ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৫৫ এএম

ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, সরকারি সেবার মান কমে যাওয়া এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক সংকটের প্রতিবাদে দেশজুড়ে বিক্ষোভ ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। গতকাল শনিবারের বিক্ষোভে সরকারি ভবনে আগুন দেওয়া, দোকানপাটে লুটপাট ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ১২০০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ১৫০ পুলিশ সদস্য। আজ রোববার রয়টার্স ও দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভে কয়েক লাখ মানুষ অংশ নেন। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, বিক্ষোভকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার। তবে দেশটির অন্যতম বড় শ্রমিক সংগঠন সিজিটি জানিয়েছে, এ সংখ্যা প্রায় ৮ লাখ।


অধিকাংশ মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে মিছিলে অংশ নিলেও কিছু বিক্ষোভকারী সহিংসতায় জড়িয়ে পড়েন। তারা সরকারি ভবন, বিলাসবহুল পণ্যের দোকান ও সুপারমার্কেটে হামলা চালান। পুলিশের গাড়ি ও সদস্যদের ওপরও আক্রমণ করা হয়।


সরকারি ভবনে আগুন, দোকানে লুটপাট


ফ্রান্সের লিমোজ শহরে বিক্ষোভকারীদের দেওয়া আগুনে সিটি হলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা মরিস বারাত এএফপিকে বলেন, আগুনে ভবনটির ছাদ ধসে নিচের তলাগুলোর ওপর পড়ে। পশ্চিম দিকের অংশ ছাড়া ভবনটির বড় একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১৪৩ বছরের পুরোনো ভবনটির এ ক্ষতিকে ঐতিহ্যের জন্য বিপর্যয় বলে বর্ণনা করেন তিনি।


মার্সেই শহরেও বিক্ষোভকারীরা সিটি হলে ঢুকে পড়েন। তারা নিরাপত্তাবেষ্টনী দিয়ে ভবনের দরজায় আঘাত করেন। পরে ভবনের দেয়ালে নৈরাজ্যবাদের প্রতীক ‘এ’ লিখে দেন। পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়। লিয়ঁ শহরে পর্যটন কার্যালয়েও আগুন দেওয়া হয়।


রাজধানী প্যারিসের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। প্লাস দ্য লা রিপাবলিক এলাকায় শান্তিপূর্ণ মিছিল একপর্যায়ে সহিংস হয়ে ওঠে। কালো পোশাক ও মুখোশ পরা বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে আতশবাজি ও পাথর ছোড়েন। তারা একটি ব্যাংকে হামলা চালান এবং ক্রীড়াসামগ্রীর দোকানে লুটপাট করেন।


শহরের বিভিন্ন এলাকায় ময়লার পাত্র ও গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। কোথাও কোথাও আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের ভবনেও। বুলেভার্দ ম্যাজেন্তা এলাকায় বহু দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। গ্যালারি লাফায়েত ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে ঢোকারও চেষ্টা করেন বিক্ষোভকারীরা। এ সময় পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে।


কেন এই বিক্ষোভ


গত মাসে প্যারিসের উত্তরাঞ্চলের নিম্নআয়ের এলাকার কয়েকটি স্কুলে বিক্ষোভ শুরু হয়। শিক্ষক অনুপস্থিতি, শিক্ষক সংকট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জরাজীর্ণ অবকাঠামো নিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ থেকে এর সূত্রপাত। পরে তা দেশজুড়ে বৈষম্য, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরকারি ব্যয় কমানোর বিরুদ্ধে বৃহত্তর আন্দোলনে রূপ নেয়।


বিক্ষোভকারীদের দাবির মধ্যে রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আরও শিক্ষক নিয়োগ, শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করা, মজুরি ও পেনশন বাড়ানো এবং জনসেবামূলক খাতের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।


প্যারিসের ১৯ বছর বয়সী বিক্ষোভকারী লোলা বলেন, জীবনযাত্রার ব্যয় অসহনীয় হয়ে উঠেছে। জ্বালানির দামও অনেক বেশি। ভালো শিক্ষার পরিবেশ ও আরও শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে বিক্ষোভ করায় দেশের বিভিন্ন স্থানে স্কুলশিক্ষার্থীদের ওপর হামলা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।


