রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৫ মে, ২০২৬, সময় : ১০:০৬ এএম

আগামী সপ্তাহে চীন সফর করবেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। শুক্রবার (১৫ মে) সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট এ সংবাদ প্রকাশ করেছে। এদিকে চীন সফর শেষে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।


প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০ মে একদিনের এই সফর অনুষ্ঠিত হবে। সূত্রগুলো জানিয়েছে, এটি বেইজিংয়ের সঙ্গে মস্কোর নিয়মিত কূটনৈতিক যোগাযোগের অংশ এবং এতে বড় ধরনের সামরিক কুচকাওয়াজ বা জাঁকজমকপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতার সম্ভাবনা কম। তবে এখন পর্যন্ত সফরের তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি বেইজিং বা মস্কো।


ট্রাম্প শুক্রবার (১৫ মে) তার তিন দিনের চীন সফর শেষ করেছেন। নয় বছরের মধ্যে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের এটিই ছিল প্রথম চীন সফর। সফরে তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে বাণিজ্য, তাইওয়ান, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।


পুতিনের সফর বাস্তবায়িত হলে একই মাসে বহুপাক্ষিক কোনো প্ল্যাটফর্মের বাইরে চীন প্রথমবারের মতো বিশ্বের দুই প্রধান শক্তির নেতাকে নিজ দেশে আনতে যাচ্ছে। পুতিন ও শি জিনপিংয়ের সর্বশেষ বৈঠক হয়েছিল গত ৪ ফেব্রুয়ারি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে।


ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) জানান, পুতিন খুব শিগগির চীন সফরে যাচ্ছেন।


তিনি বলেন, আমরা শিগগির বিস্তারিত ঘোষণা করব। এই সফরের প্রস্তুতি চলছে। বলা যায়, প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন, শুধু শেষ মুহূর্তের কিছু কাজ বাকি। খুব নিকট ভবিষ্যতেই সফরটি হবে।


ট্রাম্পের বেইজিং সফরের পর রাশিয়া-চীন যোগাযোগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে পেসকভ বলেন, মার্কিন নেতার সফর নির্বিশেষে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে যোগাযোগের প্রত্যাশা করছে রুশ নেতৃত্ব।


পেসকভ জানান, চীন সফরে পুতিন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পুরো পরিসর এবং আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন।


তিনি বলেন, এজেন্ডা পরিষ্কার—প্রথমত আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত কৌশলগত অংশীদারিত্ব এবং ২০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিষয়ও আলোচনায় গুরুত্ব পাবে।


চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন শুক্রবার (১৫ মে) সাংবাদিকদের বলেন, দুই প্রেসিডেন্টের বৈঠকের প্রস্তুতি নিয়ে বেইজিং ও মস্কো ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রেখেছে। যথাসময়ে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।


জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্র হচ্ছে রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও চীন। পুতিনের এ সফর নিশ্চিত হলে নিরাপত্তা পরিষদের ৪ দেশের রাষ্ট্র প্রধানের চীন সফর করা হবে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রো গত ডিসেম্বরে চীন সফর করেন। আর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সফর করেন জানুয়ারিতে।



সর্বশেষ সব খবর

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:৫০ পিএম

ইসরাইলের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নজিরবিহীন পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত মিত্র আল্ট্রা-অর্থোডক্স ধর্মীয় দল ‘ইউনাইটেড তোরাহ জুডায়িজম’ (ইউটিজে) সরকার থেকে সরে দাঁড়ানোর স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে। সম্প্রতি ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়, দলটি এখন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সম্পর্ক চুকিয়ে বিরোধী জোটের প্রধান নেতা গ্যাডি আইজেনকোটের নতুন সরকারকে বাইরে থেকে সমর্থন দেওয়ার কথা ভাবছে। এই সমঝোতা বাস্তবায়িত হলে ইসরাইলি রাজনীতিতে নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের একক আধিপত্য চরম সংকটের মুখে পড়বে।


নতুন প্রস্তাবিত রাজনৈতিক সমীকরণ অনুযায়ী, ইউটিজে আইজেনকোটের নতুন মন্ত্রিসভায় সরাসরি যোগ দেবে না। তবে তারা সংসদে গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিল বা ভোটাভুটির সময় ভোটদানে বিরত থেকে আইজেনকোটের সংখ্যালঘু সরকারকে টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করবে। বর্তমানে সংসদে ইউটিজের ৭টি আসন রয়েছে। তারা নেতানিয়াহুর পাশ থেকে সরে দাঁড়ালে নেতানিয়াহু জোটের আসন সংখ্যা কমে দাঁড়াবে মাত্র ৪৬-এ, যা আইজেনকোটের ৪৮টি আসনের চেয়েও কম। তাছাড়া, সংসদীয় এই সমীকরণে ৮টি আসন থাকা ইসলামপন্থী দল ‘রা'আম’-এর সমর্থন নেওয়ার সুযোগও বিরোধী জোটের সামনে খুলে যাবে।


