ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি চুক্তি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবস্থান ও নিরাপত্তা কৌশলকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে। বহু বছর ধরে নেতানিয়াহু নিজেকে ওয়াশিংটনে প্রভাবশালী নেতা হিসেবে তুলে ধরেছেন। মার্কিন রাজনীতিতে তার বিশেষ প্রভাব রয়েছে বলেও ধারণা করা হতো।
কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে প্রশ্ন উঠেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র হওয়ার পরও কীভাবে তিনি ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তে এতটা উপেক্ষিত হলেন?
একই সঙ্গে আরেকটি বড় প্রশ্ন সামনে এসেছে। ইরানকে ইসরায়েলের প্রধান নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে রাজনীতি করা নেতানিয়াহু কীভাবে এমন একটি যুদ্ধবিরতির বাস্তবতার মুখোমুখি হলেন, যেখানে অনেক পর্যবেক্ষকের মতে তেহরান আগের চেয়ে আরও শক্ত অবস্থানে রয়েছে?
এদিকে ইসরায়েলের ‘মি. সিকিউরিটি’ হিসেবে পরিচিত নেতানিয়াহুর ভাবমূর্তিও ক্রমশ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে। সাধারণ নির্বাচনের আর মাত্র কয়েক মাস বাকি। এর মধ্যে যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চাপের কারণে লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান বন্ধ করতে হয়, তাহলে তার নিরাপত্তাকেন্দ্রিক রাজনৈতিক পরিচয় আরও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
ইসরায়েলের বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদের ভাষায়, নেতানিয়াহুর সামনে এখন মূলত দুটি পথ খোলা রয়েছে-একদিকে দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়ানো, অন্যদিকে ওয়াশিংটনের চাপ মেনে নিয়ে ইসরায়েলের কৌশলগত স্বার্থে ছাড় দেওয়া।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে। বৈরুতে হামলার নির্দেশ দেওয়ার সময় নেতানিয়াহু ‘কোনো বিবেচনার পরিচয় দেননি’ বলে ট্রাম্প যে মন্তব্য করেছেন, সেটিকে ইতোমধ্যে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার শুরু করেছে বিরোধীরা। আগামী অক্টোবরে সম্ভাব্য নির্বাচনের আগে এই ইস্যু আরও গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শুধু বিরোধীরাই নয়, নেতানিয়াহুর নিজ দল লিকুদ এবং ক্ষমতাসীন জোটের কট্টরপন্থী অংশ থেকেও চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে তেহরানের দাবি অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে সামরিক অভিযান বন্ধের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে-এমন খবর প্রকাশের পর ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে।
ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, 'ট্রাম্পের চুক্তি মানতে আমরা বাধ্য নই। আমরা এমন কোনো চুক্তির অংশ নই, যা আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে না।' অন্যদিকে লিকুদ পার্টির সংসদ সদস্য অ্যারিয়েল কালনার বলেছেন, ইসরায়েল নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে থাকবে। যদিও তিনি সরাসরি নতুন হামলার ইঙ্গিত দেননি।
মোসাদের সাবেক কর্মকর্তা ও ইরান বিশেষজ্ঞ সিমা শিনের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থান বোঝা কঠিন। তার ভাষায়, লেবাননের ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নির্ধারণে ইরানকে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ দেওয়া হলে হিজবুল্লাহকে সমর্থন অব্যাহত রাখার পথও খোলা থাকবে। একই সঙ্গে লেবাননের রাজনৈতিক অঙ্গনে হিজবুল্লাহর প্রভাবও আরও সুসংহত হতে পারে।
তীব্র সমালোচনার মধ্যেও নেতানিয়াহু এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি। সাধারণত কোনো কূটনৈতিক বা সামরিক সাফল্যের কৃতিত্ব নিতে তিনি দ্রুত সামনে আসেন। কিন্তু এবার তার নীরবতাকে অনেকেই রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।
