ছবি : সংগৃহীত
ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের তেনেরিফের কাছে নোঙর করা হান্টাভাইরাস-আক্রান্ত একটি প্রমোদতরী থেকে যাত্রীদের সরিয়ে নিতে শুরু করেছে স্পেন।
স্পেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনিকা গার্সিয়া জানিয়েছেন, উদ্ধার অভিযান ‘স্বাভাবিকভাবে এগোচ্ছে’ এবং এমএস হন্ডিয়াস নামের ওই প্রমোদতরীর সব যাত্রীর শরীরেই এখনও কোনো উপসর্গ দেখা যায়নি। প্রথম উদ্ধার অভিযানের সময় একটি লম্বা ক্যামেরার লেন্সে দেখা যায়, যাত্রীরা জাহাজের ডেকে বা জানালার কাছে সাদা মেডিকেল মাস্ক পরে ঘোরাঘুরি করছেন।
প্রথম উদ্ধারকারী নৌকাটিতে বেশ কয়েকজন সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বসেছিলেন এবং ভূমির দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় ভিডিও ও ছবি তুলছিলেন, যেখানে সাদা সুরক্ষা পোশাক পরা কর্মকর্তারা তাদের সাথে দেখা করেন।
জাতীয়তা অনুযায়ী তাদের দলে ভাগ করা হবে এবং ছোট নৌকায় করে উপকূলে আনা হবে। স্থানীয় বিমানবন্দরে চার্টার্ড বিমান প্রস্তুত থাকবে, যাতে তাদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো যায়।
বিমানবন্দরের টারম্যাকে থাকা যাত্রীদের ফুটেজে দেখা গেছে, এই কার্যক্রমে নিয়োজিত কর্মীরা যাত্রীদের পোশাকের ওপর সাদা হ্যাজম্যাট স্যুট পরিয়ে দিচ্ছেন এবং বিমানে ওঠার আগে বিমানের সিঁড়ির পাশেই তাদের ওপর পানি ছিটিয়ে দিচ্ছেন।
সর্বপ্রথম ১৪ জন স্পেনীয় নাগরিক জাহাজ থেকে নামবেন। এরপর ডাচ, গ্রিক এবং জার্মান যাত্রীসহ নেদারল্যান্ডসের ফ্লাইটে যারা যাবেন তারা এবং ক্রুদের একটি অংশ নামবেন।
এরপর যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য ফ্লাইটগুলো ছেড়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। সর্বশেষ ফ্লাইটটি সোমবার অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। জাহাজে প্রথম এক যাত্রীর মৃত্যুর এক মাস পর আজ রোববার ভোরে হন্ডিয়াস নামের প্রমোদতরীটি গ্রানাদিয়া বন্দরে প্রবেশ করে।
সূর্য ওঠার পর দেখা যায়, জাহাজটি উপকূলের কাছাকাছি নোঙর করা আছে। সামরিক পুলিশের নৌযান টহল দিচ্ছে এবং ১০০ জনেরও বেশি যাত্রী ও ক্রুকে নামতে সাহায্য করার জন্য উপকূলে একটি বড় কার্যক্রম চলছে।
আজ স্থানীয় সময় সকাল ৭টার দিকে (গ্রিনিচ মান সময় ৬টা) একটি মেডিকেল টিম সবার শরীরে ভাইরাসের কোনো লক্ষণ আছে কিনা তা পরীক্ষা করতে জাহাজে ওঠে।
জাহাজটিকে গ্রহণ করার জন্য সতর্কতামূলক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এটিকে সরাসরি তীরে ভেড়ানোর অনুমতি দেওয়া হয়নি: এটি দ্বীপের কাছাকাছি আসতেই এর চারপাশে এক নটিক্যাল মাইলের একটি নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে।
স্থানান্তরের সময় হন্ডিয়াসের কেউ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য তেনেরিফের ক্যান্ডেলেরিয়া হাসপাতালে কয়েক ডজন নিবিড় পরিচর্যা বিশেষজ্ঞকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। একটি কঠোর আইসোলেশন সুবিধায় সংক্রামক রোগ মোকাবেলার জন্য টেস্টিং কিট ও ভেন্টিলেটরসহ সম্পূর্ণ সজ্জিত একটি শয্যা রয়েছে।
ওই ইউনিটের প্রধান নিবিড় পরিচর্যা চিকিৎসক মার মার্টিন আমাকে বলেন, ‘আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত।’ সেখানে কর্মীদের জন্য ইতিমধ্যে বিপুল সংখ্যক প্রতিরক্ষামূলক স্যুট, মাস্ক এবং গ্লাভস মজুত করে রাখা হয়েছে। মার্টিন আরও বলেন, আমরা আগে কখনো [হান্টাভাইরাস] দেখিনি। তবে এটি একটি ভাইরাস, যার কিছু জটিলতা রয়েছে, যেমনটা আমরা প্রতিদিন সামলে থাকি। এজন্য আমরা পুরোপুরি প্রশিক্ষিত।
