূল হয়েছে। এখন তিনি সুস্থ্য আছেন।
ইরানে যুদ্ধের কারণে এতদিন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার খবর জনসম্মুখে আনা হয়নি বলে জানান নেতানিয়াহু।
তিনি বলেন, তাকে তার বার্ষিক স্বাস্থ্য বিষয়ক তথ্য দেরি করে প্রকাশ করতে বলা হয়েছিল, যাতে ইরানে যুদ্ধ চলার মাঝে তার স্বাস্থ্য নিয়ে কোনও উদ্বেগ ছড়িয়ে না পড়ে।
তবে এখন পরিস্থিতি পাল্টেছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অনির্দিষ্টকালের যুদ্ধবিরতি চলছে আর নেতানিয়াহু নিজেও চিকিৎসা করে সেরে উঠেছেন।
নেতানিয়াহু জানান, তিনি এখন শারিরীকভাবে ‘দারুণ’ আছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “দেড়বছর আগে আমার বড় হয়ে যাওয়া প্রস্টেটের সফল অস্ত্রোপচার হয়। তখন থেকে আমি নিয়মিত মেডিকেল চেকআপে ছিলাম।
“শেষবারের চেকআপে ধরা পড়ে প্রোস্টেটে এক সেন্টিমিটারের চেয়েও ছোট একটি টিউমার রয়েছে। পরীক্ষা-নীরিক্ষায় বোঝা যায়, সেটি ছিল একটি ক্যান্সারযুক্ত টিউমার। তবে সেটি একেবারেই প্রাথমিক পর্যায়ে ছিল। কোথাও ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়েনি।”
“তখন আমাকে এই টিউমার সরিয়ে ফেলার জন্য চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।” এরপর হাদাসা মেডিকেল সেন্টারে কোনও জটিলতা ছাড়াই চিকিৎসা সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান নেতানিয়াহু।
ছবি : সংগৃহীত
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় আসাম রাজ্যে বিজেপিদলীয় মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সরকার ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে। দখলমুক্ত করেছে বিস্তৃত বনভূমি। এতে বাস্তুচ্যুত হয়েছে ৫০০-এর বেশি পরিবার। এসব পরিবারের অধিকাংশই মুসলিম।
মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত দাবি করেছেন, রাজ্যের উন্নয়নের ‘রুদ্র রূপ’ প্রদর্শন করেছে প্রশাসন। অন্যদিকে সরকারের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ তুলেছে সংখ্যালঘু সংগঠন। কারণ, যাঁদের উচ্ছেদ করা হয়েছে তাদের অধিকাংশই বাঙালি মুসলিম।
আসামের তিনটি জেলায় ব্যাপক অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ সরকারি বনভূমি দখলমুক্ত করা হয়েছে। রাজ্য প্রশাসনের দেওয়া সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গোলাঘাট, হোজাই ও নগাঁও জেলায় এক সপ্তাহের মধ্যে ৬৩৮ হেক্টরের বেশি জায়গা থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হয়েছে। পুরো অভিযানের প্রধান লক্ষ্য ছিল মূলত বন বিভাগের সুরক্ষিত জমি রক্ষা করা এবং অবৈধভাবে গড়ে ওঠা নানা কাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়া।
গত শনি ও রোববার নগাঁও, হোজাই এবং গোলাঘাট জেলায় মূল অভিযান পরিচালনা করে বন বিভাগ। এর মধ্যে রোববার নগাঁও জেলার লুতুমাই সংরক্ষিত বনাঞ্চলে সবচেয়ে বড় অভিযান পরিচালিত হয়। সেখানে এক দিনেই প্রায় ৩১৪ হেক্টর জমি দখলমুক্ত করা হয়। এতে প্রায় ৫৫০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, তিনটি জেলা মিলিয়ে উচ্ছেদ হওয়া পরিবারের সংখ্যা এক হাজারের কাছাকাছি।
বন কর্মকর্তাদের দাবি, গত আগস্ট মাসেই মাইকিং করে স্থানীয় বাসিন্দাদের এলাকা ছেড়ে যাওয়ার অনুরোধ করা হয়েছিল। এরই ফলে উচ্ছেদ অভিযান শুরুর আগেই প্রায় ৯০ শতাংশ কথিত দখলদার স্বতঃস্ফূর্তভাবে জায়গা খালি করে চলে যান। তা ছাড়া এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া আদালতের নির্দেশ মেনেই সম্পন্ন করা হয়েছে।
অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু পোস্টে দাবি করা হয়েছে, অভিযানে ১ হাজার ১০০-এর বেশি পরিবারকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা ছাড়াও বেশ কয়েকটি মসজিদ ভেঙে ফেলা হয়েছে। স্থানীয় ও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের পক্ষ থেকেও এই অভিযান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে।
