কিম জং–উন , মা কো ইয়ং–হুই ও বাবা কিম জং–ইল
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং–উনের জীবনের অনেকটাই রহস্যে ঘেরা। তার মধ্যেই রহস্যময় হলো মাকে নিয়ে তাঁর নীরবতা। ১৫ বছর ধরে ক্ষমতায় উন, কিন্তু কখনো প্রকাশ্যে নিজের মায়ের নাম উচ্চারণও করেননি তিনি। কিম জং–উনের শাসনক্ষমতার ভিত্তি অনেকটাই দাঁড়িয়ে আছে তথাকথিত ‘মাউন্ট পেকতু’ বংশধারার ওপর ভিত্তি করে। পৌরানিক কাহিনিতে আছে, এই বংশধারার সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে কোরীয় রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা দানগুনের।
উত্তর কোরিয়ায় বংশপরিচয়কে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হয়। তাই কিম জং–উনের মায়ের পরিচয় শুধু যে গোপনীয়ই নয়; এটি এমন একটি বিষয়, যা শাসকগোষ্ঠীর জন্য হুমকির কারণ হতে পারে।
পুরাণের জন্মস্থান
প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, কোরিয়ার ইতিহাস শুরু হয়েছে মাউন্ট পেকতু নামে একটি পর্বত থেকে। চীন ও উত্তর কোরিয়ার সীমান্তের এ পর্বতকে দানগুনের জন্মস্থান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দানগুন হলেন কোরিয়ার প্রথম রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা।
কয়েক হাজার বছর পর উত্তর কোরিয়ার প্রতিষ্ঠাতা কিম ইল–সাং জাপানিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সময় মাউন্ট পেকতুকে আস্তানা বানিয়েছিলেন বলে জানা যায়। মনে করা হয়, তাঁর ছেলে কিম জং–ইলের (কিম জং–উনের বাবা) জন্মও হয়েছিল এই পর্বতেরই ঢালে।
কিম জং–ইল হয়তো রাশিয়ায় জন্মগ্রহণ করেছেন, এমন দাবিও রয়েছে। তারপরও কয়েক দশক ধরে মাউন্ট পেকতুকে কিম পরিবারের শাসনের বৈধতা প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
উত্তর কোরিয়ার নির্বাসিত কূটনীতিক রিয়ু হিয়ুন উন তাঁর বই ‘কিম জং উন’স সিক্রেট ভল্ট’–এ লিখেছেন, ‘কিম জং–উনের বয়স যখন বিশের কোঠায়, তখনই তিনি উত্তরসূরি নির্বাচিত হন। তখনো তাঁর উল্লেখযোগ্য কোনো অর্জন ছিল না। তিনি শুধু পেকতু বংশধারার সদস্য হওয়ার কারণেই সে মর্যাদা পেয়েছিলেন।’
তবে কিম জং–উনের মায়ের দিকের পারিবারিক বংশপরিচয়ের বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি চিত্র তুলে ধরে।
কিম জং–উনের মা কো ইয়ং–হুই মাউন্ট পেকতু থেকে শত শত মাইল দূরে জাপানের ওসাকা শহরে জন্মেছিলেন বলে মনে করা হয়।
জীবনীকারদের সংগ্রহ করা তথ্য অনুযায়ী, কো ইয়ং–হুই ১৯৫২ সালে ওসাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর মা–বাবা এসেছিলেন জেজু দ্বীপ থেকে। এটি দক্ষিণ কোরিয়ার দক্ষিণ উপকূলের কাছের একটি দ্বীপ।
জাপানে বসবাসকারী তাঁদের পরিবারটি ছিল ‘জাইনিচি কোরিয়ান’। ১৯১০ থেকে ১৯৪৫ সালের ঔপনিবেশিক শাসনামলে কোরিয়া থেকে জাপানে চলে যাওয়া বা সেখানে বসতি গড়া কোরীয় বংশোদ্ভূত মানুষদের একটি অংশকে জাইনিচি কোরিয়ান বলা হয়ে থাকে।
কো ইয়ং–হুইয়ের বয়স যখন প্রায় ১০ বছর, তখন তাঁর পরিবার জাপান ছেড়ে উত্তর কোরিয়ায় যায়। ১৯৫৯ থেকে ১৯৮৪ সালের মধ্যে উত্তর কোরিয়ায় ফিরে যাওয়া আনুমানিক ৯৩ হাজার কোরীয় অভিবাসীর মধ্যে তাঁর পরিবারও ছিল। একটি পুনর্বাসন কর্মসূচির প্রতি আকৃষ্ট হয়ে এ পরিবারগুলো উত্তর কোরিয়ায় গিয়েছিল। ওই কর্মসূচির আওতায় তাদের বিনা মূল্যে চিকিৎসা, শিক্ষা, চাকরিসহ একটি সুখী ও সচ্ছল জীবনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।
