শুভেন্দু অধিকারী ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
তিনি ভবানীপুরের ঘরের মেয়ে। অথচ সেই নিজের ঘরেই হারতে হল তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। পাঁচ বছর আগে নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে লড়তে গিয়েছিলেন মমতা। পরাস্ত হয়েছিলেন। এ বার মমতারই আসনে মমতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন বিরোধী দলনেতা। তাতে পরাস্ত হলেন তৃণমূলনেত্রী। ঘরের মেয়েকে হারতে হল ঘরেই।
নিজের আসন ভবানীপুরকে ‘বড়বোন’ এবং নন্দীগ্রামকে ‘মেজবোন’ বলে সম্বোধন করেন মমতা। ‘মেজবোনের’ কাছে পাঁচ বছর আগেই হেরেছিলেন। সে বারও হারিয়েছিলেন শুভেন্দু। এ বার ‘বড়বোন’ ভবানীপুরেও হারলেন তিনি। এ বারও হারালেন সেই শুভেন্দুই। গত বারের চেয়ে আরও বড় ব্যবধানে। নন্দীগ্রাম আসনে পাঁচ বছর আগে ১৯৫৬ ভোটে মমতাকে হারিয়েছিলেন শুভেন্দু। এ বার জয়ের ব্যবধান আরও বাড়ালেন শুভেন্দু— ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটে জয়।
ভবানীপুর আসনের ফল ঘোষণার আগেই নন্দীগ্রামের চূড়ান্ত ফল ঘোষণা হয়ে গিয়েছে। নন্দীগ্রামে আগেই বিজয়ী ঘোষিত হয়েছেন। এ বার ভবানীপুর আসনও জিতে নিলেন বিরোধী দলনেতা। মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে তাঁরই আসনে যে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন, তাতে এ বার সাফল্য পেলেন শুভেন্দু। মমতাকে হারালেন মমতারই আসনে। ভবানীপুর আসনে জয়ের সার্টিফিকেট হাতে নিয়ে শুভেন্দু বলেন, “যাঁরা হিন্দুত্বের জন্য প্রাণ দিয়েছেন, এই জয় তাঁদের প্রতি উৎসর্গ করলাম। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানো খুব দরকার ছিল। এ বার তাঁর রাজনৈতিক সন্ন্যাস হয়ে গিয়েছে।”
সোমবার গণনাপর্বের শুরু থেকে ছিল টানটান উত্তেজনা। লড়াই যে হাড্ডাহাড্ডি হতে চলেছে, সেই আভাস মিলেছিল সকাল থেকেই। ২০ রাউন্ডের গণনা— প্রথম রাউন্ড থেকেই শুরু হয়েছিল স্নায়ুর লড়াই। প্রথম রাউন্ডে মমতা এগিয়ে, তো দ্বিতীয় রাউন্ডে শুভেন্দু, তার পরের রাউন্ডে আবার এগিয়ে মমতা। প্রথম দিকের কয়েকটি রাউন্ড চলে এ ভাবেই। তার পরে পঞ্চদশ রাউন্ড পর্যন্ত টানা এগিয়ে ছিলেন মমতা। যদিও সপ্তম রাউন্ড থেকে টানা নিজের ভোট বৃদ্ধি করতে থাকেন শুভেন্দু। কমাতে থাকেন ব্যবধান। প্রতি রাউন্ডে একটু একটু করে ব্যবধান কমিয়ে ষোড়শ রাউন্ডে গিয়ে মমতাকে ছাপিয়ে যান তিনি।
সকালে শুভেন্দু বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন নিজাম প্যালেসে নিজের দলীয় অফিসে। পরে সেখান থেকে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের গণনাকেন্দ্রে যান। ভবানীপুরের জনবিন্যাসের কথা উল্লেখ করে শুভেন্দু তখনই জানিয়েছিলেন, প্রথম দিকের কিছু রাউন্ডে পিছিয়ে থাকলেও পরে তিনি এগিয়ে যাবেন। অন্য দিকে মমতা সকাল থেকে ছিলেন বাড়িতেই। গণনার প্রাথমিক আভাসে দলকে পিছিয়ে পড়তে দেখে তৃণমূলের প্রার্থী এবং কাউন্টিং এজেন্টদের উদ্দেশে সমাজমাধ্যমে বার্তাও দেন। এরই মধ্যে দুপুরে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের গণনাকেন্দ্রে পৌঁছে যান মমতা। দুপুরে গণনাকেন্দ্রে পৌঁছে যান শুভেন্দুও। দু’জনেই সন্ধ্যা পর্যন্ত গণনাকেন্দ্রেই ছিলেন। পর সন্ধ্যায় গণনাকেন্দ্র থেকে বেরিয়ে কালীঘাটের বাড়িতে ফিরে যান তৃণমূলনেত্রী।