২০১৮ সালে ফ্রান্সে জ্বালানির দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলন শুরু হয়েছিল। এবারের বিক্ষোভেও হলুদ রঙের উজ্জ্বল নিরাপত্তা পোশাক পরে অনেকে রাস্তায় নামেন। শনিবারের বিক্ষোভে জনসমাগম ওই আন্দোলনের সর্বোচ্চ পর্যায়ের চেয়েও বেশি ছিল বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ২০২৩ সালে পেনশন সংস্কারের বিরুদ্ধে হওয়া বিক্ষোভের তুলনায় এবারের সমাগম কম ছিল বলে জানানো হয়েছে।


সহিংসতার জন্য উগ্র বামপন্থিদের দায়ী করল সরকার


ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু সহিংসতার জন্য উগ্র বামপন্থি গোষ্ঠী ও অপরাধীদের দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, সহিংসতার মাধ্যমে কেউ সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারবে না।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, আগামী বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে যারা সহিংসতাকে প্রস্তুতি হিসেবে ব্যবহার করতে চায়, তাদের ভয় পাবে না সরকার। সহিংসতার মাধ্যমে কাউকে রাজনৈতিক কর্মসূচি চাপিয়ে দিতে দেওয়া হবে না।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ বলেন, কিছু সুযোগসন্ধানী অপরাধী বিক্ষোভকে লুটপাটের কাজে ব্যবহার করেছে। তাদের শনাক্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি অবস্থা ঘোষণার পরিকল্পনা নেই বলেও জানান তিনি।


প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ হামলাকারীদের বিচারের মুখোমুখি করার অঙ্গীকার করেছেন। তিনি বলেন, যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায় এবং শান্তিপূর্ণভাবে দাবি জানানো মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ন করে, তাদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।


পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন


বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশের কাঁদানে গ্যাস ও অন্যান্য নিয়ন্ত্রণমূলক অস্ত্রের ব্যবহার নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে। পুলিশের অভিযানে আহত হওয়ার ঘটনাগুলোও তদন্তের আওতায় এসেছে।


পুলিশের বিরুদ্ধে সহিংসতার অন্তত দুই ডজন অভিযোগ তদন্ত করছে সংশ্লিষ্ট নজরদারি সংস্থা।


শনিবারের সংঘর্ষে এক ব্যক্তি হাত হারিয়েছেন বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নুনেজ নিশ্চিত করেছেন। ফরাসি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ব্যক্তি পুলিশের ছোড়া একটি স্টান গ্রেনেড তুলতে গেলে এ ঘটনা ঘটে।


এর আগে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরের হাত হারানোর ঘটনার পর পুলিশের ব্যবহৃত এক ধরনের স্টান গ্রেনেডের ব্যবহার স্থগিত করা হয়েছিল। তবে শনিবার সেটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয় বলে দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


প্রধানমন্ত্রী লেকর্নু জানিয়েছেন, শনিবারের সংঘর্ষে ১৫০ জনের বেশি পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। অন্যদিকে পুলিশের একটি ইউনিয়ন জানিয়েছে, বিভিন্ন স্থানে পুলিশ সদস্যদের ওপর লাঠি ও ইট দিয়ে হামলা হয়েছে।


ফ্রান্সে আগামী বছর প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হওয়ার কথা। রাজনৈতিক বিভাজন, অর্থনৈতিক চাপ ও জনসেবার মান নিয়ে অসন্তোষের মধ্যে এই বিক্ষোভ দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন চাপ তৈরি করেছে।


সরকারের ঋণ কমানোর প্রচেষ্টার মধ্যেও দেশটির সরকারি ঋণ নেওয়ার ব্যয় দুই দশকের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলেও জানিয়েছে রয়টার্স।




ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:১৫ পিএম

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা দাবি করেছে, সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় নাজরান এলাকার কাছে তারা দেশটির সামরিক বাহিনীর একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করেছে। সৌদি আরবের পক্ষ থেকেও এক বিবৃতিতে নাজরান অঞ্চলে তাদের হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুই ক্রু নিহত হয়েছেন।


ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি রোববার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘কারিগরি ত্রুটি’র কারণে একটি এএইচ-৬আই গোয়েন্দা হেলিকপ্টার নাজরান অঞ্চলে বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে হেলিকপ্টারটির দুই ক্রু নিহত হয়েছেন। হেলিকপ্টারটি সৌদি ন্যাশনাল গার্ড মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি এলাকায় বিধ্বস্ত হয়।


এদিকে, হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেছেন, সৌদি-ইয়েমেন সীমান্তে হুতিদের অবস্থান লক্ষ্য করে ‘শত্রুতামূলক অভিযান’ চালানোর সময় হুতি বাহিনী ওই হেলিকপ্টার ভূপাতিত করেছে।


এর আগে গত মাসে সৌদি আরবের একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছিল হুতিরা।


সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নাজরান এলাকায় সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরান-সমর্থিত হুতিদের হামলা বেড়েছে।


গত জুলাইয়ে সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে নতুন করে লড়াই শুরু হয়। তারপর থেকে হুতিরা দেশটির বিমানবন্দর, জ্বালানি অবকাঠামোসহ বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে আসছে।


উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা তীব্র হওয়ার জেরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধে ইয়েমেন আরেকটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।


হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি গতকাল শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, নাজরানের কাছে একটি সৌদি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করেছে হুতিরা। তাঁর দাবি, সীমান্ত এলাকায় হুতিদের অবস্থান লক্ষ্য করে ‘শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড’ চালানোর সময় হেলিকপ্টারটি ভূপাতিত করা হয়।


সারির এ পোস্টের জবাবে আজ ভোরে আল-মালিকি কয়েকটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার সারিবদ্ধ অবস্থায় থাকা একটি ছবি পোস্ট করেন। তিনি লেখেন, ‘আপনারা দাবি করছেন, এটি ভূপাতিত করেছেন। কিন্তু এটি শিগগিরই যুদ্ধক্ষেত্রে ফিরবে।’


আল-মালিকি পোস্টে আরও দাবি করেন, হুতিদের ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তারা আকাশে ধ্বংস করেছেন। ক্ষেপণাস্ত্র দুটি সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খামিস মুশাইত শহর লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল।


এ ঘটনার কিছুক্ষণ আগে সৌদি আরবের সিভিল ডিফেন্স আগাম সতর্কতা ব্যবস্থার মাধ্যমে রাজধানী রিয়াদ এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় আবহা ও খামিস মুশাইত শহরে ‘সম্ভাব্য বিপদ’ সম্পর্কে সতর্ক করেছিল। পরে সংস্থাটি জানায়, বিপদের আশঙ্কা কেটে গেছে।


গতকাল আল-মালিকি জানিয়েছিলেন, জোট বাহিনী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে রিয়াদ অঞ্চল, পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ ও সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে চারটি ড্রোন ধ্বংস করেছে।


সৌদি জোটের পক্ষ থেকে একটি ভিডিও ফুটেজও প্রকাশ করা হয়েছে। ভিডিওতে দাবি করা হয়, উত্তর ইয়েমেনের সাদায় দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকেন্দ্রে বিমান হামলা চালিয়ে সেগুলো ধ্বংস করা হয়েছে। ওই উৎক্ষেপণকেন্দ্রগুলো থেকে সৌদি আরবের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল।


সাম্প্রতিক এসব ঘটনা সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ২০২২ সালে হওয়া একটি যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর গত জুলাই থেকে দুই পক্ষের সংঘাত তীব্র হয়েছে।


২০১৪ সালে হুতিরা রাজধানী সানা ও আরও কয়েকটি প্রদেশ দখল করে নেওয়ার পর থেকে ইয়েমেনে সংঘাত চলছে। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিতে ২০১৫ সালের মার্চে সৌদি আরবের নেতৃত্বে একটি সামরিক জোট দেশটিতে অভিযান শুরু করে।


হুতিরা এখনো সানা ও ইয়েমেনের আরও কয়েকটি এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। এদিকে, সৌদি ভূখণ্ডে হামলা আঞ্চলিক সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।


উল্লেখ্য, ১০ অক্টোবর রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের হামলায় ১৩ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হন। পরদিন বিমানবন্দরে আবার হামলা চালানো হয়। হামলায় আরও ১ জন নিহত হন, আহত ১২ জন।


