মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং
এক বছর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, বড় আকারে বাণিজ্য শুল্ক আরোপ করে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান অর্থনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী চীনকে নতজানু করতে পারবেন। তবে আদালতের রায়ের কারণে তিনি তাঁর সে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি। এর মধ্যে চীন সফরে যাচ্ছেন ট্রাম্প।
রাজনীতিবিষয়ক বিশ্লেষকেরা বলছেন, এখন চীনকে নতজানু করার লক্ষ্য থেকে সরে এসেছেন ট্রাম্প। তাঁর সে লক্ষ্য সীমিত হয়ে সয়াবিন, গরুর মাংস এবং বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ বিক্রির মতো কয়েকটি চুক্তির মধ্যে এসে ঠেকেছে। একই সঙ্গে ইরান যুদ্ধের সমাধানে চীনের সহায়তাও চাইছেন তিনি।
১৪ ও ১৫ মে সি চিন পিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক হওয়ার কথা। গত অক্টোবরে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যযুদ্ধ স্থগিত করার পর এটি দুই নেতার প্রথম সাক্ষাৎ।
হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আলেজান্দ্রো রেয়েস বলেন, ‘এক অর্থে এখন ট্রাম্পেরই চীনকে বেশি প্রয়োজন, চীনের ট্রাম্পকে নয়।’
রেয়েস আরও বলেন, ‘ট্রাম্পের এখন পররাষ্ট্রনীতি পর্যায়ে একটি সাফল্য দরকার। এমন একটি সাফল্য, যা দেখিয়ে দেবে যে তিনি শুধু বৈশ্বিক রাজনীতিতে অস্থিরতা তৈরি করতেই ব্যস্ত নন; তিনি বিশ্বে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চান।’
ট্রাম্প ও সি চিন পিংয়ের মধ্যে সর্বশেষ বৈঠকটি হয়েছিল দক্ষিণ কোরিয়ার একটি বিমানঘাঁটিতে। সংক্ষিপ্ত ওই বৈঠকে ট্রাম্প চীনা পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা তিন অঙ্কের শুল্ক স্থগিত করেছিলেন। আর সি চিন পিং বৈশ্বিক বাজারে বিরল খনিজ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি থেকে সরে এসেছিলেন।
এর পর থেকে চীন নীরবে ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের কৌশল আরও জোরালো করেছে। আর ট্রাম্প তাঁর শুল্কনীতির বিরুদ্ধে মার্কিন আদালতের রায় মোকাবিলা করা এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ সামলাতে ব্যস্ত ছিলেন। এ যুদ্ধের কারণে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তাঁর জনপ্রিয়তাও কমে গেছে।
ট্রাম্প ও সি চিন পিংয়ের মধ্যে আসন্ন বৈঠক হবে চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে। দুই নেতা গ্রেট হল অব দ্য পিপলে শীর্ষ বৈঠকে অংশ নেবেন। ইউনেসকো ঘোষিত ঐতিহ্যবাহী স্থান টেম্পল অব হেভেন ঘুরে দেখবেন এবং রাষ্ট্রীয় ভোজসভায় যোগ দেবেন। তাঁরা একসঙ্গে চা পান করবেন ও মধ্যাহ্নভোজ সারবেন।
তবে পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, অর্থনৈতিক পর্যায়ে এই বৈঠক থেকে বড় কোনো সাফল্য আসার সম্ভাবনা কম। মূলত কয়েকটি বাণিজ্যচুক্তি এবং ভবিষ্যতে বাণিজ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে কিছু রূপরেখা তৈরির বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। তবে দুই নেতা চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বাণিজ্যযুদ্ধে চলমান বিরতির মেয়াদ আরও বাড়াতে রাজি হবেন কি না, সেটি এখনো নিশ্চিত নয়।