এরই মধ্যে ঈষৎ উত্তেজনার পরিস্থিতিও তৈরি হয় গণনাকেন্দ্রের কাছে। দুপুরে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের অদূরে একটি পেট্রল পাম্পে বসেছিলেন তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকেরা। পুলিশ গিয়ে তাঁদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। এর কিছু ক্ষণের মধ্যেই উল্টো দিক থেকে বিজেপির একদল কর্মী-সমর্থক সে দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তাঁদেরও বাঁধা দেন পুলিশকর্মীরা। বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরা তৃণমূলের পেতে রাখা চেয়ার ভাঙচুর করে বলেও অভিযোগ। এই উত্তেজনার মাঝেই দুপুর সাড়ে ৩টের কিছু পরে মমতা পৌঁছোন গণনাকেন্দ্র। ওই সময়ে তাঁর উদ্দেশে ‘চোর চোর’ স্লোগান তোলেন বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরা।
দুপুর থেকে মমতা এবং শুভেন্দু উভয়েই ছিলেন সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের গণনাকেন্দ্রে। সন্ধ্যায় কয়েক রাউন্ড গণনা বাকি থাকতেই আচমকা গণনাকেন্দ্র ছেড়ে বেরিয়ে আসেন মমতা। ক্ষুব্ধ মমতা বলেন, “আমাকে ভিতরে ঢুকতে দিচ্ছে না। পুরোটা একতরফা। ধাক্কা দিয়েছে, মেরেছে। সিআরপিএফ-এর সামনে। আমি প্রার্থী, আমাকে ঢুকতে দেয়নি। এটা হচ্ছে দানবিক পার্টি। ১০০টারও বেশি সিট লুট করেছে। এই নির্বাচন কমিশন হল বিজেপি কমিশন।” এ বিষয়ে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ অগ্রবালের কাছে অভিযোগ জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি বলে দাবি তৃণমূলনেত্রীর।
তৃণমূলনেত্রী আরও বলেন, “এটা কী ধরনের জয়! এটা ইমমোরাল ভিক্ট্রি। মোরাল ভিক্ট্রি নয়। পুরোটাই বেআইনি। জোর করে জিতেছে। লুট, লুট, লুট। আমরা ঘুরে দাঁড়াবই।”
মমতা-শুভেন্দুর দ্বৈরথের প্রথম পর্ব ছিল নন্দীগ্রাম। ভবানীপুর দ্বিতীয় পর্ব। অনেকটা জেদ করেই ভবানীপুরে লড়তে চেয়েছিলেন শুভেন্দু। নিজের জেতা আসন নন্দীগ্রামে তো তিনি লড়েছেনই। ভবানীপুর ছিল তাঁর কাছে ‘রাজনৈতিক সুযোগ’ নেওয়ার শামিল। নন্দীগ্রামের পরে যদি ভবানীপুরে মমতাকে হারাতে পারেন, তা হলে তাঁর পালকে আরেকটি পালক উঠবে। হেরে গেলে দ্বৈরথের ফলাফল ১-১ থাকবে। স্বভাবতই সারা রাজ্যের নজর ছিল ভবানীপুরের দিকে।
প্রার্থিতালিকা ঘোষণার পর থেকে গত দেড় মাস ধরে রাজ্য রাজনীতিতে ভবানীপুর আলাদা গুরুত্ব পেয়ে এসেছে। ভবানীপুর আসনের জন্য শুভেন্দুর মনোনয়ন পর্বে সঙ্গী হয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ স্বয়ং। এমনকি, ভবানীপুরবাসীর জন্য পৃথক ইস্তাহারও প্রকাশ করেছিলেন শুভেন্দু। প্রচার পর্বের শুরুর দিকে ভবানীপুরে বিশেষ সময় দিতে পারেননি মমতা। কারণ, তাঁকে সারা রাজ্যে ঘুরে ঘুরে বাকি আসনের জন্য প্রচার করতে হয়েছিল। শেষবেলায় ভবানীপুরের প্রচারে নেমে মমতা পদযাত্রা করেছেন, জনসভা করেছেন, আবাসনে আবাসনে ঘুরে ছোট ছোট সভাও করেছেন। সবমিলিয়ে ভবানীপুরে মোট সাতটি জনসভা (যার মধ্যে মাইক-সংঘাতে চক্রবে়ড়িয়ার সভা কয়েক মিনিটেই শেষ হয়ে গিয়েছিল) এবং ছ’টি পদযাত্রা করেছেন মমতা। ভবানীপুরে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে ঘরোয়া আলোচনা করেছেন। অন্য দিকে, ভবানীপুরে শুভেন্দুও করেছেন ১০টি সভা, তিনটি মিছিল এবং একটি রোড শো। পাশাপাশি, বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনসংযোগও করেছিলেন বিরোধী দলনেতা।
