ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৯ মে, ২০২৬, সময় : ৪:০৯ এএম

যুদ্ধ নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্য মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করাকে রোববার নিজেদের ইতিহাসের ‘উজ্জ্বল মুহূর্ত’ হিসেবে অভিহিত করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ।


যুক্তরাষ্ট্রে পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত মাসুদ খানের মূল্যায়নও একই রকম।


তার ভাষায়, “আমার দীর্ঘ কূটনৈতিক জীবনে পাকিস্তানকে এত উঁচু অবস্থানে কখনও দেখিনি।”


পাকিস্তান-যুক্তরাষ্ট্রের অতীত টানতে গিয়ে এই কূটনীতিক বলেন, “২০২২ সালে আমি যখন রাষ্ট্রদূত হিসেবে ওয়াশিংটনে যাই, তখন পরিস্থিতি ছিল খুব কঠিন। অথচ এখন পাকিস্তান সেই কাজটি করছে, যা করার কথা জাতিসংঘের।”


যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম ‘ড্রপ সাইট’ লিখেছে, ইরান যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে হাজির হওয়াটা অনেকের কাছে অপ্রত্যাশিত মনে হতে পারে। কিন্তু দেশটি এখন বিশ্ব রাজনীতির মঞ্চে বড় ধরনের ভূমিকা নেওয়ার চেষ্টা করছে।


পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আলোচনায় বসলেও তেহরান অবশ্য ইসলামাবাদকে খুব একটা ভরসা করে না।


রোববার ইরানের জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজাই টুইটারে লেখেন, “পাকিস্তান আমাদের ভালো বন্ধু ও প্রতিবেশী। কিন্তু আলোচনার জন্য উপযুক্ত মধ্যস্থতাকারী নয়। মধ্যস্থতার জন্য প্রয়োজনীয় বিশ্বাসযোগ্যতাও তাদের নেই।


“তারা সবসময় ট্রাম্পের স্বার্থকে গুরুত্ব দেয়। তারা যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছার বিরুদ্ধে একটি কথাও বলে না।”


পাকিস্তান কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ভালোবাসার পাত্র হয়ে উঠল, সেই আলোচনায় ‘ড্রপ সাইট’ লিখেছে, এটা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক চাপ ও নানা কৌশলের গল্প। একই সঙ্গে তা পাকিস্তানের রাজনীতিতে দেশটির সামরিক বাহিনীর আধিপত্য ধরে রাখার দক্ষতার প্রমাণও।


ওয়াশিংটন ও ইসলামাবাদের কাছে আসার ঘটনাক্রম হিসেবে ২০২২ সালে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানক ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া; ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে ‘কারচুপি করা’ এবং দেশটির সামরিক শক্তিকে আরো ক্ষমতাবান করার বিষয়গুলো সামনে এনেছে ‘ড্রপ সাইট’।


তবে নতুন এই সম্পর্ক আঞ্চলিক রাজনীতির অবয়বে পরিবর্তনের আশা জাগালেও তা দুর্বল ভিত্তির কারণে ধসে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।


পাকিস্তানকে নিয়ে এখন যেসব প্রশংসা সংবাদমাধ্যমে আসছে, সেগুলোর কারণ হিসেবে সামনে আনা হচ্ছে ইরান যুদ্ধে তাদের মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকাকে। কিন্তু এই গল্পের বুনন শুরু হয়েছে অনেক আগেই।


ইসলামাবাদে বার্নস


২০২১ সালের জুনে পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে ইসলামাবাদ সফর করেন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা— সিআইএর পরিচালক উইলিয়াম জে. বার্নস।


ওই সময়ের খবর অনুযায়ী, তিনি ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করার জন্য পুরো একটা দিন অপেক্ষা করেছিলেন, কিন্তু সেই বৈঠক আর হয়নি।


ইমরান খানের কার্যালয় ফোনে বার্নসকে জানিয়ে দেয়, কূটনৈতিক নিয়ম অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী কেবল তার সমপর্যায়ের নেতার সঙ্গেই কথা বলবেন।


ওই সময় ইমরান খানের সমপর্যায়ের ব্যক্তি ছিলেন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, যিনি ওই বছরের জানুয়ারিতে ক্ষমতায় আসার পর ইমরান খানের ফোনালাপের অনুরোধ একাধিকবার প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।


বাইডেনের এই অস্বীকৃতি ছিল তার আগের প্রশাসনের অবস্থান থেকে অনেকটাই ভিন্ন।


২০১৯ সালের জুলাইয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সময় ইমরান খানকে হোয়াইট হাউজে সংক্ষিপ্ত বৈঠকের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। যদিও সেই বৈঠক চলে দেড় ঘণ্টার বেশি।


ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইমরান খানের মধ্যে তখন উষ্ণ সম্পর্ক ছিল। বেশ কিছু বিষয়ে মিলও ছিল তাদের মধ্যে।


দুজনই রাজনীতির বাইরের মানুষ হিসেবে আশি ও নব্বইয়ের দশকে জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন। এছাড়া দুজনই প্রায় একই সময়ে রাজনীতিক পরিচয়ে হাজির হন।


২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ট্রাম্প ও ইমরান খান আবার দেখা করেন। পরের বছরের জানুয়ারিতে তাদের আরেক দফা সাক্ষাৎ হয় হোয়াইট হাউজে।


কিন্তু বাইডেন প্রশাসনের কাছে ইমরান খান ছিলেন ‘পাকিস্তানের ডোনাল্ড ট্রাম্প’ মাত্র।


দুই দশক ধরে মার্কিন কর্মকর্তারা অভিযোগ করে আসছিলেন, পাকিস্তান একদিকে তালেবানকে আশ্রয় দেয়, অন্যদিকে উপরে উপরে মিত্রতা দেখিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে শত শত কোটি ডলার সামরিক সহায়তা নেয়।