ট্রাম্পের সঙ্গে এই সফরে টেসলার প্রধান ইলন মাস্ক এবং অ্যাপলের প্রধান টিম কুকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন নির্বাহী কর্মকর্তা থাকবেন। ২০১৭ সালে তিনি যখন বেইজিং সফর করেছিলেন, তার তুলনায় এবারের ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদল আকারে ছোট।
গতকাল সোমবার ট্রাম্প বলেছেন, বাণিজ্য আলোচনা ছাড়াও তিনি বৈঠকে তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রি এবং হংকংয়ে কারাবন্দী থাকা গণমাধ্যম উদ্যোক্তা জিমি লাইয়ের বিষয়টিও তুলে ধরবেন। পাশাপাশি, চীনে ১০ বছরের বেশি সময় ধরে বন্দী থাকা দুই মার্কিন নাগরিকের পরিবারও তাঁদের মুক্তির জন্য ট্রাম্পকে চাপ দিচ্ছে।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমি তাঁকে (সি) অনেক সম্মান করি এবং আশা করি তিনিও আমাকে সম্মান করেন।’
একের পর এক যুদ্ধ
ট্রাম্প ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে চীনের ওপর শুল্ক আরোপের বিষয়ে একটি পোস্ট দিয়েছিলেন। ট্রাম্প সেখানে বলেছিলেন, তাঁর আরোপিত শুল্ক চীনকে বুঝিয়ে দেবে, ‘যুক্তরাষ্ট্রকে শোষণ করার দিন শেষ।’
এই শুল্কের জবাবে বেইজিং তাদের বিরল খনিজ রপ্তানিতে কড়াকড়ি আরোপ করে। এতে পশ্চিমা বিশ্বের একটি বড় দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে যায়। কারণ, এসব খনিজের ওপর পশ্চিমা বিশ্বের বৈদ্যুতিক গাড়ি থেকে শুরু করে অস্ত্র তৈরির মতো গুরুত্বপূর্ণ শিল্পগুলোর অনেক বেশি নির্ভরশীলতা রয়েছে। শেষ পর্যন্ত এ চাপই ট্রাম্প ও সি চিন পিংয়ের মধ্যে একটি সমঝোতার পথ তৈরি করে।
এর পর থেকে ট্রাম্প একের পর এক নতুন সংকটে জড়িয়ে পড়েন। এর মধ্যে ভেনেজুয়েলার নেতাকে তুলে নেওয়া, ন্যাটোর সদস্য গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রে অন্তর্ভুক্ত করার হুমকি এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালানো, যা মধ্যপ্রাচ্যকে বিশৃঙ্খলায় ফেলে দেয় এবং বৈশ্বিক জ্বালানিসংকটও তৈরি করে।
গত মাসে রয়টার্স/ইপসোসের করা জরিপ অনুযায়ী, ৬০ শতাংশের বেশি মার্কিন নাগরিক ইরান যুদ্ধকে সমর্থন করেন না।
এখন ট্রাম্প চাইছেন, চীন যেন ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তিতে আসতে রাজি করায়, যেন চলমান সংঘাতের অবসান ঘটে। ইরানের সঙ্গে চীনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে। দেশটি ইরানের রপ্তানীকৃত তেলের অন্যতম বড় ক্রেতাও।
ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে মার্কিন উপ–জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ম্যাট পটিংগার গত সপ্তাহে তাইপেতে অনুষ্ঠিত এক ফোরামে বলেছেন, যদিও চীন হয়তো চাইছে, এমন কিছু হোক, যা যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতাকে কিছুটা দুর্বল করে দেবে। তবে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের অর্থনৈতিক ক্ষতি থেকে তারাও পুরোপুরি মুক্ত নয়।
কোনো চুক্তি হলে তার বিনিময়ে কিছু সুবিধা পেতে চাইবে চীন। আর সি চিন পিংয়ের অগ্রাধিকারের জায়গাটি হলো তাইওয়ান। স্বায়ত্তশাসিত এ দ্বীপ অঞ্চলকে চীন নিজের অংশ বলে দাবি করে থাকে।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, যদি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে কোনো সমঝোতা হয়, তাহলে তাইওয়ানের ওপর চাপ বাড়ানোর বিষয়ে চীন আরও সাহসী হয়ে উঠতে পারে। এমনকি শক্তি প্রয়োগের চিন্তাও করতে পারে। আবার যুক্তরাষ্ট্র যদি শুধু তাদের বক্তব্য বা অবস্থান সামান্য বদলায়, তাহলে তাইওয়ান নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়বে। এতে এশিয়ার অন্যান্য দেশও চিন্তিত হয়ে পড়তে পারে। কারণ, তারা যুক্তরাষ্ট্রকেই নিরাপত্তার বড় ভরসা হিসেবে দেখে।
