ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:০২ পিএম

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের দিল্লির পথে রওনা হওয়ার মধ্যে গুয়াংজু-নয়াদিল্লি রুটে পুনরায় ফ্লাইট চালুর ঘোষণা দিয়েছে ‘চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইন্স’। 


কোম্পানিটির বরাতে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমস লিখেছে, দীর্ঘ ছয় বছর বাদে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর থেকে তারা নিয়মিত ফ্লাইট চালু করবে।


ফ্লাইট পুনরায় চালুর পর দক্ষিণ এশিয়ায় তাদের আটটি যাওয়া-আসার রুটে প্রতি সপ্তাহে ১০০টির বেশি ফ্লাইট পরিচালনা করবে বলে জানিয়েছে এয়ারলাইন্সটি।


এনডিটিভি লিখেছে, কোভিড মহামারী এবং সীমান্ত এলাকা ডোকলাম ও গালওয়ান উপত্যকায় সংঘাতের পর ভারত ও চীনের মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।


চলতি বছর দুই দেশের সম্পর্কের বরফ গলার মধ্যে বিমান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। প্রায় ছয় বছর পর গত ফেব্রুয়ারিতে চীন ও ভারতের মধ্যে পুনরায় ফ্লাইট চালু করে ভারতীয় উড়োজাহাজ সংস্থা ‘এয়ার ইন্ডিয়া’। 


এরপর এপ্রিলে বেইজিং-দিল্লি রুটে সরাসরি ফ্লাইট শুরু করে ‘এয়ার চায়না’। এর আগে কুনমিং থেকে কলকাতার মধ্যে ফের ফ্লাইট চালু করে ‘চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইন্স’। অন্যদিকে ভারতের উড়োজাহাজ সংস্থা ‘ইন্ডিগো’ গত ৩০ মার্চ কলকাতা ও সাংহাইয়ের মধ্যে তাদের প্রথম সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করে, যা দুই দেশের আকাশ যোগাযোগ জোরদারে বড় ভূমিকা রাখছে।


এনডিটিভি লিখেছে, চীনে ইন্ডিগোর কার্যক্রম সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এর আগে কোম্পানিটি কলকাতা থেকে গুয়াংজু রুটে পুনরায় ফ্লাইট চালু করে, পরে দিল্লি থেকেও কার্যক্রম শুরু করে।


ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আমন্ত্রণে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নয়াদিল্লির উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। শনিবার বিকালে তাদের বৈঠকে বসার কথা রয়েছে।



সর্বশেষ সব খবর

স্টারলিংক

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:১৭ পিএম

ইলন মাস্কের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংক ব্যবহারকারীদের ওপর বিশ্বজুড়ে নজরদারি চালাতে বড় আকারের ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের ফাঁদ পেতেছিল ইসরায়েলি এক বিজ্ঞাপন প্রযুক্তি কোম্পানি। জাপানের এক ডিজিটাল ডিফেন্স বা সাইবার নিরাপত্তা কোম্পানির অনুসন্ধানে এমন তথ্য উঠে এসেছে। বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত ছয়টি ভিন্ন সূত্রের বরাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে রয়টার্স।


যুক্তরাষ্ট্র ও টোকিওভিত্তিক সাইবার নিরাপত্তা কোম্পানি ‘ট্রেন্ড মাইক্রো’র অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ‘ট্রেন্ডএআই’-এর গবেষকরা বলছেন, স্পেসএক্সের স্টারলিংক ব্যবহারকারীদের ডিজিটাল বিজ্ঞাপন দেখানোর ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে কাজ করছিল ইসরায়েলি কোম্পানি ‘ডিসকভার-টেক’।


এসব বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের ভৌগোলিক অবস্থান শনাক্তকরণসহ অন্যান্য উপায়ে নজরদারি চালানো হচ্ছিল।


নিজের নেটওয়ার্ক ডেটা বিশ্লেষণ করে ‘ট্রেন্ডএআই’ বলেছে, স্টারলিংক ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করে বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞাপন নিলামে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা বড় কোম্পানিগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে ডিসকভার-টেক।


বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশে স্টারলিংক ট্রাফিকের ওপর শীর্ষ দরদাতা ছিল কোম্পানিটি। যার মধ্যে এমন বেশ কয়েকটি দেশও রয়েছে, যেখানে স্টারলিংক সেবা আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ বা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত।


বিডিং হচ্ছে একটি জটিল ডিজিটাল নিলাম ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে বিজ্ঞাপনদাতারা ব্যবহারকারীর ব্রাউজার ও অ্যাপের ভেতরের বিজ্ঞাপনের জায়গা দখল করে।


এ বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি স্পেসএক্স। বিষয়টি নিয়ে ডিসকভার-টেক ও এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও সাড়া দেননি তারা।


১৫ অক্টোবর স্টারলিংক ব্যবহারকারীদের ওপর এমন নজরদারি নিয়ে এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ট্রেন্ডএআই। তবে প্রতিবেদনে সরাসরি ডিসকভার-টেকের নাম উল্লেখ না করে এর পেছনে দায়ী পক্ষকে ‘একটি বিজ্ঞাপন প্রযুক্তি’ কোম্পানি হিসেবে বর্ণনা করে কোম্পানিটিকে ‘শ্যাডো-আর্থ-৭৯’ ছদ্মনামে চিহ্নিত করা হয়। 


সূত্রগুলো বলেছে, ‘শ্যাডো-আর্থ-৭৯’ ডিসকভার-টেকের জন্য ব্যবহৃত ট্রেন্ডএআই-এর নিজস্ব কোডনেইম।


প্রতিবেদনে ডিসকভার-টেকের নাম প্রকাশ না করার কারণ সম্পর্কে সরাসরি কিছু না বললেও বিবৃতিতে ট্রেন্ডএআই বলেছে, ভুল তথ্যের ঝুঁকি এড়ানো ও হাইপ তৈরি করে এমন নাম ব্যবহার না করার নীতি থেকেই তারা এটা করেছে। যাতে ডিজিটাল নিরাপত্তারক্ষীরা বিভ্রান্ত না হন, ঝুঁকির অগ্রাধিকার ঠিক থাকে ও অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো পদক্ষেপ তৈরি না হয়।


বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের সরকারগুলো যখন স্যাটেলাইট ইন্টারনেট টার্মিনালের প্রসার নিয়ন্ত্রণে লড়াই করছে তখনই স্টারলিংক ব্যবহারকারীদের ট্র্যাকিং বা নজরদারি করার উপায় খুঁজে বের করা এক ধরনের লাভজনক শিল্পে রূপ নিয়েছে।


যেহেতু এসব টার্মিনাল স্থানীয় টেলিকম কোম্পানির পরিবর্তে সরাসরি স্পেসএক্সের স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ডেটা আদান-প্রদান করে ফলে এরা খুব সহজেই স্থানীয় ইন্টারনেট নিষেধাজ্ঞা বা সেন্সরশিপ এড়িয়ে যেতে পারে।


যুদ্ধক্ষেত্রে যোগাযোগ স্থাপন ও সমন্বয়েও বড় ভূমিকা রাখছে এ প্রযুক্তি, বিশেষ করে ইউক্রেইন যুদ্ধের সামনের সারির যোগাযোগ ও ড্রোন হামলার দিকনির্দেশনায় স্টারলিংক গুরুত্বপূর্ণ সংস্থান হয়ে উঠেছে।


এর আগে, মে মাসে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘হারেৎস’ ও ওয়েবসাইট ‘ইন্টেলিজেন্স অনলাইন’ আলাদা প্রতিবেদনে বলেছিল, ইসরায়েলি মালিকানাধীন বেশ কিছু কোম্পানি ক্লায়েন্টদের কাছে স্টারলিংক ব্যবহারকারীদের শনাক্ত ও ট্র্যাক করার বিভিন্ন কৌশল বিক্রি করছে।


