ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ০১ এপ্রিল, ২০২৬, সময় : ৬:২৯ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদা অঙ্গরাজ্যে একটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে এতে পাইলট অল্প আঘাত পেয়েছেন।


মার্কিন বিমান বাহিনী জানিয়েছে, মঙ্গলবার লাস ভেগাসের উত্তরে নেলিস এয়ার ফোর্স বেসের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। এটি ইন্ডিয়ান স্প্রিংস এলাকার কাছে নেভাদা টেস্ট অ্যান্ড ট্রেনিং রেঞ্জের ভেতরে পড়ে।


বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার আগে পাইলট নিরাপদে ইজেক্ট করেন। পরে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়।


কী কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে তা এখনো জানা যায়নি। এ বিষয়ে তদন্ত শুরু হবে বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। 


সূত্র : ইন্ডিয়া টুডে




ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজয়ের পর বক্তব্য দিচ্ছেন লিবারেল পার্টির প্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারো

  • প্রকাশ : বুধবার ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:২৯ পিএম

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হেরে দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো। তার পরিবারের সদস্যদেরও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ভিসা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।


বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার বিকেলে তিনটি সূত্র ফ্লাভিওর দেশ ছাড়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে। তবে তার স্ত্রী ও দুই মেয়েসহ পরিবারের সদস্যরা ঠিক কোথায় রয়েছেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। পরিবারের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, ফ্লাভিও যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় পৌঁছেছেন।


রোববারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বামপন্থী বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার কাছে পরাজিত হন ফ্লাভিও। তবে তিনি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পরাজয় স্বীকার করেননি। এর আগে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে পাসপোর্ট জমা দিতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন তিনি। লুলা ফ্লাভিওর দেশ ছাড়ার এই ঘটনাকে ‘লজ্জাজনক’ বলে অভিহিত করেছেন।


মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ‘ফ্লাভিও বলসোনারো ও তার পরিবারের সদস্যদের ভিসা দেওয়া হবে এবং তাদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে।’


অর্থ পাচারের একটি তদন্তের অংশ হিসেবে ফ্লাভিওর পাসপোর্ট জব্দের নির্দেশ দিয়েছিলেন ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্ট। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি। সোমবার তাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাসপোর্ট জমা দিতে বলা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা জমা না দেওয়ায় পাসপোর্ট বাতিল করা হয়েছে বলে দুটি সূত্র জানিয়েছে।


আদালতের আদেশে বলা হয়, ফ্লাভিওর দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা এবং তার উল্লেখযোগ্য আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনায় পাসপোর্ট জব্দের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে সোমবার ফ্লাভিও বলেছিলেন, দেশ ছাড়ার কোনো পরিকল্পনা তার নেই। তিনি পাসপোর্ট জমা দিয়ে নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালানোর কথাও জানিয়েছিলেন।


ফ্লাভিওর দেশ ছাড়ার খবর তার নির্বাচনী প্রচারের ব্যবস্থাপককেও বিস্মিত করেছে। সিনেটর রজেরিও মারিনহো সাংবাদিকদের বলেন, আগের দিনই ফ্লাভিওর সঙ্গে বিরোধী দলের নেতা হিসেবে তার ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। নির্বাচনে প্রায় ছয় কোটি ভোট পাওয়ায় বিরোধী শিবিরের নেতৃত্বে তার থাকা প্রয়োজন বলে মনে করা হচ্ছিল।


ফ্লাভিওর দেশত্যাগে আমেরিকা মহাদেশের সবচেয়ে জনবহুল দুই দেশ ব্রাজিল ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে আরও টানাপোড়েন তৈরি হতে পারে। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা অভিযোগ করেছেন, বলসোনারো পরিবারকে আবার ক্ষমতায় আনতে ওয়াশিংটন তাদের সঙ্গে যোগসাজশ করছে। রোববারের নির্বাচনের আগে বলসোনারো পরিবারকে ক্ষমতায় ফেরাতে ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগ নিয়ে রয়টার্স প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল।


যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে ফ্লাভিওর বাবা ও ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর বিরুদ্ধে বিচারিক নিপীড়ন চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছিলেন। ২০২২ সালের নির্বাচনে লুলার কাছে হারের পর জইর বলসোনারোও পরাজয় স্বীকার না করে যুক্তরাষ্ট্রে চলে গিয়েছিলেন। পরে তিনি ব্রাজিলে ফিরে আসেন। অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দেশটির সরকারি ভবনে তাঁর সমর্থকদের হামলার পর তাকে ২৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।


সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প ফ্লাভিওর দেশত্যাগ নিয়ে কিছু বলেননি। তবে ব্রাজিলের নির্বাচনকে ‘কারচুপিপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।