বিমানবন্দরে হামলার তিন দিন পর ১৩ অক্টোবর সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি আরামকোর প্রধান কার্যালয়ে হুতিরা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এতে কেউ হতাহত না হলেও পূর্বাঞ্চলীয় শহর ধাহরানে অবস্থিত কার্যালয়টির একটি ভবনে আগুন ধরে যায়। এতে ভবনটির কয়েকটি তলা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।



ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:১৭ পিএম

পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার মুক্তারাম বাবু স্ট্রিটের চোরবাগান সর্বজনীন পূজামণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড়ে পদদলিত হয়ে মৃত্যু বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯ জনে। তাদের মধ্যে ১৭ জনই ঘটনাস্থলে মারা যান। রোববার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দেওয়া তথ্যের বরাতে এই খবর জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য স্টেটসম্যান।


সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শুভেন্দু জানান, এই ঘটনায় আহত ২৫ জন হাসপাতালে আছেন। তাদের মধ্যে ২৪ জন শঙ্কামুক্ত হলেও একজনের অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক।


তিনি জানান, স্বজনহারা ১৯টি পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩টি পরিবারের সঙ্গে তিনি সরাসরি দেখা করে আশ্বস্ত করেছেন, সরকার তাদের পাশে আছে এবং সব রকম সহযোগিতা করবে।


মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, পশ্চিমবঙ্গ সরকার ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পাশাপাশি একটি করে চাকরি দেবে। এ ছাড়া আহত প্রত্যেকের চিকিৎসার শতভাগ খরচ সরকার বহন করবে এবং পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।


তিনি উল্লেখ করেন, রাজ্যজুড়ে ৫৮ হাজার স্থানে পূজা হচ্ছে। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সবারই সতর্ক থাকা এবং প্রয়োজনীয় সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। ভিড় নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।


গতকাল সন্ধ্যার দিকে চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপূজা মণ্ডপের বের হওয়ার গেটের কাঠামোর একটি অংশ ভেঙে পড়লে দর্শনার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় পদদলিত হয়ে হতাহতের ঘটনা ঘটে। এরপর মুখ্যমন্ত্রী বিজেপির রাজ্য সভাপতি এবং দলের রাজ্যসভার সাংসদদের সঙ্গে নিয়ে কলকাতা মেডিকেল কলেজে যান এবং সেখানে চিকিৎসাধীনদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন।


এদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও এ ঘটনায় মৃত প্রত্যেকের পরিবারকে ২ লাখ রুপি করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী শোক প্রকাশের পাশাপাশি আহতদের সুস্থতা কামনা করেন। এদিকে চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপূজায় ভিড়ের চাপে পদদলিত হওয়ার ঘটনায় পূজা কমিটির সম্পাদক ও সহ-সভাপতিসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে কলকাতা পুলিশ।


পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারদের মধ্যে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা দুজন এবং নির্মাণকাজের দায়িত্বে থাকা এক ব্যক্তিও রয়েছেন।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:২৬ এএম

ভারতের মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রে শীতলা মাতা মন্দিরের কাছে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুণ্যার্থীদের ওপর উঠে গেছে একটি ট্রাক। এতে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অনেকে।  খবর এনডিটিভির


শনিবার (১৭ অক্টোবর) গভীর রাতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার সময় ট্রাকটি পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে রাস্তা দিয়ে যাওয়া পুণ্যার্থীদের চাপা দেয়। পরে মন্দিরের ফটক ও বাইরের দেয়ালে ধাক্কা লাগে ট্রাকটির।


গোয়ালিয়রের জ্যেষ্ঠ পুলিশ সুপার (এসএসপি) ধর্মবীর সিং জানান, রাত দেড়টার দিকে ধানবোঝাই ট্রাকটি চিননোর দিক থেকে আসছিল। ওই সড়কে ঢাল বেশি হওয়ায় ভারী যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কিন্তু ট্রাকটি সেখানে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিচের দিকে নেমে আসে। এ সময় রাস্তার ওপর থাকা পুণ্যার্থীরা ট্রাকটির নিচে চাপা পড়েন। পরে ট্রাকটি মন্দিরের বাইরের দেয়াল ও ফটকে ধাক্কা দেয়।