হারেৎস প্রতিবেদনে লিখেছিল, বিজ্ঞাপন ডেটার সুযোগ নেওয়াই ছিল ট্র্যাকিং প্রক্রিয়ার অন্যতম প্রধান ভিত্তি।


ডিসকভার-টেকের বিরুদ্ধে ব্যাপক নজরদারির অভিযোগ


যেদিন ট্রেন্ডএআই ‘শ্যাডো-আর্থ-৭৯’ সংক্রান্ত তাদের প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে ঠিক একই দিন কানাডীয় সাইবার ওয়াচডগ ‘সিটিজেন ল্যাব’ ও নিউ ইয়র্কের বিজ্ঞাপন প্রযুক্তি বিষয়ক কোম্পানি ‘কনফিয়েন্ট’ সরাসরি ডিসকভার-টেকের নাম উন্মোচন করেছে।


উভয় গোষ্ঠীই বলেছে, ইসরায়েলি কোম্পানিটি বিজ্ঞাপন নিলামের সুযোগটির অপব্যবহার করেছে। এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য পুনরায় নিলামে অংশ নেওয়া কোম্পানির কাছে গোপন সূত্রে পৌঁছে যেত।


সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দরদাতারা এ ফাঁস হওয়া তথ্য সংগ্রহ ও একত্র করে অন্যান্য তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে ব্যবহারকারীর পরিচয় প্রকাশ করতে পারে। ফলে ওয়েবজুড়ে তাদের গতিবিধির ওপর নজর রাখা ও কিছু কিছু ক্ষেত্রে নজরদারি সফটওয়্যারের মাধ্যমে তাদের সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা সম্ভব।


সিটিজেন ল্যাব ও কনফিয়েন্ট বলেছে, গণমাধ্যম, সরকার ও প্রযুক্তি কোম্পানির মতো বেশ কিছু সংবেদনশীল নেটওয়ার্কের ভেতরেও এসব বিজ্ঞাপন দেখানো হয়েছিল।


এ তদন্তের মুখে গুগলের পাশাপাশি কমকাস্টসহ অন্যান্য প্রধান প্রযুক্তি কোম্পানি তাদের বিভিন্ন বিজ্ঞাপন প্ল্যাটফর্ম থেকে ডিসকভার-টেককে সম্পূর্ণ সরিয়ে দিয়েছে বলে জানিয়েছে।


বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত সূত্রের বরাতে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত একটি প্রধান প্রযুক্তি কোম্পানি ও একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা সম্প্রতি নিজস্ব তদন্ত শুরু করেছে যে ডিসকভার-টেকের তৈরি এ বিজ্ঞাপনী ফাঁদে তাদের কর্মীরাও পড়েছিলেন কি না।


ইয়েমেন ও দক্ষিণ সুদানে শীর্ষ বিজ্ঞাপনদাতা


ট্রেন্ডএআই-এর প্রতিবেদনে কিছু সন্দেহজনক বিডিং প্যাটার্ন উল্লেখ করে বলা হয়, ‘শ্যাডো-আর্থ-৭৯’ কোনো স্বাভাবিক বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপনী কার্যক্রম পরিচালনা না করে ‘নজরদারি ও ট্র্যাকিং অবকাঠামো’ চালাচ্ছিল।


স্টারলিংক ব্যবহারকারীদের ওপর তাদের এ নজরদারির অতিরিক্ত ঝোঁক ছাড়াও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, সিরিয়া, লিবিয়া, ইয়েমেন ও দক্ষিণ সুদানে সবচেয়ে বেশি বিজ্ঞাপন কিনেছে ‘শ্যাডো-আর্থ-৭৯’।


এ ছাড়া, আফগানিস্তানে তারা ছিল দ্বিতীয় বৃহত্তম বিজ্ঞাপন ক্রেতা। অথচ এসব আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞাগ্রস্ত বা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলোতে পশ্চিমা বৈধ পণ্যের বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপনের চাহিদা বলতে গেলে একেবারেই শূন্য।