২০১১ সালে পাকিস্তানের সামরিক একাডেমির শহর অ্যাবোটাবাদে মার্কিন বাহিনী অভিযান চালিয়ে ওসামা বিন লাদেনকে হত্যা করে। ওই ঘটনার পর পাকিস্তাননের সামরিক বাহিনী বেশ সমালোচনায় পড়ে যায়। কারণ সেই অভিযান চালানো হয় ইসলামাবাদকে না জানিয়েই।


২০২০ সাল থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী মহল বলতে থাকে, ওয়াশিংটনের আফগানিস্তান ছেড়ে দেওয়া এবং পাকিস্তানের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করা উচিত।


ড্রপ সাইট লিখেছে, একই সময়ে সৌদি আরব পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি করার জন্য চাপ দিচ্ছিল। কিন্তু ইমরান খানের সরকার সেটি প্রত্যাখ্যান করে।


নীতিগতভাবে ইমরান খানের সরকার ওয়াশিংটন ও উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ— উভয়ের সঙ্গেই একটা কূটনৈতিক সীমারেখা টেনেছিল। কিন্তু ইমরানের খানের এই নীতির কারণে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী ভাবতে শুরু করেছিল, দেশটি হয়ত আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে।


এমন মনোভাবের কারণেই ২০২১ সালের জুলাইয়ে ইমরানের অজান্তেই পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী সিআইএর ইসলামাবাদ স্টেশনের সাবেক প্রধানকে ওয়াশিংটনে লবিস্ট হিসেবে নিয়োগ দেয়।


পাকিস্তানের জেনারেলরা যে নির্বাচিত সরকারের বাইরে নিজেদের মতো করে সিদ্ধান্ত নেওয়া শুরু করেছে, এ ঘটনা ছিল তার প্রাথমিক ইঙ্গিত।


‘সবই ক্ষমা করে দেওয়া হবে’


২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ও ইউক্রেইনের মধ্যে যুদ্ধ বেধে যায়। ওই সময় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে মোকাবেলা করাই ছিল তৎকালীন বাইডেন প্রশাসনের মূল লক্ষ্য।


মার্কিন কূটনীতিকরা বিভিন্ন দেশকে যেকোনো একটি পক্ষ বেছে নেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন।


রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধ ঘিরে বিশ্ব যখন বিভক্ত হতে শুরু করে, তখন পাকিস্তান অপ্রত্যাশিতভাবে নিজেকে এই বিভক্তির কেন্দ্রবিন্দুতে আবিষ্কার করে।


ওই বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি, যেদিন রুশ বাহিনী ইউক্রেইনে প্রবেশ করে, সেদিন প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে পূর্ব নির্ধারিত একটি বৈঠক করতে মস্কোতে অবস্থান করছিলেন ইমরান খান।


সেই বৈঠকের কয়েক দিন আগে বাইডেনের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাকে ফোন করে ইমরান খানকে রাশিয়া সফর বাতিল করার অনুরোধ জানান।


ফাঁস হওয়া সেই ফোনালাপ থেকে জানা যায়, সুলিভান সেদিন ইমরান খানের সফরের বিরুদ্ধে সতর্ক করেছিলেন এবং ইউক্রেইন যুদ্ধে ইসলামাবাদকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার জন্য চাপ দিয়েছিলেন। কিন্তু ইমরান খান সেই সতর্কতা তোয়াক্কা করেননি।


ওই বৈঠকের পর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে রাশিয়ার নিন্দা জানিয়ে আনা একটি প্রস্তাবে পাকিস্তান ভোটদানে বিরত থাকে।


ড্রপ সাইট লিখেছে, সবকিছু মিলিয়ে ক্ষুব্ধ মার্কিন কূটনীতিকরা গোপনে পাকিস্তানি প্রতিনিধিদের এই বার্তা দেন যে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই সম্পর্ক আর টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়।


২০২২ সালের ৭ মার্চ ওয়াশিংটনে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লুর সঙ্গে দেখা করেন পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত আসাদ মজিদ খান।


সেই কথোপকথন পরে ফাঁস হয়ে যায়, যা পরবর্তী সময়ে ওয়াশিংটন-ইসলামাবাদ সম্পর্কের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে।


ফাঁস হওয়া সেই কথোপকথন অনুযায়ী, লু সেদিন রাষ্ট্রদূতকে বলেছিলেন, একটি অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে ইমরান খানকে যদি ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়, তবে ইমরান খানের সরকারের প্রতি ওয়াশিংটনের ক্ষোভ প্রশমিত করা যাবে, অর্থাৎ ‘সব ক্ষমা করে দেওয়া হবে’ (এই বাক্যটি পরে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূতের মুখ থেকে এসেছিল)।


এরপর ২০২২ সালের ৯ এপ্রিল পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর সমর্থনে একটি অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে ইমরান খানকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়।


সামরিক বাহিনীর সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় আসা নতুন সরকার ওয়াশিংটনকে এমন সব সুবিধা দিতে থাকে, যা ইমরান খান প্রত্যাখ্যান করেছিল।


কয়েক মাসের মধ্যেই পাকিস্তান ইউক্রেইনের জন্য কামানের গোলাসহ বিভিন্ন সামরিক রসদ সরবরাহকারী দেশ হিসেবে আবির্ভূত হয়।


ফাঁস হওয়া নথিপত্র থেকে জানা যায়, এসব অস্ত্র মার্কিন প্রতিরক্ষা ঠিকাদার এবং তৃতীয় দেশের মধ্যস্থতায় পাঠানো হয়েছিল। পাকিস্তানের এসব রসদ ইউক্রেইনের অস্ত্রের ঘাটতি পূরণে সহায়তা করে।


২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক বাহিনী যখন ব্যাপকভাবে নির্বাচনে কারচুপি করে ইসলামাবাদে পছন্দের সরকার বসায়, তখন ইউরোপীয় ইউনিয়ন কিংবা যুক্তরাষ্ট্র, কেউই কোনো কথা বলেনি।


পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র


২০২২ সালের ৯ এপ্রিল, যেদিন ইমরান খানের সরকারের পতন ঘটে, সেদিনই একটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালায় পাকিস্তান। ক্ষেপণাস্ত্রটি ছিল 'শাহীন-৩’। এটি পাকিস্তানের সবচেয়ে দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র।


পাকিস্তানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ভারতকে মাথায় রেখে পরিচালিত হয়। কিন্তু সেদিন যে ক্ষেপণাস্ত্রটি পরীক্ষা করা হয়, সেটি ইসরায়েলেও আঘাত হানতে সক্ষম।


ক্ষেপণাস্ত্রের এই পরীক্ষার সূত্র ধরে ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের উদ্বেগকে আবার সামনে আনা হয়।


যে সেনাপ্রধানের হাতে ইমরান খানের পতন ঘটে, সেই কামার জাভেদ বাজওয়ার ২০২২ সালের অক্টোবরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনর্গঠনের উদ্দেশ্যে ওয়াশিংটন সফর করেন। সফরটি হয় সেনাপ্রধান হিসেবে তার মেয়াদের শেষ মাসে।


সফরকালে বাজওয়া মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভানসহ বাইডেন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।


সেসব বৈঠকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে আশ্বস্ত করেন, পাকিস্তান তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের সীমা এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে, যা ইসরায়েল পর্যন্ত পৌঁছাবে না।


যুক্তরাষ্ট্রের আরো বেশি সহানুভূতি পাওয়ার চেষ্টায় বাজওয়া এই আশ্বাসও দেন, চীনের কাছ থেকে পাকিস্তান দূরে সরে আসতে চায়।


২০২২ সালের অক্টোবরে দেশে ফেরার পরেই জেনারেল বাজওয়া ‘স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যানস ডিভিশনের’ (এসপিডি) প্রধানকে ফোন করেন। এসপিডি মূলত পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্র তদারকি করে থাকে।


বাজওয়া ও এসপিডি প্রধানের কথোপকথনের বিবরণ সম্পর্কে জানা যায়, জেনারেল বাজওয়া সেদিন তাকে দেশের কিছু পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন প্রতিনিধিদের পরিদর্শন ও পরীক্ষা করার অনুমতি দেওয়ার নির্দেশ দেন।


পাকিস্তানে এসপিডি প্রধান সরাসরি জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ (জেসিএসসি) কমিটির কাছে জবাবদিহি করেন। এই কমিটি আবার সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর অধীনে কাজ করে, সেনাপ্রধানের অধীনে নয়।


এই যুক্তি দেখিয়ে এসপিডি প্রধান সেদিন সেনাপ্রধানের আদেশ অমান্য করেন। অমান্য করার কারণে এটা স্পষ্ট হয় যে, সামরিক বাহিনীর প্রধান দেশের পারমাণবিক অস্ত্রের ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাখেন না।


একই মাসের শেষ দিকে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন একটি বিবৃতি দেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, "পাকিস্তান সম্ভবত বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক দেশ। কারণ এই দেশটির কাছে পারমাণবিক অস্ত্র থাকলেও অভ্যন্তরীণভাবে সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে।"


হুট করে আসা এই বিবৃতি অনেক পর্যবেক্ষককে অবাক করেছিল। কিন্তু ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ভাষ্য, এই বিবৃতির সঙ্গে পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন প্রতিনিধিদের প্রবেশাধিকার না দেওয়ার সম্পর্ক ছিল।


এই ঘটনার এক মাস পর বাজওয়া পদত্যাগ করেন। ২০২২ সালের নভেম্বরে তার স্থলাভিষিক্ত হন জেনারেল আসিম মুনির, যিনি ২০২৫ সালে নিজেকে 'ফিল্ড মার্শাল' পদে উন্নীত করেন। নিজের জন্য 'চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস' নামে একটি নতুন পদও তৈরি করেন।


এছাড়া সংবিধানে সংশোধনী এনে জেসিএসসির ভূমিকা বিলুপ্ত করেন তিনি, যা পাকিস্তানের ইতিহাসে নজিরবিহীনভাবে যুক্তরাষ্ট্রপন্থি আসিম মুনিরকে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতাও দেয়।


আসিম মুনিরের দ্বিতীয় অধ্যায়


আসিম মুনির হলেন ট্রাম্পের ভাষায় ‘আমার প্রিয় ফিল্ড মার্শাল’। মুনির নিজেও এই উপাধি বেশ উপভোগ করেন। তবে মুনির যে এমন পদে আসীন হবেন, তা কখনোই হিসাবে ছিল না।


২০১৯ সালের এপ্রিলে মুনির যখন দেশের শক্তিশালী গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের মহাপরিচালক ছিলেন, তখন তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে ইরানি কর্মকর্তা এবং ইরানের রেভলুশনারি গার্ড কোরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার জন্য তেহরান সফর করেছিলেন।


ইমরান খানের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের মতে, ইরান-পাকিস্তান সীমান্তের বেলুচ অঞ্চলে দীর্ঘদিনের বিদ্রোহ নিয়ে ইরানিদের সঙ্গে বিবাদে জড়ান আসিম মুনির।


কিন্তু বেলুচ অঞ্চলের বিদ্রোহ দমনে পাকিস্তান ও ইরানের পারস্পরিক সহযোগিতা দুই দেশকে আরো কাছে টানতে পারত। কিন্তু সেটা হতো ইরানকে একঘরে করার মার্কিন পরিকল্পনার পরিপন্থি।


মার্কিন নির্দেশে হোক, কিংবা নিজের সহজাত প্রবৃত্তির কারণে হোক, আসিম মুনির সেই সম্ভাবনা নস্যাৎ করে মার্কিনিদের মস্ত বড় উপকার করেছিলেন।


