আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা
কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয় পেয়েছেন ডানপন্থী প্রার্থী আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা। প্রাথমিক গণনায় দেখা গেছে, এসপ্রিয়েলা খুবই সামান্য ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন।গত ৩১ মে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের এ ফলাফল কলম্বিয়ার অভ্যন্তরীণ সশস্ত্র সংঘাত মোকাবিলায় সরকারের কর্মপন্থায় এক নাটকীয় পরিবর্তনের আভাস দিচ্ছে।
এবারের নির্বাচনে ডানপন্থী এসপ্রিয়েলাকে প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাচনের আগে এসপ্রিয়েলা অবৈধ সশস্ত্র গোষ্ঠী, মাদক পাচার ও অপরাধের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
এসপ্রিয়েলা বামপন্থী ইভান সেপেদাকে হারিয়েছেন। কলম্বিয়ার বর্তমান বামপন্থী প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত সেপেদা। পেত্রোর রাজনৈতিক দল থেকে সেপেদা প্রার্থী হয়েছিলেন।
প্রাথমিকভাবে ৯৯ শতাংশ ভোট গণনা শেষে এসপ্রিয়েলা প্রায় ৪৯ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। সেপেদা পেয়েছেন ৪৮ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট। ক্যারিবীয় উপকূলীয় অঞ্চলে বেড়ে ওঠা এসপ্রিয়েলা এবারের নির্বাচনে ব্যাপক আঞ্চলিক সমর্থন পেয়েছেন।
প্রাথমিক ফলাফল জানার পর উপকূলীয় শহর বারানকিলায় উদ্যাপনে মাতেন এসপ্রিয়েলার হাজারো সমর্থক। সেখানে সমর্থকদের উদ্দেশে কলম্বিয়ার হবু প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আজ আমাদের দেশের জন্য একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। এটা এমন একটি অধ্যায়, যা লাখ লাখ নাগরিকের স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক ইচ্ছার ওপর নির্মিত।’
যদিও সেপেদা এখনো পরাজয় স্বীকার করে নেননি। তিনি বলেছেন, সবে প্রাথমিক গণনা হয়েছে। এখনো নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা বাকি।
৪৭ বছর বয়সী এসপ্রিয়েলা নিজেকে ‘দ্য টাইগার’ নামে পরিচয় দেন। তিনি বলেন, ‘আমি কলম্বিয়ার সব মানুষের শাসক হব। যাঁরা আমাকে ভোট দিয়েছেন এবং যাঁরা অন্য প্রার্থীকে বেছে নিয়েছেন, তাঁদের সবারই।’
১৯৯১ সালে প্রণীত কলম্বিয়ার সংবিধানের প্রতি আনুগত্যের কথা জানিয়ে এসপ্রিয়েলা বলেন, তিনি সংবিধানের সুরক্ষায় কাজ করবেন।
প্রাথমিক ফলাফলে এসপ্রিয়েলা স্পষ্ট ব্যবধানে জয়ী হওয়ায় অভিনন্দন জানিয়েছেন ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘তিনি জিতেছেন, এটা বড় ঘটনা!’
এসপ্রিয়েলাকে আরও অভিনন্দন জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
এসপ্রিয়েলার একজন সমর্থক প্যাট্রিসিয়া বলেন, ‘এ দেশে আমরা খুন দেখতে দেখতে ক্লান্ত। এ সরকারের আমলাতন্ত্রের প্রতিও বিরক্ত। এখন আমরা উপকূলীয় এলাকা থেকে একজন প্রেসিডেন্ট পেয়েছি।’
আরেকজন সমর্থক নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘আমরা টাইগারকে নিয়ে গর্বিত। আশা করি, সবকিছু বদলে দেবেন তিনি। নতুন ব্যবস্থায় সবকিছুর ওপর অগ্রাধিকার পাবে চাকরি ও নিরাপত্তার বিষয়গুলো।’
আইনজীবী থেকে রাজনীতিতে
আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা পেশায় আইনজীবী ও ব্যবসায়ী। রাজনীতিতে তাঁর পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল না।
আইনজীবী হিসেবে এসপ্রিয়েলার মক্কেলদের মধ্যে ছিলেন ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোর ঘনিষ্ঠ সহযোগী অ্যালেক্স সাব। তাঁর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ এনেছে।
হবু প্রেসিডেন্ট এসপ্রিয়েলা কলম্বিয়ার অন্যতম কুখ্যাত প্রতারক ডেভিড মার্সিয়া গুজম্যানের হয়েও আইনি লড়াই করেছেন।
ভোটের প্রচারের নানা সমাবেশে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে এসপ্রিয়েলা ও তাঁর সমর্থকদের কলম্বিয়ার জাতীয় ফুটবল দলের জার্সি পরে থাকতে দেখা গেছে।
সমালোচকেরা বলেন, এসপ্রিয়েলা ফুটবলে রাজনীতিকরণ করেছেন। সামরিক কায়দায় অভিবাদনের জন্যও সমালোচিত হয়েছেন তিনি। প্রচারে প্রায়শই বুলেটপ্রুফ কাচে ঘেরা জায়গা থেকে এসপ্রিয়েলাকে সমর্থকদের উদ্দেশে ভাষণ দিতে দেখা গেছে।