প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, হাঙ্গেরি, ইসরায়েল, মিসর, আজারবাইজান ও ভেনিজুয়েলাসহ কয়েকটি দেশে বিস্ময়কর রকম একক প্রাধান্য বিস্তার করে বিপুল পরিমাণ বিড জিতেছে ইসরায়েলি প্রযুক্তি কোম্পানিটি।


বিষয়টির সঙ্গে জড়িত একাধিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ট্রেন্ডএআই-এর গবেষকরা নিশ্চিত ছিলেন, এ বিডিং কার্যক্রমের পেছনে ছিল ডিসকভার-টেক। তারা প্রতিবেদনে কোম্পানিটির নাম প্রকাশ করার বিষয়েও প্রাথমিক আলোচনা করেছিলেন।


তবে আইনি জটিলতা ও ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে ট্রেন্ডএআই-এর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের আপত্তিতে শেষ পর্যন্ত নাম প্রকাশের বিষয়টি বাদ দেওয়া হয়।


সাইবার নিরাপত্তা শিল্পে এ ধরনের ‘সেলফ-সেন্সরশিপ’ সাধারণ বিষয়, বিশেষ করে যখন নীতিনির্ধারকরা আশঙ্কা করেন যে, কোনো বড় নজরদারি চক্রকে এভাবে উন্মোচন করলে তা তাদের ব্যবসার ওপর প্রতিশোধের হুমকি হতে পারে।


এ বছরের শুরুতে বৈশ্বিক এক সাইবার নজরদারি অভিযানের ওপর রিপোর্ট প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রের সাইবার নিরাপত্তা কোম্পানি ‘পালো অল্টো’।


গবেষকরা চীনা হ্যাকারদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে শতভাগ নিশ্চিত থাকার পরও কৌশলগত কারণে প্রতিবেদনেটি থেকে চীনের সরাসরি নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল।


অনুসন্ধানে জানা গেছে, চীনে কোম্পানিটির ব্যবসা ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম সুরক্ষার স্বার্থেই এমন পদক্ষেপ নিয়েছিল পালো অল্টো।


তবে পালো অল্টো পরবর্তীতে এই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে, তাদের প্রতিবেদনে সরাসরি নাম না থাকাটা চীনের কোনো নীতি বা বাণিজ্যিক চাপের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:১৭ পিএম

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও শীর্ষ ব্যবসায়ী গৌতম আদানের বিরুদ্ধে ‘স্বজনতোষী পুঁজিবাদে’র অভিযোগ তোলা একটি তথ্যচিত্র সোমবার (২৬ অক্টোবর) ইন্টারনেট থেকে অবিলম্বে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্ট। আদানি এন্টারপ্রাইজের পক্ষ থেকে দায়ের করা মানহানি মামলায় আদালত এই আদেশ প্রদান করেন।আদানি এন্টারপ্রাইজেস আদালতে দাবি করেছে, ওই প্রামাণ্যচিত্রে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য রয়েছে। এতে কোম্পানির বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। আদালতও বলেছে, এটি কোনো সংবাদ প্রতিবেদন বা প্রাতিষ্ঠানিক তথ্যভিত্তিক কাজ নয়; বরং একধরনের নাট্যরূপায়ণ বা ডিকনস্ট্রাক্টেড বিবরণ।


প্রামাণ্যচিত্রটি পোস্ট করেছেন হটমেইলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা সাবীর ভাটিয়া। ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই মার্কিন উদ্যোক্তার পোস্ট করা ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে লাখ লাখ মানুষ দেখেছেন। আদানি পক্ষ ৫০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়েছে বলে ভাটিয়া নিজেই এক্সে জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, সত্য আমার পক্ষেই আছে। এই প্রামাণ্যচিত্র আদানি এন্টারপ্রাইজকে নাড়া দিতে পেরেছে।