ব্রাসিলিয়ায় সাংবাদিকদের লুলা বলেন, ফ্লাভিও দেশ ছেড়েছেন-এ কথা তিনি মাত্রই শুনেছেন। তার মতে, দেশ ছেড়ে না গিয়ে ব্রাজিলেই থেকে নিজের নির্দোষিতা প্রমাণ করা উচিত ছিল ফ্লাভিওর।


নির্বাচনে পরাজয়ের পর ফ্লাভিও রোববার ফল বাতিলের দাবি তোলার কথা জানিয়েছিলেন। ভোটে অনিয়মের অভিযোগও করেছিলেন তিনি। তবে সোমবার তার দল লিবারেল পার্টি লুলার বিজয় মেনে নেওয়ার কথা জানায়।


ফ্লাভিও কীভাবে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার সময়সীমার মধ্যে দেশ ছাড়লেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ব্রাজিলের ফেডারেল পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ফ্লাভিও নিয়মিত অভিবাসন তল্লাশিচৌকি দিয়ে দেশ ছাড়েননি।


ফ্লাভিওর সিনেটর হিসেবে মেয়াদ আগামী ফেব্রুয়ারিতে শেষ হলে তিনি বিচার থেকে পাওয়া দায়মুক্তি হারাবেন।


বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু

  • প্রকাশ : বুধবার ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:০৯ পিএম

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে নিজেদের জোট এগিয়ে থাকার আভাসের মধ্যে ‘শক্তিশালী নতুন জাতীয় সরকার’ গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। 


তবে সরকার গঠনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আনুষ্ঠানিক ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। বুধবার জেরুজালেমে নিজ দল লিকুদ পার্টির সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে নেতানিয়াহু বলেন, ‘লিকুদ দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল। আমরা একটি শক্তিশালী নতুন জাতীয় সরকার গড়ব।’ 


মঙ্গলবার ইসরায়েলে পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ভোট গ্রহণ শেষে প্রকাশিত বুথফেরত জরিপে প্রথমে বিরোধী জোট এগিয়ে থাকার আভাস পাওয়া গেলেও পরবর্তী হালনাগাদে নেতানিয়াহুর জোট এগিয়ে যায়।


ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ হিসাবে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫২টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে, তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকটের জোট এগিয়ে আছে ৫০টি আসনে। আরব লিস্ট এগিয়ে রয়েছে ১৯টি আসনে। একক দল হিসেবেও লিকুদ পার্টি এগিয়ে আছে।


তবে ১২০ আসনের নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা কোনো জোটই নিশ্চিত করতে পারেনি। ফলে নতুন সরকার গঠনে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা ও জোটের হিসাব-নিকাশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।


নির্বাচনী ফলাফলে নিজেদের জোট এগিয়ে থাকার খবর পাওয়ার পর জেরুজালেমে লিকুদ পার্টির প্রধান কার্যালয়ে সমর্থকদের সামনে বক্তব্য দেন নেতানিয়াহু। এ সময় তিনি বলেন, সরকার গঠনের বিষয়ে এখনই আলোচনা করা আগাম হয়ে যাবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভোটের প্রকৃত ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করবেন তিনি।


নেতানিয়াহু আরও স্পষ্ট করে বলেন, আরবদের সমর্থন নিয়ে ইসরায়েলে কোনো সরকার পরিচালনা করা হবে না।


এবারের নির্বাচনে ইসরায়েলি আরবদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো উল্লেখযোগ্য অবস্থান তৈরি করেছে। প্রধান দুই রাজনৈতিক জোট একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় সরকার গঠনের সমীকরণে এসব দলের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।


এদিকে, বিরোধী জোটের নেতা ও ইয়াশার পার্টির প্রধান গাদি আইজেনকটও সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি জনগণকে চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করার আহ্বান জানান।


আইজেনকট বলেন, ‘এটা স্পষ্ট যে দেশের মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে এবং নেতানিয়াহুর ব্যর্থ শাসনের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে।’


নেতানিয়াহুকে জনগণের অনাস্থা মেনে নিয়ে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে নির্বাচনে ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতির পর আবার নতুন করে নির্বাচন আয়োজন করাকে মারাত্মক ভুল বলে মন্তব্য করেন।


সরকার গঠনের বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরে আইজেনকট বলেন, তিনি সবাইকে নিয়ে একটি দায়িত্বশীল জায়োনিস্ট সরকার গঠনের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।


চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের পরই ইসরায়েলে সরকার গঠনের প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে।


বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও গাদি আইজেনকোট

  • প্রকাশ : বুধবার ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৫১ এএম

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট (নেসেট) নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি জোটের সঙ্গে বিরোধী জোটের সমানে-সমান লড়াইয়ের আভাস মিলেছে। নির্বাচনের ফলাফল এতটাই কাছাকাছি যে, এখনই চূড়ান্ত কোনো পূর্বাভাস দেওয়া যাচ্ছে না। 