প্রথম দিকে উত্তর কোরিয়ায় আসা এসব অভিবাসীকে অনেকেই ঈর্ষার চোখে দেখত। কারণ, তারা জাপান থেকে নগদ অর্থ, উন্নত মানের পোশাক ও বিভিন্ন গৃহস্থালিসামগ্রী নিয়ে এসেছিল। তবে উত্তর কোরিয়ায় এসব অভিবাসীকে ‘জ্যেপো’ নামে ডাকা হতো, যা একটি অবমাননাকর শব্দ। এই শব্দ এমন মানুষদের বোঝাতে ব্যবহার করা হতো, যাদের বিদেশি ও বিপজ্জনক মতাদর্শের প্রভাবে প্রভাবিত বলে মনে করা হতো।
উত্তর কোরিয়ার সমাজব্যবস্থা বিভিন্ন শ্রেণিতে বিভক্ত। অনেক বিশ্লেষক এই ব্যবস্থাকে বর্ণপ্রথার সঙ্গে তুলনা করেন। দেশটিতে বিদ্যমান কঠোর সামাজিক শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতিটি ‘সংবুন’ নামে পরিচিত। সেখানে জ্যেপোদের স্থান ছিল ‘দোদুল্যমান শ্রেণি’-তে, অর্থাৎ শাসকগোষ্ঠীর অনুগত মূল শ্রেণি ও শত্রু শ্রেণির মাঝামাঝি অবস্থানে। এ কারণে জ্যেপোদের কড়া রাষ্ট্রীয় নজরদারিতে রাখা হতো। পাশাপাশি ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া বা মর্যাদাপূর্ণ চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রেও তারা প্রায়ই বৈষম্যের শিকার হতো।
কো ইয়ং–হুইয়ের এই ইতিহাস কিম পরিবারের দীর্ঘদিনের প্রচারিত ‘পেকতু বংশধারা’র গল্পের সঙ্গে একেবারেই সাংঘর্ষিক।
নর্দার্ন রিসার্চ ইনস্টিটিউশনের বিশ্লেষক কিম হিয়ুং সু বলেন, ‘শাসকগোষ্ঠীর সঙ্গে পেকতু বংশধারার যোগসূত্রকে পবিত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাই দেশের নেতা একজন “জ্যেপো”র সন্তান হতে পারেন—এমন ধারণাই অনেকের কাছে অকল্পনীয়।’
‘সিন্ডারেলার মতো’ জীবন
কো ইয়ং–হুইকে অন্য অনেক জাইনিচি কোরিয়ানের মতো একই পরিণতির শিকার হতে হয়নি। কারণ, তাঁর প্রেম এবং তা কিম জং–ইলের মতো ব্যক্তির সঙ্গে। কিম জং–ইল তখন ছিলেন শাসনক্ষমতার উত্তরসূরি।
গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, কো হুইয়ের সঙ্গে পরিচয়ের আগেই কিম জং–ইল বিয়ে করেছিলেন। তাঁর সেই স্ত্রী কিম ইয়ং–সুক ছিলেন একজন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তার মেয়ে। সেই বিয়ে হয়েছিল কিম জং–ইলের বাবা তৎকালীন শাসক কিম ইল–সাংয়ের পছন্দে।
কিম জং–ইলের আরও দুজন প্রেমিকা ছিলেন বলেও জানা যায়।
কো ইয়ং–হুই উত্তর কোরিয়ার অভিজাত সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্য ছিলেন। তাঁর সৌন্দর্য ও নাচের দক্ষতায় মোহিত হয়েছিলেন কিম জং–ইল। জাপানি সাংবাদিক ইয়োজি গোমি ২০২৫ সালে কো ইয়ং–হুইকে নিয়ে লেখা একটি বইয়ে এ কথাগুলো লিখেছেন।
বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে বলা হয়, কিম জং–ইল গভীরভাবে কো ইয়ং–হুইয়ের প্রেমে পড়েছিলেন। তাঁদের তিনটি সন্তানও হয়।
উত্তর কোরিয়ায় বিয়ে ছাড়া জন্ম নেওয়া সন্তানদের সামাজিকভাবে নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখা হয়। তাই কিম জং–ইলের আনুষ্ঠানিক স্ত্রী ইয়ং–সুক পিয়ংইয়ংয়ে বসবাস করলেও কো ইয়ং–হুই ও তাঁর সন্তানদের রাজধানী থেকে প্রায় ২১০ কিলোমিটার দূরের উপকূলীয় শহর ওনসানে রাখা হয়েছিল।
কিম জং–ইলের সঙ্গে সম্পর্কের আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি না পেলেও কো হুই এমন এক জীবন যাপন করেছিলেন, যাকে সাংবাদিক ইয়োজি গোমি তুলনা করেছেন ‘সিন্ডারেলার মতো জীবন’–এর সঙ্গে।
বিভিন্ন সূত্রের মতে, কো ইয়ং–হুই ছিলেন কিম জং–ইলের সবচেয়ে প্রিয় প্রেমিকা।
তবে একটি বাস্তবতা কখনো বদলায়নি। নির্বাসিত উত্তর কোরীয় কূটনীতিক রিয়ু হিউন-উ লিখেছেন, কো ইয়ং–হুইকে কখনোই পুত্রবধূ হিসেবে স্বীকৃতি দেননি কিম ইল–সাং। তাঁকে কখনো প্রকাশ্যে কো ইয়ং–হুইয়ের সন্তানদের সঙ্গেও দেখা যায়নি।