মোদির বিরুদ্ধে বিরোধীরা দীর্ঘদিন ধরে আদানির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের অভিযোগ তুলে আসছেন। তাদের দাবি, আদানি গ্রুপ নানা সরকারি সুবিধা পেয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার ও আদানি গ্রুপ দু’পক্ষই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।আদানি এন্টারপ্রাইজেস আদালতে বলেছে, সরকারি নীতি বা ব্যবসায়িক কেন্দ্রীকরণ নিয়ে গঠনমূলক সমালোচনা বন্ধ করতে তারা চায় না। কিন্তু ভাটিয়া বস্তুনিষ্ঠ তথ্য গোপন করে মনগড়া অভিযোগ তুলেছেন বলে তাদের অভিযোগ।


এখনও পর্যন্ত আদানি এন্টারপ্রাইজেস, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বা সাবীর ভাটিয়ার পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। সামাজিক মাধ্যম কোম্পানিগুলোও এ বিষয়ে এখনও কিছু বলেনি।


সর্বশেষ সব খবর

অভিযোগ সাবেক মিস সুইজারল্যান্ডের

‘আমি তোমার যত্ন নেব’ বলেই ‘ধর্ষণ’ করেন ট্রাম্প


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সাবেক মিস সুইজারল্যান্ড ও মডেল বিয়াট্রিস কিউল

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:০২ পিএম

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তুলেছেন সাবেক মিস সুইজারল্যান্ড ও মডেল বিয়াট্রিস কিউল। ১৯৯৩ সালের নভেম্বরে নিউইয়র্কের প্লাজা হোটেলে ট্রাম্প তার ওপর এই নির্যাতন চালান বলে ডেমোক্র্যাটদের এক তদন্তকারী দলের কাছে তিনি দাবি করেন।


সোমবার (২৬ অক্টোবর) টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।


হোয়াইট হাউস এই অভিযোগ অস্বীকার করে একে ভুয়া খবর বলে আখ্যা দিয়েছে। হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র জানান, ট্রাম্প অ্যাপস্টাইন সংক্রান্ত সমস্ত বিষয় থেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন। ডেমোক্র্যাটদের উন্মোচিত প্রতিবেদনটিকে ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঐতিহাসিক সাফল্যের ওপর ভর করে তৈরি হওয়া রিপাবলিকানদের ঊর্ধ্বমুখী গতি থেকে আমেরিকানদের মনোযোগ সরানোর জন্য উন্মাদ ডেমোক্র্যাটদের একটি মরিয়া চেষ্টা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে হোয়াইট হাউস।


ডেমোক্র্যাটিক কমিটির কর্মচারীদের সঙ্গে কয়েক সপ্তাহের সাক্ষাৎকারে ২৪ বছর বয়সে ট্রাম্পের সঙ্গে নিজের প্রথম সাক্ষাতের কথা জানান কিউল। তিনি জানান, ট্রাম্প তাকে ভিসা ও নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছিলেন, ‘আমি তোমার যত্ন নেব।’ পরবর্তীতে ট্রাম্পের এক প্রতিনিধি তাকে প্লাজা হোটেলের ওপরের তলায় ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করতে নিয়ে যান।


তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘প্রবেশ মাত্রই ট্রাম্প কিউলকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরেন এবং জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন; এই প্রক্রিয়ায় তার পোশাক ছিঁড়ে যায় এবং শরীরের একাধিক স্থানে রক্তপাত ও আঘাতের চিহ্ন তৈরি হয়।’ 


প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কিউল এই ধর্ষণকে ‘নৃশংস’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ঘটনার পর ট্রাম্প তাকে বিছানার ধারে বসিয়ে পুনরায় ভিসা ও ভর্তির প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং চুপ থাকতে বলে বলেন, ‘শো চলতেই হবে।’


এর আগে ২০২৪ সালের অক্টোবরে ডেইলিমেইলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কিউল ট্রাম্পের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ এনেছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন, ‘তিনি আমাকে ঠোঁটে ও ঘাড়ে চুমু খেয়েছিলেন। তিনি আমার পোশাক তোলার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি আমার শরীরের সর্বত্র স্পর্শ করছিলেন।’ তবে সেই সময় কিউল জানান, তিনি কথা বলে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং তার উচ্চতার কারণে তিনি বেঁচে গিয়েছিলেন। 