সামান্য ব্যবধানে নেতানিয়াহু জোটের এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত মিললেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন থেকে তা বেশ দূরে। দুটি বুথফেরত জরিপের তথ্যের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে,গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট এবং বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর শিবিরের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা সমান-সমান। আর তৃতীয় একটি জরিপে নেতানিয়াহুর শিবির সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। 


বিবিসি বলছে, ইসরায়েলের ‘কান এলেভেন’ এবং ‘চ্যানেল থার্টিন’ নিউজ নেটওয়ার্ক তাদের বুথফেরত জরিপের যে তথ্য প্রকাশ করেছে, সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বী জোট দুটির প্রত্যেকটিই ৫১টি করে আসন পেতে পারে বলে আভাস দেওয়া হয়েছে। শেষ মুহূর্তে এসে চ্যানেল-টুয়েলভ তাদের বুথফেরত জরিপ সংশোধন করেছে। তাদের নতুন বুথফেরত জরিপ অনুযায়ী, আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন জোটকে সামান্য পিছিয়ে ৫০টি আসনে এবং নেতানিয়াহুর জোটকে ৫২টি আসনে দেখানো হয়েছে।


এর আগে, তারা ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর জোটের চাইতে বিরোধী জোটকে কিছুটা এগিয়ে দেখিয়েছিল। সর্বশেষ বুথফেরত জরিপ অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর জোট নেসেটে একক বৃহত্তম দল হতে যাচ্ছে। অন্যদিকে চ্যানেল টুয়েলভের বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে, নেতানিয়াহুর জোট ৫২ আসনে জিতেছে। আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ৪৯ আসনে জিতেছে। আরব লিস্ট জিতেছে ১৯ আসনে।


তবে বুথফেরত জরিপের বরাতে বিবিসি বলছে, আরব দলগুলো ১৭টি বা তারও বেশি আসনে জয়ী হয়ে এ যাবতকালের মধ্যে তাদের সেরা ফলাফল অর্জন করার পথে রয়েছে।


এরই মধ্যে ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচনী কমিটি থেকে আনুষ্ঠানিক ভোট গণনা ও ফলাফল আসতে শুরু করেছে। স্থানীয় সময় মধ্যরাত থেকে আনুষ্ঠানিক গণনা শুরু হয়েছে যা এখনও চলছে। ভোর ৪টা পর্যন্ত প্রায় ২৫ শতাংশ ভোট গণনা করা হয়েছে। তবে ভোট গণনা সম্পন্ন হতে কয়েক দিন সময় লেগে যেতে পারে।


এখন পর্যন্ত কোনো জোটেরই স্পষ্ট জয়ের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না। অর্থাৎ ১২০ আসনের পার্লামেন্টে কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন নিশ্চিত করতে পারেনি। যদিও নির্বাচনের ফলাফল এখন পর্যন্ত চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা যাচ্ছে না। তবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা অত্যন্ত তীব্র রূপ নিয়েছে। 


সাবেক সেনাপ্রধান আইজেনকোট নবগঠিত ‘ইয়াশার’ দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনিই মূলত বিরোধী শিবিবের ‘চেঞ্জ ব্লক’ এর প্রধান মুখ। এই জোটটি মূলত বিরোধী দলগুলোর সমন্বয়ে গঠিত যাদের সবার লক্ষ্য- নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানো।


সরকার গঠনে দীর্ঘ আলোচনা-দরকষাকষি হতে যাচ্ছে


সরকার গঠনের জন্য সম্ভবত দলগুলোর মধ্যে সামনের দিনগুলোতে সপ্তাহ বা মাসব্যাপী দীর্ঘস্থায়ী আলোচনা ও দরকষাকষি হতে যাচ্ছে, যেখানে একাধিক বিকল্প পথ খোলা রয়েছে।


নেসেটের ১২০টি আসনের সবকটিতেই এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে দেশটির ইতিহাসে কোনো দলই এককভাবে কখনো সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। আগে থেকেই সেখানে জোটবদ্ধভাবে সরকার গঠিত হয়ে আসছে।


২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামাস-নিয়ন্ত্রিত হামলার পর এটিই ইসরায়েলের প্রথম আইনসভা (পার্লামেন্ট) নির্বাচন। 


ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৩৪ পিএম

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ক্ষমতায় থাকছেন, নাকি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আধিপত্যের অবসান ঘটছে তা নির্ধারণে ভোট দিচ্ছেন দেশটির নাগরিকেরা। গাজায় যুদ্ধ, ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুতি, দুর্নীতির অভিযোগ এবং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর নিরাপত্তা ব্যর্থতা নিয়ে বিতর্কের মধ্যে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এ নির্বাচন। প্রধান দুই রাজনৈতিক শিবিরের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।


