ছবি : সংগৃহীত
ভারত তিব্বতের কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রার জন্য হিমালয়ের লিপুলেখ গিরিপথ পুনরায় খুলে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে ভারত-নেপাল সম্পর্কে। বিতর্কিত কালাপানি অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত এই গিরিপথ নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে নেপাল ভারতের পদক্ষেপের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে।
গত মাসে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, করোনা মহামারির পর প্রথমবারের মতো উত্তরাখন্ড হয়ে তিব্বতের লিপুলেখ পাস দিয়ে পুনরায় তীর্থযাত্রা চালু করা হবে। জুন থেকে আগস্টের মধ্যে ১০টি দলে প্রায় ৫০ জন তীর্থযাত্রীকে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে ভারতের। একই সঙ্গে সীমান্ত-বাণিজ্যও পুনরায় চালুর প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
কিন্তু নেপালের দাবি, লিপুলেখ পাস কালাপানি অঞ্চলের মধ্যে পড়ে এবং সেটি নেপালের সার্বভৌম ভূখণ্ড। কাঠমান্ডুর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভারত ও চীনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আপত্তি জানিয়ে বলেছে, ওই এলাকায় সড়ক নির্মাণ, বাণিজ্য ও তীর্থযাত্রার মতো ‘একতরফা কার্যক্রম’ বন্ধ করতে হবে এবং আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করতে হবে।
আজ বুধবার (১৩ মে) জাপানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম নিক্কেই এশিয়া জানায়, ভারত নেপালের দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছে। নয়াদিল্লির ভাষ্য, ১৯৫৪ সাল থেকেই এই পথ ঐতিহ্যগতভাবে তীর্থযাত্রার জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেছেন, নেপালের দাবি ঐতিহাসিক তথ্য ও প্রমাণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তবে ভারত আলোচনার পথ খোলা রাখার কথাও জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কালাপানি ইস্যু এখন নেপালের জাতীয় পরিচয় ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে পরিণত হয়েছে। কাঠমান্ডুভিত্তিক ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক সুধীর শর্মা বলেন, সরকার পরিবর্তন হলেও কালাপানি নেপালের অংশ—এই অবস্থান বদলায়নি।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে ভারত লিপুলেখ হয়ে একটি সড়ক নির্মাণ শুরু করলে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ে। পরের বছর নেপাল নতুন রাজনৈতিক মানচিত্র প্রকাশ করে, যেখানে কালাপানি অঞ্চলকে নিজেদের ভূখণ্ড হিসেবে দেখানো হয়। এরপর দুই দেশের মধ্যে এই সীমান্ত বিরোধ আরও সংবেদনশীল রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়।
এদিকে ভারত ও চীনের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত সম্পর্ক কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ায় বেইজিংও ভারতের অবস্থানের প্রতি নরম মনোভাব দেখাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, দক্ষিণ এশিয়ায় সীমান্ত বিরোধ দীর্ঘদিন অমীমাংসিত থাকলে তা ভবিষ্যতে আরও বড় সংকটের জন্ম দিতে পারে
পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন স্পেনের পরিবহনমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে
ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে চলছে উদ্ধারকাজ
উক্রেনের খারকিভ শহরের একটি হাসপাতালে রাশিয়ার বোমা হামলায় অন্তত ৭৩ জন আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোতে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী।
সোমবার (২ অক্টেবর) রাতে চালানো এ হামলায় খারকিভের একটি নগর ক্লিনিক্যাল হাসপাতাল ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হাসপাতালটির হৃদ্রোগ বিভাগেও হামলার প্রভাব পড়েছে। ওই বিভাগে তখন রোগীদের চিকিৎসা চলছিল।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ‘রুশ বাহিনী সরাসরি একটি নগর ক্লিনিক্যাল হাসপাতালে আঘাত হেনেছে। এতে ৭৩ জন আহত হয়েছেন। হাসপাতালের হৃদ্রোগ বিভাগও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যেখানে রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।’ খারকিভের মেয়র ইহোর তেরেখভও টেলিগ্রামে হাসপাতালটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, হামলায় হাসপাতালটির এক হাজারের বেশি জানালার কাচ ভেঙে গেছে।
এদিকে, ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। জেলেনস্কি এ হামলাকে ‘সমন্বিত ও ব্যাপক আক্রমণ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
তিনি জানান, ওদেসা, চেরকাসি, জিতোমির, ভিনিতসিয়া, খারকিভ, দিনিপ্রো, চেরনিভৎসি, চেরনিহিভ ও রিভনে অঞ্চলের বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র এবং সাবস্টেশনগুলো ছিল হামলার প্রধান লক্ষ্য।