বিজেপির লক্ষ্য ছিল, ভবানীপুরেও নন্দীগ্রামের পুনরাবৃত্তি। অন্যদিকে, তৃণমূলের লক্ষ্য ছিল, দলনেত্রীর আসনকে কলকাতার ‘ফার্স্ট বয়’ করা। সেই উত্তাপ যেমন প্রচার পর্বে টের পাওয়া গিয়েছে, তেমনই টের পাওয়া গিয়েছে ভোটের দিনও। চেনা ‘ছক’ ভেঙে সকাল থেকে বুথে বুথে ঘুরেছেন মমতা। ঘুরেছেন শুভেন্দুও। এই লড়াইয়ে উভয়পক্ষকেই কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছিল ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) পরবর্তী পরিস্থিতি। এসআইআর পর্বে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বাদ গিয়েছিল ৫০ হাজারেরও বেশি ভোটারের নাম। এ বারের নির্বাচনে সেটিও ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ছিল। ধরে নেওয়া যেতে পারে সেই তালিকায় নির্দিষ্ট কোনও একটি দলের ভোটার ছিলেন না।
ভোটার সংখ্যায় সেই পরিবর্তন শেষ পর্যন্ত কোন দলকে সুবিধা করে দিল, তা গণনার আগে পর্যন্ত স্পষ্ট ছিল না। কারণ ভবানীপুরের জনবিন্যাস। এখানে যেমন রয়েছেন বিভিন্ন ধর্মের ভোটার, তেমনই রয়েছেন বিভিন্ন ভাষাভাষী ভোটারও। মমতা নিজেও প্রায়শই ভবানীপুরকে ‘মিনি ইন্ডিয়া’ বলে থাকেন। বহুত্ববাদী চরিত্রের এই আসনে রয়েছে মোট আটটি ওয়ার্ড— ৬৩, ৭০, ৭১, ৭২, ৭৩, ৭৪, ৭৭ এবং ৮২। জনবিন্যাসের নিরিখে ভবানীপুরে প্রায় ২৪ শতাংশ মুসলিমের বাস। বাকি ৭৬ শতাংশ অমুসলিম, যার মধ্যে অন্য সংখ্যালঘুরাও রয়েছেন। শিখ এবং জৈন ধর্মাবলম্বীদের সংখ্যাও রয়েছে উল্লেখযোগ্য ভাবে।
ওই ৭৬ শতাংশ অমুসলিমের মধ্যে প্রায় ৪২ শতাংশ বাংলাভাষী। বাকি ৩৪ শতাংশ অবাঙালি (গুজরাতি, পঞ্জাবি, মাড়োয়ারি, বিহারি এবং ওড়িয়া)। ভবানীপুরের ৭২ এবং ৮২ নম্বর ওয়ার্ড বাঙালি অধ্যুষিত। ৬৩, ৭০, ৭১, ৭৩ এবং ৭৪ নম্বর ওয়ার্ডে আবার দীর্ঘ দিন ধরে বসবাস করছেন গুজরাতি, পঞ্জাবি এবং মাড়োয়ারিরা। ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের মধ্যে মুসলিম সম্প্রদায়ের বাসিন্দারা সংখ্যায় অধিক।
ভবানীপুরে রয়েছে আর্থসামাজিক বিন্যাসও। উচ্চবিত্তদের মধ্যে বেশির ভাগই অবাঙালি ব্যবসায়ী। উচ্চমধ্যবিত্ত এবং মধ্যবিত্তদের মধ্যে রয়েছেন বাঙালিরা। আর্থিক দিক থেকে তুলনামূলক ভাবে পিছিয়ে-থাকা বস্তিবাসীরাও রয়েছেন এই কেন্দ্রে। গোটা কেন্দ্র জুড়েই রয়েছে মিশ্র জনবিন্যাস। ফলে ভবানীপুরে একটিই নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর ভোটব্যাঙ্কের প্রভাব রয়েছে, তা নিশ্চিত ভাবে বলা যায় না।
ভবানীপুর আসনে নির্বাচনের উত্তাপ টের পাওয়া গিয়েছিল ভোটগণনার দিনেও। পরিচিত ছক ভেঙে ভোটের দিন সকাল সকাল এলাকা পরিদর্শনে বেরিয়ে পড়েছিলেন তৃণমূলনেত্রী। ওই দিন বুথে বুথে ঘোরেন মমতা। ভোটের দিনগুলিতে সাধারণত এ ভাবে দেখা যায় না তাঁকে। ভোটের দিন বিকাল পর্যন্ত বাড়িতেই থাকবেন এবং সারাদিন ভোটের তদারকি করবেন— এটাই ছিল তাঁর চেনা রুটিন। কিন্তু এ বারের ভোটপর্বে সেই রুটিন ভেঙে রাস্তায় নেমেছিলেন তৃণমূলনেত্রী। গণনার দিনের জন্য তখন থেকে ধীরে ধীরে তপ্ত হতে শুরু করেছিল ভবানীপুরের রাজনীতির বাতাবরণ।
