ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের হাতে মাত্র ১৪ দিনের তেল অবশিষ্ট রয়েছে- সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন দাবি ছড়িয়ে পড়েছে।
তবে এই হিসাবটি দেশটির কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুত (এসপিআর) এবং মোট পেট্রোলিয়াম ব্যবহারের পরিমাণকে একসঙ্গে ধরে করা হয়েছে। ফলে এতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত তেল সরবরাহ পরিস্থিতি সঠিকভাবে উঠে আসে না।
মার্কিন জ্বালানি বিভাগের (ডিওই) তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ (এসপিআর) বিশ্বের সবচেয়ে বড় জরুরি অপরিশোধিত তেলের মজুত। মেক্সিকো উপসাগরীয় উপকূলের চারটি ভূগর্ভস্থ লবণের গুহায় এই তেল সংরক্ষণ করা হয়। এসব স্থাপনার মোট ধারণক্ষমতা প্রায় ৭১ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেল।
অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া হিসাব অনুযায়ী, এসপিআরে রয়েছে প্রায় ২৮ কোটি ৬৬ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ৭ লাখ ব্যারেল পেট্রোলিয়াম পণ্য সরবরাহ ও ব্যবহার হয়। এই দুটি সংখ্যা ভাগ করে প্রায় ১৪ দিনের হিসাব পাওয়া যায়। কিন্তু এই হিসাবের সমস্যা হলো, এসপিআরে থাকা অপরিশোধিত তেলকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদিনের মোট পেট্রোলিয়াম ব্যবহারের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। প্রতিদিনের ২ কোটি ৭ লাখ ব্যারেলের হিসাবের মধ্যে গ্যাসোলিন, ডিজেল, জেট ফুয়েলসহ বিভিন্ন পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য রয়েছে। এগুলো সরাসরি এসপিআরের অপরিশোধিত তেলের সঙ্গে তুলনাযোগ্য নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সরবরাহ কেবল কৌশলগত মজুতের ওপর নির্ভর করে না। দেশটির নিজস্ব অপরিশোধিত তেল উৎপাদন, বাণিজ্যিক মজুত, আমদানি, শোধনাগার এবং পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের মজুত-সব মিলিয়ে একটি বড় সরবরাহ ব্যবস্থা রয়েছে। এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ইআইএ) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৩৯ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উৎপাদন করে। দেশটির বাণিজ্যিক মজুতে রয়েছে প্রায় ৪২ কোটি ৪৫ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল।
একই সময়ে শোধনাগারগুলো প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৭৫ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করছে। এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য আমদানি ও রপ্তানি করে। অর্থাৎ দেশটির তেল সরবরাহ একটি চলমান ব্যবস্থা, যেখানে উৎপাদন, আমদানি, বাণিজ্যিক মজুত, শোধন ও রপ্তানি—সবগুলো বিষয় একসঙ্গে কাজ করে।
এসপিআর যুক্তরাষ্ট্রের তেলের প্রধান ভাণ্ডার নয়; এটি জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবহারের জন্য একটি ব্যাকআপ ব্যবস্থা। যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অবরোধ বা আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটলে বাজারে অতিরিক্ত তেল সরবরাহ করতে এই মজুত ব্যবহার করা হয়।
১৯৭৩-৭৪ সালের আরব তেল নিষেধাজ্ঞার পর যুক্তরাষ্ট্র এই ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়। ১৯৭৫ সালে কংগ্রেস এসপিআর প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দেয়। দেশের তেল শোধনাগার, পাইপলাইন ও পরিবহন অবকাঠামোর কাছাকাছি মেক্সিকো উপসাগরীয় উপকূলে লবণের গুহায় এই মজুত গড়ে তোলা হয়।