২০ বছর আগেই কিউল তার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে এই ঘটনার কথা জানিয়েছিলেন বলে ডেইলিমেইল উল্লেখ করে এবং তখন ট্রাম্পের তৎকালীন প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিটের অভিযোগটি ভুয়া বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন।


কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য জেমি রাসকিন এক বিবৃতিতে বলেন, ‘পাঁচজন নারী অ্যাপস্টাইনের উপস্থিতিতে বা তার সান্নিধ্যে সরাসরি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের অভিযোগ এনেছেন; অন্যরা ইঙ্গিত দিয়েছেন, অ্যাপস্টাইন বা ম্যাক্সওয়েল তাদের ট্রাম্পের কাছে পাচারের চেষ্টা করেছিলেন।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘প্রেসিডেন্টকে রক্ষা করতে ট্রাম্পের বিচার বিভাগ এই অপরাধগুলো ধামাচাপা দিচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।’


আসন্ন ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র এক সপ্তাহ আগে প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হলো। নির্বাচন সামনে রেখে ট্রাম্পের অ্যাপস্টাইন সংক্রান্ত নথি ব্যবস্থাপনা এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে দেখা দেওয়া মূল্যস্ফীতি রিপাবলিকান প্রার্থীদের রাজনৈতিক চাপের মুখে ফেলেছে।


সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ

সর্বশেষ সব খবর

তেহরান সফরে মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধি দল

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:১৬ পিএম

সম্প্রতি গঠিত মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় একযোগে কাজ করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছে ইরান। সোমবার রাতে ইরানের রাজধানী তেহরানে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ বিষয়ে মক্কা জোটের তিন মূল সদস্য দেশ সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মতৈক্য প্রতাশ করে দেশটি।


বৈঠক শেষে তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইরান এবং মক্কা চুক্তিভুক্ত দেশগুলো আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখা এবং পারস্পরিক সংলাপ ও আলোচনা অব্যাহত রাখার ব্যাপারে সম্পূর্ণ সম্মত হয়েছে। গতকালের তেহরান সফরে প্রতিনিধি দল ইরানের প্রেসিডেন্ট এবং জাতীয় নিরাপত্তা প্রধানের সঙ্গে পৃথক সৌজন্য সাক্ষাৎ ও দ্বিপক্ষীয় সংলাপে মিলিত হন। 


সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বৈঠকে অংশ নিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের উপসচিব আলী বাঘেরি কানি, সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান আল সৌদ, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির ও তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিন।


সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনকূটনীতি বিভাগের উপমন্ত্রী রায়েদ ক্রিমলিও তাদের অংশ নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, চলমান সংকটে জড়িত পক্ষগুলোর মধ্যে উত্তেজনা কমানো, সংলাপ এগিয়ে নেওয়া এবং কূটনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করার ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই সফর হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাকে সমর্থন দেবে মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের মিত্র দেশগুলো।


সামাজিক মাধ্যম এক্সে ক্রিমলি লিখেছেন, ‘আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদার এবং সেই লক্ষ্য অর্জনে অঞ্চলের সব দেশের সঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিভুক্ত দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার বিষয়টি এই সফর তুলে ধরছে।’


সংবাদ সংস্থা আনাদোলু দেশটির নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধান তেহরানের বৈঠকে অংশ নেবেন। যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার বিষয়ে আন্তরিক না হলেও ইরান কূটনীতির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি। তেহরানে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘স্পষ্ট বিষয়টি হলো মার্কিন পক্ষ আলোচনা নিয়ে আন্তরিক নয়। গত দুই বছরে যুক্তরাষ্ট্র দেখিয়েছে, তারা আলোচনার সঙ্গে নিজেদের শর্ত চাপিয়ে দেওয়ার বিষয়টিকে গুলিয়ে ফেলে।’ 