ছবি : সংগৃহীত
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় অরুণাচল প্রদেশে ব্যাপক বিক্ষোভ-সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। রাজ্যটিতে প্রস্তাবিত সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রকল্পের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ঘিরে সহিংসতার এই ঘটনা ঘটে।
বিক্ষোভের সময় একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কার্যালয়, একটি পুলিশ স্টেশন ও পুলিশের কয়েকটি গাড়িতে আগুন দেয়া হয়। এ ছাড়া স্থানীয় দুই বিধায়ক ও রাজ্য বিজেপি সভাপতির বাসভবনেও ভাঙচুর চালানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা জোরদার এবং তিনটি শহরে মিছিল-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি পাঁচজনের বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ করেছে প্রশাসন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নর্থইস্ট টুডে বলছে, অরুণাচল প্রদেশে প্রস্তাবিত সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রকল্পের (এসইউএমপি) বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা ও সহিংসতার ঘটনা ঘটে এবং এরপরই পূর্ব সিয়াং জেলার তিন শহরে পাঁচজনের বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ করেছে প্রশাসন।
গত শুক্রবার জারি করা আদেশে শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেল ৫টা থেকে জেলার পাসিঘাট, মেবো ও রুকসিনে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১৬৩ ধারা কার্যকর করা হয়।
চলমান আন্দোলন ঘিরে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে- এমন আশঙ্কায় পূর্ব সিয়াং জেলা প্রশাসন এই নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এর আগে পূর্ব সিয়াংয়ের পুলিশ সুপার পাসিঘাটে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সরকারি ও ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের সম্ভাব্য পরিকল্পনার বিষয়ে প্রশাসনকে সতর্ক করা হয়েছিল বলে জানানো হয়েছে।
জেলা প্রশাসকের আদেশে বলা হয়েছে, ‘বর্তমান পরিস্থিতি থেকে আরও ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে’। শান্তি ও জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে আগাম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়া জরুরি বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী, সব ধরনের জনসভা, মিছিল, সমাবেশ এবং পাঁচজনের বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ। এ ছাড়া আগ্নেয়াস্ত্র, দা, ধনুক-তীর, ছোরা, ছুরি, কুঠার ও লাঠিসহ অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে- এমন কোনো বস্তু বহন করা যাবে না। তবে দায়িত্ব পালনরত নিরাপত্তাকর্মীরা এ নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবেন।