সাংহাইয়ের ফুদান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নীতি-পরামর্শ বোর্ডের সদস্য উ জিনবো বলেন, ট্রাম্পের উচিত স্পষ্ট করে বলা, তিনি তাইওয়ানের স্বাধীনতাকে সমর্থন করবেন না বা কোনো বিচ্ছিন্নতাবাদী রাজনৈতিক এজেন্ডাকে উৎসাহিত করে—এমন কোনো পদক্ষেপ নেবেন না।
লোকদেখানো যুদ্ধবিরতি
চীন চায়, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন যেন আর কোনো পাল্টা বাণিজ্য পদক্ষেপ না নেয়—বিশেষ করে প্রযুক্তি রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের মতো ব্যবস্থা না নেয়। একই সঙ্গে তারা চায় চিপ তৈরির যন্ত্রপাতি এবং উন্নত মেমোরি চিপের ওপর আগে থেকে থাকা নিষেধাজ্ঞাও শিথিল করা হোক। আলোচনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা এমনটাই বলেছেন।
গত অক্টোবর থেকে বেইজিং নিজেদের অর্থনৈতিক প্রভাব আরও বাড়াচ্ছে। তারা এমন আইন চালু করেছে, যাতে বিদেশি কোম্পানিগুলো যদি চীন থেকে সরিয়ে সরবরাহশৃঙ্খল অন্য দেশে নেয়, তবে তাদের শাস্তির মুখে পড়তে হয়। পাশাপাশি বিরল খনিজ রপ্তানির লাইসেন্স প্রদানের ব্যবস্থাও আরও কঠোর করেছে চীন।
জরিপ অনুযায়ী, এখন ৫৩ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন, চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতা ও সম্পর্ক বজায় রাখা উচিত। ২০২৪ সালে এ হার ছিল ৪০ শতাংশ। এটি গত অক্টোবর মাসে শিকাগো কাউন্সিল অন গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্সে প্রকাশ হয়েছে।
সব মিলিয়ে বিশ্লেষকেরা মনে করেন, যদি দুই দেশের সম্পর্ক শুধু স্থিতিশীল থাকে এবং চলমান বাণিজ্যযুদ্ধের অস্থায়ী বিরতি কিছুটা সময়ের জন্যও বাড়ানো যায়, সেটাকেই ট্রাম্প নিজের জন্য একটি ‘সাফল্য’ হিসেবে দেখাতে পারেন।
শুধু সম্পর্ককে স্থিতিশীল রাখা এবং চলমান বাণিজ্যযুদ্ধের অস্থায়ী বিরতি কিছুটা সময়ের জন্য বাড়াতে পারলেই ট্রাম্প সেটিকে নিজের জন্য একটি সাফল্য হিসেবে দাবি করতে পারেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইরানে আজ নতুন করে আবারও হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্থানীয় সময় শনিবার জানান রোববার হামলা শুরু হতে পারে। আর নয়ত ইরানের সঙ্গে ‘বড় চুক্তি’ হতে পারে। ইরানে মার্কিনিরা যে কোনো সময় হামলা চালাতে পারে এমন আশঙ্কা করা হচ্ছে কয়েকদিন ধরেই। এমন সময় ট্রাম্প জানালেন রোববারই এ হামলা শুরু হতে পারে।
সাংবাদিকরা ট্রাম্পকে ইরানে হামলার ব্যাপারে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, “আমরা হামলার ব্যাপারে ভাবছি, সম্ভবত আগামীকাল (আজ রোববার) হতে পারে।”
তবে ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত অনুযায়ী চুক্তিতে রাজি হয় তাহলে নতুন হামলা থেকে তারা বাঁচতে পারবে বলেও জানান ট্রাম্প।
তিনি বলেন, “ইরানিরা চুক্তি চায়। কিন্তু সমস্যা হলো তারা কী চুক্তি মানার ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকতে পারবে?”