বাঘায়ি আরও বলেন, ‘আমরা কখনও কূটনীতির দরজা বন্ধ করিনি। নিজেদের জনগণ ও বিশ্বকে আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছি, কূটনীতির প্রতি আমাদের অঙ্গীকার আন্তরিক ও অবিচল।’


মধ্যপ্রাচ্যের আসন্ন বৈঠক সামনে রেখে নিজেদের স্বার্থ ও উদ্বেগের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়ায় আঞ্চলিক দেশগুলোর প্রশংসা করেছে ইরান। তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে ইসমাইল বাঘায়ি বলেন, ‘আঞ্চলিক দেশগুলো নিজেদের স্বার্থ ও উদ্বেগের ভিত্তিতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা করছে, কিংবা অন্তত এ ধরনের ব্যবস্থা বিবেচনা করছে, এটি আমরা ইতিবাচক অগ্রগতি বলে মনে করি।’


তিনি বলেন, ‘এই বৈঠক নিজস্ব সক্ষমতা ও উদ্যোগের ভিত্তিতে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে আরও এগিয়ে নেওয়ার পথ তৈরি করতে পারে। কয়েক দশক ধরে আমরা এই নীতির ওপর জোর দিয়ে আসছি। আমরা ধারাবাহিকভাবে বলে আসছি, অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে সেখানকার দেশগুলোর স্বার্থ ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগের ওপর নির্ভর করতে হবে।’


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্দেশ দিলে ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা বাহিনী। গতকাল সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে সিএনএন।


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় সামরিক বাহিনী এরই মধ্যে ওই অঞ্চলে মোতায়েন রয়েছে। তবে অভিযান চালানোর বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি ট্রাম্প। সম্ভাব্য এই অভিযান সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরানের সামরিক স্থাপনায় চালানো সীমিত হামলাগুলোর তুলনায় অনেক বিস্তৃত হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড ও পেন্টাগন সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর একটি বড় তালিকা তৈরি করেছে। এর মধ্যে রয়েছে পারমাণবিক স্থাপনা, সামরিক ঘাঁটি ও জ্বালানি অবকাঠামো।


আগের অভিযানগুলোতে মূলত ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা, রাডার স্থাপনা ও দ্রুত প্রতিস্থাপনযোগ্য অন্যান্য সামরিক সরঞ্জামকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। তবে নতুন পরিকল্পনায় ইরানের শাসকগোষ্ঠীর সামরিক সক্ষমতা ও অবকাঠামোর ওপর আরও ব্যাপক আঘাত হানার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ‘এটি বড় ধরনের অভিযান হবে।’


পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, বছর শেষ হওয়ার আগেই ট্রাম্প আবার বড় পরিসরে সামরিক অভিযান চালানোর নির্দেশ দিতে পারেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন মনে করেন, ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর হামলা চালানোর সম্ভাবনা বেশি।


তবে ট্রাম্প এখনও সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, এর আগেও বড় ধরনের সামরিক অভিযান অনুমোদনের কাছাকাছি গিয়ে শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছেন তিনি। 


এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। পেন্টাগনের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, সামরিক অভিযানের বিভিন্ন বিকল্প পরিকল্পনা তৈরি করা প্রতিরক্ষা বিভাগের দায়িত্বের অংশ। তবে এ ধরনের পরিকল্পনা তৈরি করা মানেই প্রেসিডেন্ট হামলার নির্দেশ দিয়েছেন, এমন নয়। এদিকে ইরানে তাৎক্ষণিক সামরিক হামলার সম্ভাবনা নাকচ করেছেন ট্রাম্প। গত রোববার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আজ কোনো হামলা হবে না।’

সর্বশেষ সব খবর
  • প্রকাশ : সোমবার ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:৪৪ পিএম
  • আপডেট : সোমবার ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:৪৪ পিএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