এছাড়া ভাঙচুর, সম্পত্তি ধ্বংস, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা সহিংসতায় উসকানি দেয়ার মতো কাজ শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া কোনো মিছিল বা বিক্ষোভও করা যাবে না বলে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় নির্ধারিত এলাকার সব বাসিন্দাকে পুলিশ ও প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলতে বলা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অন্যদিকে সংবাদমাধ্যম অরুণাচল২৪-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রস্তাবিত সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রকল্পের বিরুদ্ধে গত শুক্রবার রাতে পাসিঘাটে বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেয়। এ সময় জাতীয় জলবিদ্যুৎ নিগমের (এনএইচপিসি) একটি কার্যালয়, একটি পুলিশ স্টেশন এবং পুলিশের কয়েকটি গাড়িতে আগুন দেয়া হয়। এ ছাড়া দুই স্থানীয় বিধায়ক ও রাজ্য বিজেপি সভাপতির বাসভবনে ভাঙচুর চালানো হয়।
অবশ্য প্রকল্পটি এখনো প্রাথমিক তদন্ত ও সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর একাংশের উদ্বেগ, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মানুষকে বাস্তুচ্যুত করা হতে পারে, পরিবেশের ক্ষতি হতে পারে এবং পূর্বপুরুষের জমি ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবিকা হুমকির মুখে পড়তে পারে।
অন্যদিকে রাজ্য সরকার পানি ব্যবস্থাপনা এবং তিব্বতে ইয়ারলুং সাংপো নদীর উজানে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে প্রকল্পটির বৃহত্তর গুরুত্ব তুলে ধরেছে। অরুণাচল প্রদেশে এই নদী সিয়াং নামে পরিচিত।
পূর্ব সিয়াংয়ের ডেপুটি কমিশনার জয়ন্তী পার্টিনের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার দিনের বেলায় পাসিঘাটে বন্ধ মোটামুটি শান্তিপূর্ণ ছিল। তবে বিকেল ৫টায় আনুষ্ঠানিক বন্ধ শেষ হওয়ার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কয়েক শ বিক্ষোভকারী আন্দোলন চালিয়ে যান, মহাসড়ক অবরোধ করেন এবং স্থানীয় ম্যাজিস্ট্রেট ও নিরাপত্তাকর্মীদের অনুরোধ সত্ত্বেও সরে যেতে অস্বীকৃতি জানান।
প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে আলোচনা করেও পরিস্থিতি শান্ত করা সম্ভব হয়নি। এরপর জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করা হয়। কর্মকর্তাদের ভাষ্য, পরে বিক্ষোভকারীরা পুলিশ ও অন্য কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে পাথর ছুড়তে থাকেন। এতে কয়েকজন আহত হন।
রাত ১১টার দিকে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যায়। শুরু হয় অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর। আর শনিবার ভোর পর্যন্ত এই সহিংসতা চলে।
পাসিঘাটের ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ টনি তাতাক নিজেও সহিংসতায় আহত হন। তিনি জানান, হাই রিজিয়ন এলাকায় এনএইচপিসির কার্যালয় এবং একই এলাকার একটি পুলিশ স্টেশনে আগুন দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া পুলিশের সাত থেকে আটটি গাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।
সহিংসতার সময় পাসিঘাট ওয়েস্টের বিধায়ক নিনং এরিং, মারিয়াং-গেকুর বিধায়ক ওনি পানিয়াং এবং অরুণাচল প্রদেশ বিজেপির সভাপতি কালিং ময়ংয়ের বাসভবনেও ভাঙচুর চালানো হয়। আদি জনগোষ্ঠীর সর্বোচ্চ সংগঠন আদি বানে কেবাংয়ের কার্যালয়ও তছনছ করা হয়েছে।