মঙ্গলবার ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটের ১২০টি আসনে ভোটগ্রহণ চলছে। দেশটিতে প্রায় ৭৩ লাখ নিবন্ধিত ভোটার রয়েছেন। নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং পরবর্তী সরকার গঠনের সমীকরণ।


ইসরায়েলের নির্বাচনী ব্যবস্থায় ভোটাররা সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করেন না; বরং পছন্দের রাজনৈতিক দলকে ভোট দেন। প্রতিটি দল নির্বাচনের আগে প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করে। নেসেটে আসন পেতে একটি দলকে অন্তত ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ ভোট পেতে হয়। প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১২০টি আসন বণ্টন করা হয়। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসন।


এর আগের জনমত জরিপে দেখা গেছে, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ডানপন্থি জোটের সঙ্গে ইহুদি নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে পারে। তবে ভোটে নেতানিয়াহুকে হারালেই যে ক্ষমতা থেকে সরানো যাবে, বিষয়টা এমন নয়। আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) নির্বাচনী ব্যবস্থায় পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে দলগুলোকে জোট গঠন নিয়ে আলোচনা করতে হয়। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসন। দেশটির ইতিহাসে এখনো কোনো দল এককভাবে এই ‘ম্যাজিক ফিগার’ স্পর্শ করতে পারেনি।


স্ত্রী সারাকে সঙ্গে নিয়ে ভোট দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু


সাম্প্রতিক জনমত জরিপ অনুযায়ী, বিরোধী জোট ৫২টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর জোট পেতে পারে ৫০টি। ফলে কারা সরকার গঠন করবে, তা নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে অন্য কয়েকটি দল। এরমধ্যে ফিলিস্তিনিদের নেতৃত্বাধীন দলগুলোও আছে।


জনমত জরিপে কিছুটা পিছিয়ে আছে নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টি। কিন্তু বর্তমান মিত্র ও নতুন জোটসঙ্গীদের কাছে থেকে পর্যাপ্ত সমর্থন নিশ্চিত করতে পারলে তিনি আবারও প্রধানমন্ত্রীর পদে থাকতে পারেন। নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের মিত্রদের মধ্যে আছে- কট্টর ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের ওতজমা ইহুদিত ও অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচের রিলিজিয়াস জায়োনিজম পার্টি।


অতি-কট্টর ইহুদিদের দল শাস ও ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজমও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। দল দুটি অতীতে একাধিকবার নেতানিয়াহুর জোট সরকারে যোগ দিয়েছে। তবে পরে জোট ছেড়েও গেছে। সবশেষ ২০২৫ সালে তারা জোট থেকে বেরিয়ে যায়।


সেপ্টেম্বর মাসের শেষ দিকে চারটি বিরোধী দল নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করতে চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। সেগুলো হলো ইয়াশার পার্টি, দ্য ডেমোক্র্যাটস, ইসরায়েল বেইতেনু ও টুগেদার পার্টি। দলগুলোর জোট জানায়, ইসরায়েলকে একটি ইহুদি ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে তারা ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। এই জোটটি সরকার গঠন করলে কে নেতৃত্ব দেবেন তা এখনো ঘোষণা করেনি। তবে ইয়াশার পার্টির নেতা ও সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটকে প্রধানমন্ত্রী পদের সবচেয়ে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটও সম্ভাব্য প্রার্থী। তিনি ইয়ার লাপিদের সঙ্গে টুগেদার জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।


ইসরায়েলের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ আরব ও ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত। তাদের প্রতিনিধিত্ব করে রাজনৈতিক দল রাআম ও জয়েন্ট লিস্ট নামের একটি জোট। তারা প্রায় ১৩টি আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাআম ‘ইউনাইটেড আরব লিস্ট’ নামেও পরিচিত। ২০২১ সালে তারা নাফতালি বেনেটের জোট সরকারে যোগ দিয়েছিল। ইসরায়েলের কোনো সরকারে অংশ নেওয়া প্রথম আরব নেতৃত্বাধীন দল এটি।


রাআমের নেতা মানসুর আব্বাস ইঙ্গিত দিয়েছেন, সরকার গঠন করতে বিরোধীদের নেতৃত্বাধীন জোটের যদি অতিরিক্ত আসনের প্রয়োজন হয়, তাহলে তিনি সমঝোতায় রাজি হতে পারেন। তবে আইজেনকোটসহ বিরোধী নেতাদের অধিকাংশই এ ধরনের জোট গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন।


