কিম জং–উন , মা কো ইয়ং–হুই ও বাবা কিম জং–ইল

  • প্রকাশ : সোমবার ২৯ জুন, ২০২৬, সময় : ১:১৪ এএম

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং–উনের জীবনের অনেকটাই রহস্যে ঘেরা। তার মধ্যেই রহস্যময় হলো মাকে নিয়ে তাঁর নীরবতা। ১৫ বছর ধরে ক্ষমতায় উন, কিন্তু কখনো প্রকাশ্যে নিজের মায়ের নাম উচ্চারণও করেননি তিনি। কিম জং–উনের শাসনক্ষমতার ভিত্তি অনেকটাই দাঁড়িয়ে আছে তথাকথিত ‘মাউন্ট পেকতু’ বংশধারার ওপর ভিত্তি করে। পৌরানিক কাহিনিতে আছে, এই বংশধারার সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে কোরীয় রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা দানগুনের।


উত্তর কোরিয়ায় বংশপরিচয়কে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হয়। তাই কিম জং–উনের মায়ের পরিচয় শুধু যে গোপনীয়ই নয়; এটি এমন একটি বিষয়, যা শাসকগোষ্ঠীর জন্য হুমকির কারণ হতে পারে।


পুরাণের জন্মস্থান


প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, কোরিয়ার ইতিহাস শুরু হয়েছে মাউন্ট পেকতু নামে একটি পর্বত থেকে। চীন ও উত্তর কোরিয়ার সীমান্তের এ পর্বতকে দানগুনের জন্মস্থান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দানগুন হলেন কোরিয়ার প্রথম রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা।


কয়েক হাজার বছর পর উত্তর কোরিয়ার প্রতিষ্ঠাতা কিম ইল–সাং জাপানিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সময় মাউন্ট পেকতুকে আস্তানা বানিয়েছিলেন বলে জানা যায়। মনে করা হয়, তাঁর ছেলে কিম জং–ইলের (কিম জং–উনের বাবা) জন্মও হয়েছিল এই পর্বতেরই ঢালে।


কিম জং–ইল হয়তো রাশিয়ায় জন্মগ্রহণ করেছেন, এমন দাবিও রয়েছে। তারপরও কয়েক দশক ধরে মাউন্ট পেকতুকে কিম পরিবারের শাসনের বৈধতা প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।


উত্তর কোরিয়ার নির্বাসিত কূটনীতিক রিয়ু হিয়ুন উন তাঁর বই ‘কিম জং উন’স সিক্রেট ভল্ট’–এ লিখেছেন, ‘কিম জং–উনের বয়স যখন বিশের কোঠায়, তখনই তিনি উত্তরসূরি নির্বাচিত হন। তখনো তাঁর উল্লেখযোগ্য কোনো অর্জন ছিল না। তিনি শুধু পেকতু বংশধারার সদস্য হওয়ার কারণেই সে মর্যাদা পেয়েছিলেন।’


তবে কিম জং–উনের মায়ের দিকের পারিবারিক বংশপরিচয়ের বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি চিত্র তুলে ধরে।


কিম জং–উনের মা কো ইয়ং–হুই মাউন্ট পেকতু থেকে শত শত মাইল দূরে জাপানের ওসাকা শহরে জন্মেছিলেন বলে মনে করা হয়।


জীবনীকারদের সংগ্রহ করা তথ্য অনুযায়ী, কো ইয়ং–হুই ১৯৫২ সালে ওসাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর মা–বাবা এসেছিলেন জেজু দ্বীপ থেকে। এটি দক্ষিণ কোরিয়ার দক্ষিণ উপকূলের কাছের একটি দ্বীপ।


জাপানে বসবাসকারী তাঁদের পরিবারটি ছিল ‘জাইনিচি কোরিয়ান’। ১৯১০ থেকে ১৯৪৫ সালের ঔপনিবেশিক শাসনামলে কোরিয়া থেকে জাপানে চলে যাওয়া বা সেখানে বসতি গড়া কোরীয় বংশোদ্ভূত মানুষদের একটি অংশকে জাইনিচি কোরিয়ান বলা হয়ে থাকে।


কো ইয়ং–হুইয়ের বয়স যখন প্রায় ১০ বছর, তখন তাঁর পরিবার জাপান ছেড়ে উত্তর কোরিয়ায় যায়। ১৯৫৯ থেকে ১৯৮৪ সালের মধ্যে উত্তর কোরিয়ায় ফিরে যাওয়া আনুমানিক ৯৩ হাজার কোরীয় অভিবাসীর মধ্যে তাঁর পরিবারও ছিল। একটি পুনর্বাসন কর্মসূচির প্রতি আকৃষ্ট হয়ে এ পরিবারগুলো উত্তর কোরিয়ায় গিয়েছিল। ওই কর্মসূচির আওতায় তাদের বিনা মূল্যে চিকিৎসা, শিক্ষা, চাকরিসহ একটি সুখী ও সচ্ছল জীবনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।


