যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং
বিশ্বের বহু দেশে এখন চীনকে বেশি ইতিবাচকভাবে দেখা হয় বলে পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক গবেষণায় উঠে এসেছে।
বিবিসি লিখেছে, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অরাজনৈতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির এবারই প্রথম এমন ফল পেয়েছে।
জরিপের ফল বলছে, অনেক দেশেই চীনের প্রতি ইতিবাচক বা ভালো ধারণা পোষণের হার রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে; অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি মানুষের ধারণা আগের চেয়ে আরও খারাপ হয়েছে। সামগ্রিকভাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের প্রতি মানুষের আস্থা কমেছে। তবে দুজনের মধ্যে তুলনা করলে, ট্রাম্পের চেয়ে শি জিনপিংয়ের ওপর মানুষের আস্থা কিছুটা বেশি।
মানুষ মনে করে, ব্যক্তিগত স্বাধীনতার প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র এখনো চীনের চাইতে বেশি সম্মান দেখায়; আবার অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানোর ক্ষেত্রেও চীনের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্র এগিয়ে আছে। পিউ গত ফেব্রুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত ৩৬টি দেশে ৪২ হাজার মানুষের ওপর এ জরিপ পরিচালনা করে।
জরিপে অংশগ্রহণকারীদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, এই দুই পরাশক্তি দেশের প্রতি তাদের মনোভাব কেমন? খুব ইতিবাচক, কিছুটা ইতিবাচক, কিছুটা নেতিবাচক, নাকি খুব নেতিবাচক?
গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি দেখতে পেয়েছে, যে ৩৬টি দেশে জরিপ করা হয়েছে, তার মধ্যে ২৫টি দেশেই যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে চীনের প্রতি বেশি মানুষের ইতিবাচক বা ভালো ধারণা রয়েছে।
এ গবেষণার অন্যতম গবেষক জোনাথন শুলম্যান বলেন, পরাশক্তিদের প্রতি মানুষের মনোভাব ২০০২ সাল থেকে পর্যবেক্ষণ করে আসছে পিউ। তবে এবারই প্রথম এত বেশি দেশে চীনের পক্ষে এমন ফল দেখা গেল।
বিবিসি লিখেছে, পিউ রিসার্চ সেন্টার এর আগেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি মানুষের ইতিবাচক ধারণা প্রশ্নে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখেছিল। যেমন ২০০৮ সালে জর্জ বুশের প্রশাসনের শেষ সময়ে এবং ২০১৭ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের শুরুতে।
তবে সেই সময়েও চীন নিয়ে ইতিবাচক ধারণা পোষণকারীর হার যুক্তরাষ্ট্রের সমান কিংবা কিছুটা নিচেই ছিল বলে জানিয়েছেন গবেষক শুলম্যান।
চীনকে বেশি পছন্দ করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন দেখা গেছে স্পেন, ইন্দোনেশিয়া, ইতালি, গ্রিস ও কানাডায়।
মাত্র ছয়টি দেশ এখনো যুক্তরাষ্ট্রকে বেশি পছন্দ করে, যার বেশিরভাগই যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র— পোল্যান্ড, ফিলিপিন্স, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, জাপান ও ইসরায়েল।
গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি আলাদাভাবে দেখতে পেয়েছে, গড় হিসাবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ২০টি দেশে—যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব ধারাবাহিকভাবে কমেছে; অন্যদিকে চীনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব দিন দিন বাড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের উপাত্তের ওপর ভিত্তি করে গবেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জরিপ করা এক-তৃতীয়াংশের বেশি দেশে চীনের প্রতি ইতিবাচক ধারণা পোষণকারীর সংখ্যা বেড়েছে।
বিবিসি লিখেছে, এ বছর জরিপ করা বেশ কিছু দেশে চীনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে; যার মধ্যে ইতালি, স্পেন, কলম্বিয়া, মেক্সিকো, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া ও তুরস্ক অন্যতম।