এমন অবস্থায় শনিবার সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে বিক্ষোভকারীদের আলোচনার মাধ্যমে নিজেদের দাবি তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু।
তিনি বলেন, ‘এ ধরনের সহিংস বিক্ষোভের আমি তীব্র নিন্দা জানাই। এসইউএমপি প্রকল্প নিয়ে যাদের উদ্বেগ রয়েছে, তাদের এমন পথ বেছে না নিয়ে আলোচনায় বসার আহ্বান জানাচ্ছি।’
ছবি : সংগৃহীত
ফ্রান্সজুড়ে গণবিক্ষোভের পর বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় প্রায় ১ হাজার জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার দিনের শেষভাগে প্যারিসসহ কয়েকটি শহরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তবে গত সপ্তাহান্তের মতো ব্যাপক দাঙ্গা ও লুটপাটের পরিস্থিতি এবার এখন পর্যন্ত এড়ানো গেছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার দেশজুড়ে বিক্ষোভে প্রায় ৪ লাখ ১০ হাজার মানুষ অংশ নেন।
তবে শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর দাবি, বিক্ষোভকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৮ লাখ। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং স্কুলগুলোর বেহাল দশার প্রতিবাদে এসব বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভ ঘিরে সহিংসতা ও ভাঙচুর ঠেকাতে দেশজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।
বিভিন্ন শহরে নানা বিধিনিষেধও আরোপ করা হয়। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, কেবল স্বীকৃত ট্রেড ইউনিয়নগুলোর আয়োজিত বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হবে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের দায়ে দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ায় শত শত মানুষকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
শনিবার প্যারিসে ‘পোর্ত দ’ইতালি’ থেকে ‘পোর্ত দ্য ভিনসেন’ পর্যন্ত একটি পদযাত্রা শুরুতে শান্তিপূর্ণ ছিল। পদযাত্রার শেষভাগে বিক্ষোভকারী ও দাঙ্গা পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। পুলিশের অভিযানে সাধারণত সংগঠিত অপরাধ দমন ও সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমে নিয়োজিত একটি বিশেষ ইউনিটও অংশ নেয়।
কিছু বিক্ষোভকারীকে অস্থায়ী ব্যারিকেড তৈরি করে পুলিশের দিকে বিভিন্ন বস্তু ছুড়তে দেখা যায়। এ সময় মুখোশধারী তরুণদের একটি দল একটি গাড়ির শোরুমের জানালা ভাঙচুর করলে পুলিশ তাদের ওপর লাঠিচার্জ করে।
এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা লরাঁ নুনেজ বলেন, পদযাত্রার শেষ অংশে কয়েক হাজার উগ্রবাদী কর্মী জড়ো হয়েছিল, যার মধ্যে প্রায় ৫০০ জনকে দাঙ্গাবাজ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।
দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী মার্সেইতে আবর্জনার পাত্রে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় এবং রাস্তা অবরোধে ধাতব পাত ব্যবহার করা হয়। শহরটিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি গাড়িকে জ্বলন্ত ব্যারিকেডের মধ্য দিয়ে যেতে দেখা যায়। বোর্দোতে কালো পোশাক ও মুখোশ পরা কয়েকজন বিক্ষোভকারী একটি ভবন থেকে তক্তা খুলে রাস্তা অবরোধে ব্যবহার করেন।