ধর্মীয় শিক্ষা বা ‘ইয়েশিভা’র শিক্ষার্থীদের জন্য সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক যোগদান থেকে অব্যাহতির আইন পাস না করায় নেতানিয়াহুর ওপর চরম ক্ষুব্ধ ইউটিজে। দলটির অভ্যন্তরীণ সূত্রের খবর, নেতানিয়াহুর সাথে তাদের রাজনৈতিক জোটের মেয়াদ শেষ হয়ে এসেছে এবং তার কাছে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা (৬১ আসন) না থাকায় নতুন কিছু পাওয়ার আশাও তারা দেখছে না। তাছাড়া, সংসদে কোনো জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠিত হলে নিজেদের বিরোধী দলে ছিটকে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।


তাই নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব ও প্রভাব টিকিয়ে রাখতেই তারা কৌশলগতভাবে আইজেনকোটের দিকে ঝুঁকছে। তবে প্রস্তাবিত এই নতুন সমঝোতার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হলো সেনাসদস্য নিয়োগের বিষয়টি। বিরোধী নেতা গ্যাডি আইজেনকোট শুরু থেকেই আল্ট্রা-অর্থোডক্স শিক্ষার্থীদের সামরিক ছাড় দেওয়ার কট্টর বিরোধী।


তা সত্ত্বেও, ইউটিজের অনেক নেতাই আশাবাদী যে আলোচনার মাধ্যমে একটি মাঝামাঝি সমাধান তৈরি করা সম্ভব। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী, সামরিক নিয়োগ সংক্রান্ত খসড়া আইনটি পাসের সময় ধর্মীয় এমপিরা লোকদেখানো প্রতিবাদ জানালেও বিরোধী জোটে অবস্থান নিয়ে ভোটাভুটিতে অংশ নেবেন না, যাতে সরকারের কোনো ক্ষতি না হয়।


ইতোমধ্যেই ইউটিজের শীর্ষ ধর্মীয় নেতারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোটের ওপর তাদের আর কোনো আস্থা নেই। যে রাজনৈতিক নেতাই ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের সামরিক ছাড় দেওয়ার সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দিতে পারবেন, নিজেদের ধর্মীয় গুরুদের অনুমতি সাপেক্ষে তাঁকেই তারা সমর্থন জানাতে প্রস্তুত।


যদিও এই প্রস্তাবে বিরোধী নেতা আইজেনকোটের দল 'ইয়াশার' এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি, তবে দুই দলের মধ্যে নিচু স্তরে আলোচনা শুরু হয়েছে। এই প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত সফল হলে নেতানিয়াহু সরকারের পতন কেবল সময়ের ব্যাপারে পরিণত হবে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:২০ পিএম

তরুণ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, বিশ্বাস ও আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ মোজতবা খামেনি। একই সঙ্গে দেশের শক্তি ও সক্ষমতা বাড়াতে আরও বেশি প্রচেষ্টা চালানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠানো চিঠির জবাবে এসব কথা বলেন মোজতবা খামেনি। ভবিষ্যৎ গঠনে তরুণদের দৃঢ় সংকল্প, দায়িত্ববোধ ও অঙ্গীকারের প্রশংসা করেন তিনি।


শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দেওয়া জবাবে মোজতবা খামেনি বলেন, জ্ঞান ও বিশ্বাসের পাশাপাশি আত্মশুদ্ধি, স্রষ্টার সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক এবং পবিত্র কোরআন ও আহলে বাইতের শিক্ষার গভীর উপলব্ধি অর্জনে তরুণদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা উচিত।


তিনি বলেন, আরও বেশি পরিশ্রম ও উদ্ভাবনী উদ্যোগের মাধ্যমে প্রিয় ইরানের শক্তি ও সক্ষমতা বাড়াতে তরুণদের ভূমিকা রাখতে হবে।চিঠিতে মোজতবা খামেনি বলেন, তরুণ ও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পাওয়া চিঠিগুলো ভবিষ্যৎ নির্মাণে তাদের দৃঢ় সংকল্প ও দায়িত্ববোধের প্রতিফলন। এই অঙ্গীকার পবিত্র ইসলামের শিক্ষা এবং ইমাম খোমেনি ও শহীদ খামেনির উত্তরাধিকারের সঙ্গে সম্পর্কিত। এটি নেতৃত্ব ও তরুণদের একই লক্ষ্যে যুক্ত করেছে।