প্রথম দিকে উত্তর কোরিয়ায় আসা এসব অভিবাসীকে অনেকেই ঈর্ষার চোখে দেখত। কারণ, তারা জাপান থেকে নগদ অর্থ, উন্নত মানের পোশাক ও বিভিন্ন গৃহস্থালিসামগ্রী নিয়ে এসেছিল। তবে উত্তর কোরিয়ায় এসব অভিবাসীকে ‘জ্যেপো’ নামে ডাকা হতো, যা একটি অবমাননাকর শব্দ। এই শব্দ এমন মানুষদের বোঝাতে ব্যবহার করা হতো, যাদের বিদেশি ও বিপজ্জনক মতাদর্শের প্রভাবে প্রভাবিত বলে মনে করা হতো।


উত্তর কোরিয়ার সমাজব্যবস্থা বিভিন্ন শ্রেণিতে বিভক্ত। অনেক বিশ্লেষক এই ব্যবস্থাকে বর্ণপ্রথার সঙ্গে তুলনা করেন। দেশটিতে বিদ্যমান কঠোর সামাজিক শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতিটি ‘সংবুন’ নামে পরিচিত। সেখানে জ্যেপোদের স্থান ছিল ‘দোদুল্যমান শ্রেণি’-তে, অর্থাৎ শাসকগোষ্ঠীর অনুগত মূল শ্রেণি ও শত্রু শ্রেণির মাঝামাঝি অবস্থানে। এ কারণে জ্যেপোদের কড়া রাষ্ট্রীয় নজরদারিতে রাখা হতো। পাশাপাশি ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া বা মর্যাদাপূর্ণ চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রেও তারা প্রায়ই বৈষম্যের শিকার হতো।


কো ইয়ং–হুইয়ের এই ইতিহাস কিম পরিবারের দীর্ঘদিনের প্রচারিত ‘পেকতু বংশধারা’র গল্পের সঙ্গে একেবারেই সাংঘর্ষিক।


নর্দার্ন রিসার্চ ইনস্টিটিউশনের বিশ্লেষক কিম হিয়ুং সু বলেন, ‘শাসকগোষ্ঠীর সঙ্গে পেকতু বংশধারার যোগসূত্রকে পবিত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাই দেশের নেতা একজন “জ্যেপো”র সন্তান হতে পারেন—এমন ধারণাই অনেকের কাছে অকল্পনীয়।’


‘সিন্ডারেলার মতো’ জীবন


কো ইয়ং–হুইকে অন্য অনেক জাইনিচি কোরিয়ানের মতো একই পরিণতির শিকার হতে হয়নি। কারণ, তাঁর প্রেম এবং তা কিম জং–ইলের মতো ব্যক্তির সঙ্গে। কিম জং–ইল তখন ছিলেন শাসনক্ষমতার উত্তরসূরি।


গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, কো হুইয়ের সঙ্গে পরিচয়ের আগেই কিম জং–ইল বিয়ে করেছিলেন। তাঁর সেই স্ত্রী কিম ইয়ং–সুক ছিলেন একজন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তার মেয়ে। সেই বিয়ে হয়েছিল কিম জং–ইলের বাবা তৎকালীন শাসক কিম ইল–সাংয়ের পছন্দে।


কিম জং–ইলের আরও দুজন প্রেমিকা ছিলেন বলেও জানা যায়।


কো ইয়ং–হুই উত্তর কোরিয়ার অভিজাত সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্য ছিলেন। তাঁর সৌন্দর্য ও নাচের দক্ষতায় মোহিত হয়েছিলেন কিম জং–ইল। জাপানি সাংবাদিক ইয়োজি গোমি ২০২৫ সালে কো ইয়ং–হুইকে নিয়ে লেখা একটি বইয়ে এ কথাগুলো লিখেছেন।


বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে বলা হয়, কিম জং–ইল গভীরভাবে কো ইয়ং–হুইয়ের প্রেমে পড়েছিলেন। তাঁদের তিনটি সন্তানও হয়।


উত্তর কোরিয়ায় বিয়ে ছাড়া জন্ম নেওয়া সন্তানদের সামাজিকভাবে নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখা হয়। তাই কিম জং–ইলের আনুষ্ঠানিক স্ত্রী ইয়ং–সুক পিয়ংইয়ংয়ে বসবাস করলেও কো ইয়ং–হুই ও তাঁর সন্তানদের রাজধানী থেকে প্রায় ২১০ কিলোমিটার দূরের উপকূলীয় শহর ওনসানে রাখা হয়েছিল।


কিম জং–ইলের সঙ্গে সম্পর্কের আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি না পেলেও কো হুই এমন এক জীবন যাপন করেছিলেন, যাকে সাংবাদিক ইয়োজি গোমি তুলনা করেছেন ‘সিন্ডারেলার মতো জীবন’–এর সঙ্গে।


