ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৫১ এএম

কনটেইনার থেকে কাচের প্যানেলভর্তি ভারী বাক্স নামানোর সময় দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন তিন বাংলাদেশি। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে ভারত মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র মরিশাসে কর্মস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।


নিহতরা হলেন মোহাম্মদ মিরাজ হোসেন (৩৬), হোসেন মো. বেলাল (৩৭) ও সিকদার জুবায়েদ ইসলাম (২৫)।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দেশটির উত্তরাঞ্চলের প্লেইন-দে-পাপাইয়েস এলাকার মসজিদ রোডে একটি প্রতিষ্ঠানের চত্বরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।


প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, শ্রমিকরা কনটেইনার থেকে ৪১টি কাচের প্যানেলযুক্ত একটি বাক্স নামাচ্ছিলেন। প্রতিটি কাচের প্যানেলের আকার ছিল ছয় ফুট বাই আট ফুট।


এ সময় ভারী বাক্সটি হঠাৎ উল্টে তাদের ওপর পড়ে। এতে বাক্স ও কাচের প্যানেলের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই তিন শ্রমিকের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে প্লেইন-দে-পাপাইয়েস পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। পরে মরিশাস ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধারকাজে অংশ নেন। তারা তিন শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালের মর্গে পাঠান।


সূত্র: ল্য ডেফি মিডিয়া




ডোনাল্ড ট্রাম্প

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:০৩ পিএম

ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে একই সঙ্গে তিনি দেশটিতে আর কোনো ধ্বংসযজ্ঞ না চালানোর পক্ষপাতী বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সুস্পষ্ট সম্মতি ছাড়া তেহরান তাদের পরমাণু কর্মসূচি এগিয়ে নিতে পারবে না বলেও দৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়েছেন তিনি।স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘সম্ভব হলে বাকি দেশটিকে আমি ধ্বংস করতে চাই না, তবে হয়তো আমাকে তা করতে হতে পারে। আপনারা বিষয়টি খুব দ্রুতই জানতে পারবেন।’ ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রমের ওপর কড়া নজরদারির কথা উল্লেখ করে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, ‘আমাদের অনুমোদন ছাড়া তারা কিছুই করতে পারছে না।’


যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান দলের পরাজয়ের পর দীর্ঘ আট মাস ধরে চলমান ইরান যুদ্ধ ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক চাপের মধ্যে পড়েছেন ট্রাম্প। সংঘাতের কারণে সৃষ্ট জনঅসন্তোষ এবং জ্বালানি তেলের লাগাতার মূল্যবৃদ্ধি এই নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের আসন লাভের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


নির্বাচনের আগেও ট্রাম্প বারবার হুমকি দিয়ে আসছিলেন যে, ওয়াশিংটনের গ্রহণযোগ্য শর্তে তেহরান চুক্তিতে না এলে দেশটিতে পুনরায় বড় ধরনের সামরিক হামলা চালানো হবে। এরই মধ্যে সংঘাতের আঁচ ছড়িয়ে পড়েছে লোহিত সাগরেও, যেখানে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের অব্যাহত হামলা ও আঞ্চলিক বাহিনীর পাল্টা পদক্ষেপে সামগ্রিক পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিয়েছে।


উভয় দেশের মধ্যকার সাম্প্রতিক ঘটনাবলিতে দেখা যাচ্ছে কূটনৈতিক ব্যবধান ক্রমেই বাড়ছে। কাতারকে মধ্যস্থতাকারী করে ইরান নিজেদের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে বলে জানা গেছে। তবে তেহরানের স্পষ্ট শর্ত—নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, বিদেশে আটকে থাকা ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করা এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ প্রদানসহ তাদের দাবিগুলো ওয়াশিংটন মেনে নিলেই কেবল আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বসা সম্ভব।


যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ইরানের পাঠানো প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করে দেখছে, যদিও একই সময়ে সামরিক পদক্ষেপের বিকল্পও উন্মুক্ত রেখেছেন ট্রাম্প। এদিকে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিসংলগ্ন জলসীমায় সামরিক উত্তেজনা এখনো চরম আকার ধারণ করে রয়েছে।