ট্রাম্প দাবি করেন তার লক্ষ্য ছিল ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র না তৈরি করতে পারে।
গত বছরের জুনে ইরানে বি-২ বোমারু দিয়ে ইরানিদের পারমাণবিক অবকাঠামোতে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। তবে ট্রাম্প বলেছেন, যদি এ বছর তিনি আবারও ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত না দিতেন তাহলে গত বছরের হামলাটি হয়ত ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে আটকানোতে যথার্থ হতো না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট সাংবাদিকদের কাছে আরও দাবি করেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুদ্ধের আগের মতো তেল আসছে। তবে তিনি এর পক্ষে কোনো প্রমাণ দেননি।
ইরান যদি চুক্তি না করে তাহলে সামরিকভাবে তাদের এতে বাধ্য করা হবে মন্তব্য করে ট্রাম্প বলেন, “আমার কাজটি হয়ত সম্পন্ন করতে হবে। আর নয়ত তারা হয়ত চুক্তি করবে। কিন্তু আমি নিশ্চিত নই। সামরিক হামলা বা চুক্তি যেভাবেই হোক আমরা জিতব।”
সূত্র: আনাদোলু
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজে ৭ জাহাজে মাইন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি ইরানের। ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে সাতটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করার দাবি করেছে ইরান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এই জলপথে জাহাজ চলাচলে সহায়তা অব্যাহত রাখলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার রাতভর হামলার শিকার হওয়া সাতটি জাহাজের মধ্যে চারটি থেকে তেল স্থানান্তরের কাজ চলছিল। হামলার পর জাহাজগুলোতে আগুন ধরে যায়। অন্য তিনটি জাহাজ মাইনে আঘাত হানার পর চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে বলে দাবি করেছে ইরান। তবে এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। হামলায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজগুলোর কোন দেশের পতাকা ছিল, সে বিষয়েও বিস্তারিত জানানো হয়নি।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে হুঁশিয়ারি দিয়েছে আইআরজিসি। তাদের বক্তব্য, ওয়াশিংটন যদি প্রণালির অন্যান্য অংশ দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচলে সহায়তা করে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোও ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে সংঘাত এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোতেও ছড়িয়ে পড়বে।’ এটিকে তারা গুরুতর সতর্কবার্তা হিসেবে উল্লেখ করেছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হতো। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই জলপথে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
কিম জং উন। ছবি: সংগৃহীত
সীমান্তের নতুন সেতু অতিক্রম করে উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন চীনের দানদং শহরে অত্যন্ত গোপনে এক ঝটিকা সফর সম্পন্ন করেছেন। দীর্ঘ ১২ বছর আগে নির্মিত ‘নিউ ইয়ালু রিভার ব্রিজ’ আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় এই প্রতীকী সফর অনুষ্ঠিত হলো। শনিবারের (২৪ অক্টোবর) এই একদিনের ঝটিকা সফর শেষে তিনি ইতোমধ্যেই স্বদেশে ফিরে গেছেন।
সফরকালে কিম জং উনের সঙ্গী ছিলেন চীনের চতুর্থ শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা ওয়াং হুনিং। তিনি চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের পক্ষ থেকে উত্তর কোরীয় নেতার কাছে আন্তরিক শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন। দুই নেতা একসঙ্গে স্থানীয় একটি অটোমোবাইল কারখানা পরিদর্শন করেন এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। এসময় কিম জানান, চীনের সঙ্গে ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব রক্ষা এবং ব্যবহারিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে প্রস্তুত রয়েছে পিয়ংইয়ং।
বিশেষ এই সফরটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যা ১৯৫০-১৯৫৩ সালের কোরিয় যুদ্ধে চীনের অংশগ্রহণের বর্ষপূর্তির ঠিক আগের দিন। সেই স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দানদং-এর কোরিয় যুদ্ধ স্মৃতিসৌধে যান কিম ও ওয়াং। সেখানে উত্তর কোরিয়ার পক্ষে যুদ্ধ করে প্রাণ উৎসর্গকারী চীনা সৈন্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন কিম জং উন। সফর শেষে নতুন সেতুর গোড়ায় এসে কিমকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানান ওয়াং হুনিং।