বিভিন্ন সূত্রের মতে, কো ইয়ং–হুই ছিলেন কিম জং–ইলের সবচেয়ে প্রিয় প্রেমিকা।


তবে একটি বাস্তবতা কখনো বদলায়নি। নির্বাসিত উত্তর কোরীয় কূটনীতিক রিয়ু হিউন-উ লিখেছেন, কো ইয়ং–হুইকে কখনোই পুত্রবধূ হিসেবে স্বীকৃতি দেননি কিম ইল–সাং। তাঁকে কখনো প্রকাশ্যে কো ইয়ং–হুইয়ের সন্তানদের সঙ্গেও দেখা যায়নি।


সেজং ইনস্টিটিউটের গবেষক চং সঙ-চাংয়ের মতে, কিম ইল–সাং যদি হুইকে স্বীকৃতি দিতেন, তাহলে তাঁর নাতি-নাতনিদের সঙ্গে কিম ইল–সাংয়ের ছবি ব্যাপকভাবে প্রচার করা হতো।


কিম ইল–সাংয়ের মৃত্যুর পর কিম জং–ইল উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা হন। তখন কো ইয়ং–হুই অঘোষিত ফার্স্ট লেডির ভূমিকা পালন করতে শুরু করেন। তিনি কিম জং–ইলের সঙ্গে সামরিক পরিদর্শনে যেতেন এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন।


কিম জং–ইলের সাবেক ব্যক্তিগত রাঁধুনি কেনজি ফুজিমোতোর বর্ণনা অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেও ইল প্রায়ই হুইয়ের মতামত চাইতেন।


২০১১ সালে নির্মিত একটি সরকারি প্রামাণ্যচিত্রে কিম জং–ইলের সঙ্গে বিভিন্ন স্থান পরিদর্শনে যেতে দেখা যায় কো ইয়ং–হুইকে। তবে সেখানে তাঁর নাম বা সামাজিক শ্রেণিগত পরিচয় সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।


প্রামাণ্যচিত্রটি সাধারণ মানুষের জন্য প্রকাশ করা হয়নি। গবেষক চং সঙ-চাংয়ের মতে, ২০১২ সালের জুন মাসে এটি শুধু জ্যেষ্ঠ দলীয় কর্মকর্তাদের দেখানো হয়েছিল। পরে সেটি ফাঁস হয়ে যায় এবং চোরাই পথে আনা ইউএসবি ড্রাইভের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যেও তা ছড়িয়ে পড়ে।


চং সঙ-চাং বলেন, ‘এটি ছড়িয়ে পড়ার পর কো ইয়ং–হুইকে নিয়ে মানুষের কৌতূহল হঠাৎ করেই বেড়ে যায়। ফলে সরকার দ্রুত প্রামাণ্যচিত্রটি প্রত্যাহার করে নেয়।’


চং সঙ-চাংয়ের মতে, কো ইয়ং–হুইয়ের পারিবারিক ও সামাজিক পটভূমি প্রকাশ্যে এলে শাসকগোষ্ঠীর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে—এমন আশঙ্কায় প্রামাণ্যচিত্রটি প্রত্যাহার করা হয়েছিল।


বিতর্কিত বংশপরিচয় ও ক্ষমতার উত্তরাধিকার


২০০৪ সালে কো ইয়ং–হুই স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে প্যারিসের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তবে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে তাঁর মৃত্যুর খবর কোনো গুরুত্বই পায়নি।


তবে প্রেমিকার দ্বিতীয় ছেলে এবং কিম জং–ইলের সবচেয়ে ছোট ছেলে কিম জং–উন কীভাবে শেষ পর্যন্ত ক্ষমতার উত্তরাধিকারী হয়ে গেলেন?


কিম জং–ইলের ঘোষিত স্ত্রী কিম ইয়ং–সুকের দুটি সন্তান ছিল। কিন্তু দুজনই মেয়ে হওয়ায় উত্তরসূরি হিসেবে তাঁদের কথা বিবেচনা করা হয়নি।


কো ইয়ং–হুই ছাড়াও কিম জং–ইলের আরও দুজন প্রেমিকা ছিলেন। তাঁরা হলেন সং হে-রিম ও কিম ওক। ইলের সঙ্গে কিম ওকের কোনো সন্তান ছিল না।


একসময় মনে করা হতো, সং হে-রিমের গর্ভে জন্ম নেওয়া কিম জং–ইলের বড় ছেলে কিম জং–নাম উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন। তবে বহু বছর বিদেশে পড়াশোনা করা কিম জং–নাম শুরু থেকেই শাসকগোষ্ঠীর অপছন্দের ব্যক্তি হয়ে ওঠেন। তিনি এক দশকের বেশি সময় বিদেশে পড়াশোনা করেছেন এবং ইংরেজি ও ফরাসি ভাষায় সাবলীল ছিলেন।


সাংবাদিক ইয়োজি গোমি বছরের পর বছর ধরে কিম জং–নামের সঙ্গে ই-মেইলে যোগাযোগ রেখেছিলেন। তিনি বলেন, কিম জং–নাম উত্তর কোরিয়ার বংশানুক্রমিক ক্ষমতা হস্তান্তর ব্যবস্থার সমালোচনা করতেন এবং সংস্কারের পক্ষে মত দিতেন। এ কারণেই তিনি ক্ষমতাকেন্দ্রের সমর্থন হারান। এ ছাড়া ঘন ঘন ক্যাসিনোতে যাওয়া এবং বিদেশে বিলাসবহুল জীবনযাপনের কারণে তাঁর সম্পর্কে একজন আনন্দপ্রিয় ও ভোগবিলাসী ব্যক্তির ভাবমূর্তিও তৈরি হয়েছিল।


