ইরাকের তেল মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী আলি মারিজ আল-বাহাদলি
ইরাকের তেল মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী আলি মারিজ আল-বাহাদলি এবং ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়া বাহিনীর কয়েকজন নেতার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির অর্থ বিভাগ এর কারণ দেখিয়েছে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করে ইরানকে তেল বিক্রিতে সহায়তা করছেন তাঁরা।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, ‘ইরানি শাসকগোষ্ঠী দুর্বৃত্ত চক্রগুলোর মতো ইরাকি জনগণের বৈধ সম্পদ লুট করছে। ইরান তার সামরিক শক্তি ব্যবহার করে ইরাকের তেলকে সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের জন্য কাজে লাগাচ্ছে। এটা যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হচ্ছে। আমরা তা নীরবে মেনে নেব না।’
গত বৃহস্পতিবার নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর ইরাক কিংবা ইরান—কোনো পক্ষই এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। নিষেধাজ্ঞাটি এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পারস্য উপসাগর থেকে তেল রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব নিয়ে সংঘাতে লিপ্ত।
ইরানের প্রতিবেশী দেশ ইরাক সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের চাপে আছে। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, তেহরানের বেশি ঘনিষ্ঠ হয়ে পড়ছে বাগদাদ। চলতি বছরের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, ‘ইরানপন্থী’ নুরি আল-মালিকি ইরাকের প্রধানমন্ত্রী হলে যুক্তরাষ্ট্র দেশটিকে সমর্থন দেওয়া বন্ধ করতে পারে। পরে অবশ্য আল-মালিকি প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ান।
নিষেধাজ্ঞা কাদের ওপর
যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া নিষেধাজ্ঞার তালিকায় নাম থাকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হলেন আল-বাহাদলি। তিনি বহু বছর ধরে ইরাকের তেল ব্যবস্থাপনার কাজ তদারক করেছেন। শুরুতে তিনি ইরাকের পার্লামেন্টের তেল ও গ্যাস কমিটির প্রধান ছিলেন। পরে তেলবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আসেন। ২০২৪ সাল থেকে তিনি মন্ত্রণালয়ের উপপ্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন।
অন্য যাঁদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, তাঁরা হলেন মুস্তফা হাশিম লাজিম আল-বাহাদলি, আহমেদ খুদাইর মাকসুস ও মোহাম্মদ ইসা কাদিম আল-শুয়াইলি। এর মধ্যে আল-বাহাদলিকে ইরান-সমর্থিত আসাইব আহল আল-হক আন্দোলনের ‘নেতা ও অর্থনৈতিক কর্মকর্তা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে মার্কিন নিষেধাজ্ঞায়। খুদাইর মাকসুস ও আল-শুয়াইলি ইরানপন্থী সংগঠন কাতাইব সাইয়্যিদ আল-শুহাদার শীর্ষ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত।
মার্কিন অর্থ বিভাগের অভিযোগ, আল-বাহাদলি ‘তেল চোরাচালানের অর্থায়ন নিয়ন্ত্রণ’ করতেন এবং ইরান ও ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) কুদস ফোর্সের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখতেন। ইরান থেকে তেল পরিবহনের চুক্তি নিয়ে আলোচনাও করতেন তিনি। মাকসুস ও আল-শুয়াইলির বিরুদ্ধে অবৈধভাবে অস্ত্র কেনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাঁদের কেউই কোনো মন্তব্য করেননি।
নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ইরান কি ইরাককে ব্যবহার করেছে
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ বিভাগের যুক্তি সেটাই। তাদের নিষেধাজ্ঞার ঘোষণায় বলা হয়েছে, আল-বাহাদলি ‘ইরাকের তেল অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াকে সহজ করতে’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। আর এটা করার কারণে ইরান-সংশ্লিষ্ট এক তেল পাচারকারী এবং আসাইব আহল আল-হক গোষ্ঠীকে সুবিধা দিয়েছে। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, ওই পাচারকারী ইরানের তেলকে ‘ইরাকি তেল’ লেবেল করে দিয়েছিলেন, যেন তেহরান নিষেধাজ্ঞা এড়াতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র আরও বলেছে, এই চোরাচালান ব্যবস্থাকে চালু রাখতে সাহায্য করেছে ইরাক সরকারের অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি। আল-বাহাদলি ছিলেন এই পুরো কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দুতে। ইরাকের তেলমন্ত্রী হায়ান আবদেল-গনি গত মার্চে বলেছিলেন, ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ভুয়া ইরাকি নথি ব্যবহার করেছিল।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে রয়টার্সকে দেওয়া বক্তব্যে বিশেষজ্ঞরা বলেন, ইরান একটি তেল চোরাচালান চক্রের মাধ্যমে বছরে অন্তত ১০০ কোটি ডলার আয় করে বলে ধারণা করা হয়। এই চক্র ইরাকি অ্যাসফল্ট (মিশ্র খনিজ) কারখানা থেকে ইরানি জ্বালানি সরিয়ে নিয়ে তা ইরাকি তেলের সঙ্গে মিশিয়ে পরে ‘পুরোপুরি ইরাকি’ হিসেবে রপ্তানি করে।