তিনি আরও বলেন, ইমাম মাহদির দোয়া ও অনুগ্রহে উন্নতি এবং ইসলামি-ইরানি সভ্যতা গড়ে তোলার পথে এই অঙ্গীকারবদ্ধ শক্তির অগ্রযাত্রা আরও কার্যকর ও দ্রুত হবে বলে তিনি আশা করেন।


সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:০৭ পিএম

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে হত্যার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন তার ছেলে সুলাইমান খান।


তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, বাবার জীবন চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। দীর্ঘ কারাবাস, নির্যাতন ও যথাযথ চিকিৎসার অভাবে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। গত আগস্টের পর থেকে পরিবারের সদস্য ও আইনজীবীরা ইমরান খানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। তার বাবার কিছু হলে এর দায় কার, তা নিয়ে যেন কোনো সংশয় না থাকে বলেও সতর্ক করেছেন সুলাইমান।


ইমরান খানের সাবেক স্ত্রী জেমাইমা গোল্ডস্মিথের ছেলে সুলাইমান অভিযোগ করেন, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের কারণে তার বাবাকে দীর্ঘদিন কারাগারে থাকতে হচ্ছে। তার দাবি, ইমরান খান আগেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, মিসরের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহামেদ মুরসির মতো পরিণতি হতে পারে তার।


সুলাইমান আরও লেখেন, আগস্টের পর থেকে কেউ তার বাবাকে দেখেননি বা তার কাছ থেকে কোনো কথা শোনেননি। ওই মাসেই ইমরান খান তার ওপর নির্যাতন চালানোর অভিযোগ করেছিলেন। সুলাইমানের ভাষ্য, মুরসির মতো তার বাবাকেও হত্যার চেষ্টা করা হচ্ছে।ইমরান খানের চিকিৎসা ও সাক্ষাতের সুযোগ নিয়ে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশও উপেক্ষা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সুলাইমান। তার দাবি, গত আগস্টে আদালত ইমরান খানকে বেসরকারি শিফা হাসপাতালে পরীক্ষা ও চিকিৎসার সুযোগ দিতে এবং পরিবারের সদস্য ও আইনজীবীদের নিয়মিত সাক্ষাতের অনুমতি দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন।সুলাইমান জানান, তার বাবা পাকিস্তানের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হওয়ায় তাকে ভয় পায় ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী। তার বাবার কোনো ক্ষতি হলে এর দায় কার, তা নিয়ে যেন কেউ ভুল না করেন।


৭৪ বছর বয়সী ইমরান খান দুর্নীতি ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে সাজা ভোগ করছেন। তার বিরুদ্ধে ১০০টির বেশি মামলা রয়েছে। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তার দাবি, মামলাগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।


ইমরান খানের ওপর নির্যাতন, নির্জন কারাবাস ও চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে পাকিস্তান সরকার। গত আগস্টে বার্তা সংস্থা এপিকে দেওয়া এক লিখিত জবাবে দেশটির তথ্য মন্ত্রণালয় জানায়, সরকারের কোনো আদেশে ইমরান খানকে আটক রাখা হয়নি। আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতের রায়ে সাজাপ্রাপ্ত বন্দী হিসেবে তিনি কারাগারে রয়েছেন।


ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে প্রচার চালানোর প্রেক্ষাপটে তার পরিবারের সদস্যদের ওপরও চাপ বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারের পর সুলাইমান ও তার ভাই কাসিম খানকে বাবার মুক্তির দাবিতে প্রচার চালাতে পাকিস্তানে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে।


গত সেপ্টেম্বরে পরিকল্পিত প্রতিবাদের আগে পাঞ্জাব মেইনটেন্যান্স অব পাবলিক অর্ডার অর্ডিন্যান্সের আওতায় ইমরান খানের তিন বোন আলিমা খান, উজমা খান ও নোরিন নিয়াজিকে আটক করা হয়। পাঞ্জাব সরকারের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, গত সোমবার তাদের আটকাদেশ আরও ৩০ দিনের জন্য বাড়ানো হয়েছে।


