সংগৃহীত ছবি
ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে নিহত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৩ হাজারে পৌঁছেছে। গতকাল শনিবার সরকারিভাবে দেওয়া সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য থেকে এমনটা জানা গেছে।
এদিকে ধ্বংসস্তূপে জীবিত ব্যক্তিদের খোঁজে অভিযান চালানো আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলো ধীরে ধীরে তাদের অনুসন্ধান কার্যক্রম গুটিয়ে আনতে শুরু করেছে। গত ২৪ জুন ভেনেজুয়েলায় ওই জোড়া ভূমিকম্প আঘাত হানে। ভূমিকম্পে হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। অনেকে এখন খোলা আকাশের নিচে বা অস্থায়ী ত্রাণশিবিরে দিন কাটাচ্ছেন।
ভেনেজুয়েলা সরকার গতকাল নিহত ব্যক্তিদের সংখ্যা নিয়ে হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে। বলেছে, এ পর্যন্ত নিহত মানুষের সংখ্যা ২ হাজার ৯৫৪–এ দাঁড়িয়েছে বলে তারা নিশ্চিত হতে পেরেছে। গত শুক্রবারের তুলনায় মৃতের সংখ্যা ৩০০–রও বেশি বেড়েছে।
এখনো হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে ভেনেজুয়েলা সরকার কোনো আনুষ্ঠানিক হিসাব প্রকাশ করেনি। তবে জাতিসংঘের ধারণা, রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর প্রায় ৫০ হাজার মানুষের এখনো কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
লাতিন আমেরিকার ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ এ ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজধানী কারাকাসের উত্তরে অবস্থিত উপকূলীয় অঞ্চল লা গুয়াইরা। সেখানে বহু আবাসিক ভবন ধসে পড়েছে।
মাত্র ৩৮ সেকেন্ডের ব্যবধানে হওয়া এ দুই ভূমিকম্পের ঘটনার ১০ দিন পেরিয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় উদ্ধারকারী দলগুলো এখন জীবিত ব্যক্তিদের সন্ধানে অভিযান গুটিয়ে আনতে শুরু করেছে। অনেক পরিবার এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে স্বজনদের মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগে সাধারণত জীবিত কাউকে উদ্ধারে ৭২ ঘণ্টাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে এরপরও ভেনেজুয়েলায় চলতি সপ্তাহে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
উদ্ধার অভিযান শেষের দিকে, এমন ইঙ্গিত দিয়ে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলোর সদস্য ও উদ্ধারকাজে ব্যবহৃত প্রশিক্ষিত কুকুরগুলোকে সম্মাননা পদক দেন।
রদ্রিগেজ বলেন, ‘ভেনেজুয়েলা এখন গভীর শোকের মধ্যে আছে। অনেক পরিবার এখনো তাদের স্বজনদের জীবিত খুঁজে পাওয়ার আশা ছাড়েনি। আবার অনেক মানুষ এ ভূমিকম্পে তাঁদের সব হারিয়েছেন।’
যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন দেশসহ আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল গতকাল বলেছে, তারা ধীরে ধীরে তাদের উদ্ধার অভিযান শেষ করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি ফায়ার সার্ভিসের একটি উদ্ধারকারী দলও ভেনেজুয়েলায় উদ্ধারকাজে যোগ দিয়েছিল। তবে সর্বশেষ তল্লাশিতে আর কোনো জীবিত মানুষের সন্ধান না পাওয়ায় দলটি তাদের অভিযান শেষ করছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা ও ভার্জিনিয়া থেকে আসা উদ্ধারকারী দলগুলোও সপ্তাহান্তে দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ভেনেজুয়েলাবাসীর অনেকে অভিযোগ করেছেন, দুর্যোগের পর সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারেনি। তাঁদের দাবি, আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল পৌঁছানোর আগপর্যন্ত পরিবারের সদস্যরাই নিজেদের হাতে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে স্বজনদের উদ্ধারের চেষ্টা করেছেন।
তবে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট সরকারের পদক্ষেপের পক্ষে কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, দুর্যোগের পরপরই হাজার হাজার সেনাসদস্য এবং সরকারি কর্মকর্তাকে উদ্ধার ও ত্রাণকাজে পাঠানো হয়েছে।