নিরাপত্তা বরাবরই নেতানিয়াহুর রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। তবে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর তিনি যে আরও আক্রমণাত্মক নিরাপত্তা কৌশল গ্রহণ করেন, তার ফলাফল নিয়েও এখন প্রশ্ন উঠছে। সেই কৌশলের মূল লক্ষ্য ছিল সম্ভাব্য হুমকি তৈরি হওয়ার আগেই তা ধ্বংস করা এবং মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত বাস্তবতা বদলে দেওয়া। কিন্তু দীর্ঘ সামরিক অভিযানের পরও হামাস পুরোপুরি নির্মূল হয়নি। বরং সংগঠনটি এখনো গাজার উল্লেখযোগ্য অংশে প্রভাব ধরে রেখেছে এবং পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে।
একই সময়ে গাজা, লেবানন ও সিরিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতি দেশটির সামরিক সক্ষমতা ও রিজার্ভ বাহিনীর ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার মতো কার্যকর কোনো কূটনৈতিক পথও এখনো স্পষ্ট নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তির ফলে ইরান পুরোপুরি দুর্বল হয়নি; বরং দেশটির কট্টরপন্থী শক্তিগুলো আরও প্রভাবশালী অবস্থানে পৌঁছেছে। ফলে তেহরানকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা কৌশল পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
ইসরায়েলের ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের (আইএনএসএস) জ্যেষ্ঠ গবেষক ড্যানি সিট্রিনোভিচ মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতি ইসরায়েলের জন্য একটি সতর্কবার্তা। তার মতে, তেহরান ইস্যুতে আরও বাস্তববাদী ও সংযত কৌশল গ্রহণ করা প্রয়োজন। তিনি লিখেছেন, এখন ইসরায়েলের যেকোনো সামরিক পদক্ষেপকেই ওয়াশিংটনে যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভণ্ডুলের চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকিও বেড়েছে।
একসময় বারাক ওবামা প্রশাসনের সঙ্গে মতবিরোধের সময় নেতানিয়াহু মার্কিন কংগ্রেস ও জনমতের সমর্থন কাজে লাগিয়ে হোয়াইট হাউসকে পাশ কাটানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সুযোগ তার হাতে আর নেই বললেই চলে। ফলে যুদ্ধবিরতির পরবর্তী বাস্তবতায় নেতানিয়াহু এমন এক রাজনৈতিক ও কৌশলগত সংকটে পড়েছেন, যেখানে তার প্রতিটি সিদ্ধান্তই আগামী নির্বাচনের আগে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
লানা নুসাইবেহ
জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব হওয়ার দৌড়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক লানা নুসাইবেহর নাম আলোচনায় এসেছে। বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মেয়াদ ২০২৬ সালের শেষ দিকে শেষ হওয়ার কথা। তবে নতুন মহাসচিব নির্বাচন নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকায় প্রতিযোগিতা ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। খবর ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের।
কূটনীতিকদের বরাতে জানা গেছে, নুসাইবেহর সমর্থকরা জাতিসংঘে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে সমর্থন যাচাই করছেন। তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী। ২০১৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘে আমিরাতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
এদিকে মহাসচিব পদের আনুষ্ঠানিক প্রার্থীদের মধ্যে এগিয়ে রয়েছেন কোস্টারিকার সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ও জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়নবিষয়ক সংস্থার প্রধান রেবেকা গ্রিনস্প্যান। নিরাপত্তা পরিষদের সর্বশেষ অনানুষ্ঠানিক ভোটে তিনি নয়টি সমর্থনসূচক ভোট পেয়েছেন। তবে ভেটো ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি স্থায়ী সদস্য তার বিরুদ্ধে অবস্থান জানিয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধান রাফায়েল গ্রোসিও দুটি বিরোধিতার মুখে পড়েছেন।