সামরিক অভিযান প্রসঙ্গে
দীর্ঘদিনের সশস্ত্র সংঘাতের ইতিহাস রয়েছে কলম্বিয়ার। দেশটিতে একাধিক সশস্ত্র গোষ্ঠী সক্রিয়।
হবু প্রেসিডেন্ট এসপ্রিয়েলা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তিনি কখনোই অবৈধ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে কোনো আলোচনায় বসবেন না। শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারে এসব গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক অভিযান চালাবেন। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবেন তিনি।
এ ছাড়া কলম্বিয়ার জঙ্গলে মেগা-কারাগার নির্মাণ, বিভিন্ন খাতে রাষ্ট্রের প্রভাব কমিয়ে আনা এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সংস্কারের অঙ্গীকারও করেছেন এসপ্রিয়েলা।
ট্রাম্পের সমর্থন
এসপ্রিয়েলা ২০২৩ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। এর আগে তিনি অনেক বছর যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে বসবাস করেছেন, কাজ করেছেন।
নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের সমর্থন পেয়েছেন এসপ্রিয়েলা। তখন ট্রাম্প বলেছিলেন, অবৈধ অভিবাসন বন্ধ, অপরাধ ও মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া এবং আইনশৃঙ্খলা পুনরূদ্ধারের কথা বলেছেন এসপ্রিয়েলা।
ট্রাম্প সরাসরি বলেছিলেন, কলম্বিয়ার এবারের নির্বাচনে এসপ্রিয়েলার পাশে আছে যুক্তরাষ্ট্র।
ট্রাম্প-পেত্রোর বিরোধ
কলম্বিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র ঐতিহাসিকভাবে ঘনিষ্ঠ আঞ্চলিক মিত্র হিসেবে পরিচিত। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও প্রেসিডেন্ট পেত্রোর মধ্যে প্রায়শই উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের কারণে সেই সম্পর্কে টানাপোড়েন দেখা দেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি, শুল্ক এবং লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশে সামরিক হস্তক্ষেপ নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে বামপন্থী পেত্রোর মতবিরোধ দেখা দেয়। এখন নির্বাচনে এসপ্রিয়েলার জয়ের মধ্য দিয়ে কলম্বিয়া ডানপন্থায় ঝুঁকে পড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। কলম্বিয়ায় বাড়বে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তথা যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ প্রভাব।
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজে ৭ জাহাজে মাইন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি ইরানের। ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে সাতটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করার দাবি করেছে ইরান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এই জলপথে জাহাজ চলাচলে সহায়তা অব্যাহত রাখলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার রাতভর হামলার শিকার হওয়া সাতটি জাহাজের মধ্যে চারটি থেকে তেল স্থানান্তরের কাজ চলছিল। হামলার পর জাহাজগুলোতে আগুন ধরে যায়। অন্য তিনটি জাহাজ মাইনে আঘাত হানার পর চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে বলে দাবি করেছে ইরান। তবে এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। হামলায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজগুলোর কোন দেশের পতাকা ছিল, সে বিষয়েও বিস্তারিত জানানো হয়নি।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে হুঁশিয়ারি দিয়েছে আইআরজিসি। তাদের বক্তব্য, ওয়াশিংটন যদি প্রণালির অন্যান্য অংশ দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচলে সহায়তা করে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোও ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে সংঘাত এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোতেও ছড়িয়ে পড়বে।’ এটিকে তারা গুরুতর সতর্কবার্তা হিসেবে উল্লেখ করেছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হতো। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই জলপথে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