  • প্রকাশ : সোমবার ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:৪৪ পিএম

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় অর্ণব আরও শক্তিশালী হয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। এরপর আগামী বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভারতের অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সোমবার দুপুর ১২টায় ঘূর্ণিঝড়টি পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৫৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল।


সোমবার (২৬ অক্টোবর) আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পূর্বমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় অর্ণব পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে। সোমবার দুপুর ১২টায় এর অবস্থান ছিল ১৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮ দশমিক ৩ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে। এ সময় ঘূর্ণিঝড়টি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৫৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমানের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে সোমবার মধ্যরাত নাগাদ পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে।

পরে এটি আরও শক্তিশালী হয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। আগামী বুধবার ভারতের অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার। দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে এ গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ ছাড়া উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

 

সর্বশেষ সব খবর

নেত্রী মাচাদো। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:১৫ পিএম

দীর্ঘ ১০ মাসের বেশি সময় নির্বাসনে থাকার পর নিজ দেশ ভেনেজুয়েলায় ফিরেছেন বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। দেশে ফিরে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘আমি এখানে, আপনাদের সঙ্গে।’  এর আগে, একাধিকবার দেশে ফেরার চেষ্টা করেও সফল হননি তিনি। এবার তার প্রত্যাবর্তন ঘটল ভেনেজুয়েলার জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে। গত জানুয়ারিতে, নরওয়েতে নোবেল শান্তি পুরস্কার গ্রহণ করতে যাওয়ার জন্য অন্ধকারের সুযোগে দ্রুতগতির নৌকায় ভেনেজুয়েলা ছাড়েন মাচাদো।


এর এক মাস পর যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে দেশটির বাইরে নিয়ে যায়। এরপর মাদুরোর ডেপুটি ডেলসি রদ্রিগেজকে সমর্থন দেয় ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। পরে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন রদ্রিগেজ। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি তেল চুক্তিও সই করেন, যেখানে ওয়াশিংটনকে বেশ অনুকূল শর্ত দেওয়া হয়। রোববার (২৫ অক্টোবর) ভেনেজুয়েলার লারা রাজ্যের একটি গির্জায় প্রার্থনায় অংশ নিতে দেখা যায় মাচাদোকে। এ সময় তার চারপাশে ভিড় করেন সমর্থকেরা। তারা তাকে জড়িয়ে ধরেন এবং হাত ধরে স্বাগত জানান।


এরপর উল্লাসরত সমর্থকদের গাড়িবহর নিয়ে রাজধানী কারাকাসের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন তিনি। রাজধানীতে যাওয়ার পথে বিভিন্ন স্থানে সমর্থকেরা তাকে স্বাগত জানাতে জড়ো হন। রোববার গভীর রাতে কারাকাসে প্রবেশের সময় গাড়ির সানরুফ দিয়ে বেরিয়ে হাসিমুখে সমর্থকদের অভিবাদন জানাতে দেখা যায় তাকে। এক্সে দেওয়া আরেক পোস্টে মাচাদো লেখেন, ‘আমাদের কারাকাসে পুনর্মিলনের রাত। প্রতিটি পরিবারের পুনর্মিলনের জন্য, প্রতিটি রাজনৈতিক বন্দির মুক্তির জন্য, ভেনেজুয়েলার স্বাধীনতার জন্য।’


মাচাদোর ঘনিষ্ঠ মিত্র ও সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী এডমুন্দো গনসালেস উরুতিয়াও তার দেশে ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।  রোববার হামলায় নিহত নয়জনের মধ্যে আটজনকে গির্জার পাশেই সমাহিত করা হয়। শেষকৃত্যে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। 


বার্তা সংস্থা এএফপির ছবিতে দেখা যায়, ধর্মীয় নেতাদের উপস্থিতিতে এবং কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে পতাকায় মোড়ানো কফিনগুলো জনতার ভিড়ের মধ্য দিয়ে বহন করা হচ্ছে।

সর্বশেষ সব খবর