২০২০ সালের শেষ নাগাদ এসপিআরে প্রায় ৬৩ কোটি ৮০ লাখ ব্যারেল তেল জমা ছিল। তবে ২০২৬ সালের ২৮ আগস্ট নাগাদ এই পরিমাণ কমে প্রায় ২৮ কোটি ৬৬ লাখ ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে, যা ১৯৮২ সালের নভেম্বরের পর সর্বনিম্ন। বাইডেন ও ট্রাম্প—দুই প্রশাসনের সময়ই বিভিন্ন জরুরি পরিস্থিতিতে এসপিআর থেকে বিপুল পরিমাণ তেল বাজারে ছাড়া হয়েছে।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা চালানোর পর বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যায়। এ সময় বাইডেন প্রশাসন এসপিআর থেকে ১৮ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ার ঘোষণা দেয়। প্রায় ছয় মাস ধরে প্রতিদিন গড়ে ১০ লাখ ব্যারেল তেল বাজারে সরবরাহ করা হয়।
পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, এই সমন্বিত তেল ছাড়ার ফলে গ্যাসোলিনের দাম প্রতি গ্যালনে প্রায় ১৭ থেকে ৪২ সেন্ট পর্যন্ত কমতে সহায়তা করেছিল। তবে এর ফলে কৌশলগত মজুতের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এরপর মজুত পুনরায় পূরণের কাজ শুরু হয়। ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ এসপিআরে তেলের পরিমাণ প্রায় ৪১ কোটি ৩০ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছিল।
২০২৬ সালে ইরানকে কেন্দ্র করে সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহনে বিঘ্নের আশঙ্কার মধ্যে আবারও কৌশলগত মজুত ব্যবহার করা হচ্ছে। গত মার্চে ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সির (আইইএ) ৩২টি সদস্য দেশ জরুরি মজুত থেকে মোট ৪০ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার বিষয়ে সম্মত হয়। আইইএর ইতিহাসে এটি ছিল এ ধরনের সবচেয়ে বড় সমন্বিত পদক্ষেপ। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র এসপিআর থেকে ১৭ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়।
ইআইএর তথ্য অনুযায়ী, ৩ এপ্রিল ২০২৬ এসপিআরে ৪১ কোটি ৩৩ লাখ ব্যারেল তেল ছিল। ২৮ আগস্ট তা কমে দাঁড়ায় ২৮ কোটি ৬৬ লাখ ব্যারেলে। অর্থাৎ পাঁচ মাসেরও কম সময়ে এসপিআরের মজুত প্রায় ১২ কোটি ৭০ লাখ ব্যারেল কমেছে। তবে এই কমে যাওয়া মানে যুক্তরাষ্ট্রের মোট তেল সরবরাহ থেকে একই পরিমাণ তেল শেষ হয়ে গেছে-এমন নয়। একই সময়ে দেশটিতে তেল উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি, বাণিজ্যিক মজুত ও শোধনাগারের কার্যক্রম চলমান ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেল সরবরাহের প্রধান উৎসগুলোর মধ্যে রয়েছে দেশীয় উৎপাদন, আমদানি ও বাণিজ্যিক মজুত। দেশটির শোধনাগারগুলো অপরিশোধিত তেলকে গ্যাসোলিন, ডিজেল, জেট ফুয়েলসহ বিভিন্ন পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যে রূপান্তর করে।
সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৩৯ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উৎপাদিত হচ্ছে। বাণিজ্যিক মজুতে রয়েছে প্রায় ৪২ কোটি ৪৫ লাখ ব্যারেল। শোধনাগারগুলো প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৭৫ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করছে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তেল আমদানি এবং অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য রপ্তানিও করছে যুক্তরাষ্ট্র।
গত চার সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে বাণিজ্যিক অপরিশোধিত তেলের মজুত গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৬ লাখ ২৪ হাজার ব্যারেল বেড়েছে। অন্যদিকে এসপিআর থেকে প্রতিদিন প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল তেল প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর অর্থ, এসপিআর থেকে তেল ছাড়ার বিষয়টি সামগ্রিক সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপ কমাতে সহায়তা করছে। তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের পুরো পেট্রোলিয়াম ব্যবস্থার বিকল্প নয়।