আসিম মুনিরের এই আচরণ নিয়ে ইরানের কর্মকর্তারা ইমরান খানের কাছে নালিশ জানান। সেই নালিশের জেরেই ২০১৯ সালের জুনে ইমরান খান তাকে সরিয়ে দেন বলে ধারণা করা হয়।


আইএসআই প্রধান হিসেবে আসিম মুনিরই সবচেয়ে কম সময় দায়িত্বে ছিলেন। এছাড়া বাজওয়া তার সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে যাদের তালিকা করেছিলেন, সেখানে আসিম মুনিরের নামই ছিল না।


ইমরান খান পরে অভিযোগ করেন, চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়ার পর মুনির লন্ডনে যান এবং নওয়াজ শরিফের সঙ্গে দেখা করেন।


ইমরান খানের মতে, ওই বৈঠক ছিল সেই ষড়যন্ত্রের সূচনা, যাকে তিনি পরে ‘লন্ডন প্ল্যান’ বলে অভিহিত করেন।


বলা হয়, ওই পরিকল্পনাটি ছিল আসিম মুনির, নওয়াজ শরিফ এবং পাকিস্তানের উচ্চ আদালতের কিছু বিচারপতির মধ্যকার একটি সমঝোতা, যার অধীনে ইমরান খানের সরকার ও তার দলকে ধ্বংস করার বিনিময়ে আসিম মুনিরকে সেনাপ্রধানের পদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।


২০২২ সালের ২৪ নভেম্বর আসিম মুনিরকে সেনাপ্রধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তাকে দায়িত্ব দেওয়ার কয়েক মাসের মাথায় ইমরান খানকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং দুর্নীতি, আদালত অবমাননা ও জাতীয় নিরাপত্তার একগুচ্ছ মামলায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়।


২০২৩ সালের অক্টোবরে নওয়াজ শরিফ পাকিস্তানে ফিরে আসেন এবং কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তার দণ্ড বাতিল হয়ে যায়।


২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে তার ছোট ভাই শেহবাজ শরিফ আবারও প্রধানমন্ত্রী হন এবং আসিম মুনির হয়ে যান দেশের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি। ইমরান খান এখনো কারাগারেই আছেন।


চীনকে ঠেকানো


গত দশকের প্রায় পুরোটা সময় পাকিস্তানের সঙ্গে চীনের সুসম্পর্ক ছিল। বেইজিংয়ের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ প্রকল্প হিসেবে ২০১৫ সালে চালু হয় ‘চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর’।


এই প্রকল্পের মাধ্যমে পাকিস্তানে শত শত কোটি ডলারের বিনিয়োগ এসেছিল, যারা কিনা বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে হিমশিম খাচ্ছিল।


ইসলামাবাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই সম্পর্ককে কখনো কখনো ‘সবচেয়ে গভীর সমুদ্রের চেয়েও গভীর’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।


আসিম মুনিরের অধীনে সেই সম্পর্ক প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।


চীনের সঙ্গে প্রাথমিকভাবে যে ৯০টি প্রকল্প ছিল, তার মধ্যে মাত্র ৩৮টি সম্পন্ন হয়েছে। ২৩টি এখনো নির্মাণাধীন। প্রায় এক-তৃতীয়াংশের কাজই শুরু হয়নি।


কাজ শেষ হওয়া সর্বশেষ বড় প্রকল্প ছিল ‘গোয়াদার ইস্ট বে এক্সপ্রেসওয়ে’। এটি শেষ হয় ২০২২ সালে। এরপর থেকে পাইপলাইনে নতুন কোনো বড় প্রকল্প যুক্ত হয়নি।


নতুন অর্থায়নের উদ্দেশ্যে ২০২৪ সালে চীন সফর করার পর প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ খালি হাতে বেইজিং ছাড়েন।


চীনের বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের বকেয়া পরিশোধ না করায় পাকিস্তানের দেনা আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে, যা দুই দেশের দ্বন্দের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


পর্দার আড়ালের সম্পর্ক ছিল আরও শীতল। পাকিস্তান বেইজিংকে গোপনে আশ্বস্ত করেছিল যে, তারা চীনকে গোয়াদারের গভীর সমুদ্র বন্দরে স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি বানানোর অনুমতি দেবে। সেই ঘাঁটির বিনিময়ে বেইজিংয়ের কাছে একগুচ্ছ দাবি তুলে ধরে পাকিস্তান।


তারা চীনের কাছে দাবি করে, এই অনুমোদনের কারণে যুক্তরাষ্ট্র যদি প্রতিশোধ হিসেবে কোনো রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বা কূটনৈতিক ব্যবস্থা নেয়, তবে চীন যেন তার ক্ষতিপূরণ বা সুরক্ষা দেয়।


তারা ভারতের সঙ্গে সামরিক ও গোয়েন্দা সক্ষমতায় পাল্লা দিতে চীনের সহায়তাও চান। সবচেয়ে বড় দাবি ছিল, তারা বেইজিংয়ের কাছে পাকিস্তানের জন্য একটি সমুদ্রভিত্তিক পারমাণবিক 'সেকেন্ড-স্ট্রাইক' সক্ষমতা অর্জনের দাবি তুলেছিল। তবে চীন তাতে রাজি হয়নি।


ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কের বিষয়ে ২০২৫ সালের অগাস্টে এক সাক্ষাৎকারে আসিম মুনির বলেছিলেন, "আমরা এক বন্ধুকে অন্য বন্ধুর জন্য কোরবানি দেব না।"


তবে নিজেদের স্বার্থে পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্ব শেষ পর্যন্ত ঠিক সেটাই করেছে।


জোটের জাল


২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি করে পাকিস্তান। তিন বছর আগে ইমরান খানের সরকার এই চুক্তি করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল।