  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:১৯ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে এবং পারমাণবিক আলোচনা শুরুর আগে সাতটি শর্ত দিয়েছে ইরান। কাতারের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনের কাছে নতুন একটি পারমাণবিক প্রস্তাবও পাঠিয়েছে তেহরান। তবে ইরানের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া হবে না এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনাও শুরু হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে দেশটি।


ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ও বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) কাতারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রস্তাবটি পাঠায় ইরান।


দেশটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করছে। তবে প্রস্তাবের বিস্তারিত বিষয়বস্তু প্রকাশ করেননি তিনি।


ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজায়ী এর আগে জানিয়েছিলেন, কূটনৈতিক আলোচনা শুরুর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সাতটি শর্ত তুলে ধরেছে তেহরান। এসব শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া হবে না এবং কোনো আলোচনাও হবে না।


ইরানের সাত শর্তের মধ্যে যা রয়েছে


ইরানের পক্ষ থেকে সাতটি শর্তের পূর্ণাঙ্গ তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে দেশটির কর্মকর্তাদের বক্তব্য ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—


১. মধ্যপ্রাচ্যের সব রণাঙ্গনে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে।


২. ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা নৌ অবরোধ তুলে নিতে হবে।


৩. ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে।


৪. বিদেশে জব্দ করে রাখা ইরানের সম্পদ ও অর্থ ফেরত দিতে হবে।


৫. মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি কমাতে হবে।


৬. যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।


৭. ভবিষ্যতে ইরানের ভূখণ্ডে সামরিক হামলা না চালানোর নিশ্চয়তা দিতে হবে।


ইরানের এসব দাবির মধ্যে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দ করা সম্পদ ফেরত এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে রয়টার্স। তবে বাকি শর্তগুলোর বিস্তারিত আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই করা যায়নি।


এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা নাকচ করেননি। অন্যদিকে, ওয়াশিংটন জানিয়েছে, যেকোনো প্রাথমিক আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।


ফলে যুদ্ধ বন্ধ, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই দেশের অবস্থানের মধ্যে বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে। কাতারের মধ্যস্থতায় কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও সমঝোতা কতটা সম্ভব, তা এখনো স্পষ্ট নয়।


তথ্যসূত্র: এনডিটিভি ও রয়টার্স। 


  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:২৯ এএম

তুরস্কের পশ্চিমাঞ্চলীয় আফিয়নকারাহিসার প্রদেশের তিনটি গ্রামে বন্দুকধারীর গুলিতে অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও একজন। হামলাকারীকে ধরতে ব্যাপক অভিযান শুরু করেছে দেশটির পুলিশ।


বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যার দিকে প্রদেশটির গ্রামীণ এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। এলাকাটি রাজধানী আঙ্কারা ও উপকূলীয় শহর ইজমিরের মাঝামাঝি অবস্থিত।


প্রাদেশিক গভর্নরের কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানায়, সশস্ত্র হামলায় আটজন প্রাণ হারিয়েছেন। আহত একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।


তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলুর বরাতে জানা যায়, ইউকারিতানদির গ্রামে সড়কের ওপর গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দুই নারীকে উদ্ধার করা হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়।


এ ছাড়া ওই গ্রামের প্রায় আধা ঘণ্টার পথ দূরে কিয়ির গ্রামে আরও তিনজনের মরদেহ পাওয়া যায়। একইভাবে আরও আধা ঘণ্টা দূরের আয়াজিনি গ্রামে উদ্ধার করা হয় আরও তিনজনের মরদেহ।


হামলায় আহত গুরুতর অবস্থায় থাকা ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে তিনি কোন গ্রামে হামলার শিকার হয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।


বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এনটিভি জানিয়েছে, হামলার পর লাল রঙের একটি গাড়িতে করে এক সন্দেহভাজনকে পালিয়ে যেতে দেখা গেছে। পুলিশ ওই গাড়ি ও সন্দেহভাজন ব্যক্তির সন্ধানে অভিযান চালাচ্ছে।


তবে হামলার কারণ, নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় কিংবা সন্দেহভাজন হামলাকারীর পরিচয় সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি কর্তৃপক্ষ।