অল আসাম মাইনরিটিজ স্টুডেন্টস ইউনিয়ন নামে একটি সংগঠন উচ্ছেদের ক্ষেত্রে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে দাবি করেছে, গত রোববারের অভিযানে সহস্রাধিক ঘরবাড়ির পাশাপাশি একাধিক মসজিদ ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
সংগঠনের সভাপতি জানিয়েছেন, লুতুমাই বনাঞ্চল থেকে উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলোর মধ্যে একটি বড় অংশকে ১৯৭৩ সালে সরকার সাময়িকভাবে সেখানে পুনর্বাসিত করেছিল।
ওই সংগঠনের দাবি, আদালত নির্দেশ দিলেও উচ্ছেদপ্রক্রিয়ায় নির্দিষ্ট এক সম্প্রদায়ের মানুষকে নিশানা করা হচ্ছে। অথচ অন্য ধর্মাবলম্বী বাসিন্দাদের ক্ষেত্রে এখনো নোটিশ দেওয়ার কাজ শুরু হয়নি। সব মিলিয়ে সম্পত্তি উদ্ধার ও স্থানীয় লোকজনের দাবির মধ্যে এক মিশ্র ও স্পর্শকাতর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
ফ্রান্সের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে প্রশিক্ষণ চলাকালে বিমান বাহিনীর একটি মিরাজ ২০০০ডি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে পাইলট নিহত হয়েছেন এবং নেভিগেটর নিখোঁজ রয়েছেন। বুধবার (২১ অক্টোবর) দেশটির সশস্ত্র বাহিনী মন্ত্রণালয় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ফরাসি সম্প্রচারমাধ্যম বিএফএমটিভি জানায়, ন্যান্সি-ওশে বিমানঘাঁটি থেকে ওড়া দুই সদস্য বিশিষ্ট ক্রুবাহী বিমানটি মঙ্গলবার গভীর রাতে ন্যান্সি শহরের কাছে মার্থ-এ-মোজেল বিভাগে দুর্ঘটনায় পড়ে। স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে ন্যান্সির উত্তরে রোজেভিল, দোমেভ্র-অঁ-হে এবং ত্রঁবলেকুর গ্রামের মধ্যবর্তী এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
কর্মকর্তারা পাইলটের মৃত্যু নিশ্চিত করেছেন এবং নিখোঁজ নেভিগেটরকে উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রেখেছেন। নিকটবর্তী পঁত-আ-মুসঁ শহরের মেয়র অঁরি ল্যমোয়ান জানান, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের বিপুল সংখ্যক সদস্য উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছেন। রোজেভিলে একটি সংকট সমন্বয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং ড্রোন দিয়ে বিমানের ধ্বংসাবশেষ চিহ্নিত করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার কারণ ও পরিস্থিতি উন্মোচনে একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত শুরু করা হয়েছে। পুলিশ ও উদ্ধার তৎপরতার কারণে আশপাশের সড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে সতর্ক করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
ফ্রান্সে সহিংস বিক্ষোভ
ফ্রান্সে সহিংস বিক্ষোভ ও লুটপাটের পর আগামী শনিবারের সম্ভাব্য কর্মসূচি ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করছে সরকার। এদিন পুলিশের সহায়তায় সেনাবাহিনীর সদস্যদেরও মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনিয়েজ। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় পরিষদে তিনি বলেন, সহিংসতা দমনে সেন্তিনেল বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হবে, যাতে পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনী জেন্ডার্মস সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে মনোযোগ দিতে পারেন।
শনিবারের বিক্ষোভে পুলিশেরও ব্যাপক উপস্থিতি থাকবে বলে জানিয়েছেন ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকোর্নু। কট্টর বামপন্থিদের বিরুদ্ধে দাঙ্গা উস্কে দেওয়ার অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার জাতীয় পরিষদে তিনি বলেন, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও শিক্ষা খাতে বিশৃঙ্খলার প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভের সুযোগ নিয়েছে কট্টর বামপন্থি গোষ্ঠীগুলো। কিছু এলাকায় বামপন্থি গোষ্ঠীর নেতৃত্বে অভ্যুত্থানের তৎপরতাও দেখা গেছে। এসব গোষ্ঠীকে প্রেসিডেন্টের কার্যালয় কিংবা প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন অভিমুখে মিছিল করতে দেওয়া হবে না।