সেজং ইনস্টিটিউটের গবেষক চং সঙ-চাংয়ের মতে, কিম ইল–সাং যদি হুইকে স্বীকৃতি দিতেন, তাহলে তাঁর নাতি-নাতনিদের সঙ্গে কিম ইল–সাংয়ের ছবি ব্যাপকভাবে প্রচার করা হতো।
কিম ইল–সাংয়ের মৃত্যুর পর কিম জং–ইল উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা হন। তখন কো ইয়ং–হুই অঘোষিত ফার্স্ট লেডির ভূমিকা পালন করতে শুরু করেন। তিনি কিম জং–ইলের সঙ্গে সামরিক পরিদর্শনে যেতেন এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন।
কিম জং–ইলের সাবেক ব্যক্তিগত রাঁধুনি কেনজি ফুজিমোতোর বর্ণনা অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেও ইল প্রায়ই হুইয়ের মতামত চাইতেন।
২০১১ সালে নির্মিত একটি সরকারি প্রামাণ্যচিত্রে কিম জং–ইলের সঙ্গে বিভিন্ন স্থান পরিদর্শনে যেতে দেখা যায় কো ইয়ং–হুইকে। তবে সেখানে তাঁর নাম বা সামাজিক শ্রেণিগত পরিচয় সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
প্রামাণ্যচিত্রটি সাধারণ মানুষের জন্য প্রকাশ করা হয়নি। গবেষক চং সঙ-চাংয়ের মতে, ২০১২ সালের জুন মাসে এটি শুধু জ্যেষ্ঠ দলীয় কর্মকর্তাদের দেখানো হয়েছিল। পরে সেটি ফাঁস হয়ে যায় এবং চোরাই পথে আনা ইউএসবি ড্রাইভের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যেও তা ছড়িয়ে পড়ে।
চং সঙ-চাং বলেন, ‘এটি ছড়িয়ে পড়ার পর কো ইয়ং–হুইকে নিয়ে মানুষের কৌতূহল হঠাৎ করেই বেড়ে যায়। ফলে সরকার দ্রুত প্রামাণ্যচিত্রটি প্রত্যাহার করে নেয়।’
চং সঙ-চাংয়ের মতে, কো ইয়ং–হুইয়ের পারিবারিক ও সামাজিক পটভূমি প্রকাশ্যে এলে শাসকগোষ্ঠীর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে—এমন আশঙ্কায় প্রামাণ্যচিত্রটি প্রত্যাহার করা হয়েছিল।
বিতর্কিত বংশপরিচয় ও ক্ষমতার উত্তরাধিকার
২০০৪ সালে কো ইয়ং–হুই স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে প্যারিসের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তবে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে তাঁর মৃত্যুর খবর কোনো গুরুত্বই পায়নি।
তবে প্রেমিকার দ্বিতীয় ছেলে এবং কিম জং–ইলের সবচেয়ে ছোট ছেলে কিম জং–উন কীভাবে শেষ পর্যন্ত ক্ষমতার উত্তরাধিকারী হয়ে গেলেন?
কিম জং–ইলের ঘোষিত স্ত্রী কিম ইয়ং–সুকের দুটি সন্তান ছিল। কিন্তু দুজনই মেয়ে হওয়ায় উত্তরসূরি হিসেবে তাঁদের কথা বিবেচনা করা হয়নি।
কো ইয়ং–হুই ছাড়াও কিম জং–ইলের আরও দুজন প্রেমিকা ছিলেন। তাঁরা হলেন সং হে-রিম ও কিম ওক। ইলের সঙ্গে কিম ওকের কোনো সন্তান ছিল না।
একসময় মনে করা হতো, সং হে-রিমের গর্ভে জন্ম নেওয়া কিম জং–ইলের বড় ছেলে কিম জং–নাম উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন। তবে বহু বছর বিদেশে পড়াশোনা করা কিম জং–নাম শুরু থেকেই শাসকগোষ্ঠীর অপছন্দের ব্যক্তি হয়ে ওঠেন। তিনি এক দশকের বেশি সময় বিদেশে পড়াশোনা করেছেন এবং ইংরেজি ও ফরাসি ভাষায় সাবলীল ছিলেন।
সাংবাদিক ইয়োজি গোমি বছরের পর বছর ধরে কিম জং–নামের সঙ্গে ই-মেইলে যোগাযোগ রেখেছিলেন। তিনি বলেন, কিম জং–নাম উত্তর কোরিয়ার বংশানুক্রমিক ক্ষমতা হস্তান্তর ব্যবস্থার সমালোচনা করতেন এবং সংস্কারের পক্ষে মত দিতেন। এ কারণেই তিনি ক্ষমতাকেন্দ্রের সমর্থন হারান। এ ছাড়া ঘন ঘন ক্যাসিনোতে যাওয়া এবং বিদেশে বিলাসবহুল জীবনযাপনের কারণে তাঁর সম্পর্কে একজন আনন্দপ্রিয় ও ভোগবিলাসী ব্যক্তির ভাবমূর্তিও তৈরি হয়েছিল।