জোট সরকার চাইলে প্রয়োজনীয় ৬১ আসন পূরণের জন্য বাইরের দলের কাছে থেকে সমর্থন নিতে পারবে। এক্ষেত্রে ওই দলকে সরকারে অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি নয়। ঠিক এ জায়গাতেই নির্ধারক হতে পারে আরব ও ফিলিস্তিনপন্থি দলগুলো। হাদাশ, তাআল ও বালাদ নামের তিনটি গোষ্ঠীকে নিয়ে গঠিত জয়েন্ট লিস্ট জানিয়েছে, নেতানিয়াহু বিরোধী জোটে যোগ না দিলেও তারা সমর্থন দেবে। বিনিময়ে দলটি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি এবং সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনসহ কিছু শর্ত পূরণের দাবি জানিয়েছে। তবে এ ধরনের সমঝোতা হলে দলত্যাগ এবং গুরুত্বপূর্ণ নীতির বিষয়ে মতবিরোধের কারণে সরকার টিকে থাকার ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।


অন্যদিকে ইসরায়েলের পার্লামেন্টে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের নিয়ম আছে। সাধারণত যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অর্থনৈতিক সংকটের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে এ ধরনের সরকার গঠন করা হয়। তবে রাজনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যেও জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠন করতে দেখা গেছে। ২০২০ সালের মে মাসে পরপর তিনটি নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলো সরকার গঠনে ব্যর্থ হয়। তখন নেতানিয়াহু ও ‘ব্লু অ্যান্ড হোয়াইট’ দলের নেতা বেনি গান্তজ ঐক্যের সরকার গঠন করেন। তবে এক বছরের মধ্যে তাদের সমঝোতা ভেঙে যায়।


২০২৩ সালে হামাসের নেতৃত্বে ইসরায়েলে হামলার পর গান্তজ ও তাঁর দলের সদস্যরা নেতানিয়াহুর জোটে যোগ দেন। এটিকেও জরুরি পরিস্থিতিতে গঠিত ঐক্যের সরকার হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল। ক্ষমতা ভাগাভাগির সমঝোতার আওতায় দুই রাজনৈতিক নেতা পালাক্রমে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনে সম্মত হতে পারেন। ২০২০ সালে নেতানিয়াহু ও গান্তজ এ ধরনের সমঝোতায় রাজি হয়েছিলেন। তবে গান্তজ দায়িত্ব নেওয়ার আগে জোট ভেঙে যায়।


২০২১ সালের জুনে নাফতালি বেনেট প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ইয়ার লাপিদের সঙ্গে একই ধরনের সমঝোতা করেন। চুক্তি অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময় পর তাঁদের মধ্যে দায়িত্ব হস্তান্তরের কথা ছিল। কিন্তু ২০২২ সালের জুনে বেনেটের জোট পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায়। 


পরে জুলাই মাসে তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন লাপিদ। ইসরায়েলে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন নেসেটের সদস্যদের সমর্থনে। কিন্তু সরকার গঠন নিয়ে দলগুলো অচলাবস্থায় পড়লে এমন কাউকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেছে নেওয়া হতে পারে যিনি সবার কাছে গ্রহণযোগ্য। এক্ষেত্রে ওই ব্যক্তি কোনো নির্দিষ্ট জোটের বিরোধী শিবিরের সদস্যও হতে পারেন।


কোনো জোটই যদি সরকার গঠনে পর্যাপ্ত সমর্থন জোগাড় করতে না পারে তাহলে ইসরায়েল আবারও রাজনৈতিক সংকটের মুখে পড়বে। যা নতুন করে নির্বাচন আয়োজনের দিকে গড়াবে। স্থিতিশীল সরকার গঠনে বারবার ব্যর্থতার কারণে দেশটিতে ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে পাঁচবার নির্বাচন হয়। এবারও তেমনটা হলে নতুন সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তত্ত্ববধায়ক প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করতে পারেন।


ভোটগ্রহণ শেষে ইসরায়েলি টেলিভিশন চ্যানেলগুলো ভোট-পরবর্তী জরিপের ফল প্রচার করবে। জরিপ থেকে ফলাফল সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যাবে। এরপর আসতে শুরু করবে প্রকৃত ভোটের ফল। নির্বাচনে কারা বিজয়ী হতে যাচ্ছে, সে সম্পর্কে আভাস পাওয়া যাবে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে। তবে পুরো চিত্র স্পষ্ট হতে কয়েকদিন, এমনকি কয়েক সপ্তাহও লাগতে পারে।


কোনো একক দল বা জোট পার্লামেন্টে স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে পরিস্থিতি পরিষ্কার হতে আরও সময় লাগতে পারে। আশা করা হচ্ছে আগামী ৩০ অক্টোবরের মধ্যে চূড়ান্ত ভোট গণনা শেষ হবে। আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশ করা হবে ৪ নভেম্বর।