গবেষকরা সার্বিকভাবে দেখতে পেয়েছেন, চীনের প্রতি যেখানে মধ্য আয়ের দেশগুলোর মানুষের ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে, সেখানে ধনী দেশগুলোর মানুষের মধ্যে রয়েছে নেতিবাচক মনোভাব।
এর মধ্যে ব্যতিক্রম দেখা গেছে সিঙ্গাপুরে, জরিপ করা দেশগুলোর মধ্যে সেখানে মাথপিছু জিডিপি সর্বোচ্চ হলেও দেশটির মানুষের মধ্যে চীনের প্রতি উচ্চমাত্রার ইতিবাচক মনোভাব দেখা গেছে।
বিবিসি লিখেছে, জরিপে চীনের প্রতি সবচেয়ে বেশি ইতিবাচক এবং সবচেয়ে বেশি নেতিবাচক—উভয় ধরনের মতামতই এসেছে এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে। যেমন পাকিস্তানের প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ চীনকে পছন্দ করে, আর জাপানিদের ক্ষেত্রে এই হার মোটে ১১ শতাংশ।
শি ও ট্রাম্প
জরিপে অংশ নেওয়া মানুষদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, বৈশ্বিক রাজনীতির ক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রশ্নে শি জিনপিং ও ডনাল্ড ট্রাম্পের ওপর তাদের আস্থা আছে কি না। সার্বিকভাবে দুই নেতার প্রতিই মানুষের আস্থার হার বেশ কম দেখা গেছে; বেশিরভাগ দেশেই এ হার ৫০ শতাংশের নিচে। তবে জরিপ করা অনেক দেশেই ট্রাম্পের চেয়ে শি জিনপিংয়ের প্রতি মানুষের আস্থা বেশি দেখা গেছে।
জরিপে শি জিনপিংয়ের সবচেয়ে বেশি এবং সবচেয়ে কম রেটিং এসেছে পাকিস্তান ও জাপান থেকে; পাকিস্তানে এ হার যেখানে ৮৩ শতাংশ, সেখানে জাপানে মাত্র ৭ শতাংশ মানুষ শির ওপর আস্থা রাখেন। অন্যদিকে ট্রাম্প সর্বোচ্চ রেটিং পেয়েছেন ফিলিপিন্সে, ৬৮ শতাংশ; সবচেয়ে কম রেটিং পেয়েছেন পূর্ব জেরুজালেমে, মাত্র ৪ শতাংশ।
গবেষক শুলম্যান বলেন, তাদের জরিপে দেখা গেছে, সাধারণত অন্য নেতাদের মত শি জিনপিংয়ের ব্যাপারে মানুষের প্রতিক্রিয়া অতটা তীব্র (ইতিবাচক বা নেতিবাচক) নয়।
অন্যদিকে ট্রাম্পের ক্ষেত্রে মানুষ মতামত দিতে বেশ আগ্রহী ছিল এবং তাদের মতামতগুলো ছিল চরম পর্যায়ের অর্থাৎ, হয় তাকে খুব বেশি পছন্দ করেন অথবা তীব্র ঘৃণা করেন।
জরিপে উঠে এসেছে, চীনের তুলনায় মার্কিন সরকার মানুষের ব্যক্তিগত স্বাধীনতাকে বেশি শ্রদ্ধা করে বলেএখনো বিশ্বাস করে বেশিরভাগ মানুষ। তবে আগের তুলনায় ব্যবধান কমে এসেছে।
পরাশক্তিগুলোর পররাষ্ট্র নীতি নিয়ে মনোভাব জানতে পিউ মধ্য আয়ের কয়েকটি দেশে অতিরিক্ত প্রশ্ন রেখেছিল।
গড়ে ৭৫ শতাংশ মানুষ মনে করে, যুক্তরাষ্ট্র অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ‘প্রচণ্ড’ বা ‘বেশ ভালো রকমের’ হস্তক্ষেপ করে; যেখানে চীনের ক্ষেত্রে এই হার ৪৫ শতাংশ।
‘যুক্তরাষ্ট্রের খামখেয়ালি নীতিতে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ’
বিবিসি লিখেছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অন্য গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোও একই ধরনের গবেষণা করেছে। জরিপকারী প্রতিষ্ঠান গ্যালপ দেখেছে, গত বছর বৈশ্বিক জনপ্রিয়তার রেটিংয়ে চীন যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে গেছে এবং ২০ বছরের মধ্যে চীনের পক্ষে সবচেয়ে বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা প্রতিষ্ঠান এশিয়া সোসাইটির বার্ষিক জরিপ বলছে, কোভিডের সময়ে চীনের ভাবমূর্তি যেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, মহামারী শেষে তা খুব সামান্যই পুনরুদ্ধার হয়েছে।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘কার্নেগি চায়না’র অনাবাসিক স্কলার চং জা ইয়ান বলেন, পিউ রিসার্চের এই সাম্প্রতিক ফল ‘মোটেও আশ্চর্যজনক নয়’।
তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের নীতি বা সিদ্ধান্তের যে হুটহাট পরিবর্তন, যার মধ্যে সামরিক শক্তি প্রয়োগ এবং এর কারণে হওয়া অর্থনৈতিক ক্ষতি বিশ্বের বহু দেশের মানুষকে চরম দুশ্চিন্তা ও আশঙ্কার মধ্যে ফেলে দিয়েছে।”