রয়টার্স আরও বলেছে, ইরাকে রপ্তানি করার মধ্য দিয়ে ইরান বৈশ্বিক মুদ্রা অর্জন করে। আর এর মধ্য দিয়ে দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকিং নিষেধাজ্ঞা এড়াতে পারে।
ইরানি তেলে যুক্তরাষ্ট্রের কী নিষেধাজ্ঞা
ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞাকে ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের নীতির অংশ হিসেবে দেখে। এর লক্ষ্য, ইরান সরকারকে তাদের নীতিগত অবস্থান পরিবর্তনে বাধ্য করা।
ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁর প্রথম মেয়াদকালে ইরানের তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। তখন তিনি তেহরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নিয়েছিলেন। সেই নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান বিশ্ববাজারে অবাধে তেল বিক্রির সুযোগ হারায়, যদিও যুক্তরাষ্ট্র কিছু দেশকে সীমিত পরিমাণে তেল কেনার অনুমতি দিয়েছিল।
ট্রাম্পের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন এই নিষেধাজ্ঞাগুলো বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বজায় রাখে। ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এগুলো আরও কঠোর করেন। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যকার যুদ্ধের আগের সময় পর্যন্ত এগুলো কঠোর করা হয়।
তেল ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। তেল উত্তোলনে বিশ্বে শীর্ষস্থানীয় দেশ তারা। ইরানের মোট রপ্তানির প্রায় ৮০ শতাংশই আসে তেল থেকে। এ ছাড়া দেশটির বাজেটের প্রায় এক-চতুর্থাংশের জোগান আসে তেলের আয় থেকে।
ইরাক ও ইরানের সম্পর্ক কী
ইরাক ও ইরানকে এখন ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর কারণ বাগদাদে ইরানপন্থী ‘কো–অর্ডিনেশন ফ্রেমওয়ার্ক’ জোটের ক্ষমতায় থাকা। এই জোট মূলত ইরাকের শিয়া জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করে। ইরানের নেতৃত্বের সঙ্গে তাদের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সম্পর্ক আছে।
ইরাকের বর্তমান রাজনৈতিক নেতাদের অনেকে ২০০৩ সালের আগে, অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন অভিযানে সাদ্দাম হোসেনের পতনের আগে ইরানে থাকতেন। ওই সময় ইরানপন্থী শিয়া মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়নের মাধ্যমে ইরাকে প্রভাব বিস্তার করার সুযোগ করে নিয়েছিল তেহরান। এসব গোষ্ঠীর অনেকেরই এখন রাজনৈতিক শাখা রয়েছে।
এই ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলো ইরাকের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক খাত, বিশেষ করে তেল খাতে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করেছে। ইরান এর মাধ্যমে ইরাকে এমন একটি ‘ছায়া অর্থনীতি’ তৈরি করতে পেরেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়ন করে। তবে ইরাককে একটি জটিল ভারসাম্য বজায় রাখতে হয়। ভৌগোলিক অবস্থান ও ধর্মীয় সম্পর্কের কারণে ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা থাকলেও ইরাকি নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করতে চায় না। কারণ, ওয়াশিংটন দেশটিকে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা দিয়ে থাকে। ট্রাম্প ইতিমধ্যে সেই প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে নিশ্চিত করেছেন যে আল-মালিকি যেন আবার ইরাকের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ফিরে না আসেন। তিনি নতুন মনোনীত ইরাকি প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জায়েদিকেও সমর্থন দিয়েছেন।