স্টারলিংক

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:১৭ পিএম

ইলন মাস্কের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংক ব্যবহারকারীদের ওপর বিশ্বজুড়ে নজরদারি চালাতে বড় আকারের ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের ফাঁদ পেতেছিল ইসরায়েলি এক বিজ্ঞাপন প্রযুক্তি কোম্পানি। জাপানের এক ডিজিটাল ডিফেন্স বা সাইবার নিরাপত্তা কোম্পানির অনুসন্ধানে এমন তথ্য উঠে এসেছে। বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত ছয়টি ভিন্ন সূত্রের বরাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে রয়টার্স।


যুক্তরাষ্ট্র ও টোকিওভিত্তিক সাইবার নিরাপত্তা কোম্পানি ‘ট্রেন্ড মাইক্রো’র অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ‘ট্রেন্ডএআই’-এর গবেষকরা বলছেন, স্পেসএক্সের স্টারলিংক ব্যবহারকারীদের ডিজিটাল বিজ্ঞাপন দেখানোর ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে কাজ করছিল ইসরায়েলি কোম্পানি ‘ডিসকভার-টেক’।


এসব বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের ভৌগোলিক অবস্থান শনাক্তকরণসহ অন্যান্য উপায়ে নজরদারি চালানো হচ্ছিল।


নিজের নেটওয়ার্ক ডেটা বিশ্লেষণ করে ‘ট্রেন্ডএআই’ বলেছে, স্টারলিংক ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করে বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞাপন নিলামে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা বড় কোম্পানিগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে ডিসকভার-টেক।


বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশে স্টারলিংক ট্রাফিকের ওপর শীর্ষ দরদাতা ছিল কোম্পানিটি। যার মধ্যে এমন বেশ কয়েকটি দেশও রয়েছে, যেখানে স্টারলিংক সেবা আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ বা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত।


বিডিং হচ্ছে একটি জটিল ডিজিটাল নিলাম ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে বিজ্ঞাপনদাতারা ব্যবহারকারীর ব্রাউজার ও অ্যাপের ভেতরের বিজ্ঞাপনের জায়গা দখল করে।


এ বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি স্পেসএক্স। বিষয়টি নিয়ে ডিসকভার-টেক ও এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও সাড়া দেননি তারা।


১৫ অক্টোবর স্টারলিংক ব্যবহারকারীদের ওপর এমন নজরদারি নিয়ে এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ট্রেন্ডএআই। তবে প্রতিবেদনে সরাসরি ডিসকভার-টেকের নাম উল্লেখ না করে এর পেছনে দায়ী পক্ষকে ‘একটি বিজ্ঞাপন প্রযুক্তি’ কোম্পানি হিসেবে বর্ণনা করে কোম্পানিটিকে ‘শ্যাডো-আর্থ-৭৯’ ছদ্মনামে চিহ্নিত করা হয়। 


সূত্রগুলো বলেছে, ‘শ্যাডো-আর্থ-৭৯’ ডিসকভার-টেকের জন্য ব্যবহৃত ট্রেন্ডএআই-এর নিজস্ব কোডনেইম।


প্রতিবেদনে ডিসকভার-টেকের নাম প্রকাশ না করার কারণ সম্পর্কে সরাসরি কিছু না বললেও বিবৃতিতে ট্রেন্ডএআই বলেছে, ভুল তথ্যের ঝুঁকি এড়ানো ও হাইপ তৈরি করে এমন নাম ব্যবহার না করার নীতি থেকেই তারা এটা করেছে। যাতে ডিজিটাল নিরাপত্তারক্ষীরা বিভ্রান্ত না হন, ঝুঁকির অগ্রাধিকার ঠিক থাকে ও অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো পদক্ষেপ তৈরি না হয়।


বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের সরকারগুলো যখন স্যাটেলাইট ইন্টারনেট টার্মিনালের প্রসার নিয়ন্ত্রণে লড়াই করছে তখনই স্টারলিংক ব্যবহারকারীদের ট্র্যাকিং বা নজরদারি করার উপায় খুঁজে বের করা এক ধরনের লাভজনক শিল্পে রূপ নিয়েছে।


যেহেতু এসব টার্মিনাল স্থানীয় টেলিকম কোম্পানির পরিবর্তে সরাসরি স্পেসএক্সের স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ডেটা আদান-প্রদান করে ফলে এরা খুব সহজেই স্থানীয় ইন্টারনেট নিষেধাজ্ঞা বা সেন্সরশিপ এড়িয়ে যেতে পারে।