ধর্মবীর সিং বলেন, এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা। বিপুলসংখ্যক পুণ্যার্থী শীতলা মাতা মন্দিরে যাচ্ছিলেন। চিননোর দিক থেকে আসা সড়কটিতে খাড়া ঢাল রয়েছে এবং সেখানে ভারী যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আছে। রাত দেড়টার দিকে ধানবোঝাই একটি ট্রাক সেখানে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিচে নেমে আসে। এতে রাস্তার ওপর থাকা পুণ্যার্থীরা চাপা পড়েন।


তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালনরত দুই পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন। তাদের চিকিৎসা চলছে।


পুলিশ সুপার বলেন, দুর্ঘটনার পর ৩৯ জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহতদের মধ্যে পাঁচ থেকে ছয়জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে হাড় ভেঙেছে। বাকিরা সামান্য আহত হয়েছেন এবং চিকিৎসাধীন রয়েছেন।


গোয়ালিয়রের জেলা প্রশাসক রুচিকা চৌহানও দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই উদ্ধারকাজের জন্য অ্যাম্বুলেন্সসহ অন্যান্য যানবাহন পাঠানো হয়। 


প্রকাশ রাজ

  • প্রকাশ : শনিবার ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:২৬ পিএম

বাংলাদেশের বা নেপালের মতো গণবিক্ষোভের মাধ্যমে নয়, বরং গণতান্ত্রিক উপায়ে ও ভোটের মাধ্যমেই ভারতের বর্তমান সরকারের পতন ঘটানো হবে বলে মন্তব্য করেছেন অভিনেতা প্রকাশ রাজ। আজ শনিবার (১৭ অক্টোবর) ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে এই খবর জানানো হয়েছে।


দিল্লিতে তিরাঙ্গা মার্চ কর্মসূচির আগে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজিপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেসহ অন্যান্য আন্দোলনকারীদের আটকের তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রকাশ রাজ বলেন, ভারত কোনো বাংলাদেশ বা নেপাল নয়, কারণ এ দেশের জনগণের হাতে সংবিধান, মহাত্মা গান্ধী, বি আর আম্বেদকর ও ভগত সিংয়ের আদর্শের পাশাপাশি ভোটাধিকার রয়েছে।


প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলা আন্দোলনে পুলিশের বলপ্রয়োগ ও দমনপীড়নের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা না করে শক্তি প্রয়োগ করছে, যা জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। 


প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘হর ঘর তিরাঙ্গা’ স্লোগানকে স্মরণ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, দেশের যুবসমাজ জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে পথে নামলে কেন তাদের বাধা দেওয়া হচ্ছে।


সংবিধান প্রদত্ত প্রতিবাদের অধিকারের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, বলপ্রয়োগ করে আন্দোলন থামানো যাবে না এবং আসন্ন শীতকালীন অধিবেশনে বিরোধী দলগুলোর এই বিষয়ে সোচ্চার হওয়া উচিত। কৃষক সংগঠন ও সুশীল সমাজের সহযোগিতায় এই আন্দোলন আরও বেগবান হবে বলে তিনি হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন।


সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে


মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট হওয়া মিন অং হ্লাইং ও যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইকেল ভ্যান্স

  • প্রকাশ : শনিবার ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:২০ পিএম

মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী-সমর্থিত সরকারের সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত সপ্তাহে জাপানের রাজধানী টোকিওতে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। 


এক মাসের মধ্যে দুই পক্ষের এটি দ্বিতীয় বৈঠক। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারের জেনারেলদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করলেও এখন ফের যোগাযোগ বাড়াচ্ছে ওয়াশিংটন।


বৈঠক সম্পর্কে অবগত তিন ব্যক্তির বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে। 


তাদের মধ্যে একজন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তা। বৈঠকটি সংবেদনশীল হওয়ায় তারা পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেছেন।


এর আগে গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি মিয়ানমারের রাজধানী নেপিদোতে দুই পক্ষের বৈঠক হয়েছিল। রয়টার্সের আগের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই আলোচনায় একজন মার্কিন ব্যবসায়ীর মুক্তি নিশ্চিত করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের লক্ষ্য করে পরিচালিত প্রতারণাকেন্দ্র বন্ধের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। তবে এর মধ্য দিয়ে মিয়ানমারের বিরল মৃত্তিকা খনিজের মজুতসহ আরও বিস্তৃত বিষয়ে আলোচনার পথ খুলতে পারে বলেও ধারণা করা হয়েছিল।