বিবিসি লিখেছে, পিউ রিসার্চের এ জরিপটি এমন এক সময়ে শুরু হয়েছিল, যার কিছুদিন আগেই ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত করার ব্যাপারে কড়া বক্তব্য দিয়েছিলেন এবং যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করেছিল। জরিপ চলাকালেই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র।
ড. চং বলেন, “চীন সামগ্রিকভাবে কতটা জনপ্রিয় তা নিয়ে প্রশ্ন থাকতেই পারে, তবে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে চীনকে অনেক বেশি স্থিতিশীল মনে হচ্ছে। তাছাড়া বেইজিং বিশ্বজুড়ে, বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে নিজের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার জন্য কাজ করছে।”
চীনের প্রতি উচ্চ ইতিবাচক মনোভাব থাকার পরও শি জিনপিংয়ের প্রতি মানুষের আস্থা কেন কম—এর ব্যাখ্যায় ড. চং বলেন, চীনকে হয়ত কিছুটা স্থিতিশীল মনে হওয়ায় মানুষ স্বস্তি পাচ্ছে, কিন্তু এই সত্য তো আর মুছে ফেলা যাবে না যে শি জিনপিং একজন বড় স্বৈরশাসক।
‘কার্নেগি চায়না’র এ গবেষক বলেন, শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বে চীন এখন আরও বেশি আক্রমণাত্মক ও আগ্রাসী। এর অন্যতম নমুনা হল—বাকি বিশ্বকেও চীনের বিশ্বভাবনার সঙ্গে একমত হতে বাধ্য করা। তাছাড়া সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর প্রতি তাদের আচরণ নিয়ে এখনো বড় প্রশ্ন রয়ে গেছে।
ড. চং বলেন, “আমার মনে হয়, চীনের সবধরনের জোরজুলুম এবং অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিকর নীতিগুলোর জন্য ব্যক্তিগতভাবে শি জিনপিংকে দায়ী করে মানুষ; আর চীনের যত ইতিবাচক দিক রয়েছে, যেমন তাদের প্রযুক্তিগত উন্নতি—সেগুলোকে সামগ্রিকভাবে দেশটির সাফল্য হিসেবে দেখে।”
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজে ৭ জাহাজে মাইন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি ইরানের। ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে সাতটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করার দাবি করেছে ইরান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এই জলপথে জাহাজ চলাচলে সহায়তা অব্যাহত রাখলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার রাতভর হামলার শিকার হওয়া সাতটি জাহাজের মধ্যে চারটি থেকে তেল স্থানান্তরের কাজ চলছিল। হামলার পর জাহাজগুলোতে আগুন ধরে যায়। অন্য তিনটি জাহাজ মাইনে আঘাত হানার পর চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে বলে দাবি করেছে ইরান। তবে এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। হামলায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজগুলোর কোন দেশের পতাকা ছিল, সে বিষয়েও বিস্তারিত জানানো হয়নি।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে হুঁশিয়ারি দিয়েছে আইআরজিসি। তাদের বক্তব্য, ওয়াশিংটন যদি প্রণালির অন্যান্য অংশ দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচলে সহায়তা করে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোও ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে সংঘাত এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোতেও ছড়িয়ে পড়বে।’ এটিকে তারা গুরুতর সতর্কবার্তা হিসেবে উল্লেখ করেছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হতো। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই জলপথে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
কিম জং উন। ছবি: সংগৃহীত
সীমান্তের নতুন সেতু অতিক্রম করে উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন চীনের দানদং শহরে অত্যন্ত গোপনে এক ঝটিকা সফর সম্পন্ন করেছেন। দীর্ঘ ১২ বছর আগে নির্মিত ‘নিউ ইয়ালু রিভার ব্রিজ’ আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় এই প্রতীকী সফর অনুষ্ঠিত হলো। শনিবারের (২৪ অক্টোবর) এই একদিনের ঝটিকা সফর শেষে তিনি ইতোমধ্যেই স্বদেশে ফিরে গেছেন।