লিওঁ শহরে স্থানীয় প্রশাসনের নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি এলাকায় জড়ো হওয়া জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। ফ্রান্সের তৃতীয় বৃহত্তম শহরটির এক বিক্ষোভকারী বলেন, আমাদের দলে প্রায় ১৫০ জন ছিলাম, যাদের অধিকাংশই মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। হঠাৎ করেই কাঁদানে গ্যাস ছোড়া শুরু হয়। রাস্তায় তখন কিছুই দেখা যাচ্ছিল না।
দিনের শেষভাগে নুনেজ জানান, প্রায় ১ হাজার জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তিনি আরও জানান, দুজন ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের একজন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তুলুজ শহরে এবং অন্যজন মধ্যাঞ্চলীয় ক্লেরমঁ-ফেরাঁ শহরে আহত হন।
প্যারিসে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অংশ নেওয়া জেলি নামের এক নারী বিবিসিকে বলেন, মানুষ সত্যিই হতাশ হয়ে রাস্তায় নেমেছে। ম্যাখোঁ ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তারা অনেক কষ্টের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
২৬ বছর বয়সী জেলি বলেন, তারা আমাদের চুপ করিয়ে রাখে। তারা আমাদের টাকা নিয়ে নেয়, আমাদের ওপর প্রচুর কর চাপায়, অথচ আমরা কিছুই বলতে পারি না। আজ আমরা রাস্তায় নেমেছি, কারণ অনেক সময় পেরিয়ে গেছে, আর সহ্য করা যাচ্ছে না।
মুখোশধারী দুই কিশোর বিক্ষোভকারী, যারা নিজেদের নাম প্রকাশ করতে চায়নি, জানায়, তাদের প্রজন্ম চরম হতাশায় ভুগছে এবং সরকারের কাছ থেকে পুরোপুরি অবহেলিত বোধ করছে।
শনিবারের বিশৃঙ্খলার বিষয়ে এক বিক্ষোভকারী বলেন, আমার মনে হয় লুটপাট করাটা মোটেও ঠিক নয়। তবে দারিদ্র্য আর পুলিশের সহিংসতার কারণেই এমনটা ঘটছে। আমাদের দাবিগুলোর জবাব না পাওয়া পর্যন্ত এই বিক্ষোভ চলবে। আমরা সত্যিই ফ্রান্সে পরিবর্তন চাই।
এদিকে, উত্তর-মধ্যাঞ্চলীয় অর্লেয়ঁ শহরে কট্টর ডানপন্থি দল ন্যাশনাল র্যালির বিরুদ্ধে আয়োজিত একটি সমাবেশে প্রায় ১৩ হাজার মানুষ অংশ নেন। সমাবেশটি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়।
ফ্রান্সের মতো একই ধরনের ইস্যুতে শনিবার ইউরোপের আরও কয়েকটি শহরে বিক্ষোভ হয়েছে। স্পেনের বার্সেলোনায় শিক্ষার্থীদের একটি বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নেয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে ‘অকারণে ঘটানো সহিংসতা’ বলে অভিহিত করেছে। এ ঘটনায় ১০০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আলবেনিয়ার রাজধানী তিরানায় সরকারবিরোধী হাজারো বিক্ষোভকারীকে ছত্রভঙ্গ করতে দাঙ্গা পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসেও সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। উত্তর ইতালির মিলানে পুলিশ ও শত শত সেনাসদস্যের সমন্বয়ে বড় ধরনের নিরাপত্তা অভিযান চালানো হয়। গত সপ্তাহের সহিংসতার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে বিক্ষোভকারীদের শহরে জড়ো হওয়া থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করে কর্তৃপক্ষ। গত সপ্তাহে সেখানে কয়েকজন বিক্ষোভকারী আগুন ধরিয়ে দিয়েছিলেন, জানালার কাচ ভেঙেছিলেন এবং দোকানপাটে লুটপাট চালিয়েছিলেন।