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরায় গতকাল ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে ধসে পড়া ভবনগুলো ভাঙার কাজ শুরু হয়। তবে অনেক জায়গায় পরিবারের সদস্যরা এখনো স্বজনদের মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা করছেন, যেন তাঁদের শেষকৃত্য সম্পন্ন করা যায়।
উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া স্বেচ্ছাসেবক ফ্রান্সিসকো সাসকিয়া বলেন, ‘আমরা এখনো কাজ করে যাচ্ছি। এখনো মরদেহ খুঁজে বের করছি। কাজটা মোটেও সহজ নয়।’
এই স্বেচ্ছাসেবক আরও বলেন, ‘আজ আমরা দুটি মরদেহ উদ্ধার করেছি। সেগুলো তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’
অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলায় প্রায় ৬৭০ কোটি মার্কিন ডলারের অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে, যা দেশটির জিডিপির প্রায় ৬ শতাংশের সমান।
তেল রপ্তানিকারক দেশ ভেনেজুয়েলা এমনিতেই দীর্ঘদিন ধরে অর্থনৈতিক সংকট ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে ছিল। এর ফলে দেশটির অবকাঠামো ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা আগেই দুর্বল হয়ে পড়ে। সেই পরিস্থিতির মধ্যেই এ ভূমিকম্প আরও বড় বিপর্যয় ডেকে এনেছে।
ভূমিকম্পে রাজধানী কারাকাসের প্রধান বিমানবন্দর হিসেবে ব্যবহৃত মাইকেতিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে ত্রাণবাহী বিমানের অবতরণের জন্য বিমানবন্দরটি আংশিকভাবে চালু করা হয়েছে। তবে এখনো বাণিজ্যিক ফ্লাইট চলাচল বন্ধ আছে।
দেলসি রদ্রিগেজ বলেন, মাইকেতিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সংস্কারে সহায়তার জন্য কয়েকটি দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যেই এ বিষয়ে একটি পরিকল্পনা প্রস্তুত হবে।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা ভিক্টর কোলিভের্তের কাছে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, তাঁর ভাতিজার মরদেহের সৎকার করা। ধসে পড়া একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে এবং তা একটি ব্যাগে রাখা হয়েছে। বিশৃঙ্খলার মধ্যে মরদেহটি হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তাঁর পরিবার সেটি ফরেনসিক কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করতে রাজি হয়নি।
ভিক্টর বলেন, ‘প্রয়োজনে আমাকে চীন বা যেখানেই যেতে হোক, আমি যাব। কিন্তু আমি ওকে একা রেখে কোথাও যাব না। আমি ওর সঙ্গেই থাকব।’
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজে ৭ জাহাজে মাইন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি ইরানের। ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে সাতটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করার দাবি করেছে ইরান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এই জলপথে জাহাজ চলাচলে সহায়তা অব্যাহত রাখলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার রাতভর হামলার শিকার হওয়া সাতটি জাহাজের মধ্যে চারটি থেকে তেল স্থানান্তরের কাজ চলছিল। হামলার পর জাহাজগুলোতে আগুন ধরে যায়। অন্য তিনটি জাহাজ মাইনে আঘাত হানার পর চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে বলে দাবি করেছে ইরান। তবে এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। হামলায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজগুলোর কোন দেশের পতাকা ছিল, সে বিষয়েও বিস্তারিত জানানো হয়নি।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে হুঁশিয়ারি দিয়েছে আইআরজিসি। তাদের বক্তব্য, ওয়াশিংটন যদি প্রণালির অন্যান্য অংশ দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচলে সহায়তা করে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোও ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে সংঘাত এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোতেও ছড়িয়ে পড়বে।’ এটিকে তারা গুরুতর সতর্কবার্তা হিসেবে উল্লেখ করেছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হতো। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই জলপথে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