সফরকালে কিম জং উনের সঙ্গী ছিলেন চীনের চতুর্থ শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা ওয়াং হুনিং। তিনি চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের পক্ষ থেকে উত্তর কোরীয় নেতার কাছে আন্তরিক শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন। দুই নেতা একসঙ্গে স্থানীয় একটি অটোমোবাইল কারখানা পরিদর্শন করেন এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। এসময় কিম জানান, চীনের সঙ্গে ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব রক্ষা এবং ব্যবহারিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে প্রস্তুত রয়েছে পিয়ংইয়ং।
বিশেষ এই সফরটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যা ১৯৫০-১৯৫৩ সালের কোরিয় যুদ্ধে চীনের অংশগ্রহণের বর্ষপূর্তির ঠিক আগের দিন। সেই স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দানদং-এর কোরিয় যুদ্ধ স্মৃতিসৌধে যান কিম ও ওয়াং। সেখানে উত্তর কোরিয়ার পক্ষে যুদ্ধ করে প্রাণ উৎসর্গকারী চীনা সৈন্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন কিম জং উন। সফর শেষে নতুন সেতুর গোড়ায় এসে কিমকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানান ওয়াং হুনিং।
বিশ্লেষকদের মতে, ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নতুন চার লেনের সেতু চালুর মাধ্যমে চীন ও উত্তর কোরিয়ার বাণিজ্যের বড় বাধা দূর হলো। তবে কেবল অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বেইজিং ও মস্কোর সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ থেকে নিজের অবস্থান শক্ত করার কৌশল হিসেবেই কিম জং উনের এই হঠাৎ ও রহস্যময় চীন সফরকে দেখছেন আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র:আল-জাজিরা
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে আবারও বড় ধরনের হামলা বা কড়া অবরোধের চিন্তাভাবনা করছেন। তবে এতে একটুও দমে না গিয়ে ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, পারস্য উপসাগরে তারা কোনো মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে ঘেঁষতে দেবে না।
ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আলি আবদুল্লাহি কড়া ভাষায় ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, পারস্য উপসাগরে আবার মার্কিন সৈন্য পাঠানোর স্বপ্ন ট্রাম্পকে কবরে নিয়ে যেতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে তারা নাকি ইরানের সামরিক শক্তি ধ্বংস করেছে, অথচ নিজেদের যুদ্ধজাহাজগুলো ইরানের সীমানার কাছে পাঠাতে তারা ভয় পাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যেকোনো হামলার উপযুক্ত জবাব দিতে তেহরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
চীনে কিম জং উনের ২৪ ঘন্টার ‘রহস্যজনক’ সফর
এই সংঘাতের আতঙ্কে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু-হু করে বেড়ে প্রতি ব্যারেলে ১১৭ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ ‘হরমুজ প্রণালি’-তে একের পর এক তেলবাহী জাহাজে হামলা চলছে। পাশাপাশি ইয়েমেনের হুথি যোদ্ধাদের সঙ্গে সৌদি আরবের লড়াইও নতুন করে বেড়ে চলেছে।
সংঘাত থামাতে ইস্তাম্বুলে তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইউরোপীয় দেশগুলো বৈঠক করলেও সেখানে যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান উপস্থিত ছিল না। তুরস্ক সতর্ক করেছে, ইরানে নতুন হামলা পুরো অঞ্চলে আগুন জ্বালিয়ে দেবে। তবে ইরান পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, মার্কিন হামলা ও অত্যাচার না থামলে তারা কোনো আলোচনায় বসবে না এবং হরমুজ প্রণালিও মুক্ত করবে না।
সূত্র: আল-জাজিরা
মেগান মার্কেল ও তার বাবা থমাস মার্কেল। ছবি: সংগৃহীত