গত সোমবার সেন্ট্রাল প্যারিসসহ ফ্রান্সের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মার্সেইয়ের কিছু এলাকা এবং আরও কয়েকটি শহরে কারফিউ জারি করে বিক্ষোভ ও সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে মার্সেই শহরের কিছু এলাকায় অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য কারফিউ কার্যকরের খবর পাওয়া গেছে। মার্সেইয়ে এ পর্যন্ত ১০১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের প্রায় এক-চতুর্থাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক।
গত শনিবারের সহিংসতায় মার্সেই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতাদের হিসাবে, শহরটিতে পাঁচ শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সহিংসতায় সারাদেশে ১১৮ পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। পুলিশ ইউনিয়নের কর্মকর্তা আর্নড ব্লেস এ পরিস্থিতিকে যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, সহিংসতার মাত্রা ছিল নজিরবিহীন। বিক্ষোভে উস্কানি দিয়েছে কট্টর বামপন্থি ‘ব্ল্যাক ব্লক’ গোষ্ঠীর সদস্যরা। পরে আন্দোলনকারীদের একটি অংশ লুটপাটে জড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে প্রায় চার হাজার টিয়ার গ্যাসের শেল ছুড়তে হয়েছিল। এক পর্যায়ে গোলাবারুদ শেষ হয়ে যাওয়ায় পুলিশকে পিছু হটতে হয়।
গত সোমবার মার্সেই সফরে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নুনিয়েজ শহরের মেয়র বেনোয়া পায়ানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাতে মেয়র বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের পদক্ষেপ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে। পুলিশের সদস্য সংখ্যা ও মোতায়েনের কৌশল নিয়ে নতুন করে ভাবার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে অভিযান চালালে ভবিষ্যতেও লুটপাটের ঘটনা ঘটতে পারে।
ফ্রান্সে সহিংসতার মধ্যে অভিবাসীবিরোধী তির্যক মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার তিনি বলেন, প্যারিস শিগগিরই একটি ‘মুসলিম শহরে’ পরিণত হবে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁকে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে কঠোর হওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।
ইরানে আবার হামলা চালানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
তিনি বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তিনি ইরানের সরকারের পতন ঘটানোর ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গত রোববার ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর আলোচনায় ইরান সরকারের পতন ঘটানোর বিষয়ে নতুন উদ্যোগ নিয়ে কথা হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালায়। এর পাল্টা জবাবে ইসরায়েলে হামলা চালায় তেহরান। হামলা চালানো হয় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতেও। যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয় ইরান। বিশ্বব্যাপী জ্বালানির দামে অস্থিরতা শুরু হয়। যুদ্ধ শুরুর ৯ মাস পেরিয়ে গেলেও তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হয়নি। এর মধ্যেই নতুন হামলার ইঙ্গিত দিলেন নেতানিয়াহু।
এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু ইরান সরকারের পতন ঘটানোর বিষয়ে নতুন উদ্যোগ নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা ইরানের সরকারের পতন ঘটাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গতকালসহ বহুবার আমি এ বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করেছি।’