কারাগারে থাকলেও পাকিস্তানে ইমরান খানের জনপ্রিয়তা অব্যাহত রয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে তার মুক্তির দাবিতে আয়োজিত সমাবেশে হাজার হাজার সমর্থক অংশ নেন। বিক্ষোভকারীরা তার মুক্তি, কারাগারে সাক্ষাতের সুযোগ এবং পছন্দের চিকিৎসকদের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়ার দাবিতে ইসলামাবাদ অভিমুখে লংমার্চের আয়োজন করেন।


এদিকে গত ১১ অক্টোবর পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) পরিচালিত প্রাদেশিক সরকার স্থগিত করেন। সরকার আফগানিস্তান সীমান্তসংলগ্ন ওই অঞ্চলে সশস্ত্র জঙ্গিদের তৎপরতাকে জরুরি অবস্থা জারির কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তবে পিটিআই এ পদক্ষেপকে ‘জরুরি অবস্থার ছদ্মবেশে একধরনের অভ্যুত্থান’ আখ্যা দিয়ে অভিযোগ করেছে, ইমরান খানের মুক্তির আন্দোলন দুর্বল করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:১৫ পিএম

প্রেমিককে বিয়ে করার দাবিতে প্রায় ১০০ ফুট উঁচু মোবাইল ফোনের টাওয়ারে উঠে চার ঘণ্টা অবস্থান করেন ১৯ বছর বয়সী এক তরুণী। শেষ পর্যন্ত ভিডিও কলের মাধ্যমে বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার পর টাওয়ার থেকে নিচে নামতে রাজি হন তিনি। ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের উত্তর প্রদেশের বাহরাইচ জেলায়।ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের বরাতে জিও নিউজ জানায়, তরুণীর নাম সাহিবা বেগম, যিনি মেহেক নামেও পরিচিত। ২১ বছর বয়সী প্রেমিক নূরুদ্দিনের সঙ্গে বিয়ের বিষয়ে মায়ের সঙ্গে তর্কের একপর্যায়ে তিনি টাওয়ারে উঠে পড়েন। এ সময় নূরুদ্দিন কাজের জন্য প্রায় এক হাজার কিলোমিটার দূরে মুম্বাইয়ে ছিলেন।


মেহেক ও নূরুদ্দিন বিয়ে করতে চাইলেও তাদের পরিবারের সদস্যরা এ সম্পর্কের বিরোধিতা করছিলেন। পরিবারের সম্মতি না পাওয়া পর্যন্ত নিচে নামতে অস্বীকৃতি জানান মেহেক। এমনকি বিয়ের দাবি পূরণ না হলে টাওয়ার থেকে লাফ দেওয়ার হুমকিও দেন তিনি।


খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। নারী পুলিশ সদস্যসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাঁকে নিরাপদে নিচে নামানোর চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নূরুদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় এবং দুই পরিবারের বিরোধ মেটানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।পরে ভিডিও কলের মাধ্যমে স্থানীয় এক মুসলিম ধর্মীয় নেতা তাদের নিকাহ সম্পন্ন করেন। নূরুদ্দিন মুম্বাই থেকে অনলাইনে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেন। নিকাহ শেষ হওয়ার পর টাওয়ার থেকে নামতে রাজি হন মেহেক। পরে নারী পুলিশ সদস্যরা তাকে নিরাপদে নিচে নামতে সহায়তা করেন।


সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনার পর মেহেক ও তার পরিবারের সদস্যদের কাউন্সেলিংয়ের জন্য থানায় নেওয়া হয়। পরে তাকে মায়ের সঙ্গে বাড়িতে পাঠানো হয়। এ ঘটনা দেখতে ঘটনাস্থলে স্থানীয় বাসিন্দাদের ভিড় জমে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:০৮ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা জোরালো হওয়ায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দামে বড় পতন হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির নতুন তথ্য প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। ওই তথ্য থেকে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী মুদ্রানীতির বিষয়ে ধারণা পাওয়া যেতে পারে। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় বিকাল ৩টার দিকে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে ৪ হাজার ২২ দশমিক ১৯ ডলারে দাঁড়ায়। অন্যদিকে, ডিসেম্বরে সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের ফিউচার মূল্য ০ দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৫ ডলারে নেমেছে। এ নিয়ে টানা দ্বিতীয় মাসের মতো দরপতনের পথে রয়েছে মূল্যবান এই ধাতু।


বুধবার ফেডারেল রিজার্ভ প্রত্যাশা অনুযায়ী সুদের হার অপরিবর্তিত রেখেছে। তবে মূল্যস্ফীতির আরও তথ্য পাওয়ার অপেক্ষায় থাকায় এবং আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর পরিস্থিতি মূল্যায়নের সুযোগ রাখতে ঋণ গ্রহণের খরচে পরিবর্তন আপাতত পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে ডিসেম্বরে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা জোরালো রয়েছে।


বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যক্তিগত ভোগব্যয় মূল্যসূচক (পিসিই) প্রকাশের কথা রয়েছে। মূল্যস্ফীতি পরিমাপের ক্ষেত্রে ফেডারেল রিজার্ভ এই সূচককে বিশেষ গুরুত্ব দেয়।বাইবিটের প্রধান বাজার বিশ্লেষক হান তান বলেন, পিসিইর তথ্য বাজারের প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হলে স্বর্ণের দাম আবারও প্রতি আউন্স ৪ হাজার ডলারের নিচে নেমে যেতে পারে। এতে ডিসেম্বরে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা আরও জোরালো হবে। 


সিএমইর ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, বাজারের লেনদেনকারীরা এখনো ডিসেম্বরে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা প্রায় ৮০ শতাংশ ধরে হিসাব করছেন।


বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার প্রত্যাশা করছেন বাজার বিশ্লেষকেরা। তবে ফ্রান্সের বন্ডবাজারে অস্থিরতার কারণে ব্যাংকটির সিদ্ধান্তের চেয়ে ওই পরিস্থিতি বেশি গুরুত্ব পেতে পারে।


সুদের হার বাড়লে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে সোনা ধরে রাখার সুযোগব্যয় বেড়ে যায়। ফলে উচ্চ সুদের প্রত্যাশা সাধারণত স্বর্ণের দামের ওপর চাপ সৃষ্টি করে।


হান তান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা আবারও বাড়তে পারে বলে বাজারে উদ্বেগ রয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১২০ ডলার বা তার বেশি হলে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়তে পারে। এতে আরও কঠোর মুদ্রানীতির প্রয়োজন দেখা দিলে স্বর্ণের দাম চলতি বছরের নতুন সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যেতে পারে।


এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান মোহসেন রেজায়িকে আলোচনার উদ্যোগ পুনরুজ্জীবিত করতে চিঠি পাঠানোর পর শান্তি আলোচনা নিয়ে নতুন করে আশা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে বৃহস্পতিবার বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে।


স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। বৃহস্পতিবার স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স রুপার দাম ২ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ৫২ দশমিক ৬৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্লাটিনামের দাম ২ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ১ হাজার ৫০২ দশমিক ৬১ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ কমে ১ হাজার ২ দশমিক ৫৫ ডলারে নেমেছে।


 সূত্র: রয়টার্স

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৫:২১ পিএম

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর দাবি, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের সময় মাইনে আঘাত লেগে তিনটি তেলবাহী জাহাজে আগুন ধরে যায়। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এ খবর জানিয়েছে।


আইআরজিসির নৌবাহিনী জানায়, জাহাজগুলো তাদের নির্ধারিত নয়- এমন একটি দক্ষিণের পথ ব্যবহার করছিল। আগুন লাগার পর সেগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় হরমুজ প্রণালির দক্ষিণ উপকূলে পড়ে থাকে।


ইরানের সংবাদমাধ্যম তাসনিমের প্রতিবেদনে আইআরজিসির নৌবাহিনীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, জাহাজগুলো নিজেদের সব রাডার ও নেভিগেশন ব্যবস্থা বন্ধ করে দিয়েছিল। নৌবাহিনীর সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে তারা হরমুজ প্রণালির অননুমোদিত দক্ষিণের পথ ছেড়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। জাহাজগুলোতে আগুন লাগার ফলে পরিবেশেরও ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে আইআরজিসি। 


তাদের বক্তব্য, হরমুজ প্রণালির অননুমোদিত পথ দূষিত হয়েছে। ওই পথে চলাচলের জন্য জাহাজগুলোর মালিক ও নাবিকদের দায়ী করেছে ইরানের নৌবাহিনী।


একই সঙ্গে জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ডের (সেন্টকম) সাইবার জগতের বক্তব্য বা দাবিতে গুরুত্ব না দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে আইআরজিসি। 


তাদের ভাষ্য, ‘যেকোনো উসকানিমূলক পদক্ষেপের’ জবাব কঠোরভাবে দেওয়া হবে। 


তবে তিনটি জাহাজের নাম, সেগুলোর পতাকাবাহী দেশ, হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না এবং আগুন লাগার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তথ্য পাওয়া যায়নি।


সূত্র: আল-জাজিরা

সর্বশেষ সব খবর