ম্যাকাউতে কয়েক বছর ধরে নির্বাসিত জীবনযাপনের পর ২০১৭ সালে কিম জং–নামকে মালয়েশিয়ায় হত্যা করা হয়। বিমানবন্দরে তাঁকে বিষ প্রয়োগে হত্যা করা হয়েছিল।


নির্বাসিত কূটনীতিক রিয়ু হিউন–উ বলেন, কিম জং–উনের বড় ভাই কিম জং–চুলও উত্তরসূরি হওয়ার সম্ভাব্য প্রার্থী ছিলেন। তবে গুরুতর আফিম-আসক্তির কারণে তাঁকে উত্তরাধিকারীর তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়।


ধারণা করা হয়, কো ইয়ং–হুই নিজেই তাঁর দ্বিতীয় ছেলে কিম জং–উনকে ক্ষমতার উত্তরসূরি করার জন্য সক্রিয় হয়েছিলেন।


সাংবাদিক অ্যানা ফিফিল্ড তাঁর ‘দ্য গ্রেট সাকসেসর: দ্য সিক্রেট রাইজ অ্যান্ড রুল অব কিম জং–উন’ বইয়ে লিখেছেন, কো ইয়ং–হুই তাঁর বোনের পরামর্শে এ উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তাঁর বোন তাঁকে বলেছিলেন, ‘তোমার ছেলেকেই পরবর্তী নেতা হতে হবে, নইলে আমাদের পুরো পরিবার ঝুঁকির মুখে পড়বে।’


বিশ্লেষকদের মতে, নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা এবং প্রতিযোগিতার মানসিকতা কিম জং–উনকে খুব দ্রুতই তাঁর বাবা কিম জং–ইলের প্রিয়পাত্র করে তুলেছিল।


কিম জং–উন কিছু সময়ের জন্য সুইজারল্যান্ডে পড়াশোনা করেছেন। তবে বলা হয়, বিদেশে থাকলেও তাঁকে তাঁর সৎভাই কিম জং–নামের তুলনায় অনেক বেশি নিয়ন্ত্রিত ও বিচ্ছিন্ন পরিবেশে রাখা হয়েছিল।


২০১১ সালে কিম জং–ইল যখন মারা যান, তখন মাত্র ২৭ বছর বয়সী কিম জং–উন উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতার শীর্ষে নিজেকে অধিষ্ঠিত করেন।


এরপর কিম জং–উন বোন কিম ইয়ো–জংকে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা দেন। তিনি উত্তর কোরিয়ার প্রভাবশালী প্রচার বিভাগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলে ধারণা করা হয়।


তবে কিম জং–উনের পারিবারিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন আজও তাঁর পিছু ছাড়েনি।


বিশ্লেষকদের মতে, এ কারণেই উনের জন্মদিনকে এখনো জাতীয় ছুটি ঘোষণা করা হয়নি। কারণ, তাঁর জন্ম ও শৈশব নিয়ে বেশি আলোচনা শুরু হলে তাঁর মায়ের পরিচয় এবং কেন তিনি পিয়ংইয়ংয়ের বাইরে বড় হয়েছেন—এসব স্পর্শকাতর প্রশ্ন সামনে চলে আসতে পারে। অথচ উনের দাদা কিম ইল–সাং ও বাবা কিম জং–ইলের জন্মদিন উত্তর কোরিয়ায় জাতীয়ভাবে উদ্‌যাপন করা হয়।


কিম জং–উনের পারিবারিক পরিচয় ঘিরে যে গোপনীয়তা রয়েছে, সেটিই সম্ভবত তাঁকে দ্রুত তাঁর স্ত্রী রি সল–জুকে জনসমক্ষে পরিচয় করিয়ে দিতে উদ্বুদ্ধ করেছিল বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা।


দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, রি সল–জু পিয়ংইয়ংয়ের একটি উচ্চমধ্যবিত্ত পরিবার থেকে এসেছেন বলে মনে করা হয়। তিনি একটি স্বনামধন্য সাংস্কৃতিক দলের গায়িকা ছিলেন। এ ছাড়া তরুণ বয়সে রি সল–জুকে চীনে ধ্রুপদি সংগীত শেখার জন্য পাঠানো হয়েছিল, যা উত্তর কোরিয়ার সামাজিক শ্রেণিবিন্যাস ব্যবস্থা সংবুনে ভালো পারিবারিক অবস্থানের ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচিত হয়।


জাপানি সাংবাদিক ইয়োজি গোমি বলেন, ‘মায়ের পারিবারিক পরিচয়কে কেন্দ্র করে কিম জং–উন যে বৈধতাজনিত সংকোচ ও ক্ষোভ অনুভব করতেন, সেটিই তাঁকে শুরুতেই স্ত্রী রি সল–জু এবং মেয়ে জু আয়েকে সামনে আনার জন্য শক্তিশালী প্রেরণা জুগিয়েছিল।’


এখন প্রশ্ন হলো, যদি কোনো দিন কিম জং–উনের মায়ের প্রকৃত বংশপরিচয় ব্যাপকভাবে প্রকাশ্যে চলে আসে, তাহলে কী হতে পারে?