নুসাইবেহর সম্ভাব্য প্রার্থিতা ঘিরে আঞ্চলিক রাজনীতিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে সুদানের গৃহযুদ্ধে আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসকে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগে আমিরাত সমালোচনার মুখে রয়েছে। আবুধাবি অবশ্য সংঘাতে জড়িত কোনো পক্ষকে অস্ত্র দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
এ ছাড়া সৌদি আরব তার প্রার্থিতাকে কীভাবে দেখবে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, দুই উপসাগরীয় দেশের মধ্যে আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার নিয়ে প্রতিযোগিতা রয়েছে।
জাতিসংঘে এবার লাতিন আমেরিকার কাউকে মহাসচিব করার অনানুষ্ঠানিক প্রত্যাশা রয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন পুরুষ মহাসচিবের দায়িত্ব পালনের পর একজন নারীকে এ পদে বসানোর দাবিও আলোচনায় রয়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, প্রার্থী নির্বাচনে অঞ্চল বা লিঙ্গের চেয়ে যোগ্যতাকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
এদিকে জাতিসংঘের বাজেট সংকট, বৈশ্বিক সংঘাত এবং সংস্থাটির সংস্কারের চাপের মধ্যে নতুন মহাসচিবকে দায়িত্ব নিতে হবে।
সূত্র: ফিনান্সিয়াল টাইমস
ছবি : সংগৃহীত
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় আসাম রাজ্যে বিজেপিদলীয় মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সরকার ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে। দখলমুক্ত করেছে বিস্তৃত বনভূমি। এতে বাস্তুচ্যুত হয়েছে ৫০০-এর বেশি পরিবার। এসব পরিবারের অধিকাংশই মুসলিম।
মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত দাবি করেছেন, রাজ্যের উন্নয়নের ‘রুদ্র রূপ’ প্রদর্শন করেছে প্রশাসন। অন্যদিকে সরকারের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ তুলেছে সংখ্যালঘু সংগঠন। কারণ, যাঁদের উচ্ছেদ করা হয়েছে তাদের অধিকাংশই বাঙালি মুসলিম।
আসামের তিনটি জেলায় ব্যাপক অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ সরকারি বনভূমি দখলমুক্ত করা হয়েছে। রাজ্য প্রশাসনের দেওয়া সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গোলাঘাট, হোজাই ও নগাঁও জেলায় এক সপ্তাহের মধ্যে ৬৩৮ হেক্টরের বেশি জায়গা থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হয়েছে। পুরো অভিযানের প্রধান লক্ষ্য ছিল মূলত বন বিভাগের সুরক্ষিত জমি রক্ষা করা এবং অবৈধভাবে গড়ে ওঠা নানা কাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়া।
গত শনি ও রোববার নগাঁও, হোজাই এবং গোলাঘাট জেলায় মূল অভিযান পরিচালনা করে বন বিভাগ। এর মধ্যে রোববার নগাঁও জেলার লুতুমাই সংরক্ষিত বনাঞ্চলে সবচেয়ে বড় অভিযান পরিচালিত হয়। সেখানে এক দিনেই প্রায় ৩১৪ হেক্টর জমি দখলমুক্ত করা হয়। এতে প্রায় ৫৫০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, তিনটি জেলা মিলিয়ে উচ্ছেদ হওয়া পরিবারের সংখ্যা এক হাজারের কাছাকাছি।
বন কর্মকর্তাদের দাবি, গত আগস্ট মাসেই মাইকিং করে স্থানীয় বাসিন্দাদের এলাকা ছেড়ে যাওয়ার অনুরোধ করা হয়েছিল। এরই ফলে উচ্ছেদ অভিযান শুরুর আগেই প্রায় ৯০ শতাংশ কথিত দখলদার স্বতঃস্ফূর্তভাবে জায়গা খালি করে চলে যান। তা ছাড়া এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া আদালতের নির্দেশ মেনেই সম্পন্ন করা হয়েছে।
অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু পোস্টে দাবি করা হয়েছে, অভিযানে ১ হাজার ১০০-এর বেশি পরিবারকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা ছাড়াও বেশ কয়েকটি মসজিদ ভেঙে ফেলা হয়েছে। স্থানীয় ও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের পক্ষ থেকেও এই অভিযান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে।
অল আসাম মাইনরিটিজ স্টুডেন্টস ইউনিয়ন নামে একটি সংগঠন উচ্ছেদের ক্ষেত্রে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে দাবি করেছে, গত রোববারের অভিযানে সহস্রাধিক ঘরবাড়ির পাশাপাশি একাধিক মসজিদ ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