কিম জং উন। ছবি: সংগৃহীত
সীমান্তের নতুন সেতু অতিক্রম করে উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন চীনের দানদং শহরে অত্যন্ত গোপনে এক ঝটিকা সফর সম্পন্ন করেছেন। দীর্ঘ ১২ বছর আগে নির্মিত ‘নিউ ইয়ালু রিভার ব্রিজ’ আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় এই প্রতীকী সফর অনুষ্ঠিত হলো। শনিবারের (২৪ অক্টোবর) এই একদিনের ঝটিকা সফর শেষে তিনি ইতোমধ্যেই স্বদেশে ফিরে গেছেন।
সফরকালে কিম জং উনের সঙ্গী ছিলেন চীনের চতুর্থ শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা ওয়াং হুনিং। তিনি চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের পক্ষ থেকে উত্তর কোরীয় নেতার কাছে আন্তরিক শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন। দুই নেতা একসঙ্গে স্থানীয় একটি অটোমোবাইল কারখানা পরিদর্শন করেন এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। এসময় কিম জানান, চীনের সঙ্গে ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব রক্ষা এবং ব্যবহারিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে প্রস্তুত রয়েছে পিয়ংইয়ং।
বিশেষ এই সফরটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যা ১৯৫০-১৯৫৩ সালের কোরিয় যুদ্ধে চীনের অংশগ্রহণের বর্ষপূর্তির ঠিক আগের দিন। সেই স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দানদং-এর কোরিয় যুদ্ধ স্মৃতিসৌধে যান কিম ও ওয়াং। সেখানে উত্তর কোরিয়ার পক্ষে যুদ্ধ করে প্রাণ উৎসর্গকারী চীনা সৈন্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন কিম জং উন। সফর শেষে নতুন সেতুর গোড়ায় এসে কিমকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানান ওয়াং হুনিং।
বিশ্লেষকদের মতে, ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নতুন চার লেনের সেতু চালুর মাধ্যমে চীন ও উত্তর কোরিয়ার বাণিজ্যের বড় বাধা দূর হলো। তবে কেবল অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বেইজিং ও মস্কোর সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ থেকে নিজের অবস্থান শক্ত করার কৌশল হিসেবেই কিম জং উনের এই হঠাৎ ও রহস্যময় চীন সফরকে দেখছেন আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র:আল-জাজিরা
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে আবারও বড় ধরনের হামলা বা কড়া অবরোধের চিন্তাভাবনা করছেন। তবে এতে একটুও দমে না গিয়ে ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, পারস্য উপসাগরে তারা কোনো মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে ঘেঁষতে দেবে না।
ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আলি আবদুল্লাহি কড়া ভাষায় ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, পারস্য উপসাগরে আবার মার্কিন সৈন্য পাঠানোর স্বপ্ন ট্রাম্পকে কবরে নিয়ে যেতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে তারা নাকি ইরানের সামরিক শক্তি ধ্বংস করেছে, অথচ নিজেদের যুদ্ধজাহাজগুলো ইরানের সীমানার কাছে পাঠাতে তারা ভয় পাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যেকোনো হামলার উপযুক্ত জবাব দিতে তেহরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
চীনে কিম জং উনের ২৪ ঘন্টার ‘রহস্যজনক’ সফর
এই সংঘাতের আতঙ্কে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু-হু করে বেড়ে প্রতি ব্যারেলে ১১৭ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ ‘হরমুজ প্রণালি’-তে একের পর এক তেলবাহী জাহাজে হামলা চলছে। পাশাপাশি ইয়েমেনের হুথি যোদ্ধাদের সঙ্গে সৌদি আরবের লড়াইও নতুন করে বেড়ে চলেছে।
সংঘাত থামাতে ইস্তাম্বুলে তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইউরোপীয় দেশগুলো বৈঠক করলেও সেখানে যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান উপস্থিত ছিল না। তুরস্ক সতর্ক করেছে, ইরানে নতুন হামলা পুরো অঞ্চলে আগুন জ্বালিয়ে দেবে। তবে ইরান পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, মার্কিন হামলা ও অত্যাচার না থামলে তারা কোনো আলোচনায় বসবে না এবং হরমুজ প্রণালিও মুক্ত করবে না।