গত সপ্তাহের টোকিও বৈঠকে ঠিক কোন কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। বৈঠকে আবারও নেতৃত্ব দেন যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইকেল ভ্যান্স। তার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এক ডজনের বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন বলে সূত্রগুলোর একজন জানিয়েছেন। মিয়ানমারের পক্ষে কারা উপস্থিত ছিলেন, তা নিশ্চিত করতে পারেনি রয়টার্স।


ভ্যান্সের অংশগ্রহণ নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। 


তবে দপ্তরটি জানিয়েছে, মিয়ানমারবিষয়ক মার্কিন নীতি নির্ধারণে ভ্যান্সের নেতৃত্বাধীন গোয়েন্দা ও গবেষণা ব্যুরো মুখ্য ভূমিকা পালন করছে না।


পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেন, পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিষয়ক ব্যুরোই মিয়ানমার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি প্রণয়ন, বাস্তবায়ন ও যোগাযোগের কাজ করছে। অন্যদিকে গোয়েন্দা ও গবেষণা ব্যুরো নীতিনির্ধারকদের তথ্য সরবরাহ করে, তবে নীতি নির্ধারণে নেতৃত্ব দেয় না।


মুখপাত্র আরও বলেন, সংবেদনশীল বলে বিবেচিত আলোচনার বিষয়বস্তু ও পরিধি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র মন্তব্য করে না। তবে মিয়ানমারের সঙ্গে যোগাযোগের উদ্দেশ্য যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের জন্য বাস্তব সুফল নিশ্চিত করা, বিশেষ করে আন্তদেশীয় অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের সহায়তা করা


মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী-সমর্থিত সরকারের এক মুখপাত্র এ বিষয়ে মন্তব্য চেয়ে পাঠানো অনুরোধের জবাব দেননি। বৈঠক আয়োজনে জাপানের ভূমিকা সম্পর্কে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, প্রয়োজন অনুযায়ী দুই পক্ষের সঙ্গেই যোগাযোগ রাখা হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট কূটনৈতিক আলোচনা নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানায় মন্ত্রণালয়টি।


গত মাসে নেপিদোতে ভ্যান্স ও মিয়ানমারের অভ্যুত্থানের নেতা থেকে প্রেসিডেন্ট হওয়া মিন অং হ্লাইংয়ের মধ্যে বৈঠকটি বৃহত্তর আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছিল বলে আগেই রয়টার্সকে জানিয়েছিলেন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। অল্প সময়ের ব্যবধানে টোকিওতে আবার বৈঠক হওয়া থেকে বোঝা যায়, দুই পক্ষই আলোচনা চালিয়ে যেতে আগ্রহী।


বিরল খনিজে নজর যুক্তরাষ্ট্রের


সূত্রগুলো জানিয়েছে, মিয়ানমারে পরিচালিত প্রতারণাকেন্দ্রগুলো বন্ধে দেশটির সহযোগিতা আদায় করা যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এসব কেন্দ্র থেকে প্রেমের সম্পর্কের ফাঁদসহ নানা ধরনের প্রতারণা চালিয়ে মার্কিন নাগরিকদের কাছ থেকে কয়েক শ কোটি ডলার হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।


গবেষকদের মতে, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী-সমর্থিত বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় অনেক প্রতারণাকেন্দ্র পরিচালিত হয়। এসব কার্যক্রমের আয় থেকে সামরিক বাহিনীর কাছেও অর্থ পৌঁছায় বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে প্রতারণা দমনে দেশটির নেতারা কতটা আন্তরিক, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তবে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী-সমর্থিত সরকার জানিয়েছে, প্রতারণাকেন্দ্র বন্ধে তারা বহুজাতিক উদ্যোগে অংশ নিচ্ছে।


এ ছাড়া মিয়ানমারের বিপুল ভারী বিরল মৃত্তিকা খনিজের মজুত ব্যবহারের সুযোগ নিয়েও মার্কিন কর্মকর্তারা আলোচনা করেছেন। বৈদ্যুতিক গাড়ি থেকে শুরু করে বায়ুবিদ্যুৎ টারবাইন তৈরিতে এসব খনিজ ব্যবহৃত হয়।