ম্যাকাউতে কয়েক বছর ধরে নির্বাসিত জীবনযাপনের পর ২০১৭ সালে কিম জং–নামকে মালয়েশিয়ায় হত্যা করা হয়। বিমানবন্দরে তাঁকে বিষ প্রয়োগে হত্যা করা হয়েছিল।
নির্বাসিত কূটনীতিক রিয়ু হিউন–উ বলেন, কিম জং–উনের বড় ভাই কিম জং–চুলও উত্তরসূরি হওয়ার সম্ভাব্য প্রার্থী ছিলেন। তবে গুরুতর আফিম-আসক্তির কারণে তাঁকে উত্তরাধিকারীর তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়।
ধারণা করা হয়, কো ইয়ং–হুই নিজেই তাঁর দ্বিতীয় ছেলে কিম জং–উনকে ক্ষমতার উত্তরসূরি করার জন্য সক্রিয় হয়েছিলেন।
সাংবাদিক অ্যানা ফিফিল্ড তাঁর ‘দ্য গ্রেট সাকসেসর: দ্য সিক্রেট রাইজ অ্যান্ড রুল অব কিম জং–উন’ বইয়ে লিখেছেন, কো ইয়ং–হুই তাঁর বোনের পরামর্শে এ উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তাঁর বোন তাঁকে বলেছিলেন, ‘তোমার ছেলেকেই পরবর্তী নেতা হতে হবে, নইলে আমাদের পুরো পরিবার ঝুঁকির মুখে পড়বে।’
বিশ্লেষকদের মতে, নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা এবং প্রতিযোগিতার মানসিকতা কিম জং–উনকে খুব দ্রুতই তাঁর বাবা কিম জং–ইলের প্রিয়পাত্র করে তুলেছিল।
কিম জং–উন কিছু সময়ের জন্য সুইজারল্যান্ডে পড়াশোনা করেছেন। তবে বলা হয়, বিদেশে থাকলেও তাঁকে তাঁর সৎভাই কিম জং–নামের তুলনায় অনেক বেশি নিয়ন্ত্রিত ও বিচ্ছিন্ন পরিবেশে রাখা হয়েছিল।
২০১১ সালে কিম জং–ইল যখন মারা যান, তখন মাত্র ২৭ বছর বয়সী কিম জং–উন উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতার শীর্ষে নিজেকে অধিষ্ঠিত করেন।
এরপর কিম জং–উন বোন কিম ইয়ো–জংকে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা দেন। তিনি উত্তর কোরিয়ার প্রভাবশালী প্রচার বিভাগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলে ধারণা করা হয়।
তবে কিম জং–উনের পারিবারিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন আজও তাঁর পিছু ছাড়েনি।
বিশ্লেষকদের মতে, এ কারণেই উনের জন্মদিনকে এখনো জাতীয় ছুটি ঘোষণা করা হয়নি। কারণ, তাঁর জন্ম ও শৈশব নিয়ে বেশি আলোচনা শুরু হলে তাঁর মায়ের পরিচয় এবং কেন তিনি পিয়ংইয়ংয়ের বাইরে বড় হয়েছেন—এসব স্পর্শকাতর প্রশ্ন সামনে চলে আসতে পারে। অথচ উনের দাদা কিম ইল–সাং ও বাবা কিম জং–ইলের জন্মদিন উত্তর কোরিয়ায় জাতীয়ভাবে উদ্যাপন করা হয়।
কিম জং–উনের পারিবারিক পরিচয় ঘিরে যে গোপনীয়তা রয়েছে, সেটিই সম্ভবত তাঁকে দ্রুত তাঁর স্ত্রী রি সল–জুকে জনসমক্ষে পরিচয় করিয়ে দিতে উদ্বুদ্ধ করেছিল বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা।
দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, রি সল–জু পিয়ংইয়ংয়ের একটি উচ্চমধ্যবিত্ত পরিবার থেকে এসেছেন বলে মনে করা হয়। তিনি একটি স্বনামধন্য সাংস্কৃতিক দলের গায়িকা ছিলেন। এ ছাড়া তরুণ বয়সে রি সল–জুকে চীনে ধ্রুপদি সংগীত শেখার জন্য পাঠানো হয়েছিল, যা উত্তর কোরিয়ার সামাজিক শ্রেণিবিন্যাস ব্যবস্থা সংবুনে ভালো পারিবারিক অবস্থানের ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচিত হয়।
জাপানি সাংবাদিক ইয়োজি গোমি বলেন, ‘মায়ের পারিবারিক পরিচয়কে কেন্দ্র করে কিম জং–উন যে বৈধতাজনিত সংকোচ ও ক্ষোভ অনুভব করতেন, সেটিই তাঁকে শুরুতেই স্ত্রী রি সল–জু এবং মেয়ে জু আয়েকে সামনে আনার জন্য শক্তিশালী প্রেরণা জুগিয়েছিল।’
এখন প্রশ্ন হলো, যদি কোনো দিন কিম জং–উনের মায়ের প্রকৃত বংশপরিচয় ব্যাপকভাবে প্রকাশ্যে চলে আসে, তাহলে কী হতে পারে?