সংগঠনের সভাপতি জানিয়েছেন, লুতুমাই বনাঞ্চল থেকে উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলোর মধ্যে একটি বড় অংশকে ১৯৭৩ সালে সরকার সাময়িকভাবে সেখানে পুনর্বাসিত করেছিল।
ওই সংগঠনের দাবি, আদালত নির্দেশ দিলেও উচ্ছেদপ্রক্রিয়ায় নির্দিষ্ট এক সম্প্রদায়ের মানুষকে নিশানা করা হচ্ছে। অথচ অন্য ধর্মাবলম্বী বাসিন্দাদের ক্ষেত্রে এখনো নোটিশ দেওয়ার কাজ শুরু হয়নি। সব মিলিয়ে সম্পত্তি উদ্ধার ও স্থানীয় লোকজনের দাবির মধ্যে এক মিশ্র ও স্পর্শকাতর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
ফ্রান্সের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে প্রশিক্ষণ চলাকালে বিমান বাহিনীর একটি মিরাজ ২০০০ডি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে পাইলট নিহত হয়েছেন এবং নেভিগেটর নিখোঁজ রয়েছেন। বুধবার (২১ অক্টোবর) দেশটির সশস্ত্র বাহিনী মন্ত্রণালয় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ফরাসি সম্প্রচারমাধ্যম বিএফএমটিভি জানায়, ন্যান্সি-ওশে বিমানঘাঁটি থেকে ওড়া দুই সদস্য বিশিষ্ট ক্রুবাহী বিমানটি মঙ্গলবার গভীর রাতে ন্যান্সি শহরের কাছে মার্থ-এ-মোজেল বিভাগে দুর্ঘটনায় পড়ে। স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে ন্যান্সির উত্তরে রোজেভিল, দোমেভ্র-অঁ-হে এবং ত্রঁবলেকুর গ্রামের মধ্যবর্তী এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
কর্মকর্তারা পাইলটের মৃত্যু নিশ্চিত করেছেন এবং নিখোঁজ নেভিগেটরকে উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রেখেছেন। নিকটবর্তী পঁত-আ-মুসঁ শহরের মেয়র অঁরি ল্যমোয়ান জানান, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের বিপুল সংখ্যক সদস্য উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছেন। রোজেভিলে একটি সংকট সমন্বয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং ড্রোন দিয়ে বিমানের ধ্বংসাবশেষ চিহ্নিত করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার কারণ ও পরিস্থিতি উন্মোচনে একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত শুরু করা হয়েছে। পুলিশ ও উদ্ধার তৎপরতার কারণে আশপাশের সড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে সতর্ক করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
ফ্রান্সে সহিংস বিক্ষোভ
ফ্রান্সে সহিংস বিক্ষোভ ও লুটপাটের পর আগামী শনিবারের সম্ভাব্য কর্মসূচি ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করছে সরকার। এদিন পুলিশের সহায়তায় সেনাবাহিনীর সদস্যদেরও মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনিয়েজ। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় পরিষদে তিনি বলেন, সহিংসতা দমনে সেন্তিনেল বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হবে, যাতে পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনী জেন্ডার্মস সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে মনোযোগ দিতে পারেন।
শনিবারের বিক্ষোভে পুলিশেরও ব্যাপক উপস্থিতি থাকবে বলে জানিয়েছেন ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকোর্নু। কট্টর বামপন্থিদের বিরুদ্ধে দাঙ্গা উস্কে দেওয়ার অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার জাতীয় পরিষদে তিনি বলেন, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও শিক্ষা খাতে বিশৃঙ্খলার প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভের সুযোগ নিয়েছে কট্টর বামপন্থি গোষ্ঠীগুলো। কিছু এলাকায় বামপন্থি গোষ্ঠীর নেতৃত্বে অভ্যুত্থানের তৎপরতাও দেখা গেছে। এসব গোষ্ঠীকে প্রেসিডেন্টের কার্যালয় কিংবা প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন অভিমুখে মিছিল করতে দেওয়া হবে না।
গত সোমবার সেন্ট্রাল প্যারিসসহ ফ্রান্সের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মার্সেইয়ের কিছু এলাকা এবং আরও কয়েকটি শহরে কারফিউ জারি করে বিক্ষোভ ও সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে মার্সেই শহরের কিছু এলাকায় অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য কারফিউ কার্যকরের খবর পাওয়া গেছে। মার্সেইয়ে এ পর্যন্ত ১০১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের প্রায় এক-চতুর্থাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক।