সূত্র: আল-জাজিরা
মেগান মার্কেল ও তার বাবা থমাস মার্কেল। ছবি: সংগৃহীত
ব্রিটিশ রাজপরিবারের বধূ ও প্রিন্স হ্যারির স্ত্রী মেগান মার্কেলের বাবা থমাস মার্কেলের বিরুদ্ধে শিশুদের যৌন নিপীড়নের আপত্তিকর ছবি জমানোর এক মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর চরম ক্ষোভ ও গভীর মানসিক কষ্ট প্রকাশ করেছেন ডাচ অব সাসেক্স মেগান। এক বিবৃতিতে তিনি জানান, এমন বিভৎস খবর শুনে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত ও বিপর্যস্ত। ঘটনার শিকার হওয়া নিরীহ শিশুদের নিরাপত্তার কথা ভেবে তিনি গভীরভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
যুক্তরাজ্যের ‘দ্য সান’ পত্রিকার একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়, মেগানের সৎ ভাই থমাস মার্কেল জুনিয়র ফিলিপাইনে তাদের বাবার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে এই আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও উদ্ধার করেন। তার দাবি, বাবার ড্রয়ার ও কম্পিউটারের হার্ডড্রাইভে শত শত শিশু নির্যাতনের ছবি ছিল। এরপরই তিনি ফিলিপাইন পুলিশ, যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই এবং শিশু সুরক্ষা সংস্থায় গিয়ে সরাসরি অভিযোগ করেন। ফিলিপাইন প্রশাসন ও যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই বর্তমানে যৌথভাবে এই ঘটনার তদন্ত করছে। তবে মেগানের বাবা থমাস মার্কেল সিনিয়র তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
বর্তমানে ফ্লোরিডায় চিকিৎসাধীন ৮২ বছর বয়সি থমাস জানান, তার ছেলে সম্পূর্ণ মিথ্যা গল্প ফেঁদেছে। মেগানের বোন সামান্থা মার্কলও বাবার পক্ষে কথা বলেছেন। তিনি দাবি করেন, এই কম্পিউটারগুলো দুই বছর ধরে অন্য মানুষদের হাতে ছিল এবং তার ভাই বানিয়ে বানিয়ে মিথ্যা অভিযোগ করছেন। এই ঘটনার পর মেগান মার্কেল তার বাবার সঙ্গে দীর্ঘদিনের দূরত্বের আসল কারণ স্পষ্ট করেছেন। তিনি জানান, আজ থেকে আট বছর আগে অর্থাৎ ২০১৮ সালেই পুলিশের পক্ষ থেকে তার বাবার বিরুদ্ধে কিছু আপত্তিকর অভিযোগের বিষয়ে তাকে জানানো হয়েছিল।
মেগান বলেন, এতদিন সংবাদমাধ্যমে নানা কথা ছড়ানো হলেও, মূলত সন্তানদের সুরক্ষার কথা ভেবেই তিনি বাবাকে নিজের পরিবার থেকে দূরে রেখেছিলেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এবার অন্তত মানুষ বুঝতে পারবে যে কেন তিনি এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং তিনি আশা করেন ভুক্তভোগী শিশুরা যেন দ্রুত ন্যায়বিচার পায়।
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের জন্য সামনে এক বড় ধরণের ‘চমক’ অপেক্ষা করছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি সেনাদের ওপর হামলার ঘটনার পর সেখানে বড় ধরণের সামরিক অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি তিনি এই মন্তব্য করেন।
ইসরাইলের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু স্পষ্ট জানান, ফিলিস্তিনকে কোনোভাবেই স্বাধীন রাষ্ট্র হতে না দেওয়া তাদের নির্বাচনের মূল লক্ষ্য। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের সোজা উত্তর না দিয়ে তিনি বলেন, হঠাৎ এবং আচমকা পদক্ষেপ নেওয়াই তার বেশি পছন্দ। নেতানিয়াহু আরও জানান, ফিলিস্তিন থেকে আসা যেকোনো সংকট মোকাবিলায় কিছু গোপন কৌশল ব্যবহার করা হবে, যা এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না। তবে ফিলিস্তিনি প্রশাসনের জন্য খুব শীঘ্রই এক বড় ধাক্কা আসতে চলেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের দাবি তুলে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন ছাড়াই তারা আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের আওতায় আরও কয়েকটি আরব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বের চুক্তি বাড়াবেন। অন্তত দুটিরও বেশি দেশের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, সেই দেশগুলো ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের কোনো শর্ত দেবে না, কারণ তারা ভালো করেই জানে যে ইসরাইল তা কখনোই মেনে নেবে না।
সূত্র: আল-জাজিরা