নির্বাসিত উত্তর কোরীয় কূটনীতিক রিয়ু হিউন–উর মতে, ‘যদি জানা যায় যে তাঁর (কিম উন) মা জাপানে বসবাসকারী কোরীয় বংশোদ্ভূত পরিবারের সদস্য ছিলেন, তাহলে তা শুধু কিমের শাসনের বৈধতাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলবে না; বরং উত্তর কোরিয়ায় বংশানুক্রমিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের পুরো ব্যবস্থাকেই নাড়িয়ে দেবে।’
হিউন–উর মতে, উত্তর কোরীয় সমাজে এর প্রভাব হবে পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণের মতো।
ছবিঃ সংগৃহীত
মুম্বাইয়ের পুলিশ ভ্যান আটকে প্রতিবাদের মুখ হয়ে ওঠা মডেল রিয়া আহির এবার অনলাইনে তীব্র আক্রমণ ও হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন। এই ঘটনার পর তিনি সাইবার পুলিশের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছেন।
গত ২২ জুলাই মুম্বাইয়ের দাদারের শিবাজি পার্কের কাছে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার প্রতিবাদে দেশব্যাপী বিক্ষোভের অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভরত মানুষদের আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় একটি পুলিশ ভ্যান আটকে দিয়েছিলেন রিয়া আহির।
ছাই রঙের হুডি পরে ভ্যানের বনেটে হাত রেখে তার সাহসিকতার সেই দৃশ্য দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয় এবং ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়। পরবর্তীতে এনডিটিভি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, পুলিশ অন্যায় করছে বুঝতে পেরেই তিনি সহজাত প্রবৃত্তি থেকে ওই পদক্ষেপ নিয়েছিলেন এবং নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকার ওপর জোর দিয়েছিলেন।
তবে এই সাহসী ঘটনার পর থেকেই অনলাইনে তাকে নানাভাবে হেনস্তা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমআইডিসি পুলিশ স্টেশনে দায়ের করা অভিযোগে তিনি জানান যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়মিত হত্যার হুমকি এবং তার অনলাইন কন্টেন্টে অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হচ্ছে।
রিয়ার দাবি, তার বিরুদ্ধে একটি সুসংগঠিত ঘৃণা প্রচার চালানো হচ্ছে, যার মধ্যে মানহানি, ভীতি প্রদর্শন, নারীর প্রতি অবমাননাকর অপব্যবহার, টার্গেটেড হয়রানি এবং ডিপফেক ভিডিও ছড়ানোর মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এই সাইবার হয়রানির কারণে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে তিনি আইনি সহায়তার পথ বেছে নেন এবং মানহানিকর কন্টেন্টের স্ক্রিনশট, বিভিন্ন ইউআরএল ও প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র পুলিশের কাছে জমা দেন। তার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং এর সঙ্গে জড়িত অভিযুক্তদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
সম্প্রতি এনডিটিভির একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে রিয়া আহির জানান, ওই মুহূর্তে তার প্রতিক্রিয়াটি অত্যন্ত স্বাভাবিক ছিল এবং বিষয়টি সাধারণ মানুষের কাছে এত বড় একটি অসাধারণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হবে, তা এখনও তিনি পুরোপুরি বিশ্বাস করে উঠতে পারছেন না।
সূত্র: এনডিটিভি।
মা-বাবার মাঝে অভিজিৎ দিপকে
ভারতের সাম্প্রতিক যুব আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে পরিচিতি পেয়েছেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। আন্দোলন থামতেই এই তরুণের জন্য একের পর এক বিয়ের প্রস্তাব আসছে তার বাবা-মায়ের কাছে। অভিজিতের মা অনিতা দিপকের ইচ্ছা, আগামী ডিসেম্বর বা জানুয়ারির মধ্যেই ছেলেকে বিয়ের পিঁড়িতে বসাবেন। তবে বিয়ের সুনির্দিষ্ট তারিখ বা মাসের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ভার তিনি ছেড়ে দিয়েছেন ৩০ বছর বয়সী এই সমাজকর্মীর ওপরই।
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অনিতা দিপকে জানান, এনইটি প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে সিজেপির প্রতিবাদের আগে থেকেই অভিজিতের জন্য বিয়ের প্রস্তাব আসতে শুরু করেছিল। আর সেই ধারা এখনো অব্যাহত রয়েছে।
তিনি স্মরণ করেন, বোস্টনে থাকার সময় অভিজিতের সঙ্গে ফোনে এ বিষয়ে তার কথা হয়েছিল। তিনি যোগ করেন, ‘সে এ নিয়ে বেশি কিছু বলেনি; শুধু একটু হেসেছিল। অভিভাবক হিসেবে আমরা তাকে বিয়ে করার জন্য চাপ দিয়ে যাচ্ছি। তবে সে আর কয়েকদিনের মধ্যে বাড়ি ফিরলে আমরা বিষয়টি আবার তুলব এবং তাকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে দেব।’