অন্যদিকে পাকিস্তানের নতুন সামরিক নেতৃত্বাধীন সরকার নতুন ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করতে তৎপর হয়ে ওঠে।


ট্রাম্প পরিবার যখন ক্রিপ্টোকারেন্সির ব্যবসায় নামে, ইসলামাবাদও তা অনুসরণ করে ‘পাকিস্তান ক্রিপ্টো কাউন্সিল’ গঠন করে।


এই কাউন্সিল গঠনের কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ট্রাম্প পরিবারের সদস্যদের মালিকানাধীন ‘ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্স’ এর শীর্ষ কর্তারা ইসলামাবাদে যান।


২০২৪ সালের ২৬ এপ্রিল পাকিস্তানে পা রাখা সেই প্রতিনিধি দলটির নেতৃত্বে ছিলেন ওয়ার্ল্ড লিবার্টির প্রধান নির্বাহী এবং স্টিভ উইটকফের ছেলে জ্যাচ উইটকফ এবং এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা জাক ফোকম্যান ও চেজ হিরো।


সফরের শেষ দিকে ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের উপস্থিতিতে অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেন। এই স্মারকের মাধ্যমে পাকিস্তান তার বার্ষিক ৩৬ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্সের একটি অংশ ট্রাম্প পরিবারের মালিকানাধীন ফার্মের মাধ্যমে লেনদেন করার প্রতিশ্রুতি দেয়।


যখন চীনের ‘রেয়ার আর্থ’ বা বিরল খনিজ সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর মার্কিন নির্ভরতা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্বেগ প্রকাশ পাচ্ছিল, পাকিস্তান তখন মার্কিন অংশীদারদের সঙ্গে একটি ‘বিরল খনিজ’ চুক্তি ঘোষণা করে।


২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের সেই চুক্তিটি হয় সামরিক বাহিনী পরিচালিত ফ্রন্টিয়ার ওয়ার্কস অর্গানাইজেশন এবং মিসৌরি-ভিত্তিক ফার্ম ‘ইউএস স্ট্র্যাটেজিক মেটালস’-এর মধ্যে।


এই চুক্তির অধীনে, পাকিস্তানি অ্যান্টিমনি, তামা, টংস্টেন এবং বিরল খনিজ উপাদানের বিনিময়ে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের মার্কিন বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি আসে।


এছাড়া ট্রাম্প প্রশাসন যখন গাজায় তার প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক বাহিনীর জন্য একটি মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের সন্ধান করছিল, তখন পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী স্বেচ্ছায় সেখানে সেনা পাঠানোর প্রস্তাব দেয়।


ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর পুরোটা সময় পাকিস্তান প্রাসঙ্গিক থাকার চেষ্টা করেছে। এই চেষ্টায় তারা প্রতিশ্রুতি অনেক দিয়েছে, বাস্তবায়ন করেছে খুবই কম।


ইসলামাবাদ থেকে অনবরত প্রচার চালানো হলেও ইরান যুদ্ধের শান্তি আলোচনা অনেকটা অচল হয়ে পড়েছে।


ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলপন্থি গোষ্ঠীগুলো পাকিস্তানকে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা থেকে বাদ দিতে ট্রাম্প প্রশাসনকে চাপ দেওয়া শুরু করেছে।


তবে ট্রাম্প এখনো পাকিস্তান নিয়ে বিরক্ত নন। সম্প্রতি এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “তারা চমৎকার। আমি মনে করি পাকিস্তানিরা দারুণ কাজ করেছে। পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল এবং প্রধানমন্ত্রী এক কথায় অসাধারণ।”




ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৮ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১২:০১ পিএম

মানুষের শারীরিক ও আসল বয়সের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। একই বছরে জন্ম নিয়েও দুই ব্যক্তির শরীরে বয়সের ছাপ একই গতিতে নাও আসতে পারে। 


কারও কারও ক্ষেত্রে আবার আসল বয়সের চেয়ে শরীর দ্রুত বুড়িয়ে যেতে থাকে, যা ইঙ্গিত দেয় অসুস্থতার ঝুঁকির। এই শারীরিক বয়সের বিষয়টি পরিমাপ করা হয় রক্তচাপ, ফুসফুসের ক্ষমতা ইত্যাদি বিষয়ের ভিত্তিতে।


নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, সিনেমা দেখতে যাওয়া বা জাদুঘরে ঘুরতে যাওয়ার মতো বিষয়গুলো শারীরিক বয়স প্রশ্নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে, এটি বয়স্কদের মধ্যে কমিয়ে দিতে পারে বয়সের ছাপ পড়ার গতি। যুক্তরাজ্যে হওয়া এই গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, বৃদ্ধ বয়সেও যারা নিয়মিত সিনেমা দেখতে ও জাদুঘরে ঘুরতে যান, আর যারা যান না– এই দুইয়ের শারীরিক বয়সের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।  


‘মেজারিং কালচারাল হ্যাবিটস এগেইনস্ট বায়োলজিক্যাল এজ’ শীর্ষক গবেষণায় গবেষকরা বলছেন, সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা মানুষের শরীরের বয়স কম রাখতে সহায়তা করতে পারে। সব মিলিয়ে গবেষণায় এক হাজার ৮৯৯ জন অংশ নিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ৪৭ শতাংশ পুরুষ। এ ছাড়া ২০০৪ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত চার হাজার দুইশ সাতটি জরিপ করা হয় এ গবেষণার স্বার্থে। 


স্টাডি ফাইন্ডসের প্রতিবেদন বলছে, সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়টি পরিমাপ করতে অংশগ্রহণকারীদের জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তারা কত দিন পরপর সিনেমা দেখতে যান, জাদুঘর বা আর্ট গ্যালারিতে যান, অথবা মঞ্চনাটক দেখেন। উত্তরে অংশগ্রহণকারীদের কেউ কেউ বলেছেন, ‘কখনও না’, কেউ বলেছেন, ‘মাসে দুইবার’। কেউ আবার জানিয়েছেন, মাসে দুইবারের চেয়েও বেশি। 