জেলেনস্কির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাতভর ইউক্রেনের বিভিন্ন স্থানে ২৮৯টি আক্রমণকারী ড্রোন, ১৭টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৫৯টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে রাশিয়া।
এর এক দিন আগেই ইউক্রেনের একটি ত্রাণ বিতরণকেন্দ্রে রুশ হামলায় অন্তত ৩১ জন নিহত হয়েছিলেন।
নেপালের এভারেস্ট বেস ক্যাম্পের কাছে দুটি হেলিকপ্টার সংঘর্ষ
নেপালের মাউন্ট এভারেস্ট অঞ্চলে অবতরণের প্রস্তুতির সময় দুটি হেলিকপ্টারের সংঘর্ষে এক ভারতীয় পর্যটক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন এক নিউজিল্যান্ডের নাগরিক। মঙ্গলবার এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
সোলুখুম্বু জেলার প্রধান জেলা কর্মকর্তা কামান সিং থাপা মাগার রয়টার্সকে বলেন, এভারেস্ট বেস ক্যাম্প এলাকায় হেলিকপ্টার দুটি সংঘর্ষে জড়ায়। আহত নিউজিল্যান্ডের নাগরিককে উদ্ধার করা হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি সংবাদমাধ্যমটি। ভিডিওতে অবতরণের মুহূর্তে হেলিকপ্টার দুটির পাখায় সংঘর্ষের পর সেগুলো বরফে ঢাকা মাটিতে আছড়ে পড়তে দেখা যায়।
হেলিকপ্টার দুটি পরিচালনা করছিল বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ফিশটেল এয়ার ও ডাইনেস্টি এয়ার। ফিশটেল এয়ার জানিয়েছে, তাদের হেলিকপ্টারটি এভারেস্ট অঞ্চল থেকে উদ্ধার করা যাত্রীদের নিয়ে অবতরণের সময় দুর্ঘটনায় পড়ে। এতে থাকা ভারতীয় ও নিউজিল্যান্ডের নাগরিক দুজনই পর্যটক ছিলেন। অন্যদিকে ডাইনেস্টি এয়ারের হেলিকপ্টারটিতে শুধু মালামাল ছিল বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মকর্তা।
নেপালে এখন পর্বতারোহণ ও ট্রেকিংয়ের ব্যস্ত মৌসুম। এ সময় পর্যটক, পর্বতারোহী ও উদ্ধারকাজে হেলিকপ্টার ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়। তবে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তন এবং উচ্চতায় বাতাসের ঘনত্ব কম থাকায় সেখানে উড়োজাহাজ চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ।
নেপালে বিশ্বের ১৪টি সর্বোচ্চ পর্বতের আটটি অবস্থিত। প্রতিবছর হাজারো বিদেশি পর্বতারোহী ও পর্যটক দেশটিতে যান।
এর কয়েক দিন আগে ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের বদ্রীনাথে উড্ডয়নের পরপরই একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়। এতে পাইলটসহ ছয়জন নিহত হন।
যুক্তরাজ্যের পতাকা
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ের পরও ইরানের প্রতি ওয়াশিংটনের শত্রুতামূলক নীতিতে পরিবর্তন আসবে না বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ক্ষমতার সমীকরণ বদলালেও তেহরানের প্রতি দেশটির নীতির মৌলিক পরিবর্তন হবে না।ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনার প্রকাশিত খামেনির এক বার্তায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ‘দলীয় মেরুকরণের পরিবর্তন’ ইরানি জনগণের প্রতি দেশটির শত্রুতা থেকে ওয়াশিংটনকে বিরত রাখতে পারবে না।
খামেনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানি জনগণের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ চায়। তার দাবি, নিজেদের তৈরি করা এক কেলেঙ্কারির পর যুক্তরাষ্ট্রের পতন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখান থেকে ফিরে আসা সম্ভব নয়। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দেশটির পতনের প্রক্রিয়া আরও ত্বরান্বিত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়কে ইরানের নেতারা ট্রাম্প প্রশাসনের পরাজয়ের প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরছেন। তাদের বক্তব্য, এই নির্বাচনের ফল ওয়াশিংটনের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।তবে খামেনির বার্তায় স্পষ্ট করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবর্তনকে ইরানের প্রতি দেশটির নীতিতে পরিবর্তনের সংকেত হিসেবে দেখছে না তেহরান। অর্থাৎ, ট্রাম্প প্রশাসন নির্বাচনে রাজনৈতিক ধাক্কা খেলেও ইরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের বিরোধ কমবে, এমন প্রত্যাশা করছে না দেশটির নেতৃত্ব।
আবদুল আল-সাইদ
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটপ্রার্থী আবদুল আল–সাইদ রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে হারিয়ে সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম হিসেবে সিনেটে যাচ্ছেন তিনি।
আল–সাইদ তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী রজার্সকে দুই লাখের বেশি ভোটের ব্যবধানে হারিয়েছেন।
মিসরীয় বংশোদ্ভূত আবদুল আল-সাইদ গত নভেম্বরে দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করেছিলেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং শীর্ষস্থানীয় রিপাবলিকান সহযোগীরা জোর দিয়ে প্রচার চালিয়েছিলন, আল-সাইদের মুসলিম পরিচয়, ইসরায়েল ইস্যুতে অবস্থান এবং প্রগতিশীল নীতিগুলো তাদের সম্প্রদায়গুলোকে ঝুঁকিতে ফেলবে এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দেবে।
তবে এ প্রচারণায় কান দেননি মিশিগানের ভোটারেরা