তবে এ ক্ষেত্রে বড় বাধা রয়েছে বলে স্বীকার করেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। বিরল খনিজের বড় অংশ এমন এলাকায় অবস্থিত, যেগুলো সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইরত জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণে। আবার মিয়ানমারের বিরল মৃত্তিকা খনিজের প্রধান ক্রেতা চীন দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা মেনে না-ও নিতে পারে।


গত সপ্তাহে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীকে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত এক ব্যবসায়ীর মেয়ের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। 


পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, মিয়ানমার নিয়ে নতুন নীতির অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে দপ্তরটি বলেছে, এই পদ্ধতি মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধে জড়িত সব পক্ষের সঙ্গে সংলাপ চালানোর গুরুত্ব তুলে ধরে। দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের মৌলিক স্বার্থ এগিয়ে নিতে ঐতিহাসিকভাবে ব্যবহৃত বিভিন্ন পদক্ষেপও পুনর্বিবেচনার অঙ্গীকার করে।


তবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে মিন অং হ্লাইংয়ের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। ২০২১ সালের অভ্যুত্থান এবং পরবর্তী গণ-অভ্যুত্থান দমনে তার ভূমিকার পাশাপাশি ২০১৬-২০১৭ সালে রোহিঙ্গা মুসলিমদের গণহত্যা ও বিতাড়নের ঘটনায়ও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ওই ঘটনাকে গণহত্যা হিসেবে ঘোষণা করেছিল।


জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, অভ্যুত্থানের পর দেশটিতে ব্যাপক গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকে সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় হাজারো মানুষ নিহত হয়েছেন।


অস্ট্রেলিয়ার গবেষণাপ্রতিষ্ঠান লোয়ি ইনস্টিটিউটের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াবিষয়ক পরিচালক হান্টার মার্সটন বলেছেন, জাপানে সর্বশেষ বৈঠকগুলো থেকে বোঝা যায়, ট্রাম্প প্রশাসন মিয়ানমারকে দেখছে ‘সম্পূর্ণ লেনদেনভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গিতে’।


মার্সটনের মতে, মিয়ানমারেরহাতে থাকা গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও বিরল মৃত্তিকা সম্ভবত দেশটিতে ওয়াশিংটনের আগ্রহের প্রধান কৌশলগত সম্পদ।


মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াচ্ছে জাপানও?


যুক্তরাষ্ট্র ও মিয়ানমারের আলোচনায় বৈঠকের আয়োজন করা ছাড়া জাপানের অন্য কোনো স্বার্থ রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। তবে জুন মাসে টোকিওতে আগের বৈঠক আয়োজনের পর জাপানও মিয়ানমারের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে।


চলতি মাসের শুরুতে জাপানের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী-সমর্থিত সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। দুই পক্ষের মধ্যে এটিই প্রথম প্রকাশ্যে আসা বৈঠক। তবে টোকিও আনুষ্ঠানিকভাবে মিয়ানমারের বর্তমান প্রশাসনকে স্বীকৃতি দেয়নি।


এর আগে সেপ্টেম্বরে জাপানের ক্ষমতাসীন দলের আইনপ্রণেতা হিরোমিচি ওয়াতানাবে নেপিদো সফর করেন। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল নিউ লাইট অব মিয়ানমারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা পুনরায় চালু করা এবং মিয়ানমারে উন্নয়ন সহায়তা ফিরিয়ে আনার পরিবেশ তৈরিই ছিল তার সফরের উদ্দেশ্য।


জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত মিয়ানমারে জাপানি নাগরিকদের সুরক্ষা এবং জাপানি কোম্পানিগুলোকে সহায়তার মতো বিষয় উত্থাপন করেছেন। ওয়াতানাবের সফরটি ছিল একজন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হিসেবে। এর মাধ্যমে জাপান সরকারের অবস্থান আগাম নির্ধারিত হয়ে যায় না বলেও জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।