কিম জং উন। ছবি: সংগৃহীত
সীমান্তের নতুন সেতু অতিক্রম করে উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন চীনের দানদং শহরে অত্যন্ত গোপনে এক ঝটিকা সফর সম্পন্ন করেছেন। দীর্ঘ ১২ বছর আগে নির্মিত ‘নিউ ইয়ালু রিভার ব্রিজ’ আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় এই প্রতীকী সফর অনুষ্ঠিত হলো। শনিবারের (২৪ অক্টোবর) এই একদিনের ঝটিকা সফর শেষে তিনি ইতোমধ্যেই স্বদেশে ফিরে গেছেন।
সফরকালে কিম জং উনের সঙ্গী ছিলেন চীনের চতুর্থ শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা ওয়াং হুনিং। তিনি চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের পক্ষ থেকে উত্তর কোরীয় নেতার কাছে আন্তরিক শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন। দুই নেতা একসঙ্গে স্থানীয় একটি অটোমোবাইল কারখানা পরিদর্শন করেন এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। এসময় কিম জানান, চীনের সঙ্গে ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব রক্ষা এবং ব্যবহারিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে প্রস্তুত রয়েছে পিয়ংইয়ং।
বিশেষ এই সফরটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যা ১৯৫০-১৯৫৩ সালের কোরিয় যুদ্ধে চীনের অংশগ্রহণের বর্ষপূর্তির ঠিক আগের দিন। সেই স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দানদং-এর কোরিয় যুদ্ধ স্মৃতিসৌধে যান কিম ও ওয়াং। সেখানে উত্তর কোরিয়ার পক্ষে যুদ্ধ করে প্রাণ উৎসর্গকারী চীনা সৈন্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন কিম জং উন। সফর শেষে নতুন সেতুর গোড়ায় এসে কিমকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানান ওয়াং হুনিং।
বিশ্লেষকদের মতে, ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নতুন চার লেনের সেতু চালুর মাধ্যমে চীন ও উত্তর কোরিয়ার বাণিজ্যের বড় বাধা দূর হলো। তবে কেবল অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বেইজিং ও মস্কোর সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ থেকে নিজের অবস্থান শক্ত করার কৌশল হিসেবেই কিম জং উনের এই হঠাৎ ও রহস্যময় চীন সফরকে দেখছেন আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র:আল-জাজিরা
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে আবারও বড় ধরনের হামলা বা কড়া অবরোধের চিন্তাভাবনা করছেন। তবে এতে একটুও দমে না গিয়ে ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, পারস্য উপসাগরে তারা কোনো মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে ঘেঁষতে দেবে না।
ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আলি আবদুল্লাহি কড়া ভাষায় ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, পারস্য উপসাগরে আবার মার্কিন সৈন্য পাঠানোর স্বপ্ন ট্রাম্পকে কবরে নিয়ে যেতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে তারা নাকি ইরানের সামরিক শক্তি ধ্বংস করেছে, অথচ নিজেদের যুদ্ধজাহাজগুলো ইরানের সীমানার কাছে পাঠাতে তারা ভয় পাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যেকোনো হামলার উপযুক্ত জবাব দিতে তেহরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
চীনে কিম জং উনের ২৪ ঘন্টার ‘রহস্যজনক’ সফর
এই সংঘাতের আতঙ্কে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু-হু করে বেড়ে প্রতি ব্যারেলে ১১৭ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ ‘হরমুজ প্রণালি’-তে একের পর এক তেলবাহী জাহাজে হামলা চলছে। পাশাপাশি ইয়েমেনের হুথি যোদ্ধাদের সঙ্গে সৌদি আরবের লড়াইও নতুন করে বেড়ে চলেছে।
সংঘাত থামাতে ইস্তাম্বুলে তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইউরোপীয় দেশগুলো বৈঠক করলেও সেখানে যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান উপস্থিত ছিল না। তুরস্ক সতর্ক করেছে, ইরানে নতুন হামলা পুরো অঞ্চলে আগুন জ্বালিয়ে দেবে। তবে ইরান পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, মার্কিন হামলা ও অত্যাচার না থামলে তারা কোনো আলোচনায় বসবে না এবং হরমুজ প্রণালিও মুক্ত করবে না।