নির্বাসিত উত্তর কোরীয় কূটনীতিক রিয়ু হিউন–উর মতে, ‘যদি জানা যায় যে তাঁর (কিম উন) মা জাপানে বসবাসকারী কোরীয় বংশোদ্ভূত পরিবারের সদস্য ছিলেন, তাহলে তা শুধু কিমের শাসনের বৈধতাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলবে না; বরং উত্তর কোরিয়ায় বংশানুক্রমিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের পুরো ব্যবস্থাকেই নাড়িয়ে দেবে।’


হিউন–উর মতে, উত্তর কোরীয় সমাজে এর প্রভাব হবে পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণের মতো।




আবদুল আল-সাইদ

  • প্রকাশ : বুধবার ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৩৭ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটপ্রার্থী আবদুল আল–সাইদ রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে হারিয়ে সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম হিসেবে সিনেটে যাচ্ছেন তিনি।


আল–সাইদ তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী রজার্সকে দুই লাখের বেশি ভোটের ব্যবধানে হারিয়েছেন।


মিসরীয় বংশোদ্ভূত আবদুল আল-সাইদ গত নভেম্বরে দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করেছিলেন।


প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং শীর্ষস্থানীয় রিপাবলিকান সহযোগীরা জোর দিয়ে প্রচার চালিয়েছিলন, আল-সাইদের মুসলিম পরিচয়, ইসরায়েল ইস্যুতে অবস্থান এবং প্রগতিশীল নীতিগুলো তাদের সম্প্রদায়গুলোকে ঝুঁকিতে ফেলবে এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দেবে।


তবে এ প্রচারণায় কান দেননি মিশিগানের ভোটারেরা


  • প্রকাশ : বুধবার ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:২৫ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল মেনে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করতেও আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি।


দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি অবশ্যই নির্বাচনের ফল মেনে নিতে প্রস্তুত। আমরা ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করব। আশা করি, একসঙ্গে কাজ করার কোনো পথ বের করতে পারব।’


নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের জন্য ট্রাম্প দায়ী করেছেন নিজের নাম ব্যালটে না থাকাকে। অর্থাৎ, তিনি নিজে প্রার্থী না হওয়ায় দলের প্রার্থীরা প্রত্যাশিত ফল পাননি বলে মনে করেন তিনি।


ট্রাম্প বলেন, ‘ব্যালটে আমি ছিলাম না। যদি থাকতাম, তাহলে আমরা বিপুল ব্যবধানে জয়ী হতাম!’নির্বাচনে নিজের সমর্থন দেওয়া পরাজিত প্রার্থীদের নিয়েও কোনো অনুশোচনা নেই বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। তবে সাউথ ক্যারোলাইনার প্রার্থী ডারলিন গ্রাহামের পরাজয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘দেখলাম ডারলিন হেরে গেছেন। বাহ, এটা তো অবিশ্বাস্য!’


এবারের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসন, সিনেটের ১০০টির মধ্যে ৩৫টি আসন এবং বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের গভর্নরসহ স্থানীয় পর্যায়ের বেশ কয়েকটি পদে ভোট হচ্ছে। বর্তমানে কংগ্রেসের দুই কক্ষ সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ; দুটির নিয়ন্ত্রণই রিপাবলিকানদের হাতে। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হলো প্রতিনিধি পরিষদ। সদস্যরা দুই বছরের জন্য নির্বাচিত হন। সাধারণত আইন প্রণয়নের প্রস্তাব প্রথমে এই কক্ষে উত্থাপন ও আলোচনা করা হয়, পরে তা সিনেটে পাঠানো হয়।


সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, রয়টার্স, বিবিসি


আন্তর্জাতিক বিচার আদালত

  • প্রকাশ : বুধবার ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:২৪ পিএম

আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলার রায় ঘোষণা করা হবে ১৯ নভেম্বর। গতকাল মঙ্গলবার আইসিজে এ তথ্য জানিয়েছে।


পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালানোর অভিযোগে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ২০১৯ সালে এ মামলা করেছিল।


আইসিজে জানিয়েছে, ১৯ নভেম্বর গ্রিনিচ মান সময় সকাল ৮টায় বিচারকেরা রায় পড়া শুরু করবেন।


মামলায় গাম্বিয়া অভিযোগ করেছিল, ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে চালানো মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর অভিযান গণহত্যার শামিল ছিল। ওই অভিযানের পর অন্তত ৭ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।