বিশ্লেষকদের মতে, ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নতুন চার লেনের সেতু চালুর মাধ্যমে চীন ও উত্তর কোরিয়ার বাণিজ্যের বড় বাধা দূর হলো। তবে কেবল অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বেইজিং ও মস্কোর সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ থেকে নিজের অবস্থান শক্ত করার কৌশল হিসেবেই কিম জং উনের এই হঠাৎ ও রহস্যময় চীন সফরকে দেখছেন আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র:আল-জাজিরা
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে আবারও বড় ধরনের হামলা বা কড়া অবরোধের চিন্তাভাবনা করছেন। তবে এতে একটুও দমে না গিয়ে ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, পারস্য উপসাগরে তারা কোনো মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে ঘেঁষতে দেবে না।
ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আলি আবদুল্লাহি কড়া ভাষায় ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, পারস্য উপসাগরে আবার মার্কিন সৈন্য পাঠানোর স্বপ্ন ট্রাম্পকে কবরে নিয়ে যেতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে তারা নাকি ইরানের সামরিক শক্তি ধ্বংস করেছে, অথচ নিজেদের যুদ্ধজাহাজগুলো ইরানের সীমানার কাছে পাঠাতে তারা ভয় পাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যেকোনো হামলার উপযুক্ত জবাব দিতে তেহরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
চীনে কিম জং উনের ২৪ ঘন্টার ‘রহস্যজনক’ সফর
এই সংঘাতের আতঙ্কে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু-হু করে বেড়ে প্রতি ব্যারেলে ১১৭ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ ‘হরমুজ প্রণালি’-তে একের পর এক তেলবাহী জাহাজে হামলা চলছে। পাশাপাশি ইয়েমেনের হুথি যোদ্ধাদের সঙ্গে সৌদি আরবের লড়াইও নতুন করে বেড়ে চলেছে।
সংঘাত থামাতে ইস্তাম্বুলে তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইউরোপীয় দেশগুলো বৈঠক করলেও সেখানে যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান উপস্থিত ছিল না। তুরস্ক সতর্ক করেছে, ইরানে নতুন হামলা পুরো অঞ্চলে আগুন জ্বালিয়ে দেবে। তবে ইরান পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, মার্কিন হামলা ও অত্যাচার না থামলে তারা কোনো আলোচনায় বসবে না এবং হরমুজ প্রণালিও মুক্ত করবে না।
সূত্র: আল-জাজিরা
মেগান মার্কেল ও তার বাবা থমাস মার্কেল। ছবি: সংগৃহীত
ব্রিটিশ রাজপরিবারের বধূ ও প্রিন্স হ্যারির স্ত্রী মেগান মার্কেলের বাবা থমাস মার্কেলের বিরুদ্ধে শিশুদের যৌন নিপীড়নের আপত্তিকর ছবি জমানোর এক মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর চরম ক্ষোভ ও গভীর মানসিক কষ্ট প্রকাশ করেছেন ডাচ অব সাসেক্স মেগান। এক বিবৃতিতে তিনি জানান, এমন বিভৎস খবর শুনে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত ও বিপর্যস্ত। ঘটনার শিকার হওয়া নিরীহ শিশুদের নিরাপত্তার কথা ভেবে তিনি গভীরভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
যুক্তরাজ্যের ‘দ্য সান’ পত্রিকার একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়, মেগানের সৎ ভাই থমাস মার্কেল জুনিয়র ফিলিপাইনে তাদের বাবার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে এই আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও উদ্ধার করেন। তার দাবি, বাবার ড্রয়ার ও কম্পিউটারের হার্ডড্রাইভে শত শত শিশু নির্যাতনের ছবি ছিল। এরপরই তিনি ফিলিপাইন পুলিশ, যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই এবং শিশু সুরক্ষা সংস্থায় গিয়ে সরাসরি অভিযোগ করেন। ফিলিপাইন প্রশাসন ও যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই বর্তমানে যৌথভাবে এই ঘটনার তদন্ত করছে। তবে মেগানের বাবা থমাস মার্কেল সিনিয়র তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
বর্তমানে ফ্লোরিডায় চিকিৎসাধীন ৮২ বছর বয়সি থমাস জানান, তার ছেলে সম্পূর্ণ মিথ্যা গল্প ফেঁদেছে। মেগানের বোন সামান্থা মার্কলও বাবার পক্ষে কথা বলেছেন। তিনি দাবি করেন, এই কম্পিউটারগুলো দুই বছর ধরে অন্য মানুষদের হাতে ছিল এবং তার ভাই বানিয়ে বানিয়ে মিথ্যা অভিযোগ করছেন। এই ঘটনার পর মেগান মার্কেল তার বাবার সঙ্গে দীর্ঘদিনের দূরত্বের আসল কারণ স্পষ্ট করেছেন। তিনি জানান, আজ থেকে আট বছর আগে অর্থাৎ ২০১৮ সালেই পুলিশের পক্ষ থেকে তার বাবার বিরুদ্ধে কিছু আপত্তিকর অভিযোগের বিষয়ে তাকে জানানো হয়েছিল।
মেগান বলেন, এতদিন সংবাদমাধ্যমে নানা কথা ছড়ানো হলেও, মূলত সন্তানদের সুরক্ষার কথা ভেবেই তিনি বাবাকে নিজের পরিবার থেকে দূরে রেখেছিলেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এবার অন্তত মানুষ বুঝতে পারবে যে কেন তিনি এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং তিনি আশা করেন ভুক্তভোগী শিশুরা যেন দ্রুত ন্যায়বিচার পায়।