সেসব উত্তরের ওপর ভিত্তি করে গবেষকরা অংশগ্রহণকারীদের শূন্য থেকে ১৫ পর্যন্ত নম্বর দেন। গড়ে অংশগ্রহণকারীরা ৪ দশমিক ৩ নম্বর করে পান। যারা কয়েক মাসের মধ্যে বেশ কয়েকবার এ ধরনের কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছেন, তাদের নম্বর আসে গড়ে ৭ দশমিক ৩। অন্যদিকে যারা বছরে একবার বা তার চেয়েও কম জাদুঘরে বা সিনেমা দেখতে গেছেন, তারা পান গড়ে ২ দশমিক ৩ নম্বর। সবাইকে শারীরিক বয়সের ভিত্তিতেও বিচার করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের সবার আসল গড় বয়স ছিল ৬৮ দশমিক ৭ শতাংশ, শারীরিক বয়সের গড় ছিল ৬৮ দশমিক ৭ শতাংশ। গবেষণায় দেখা যায়, যারা নিয়মিত সিনেমা দেখতে বা জাদুঘরে ঘুরতে যান, তাদের গড় শারীরিক বয়স তিন বছর কম এসেছে অন্যদের তুলনায়। 


বিষয়টি কাকতালীয় কিনা, তা নির্ণয় করতে গবেষকরা পৃথক একটি বিশ্লেষণ করেন এক হাজার ৬৫২ জনের তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে। তাদের ঘুরতে যাওয়া ও শারীরিক বয়সের তথ্য চার বছর ধরে সংগ্রহ করা হয়। পরে দেখা যায়, যারা সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা রেখেছিলেন, তাদের শারীরিক বয়স অন্যদের তুলনায় ০ দশমিক ০৮৯ বছর কম এসেছে।


তবে এই গবেষণাটি শুধু যুক্তরাজ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। গবেষকরা জানান, ভিন্ন দেশ বা ভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশে এর ফলাফলে পার্থক্য দেখা যেতে পারে। এ ছাড়া গবেষণাটির আরেকটি সীমাবদ্ধতা হলো, এতে শুধু সিনেমা, জাদুঘর বা আর্ট গ্যালারির মতো ভেন্যুতে যাওয়ার বিষয়টি রেকর্ড করা হয়েছে, অন্য ধরনগুলোকে আমলে নেওয়া হয়নি। তবে খাওয়া ও ব্যায়ামের পাশপাশি ঘুরতে যাওয়ার বিষয়টিও যে বয়স্কদের ভালো ও সুস্থ থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ, সেটি তুলে ধরেছে গবেষণাটি।


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৮ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:২৭ এএম

ইরানের সঙ্গে শুরু হওয়া নতুন আলোচনা ব্যর্থ হলে ফের কঠোর হামলা চালানো হবে বলে হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (২৭ জুলাই) মিশিগানে যাওয়ার পথে এই হুমকি দেন তিনি।


এদিকে, ট্রাম্প দাবি করেছেন ইরানের সঙ্গে ভালো ও গভীর আলোচনা চলছে। কিন্তু ইরান পাল্টা দাবি করেছে, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান চললেও বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনো আলোচনা হচ্ছে না।


চলতি ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে নতুন করে ইরান যুদ্ধ শুরু হয়। এরপর জুনে যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতা হলেও, হরমুজ প্রণালিতে তেল ট্যাংকার হামলা ও সৃষ্ট উত্তেজনার জেরে গত জুলাইয়ের শুরুতে যুদ্ধবিরতি ভেঙে যায় এবং ১৩ জুলাই থেকে মার্কিন বাহিনী আবারও নতুন করে বিমান হামলা ও সামরিক পদক্ষেপ শুরু করে।


টানা ১৩ রাত হামলার পর গত শুক্রবার থেকে যুক্তরাষ্ট্র অভিযান স্থগিত করে। টানা চার দিনের মতো সোমবারও (২৭ জুলাই) মার্কিন হামলা স্থগিত ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের ঘাটতির কারণে হামলা স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প এ দাবি নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর অনুরোধেই তিনি হামলা স্থগিত করেছেন।



সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, শুক্রবার (২৭ সোমবার) হোয়াইট হাউজে এক বৈঠকে মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক গোলাবারুদের মজুত ও অন্যান্য সম্ভাব্য নেতিবাচক পরিণতি নিয়ে তার উদ্বেগ তুলে ধরেন। এ বৈঠকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও উপস্থিতি ছিলেন। তারা দুজনই নতুন হামলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করার পর ইরানে হামলা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।


এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র হামলা বন্ধ হওয়ায় ইরানও পাল্টা হামলা স্থগিত রেখেছে। তেহরান দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এখনো তাদের হাতে রয়েছে। ওমানের সঙ্গে মিলে নৌযান চলাচলের নতুন ব্যবস্থা তৈরির কাজ চলছে, যার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সম্পর্ক নেই।


সূত্র: রয়টার্স


ভারতের জেন-জি। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:৫৩ পিএম

ভারতের পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন ২০২৯ সালে অনুষ্ঠিত হওয়ার আগেই দেশের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তবয়স্ক প্রজন্মে রূপ নিতে চলেছে জেন জি বা জেনারেশন জেডের তরুণ-তরুণীরা। ফলে আগামী দিনে রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষে তাদের রাজনৈতিক প্রভাব উপেক্ষা করা কোনোভাবেই সম্ভব হবে না। 



সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলন এবং তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের ঘটনাটি এই বাস্তবতাকে স্পষ্ট করে তুলেছে যে দেশের তরুণ সমাজকে সরকার এখন আর এড়িয়ে চলতে পারে না। নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আন্দোলনটি দ্রুত শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে এক বৃহত্তর জাতীয় আলোচনায় রূপ নেয়, যা প্রমাণ করে যে ডিজিটালভাবে সংযুক্ত ভারতীয় যুবসমাজ কত দ্রুত জাতীয় রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।