সম্প্রতি ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর আন্দোলন সমাপ্ত হলে অভিজিতের দ্রুত বাড়ি ফেরার কথা ছিল। কিন্তু টাইফয়েডে আক্রান্ত হওয়ায় তিনি ভ্রমণ পিছিয়ে দেন। তার মা বলেন, ‘আমরা এখন জানতে পেরেছি তার ফিরতে আরও চার থেকে পাঁচদিন লাগবে।’
হুমকির মুখে আত্মগোপনে যায় পরিবার
অভিজিৎ ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ গঠনের ঘোষণা দেওয়ার পরপরই চরম হুমকির মুখে পড়ে তার পরিবার। নিরাপত্তার খাতিরে তাদের প্রায় দুই সপ্তাহ আত্মগোপনে থাকতে হয়েছিল।
অনিতা দিপকে বলেন, দল গঠনের পর বোস্টনেই অভিজিৎকে হুমকি দেওয়া শুরু হয়। ফোন করে হুমকিদাতারা বলত, যেহেতু সে বস্টনে রয়েছে, তাই ভারতে তার বাবা-মাকে টার্গেট করা হবে।
এই খবর পেয়েই অভিজিৎ তাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার তাগিদ দেন। এরপর তারা কংকনে আত্মীয়দের বাড়িতে চলে যান এবং সেখানে ১৫ দিন কাটিয়ে আসেন। বর্তমানে পরিবারটি ছত্রপতি সম্ভাজি নগরের ওয়লুজ এলাকায় বসবাস করছে।
পরিবারকে না জানিয়েই রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ
অভিজিৎ যে এমন রাজনৈতিক দল গঠন করবেন, সে পরিকল্পনা তিনি পরিবারকে ঘুণাক্ষরেও জানাননি। সংবাদমাধ্যমে তার সাক্ষাৎকার দেখেই তারা বিষয়টি জানতে পারেন।
তার মা বলেন, ছেলে বাড়িতে খুব একটা কথা বলত না। খাবার বা মৌলিক প্রয়োজন ছাড়া সে দীর্ঘ কোনো আলোচনা করত না। স্কুলের বিতর্কে অংশ নেওয়ারও কোনো রেকর্ড ছিল না তার।
ছোটবেলায় বেশ শান্ত প্রকৃতির এই ছেলেটি কীভাবে জাতীয় টিভিতে তিন ভাষায় কথা বলল, তা দেখে আজও অবাক হন তার মা। মহামারির সময়ে অভিজিতের গৃহহীন আদিবাসী পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর মানবিক রূপও তিনি তুলে ধরেন।
ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ব্যর্থতা ও আক্রমণের ভয়
দশম শ্রেণীতে ৯৬ শতাংশ নম্বর পাওয়া মেধাবী অভিজিৎকে তার বাবা সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হওয়ায় এই পেশায় ঠেলে দিয়েছিলেন। কিন্তু দ্বাদশ শ্রেণীতে ৬৫ শতাংশ পাওয়ার পর পুনের সিংহগড় ইনস্টিটিউটে ভর্তি হলেও পড়াশোনা শেষ করতে পারেননি তিনি। মা স্বীকার করেন, ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে জোর করাটা তাদের ভুল সিদ্ধান্ত ছিল।
সাম্প্রতিক আন্দোলনে ছেলের ওপর হামলা এবং মুখে কালি ছেটানোর ঘটনায় পরিবারটি দারুণ ভীতি ও উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে গেছে। মা জানান, এসব খবর শুনে তিনি কেঁদে ফেলেছিলেন এবং ছেলের বড় কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না তা নিয়ে ভেবেছিলেন।
তবে অভিজিৎ তাকে ফোন করে আশ্বস্ত করে বলেছিলেন, তিনি এখন আর শুধু পরিবারের নন, দেশের সাধারণ মানুষের সম্পদে পরিণত হয়েছেন।
সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
ছবি : সংগৃহীত
পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত আজাদ জম্মু ও কাশ্মীর (এজেকে) আইনসভার নির্বাচনের প্রথম ধাপে বড় ব্যবধানে এগিয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল পাকিস্তান মুসলিম লিগ (নওয়াজ) বা পিএমএল-এন।
অনানুষ্ঠানিক ফলাফলে দেখা গেছে, ১৩টি আসনের মধ্যে দলটি ৯টিতে জয় পেয়েছে। বাকি চারটি আসন জিতেছে পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি)।
গতকাল সোমবার মিরপুর, কোটলি ও ভিম্বর জেলার ১৩টি আসনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। বিকেল পাঁচটায় ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পর গণনা শুরু হয়।
অনানুষ্ঠানিক ও প্রাথমিক ফল অনুযায়ী, পিএমএল-এন মিরপুরের দুটি, ভিম্বরের তিনটি এবং কোটলির চারটি আসনে জয় পেয়েছে। অন্যদিকে পিপিপি মিরপুরের দুটি ও কোটলির দুটি আসনে বিজয়ী হয়েছে।