এই ভাইরাসের বিরল আন্দিজ স্ট্রেইনের বিস্তার রোধে গৃহীত জটিল অভিযানটিকে স্পেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ‘অভূতপূর্ব’ বলে বর্ণনা করেছেন।
গতকাল শনিবার তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, সাধারণ মানুষের মধ্যে এর সংক্রমণের ঝুঁকি কম। আমরা বিশ্বাস করি যে, আতঙ্ক, ভুল তথ্য এবং বিভ্রান্তি জনস্বাস্থ্য রক্ষার মূল নীতির পরিপন্থি।
গতকাল তেনেরিফের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত এই শিল্প বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়। স্পেনের সামরিক পুলিশ এবং দুর্যোগ মোকাবিলা দল উভয়ই সেখানে বড় অভ্যর্থনা তাঁবু স্থাপন করেছে এবং সমুদ্রের পাড়ে যাওয়ার পথটি সীমাবদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
জাহাজ ছেড়ে যাওয়া স্পেনীয় নাগরিকদের বিমানে করে মাদ্রিদে নিয়ে যাওয়া হবে, যেখানে তাদের গোমেজ উলা সামরিক হাসপাতালে বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। সম্পূর্ণ আইসোলেশনে থাকাটা বেশ কষ্টকর হবে। এই ভাইরাসের সুপ্তাবস্থা নয় সপ্তাহ পর্যন্ত হতে পারে, এবং স্পেন বা অন্য কোথাও লোকজনকে কতদিন কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়।
যাত্রীদের নামানোর তদারকি করতে বর্তমানে তেনেরিফে থাকা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) প্রধান তেদ্রোস আধানম ঘেব্রেয়েসাস, এই প্রাদুর্ভাবের প্রতি কর্তৃপক্ষের ‘কঠিন ও কার্যকর প্রতিক্রিয়ার’ প্রশংসা করেছেন।
এরসঙ্গে আর্জেন্টিনার একেবারে দক্ষিণাঞ্চলের একটি ল্যান্ডফিল সাইটের সম্পর্ক রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা পাখি পর্যবেক্ষকদের কাছে জনপ্রিয়। ইঁদুরের মাধ্যমে সেখানে ভাইরাসটি ছড়ায় এবং মানুষ থেকে মানুষের সংক্রমণ হওয়ার ঘটনা বেশ বিরল, তবে প্রমোদতরীর তিনজন যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। ডব্লিউএইচও প্রধান উদ্বিগ্ন স্প্যানিশদের অনুরোধ করেছেন যেন তারা উদ্ধার অভিযানের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের ওপর আস্থা রাখেন।
তিনি স্বীকার করেছেন, ‘আপনাদের উদ্বেগ যৌক্তিক। কারণ, কোভিডের অভিজ্ঞতার ওই ট্রমা এখনও আমাদের মনে আছে।’
তবে তিনি যোগ করেছেন যে, ‘ভাইরাসটি কীভাবে কাজ করে এবং যেকোনো সমস্যা এড়াতে স্পেন সরকার যেভাবে প্রস্তুতি নিয়েছে’ তার কারণে এখন এটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কম।
হন্ডিয়াসকে তাদের দ্বীপে ঘুরিয়ে আনা হচ্ছে জানতে পেরে স্থানীয়দের মধ্যে কিছুটা ক্ষোভ দেখা দিয়েছিল। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে আশঙ্কা করে শুক্রবার বন্দর শ্রমিকদের একটি দল স্থানীয় পার্লামেন্টের বাইরে জড়ো হয়ে জোরদার প্রতিবাদ জানায়।
এরপর গতকাল অনেক রাতে সাবধানে সাজানো সব পরিকল্পনা মুহূর্তের জন্য বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ে, যখন ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের প্রেসিডেন্ট ফার্নান্দো ক্লাভিজো বলেন যে, একদিনের মধ্যে যাত্রী নামানোর কাজ শেষ করা সম্ভব নয় বলে তিনি জাহাজটিকে বন্দরে প্রবেশের অনুমতি দেবেন না। পরবর্তীতে মাদ্রিদের কেন্দ্রীয় সরকারকে এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে হয়।
ক্লাভিজো এরপর টিভিতে দাবি করেন যে হান্টাভাইরাস বহনকারী একটি ইঁদুর ‘মাঝরাতে জাহাজ থেকে নেমে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের মানুষের জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে।’ এরপর স্বাস্থ্য সচিবকে সামনে এসে জোর দিয়ে বলতে হয় যে এ ধরনের কোনো দৃশ্যপটের ‘ঝুঁকি নেই’।