জনসংখ্যার পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনের সময় ১৮ থেকে ৩২ বছর বয়সি জেন জি প্রজন্মের জনসংখ্যা প্রায় ৩৮ কোটিতে পৌঁছাবে (প্রায় ১৯ কোটি ৯০ লাখ পুরুষ এবং ১৮ কোটি ২০ লাখ নারী)। এর মাধ্যমে তারা মিলেনিয়াল প্রজন্মকে পেছনে ফেলে ভারতের বৃহত্তম প্রাপ্তবয়স্ক প্রজন্মে পরিণত হবে। এই জনমিতিক পরিবর্তনের প্রভাব কেবল সংখ্যার পরিসরে সীমাবদ্ধ নয়; জেন জি প্রজন্ম দেশের বৃহত্তম ছাত্র সমাজ, প্রথমবার ভোটদাতা ভোটার এবং কর্মজীবনের শুরুতে থাকা পেশাজীবীদের প্রতিনিধিত্ব করবে। ফলে কর্মসংস্থান, শিক্ষা, জীবনযাত্রার ব্যয়, আবাসন ও সুশাসনের মতো ইস্যুগুলো রাজনৈতিক ময়দানে আরও বেশি গুরুত্ব পাবে।


ভারতের জনসংখ্যা ধীরে ধীরে বয়োবৃদ্ধ হওয়ার কারণে সামগ্রিক ভোটারদের মধ্যে তরুণদের অনুপাত কিছুটা কমলেও, জেন জি তাদের বিশাল সংখ্যা, অভূতপূর্ব ডিজিটাল সংযোগ এবং দ্রুত সংঘবদ্ধ হওয়ার ক্ষমতার কারণে অত্যন্ত প্রভাবশালী এক শক্তিতে পরিণত হচ্ছে। সামগ্রিক জনসংখ্যার রূপান্তর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে শিশুদের অনুপাত হ্রাসের পাশাপাশি বয়স্ক জনগোষ্ঠীর হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। 


ভারত বয়সসীমার দিক থেকে প্রবীণ হওয়ার সাথে সাথে ঐতিহ্যগত জনমিতিক লভ্যাংশ ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়ে আসায় বর্তমান সময়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। জেন জি এমন একসময়ে প্রাপ্তবয়স্ক শ্রেণীতে পা রাখছে যখন তারা দেশের বৃহত্তম ও রাজনৈতিকভাবে অন্যতম সচেতন প্রজন্মে পরিণত হয়েছে, যা ভবিষ্যতের রাজনীতিতে একটি সুদূরপ্রসারী পরিবর্তন আনবে।


সূত্র: এনডিটিভি।


ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:৪২ পিএম

সরকারের সঙ্গে হওয়া চুক্তি লঙ্ঘন করে আন্দোলনকারীদের গ্রেফতার ও হয়রানি করা হচ্ছে—এমন গুরুতর অভিযোগ এনে কেন্দ্র সরকারকে ফের কঠোর আন্দোলনের আলটিমেটাম দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। 


সোমবার (২৭ জুলাই) আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রঙ্কা ও সৌরভ দাস এবং স্বতন্ত্র রাজ্যসভা সাংসদ ও সিনিয়র আইনজীবী কপিল সিবল উপস্থিত থেকে এই উদ্বেগের কথা জানান। 


একই সঙ্গে আন্দোলনের সময়কার ডিজিটাল প্রমাণ সুরক্ষিত রাখতে এবং আইনি সহায়তা দিতে ‘সাক্ষী’ নামের একটি নতুন ওয়েবসাইট ও অ্যাপ উন্মোচন করা হয়। 


সংবাদ সম্মেলনে সৌরভ দাস জানান, ৩৬ দিনব্যাপী আন্দোলন প্রত্যাহারের পরও ভবিষ্যতে সরকার আন্দোলনকারীদের লক্ষ্যবস্তু বানাতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই তারা শুরু থেকেই আইনজীবী কপিল সিবলের আইনি পরামর্শ নিয়েছিলেন। তিনি বলেন, অতীতে বড় ধরনের অন্যান্য আন্দোলনেও দেখা গেছে যে আন্দোলনের গতি স্তিমিত হয়ে যাওয়ার পর এককভাবে ব্যক্তিদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়। 



সিজেপির নতুন প্ল্যাটফর্ম ‘সাক্ষী’র মাধ্যমে বিক্ষোভের ছবি ও ভিডিও ক্রিপ্টোগ্রাফিক ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রযুক্তির সাহায্যে টেম্পার-প্রুফ বা পরিবর্তন-রহিত প্রমাণ হিসেবে সংরক্ষণ করা যাবে, যাতে ফোন বাজেয়াপ্ত বা চ্যাট ডিলিট হওয়ার কারণে কোনো প্রমাণ হারিয়ে না যায়। 


এদিকে আশুতোষ রঙ্কা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের উদ্দেশে সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া পোস্টে অভিযোগ করেন, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো দণ্ডমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার যে সরকারি প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা পুরোপুরি লঙ্ঘিত হচ্ছে। 


তিনি দাবি করেন, দিল্লি ও অন্যান্য রাজ্যে স্বেচ্ছাসেবকদের হয়রানি করা হচ্ছে এবং কেবল বিহার ও পশ্চিমবঙ্গেই শত শত শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রঙ্কা হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, অবিলম্বে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত এফআইআরগুলো প্রত্যাহার করা না হলে এবং আটককৃতদের মুক্তি না দিলে সিজেপি পুনরায় আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে। একই সাথে তিনি আগামীকালের মধ্যে আইনি মামলা সংক্রান্ত লিখিত চুক্তি এবং সরকারের সাথে নির্ধারিত টাইমলাইনগুলো প্রকাশ করার দাবি জানান। 