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সোমবার অঘোষিত সফরে ইসরায়েল গিয়ে নেতানিয়াহুর সঙ্গে ইরান প্রসঙ্গে আলোচনা করেছেন।ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র ডোরন স্পিলম্যান নিশ্চিত করেছেন, নেতানিয়াহুর সঙ্গে হেগসেথের বৈঠক হয়েছে নেগেভ মরুভূমি অঞ্চলের উভদা বিমানঘাঁটিতে।
তিনি রয়টার্সকে বলেন, নেতানিয়াহু ও হেগসেথ আঞ্চলিক হুমকি মোকাবিলায় আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক—উভয় কৌশলের ক্ষেত্রে মার্কিন-ইসরায়েল অংশীদারত্ব নিয়ে আলোচনা করেছেন।
তবে হেগসেথের এই সফরের বিষয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের উদ্দেশে ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে মধ্যপ্রাচ্যের ১২টি দেশে থাকা মার্কিন দূতাবাস। গতকাল সোমবার (১৯ অক্টোবর) এক যৌথ বিবৃতিতে এই সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ইউরো নিউজের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, জর্ডান, বাহরাইন, ওমান, ইরান, কাতার, ইরাক, লেবানন, ইয়েমেন এবং ইসরায়েল- এই ১২ দেশের মার্কিন দূতাবাস এই বিবৃতি দিয়েছে।
নাগরিকদের উদ্দেশে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সংঘাত, ফ্লাইট বাতিল ও আকাশসীমা বন্ধ থাকার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের আপাতত এসব দেশ ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।
বর্তমানে এই ১২টি দেশে যেসব মার্কিন নাগরিক আছেন, তাদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে, এয়ারলাইন্সের কার্যক্রমের ওপর নজর রাখতে, ওই অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন মিশনগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে এবং যেকোনো আকস্মিক পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত থাকার পরামর্শও দেয়া হয়েছে বিবৃতিতে।
এতে আরও বলা হয়েছে, ইরান এবং তেহরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো বিদেশে মার্কিন স্বার্থ, যেমন- যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। এতে ইরান-সমর্থিত হুতি বাহিনীর দ্বারা সৌদি আরবে চালানো হামলার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এসব হামলার মধ্যে বেসামরিক বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর চালানো আক্রমণগুলো সাধারণ মানুষের প্রাণহানি ঘটিয়েছে এবং ভ্রমণ ব্যবস্থায় মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে।
মার্কিন মিশনগুলো ভ্রমণকারীদের পরামর্শ দিয়ে বলেছে, ফ্লাইট নির্ধারিত সময়েই চলবে- এমনটা ধরে না নিয়ে বরং এয়ারলাইন্স বা বিমানবন্দরের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে যাত্রার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।
লেবাননে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস নাগরিকদের বৈরুত রফিক হারিরি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দিয়েছে। অন্যদিকে, ইয়েমেনে মার্কিন দূতাবাস ফ্লাইট সংক্রান্ত তথ্যের জন্য ‘ইয়েমেনিয়া এয়ারওয়েজ’ এবং ‘ফ্লাই এডেন এয়ারলাইন্স’ এর সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছে।
মিশনগুলোর পক্ষ থেকে মার্কিন নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ কর্মসূচি ‘স্মার্ট ট্রাভেলার এনরোলমেন্ট প্রোগ্রাম’ (স্টেপ)-এ নাম নথিভুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে নিরাপত্তা সংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য পাওয়া যায় এবং জরুরি পরিস্থিতিতে কূটনীতিকদের পক্ষে নাগরিকদের সাথে যোগাযোগ করা সহজ হয়।
এ ছাড়া স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরের দিকে নজর রাখা, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলা, ফোন চার্জ রাখা, লোকচক্ষুর আড়ালে থাকা এবং মার্কিন দূতাবাসের পরিষেবার সাথে সরাসরি যুক্ত স্থানগুলোতে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শও দিয়েছে মার্কিন দূতাবাস।