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজে ৭ জাহাজে মাইন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি ইরানের। ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে সাতটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করার দাবি করেছে ইরান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এই জলপথে জাহাজ চলাচলে সহায়তা অব্যাহত রাখলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার রাতভর হামলার শিকার হওয়া সাতটি জাহাজের মধ্যে চারটি থেকে তেল স্থানান্তরের কাজ চলছিল। হামলার পর জাহাজগুলোতে আগুন ধরে যায়। অন্য তিনটি জাহাজ মাইনে আঘাত হানার পর চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে বলে দাবি করেছে ইরান। তবে এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। হামলায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজগুলোর কোন দেশের পতাকা ছিল, সে বিষয়েও বিস্তারিত জানানো হয়নি।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে হুঁশিয়ারি দিয়েছে আইআরজিসি। তাদের বক্তব্য, ওয়াশিংটন যদি প্রণালির অন্যান্য অংশ দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচলে সহায়তা করে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোও ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে সংঘাত এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোতেও ছড়িয়ে পড়বে।’ এটিকে তারা গুরুতর সতর্কবার্তা হিসেবে উল্লেখ করেছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হতো। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই জলপথে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
কিম জং উন। ছবি: সংগৃহীত
সীমান্তের নতুন সেতু অতিক্রম করে উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন চীনের দানদং শহরে অত্যন্ত গোপনে এক ঝটিকা সফর সম্পন্ন করেছেন। দীর্ঘ ১২ বছর আগে নির্মিত ‘নিউ ইয়ালু রিভার ব্রিজ’ আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় এই প্রতীকী সফর অনুষ্ঠিত হলো। শনিবারের (২৪ অক্টোবর) এই একদিনের ঝটিকা সফর শেষে তিনি ইতোমধ্যেই স্বদেশে ফিরে গেছেন।
সফরকালে কিম জং উনের সঙ্গী ছিলেন চীনের চতুর্থ শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা ওয়াং হুনিং। তিনি চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের পক্ষ থেকে উত্তর কোরীয় নেতার কাছে আন্তরিক শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন। দুই নেতা একসঙ্গে স্থানীয় একটি অটোমোবাইল কারখানা পরিদর্শন করেন এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। এসময় কিম জানান, চীনের সঙ্গে ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব রক্ষা এবং ব্যবহারিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে প্রস্তুত রয়েছে পিয়ংইয়ং।
বিশেষ এই সফরটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যা ১৯৫০-১৯৫৩ সালের কোরিয় যুদ্ধে চীনের অংশগ্রহণের বর্ষপূর্তির ঠিক আগের দিন। সেই স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দানদং-এর কোরিয় যুদ্ধ স্মৃতিসৌধে যান কিম ও ওয়াং। সেখানে উত্তর কোরিয়ার পক্ষে যুদ্ধ করে প্রাণ উৎসর্গকারী চীনা সৈন্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন কিম জং উন। সফর শেষে নতুন সেতুর গোড়ায় এসে কিমকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানান ওয়াং হুনিং।
বিশ্লেষকদের মতে, ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নতুন চার লেনের সেতু চালুর মাধ্যমে চীন ও উত্তর কোরিয়ার বাণিজ্যের বড় বাধা দূর হলো। তবে কেবল অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বেইজিং ও মস্কোর সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ থেকে নিজের অবস্থান শক্ত করার কৌশল হিসেবেই কিম জং উনের এই হঠাৎ ও রহস্যময় চীন সফরকে দেখছেন আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র:আল-জাজিরা
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে আবারও বড় ধরনের হামলা বা কড়া অবরোধের চিন্তাভাবনা করছেন। তবে এতে একটুও দমে না গিয়ে ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, পারস্য উপসাগরে তারা কোনো মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে ঘেঁষতে দেবে না।
ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আলি আবদুল্লাহি কড়া ভাষায় ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, পারস্য উপসাগরে আবার মার্কিন সৈন্য পাঠানোর স্বপ্ন ট্রাম্পকে কবরে নিয়ে যেতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে তারা নাকি ইরানের সামরিক শক্তি ধ্বংস করেছে, অথচ নিজেদের যুদ্ধজাহাজগুলো ইরানের সীমানার কাছে পাঠাতে তারা ভয় পাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যেকোনো হামলার উপযুক্ত জবাব দিতে তেহরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
চীনে কিম জং উনের ২৪ ঘন্টার ‘রহস্যজনক’ সফর
এই সংঘাতের আতঙ্কে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু-হু করে বেড়ে প্রতি ব্যারেলে ১১৭ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ ‘হরমুজ প্রণালি’-তে একের পর এক তেলবাহী জাহাজে হামলা চলছে। পাশাপাশি ইয়েমেনের হুথি যোদ্ধাদের সঙ্গে সৌদি আরবের লড়াইও নতুন করে বেড়ে চলেছে।