এসপিআরের মজুত কমে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয়। কারণ বড় কোনো সরবরাহ সংকট দেখা দিলে সরকারের হাতে বাজারে দ্রুত তেল ছাড়ার সক্ষমতা আগের তুলনায় কমে গেছে।
তবে এর অর্থ এই নয় যে, দুই সপ্তাহ পর যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোল বা অন্যান্য জ্বালানি শেষ হয়ে যাবে। বরং কোনো বড় আন্তর্জাতিক সংকট দেখা দিলে সরকার আগের মতো বড় পরিমাণে জরুরি তেল বাজারে ছাড়তে পারবে না-এটাই মূল ঝুঁকি।
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি বা বাব আল-মান্দাব প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা দিলে এর প্রভাব বিশ্ববাজারে পড়তে পারে। তেলের আন্তর্জাতিক দাম বেড়ে গেলে যুক্তরাষ্ট্রেও অপরিশোধিত তেল, গ্যাসোলিন, ডিজেল ও জেট ফুয়েলের দাম বাড়তে পারে। কারণ তেলের বাজার বৈশ্বিক।
যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব উৎপাদন থাকলেও আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ কমে গেলে দেশটির জ্বালানি দামের ওপর তার প্রভাব পড়ে।
জরুরি মজুত থেকে তেল ছাড়ার প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। একপর্যায়ে এসপিআর থেকে অতিরিক্ত তেল সরবরাহ বন্ধ করতে হবে। তখন বাজারকে উৎপাদন ও আমদানি বাড়ানো, রপ্তানি কমানো, বাণিজ্যিক মজুত ব্যবহার, শোধনাগারের কার্যক্রম পরিবর্তন অথবা জ্বালানির চাহিদা কমানোর মাধ্যমে ভারসাম্য তৈরি করতে হবে।
এ ছাড়া বর্তমান এসপিআর কর্মসূচির একটি অংশ তেল বিনিময় ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কোম্পানিগুলো এসপিআর থেকে অপরিশোধিত তেল নেয় এবং পরে সমপরিমাণ তেলের সঙ্গে অতিরিক্ত কিছু ব্যারেল ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। ফলে বর্তমানে নেওয়া কিছু তেল ভবিষ্যতে সরকারি মজুতে ফেরত আসতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কত দিনের তেল রয়েছে- এর একটি নির্দিষ্ট সংখ্যা বের করা সম্ভব নয়। কারণ অপরিশোধিত তেল, গ্যাসোলিন, ডিজেল ও অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্য এক জিনিস নয়। এগুলোর উৎপাদন, মজুত, আমদানি, রপ্তানি ও ব্যবহারের হিসাবও আলাদা।
শুধু এসপিআরের ২৮ কোটি ৬৬ লাখ ব্যারেলকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদিনের মোট ২ কোটি ৭ লাখ ব্যারেল পেট্রোলিয়াম পণ্যের ব্যবহারের সঙ্গে ভাগ করে ১৪ দিনের হিসাব করা তাই বাস্তব পরিস্থিতির সঠিক চিত্র দেয় না।
যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে প্রায় ২৮ কোটি ৬৬ লাখ ব্যারেল এসপিআর মজুতের পাশাপাশি প্রায় ৪২ কোটি ৪৫ লাখ ব্যারেল বাণিজ্যিক অপরিশোধিত তেলের মজুত রয়েছে। প্রতিদিন দেশটি প্রায় ১ কোটি ৩৯ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উৎপাদন করছে এবং বিপুল পরিমাণ তেল আমদানি করছে।
তবে এসপিআরের মজুত ঐতিহাসিকভাবে কমে যাওয়ায় ভবিষ্যতে বড় কোনো সরবরাহ সংকট দেখা দিলে তা মোকাবিলায় সরকারের হাতে জরুরি তেলের মজুত আগের তুলনায় কম থাকবে।
তাই যুক্তরাষ্ট্রে ‘১৪ দিনের তেল’ অবশিষ্ট থাকার দাবিটি সঠিক না হলেও, এসপিআরের মজুত কমে যাওয়ার বিষয়টি দেশটির জন্য বাস্তব উদ্বেগের কারণ।
স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষ
স্পেনে মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনার পর দেশটিতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) থেকে এই রাষ্ট্রীয় শোক কার্যকর হয়েছে। খবর- বিবিসি।
একই সঙ্গে রেলওয়ের নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ধরনের ত্রুটি পাওয়া গেলে তা দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
দুর্ঘটনার বিষয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বলেন, চলতি বছরের শুরুতে স্পেনের একই রেলপথে ঘটে যাওয়া অন্য আরেকটি দুর্ঘটনায় ৪৮ জন নিহত হয়েছিল। তবে প্রাথমিক পর্যালোচনায় মনে হচ্ছে, বর্তমান দুর্ঘটনার সঙ্গে পূর্বের ওই ঘটনার কোনো মিল নেই। তবুও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের পরই এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