মুখ দেখার জন্য স্বচ্ছ প্যানেলযুক্ত একটি র্যাকে দুটি ধূসর মাস্ক রাখা আছে। আইসোলেশন ইউনিটে অপেক্ষমাণ ধূসর মাস্ক। সামগ্রিকভাবে, এই দ্বীপের মানুষ আশ্বস্ত বলে মনে হচ্ছে যে ঝুঁকি কম।
তেনেরিফের রাজধানী সান্তা ক্রুজে নিজের সন্তানের সঙ্গে হাঁটতে বের হওয়া জেনিফার নামের এক নারী আমাকে বলেন, ‘অবশ্যই ভাইরাসটি বিপজ্জনক। তবে তারা বলছে, এটি সংক্রমিত হওয়ার জন্য খুব কাছাকাছি সংস্পর্শে আসতে হবে। আমরা যদি সতর্ক থাকি, তবে আশা করি এটি খুব বেশি গুরুতর হবে না।’
সবাই তেনেরিফে হন্ডিয়াস থেকে নামবেন না
প্রমোদতরীটিকে নেদারল্যান্ডসে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য প্রায় ৩০ জন ক্রু সদস্য জাহাজে থেকে যাবেন। তবে বেশিরভাগ মানুষের জন্যই অবশেষে সমুদ্রে কাটানো কয়েক সপ্তাহের ভয় ও অনিশ্চয়তার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। এখন শুরু হবে দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহের কোয়ারেন্টাইন।
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজে ৭ জাহাজে মাইন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি ইরানের। ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে সাতটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করার দাবি করেছে ইরান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এই জলপথে জাহাজ চলাচলে সহায়তা অব্যাহত রাখলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার রাতভর হামলার শিকার হওয়া সাতটি জাহাজের মধ্যে চারটি থেকে তেল স্থানান্তরের কাজ চলছিল। হামলার পর জাহাজগুলোতে আগুন ধরে যায়। অন্য তিনটি জাহাজ মাইনে আঘাত হানার পর চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে বলে দাবি করেছে ইরান। তবে এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। হামলায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজগুলোর কোন দেশের পতাকা ছিল, সে বিষয়েও বিস্তারিত জানানো হয়নি।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে হুঁশিয়ারি দিয়েছে আইআরজিসি। তাদের বক্তব্য, ওয়াশিংটন যদি প্রণালির অন্যান্য অংশ দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচলে সহায়তা করে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোও ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে সংঘাত এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোতেও ছড়িয়ে পড়বে।’ এটিকে তারা গুরুতর সতর্কবার্তা হিসেবে উল্লেখ করেছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হতো। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই জলপথে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
কিম জং উন। ছবি: সংগৃহীত
সীমান্তের নতুন সেতু অতিক্রম করে উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন চীনের দানদং শহরে অত্যন্ত গোপনে এক ঝটিকা সফর সম্পন্ন করেছেন। দীর্ঘ ১২ বছর আগে নির্মিত ‘নিউ ইয়ালু রিভার ব্রিজ’ আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় এই প্রতীকী সফর অনুষ্ঠিত হলো। শনিবারের (২৪ অক্টোবর) এই একদিনের ঝটিকা সফর শেষে তিনি ইতোমধ্যেই স্বদেশে ফিরে গেছেন।
সফরকালে কিম জং উনের সঙ্গী ছিলেন চীনের চতুর্থ শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা ওয়াং হুনিং। তিনি চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের পক্ষ থেকে উত্তর কোরীয় নেতার কাছে আন্তরিক শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন। দুই নেতা একসঙ্গে স্থানীয় একটি অটোমোবাইল কারখানা পরিদর্শন করেন এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। এসময় কিম জানান, চীনের সঙ্গে ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব রক্ষা এবং ব্যবহারিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে প্রস্তুত রয়েছে পিয়ংইয়ং।