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:৪৭ পিএম

মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের দুই কক্ষেই নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর ডেমোক্র্যাটদের অভিশংসন উদ্যোগের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য। তবে তৃতীয়বার অভিশংসনের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ উড়িয়ে দিয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, তাকে অভিশংসনের চেষ্টা করলে ডেমোক্র্যাটরাই ‘ধ্বংস’ হবে। ট্রাম্পের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র এখন ইতিহাসের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি সফল।

মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে রিপাবলিকানরা। এতে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সি চাপে পড়তে পারে এবং তার প্রশাসনের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড থেকে শুরু করে পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ রদবদল, বিভিন্ন বিষয়ে তদন্তের পথ খুলতে পারে।

ট্রাম্প বলেন, ‘একটুও উদ্বিগ্ন নই। তারা যদি এটা করে, আমার মনে হয় ডেমোক্র্যাট পার্টিই ধ্বংস হয়ে যাবে।’ কোনো কারণ ছাড়াই অভিশংসনের উদ্যোগ নেওয়ার সমালোচনা করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘একটি সফল দেশ পরিচালনার জন্য অভিশংসন?’ নির্বাচনের পর ডেমোক্র্যাটরা সিনেটে সাতটি আসন বাড়িয়ে ৫৪টি আসন পেয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। আলাস্কা ও মিসিসিপিতে ফল তখনো অনিশ্চিত ছিল। প্রতিনিধি পরিষদে দলটি ২৫টি আসন বাড়িয়ে ২৪০-এ পৌঁছেছে, সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ২১৮টি আসন।

ডেমোক্র্যাটদের নেতা হাকিম জেফ্রিস বলেছেন, অভিশংসনের বিষয়ে তারা কোনো সিদ্ধান্ত আগেভাগে নেননি, আবার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি। তবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে সরানোর বিষয়ে তিনি স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছেন। জেফ্রিস আরও বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর তাদের প্রথম কাজগুলোর একটি হবে হেগসেথকে দায়িত্ব থেকে সরানো।

এদিকে ট্রাম্প হেগসেথের জায়গায় ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিস্যান্টিসকে আনার কথা ভাবছেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ পরিচালনা নিয়ে হেগসেথের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

ট্রাম্প এর আগে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে ক্ষমতার অপব্যবহার ও কংগ্রেসের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে অভিশংসিত হন। ইউক্রেনের কাছে সামরিক সহায়তা আটকে রেখে ২০২০ সালের নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপ চাওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছিল তার বিরুদ্ধে। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে সিনেট দুই অভিযোগেই তাকে নির্দোষ ঘোষণা করে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নির্বাচনে পরাজয়ের কারণ হিসেবে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কথা বলেছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তবে ট্রাম্পের দাবি, যুদ্ধটি সার্থক ছিল।


মদিনা

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:৫১ পিএম

পবিত্র মদিনার দিকে নিক্ষেপ করা ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের দাবি করেছে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট।


বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ক্ষেপণাস্ত্রটি ধ্বংস করা হয় বলে জানিয়েছেন সৌদির নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র কর্নেল তুর্কি আল-মালিকি।


জোটের মুখপাত্র বলেন, ‘মদিনা অঞ্চলের দিকে হুথি বিদ্রোহীদের নিক্ষেপ করা একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে।’


এর আগে সৌদি আরবের মদিনা প্রদেশের লোহিত সাগর উপকূলবর্তী ইয়ানবু গভর্নরেট এলাকায় দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ অল্প সময়ের জন্য সতর্কতা জারি করেছিল। 


সূত্র: মিডল-ইস্ট আই


ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৪১ পিএম

নির্বাচনে ব্যর্থতার পর এবার আরও বড় এক ধাক্কা এসে লেগেছে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মসনদে। দীর্ঘদিনের মিত্র অতি-গোঁড়া ইহুদিদের একটি রাজনৈতিক দল তার পাশে দাঁড়াতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।


বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দলটি জানিয়ে দিয়েছে, নতুন সরকার গঠনের জন্য তারা নেতানিয়াহুর নাম সুপারিশ করবে না। এতে সরকার গঠনের পথে বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকটের সামনে বড় সুযোগ এসে হাজির হয়েছে। খবর টাইমস অব ইসরায়েলের