উচ্চগতির রেলব্যবস্থার ওপর জনসচেতনতা ও আস্থা ফেরানোর ওপর জোর দিয়ে পেদ্রো সানচেজ আরও বলেন, স্পেনের মতো দেশে একই বছরে উচ্চগতির ট্রেনের দুটি দুর্ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই খাতে যাত্রীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাবে।
দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনে ধাক্কা দেয় আরেক ট্রেন, ঝরল ৬৮ প্রাণ
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে স্পেনের মধ্যাঞ্চলের তোলেদো প্রদেশে ঘটে এ দুর্ঘটনা। যে দুটি ট্রেন দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে; সেগুলোর দুটিই ছিল দ্রুতগতির ট্রেন। আর দুটি ট্রেন মাদ্রিদ থেকে সোয়েদাদে যাচ্ছিল। ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন অন্ত ৬৮ জন। এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে পরিবহনমন্ত্রী বলেছেন, যেখানে দুর্ঘটনা ঘটেছে সেই অঞ্চলটির রেললাইনের প্রধান এলজেডবি সিগন্যালে ত্রুটি দেখা দেয়। পরে সেখানে থাকা সব ট্রেনকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে থামার সংকেত দেওয়া হয়।
যারমধ্যে ছিল দুর্ঘটনার শিকার হওয়া ‘রেনফে হাইস্পিড ট্রেন’ এবং ‘ইরো ট্রেন’। ওই সময় রেনফে ট্রেনটি পেছনে ছিল। আর ইরো ট্রেনটি ২৫ কিলোমিটার সামনে ছিল।
সিগন্যালে ত্রুটি দেখা দেওয়ার স্পেনের সরকারি রেলঅবকাঠামো পরিচালনা সংস্থা (আদিফ) ট্রেন পরিচালনার কমান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে নেয়।
এরপর যিনি কমান্ডে ছিলেন তিনি ‘রেনফে হাইস্পিড ট্রেনটিকে’ চলার অনুমতি দেন। যদিও সিগন্যালে লালবাতি ছিল।
কিন্তু ২৫ কিলোমিটার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ‘ইরো ট্রেনটি’ দাঁড়িয়েই ছিল।
লালবাতি সত্ত্বেও ‘রেনফে হাইস্পিড ট্রেনটিকে’ শুধুমাত্র চলার অনুমতিই দেওয়া হয়নি, এটিকে কোনো গতির সীমাও বেধে দেওয়া হয়নি। ফলে ‘রেনফে হাইস্পিড ট্রেনটি’ ২০০ কিলোমিটার গতিতে গিয়ে ২৫ কিলোমিটার সামনে থাকা ‘ইরো ট্রেনকে’ সজোরে ধাক্কা মারে।
স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষ
স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে ৬৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৮০ জন। আজ বুধবার দেশটির কাস্তিয়া-লা মাঞ্চা অঞ্চলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। কাস্তিয়া-লা মাঞ্চা অঞ্চল সরকারের বরাতে বার্তাসংস্থা রয়টার্স ও এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে।
ওই অঞ্চলের সরকারের মুখপাত্র এস্তের পাদিয়া এএফপিকে বলেন, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় আজ সকাল ৯টার দিকে মাদ্রিদ থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দক্ষিণে উরদা পৌর এলাকায় সরকারি একটি ট্রেনের সঙ্গে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইরিওর একটি ট্রেনের সংঘর্ষ ঘটে।
ঘটনার পর থেকে মাদ্রিদ থেকে দক্ষিণ স্পেনে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। দুর্ঘটনাস্থলে একাধিক দমকলবাহিনী, তিনটি হেলিকপ্টার ও দুটি ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা ইউনিট কাজ করছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, রেললাইনের ওপর এবং আশপাশে দুটি ট্রেনের ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে রয়েছে। আতঙ্কিত যাত্রীরা দ্রুত সরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
দুর্ঘটনার পর মাদ্রিদে একটি সম্মেলন বাতিল করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। একইসঙ্গে নির্বাচনী প্রচারের সব কার্যক্রম স্থগিত করেছে তার দল।
এ বছর দেশটিতে এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বড় ধরনের ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটল। এর আগে জানুয়ারিতে দক্ষিণাঞ্চলীয় আদামুজ গ্রামের কাছে দুটি দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে ৪৬ জন নিহত হন।
যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের কক্ষে বক্তৃতা চলাকালে কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মঞ্চের দিকে এগিয়ে এসে বাধা দিলে তাকে পিছিয়ে যেতে বলেছেন জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ। গতকাল মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) এ ঘটনা ঘটে।
কিউবার সরকার নিজেদের নেতাদের সম্পদশালী করেছে আর জনগণ ভুগছে এমন অভিযোগ করে ওয়াল্টজ বলেন, আমরা জানি। আমরা জানি, তা কোথায় গেছে। আর আজ আমরা তা বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে এখানে এসেছি।
কিউবার প্রতিনিধিদল তার বক্তব্যে বাধা দিতে চাইলে পাল্টা জবাব দেন ওয়াল্টজ। তিনি বলেন, আমি জানি, আপনারা এটা শুনতে পছন্দ করেন না। এটা আমেরিকা, বন্ধু। এটা জাতিসংঘ। এটা আপনাদের কমিউনিস্ট একনায়কতন্ত্র নয়। আপনারা আমাকে থামাতে পারবেন না।
সাধারণ পরিষদের সভাপতি শৃঙ্খলা ফেরানোর চেষ্টা করে প্রতিনিধিদের মনে করিয়ে দেন, জবাব দেওয়ার সুযোগ তারা পাবেন। তবু কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ পারিয়া মঞ্চের দিকে এগোতে থাকেন।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ওয়াল্টজ বলেন, এই ব্যক্তির এই মঞ্চ থেকে সরে যাওয়া উচিত। যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে তিনি আমাকে ভয় দেখাতে পারবেন না। তিনি আরও বলেন, আমি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি। পিছিয়ে যান! পিছিয়ে যান, রাষ্ট্রদূত। সরে যান! এটা হাভানা নয়।
কিউবার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক দশকের পুরোনো অবরোধ নিয়ে সাধারণ পরিষদের বার্ষিক বিতর্কের সময় এ বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। ওয়াল্টজ সদস্য দেশগুলোকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আহ্বান জানানো প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করতে অনুরোধ করছিলেন। পরে কিউবাকে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হলে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াল্টজকে মিথ্যাবাদী বলে অভিযোগ করেন এবং সাধারণ পরিষদের সভাপতিকে তাকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে বলেন।
রদ্রিগেজ বলেন, ‘মি. ওয়াল্টজ আবারও মিথ্যা বলছেন।’
তার যুক্তি, মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য এ ফোরাম ও সদস্য দেশগুলোর মর্যাদার সঙ্গে বেমানান এবং কিউবার সরকার ও জনগণের প্রতি অবমাননাকর।
পরবর্তীতে সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া একটি পোস্টে ওয়াল্টজ দাবি করেন, কিউবার কমিউনিস্ট নেতারা তাঁদের বিলাসবহুল রিয়েল এস্টেট সম্পদের বিষয়টি গোপন রাখতে চান। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, তিনি উপযুক্ত প্রমাণ নিয়েই উপস্থিত হয়েছিলেন, যা কিউবার প্রতিনিধিদলের পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব হয়নি।
সূত্র: ফক্স নিউজ
ছবি : সংগৃহীত
সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেডে ইসরায়েলি দূতাবাসের নিরাপত্তায় নিয়োজিত এক পুলিশ কর্মকর্তার ওপর ছুরি নিয়ে হামলা চালিয়েছে এক কিশোর। গতকাল মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) মধ্যরাতের পর এ ঘটনা ঘটে। আত্মরক্ষায় ওই পুলিশ কর্মকর্তা গুলি চালালে হামলাকারী নিহত হন।
সার্বিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইভিৎসা দাচিচ ঘটনাটিকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন। এ ঘটনার পর দেশটিতে সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কা সর্বোচ্চ পর্যায়ে নেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে পুলিশি নিরাপত্তাও বাড়ানো হয়েছে।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও ঘটনাটিকে ‘সন্ত্রাসী হামলার চেষ্টা’ বলে উল্লেখ করেছে। তারা জানিয়েছে, সার্বিয়ার কর্তৃপক্ষ এ ঘটনার তদন্ত করছে।হামলার সময় দূতাবাসে কোনো কর্মী ছিলেন না। ফলে দূতাবাসের কেউ আহত হননি।
যেভাবে হামলার ঘটনা ঘটেসার্বিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, কালো পোশাক পরা ওই কিশোর দূতাবাসের বাইরে নিরাপত্তারক্ষীদের বুথের দরজা খুলে ভেতরে থাকা পুলিশ কর্মকর্তার ওপর ছুরি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
বেলগ্রেডের উচ্চতর সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয় জানিয়েছে, হামলাকারী একটি ছুরি ছুড়ে মারলে তা ওই পুলিশ কর্মকর্তার বাম গালে লাগে।পরে পুলিশ কর্মকর্তা নিজের অস্ত্র বের করে কয়েকটি গুলি ছোড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই হামলাকারীর মৃত্যু হয়। আহত পুলিশ কর্মকর্তার আঘাত গুরুতর নয় বলে জানানো হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাচিচ বলেন, হামলাকারীর কাছে দুটি ছুরি ছিল।
আইএসের সমর্থক সন্দেহে তদন্ত
সার্বিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, নিরাপত্তা সংস্থাগুলো আগে থেকেই হামলাকারীর ওপর নজর রাখছিল। সে ইসলামিক স্টেট বা আইএসের সমর্থক ছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
দাচিচ বলেন, হামলাকারীর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে আইএসের সমর্থনে কালো পতাকার ছবি ছিল।
হামলাকারী পশ্চিম সার্বিয়ার সাবাচ শহরের বাসিন্দা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তার পরিচয় ও হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে তদন্ত চলছে।
ঘটনার পর দূতাবাসের আশপাশের এলাকা ঘিরে ফেলে পুলিশ। নিরাপত্তা জোরদার করা হয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতেও। সরকার পরিবর্তনের পর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগসার্বিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ পার্লামেন্ট নির্বাচনের কয়েকদিনের মাথায় এ হামলার ঘটনা ঘটল। রোববারের নির্বাচনে সাবেক প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্দার ভুসিচের দীর্ঘদিনের শাসনের অবসান ঘটে। প্রায় দুই বছর ধরে চলা বিক্ষোভের পর শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন আন্দোলন নির্বাচনে জয় পায়।
তবে নতুন সরকার গঠিত না হওয়ায় এখনো পুলিশসহ গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ ভুসিচ ও তার মিত্রদের হাতে রয়েছে।অন্যদিকে, ইসরায়েলেও মঙ্গলবার পার্লামেন্ট নির্বাচন হয়েছে। বুথফেরত জরিপে সেখানে কোনো পক্ষের স্পষ্ট জয়ের আভাস পাওয়া যায়নি।
তবে সার্বিয়ায় সরকার পরিবর্তন এবং ইসরায়েলে নির্বাচনের সঙ্গে বেলগ্রেডের দূতাবাসে হামলার সরাসরি কোনো যোগসূত্র পাওয়া যায়নি।
আগেও হামলার শিকার হয়েছিল দূতাবাস
বেলগ্রেডে ইসরায়েলি দূতাবাসে এর আগেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। ২০২৪ সালের জুনে ক্রসবো নিয়ে হামলা চালিয়ে এক ব্যক্তি দূতাবাসের নিরাপত্তায় নিয়োজিত এক সার্বীয় পুলিশ কর্মকর্তাকে আহত করেন। পরে ওই হামলাকারীকেও গুলি করে হত্যা করা হয়।
বেলগ্রেডের একটি অভিজাত এলাকায় অবস্থিত ইসরায়েলি দূতাবাসের কাছেই যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস। গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকায় স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রে সজ্জিত বিশেষ পুলিশ ইউনিট নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করে।