উল্লেখ্য, এর আগে নিট-ইউজি পরীক্ষার অনিয়ম ও সামগ্রিক সংস্কারের দাবিতে যন্তর মন্তরে ৩৬ দিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছিল সিজেপি। কেন্দ্রের সাথে আলোচনার পর তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে এফআইআর প্রত্যাহার এবং পরীক্ষা সংস্কারের দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাসে গত ২৫ জুলাই আন্দোলন প্রত্যাহার করা হয়েছিল। 


তবে চুক্তির বাস্তবায়ন না হওয়ায় এবং বিহার ও পশ্চিমবঙ্গে ধরপাকড় অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। পাটনার এসএসপি কার্তিকেয় কে শর্মা জানিয়েছেন, গত ২৫ জুলাই সহিংসতার ঘটনায় ৮৬ জন বিক্ষোভকারীকে বিচারিক হেফাজতে পাঠানো হয়েছে এবং ৬০ জনকে ব্যক্তিগত মুচলেকায় মুক্তি দেওয়া হয়েছে। 


বর্তমান পরিস্থিতিতে সিজেপির আইনি দল আটককৃতদের মুক্ত করতে এবং আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে আইনজীবীদের সাথে সমন্বয় করে কাজ করে যাচ্ছে। 


সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া।


হামলার পরের চিত্র। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:২৭ পিএম

সৌদির পূর্বাঞ্চলের তেল স্থাপনাগুলোতে ড্রোন হামলার দাবি করেছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী।


গোষ্ঠীটির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক বিবৃতিতে জানান, সৌদির পূর্বাঞ্চল থেকে ইয়ানবু বন্দর পর্যন্ত অপরিশোধিত তেল সরবরাহ ও পরিবহনের বেশ কয়েকটি সংবেদনশীল পয়েন্ট লক্ষ্য করে এই ড্রোনগুলো পরিচালনা করা হয়েছে। ইয়েমেনের আকাশসীমায় সৌদির বারবার লঙ্ঘনের জবাব হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে গোষ্ঠীটি।


তবে এই হামলায় কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানানো হয়নি। হুথিদের এই দাবির বিষয়ে সৌদির পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।


এর আগে সোমবার ভোরে সৌদি আরব জানায়, দেশটির তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে ইরাকি ভূখণ্ড থেকে ছোড়া বেশ কয়েকটি ড্রোন তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে। এর আগে গত সপ্তাহে সৌদি আরবের দিকে সামুদ্রিক যাতায়াতে নিষেধাজ্ঞা দেয় হুথিরা।


সূত্র: আল-জাজিরা।


  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৩:৪১ পিএম

আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দুই কর্মকর্তার ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে ব্রাজিল। আগামী সপ্তাহে সরকারি সফরে ব্রাজিল যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও তাদের ভিসা দেওয়া হয়নি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ব্রাজিলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শনিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। 


দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রাজিল সরকারের আশঙ্কা ছিল, ওই দুই মার্কিন কর্মকর্তা আগামী অক্টোবরে অনুষ্ঠেয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে ঘিরে সন্দেহ ও বিতর্ক উসকে দেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন।


পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাইলি এম. বার্নস এবং উপ-সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্যামুয়েল স্যামসন ২০ জুলাই ভিসার আবেদন করেন। চার দিন পর, ২৪ জুলাই তাদের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়। তবে এ সিদ্ধান্তের কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।


অক্টোবরে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইস ইনাসিও লুলা দা সিলভার মুখোমুখি হবেন সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো। ফ্লাভিওর পরিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।


গত মে মাসের শেষ দিকে ফ্লাভিও বলসোনারো ও তার ভাই এদুয়ার্দো ওয়াশিংটনে গিয়ে ট্রাম্পসহ যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এর পরপরই যুক্তরাষ্ট্র ব্রাজিলের দুটি বড় মাদক পাচারকারী সংগঠন-ফার্স্ট কমান্ড ক্যাপিটাল ও রেড কমান্ডকে ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণা করে। সে সময় এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিলেন প্রেসিডেন্ট লুলা।


এরই মধ্যে শুক্রবার থেকে ব্রাজিলের রপ্তানি পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ওয়াশিংটনের দাবি, ব্রাজিলের কিছু বাণিজ্যনীতি বিদেশি ব্যবসার জন্য প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ বাধাগ্রস্ত করছে। পাশাপাশি শ্রম অধিকার লঙ্ঘন ঠেকাতেও দেশটি কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।


তবে লুলা প্রশাসন এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, আসন্ন নির্বাচনে ফ্লাভিও বলসোনারোর পক্ষে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের উদ্দেশ্যেই যুক্তরাষ্ট্র এসব পদক্ষেপ নিচ্ছে।


মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, বার্নস ও স্যামসনের ২৭ থেকে ৩০ জুলাই ব্রাসিলিয়া সফরের পরিকল্পনা ছিল। সফরে তারা সরকারি কর্মকর্তা, ধর্মীয় নেতা ও বিভিন্ন মহলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনা করতে চেয়েছিলেন।


অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, এটি ছিল একটি নিয়মিত কূটনৈতিক সফর। কোনো গণতান্ত্রিক দেশের নির্বাচনকে প্রভাবিত করার পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের নেই এবং এ ধরনের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।


অন্যদিকে, ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জেইর বলসোনারো দীর্ঘদিন ধরে দেশটির ইলেকট্রনিক ভোটিং ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছেন, যদিও এ দাবির পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। অভ্যুত্থানচেষ্টার মামলায় বর্তমানে তিনি নিজ বাড়িতে ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। সম্প্রতি তার ছেলে সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারোও একই অভিযোগ পুনরাবৃত্তি করেছেন। তবে শনিবার সাও পাওলোতে লিবারেল পার্টি তাকে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করলেও তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।