যুদ্ধক্ষেত্রে যোগাযোগ স্থাপন ও সমন্বয়েও বড় ভূমিকা রাখছে এ প্রযুক্তি, বিশেষ করে ইউক্রেইন যুদ্ধের সামনের সারির যোগাযোগ ও ড্রোন হামলার দিকনির্দেশনায় স্টারলিংক গুরুত্বপূর্ণ সংস্থান হয়ে উঠেছে।


এর আগে, মে মাসে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘হারেৎস’ ও ওয়েবসাইট ‘ইন্টেলিজেন্স অনলাইন’ আলাদা প্রতিবেদনে বলেছিল, ইসরায়েলি মালিকানাধীন বেশ কিছু কোম্পানি ক্লায়েন্টদের কাছে স্টারলিংক ব্যবহারকারীদের শনাক্ত ও ট্র্যাক করার বিভিন্ন কৌশল বিক্রি করছে।


হারেৎস প্রতিবেদনে লিখেছিল, বিজ্ঞাপন ডেটার সুযোগ নেওয়াই ছিল ট্র্যাকিং প্রক্রিয়ার অন্যতম প্রধান ভিত্তি।


ডিসকভার-টেকের বিরুদ্ধে ব্যাপক নজরদারির অভিযোগ


যেদিন ট্রেন্ডএআই ‘শ্যাডো-আর্থ-৭৯’ সংক্রান্ত তাদের প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে ঠিক একই দিন কানাডীয় সাইবার ওয়াচডগ ‘সিটিজেন ল্যাব’ ও নিউ ইয়র্কের বিজ্ঞাপন প্রযুক্তি বিষয়ক কোম্পানি ‘কনফিয়েন্ট’ সরাসরি ডিসকভার-টেকের নাম উন্মোচন করেছে।


উভয় গোষ্ঠীই বলেছে, ইসরায়েলি কোম্পানিটি বিজ্ঞাপন নিলামের সুযোগটির অপব্যবহার করেছে। এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য পুনরায় নিলামে অংশ নেওয়া কোম্পানির কাছে গোপন সূত্রে পৌঁছে যেত।


সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দরদাতারা এ ফাঁস হওয়া তথ্য সংগ্রহ ও একত্র করে অন্যান্য তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে ব্যবহারকারীর পরিচয় প্রকাশ করতে পারে। ফলে ওয়েবজুড়ে তাদের গতিবিধির ওপর নজর রাখা ও কিছু কিছু ক্ষেত্রে নজরদারি সফটওয়্যারের মাধ্যমে তাদের সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা সম্ভব।


সিটিজেন ল্যাব ও কনফিয়েন্ট বলেছে, গণমাধ্যম, সরকার ও প্রযুক্তি কোম্পানির মতো বেশ কিছু সংবেদনশীল নেটওয়ার্কের ভেতরেও এসব বিজ্ঞাপন দেখানো হয়েছিল।


এ তদন্তের মুখে গুগলের পাশাপাশি কমকাস্টসহ অন্যান্য প্রধান প্রযুক্তি কোম্পানি তাদের বিভিন্ন বিজ্ঞাপন প্ল্যাটফর্ম থেকে ডিসকভার-টেককে সম্পূর্ণ সরিয়ে দিয়েছে বলে জানিয়েছে।


বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত সূত্রের বরাতে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত একটি প্রধান প্রযুক্তি কোম্পানি ও একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা সম্প্রতি নিজস্ব তদন্ত শুরু করেছে যে ডিসকভার-টেকের তৈরি এ বিজ্ঞাপনী ফাঁদে তাদের কর্মীরাও পড়েছিলেন কি না।


ইয়েমেন ও দক্ষিণ সুদানে শীর্ষ বিজ্ঞাপনদাতা


ট্রেন্ডএআই-এর প্রতিবেদনে কিছু সন্দেহজনক বিডিং প্যাটার্ন উল্লেখ করে বলা হয়, ‘শ্যাডো-আর্থ-৭৯’ কোনো স্বাভাবিক বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপনী কার্যক্রম পরিচালনা না করে ‘নজরদারি ও ট্র্যাকিং অবকাঠামো’ চালাচ্ছিল।


স্টারলিংক ব্যবহারকারীদের ওপর তাদের এ নজরদারির অতিরিক্ত ঝোঁক ছাড়াও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, সিরিয়া, লিবিয়া, ইয়েমেন ও দক্ষিণ সুদানে সবচেয়ে বেশি বিজ্ঞাপন কিনেছে ‘শ্যাডো-আর্থ-৭৯’।


এ ছাড়া, আফগানিস্তানে তারা ছিল দ্বিতীয় বৃহত্তম বিজ্ঞাপন ক্রেতা। অথচ এসব আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞাগ্রস্ত বা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলোতে পশ্চিমা বৈধ পণ্যের বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপনের চাহিদা বলতে গেলে একেবারেই শূন্য।