সার্বিয়ার সঙ্গে ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। নতুন হামলার পর দূতাবাস ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে।
সূত্র: এপি
ঘূর্ণিঝড় অর্ণব
ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ উপকূলে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের আঘাতে অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। গাছের নিচে চাপা পড়ে এবং বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তাদের মৃত্যু হয়।
আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অন্ধ্র প্রদেশের বিশাখাপত্তনম, অনাকাপল্লে, কাকিনাড়া, কোনাসীমা ও পশ্চিম গোদাবরী জেলায় একজন করে মারা গেছেন।
ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আজ বুধবার স্থানীয় সময় রাত ২টা থেকে সকাল ৮টার মধ্যে অন্ধ্র প্রদেশ ও ইয়ানাম উপকূল অতিক্রম করে ঘূর্ণিঝড়টি। উপকূল অতিক্রমের সময় এটি অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের রূপে ছিল। তখন বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার, যা দমকা হাওয়ায় ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছায়।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ঘূর্ণিঝড়টির স্থলভাগে প্রবেশের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এর কেন্দ্র পুরোপুরি স্থলভাগে প্রবেশ করেছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় এটি উত্তর উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে এবং ধীরে ধীরে শক্তি হারাবে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ছয় ঘণ্টার মধ্যে অর্ণব ঘূর্ণিঝড়ে এবং পরবর্তী ছয় ঘণ্টায় গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে।
এদিকে, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে রেল চলাচলের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছেন ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক বার্তায় তিনি জানান, ১০টি স্থানে গাছ পড়ে যাওয়ার মতো ছোটখাটো বিঘ্নের খবর পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মীরা দ্রুত সেগুলোর সমাধান করেছেন। রেল চলাচল নিরাপদ ও স্বাভাবিক রাখতে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
ছবি : সংগৃহীত
স্পেনে দুটি দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ৩৯ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় বুধবার সকাল ৯টার কিছু পর রেনফে ও ইরিও পরিচালিত দুটি ট্রেনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে বলে জানিয়েছে কাস্তিয়া-লা মাঞ্চা অঞ্চলের এক সরকারি মুখপাত্র।
তিনি বলেন, দুর্ঘটনার কারণ ও হতাহতের পূর্ণ সংখ্যা এখনো নির্ধারণ করা হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে একটি খাদে ট্রেনের বগিগুলো কাত হয়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে জরুরি সেবাকর্মীদের ডাকা হয়।
রেল পরিচালনাকারী সংস্থা আদিফ জানিয়েছে, মধ্য স্পেনের মোরা ও অরগাস শহরের মধ্যবর্তী এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। এতে মাদ্রিদ থেকে সেভিয়ার দিকে যাওয়া রেনফে ও ইরিওর দুটি দ্রুতগতির ট্রেন জড়িত ছিল।
তোলেদো শহরের কাছের উরদা পৌরসভার মেয়র ম্যানুয়েল গালান জানান, আহতদের রাখার জন্য একটি ক্রীড়া হল প্রস্তুত করতে জরুরি সেবাকর্মীরা তাকে অনুরোধ করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় আদিফ জানায়, দুই ট্রেনের পেছন থেকে সংঘর্ষের কারণে মাদ্রিদ-আন্দালুসিয়া দ্রুতগতির রেলপথে চলাচল স্থগিত করা হয়েছে।
তথ্যসূত্র: ইন্ডিপেন্ডেন্ট