গত শনিবারের সহিংসতায় মার্সেই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতাদের হিসাবে, শহরটিতে পাঁচ শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সহিংসতায় সারাদেশে ১১৮ পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। পুলিশ ইউনিয়নের কর্মকর্তা আর্নড ব্লেস এ পরিস্থিতিকে যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, সহিংসতার মাত্রা ছিল নজিরবিহীন। বিক্ষোভে উস্কানি দিয়েছে কট্টর বামপন্থি ‘ব্ল্যাক ব্লক’ গোষ্ঠীর সদস্যরা। পরে আন্দোলনকারীদের একটি অংশ লুটপাটে জড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে প্রায় চার হাজার টিয়ার গ্যাসের শেল ছুড়তে হয়েছিল। এক পর্যায়ে গোলাবারুদ শেষ হয়ে যাওয়ায় পুলিশকে পিছু হটতে হয়।
গত সোমবার মার্সেই সফরে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নুনিয়েজ শহরের মেয়র বেনোয়া পায়ানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাতে মেয়র বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের পদক্ষেপ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে। পুলিশের সদস্য সংখ্যা ও মোতায়েনের কৌশল নিয়ে নতুন করে ভাবার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে অভিযান চালালে ভবিষ্যতেও লুটপাটের ঘটনা ঘটতে পারে।
ফ্রান্সে সহিংসতার মধ্যে অভিবাসীবিরোধী তির্যক মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার তিনি বলেন, প্যারিস শিগগিরই একটি ‘মুসলিম শহরে’ পরিণত হবে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁকে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে কঠোর হওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।
ইরানে আবার হামলা চালানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
তিনি বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তিনি ইরানের সরকারের পতন ঘটানোর ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গত রোববার ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর আলোচনায় ইরান সরকারের পতন ঘটানোর বিষয়ে নতুন উদ্যোগ নিয়ে কথা হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালায়। এর পাল্টা জবাবে ইসরায়েলে হামলা চালায় তেহরান। হামলা চালানো হয় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতেও। যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয় ইরান। বিশ্বব্যাপী জ্বালানির দামে অস্থিরতা শুরু হয়। যুদ্ধ শুরুর ৯ মাস পেরিয়ে গেলেও তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হয়নি। এর মধ্যেই নতুন হামলার ইঙ্গিত দিলেন নেতানিয়াহু।
এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু ইরান সরকারের পতন ঘটানোর বিষয়ে নতুন উদ্যোগ নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা ইরানের সরকারের পতন ঘটাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গতকালসহ বহুবার আমি এ বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করেছি।’
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সোমবার অঘোষিত সফরে ইসরায়েল গিয়ে নেতানিয়াহুর সঙ্গে ইরান প্রসঙ্গে আলোচনা করেছেন।ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র ডোরন স্পিলম্যান নিশ্চিত করেছেন, নেতানিয়াহুর সঙ্গে হেগসেথের বৈঠক হয়েছে নেগেভ মরুভূমি অঞ্চলের উভদা বিমানঘাঁটিতে।
তিনি রয়টার্সকে বলেন, নেতানিয়াহু ও হেগসেথ আঞ্চলিক হুমকি মোকাবিলায় আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক—উভয় কৌশলের ক্ষেত্রে মার্কিন-ইসরায়েল অংশীদারত্ব নিয়ে আলোচনা করেছেন।
তবে হেগসেথের এই সফরের বিষয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি।