ছবি : সংগৃহীত
দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের ক্রমবর্ধমান আধিপত্য নিয়ে উদ্বিগ্ন যুক্তরাষ্ট্র। এ প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশের আগামী সরকারকে চীনের সামরিক সরঞ্জামের বিকল্প হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলোর তৈরি অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহারের প্রস্তাব দেওয়ার পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন।
গতকাল মঙ্গলবার বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামীকাল বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে হাসিনা সরকারের পতন ঘটে এবং পালিয়ে নয়াদিল্লিতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। এরপর থেকে ঢাকায় ভারতের প্রভাব কমছে এবং চীনের পদচারণা আরও গভীর হয়েছে বলে কূটনৈতিক মহলের ধারণা।
সম্প্রতি ভারত সীমান্তের কাছে ড্রোন কারখানা স্থাপনে চীনের সাথে প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেছে বাংলাদেশ, যা নিয়ে চিন্তিত অনেক বিদেশি কূটনীতিক। একই সময়ে চীন ও পাকিস্তানের যৌথভাবে তৈরি ‘জেএফ-১৭ থান্ডার’ ফাইটার জেট কেনার বিষয়েও আলোচনা চালাচ্ছে ঢাকা।
রয়টার্সকে রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন যুক্তরাষ্ট্র। চীনের সঙ্গে নির্দিষ্ট ধরনের সম্পৃক্ততার ঝুঁকি সম্পর্কে বাংলাদেশ সরকারকে স্পষ্টভাবে অবহিত করতে আমরা ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘বাংলাদেশের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলোর পক্ষ থেকে বিভিন্ন বিকল্প প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম দেওয়ার সুযোগ রয়েছে, যা চীনের তৈরি সিস্টেমগুলোর বিকল্প হতে পারে।’ তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত আর কোনো তথ্য দেননি তিনি।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এ ব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। ক্রিস্টেনসেন আরও বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশাসন বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সুসম্পর্ক দেখতে চায়, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে সহায়তা করবে।’
গুরুত্ব পাচ্ছে বাণিজ্যিক কূটনীতি
বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ প্রসঙ্গে ক্রিস্টেনসেন জানান, যুক্তরাষ্ট্রের অনেক কোম্পানি বিনিয়োগে আগ্রহী। তবে তারা দেখতে চায় নতুন সরকার ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতে কতটা কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে।
বাণিজ্যিক কূটনীতি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম অগ্রাধিকার উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের সাথে বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের যে অগ্রগতি হয়েছে, নির্বাচিত সরকারের সাথে আমরা তা আরও এগিয়ে নিতে চাই।’
প্রতিবেদনে বলা হয়, জ্বালানি কোম্পানি শেভরন দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে কাজ করলেও ১৮ কোটি জনসংখ্যার এ দেশে অন্য মার্কিন কোম্পানির উপস্থিতি সীমিত। উচ্চ করহার ও লভ্যাংশ দেশে ফেরত নেওয়ার জটিলতা, বিনিয়োগে বাধা তৈরি করেছে। এ কারণে বাংলাদেশে এখনো স্টারবাকস বা ম্যাকডোনাল্ডসের মতো বড় মার্কিন ব্র্যান্ডের শাখা নেই।
নির্বাচন প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ যে সরকারই নির্বাচিত করুক, যুক্তরাষ্ট্র তার সাথেই কাজ করবে।’ রয়টার্সের মতে, বর্তমানে বাংলাদেশে নির্বাচনী লড়াই মূলত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে। বিভিন্ন জরিপে বিএনপি এগিয়ে আছে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।
রোহিঙ্গা সংকটে আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর জন্য যুক্তরাষ্ট্রই এককভাবে সবচেয়ে বড় দাতা দেশ। রাষ্ট্রদূত জানান, সম্প্রতি জাতিসংঘের সাথে ২০০ কোটি ডলারের একটি বৈশ্বিক অর্থায়ন চুক্তি সই করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যার একটি বড় অংশ বাংলাদেশে ব্যয় করা হবে।
তবে তিনি অন্য আন্তর্জাতিক দাতা দেশগুলোকেও এই দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র একাই এই বিশাল বোঝা অনির্দিষ্টকাল বহন করতে পারবে না। রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক অংশীদারদের এগিয়ে আসা জরুরি।’
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রোহিঙ্গাদের জন্য পর্যাপ্ত তহবিল সংগ্রহ করতে হিমশিম খাচ্ছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা। এর ফলে খাদ্য রেশন কমানোসহ কিছু স্কুল বন্ধ করে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
ইসরায়েলের নির্বাচনে স্পষ্ট ফল না আসায় দেশটির ক্ষমতার পালাবদল নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। প্রায় ৮৬ শতাংশ (কোনো কোনো খবরে ৯০ শতাংশ) ভোট গণনা শেষে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি জোট ১২০ আসনের পার্লামেন্টে ৫৩টি আসন পেতে পারে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।
অন্যদিকে বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকটের জোট পেতে পারে ৪৮টি আসন। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালেও আপাতত তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন নেতানিয়াহু। নতুন সরকার গঠনের আলোচনা চলাকালে, এমনকি আগামী বছর আরেকটি নির্বাচন না হওয়া পর্যন্তও তিনি এ দায়িত্বে থাকতে পারেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে একথা বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের নির্বাচনে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি ইহুদি ভোটারের সমর্থন পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে পড়েছে। তবে তার নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি জোট পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে। ফলে নতুন সরকার গঠনের আলোচনা চলাকালে এবং সম্ভবত আগামী বছর আরেকটি নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত নেতানিয়াহুই তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) পর্যন্ত প্রায় ৮৬ শতাংশ ভোট গণনা শেষে ইসরায়েলের তিনটি প্রধান সম্প্রচারমাধ্যমের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ১২০ আসনের নেসেটে নেতানিয়াহুর ডানপন্থি, কট্টর ডানপন্থি ও অতি-গোঁড়া ইহুদি দলগুলোর জোট সব মিলিয়ে ৫৩টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকটের জোট পেতে পারে ৪৮টি আসন।
ইসরায়েলের আরব নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো রেকর্ড ১৯টি আসন পেতে পারে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। ফলে এসব দলের ব্যাপক সমর্থন ছাড়া আইজেনকটের ক্ষমতায় যাওয়ার বাস্তবসম্মত সম্ভাবনা খুবই কম। তবে ইহুদি রাজনৈতিক নেতাদের অনেকেই আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের বিরোধিতা করছেন।
এদিকে ভোট গণনা এখনো চলতে থাকায় ফলাফলে পরিবর্তন আসতে পারে। তবে নেতানিয়াহুবিরোধী মধ্য-বামপন্থি থেকে কট্টর ডানপন্থি দলগুলোর সমন্বয়ে গঠিত আইজেনকটের জোট নির্বাচনের আগে জনমত জরিপে যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গিয়েছিল, তার চেয়ে অনেক পিছিয়ে পড়েছে।
রয়টার্স বলছে, নতুন সরকার গঠনের জন্য জোট গঠনের আলোচনা চলাকালে নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী থাকবেন। আগামী বছর নতুন নির্বাচন না হওয়া পর্যন্তও তাকে এই দায়িত্বে থাকতে হতে পারে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ওপর কিছু বিধিনিষেধ থাকলেও ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ পরিচালনাসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা তাদের থাকে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
ইসরায়েল ডেমোক্র্যাসি ইনস্টিটিউটের গবেষক গাই লুরি বলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ক্ষমতা নিয়মিত সরকারের মতোই। তবে তাদের ক্ষেত্রে ‘সংযম বজায় রাখার দায়িত্ব’ রয়েছে এবং কিছু বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার স্বাধীনতা তুলনামূলকভাবে সীমিত।
রয়টার্স বলছে, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় ভোর রাত ৩টার পর (বাংলাদেশ সময় ৭টার পর) নিজের দল লিকুদ পার্টির সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন নেতানিয়াহু। এসময় তিনি ‘শক্তিশালী ডানপন্থি জাতীয় সরকার’ গঠনের আহ্বান জানান।
বক্তব্যে ইসরায়েলের সামরিক সাফল্য তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মিলে ইরানের বিরুদ্ধে আবারও যৌথ সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনার কথা বলেন। নেতানিয়াহুর ভাষায়, ইরানের যে হুমকির কথা তিনি বলছেন, তা ‘চিরতরে’ দূর করার ক্ষেত্রে দুই দেশের সামনে ‘ইতিহাসের এক অনন্য সুযোগ’ এসেছে।
ট্রাম্প এর আগে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতায় রাখার জন্য ইসরায়েলি ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন, যাতে দুই নেতা মিলে ইরানে ‘কাজ শেষ করতে’ পারেন। নির্বাচনের ফল নিয়ে প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প বলেন, নেতানিয়াহু ‘খুব ভালো করেছেন’। তার দাবি, নেতানিয়াহুর পক্ষে ট্রাম্পের সমর্থনই ‘তাকে অনেক সাহায্য করেছে’।
এদিকে নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে থাকবেন বলে স্বীকার করেছেন আইজেনকটও। তবে রাজনৈতিক স্বার্থে নিরাপত্তার বিষয়টি ব্যবহার করা হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।
আইজেনকট বলেন, ‘আমি নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর প্রধান এবং সরকারি প্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি—নেতানিয়াহু একজন তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী। তার হাতে কোনো ম্যান্ডেট নেই, জনগণের আস্থাও নেই। আপনাদের চ্যালেঞ্জ করার যেকোনো প্রচেষ্টার মুখে দৃঢ় থাকুন।’
এর আগে নেতানিয়াহুর দপ্তর ইরান সংঘাতকে রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের কাজে ব্যবহারের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছিল। বুধবার এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও দপ্তরটি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব দেয়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
এদিকে পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকা সত্ত্বেও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়িত্বে নেতানিয়াহুর থাকার সম্ভাবনা ইসরায়েলের আর্থিক বাজারে প্রভাব ফেলেছে। দেশটির মুদ্রা শেকেলের মান মার্কিন ডলারের বিপরীতে প্রায় ১ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ৩ দশমিক ১০ শেকেলে দাঁড়িয়েছে। তেল আবিবের প্রধান শেয়ারবাজার সূচকগুলোও ৩ শতাংশের বেশি কমেছে।
রয়টার্স বলছে, নির্বাচনের ফল ইসরায়েলের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী নেতানিয়াহুর শাসনামলে দেশটির ইহুদিদের মধ্যে ডানপন্থার দিকে ঝুঁকে পড়ার বিষয়টি আরও স্পষ্ট করেছে। ইসরায়েলের ইতিহাসের প্রথমার্ধে রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তারকারী মধ্য-বামপন্থিরা এখন ছোট একটি গোষ্ঠীতে পরিণত হয়েছে।
বর্তমানে প্রায় সব ইহুদি দলই ভবিষ্যতে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ধারণা প্রত্যাখ্যান করে। ১৯৯০-এর দশক থেকে আন্তর্জাতিকভাবে সমর্থিত শান্তি প্রচেষ্টার ভিত্তি ছিল এই স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ধারণা।
এছাড়া ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর এটিই ইসরায়েলের প্রথম নির্বাচন। ওই দিন হামাসের হামলায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত হন এবং ২৫১ জনকে আটক করা হয়। ওই হামলার পর গাজা, লেবানন ও ইরানে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে ইসরায়েল।
গাজায় যুদ্ধের কারণে ভূখণ্ডটির বড় অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের হিসাবে, সেখানে ৭৪ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এ যুদ্ধের ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েল ক্রমেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। এসব অভিযোগকে তিনি ‘অযৌক্তিক’ বলে অভিহিত করেন। এ ছাড়া ইসরায়েলে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলাও চলছে। আর এই মামলাকে তিনি প্রভাবশালী মহলের ষড়যন্ত্র বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
রাশিয়ার রাজধানী মস্কো লক্ষ্য করে রাতভর ৬১৩টি ড্রোন ছোড়া হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটি। এর মধ্যে অধিকাংশ ড্রোনই আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রুশ কর্তৃপক্ষ।বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রুশ রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন টেলিগ্রামে জানান, শহরের দিকে এগিয়ে আসার সময় ২৩১টি চালকবিহীন আকাশযান (ইউএভি) ধ্বংস করেছে আকাশ প্রতিরক্ষাবাহিনী। বুধবার সন্ধ্যা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত শহর থেকে দূরবর্তী এলাকাগুলোতে বাকি ড্রোনগুলোও প্রতিহত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
মস্কো অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে চালানো বড় ধরনের ড্রোন হামলাগুলোর মধ্যে এটি সর্বশেষ ঘটনা। এর আগে গত সেপ্টেম্বরে রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষাবাহিনী রেকর্ডসংখ্যক হামলাকারী ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করে। সে সময় ১ হাজার ৬০০টির বেশি ড্রোন ধ্বংসের কথা জানিয়েছিল তারা।
এদিকে ইউক্রেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভেও হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন শহরটির মেয়র ইহর তেরেখভ। টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এ তথ্য জানান।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা শুরু করার প্রস্তাব দিয়েছেন। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজাইকে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি এই আহ্বান জানিয়েছেন। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরানের ওপর স্বল্পমেয়াদি ও তীব্র সামরিক হামলার নির্দেশ দেওয়া থেকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বিরত রাখার মতো কোনো সমঝোতা খুঁজে বের করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বলে জানা গেছে।মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রথম এই যোগাযোগের খবর প্রকাশ করে। মার্কিন কর্মকর্তা ও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের বরাতে তারা জানায় যে, চিঠি এবং পরবর্তী আলোচনায় কোনো নির্দিষ্ট শান্তিচুক্তির শর্ত নিয়ে কথা হয়নি। বরং আলোচনার সম্ভাব্য কাঠামো তৈরির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
পরে নিউইয়র্ক টাইমসও এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা এবং যোগাযোগ সম্পর্কে অবগত এক ইরানি কর্মকর্তার বরাতে একই তথ্য নিশ্চিত করে। সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, গত সপ্তাহে কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে চিঠিটি পাঠানো হয় এবং রোববার তা ইরানি পক্ষের কাছে পৌঁছায়। চিঠিতে ভ্যান্স সরাসরি আলোচনার আহ্বান জানান এবং মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার প্রস্তাব রাখেন। একইসঙ্গে তিনি আলোচনার শুরু থেকেই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে আলোচ্যসূচিতে রাখার কথাও উল্লেখ করেন।
নিউইয়র্ক টাইমসকে এক ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দেশটির নেতৃত্ব এই প্রস্তাবকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। আজকের মধ্যেই মোহসেন রেজাই আনুষ্ঠানিকভাবে এর জবাব দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। দুই পক্ষের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহেই কাতার বা তুরস্কে আলোচনা শুরু হতে পারে।ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সংঘাত বন্ধের লক্ষ্যে ইরানের কাছে একটি নতুন চুক্তির খসড়া উপস্থাপন করেছে কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা। তবে তেহরান ওই পরিকল্পনাকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব হিসেবে মানতে নারাজ; বরং একে একটি ‘অগ্রহণযোগ্য ধারণা’ হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছেন এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা।
সূত্র: আল জাজিরা
স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষ
স্পেনে মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনার পর দেশটিতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) থেকে এই রাষ্ট্রীয় শোক কার্যকর হয়েছে। খবর- বিবিসি।
একই সঙ্গে রেলওয়ের নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ধরনের ত্রুটি পাওয়া গেলে তা দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
দুর্ঘটনার বিষয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বলেন, চলতি বছরের শুরুতে স্পেনের একই রেলপথে ঘটে যাওয়া অন্য আরেকটি দুর্ঘটনায় ৪৮ জন নিহত হয়েছিল। তবে প্রাথমিক পর্যালোচনায় মনে হচ্ছে, বর্তমান দুর্ঘটনার সঙ্গে পূর্বের ওই ঘটনার কোনো মিল নেই। তবুও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের পরই এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
উচ্চগতির রেলব্যবস্থার ওপর জনসচেতনতা ও আস্থা ফেরানোর ওপর জোর দিয়ে পেদ্রো সানচেজ আরও বলেন, স্পেনের মতো দেশে একই বছরে উচ্চগতির ট্রেনের দুটি দুর্ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই খাতে যাত্রীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাবে।
দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনে ধাক্কা দেয় আরেক ট্রেন, ঝরল ৬৮ প্রাণ
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে স্পেনের মধ্যাঞ্চলের তোলেদো প্রদেশে ঘটে এ দুর্ঘটনা। যে দুটি ট্রেন দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে; সেগুলোর দুটিই ছিল দ্রুতগতির ট্রেন। আর দুটি ট্রেন মাদ্রিদ থেকে সোয়েদাদে যাচ্ছিল। ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন অন্ত ৬৮ জন। এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে পরিবহনমন্ত্রী বলেছেন, যেখানে দুর্ঘটনা ঘটেছে সেই অঞ্চলটির রেললাইনের প্রধান এলজেডবি সিগন্যালে ত্রুটি দেখা দেয়। পরে সেখানে থাকা সব ট্রেনকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে থামার সংকেত দেওয়া হয়।
যারমধ্যে ছিল দুর্ঘটনার শিকার হওয়া ‘রেনফে হাইস্পিড ট্রেন’ এবং ‘ইরো ট্রেন’। ওই সময় রেনফে ট্রেনটি পেছনে ছিল। আর ইরো ট্রেনটি ২৫ কিলোমিটার সামনে ছিল।
সিগন্যালে ত্রুটি দেখা দেওয়ার স্পেনের সরকারি রেলঅবকাঠামো পরিচালনা সংস্থা (আদিফ) ট্রেন পরিচালনার কমান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে নেয়।
এরপর যিনি কমান্ডে ছিলেন তিনি ‘রেনফে হাইস্পিড ট্রেনটিকে’ চলার অনুমতি দেন। যদিও সিগন্যালে লালবাতি ছিল।
কিন্তু ২৫ কিলোমিটার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ‘ইরো ট্রেনটি’ দাঁড়িয়েই ছিল।
লালবাতি সত্ত্বেও ‘রেনফে হাইস্পিড ট্রেনটিকে’ শুধুমাত্র চলার অনুমতিই দেওয়া হয়নি, এটিকে কোনো গতির সীমাও বেধে দেওয়া হয়নি। ফলে ‘রেনফে হাইস্পিড ট্রেনটি’ ২০০ কিলোমিটার গতিতে গিয়ে ২৫ কিলোমিটার সামনে থাকা ‘ইরো ট্রেনকে’ সজোরে ধাক্কা মারে।
স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষ
স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে ৬৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৮০ জন। আজ বুধবার দেশটির কাস্তিয়া-লা মাঞ্চা অঞ্চলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। কাস্তিয়া-লা মাঞ্চা অঞ্চল সরকারের বরাতে বার্তাসংস্থা রয়টার্স ও এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে।
ওই অঞ্চলের সরকারের মুখপাত্র এস্তের পাদিয়া এএফপিকে বলেন, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় আজ সকাল ৯টার দিকে মাদ্রিদ থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দক্ষিণে উরদা পৌর এলাকায় সরকারি একটি ট্রেনের সঙ্গে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইরিওর একটি ট্রেনের সংঘর্ষ ঘটে।