সংঘাত থামাতে ইস্তাম্বুলে তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইউরোপীয় দেশগুলো বৈঠক করলেও সেখানে যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান উপস্থিত ছিল না। তুরস্ক সতর্ক করেছে, ইরানে নতুন হামলা পুরো অঞ্চলে আগুন জ্বালিয়ে দেবে। তবে ইরান পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, মার্কিন হামলা ও অত্যাচার না থামলে তারা কোনো আলোচনায় বসবে না এবং হরমুজ প্রণালিও মুক্ত করবে না।
সূত্র: আল-জাজিরা
মেগান মার্কেল ও তার বাবা থমাস মার্কেল। ছবি: সংগৃহীত
ব্রিটিশ রাজপরিবারের বধূ ও প্রিন্স হ্যারির স্ত্রী মেগান মার্কেলের বাবা থমাস মার্কেলের বিরুদ্ধে শিশুদের যৌন নিপীড়নের আপত্তিকর ছবি জমানোর এক মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর চরম ক্ষোভ ও গভীর মানসিক কষ্ট প্রকাশ করেছেন ডাচ অব সাসেক্স মেগান। এক বিবৃতিতে তিনি জানান, এমন বিভৎস খবর শুনে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত ও বিপর্যস্ত। ঘটনার শিকার হওয়া নিরীহ শিশুদের নিরাপত্তার কথা ভেবে তিনি গভীরভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
যুক্তরাজ্যের ‘দ্য সান’ পত্রিকার একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়, মেগানের সৎ ভাই থমাস মার্কেল জুনিয়র ফিলিপাইনে তাদের বাবার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে এই আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও উদ্ধার করেন। তার দাবি, বাবার ড্রয়ার ও কম্পিউটারের হার্ডড্রাইভে শত শত শিশু নির্যাতনের ছবি ছিল। এরপরই তিনি ফিলিপাইন পুলিশ, যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই এবং শিশু সুরক্ষা সংস্থায় গিয়ে সরাসরি অভিযোগ করেন। ফিলিপাইন প্রশাসন ও যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই বর্তমানে যৌথভাবে এই ঘটনার তদন্ত করছে। তবে মেগানের বাবা থমাস মার্কেল সিনিয়র তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
বর্তমানে ফ্লোরিডায় চিকিৎসাধীন ৮২ বছর বয়সি থমাস জানান, তার ছেলে সম্পূর্ণ মিথ্যা গল্প ফেঁদেছে। মেগানের বোন সামান্থা মার্কলও বাবার পক্ষে কথা বলেছেন। তিনি দাবি করেন, এই কম্পিউটারগুলো দুই বছর ধরে অন্য মানুষদের হাতে ছিল এবং তার ভাই বানিয়ে বানিয়ে মিথ্যা অভিযোগ করছেন। এই ঘটনার পর মেগান মার্কেল তার বাবার সঙ্গে দীর্ঘদিনের দূরত্বের আসল কারণ স্পষ্ট করেছেন। তিনি জানান, আজ থেকে আট বছর আগে অর্থাৎ ২০১৮ সালেই পুলিশের পক্ষ থেকে তার বাবার বিরুদ্ধে কিছু আপত্তিকর অভিযোগের বিষয়ে তাকে জানানো হয়েছিল।
মেগান বলেন, এতদিন সংবাদমাধ্যমে নানা কথা ছড়ানো হলেও, মূলত সন্তানদের সুরক্ষার কথা ভেবেই তিনি বাবাকে নিজের পরিবার থেকে দূরে রেখেছিলেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এবার অন্তত মানুষ বুঝতে পারবে যে কেন তিনি এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং তিনি আশা করেন ভুক্তভোগী শিশুরা যেন দ্রুত ন্যায়বিচার পায়।
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের জন্য সামনে এক বড় ধরণের ‘চমক’ অপেক্ষা করছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি সেনাদের ওপর হামলার ঘটনার পর সেখানে বড় ধরণের সামরিক অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি তিনি এই মন্তব্য করেন।
ইসরাইলের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু স্পষ্ট জানান, ফিলিস্তিনকে কোনোভাবেই স্বাধীন রাষ্ট্র হতে না দেওয়া তাদের নির্বাচনের মূল লক্ষ্য। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের সোজা উত্তর না দিয়ে তিনি বলেন, হঠাৎ এবং আচমকা পদক্ষেপ নেওয়াই তার বেশি পছন্দ। নেতানিয়াহু আরও জানান, ফিলিস্তিন থেকে আসা যেকোনো সংকট মোকাবিলায় কিছু গোপন কৌশল ব্যবহার করা হবে, যা এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না। তবে ফিলিস্তিনি প্রশাসনের জন্য খুব শীঘ্রই এক বড় ধাক্কা আসতে চলেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের দাবি তুলে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন ছাড়াই তারা আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের আওতায় আরও কয়েকটি আরব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বের চুক্তি বাড়াবেন। অন্তত দুটিরও বেশি দেশের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, সেই দেশগুলো ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের কোনো শর্ত দেবে না, কারণ তারা ভালো করেই জানে যে ইসরাইল তা কখনোই মেনে নেবে না।
সূত্র: আল-জাজিরা