প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, হাঙ্গেরি, ইসরায়েল, মিসর, আজারবাইজান ও ভেনিজুয়েলাসহ কয়েকটি দেশে বিস্ময়কর রকম একক প্রাধান্য বিস্তার করে বিপুল পরিমাণ বিড জিতেছে ইসরায়েলি প্রযুক্তি কোম্পানিটি।


বিষয়টির সঙ্গে জড়িত একাধিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ট্রেন্ডএআই-এর গবেষকরা নিশ্চিত ছিলেন, এ বিডিং কার্যক্রমের পেছনে ছিল ডিসকভার-টেক। তারা প্রতিবেদনে কোম্পানিটির নাম প্রকাশ করার বিষয়েও প্রাথমিক আলোচনা করেছিলেন।


তবে আইনি জটিলতা ও ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে ট্রেন্ডএআই-এর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের আপত্তিতে শেষ পর্যন্ত নাম প্রকাশের বিষয়টি বাদ দেওয়া হয়।


সাইবার নিরাপত্তা শিল্পে এ ধরনের ‘সেলফ-সেন্সরশিপ’ সাধারণ বিষয়, বিশেষ করে যখন নীতিনির্ধারকরা আশঙ্কা করেন যে, কোনো বড় নজরদারি চক্রকে এভাবে উন্মোচন করলে তা তাদের ব্যবসার ওপর প্রতিশোধের হুমকি হতে পারে।


এ বছরের শুরুতে বৈশ্বিক এক সাইবার নজরদারি অভিযানের ওপর রিপোর্ট প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রের সাইবার নিরাপত্তা কোম্পানি ‘পালো অল্টো’।


গবেষকরা চীনা হ্যাকারদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে শতভাগ নিশ্চিত থাকার পরও কৌশলগত কারণে প্রতিবেদনেটি থেকে চীনের সরাসরি নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল।


অনুসন্ধানে জানা গেছে, চীনে কোম্পানিটির ব্যবসা ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম সুরক্ষার স্বার্থেই এমন পদক্ষেপ নিয়েছিল পালো অল্টো।


তবে পালো অল্টো পরবর্তীতে এই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে, তাদের প্রতিবেদনে সরাসরি নাম না থাকাটা চীনের কোনো নীতি বা বাণিজ্যিক চাপের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:১৭ পিএম

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও শীর্ষ ব্যবসায়ী গৌতম আদানের বিরুদ্ধে ‘স্বজনতোষী পুঁজিবাদে’র অভিযোগ তোলা একটি তথ্যচিত্র সোমবার (২৬ অক্টোবর) ইন্টারনেট থেকে অবিলম্বে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্ট। আদানি এন্টারপ্রাইজের পক্ষ থেকে দায়ের করা মানহানি মামলায় আদালত এই আদেশ প্রদান করেন।আদানি এন্টারপ্রাইজেস আদালতে দাবি করেছে, ওই প্রামাণ্যচিত্রে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য রয়েছে। এতে কোম্পানির বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। আদালতও বলেছে, এটি কোনো সংবাদ প্রতিবেদন বা প্রাতিষ্ঠানিক তথ্যভিত্তিক কাজ নয়; বরং একধরনের নাট্যরূপায়ণ বা ডিকনস্ট্রাক্টেড বিবরণ।


প্রামাণ্যচিত্রটি পোস্ট করেছেন হটমেইলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা সাবীর ভাটিয়া। ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই মার্কিন উদ্যোক্তার পোস্ট করা ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে লাখ লাখ মানুষ দেখেছেন। আদানি পক্ষ ৫০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়েছে বলে ভাটিয়া নিজেই এক্সে জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, সত্য আমার পক্ষেই আছে। এই প্রামাণ্যচিত্র আদানি এন্টারপ্রাইজকে নাড়া দিতে পেরেছে।


মোদির বিরুদ্ধে বিরোধীরা দীর্ঘদিন ধরে আদানির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের অভিযোগ তুলে আসছেন। তাদের দাবি, আদানি গ্রুপ নানা সরকারি সুবিধা পেয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার ও আদানি গ্রুপ দু’পক্ষই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।আদানি এন্টারপ্রাইজেস আদালতে বলেছে, সরকারি নীতি বা ব্যবসায়িক কেন্দ্রীকরণ নিয়ে গঠনমূলক সমালোচনা বন্ধ করতে তারা চায় না। কিন্তু ভাটিয়া বস্তুনিষ্ঠ তথ্য গোপন করে মনগড়া অভিযোগ তুলেছেন বলে তাদের অভিযোগ।


এখনও পর্যন্ত আদানি এন্টারপ্রাইজেস, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বা সাবীর ভাটিয়ার পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। সামাজিক মাধ্যম কোম্পানিগুলোও এ বিষয়ে এখনও কিছু বলেনি।