পিএমএল-এনের রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা রানা সানাউল্লাহ ফলাফলে সন্তোষ প্রকাশ করে বিজয়ী প্রার্থীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে আয়োজন করতে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছিল। তবে নির্বাচন চলাকালে দুটি সহিংস ঘটনার কথা জানান সানাউল্লাহ। তাঁর ভাষ্য, একটি ঘটনায় পারিবারিক বিরোধের জেরে গুলির ঘটনা ঘটে। অন্যটি ঘটে নাকিয়াল এলাকায়, যেখানে একজন নিহত হন। এ ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রানা সানাউল্লাহ আরও অভিযোগ করেন, ভিম্বরের এক আসনে এক প্রার্থী নিজেই একটি ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ব্যালট বাক্স সরিয়ে ফেলেন। এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে এবং তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, বিচ্ছিন্ন এসব ঘটনা ছাড়া নির্বাচন সামগ্রিকভাবে অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরেকটি তাপপ্রবাহের পূর্বাভাসের মধ্যেই মঙ্গলবার ফ্রান্স ও স্পেনের দমকলকর্মীরা দাবানল নিয়ন্ত্রণে জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। বলা হচ্ছে, দেশ দুটিতে এবারের দাবানলটি স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ। এরই মধ্যে বিস্তীর্ণ বনাঞ্চলের পাশাপাশি পুড়ে গেছে বসতবাড়ি ও ফসলি জমি। এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন কয়েক লাখ বাসিন্দা।
ফ্রান্সে ওয়াইন উৎপাদনের রাজধানী হিসেবে পরিচিত বোর্দো শহরের কাছে জ্বলতে থাকা বড় দাবানল থেকে পাইরোকিউমুলোনিম্বাস বা অগ্নি মেঘ তৈরি হয়েছে। বিরল এই মেঘের কারণে ঝড়ো বাতাস ও বজ্রপাত হতে পারে।
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহে পশ্চিম ইউরোপে নতুন তাপপ্রবাহ তৈরি হতে পারে। যা মঙ্গলবার থেকে ফ্রান্সে ও বুধবার থেকে স্পেনে অনুভূত হবে। স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মার্লাস্কা বলেছেন, মাদ্রিদের পশ্চিমে জ্বলতে থাকা দাবানল নিয়ন্ত্রণে পরবর্তী কয়েক ঘণ্টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
ফ্রান্সের বোর্দোতে কাজ করা দমকলকর্মীরা মঙ্গলবার জানিয়েছেন, আগের রাতে কয়েকটি স্থানে নতুন করে দাবানল তৈরি হয়। তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়ায় সেটি আশপাশে ছড়াতে পারেনি। সোমবার বোর্দোর একটি এলাকা পরিদর্শন করেন প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ। তিনি বলেন, ‘সামনের দিনগুলো বেশ কঠিন হতে যাচ্ছে। আমাদের টিকে থাকার লড়াই করতে হবে।’
গত ছয়দিনে বোর্দোর আশপাশের দাবানলে ৪২ হাজার হেক্টর বনাঞ্চল পুড়ে গেছে। এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন ২ লাখ ২০ হাজার বাসিন্দা। সেখানে অন্তত ২৪০টি বাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে।
ছবি : সংগৃহীত
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পুলিশি হয়রানি ও মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হলে আবারও রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ভারতের ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মধ্যরাতের বৈঠকের পর আপাতত নতুন কর্মসূচি স্থগিত রেখেছে দলটি।
সোমবার দিবাগত রাত একটার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রায় দুই থেকে তিন ঘণ্টার বৈঠকে আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে সরকার আগের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সৌরভ দাসের ভাষ্য, বিহার ও আসাম সরকারের জারি করা নির্দেশনার কপি তাদের দেখানো হয়েছে। সেখানে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা এফআইআর প্রত্যাহার, ভবিষ্যতে তাদের বিরুদ্ধে নতুন কোনো আইনি পদক্ষেপ না নেওয়া এবং আটক ব্যক্তিদের মুক্তির বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।
তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার এবং অন্য বিজেপি বা এনডিএ-শাসিত রাজ্যগুলো থেকেও একই ধরনের নির্দেশনা দ্রুত জারি করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
এক ভিডিও বার্তায় সৌরভ দাস জানান, সরকারের আশ্বাস বাস্তবে কার্যকর হবে কি না, সে বিষয়ে বৈঠকে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার দাবি, জবাবে সরকারি প্রতিনিধিরা বিহারের স্বরাষ্ট্র বিভাগের একটি বিজ্ঞপ্তি দেখিয়েছেন, যেখানে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া আইনি ব্যবস্থা প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে।
সৌরভ দাস বলেন, বিভিন্ন রাজ্যে আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যাতে কোনো আইনি জটিলতা তৈরি না হয়, সে জন্য সব রাজ্য সরকারের কাছ থেকে একই ধরনের সুরক্ষামূলক নির্দেশনা জারির বিষয়টি বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে।