ব্রিটিশ রাজপরিবারের বধূ ও প্রিন্স হ্যারির স্ত্রী মেগান মার্কেলের বাবা থমাস মার্কেলের বিরুদ্ধে শিশুদের যৌন নিপীড়নের আপত্তিকর ছবি জমানোর এক মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর চরম ক্ষোভ ও গভীর মানসিক কষ্ট প্রকাশ করেছেন ডাচ অব সাসেক্স মেগান। এক বিবৃতিতে তিনি জানান, এমন বিভৎস খবর শুনে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত ও বিপর্যস্ত। ঘটনার শিকার হওয়া নিরীহ শিশুদের নিরাপত্তার কথা ভেবে তিনি গভীরভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
যুক্তরাজ্যের ‘দ্য সান’ পত্রিকার একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়, মেগানের সৎ ভাই থমাস মার্কেল জুনিয়র ফিলিপাইনে তাদের বাবার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে এই আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও উদ্ধার করেন। তার দাবি, বাবার ড্রয়ার ও কম্পিউটারের হার্ডড্রাইভে শত শত শিশু নির্যাতনের ছবি ছিল। এরপরই তিনি ফিলিপাইন পুলিশ, যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই এবং শিশু সুরক্ষা সংস্থায় গিয়ে সরাসরি অভিযোগ করেন। ফিলিপাইন প্রশাসন ও যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই বর্তমানে যৌথভাবে এই ঘটনার তদন্ত করছে। তবে মেগানের বাবা থমাস মার্কেল সিনিয়র তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
বর্তমানে ফ্লোরিডায় চিকিৎসাধীন ৮২ বছর বয়সি থমাস জানান, তার ছেলে সম্পূর্ণ মিথ্যা গল্প ফেঁদেছে। মেগানের বোন সামান্থা মার্কলও বাবার পক্ষে কথা বলেছেন। তিনি দাবি করেন, এই কম্পিউটারগুলো দুই বছর ধরে অন্য মানুষদের হাতে ছিল এবং তার ভাই বানিয়ে বানিয়ে মিথ্যা অভিযোগ করছেন। এই ঘটনার পর মেগান মার্কেল তার বাবার সঙ্গে দীর্ঘদিনের দূরত্বের আসল কারণ স্পষ্ট করেছেন। তিনি জানান, আজ থেকে আট বছর আগে অর্থাৎ ২০১৮ সালেই পুলিশের পক্ষ থেকে তার বাবার বিরুদ্ধে কিছু আপত্তিকর অভিযোগের বিষয়ে তাকে জানানো হয়েছিল।
মেগান বলেন, এতদিন সংবাদমাধ্যমে নানা কথা ছড়ানো হলেও, মূলত সন্তানদের সুরক্ষার কথা ভেবেই তিনি বাবাকে নিজের পরিবার থেকে দূরে রেখেছিলেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এবার অন্তত মানুষ বুঝতে পারবে যে কেন তিনি এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং তিনি আশা করেন ভুক্তভোগী শিশুরা যেন দ্রুত ন্যায়বিচার পায়।
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের জন্য সামনে এক বড় ধরণের ‘চমক’ অপেক্ষা করছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি সেনাদের ওপর হামলার ঘটনার পর সেখানে বড় ধরণের সামরিক অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি তিনি এই মন্তব্য করেন।
ইসরাইলের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু স্পষ্ট জানান, ফিলিস্তিনকে কোনোভাবেই স্বাধীন রাষ্ট্র হতে না দেওয়া তাদের নির্বাচনের মূল লক্ষ্য। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের সোজা উত্তর না দিয়ে তিনি বলেন, হঠাৎ এবং আচমকা পদক্ষেপ নেওয়াই তার বেশি পছন্দ। নেতানিয়াহু আরও জানান, ফিলিস্তিন থেকে আসা যেকোনো সংকট মোকাবিলায় কিছু গোপন কৌশল ব্যবহার করা হবে, যা এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না। তবে ফিলিস্তিনি প্রশাসনের জন্য খুব শীঘ্রই এক বড় ধাক্কা আসতে চলেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের দাবি তুলে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন ছাড়াই তারা আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের আওতায় আরও কয়েকটি আরব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বের চুক্তি বাড়াবেন। অন্তত দুটিরও বেশি দেশের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, সেই দেশগুলো ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের কোনো শর্ত দেবে না, কারণ তারা ভালো করেই জানে যে ইসরাইল তা কখনোই মেনে নেবে না।
সূত্র: আল-জাজিরা