বিশেষ এই সফরটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যা ১৯৫০-১৯৫৩ সালের কোরিয় যুদ্ধে চীনের অংশগ্রহণের বর্ষপূর্তির ঠিক আগের দিন। সেই স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দানদং-এর কোরিয় যুদ্ধ স্মৃতিসৌধে যান কিম ও ওয়াং। সেখানে উত্তর কোরিয়ার পক্ষে যুদ্ধ করে প্রাণ উৎসর্গকারী চীনা সৈন্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন কিম জং উন। সফর শেষে নতুন সেতুর গোড়ায় এসে কিমকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানান ওয়াং হুনিং।
বিশ্লেষকদের মতে, ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নতুন চার লেনের সেতু চালুর মাধ্যমে চীন ও উত্তর কোরিয়ার বাণিজ্যের বড় বাধা দূর হলো। তবে কেবল অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বেইজিং ও মস্কোর সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ থেকে নিজের অবস্থান শক্ত করার কৌশল হিসেবেই কিম জং উনের এই হঠাৎ ও রহস্যময় চীন সফরকে দেখছেন আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র:আল-জাজিরা
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে আবারও বড় ধরনের হামলা বা কড়া অবরোধের চিন্তাভাবনা করছেন। তবে এতে একটুও দমে না গিয়ে ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, পারস্য উপসাগরে তারা কোনো মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে ঘেঁষতে দেবে না।
ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আলি আবদুল্লাহি কড়া ভাষায় ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, পারস্য উপসাগরে আবার মার্কিন সৈন্য পাঠানোর স্বপ্ন ট্রাম্পকে কবরে নিয়ে যেতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে তারা নাকি ইরানের সামরিক শক্তি ধ্বংস করেছে, অথচ নিজেদের যুদ্ধজাহাজগুলো ইরানের সীমানার কাছে পাঠাতে তারা ভয় পাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যেকোনো হামলার উপযুক্ত জবাব দিতে তেহরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
চীনে কিম জং উনের ২৪ ঘন্টার ‘রহস্যজনক’ সফর
এই সংঘাতের আতঙ্কে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু-হু করে বেড়ে প্রতি ব্যারেলে ১১৭ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ ‘হরমুজ প্রণালি’-তে একের পর এক তেলবাহী জাহাজে হামলা চলছে। পাশাপাশি ইয়েমেনের হুথি যোদ্ধাদের সঙ্গে সৌদি আরবের লড়াইও নতুন করে বেড়ে চলেছে।
সংঘাত থামাতে ইস্তাম্বুলে তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইউরোপীয় দেশগুলো বৈঠক করলেও সেখানে যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান উপস্থিত ছিল না। তুরস্ক সতর্ক করেছে, ইরানে নতুন হামলা পুরো অঞ্চলে আগুন জ্বালিয়ে দেবে। তবে ইরান পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, মার্কিন হামলা ও অত্যাচার না থামলে তারা কোনো আলোচনায় বসবে না এবং হরমুজ প্রণালিও মুক্ত করবে না।
সূত্র: আল-জাজিরা
মেগান মার্কেল ও তার বাবা থমাস মার্কেল। ছবি: সংগৃহীত
ব্রিটিশ রাজপরিবারের বধূ ও প্রিন্স হ্যারির স্ত্রী মেগান মার্কেলের বাবা থমাস মার্কেলের বিরুদ্ধে শিশুদের যৌন নিপীড়নের আপত্তিকর ছবি জমানোর এক মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর চরম ক্ষোভ ও গভীর মানসিক কষ্ট প্রকাশ করেছেন ডাচ অব সাসেক্স মেগান। এক বিবৃতিতে তিনি জানান, এমন বিভৎস খবর শুনে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত ও বিপর্যস্ত। ঘটনার শিকার হওয়া নিরীহ শিশুদের নিরাপত্তার কথা ভেবে তিনি গভীরভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