তিনি বলেন, ‘সরকার আশ্বাস দিয়েছে, আমাদের উদ্বেগের বিষয়গুলো সমাধান করে বিভিন্ন রাজ্যের পক্ষ থেকে দ্রুত প্রয়োজনীয় বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে। এতে আন্দোলনকারীরা নিরাপদ থাকবেন এবং ভবিষ্যতে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।’
সিজেপির দাবি, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আন্দোলনে অংশ নেওয়া প্রত্যেক ব্যক্তির আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখবে। প্রয়োজন হলে আবারও আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে দলটি।
ছবি : সংগৃহীত
মানুষের শারীরিক ও আসল বয়সের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। একই বছরে জন্ম নিয়েও দুই ব্যক্তির শরীরে বয়সের ছাপ একই গতিতে নাও আসতে পারে।
কারও কারও ক্ষেত্রে আবার আসল বয়সের চেয়ে শরীর দ্রুত বুড়িয়ে যেতে থাকে, যা ইঙ্গিত দেয় অসুস্থতার ঝুঁকির। এই শারীরিক বয়সের বিষয়টি পরিমাপ করা হয় রক্তচাপ, ফুসফুসের ক্ষমতা ইত্যাদি বিষয়ের ভিত্তিতে।
নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, সিনেমা দেখতে যাওয়া বা জাদুঘরে ঘুরতে যাওয়ার মতো বিষয়গুলো শারীরিক বয়স প্রশ্নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে, এটি বয়স্কদের মধ্যে কমিয়ে দিতে পারে বয়সের ছাপ পড়ার গতি। যুক্তরাজ্যে হওয়া এই গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, বৃদ্ধ বয়সেও যারা নিয়মিত সিনেমা দেখতে ও জাদুঘরে ঘুরতে যান, আর যারা যান না– এই দুইয়ের শারীরিক বয়সের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
‘মেজারিং কালচারাল হ্যাবিটস এগেইনস্ট বায়োলজিক্যাল এজ’ শীর্ষক গবেষণায় গবেষকরা বলছেন, সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা মানুষের শরীরের বয়স কম রাখতে সহায়তা করতে পারে। সব মিলিয়ে গবেষণায় এক হাজার ৮৯৯ জন অংশ নিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ৪৭ শতাংশ পুরুষ। এ ছাড়া ২০০৪ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত চার হাজার দুইশ সাতটি জরিপ করা হয় এ গবেষণার স্বার্থে।
স্টাডি ফাইন্ডসের প্রতিবেদন বলছে, সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়টি পরিমাপ করতে অংশগ্রহণকারীদের জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তারা কত দিন পরপর সিনেমা দেখতে যান, জাদুঘর বা আর্ট গ্যালারিতে যান, অথবা মঞ্চনাটক দেখেন। উত্তরে অংশগ্রহণকারীদের কেউ কেউ বলেছেন, ‘কখনও না’, কেউ বলেছেন, ‘মাসে দুইবার’। কেউ আবার জানিয়েছেন, মাসে দুইবারের চেয়েও বেশি।
সেসব উত্তরের ওপর ভিত্তি করে গবেষকরা অংশগ্রহণকারীদের শূন্য থেকে ১৫ পর্যন্ত নম্বর দেন। গড়ে অংশগ্রহণকারীরা ৪ দশমিক ৩ নম্বর করে পান। যারা কয়েক মাসের মধ্যে বেশ কয়েকবার এ ধরনের কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছেন, তাদের নম্বর আসে গড়ে ৭ দশমিক ৩। অন্যদিকে যারা বছরে একবার বা তার চেয়েও কম জাদুঘরে বা সিনেমা দেখতে গেছেন, তারা পান গড়ে ২ দশমিক ৩ নম্বর। সবাইকে শারীরিক বয়সের ভিত্তিতেও বিচার করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের সবার আসল গড় বয়স ছিল ৬৮ দশমিক ৭ শতাংশ, শারীরিক বয়সের গড় ছিল ৬৮ দশমিক ৭ শতাংশ। গবেষণায় দেখা যায়, যারা নিয়মিত সিনেমা দেখতে বা জাদুঘরে ঘুরতে যান, তাদের গড় শারীরিক বয়স তিন বছর কম এসেছে অন্যদের তুলনায়।
বিষয়টি কাকতালীয় কিনা, তা নির্ণয় করতে গবেষকরা পৃথক একটি বিশ্লেষণ করেন এক হাজার ৬৫২ জনের তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে। তাদের ঘুরতে যাওয়া ও শারীরিক বয়সের তথ্য চার বছর ধরে সংগ্রহ করা হয়। পরে দেখা যায়, যারা সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা রেখেছিলেন, তাদের শারীরিক বয়স অন্যদের তুলনায় ০ দশমিক ০৮৯ বছর কম এসেছে।
তবে এই গবেষণাটি শুধু যুক্তরাজ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। গবেষকরা জানান, ভিন্ন দেশ বা ভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশে এর ফলাফলে পার্থক্য দেখা যেতে পারে। এ ছাড়া গবেষণাটির আরেকটি সীমাবদ্ধতা হলো, এতে শুধু সিনেমা, জাদুঘর বা আর্ট গ্যালারির মতো ভেন্যুতে যাওয়ার বিষয়টি রেকর্ড করা হয়েছে, অন্য ধরনগুলোকে আমলে নেওয়া হয়নি। তবে খাওয়া ও ব্যায়ামের পাশপাশি ঘুরতে যাওয়ার বিষয়টিও যে বয়স্কদের ভালো ও সুস্থ থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ, সেটি তুলে ধরেছে গবেষণাটি।