ওয়াতানাবে রয়টার্সকে বলেন, সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যেই তিনি সফর করেছেন। তবে এ পথে এখনও বাধা রয়েছে বলে স্বীকার করেন তিনি।


২০২১ সালে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাতের নিন্দা জানিয়েছিল জাপান। তবে জান্তা নেতা ও সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর আরোপ করা নিষেধাজ্ঞায় যোগ দেয়নি টোকিও।


এশিয়ার অন্যতম সম্ভাবনাময় বাজার হিসেবে মিয়ানমারে চীনের প্রভাব মোকাবিলার লক্ষ্যেও দেশটিতে বড় বিনিয়োগকারী ছিল জাপান। অভ্যুত্থানের পর অস্থিরতা সত্ত্বেও পশ্চিমা অনেক প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে জাপানের বহু কোম্পানি মিয়ানমারে কার্যক্রম চালিয়ে গেছে।


জাপানের বৈদেশিক বাণিজ্য উন্নয়ন সংস্থা জেট্রোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে মিয়ানমারে ৪০০টির বেশি জাপানি কোম্পানি কার্যক্রম চালাত। বর্তমানে সেখানে প্রায় ৩০০টি জাপানি কোম্পানি রয়েছে।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:১৫ পিএম

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে চেন্নাইতে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে তামিলনাড়ুর ক্ষমতাসীন দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে)। বিরোধী দলগুলোর জোট ‘ইন্ডিয়া’তে ৩ অক্টোবর যোগ দেওয়ার পর সিইসিবিরোধী কোনো বিক্ষোভে মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়ের দলের এটিই প্রথম অংশগ্রহণ।


ভোটার তালিকায় নানা অনিয়ম এবং বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে এ ‘গণতন্ত্র রক্ষা’ বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়। কংগ্রেসের সংসদ সদস্য বি মানিকাম ঠাকুর ও তামিলনাড়ু কংগ্রেস কমিটির (টিএনসিসি) যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।


ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতেও বিক্ষোভ চলছে। এমন পরিস্থিতিতে চেন্নাইয়ের এ কর্মসূচিতে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শরিক সাতটি দলের নেতারা অংশ নেন।


রাহুল-বিজয় বৈঠক


১০ অক্টোবর চেন্নাইতে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী ও টিভিকে প্রধান সি জোসেফ বিজয়ের একটি বৈঠক হয়। বৈঠকের মাত্র কয়েক দিন পর দলটি কংগ্রেসের ডাকা বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নিল।


কংগ্রেসের নেতৃত্বের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম ‘সাউথ ফার্স্ট’ জানিয়েছে, ভারতে ক্ষমতাসীন বিজেপির বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে বিভিন্ন আলোচনা, প্রচার ও বিক্ষোভে অংশ নিতে বিজয় এবং তাঁর দলকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন রাহুল।


সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, চেন্নাইয়ের শহরতলির নীলাঙ্করাইয়ে বিজয়ের বাসভবনে গিয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন রাহুল। বৈঠকে দুই নেতা বেশ কিছু রাজনৈতিক বিষয়ে আলোচনা করেন।


সম্প্রতি ধারাপুরাম ও মাদুরান্তাকাম উপনির্বাচনে টিভিকের বিজয়ের জন্য বিজয়কে অভিনন্দন জানান রাহুল। তামিলনাড়ুতে ‘সেক্যুলার সোশ্যাল জাস্টিস ভিক্টরি অ্যালায়েন্স’ গঠনের পর এটিই ছিল দুই নেতার প্রথম বৈঠক।


এসআইআর নিয়ে উদ্বেগ


বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোটি কোটি ভোটারকে সুপরিকল্পিতভাবে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগীদের বড় অংশই মুসলিম, ক্ষুদ্র-জাতিসত্তা ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষ। শুধু তামিলনাড়ু থেকেই ৯৭ লাখের বেশি ভোটারের নাম কেটে দেওয়া হয়েছে বলে তাঁরা দাবি করেন।


বক্তাদের মতে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের এ প্রক্রিয়া সংবিধানের চেতনাকে ক্ষুণ্ন করছে। পুরো বিষয়টিকে ‘গণতান্ত্রিক হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে ক্ষমতাসীন বিজেপির সুবিধা করে দিতেই নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কারসাজি করা হচ্ছে।