যুক্তরাজ্যের ‘দ্য সান’ পত্রিকার একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়, মেগানের সৎ ভাই থমাস মার্কেল জুনিয়র ফিলিপাইনে তাদের বাবার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে এই আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও উদ্ধার করেন। তার দাবি, বাবার ড্রয়ার ও কম্পিউটারের হার্ডড্রাইভে শত শত শিশু নির্যাতনের ছবি ছিল। এরপরই তিনি ফিলিপাইন পুলিশ, যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই এবং শিশু সুরক্ষা সংস্থায় গিয়ে সরাসরি অভিযোগ করেন। ফিলিপাইন প্রশাসন ও যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই বর্তমানে যৌথভাবে এই ঘটনার তদন্ত করছে। তবে মেগানের বাবা থমাস মার্কেল সিনিয়র তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
বর্তমানে ফ্লোরিডায় চিকিৎসাধীন ৮২ বছর বয়সি থমাস জানান, তার ছেলে সম্পূর্ণ মিথ্যা গল্প ফেঁদেছে। মেগানের বোন সামান্থা মার্কলও বাবার পক্ষে কথা বলেছেন। তিনি দাবি করেন, এই কম্পিউটারগুলো দুই বছর ধরে অন্য মানুষদের হাতে ছিল এবং তার ভাই বানিয়ে বানিয়ে মিথ্যা অভিযোগ করছেন। এই ঘটনার পর মেগান মার্কেল তার বাবার সঙ্গে দীর্ঘদিনের দূরত্বের আসল কারণ স্পষ্ট করেছেন। তিনি জানান, আজ থেকে আট বছর আগে অর্থাৎ ২০১৮ সালেই পুলিশের পক্ষ থেকে তার বাবার বিরুদ্ধে কিছু আপত্তিকর অভিযোগের বিষয়ে তাকে জানানো হয়েছিল।
মেগান বলেন, এতদিন সংবাদমাধ্যমে নানা কথা ছড়ানো হলেও, মূলত সন্তানদের সুরক্ষার কথা ভেবেই তিনি বাবাকে নিজের পরিবার থেকে দূরে রেখেছিলেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এবার অন্তত মানুষ বুঝতে পারবে যে কেন তিনি এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং তিনি আশা করেন ভুক্তভোগী শিশুরা যেন দ্রুত ন্যায়বিচার পায়।
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের জন্য সামনে এক বড় ধরণের ‘চমক’ অপেক্ষা করছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি সেনাদের ওপর হামলার ঘটনার পর সেখানে বড় ধরণের সামরিক অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি তিনি এই মন্তব্য করেন।
ইসরাইলের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু স্পষ্ট জানান, ফিলিস্তিনকে কোনোভাবেই স্বাধীন রাষ্ট্র হতে না দেওয়া তাদের নির্বাচনের মূল লক্ষ্য। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের সোজা উত্তর না দিয়ে তিনি বলেন, হঠাৎ এবং আচমকা পদক্ষেপ নেওয়াই তার বেশি পছন্দ। নেতানিয়াহু আরও জানান, ফিলিস্তিন থেকে আসা যেকোনো সংকট মোকাবিলায় কিছু গোপন কৌশল ব্যবহার করা হবে, যা এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না। তবে ফিলিস্তিনি প্রশাসনের জন্য খুব শীঘ্রই এক বড় ধাক্কা আসতে চলেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের দাবি তুলে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন ছাড়াই তারা আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের আওতায় আরও কয়েকটি আরব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বের চুক্তি বাড়াবেন। অন্তত দুটিরও বেশি দেশের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, সেই দেশগুলো ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের কোনো শর্ত দেবে না, কারণ তারা ভালো করেই জানে যে ইসরাইল তা কখনোই মেনে নেবে না।
সূত্র: আল-জাজিরা