রোহিঙ্গা শরণার্থীরা ওই অভিযানে হত্যা, ব্যাপক ধর্ষণ ও ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন। জাতিসংঘের একটি অনুসন্ধান কমিশন বলেছে, ওই অভিযানে ‘গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ড’ সংঘটিত হয়েছিল।


তবে মিয়ানমার গণহত্যার এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দেশটির দাবি, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে বৈধভাবে ওই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল।


আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার অভিযোগে করা ওই মামলায় এক দশকের বেশি সময় পর রায় হতে যাচ্ছে। এ ধরনের মামলায় আদালতের ইতিহাসে এটি হবে তৃতীয় রায়।


এই রায়ের প্রভাব ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার অভিযোগে করা অন্য মামলাগুলোর ওপরও পড়তে পারে। এর মধ্যে রয়েছে গাজায় গণহত্যার অভিযোগে ২০২৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার করা মামলা। ইসরায়েল অবশ্য এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।


বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও ডোনাল্ড ট্রাম্প

  • প্রকাশ : বুধবার ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:৪০ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, চলতি বছরের শেষের পর ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা দেওয়া বন্ধ করবে যুক্তরাষ্ট্র।


টেলিফোনে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘ইসরায়েলকে টাকা দেওয়ার বিষয়ে বিবি (বেনিয়ামিন) নেতানিয়াহু এবং আমি একটি চুক্তি করেছি। আমরা ইসরায়েলকে এক বছরে ৪০০ কোটি ডলার দিই। আমরা কয়েক মাস আগেই চুক্তি করেছি যে আমরা এটি বন্ধ করে দিচ্ছি।’ 


তিনি আরও বলেন, ‘এতে তাদের কোনো সমস্যা নেই, কারণ তারা এখন খুব সফল একটি দেশ হয়ে উঠেছে। তাদের এই টাকার দরকার নেই। আর আমরাও ইসরায়েলকে আর টাকা দেব না।’


ট্রাম্প বলেন, ‘কাজেই এটা শুধুই অর্থের অপচয়। কারণ, আমরা আগেই একমত হয়েছি যে এই বছরের শেষ থেকে আমরা ইসরায়েলকে আর টাকা দিচ্ছি না।’


মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘তাদের প্রয়োজন হলে আমরা ইসরায়েলকে সাহায্য করব। তারা একটি দারুণ মিত্রদেশ। আর আমরাও সবার চেয়ে সেরা মিত্র।’


যুক্তরাষ্ট্র অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে ইসরায়েলকে সবচেয়ে বেশি সামরিক সহায়তা দেয়। তবে চুক্তি অনুযায়ী, এই তহবিলের বেশির ভাগ অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি অস্ত্র কিনতেই খরচ করতে হয়।


ট্রাম্পের এই ঘোষণা প্রায় পুরোপুরি মিথ্যা বলেই মনে হচ্ছে। কারণ, ইসরায়েলকে দেওয়া মার্কিন সামরিক সহায়তার ১০ বছর মেয়াদি চুক্তিটি ২০২৮ সালের সেপ্টেম্বরের আগে শেষ হবে না। এই চুক্তির আওতায় ইহুদি রাষ্ট্রটি বছরে ৩৮০ কোটি ডলার পেয়ে থাকে।


নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে এবং বারবার ইসরায়েলে মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধের কথা বলেছেন ঠিকই। তবে তিনি আগামী দশকে ধাপে ধাপে এটি করার কথা বলেছেন, ট্রাম্পের মতো হঠাৎ করেই সব বন্ধের কথা বলেননি।


প্রেসিডেন্ট তাঁর এই ঘোষণাকে ঠিক প্রমাণ করতে জোর দিয়ে বলেন যে ইসরায়েল একটি ভালো মিত্র এবং তারা এই নীতিকে সমর্থন করে। কিন্তু কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনের সকালে তাঁর এমন সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে যুক্তরাষ্ট্রের দুই দলের কাছেই ইসরায়েলকে সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি কতটা অজনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সহায়তা বন্ধের আকস্মিক ঘোষণায় ইসরায়েলের অর্থ মন্ত্রণালয়ে চরম বিস্ময়।


ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ইসরায়েলের অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, বছরের শেষে ইসরায়েলকে মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধ করার ঘোষণায় তাঁরা অবাক হয়েছেন।


সংবাদমাধ্যম ওয়াল্লা জানিয়েছে, একজন কর্মকর্তা বলেছেন, ‘সহায়তা বন্ধের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক কাগজপত্র জমা দেওয়া হয়নি।’ ইসরায়েলি ওই কর্মকর্তা বলেছেন, ‘মন্ত্রণালয় এটি বন্ধের ইচ্ছার কথা জানত। কিন্তু হঠাৎ করেই এখনই এটি বন্ধ করার সিদ্ধান্তে আমরা অবাক হয়েছি।’


সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেট নাম প্রকাশ না করে শীর্ষস্থানীয় একজন ইসরায়েলি  কর্মকর্তার কথা তুলে ধরেছে। তিনি বলেছেন, এই ঘোষণার কারণে অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব পড়বে। 