প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনের পর রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দ্বিতীয় দিনের মতো আলোচনা করছেন ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ। নির্বাচনে নেতানিয়াহু কিংবা আইজেনকট—কেউই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাননি। তিন বছর ধরে যুদ্ধের মধ্য দিয়ে ইসরায়েলকে নেতৃত্ব দেওয়া ডানপন্থি নেতা নেতানিয়াহু দেশটিতে বেশ বিতর্কিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত।


ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম নামের অতি-গোঁড়া ইহুদিদের দলটি আগের পাঁচটি নির্বাচনে নেতানিয়াহুকে সমর্থন দিয়েছিল। কিন্তু এবার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে তারা নতুন সরকার গঠনের জন্য নেতানিয়াহুর নাম সুপারিশ করেনি। তবে বিরোধী নেতা আইজেনকটকেও সমর্থন দেয়নি দলটি।প্রেসিডেন্টের দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ১২০ সদস্যের পার্লামেন্ট নেসেটে সাত আসন পাওয়া দলটি কোনো সংসদ সদস্যের নামই সরকার গঠনের জন্য সুপারিশ না করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।


ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম মূলত ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত আশকেনাজি অতি-গোঁড়া ইহুদিদের প্রতিনিধিত্ব করে। অন্যদিকে একই ধরনের আরেকটি দল শাস প্রতিনিধিত্ব করে সেফারদি ইহুদিদের, যাদের অধিকাংশের শিকড় মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায়।


ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতি বহাল রাখার দাবিতে দুই দলই দীর্ঘদিন ধরে নেতানিয়াহুর সমর্থন পেয়ে আসছে। নেতানিয়াহু এই অব্যাহতি বহাল রাখলেও আইন করে স্থায়ী রূপ দেননি। গাজা, লেবানন ও ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে ইসরায়েলের সংরক্ষিত সেনাদের বারবার দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এ অবস্থায় ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে দেশটির সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে।


ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজমের আইনপ্রণেতা আইজ্যাক পিনড্রাস বলেন, পরবর্তী যে সরকারই গঠিত হোক না কেন, আমাদের প্রথম কাজ হবে তোরাহর শিক্ষার্থীদের অবস্থান নির্ধারণের বিষয়টি সমাধান করা।


অন্যদিকে সাবেক সেনাপ্রধান আইজেনকট মধ্যপন্থি ও মধ্য-ডানপন্থি দলগুলোকে একত্র করে সরকার গঠনের চেষ্টা করছেন। বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা থেকে ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের অব্যাহতি বন্ধ করার বিষয়ে তিনি অনড়।


পর্যবেক্ষকদের ধারণা, ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজমের এই অবস্থানের উদ্দেশ্য নেতানিয়াহুকে চাপে রাখা এবং বোঝানো যে তাদের সমর্থন নিশ্চিত ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। তবে নেতানিয়াহু সরকার গঠনে সফল হলে দলটি সেই সরকারে যোগ দিতেও পারে।


বৃহস্পতিবার প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রেসিডেন্ট হারজগ। এরপর তিনি একজন আইনপ্রণেতাকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেবেন। সাধারণত কোন নেতা সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক দলের সমর্থন পেয়েছেন, তা বিবেচনা করেই প্রেসিডেন্ট এই সিদ্ধান্ত নেন। সে হিসাবে আইজেনকটের দায়িত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।


সরকার গঠনের দায়িত্ব পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট আইনপ্রণেতা ২৮ দিন সময় পাবেন। প্রয়োজনে আরও ১৪ দিন সময় বাড়ানো হতে পারে। এই সময়ের মধ্যে সরকার গঠন করতে ব্যর্থ হলে প্রেসিডেন্ট অন্য কাউকে দায়িত্ব দেবেন।


নতুন পার্লামেন্টে নেতানিয়াহুর জোটের আসনসংখ্যা ৫৩। এর মধ্যে ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজমের আসনও রয়েছে। অন্যদিকে আইজেনকটের জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন।


এদিকে ইসরায়েলের আরব দলগুলোর আসনসংখ্যা বেড়ে ১৯-এ দাঁড়িয়েছে। আইজেনকট চাইলে এসব দলের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করতে পারেন। তবে তাতে বিরোধী জোটের কিছু সমর্থককে হারানোর ঝুঁকি রয়েছে।