সূত্র: আল-জাজিরা
মেগান মার্কেল ও তার বাবা থমাস মার্কেল। ছবি: সংগৃহীত
ব্রিটিশ রাজপরিবারের বধূ ও প্রিন্স হ্যারির স্ত্রী মেগান মার্কেলের বাবা থমাস মার্কেলের বিরুদ্ধে শিশুদের যৌন নিপীড়নের আপত্তিকর ছবি জমানোর এক মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর চরম ক্ষোভ ও গভীর মানসিক কষ্ট প্রকাশ করেছেন ডাচ অব সাসেক্স মেগান। এক বিবৃতিতে তিনি জানান, এমন বিভৎস খবর শুনে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত ও বিপর্যস্ত। ঘটনার শিকার হওয়া নিরীহ শিশুদের নিরাপত্তার কথা ভেবে তিনি গভীরভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
যুক্তরাজ্যের ‘দ্য সান’ পত্রিকার একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়, মেগানের সৎ ভাই থমাস মার্কেল জুনিয়র ফিলিপাইনে তাদের বাবার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে এই আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও উদ্ধার করেন। তার দাবি, বাবার ড্রয়ার ও কম্পিউটারের হার্ডড্রাইভে শত শত শিশু নির্যাতনের ছবি ছিল। এরপরই তিনি ফিলিপাইন পুলিশ, যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই এবং শিশু সুরক্ষা সংস্থায় গিয়ে সরাসরি অভিযোগ করেন। ফিলিপাইন প্রশাসন ও যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই বর্তমানে যৌথভাবে এই ঘটনার তদন্ত করছে। তবে মেগানের বাবা থমাস মার্কেল সিনিয়র তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
বর্তমানে ফ্লোরিডায় চিকিৎসাধীন ৮২ বছর বয়সি থমাস জানান, তার ছেলে সম্পূর্ণ মিথ্যা গল্প ফেঁদেছে। মেগানের বোন সামান্থা মার্কলও বাবার পক্ষে কথা বলেছেন। তিনি দাবি করেন, এই কম্পিউটারগুলো দুই বছর ধরে অন্য মানুষদের হাতে ছিল এবং তার ভাই বানিয়ে বানিয়ে মিথ্যা অভিযোগ করছেন। এই ঘটনার পর মেগান মার্কেল তার বাবার সঙ্গে দীর্ঘদিনের দূরত্বের আসল কারণ স্পষ্ট করেছেন। তিনি জানান, আজ থেকে আট বছর আগে অর্থাৎ ২০১৮ সালেই পুলিশের পক্ষ থেকে তার বাবার বিরুদ্ধে কিছু আপত্তিকর অভিযোগের বিষয়ে তাকে জানানো হয়েছিল।
মেগান বলেন, এতদিন সংবাদমাধ্যমে নানা কথা ছড়ানো হলেও, মূলত সন্তানদের সুরক্ষার কথা ভেবেই তিনি বাবাকে নিজের পরিবার থেকে দূরে রেখেছিলেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এবার অন্তত মানুষ বুঝতে পারবে যে কেন তিনি এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং তিনি আশা করেন ভুক্তভোগী শিশুরা যেন দ্রুত ন্যায়বিচার পায়।
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের জন্য সামনে এক বড় ধরণের ‘চমক’ অপেক্ষা করছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি সেনাদের ওপর হামলার ঘটনার পর সেখানে বড় ধরণের সামরিক অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি তিনি এই মন্তব্য করেন।
ইসরাইলের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু স্পষ্ট জানান, ফিলিস্তিনকে কোনোভাবেই স্বাধীন রাষ্ট্র হতে না দেওয়া তাদের নির্বাচনের মূল লক্ষ্য। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের সোজা উত্তর না দিয়ে তিনি বলেন, হঠাৎ এবং আচমকা পদক্ষেপ নেওয়াই তার বেশি পছন্দ। নেতানিয়াহু আরও জানান, ফিলিস্তিন থেকে আসা যেকোনো সংকট মোকাবিলায় কিছু গোপন কৌশল ব্যবহার করা হবে, যা এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না। তবে ফিলিস্তিনি প্রশাসনের জন্য খুব শীঘ্রই এক বড় ধাক্কা আসতে চলেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের দাবি তুলে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন ছাড়াই তারা আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের আওতায় আরও কয়েকটি আরব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বের চুক্তি বাড়াবেন। অন্তত দুটিরও বেশি দেশের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, সেই দেশগুলো ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের কোনো শর্ত দেবে না, কারণ তারা ভালো করেই জানে যে ইসরাইল তা কখনোই মেনে নেবে না।
সূত্র: আল-জাজিরা