তিনি বলেন, ‘দুই বছরের সহায়তা ছেড়ে দেওয়ার মানে হলো ৮০০ কোটি ডলার হারানো। আমরা এই অর্থ কোথায় পাব? এটা পরিষ্কার—নাগরিকদের করের টাকা থেকে নিতে হবে।’


ট্রাম্পের এই বক্তব্যের বিষয়ে শিগগিরই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন

কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ যাচ্ছে ডেমোক্র্যাটদের হাতে


ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সমর্থকদের উল্লাস

  • প্রকাশ : বুধবার ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:২৭ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ভোটগ্রহণ শেষে চলছে গণনা। ভোটের ফলাফলও আসতে শুরু করেছে। দেশটির কংগ্রেসের দুটি কক্ষ- প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট- উভয় কক্ষেই ডেমোক্র্যাটদের এগিয়ে থাকার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেছে। 


জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ধসের কারণে প্রাথমিক ফলাফলে এগিয়ে রয়েছে ডেমোক্র্যাটরা।  ১০০ আসনের সিনেটে এবার দুটি শূন্য আসনসহ ৩৫টিতে ভোট হচ্ছে। 


দেশটির স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত পাওয়া সর্বশেষ ফলাফলের তথ্য অনুযায়ী বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এর মধ্যে দুটিতে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি এরই মধ্যে জয় পেয়েছে। অন্যদিকে প্রতিনিধি পরিষদে সাতটি আসনে জয় পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। এখন পর্যন্ত কোনো আসনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির জয়লাভের খবর পাওয়া যায়নি।  


সিবিএস নিউজের এক পূর্বাভাস জানিয়েছে, কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে তারা রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে নিচ্ছে। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ডেমোক্র্যাটরা অন্তত ২১৮টি আসনে জয়ী হবে এবং রিপাবলিকানরা অন্তত ১৬০টি আসন পাবে।


সবার মনোযোগ টেক্সাস, মিশিগান ও মেইন- এই তিনটি অঙ্গরাজ্যের দিকে। নির্বাচনে এই তিনটি অঙ্গরাজ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত মিলেছে।  টেক্সাস অঙ্গরাজ্য থেকে গত ৩০ বছরে কোনো ডেমোক্র্যাট সিনেটে যাননি, কিন্তু সাবেক স্কুল শিক্ষক জেমস টালারিকো সেই ইতিহাস বদলাতে চাইছেন। ট্রাম্প-সমর্থিত রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনের সঙ্গে তার হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে।


মিশিগানে ডেমোক্র্যাট আবদুল এল-সাইদ এবং রিপাবলিকান মাইক রজার্সের মধ্যে লড়াই মনোযোগ কেড়েছে। যেখানে রোববার শেষ মুহূর্তে এল-সাইদের ডেমোক্র্যাট প্রাইমারির প্রতিদ্বন্দ্বী রজার্সকে সমর্থন জানিয়েছেন। প্রাথমিক ভোট গণনায় ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদ এগিয়ে রয়েছেন। এখন পর্যন্ত গণনা করা ভোটের হিসাবে তিনি পেয়েছেন ৫৪ দশমিক ৩ শতাংশ। তার প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স পেয়েছেন ৪৪ শতাংশ ভোট। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ১০ লাখ ৭২ হাজার ৬৪২টি ভোট গণনা করা হয়েছে। যা মোট ভোটের ২১ দশমিক ৭ শতাংশ। এখনও প্রায় ৩৮ লাখ ৬২ হাজার ভোট গণনা বাকি রয়েছে।


প্রাথমিক ফলে আবদুল এল-সাইয়েদ পেয়েছেন ৫ লাখ ৮২ হাজার ৭৪৬ ভোট। অন্যদিকে মাইক রজার্সের ঝুলিতে রয়েছে ৪ লাখ ৭১ হাজার ৬৩৪ ভোট। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে উল্লেখিত লিডিয়া ক্রিস্টেনসেন পেয়েছেন ৯ হাজার ৮৯১ ভোট। নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এল-সাইয়েদকে হারাতে হলে মাইক রজার্সকে বাকি ভোটের অন্তত ৫০ দশমিক ৬ শতাংশ পেতে হবে। 


মেইন অঙ্গরাজ্যের বর্তমান সিনেটর সুসান কলিন্স একজন রিপাবলিকান, যিনি ট্রাম্পকে অভিশংসনের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন।


ডেমোক্র্যাটদের প্রাধান্য থাকা এই অঙ্গরাজ্যে নিজের আসন ধরে রাখার লড়াই করছেন তিনি, কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বী ট্রয় জ্যাকসনের কাছ থেকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। এবারের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনে এবং সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টিতে ভোট হয়েছে। এ ছাড়া ৩৬টি অঙ্গরাজ্যে গভর্নর নির্বাচন হয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের এসব আসনের নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে। 


বর্তমানে দুই কক্ষই রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে। ডেমোক্র্যাটরা অন্তত একটি কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে চাইছে। ভোট গণনা শুরুর পর প্রথম ফলাফল আসতে শুরু করেছে। ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী মার্ক ওয়ার্নারকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। 


সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে আলাস্কা, আইওয়া, কানসাস, মেইন, মিশিগান, ওহাইও, টেক্সাসের মতো অঙ্গরাজ্যের ফলাফল। এসব জায়গায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেশ হাড্ডাহাড্ডি। তবে ভোট গণনা শেষ হলেই সব আসনের ফলাফল দ্রুত জানা যাবে, এমন নয়। 


অঙ্গরাজ্যভেদে ভোট গণনার পদ্ধতি ও গতি আলাদা। কোথাও ভোটকেন্দ্র বন্ধ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অধিকাংশ ভোট গণনা হয়ে যায়। আবার কোথাও ডাকযোগে পাঠানো ও আগাম ভোটের ব্যালট গণনা করতে বেশি সময় লাগে। বিশেষ করে মেইন ও আলাস্কার মতো অঙ্গরাজ্যে ফলাফল জানতে দেরি হতে পারে। 


প্রতিদ্বন্দ্বিতা খুব কাছাকাছি হলে কোনো প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করতেও সময় লাগে। এ কারণে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে যাচ্ছে, তা নিশ্চিত হতে কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।


পারমাণবিক বিস্ফোরণ। ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:৪২ এএম

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে পারমাণবিক বিস্ফোরণের সম্ভাব্য পরিস্থিতিতে নাগরিকদের করণীয় বিষয়ে পাঁচটি সতর্কতামূলক নির্দেশনা প্রচার করা হয়েছে। এতে বিস্ফোরণের সময় কীভাবে আশ্রয় নিতে হবে, তেজস্ক্রিয় পদার্থের সংস্পর্শে এলে কী করতে হবে এবং কখন আশ্রয়স্থল থেকে বের হওয়া যাবে, সে বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


পারমাণবিক বিস্ফোরণের সম্ভাব্য পরিস্থিতিতে নাগরিকদের জন্য প্রচারিত নির্দেশনায় তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা, আশ্রয় গ্রহণ এবং তেজস্ক্রিয় দূষণ থেকে সুরক্ষার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।


নির্দেশনাগুলো হলো:


বিস্ফোরণের ঝলকের দিকে তাকাবেন না, আশ্রয় নিন


পারমাণবিক বিস্ফোরণের তীব্র আলোর দিকে সরাসরি তাকাতে নিষেধ করা হয়েছে। বিস্ফোরণ ঘটলে দ্রুত শক্ত কোনো প্রতিবন্ধকের আড়ালে আশ্রয় নিতে হবে। বিস্ফোরণের তরঙ্গ পার না হওয়া পর্যন্ত উপুড় হয়ে শুয়ে মাথা ও মুখ ঢেকে রাখতে হবে।



বিস্ফোরণের পর নিকটস্থ ভবনে প্রবেশ করুন


বিস্ফোরণের তরঙ্গ চলে যাওয়ার পর নিকটস্থ ভবনে প্রবেশ করতে হবে। জানালা ও বাইরের দেয়াল থেকে দূরে থাকতে হবে। বিস্ফোরণের পর বাইরে দাঁড়িয়ে পরিস্থিতি দেখা বা ছবি তোলা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। গাড়িকে আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার করতেও নিষেধ করা হয়েছে।


তেজস্ক্রিয় কণা দূর করতে শরীরের খোলা অংশ ধুয়ে ফেলুন


তেজস্ক্রিয় ধুলার সংস্পর্শে এলে কুসুম গরম পানি ও সাবান দিয়ে শরীরের খোলা অংশ ধুয়ে ফেলতে হবে। এ ক্ষেত্রে কন্ডিশনার ছাড়া সাধারণ শ্যাম্পু ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। গোসল করা সম্ভব না হলে পানি বা ভেজা কাপড় দিয়ে মুখ, হাত ও শরীরের অন্যান্য খোলা অংশ পরিষ্কার করতে হবে।


অন্তত ২৪ ঘণ্টা আশ্রয়স্থলে থাকুন


পারমাণবিক বিস্ফোরণের পর অন্তত ২৪ ঘণ্টা আশ্রয়স্থলের ভেতরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ সময়ে বোতলজাত পানি ও প্যাকেটজাত খাবার গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।


সরে যাওয়ার আগে সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করুন


২৪ ঘণ্টা পার হলেই আশপাশের পরিবেশ নিরাপদ হয়ে গেছে, এমনটি ধরে নেওয়া যাবে না। নিরাপদে সরে যাওয়ার পথ সম্পর্কে সরকারি ঘোষণা ও জরুরি সম্প্রচার অনুসরণ করতে হবে। কোনো ভবনের ভেতরে আগুন লাগলে বা ধসে পড়ার আশঙ্কা থাকলে অন্য নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হবে।


নির্দেশনায় তাৎক্ষণিক সতর্কতা, উপযুক্ত আশ্রয় গ্রহণ এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নিরাপদে সরে যাওয়ার নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।


সূত্র: এনডিটিভি