ঘটনার পর থেকে মাদ্রিদ থেকে দক্ষিণ স্পেনে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। দুর্ঘটনাস্থলে একাধিক দমকলবাহিনী, তিনটি হেলিকপ্টার ও দুটি ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা ইউনিট কাজ করছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, রেললাইনের ওপর এবং আশপাশে দুটি ট্রেনের ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে রয়েছে। আতঙ্কিত যাত্রীরা দ্রুত সরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
দুর্ঘটনার পর মাদ্রিদে একটি সম্মেলন বাতিল করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। একইসঙ্গে নির্বাচনী প্রচারের সব কার্যক্রম স্থগিত করেছে তার দল।
এ বছর দেশটিতে এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বড় ধরনের ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটল। এর আগে জানুয়ারিতে দক্ষিণাঞ্চলীয় আদামুজ গ্রামের কাছে দুটি দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে ৪৬ জন নিহত হন।
যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের কক্ষে বক্তৃতা চলাকালে কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মঞ্চের দিকে এগিয়ে এসে বাধা দিলে তাকে পিছিয়ে যেতে বলেছেন জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ। গতকাল মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) এ ঘটনা ঘটে।
কিউবার সরকার নিজেদের নেতাদের সম্পদশালী করেছে আর জনগণ ভুগছে এমন অভিযোগ করে ওয়াল্টজ বলেন, আমরা জানি। আমরা জানি, তা কোথায় গেছে। আর আজ আমরা তা বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে এখানে এসেছি।
কিউবার প্রতিনিধিদল তার বক্তব্যে বাধা দিতে চাইলে পাল্টা জবাব দেন ওয়াল্টজ। তিনি বলেন, আমি জানি, আপনারা এটা শুনতে পছন্দ করেন না। এটা আমেরিকা, বন্ধু। এটা জাতিসংঘ। এটা আপনাদের কমিউনিস্ট একনায়কতন্ত্র নয়। আপনারা আমাকে থামাতে পারবেন না।
সাধারণ পরিষদের সভাপতি শৃঙ্খলা ফেরানোর চেষ্টা করে প্রতিনিধিদের মনে করিয়ে দেন, জবাব দেওয়ার সুযোগ তারা পাবেন। তবু কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ পারিয়া মঞ্চের দিকে এগোতে থাকেন।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ওয়াল্টজ বলেন, এই ব্যক্তির এই মঞ্চ থেকে সরে যাওয়া উচিত। যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে তিনি আমাকে ভয় দেখাতে পারবেন না। তিনি আরও বলেন, আমি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি। পিছিয়ে যান! পিছিয়ে যান, রাষ্ট্রদূত। সরে যান! এটা হাভানা নয়।
কিউবার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক দশকের পুরোনো অবরোধ নিয়ে সাধারণ পরিষদের বার্ষিক বিতর্কের সময় এ বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। ওয়াল্টজ সদস্য দেশগুলোকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আহ্বান জানানো প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করতে অনুরোধ করছিলেন। পরে কিউবাকে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হলে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াল্টজকে মিথ্যাবাদী বলে অভিযোগ করেন এবং সাধারণ পরিষদের সভাপতিকে তাকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে বলেন।
রদ্রিগেজ বলেন, ‘মি. ওয়াল্টজ আবারও মিথ্যা বলছেন।’
তার যুক্তি, মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য এ ফোরাম ও সদস্য দেশগুলোর মর্যাদার সঙ্গে বেমানান এবং কিউবার সরকার ও জনগণের প্রতি অবমাননাকর।
পরবর্তীতে সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া একটি পোস্টে ওয়াল্টজ দাবি করেন, কিউবার কমিউনিস্ট নেতারা তাঁদের বিলাসবহুল রিয়েল এস্টেট সম্পদের বিষয়টি গোপন রাখতে চান। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, তিনি উপযুক্ত প্রমাণ নিয়েই উপস্থিত হয়েছিলেন, যা কিউবার প্রতিনিধিদলের পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব হয়নি।
সূত্র: ফক্স নিউজ