গত সপ্তাহান্তে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার প্রতিবাদে ফ্রান্সে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর এসব বিক্ষোভে জনঅসন্তোষ আরও প্রকাশ পায়। এর পরের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে আড়াই হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রথম দিকে বিক্ষোভ মিছিলগুলো মূলত শান্তিপূর্ণ থাকলেও পরে সেগুলোর একাংশ সহিংসতা, লুটপাট ও ভাঙচুরে রূপ নেয়। ফ্রান্সজুড়ে দুই হাজারের বেশি দোকানপাট ও অন্যান্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। ফ্রান্সের চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিসিআই) জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েক শ মিলিয়ন ইউরো হতে পারে।
এএফপির তথ্য অনুযায়ী, পুলিশের ভিড় নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত গ্রেনেডের আঘাতে এক বিক্ষোভকারীর হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ ছাড়া প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ফরাসি কর্তৃপক্ষ প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে রাতের বেলা কারফিউ জারি করতে বাধ্য হয়েছে।
ফ্রান্সে ছয় মাস পর প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এমন সময়ে ধারাবাহিক বিক্ষোভ দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রধান প্রার্থীরা চলমান পরিস্থিতির জন্য প্রেসিডেন্ট ম্যাখোঁ ও তার মন্ত্রীদের দায়ী করেছেন।
ছবি : সংগৃহীত
ক্লাস ফাঁকি দিয়ে স্কুল বন্ধ রাখার অদ্ভুত ও ঝুঁকিপূর্ণ এক পরিকল্পনা ফেঁদেছিল এক কিশোরী শিক্ষার্থী। তবে সেই ফন্দি শেষ পর্যন্ত কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে তার জন্য। দিল্লির লোধি রোডের ‘এয়ার ফোর্স বাল ভারতী স্কুল’-এ বোমাতঙ্কের ভুয়া ইমেইল পাঠানোর অভিযোগে শেষ পর্যন্ত পুলিশের জালে ধরা পড়েছে ওই স্কুলেরই এক নাবালিকা ছাত্রী। শনিবার (২৪ অক্টোবর) দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত ২৩ অক্টোবর স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে একটি উড়ো হুমকি সম্বলিত ইমেইল পাঠানো হয়। ইমেইলটির সাবজেক্ট লাইনে লেখা ছিল—‘আপনার ভবনে বোমা রাখা আছে’ (Bombs Placed in Your Building)। সম্প্রতি ভারতের রাজধানী দিল্লির বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিকভাবে বোমাতঙ্কের হুমকি ইমেইল আসার প্রেক্ষাপটে এই বার্তাকে ঘিরে মুহূর্তেই চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার পরপরই নড়েচড়ে বসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। প্রেরককে শনাক্ত করতে বিস্তারিত কারিগরি ও ডিজিটাল তদন্ত শুরু করে দিল্লি পুলিশ। সাইবার ইউনিটের সহায়তায় ডিজিটাল সাক্ষ্যপ্রমাণ, আইপি অ্যাড্রেস এবং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিগত লিংক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, হুমকি বার্তাটি বাইরের কোনো সন্ত্রাসী চক্রের নয়; বরং প্রতিষ্ঠানটিরই এক নাবালিকা ছাত্রীর অ্যাকাউন্ট থেকে পাঠানো হয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, কোনো ক্ষতিকর উদ্দেশ্যে নয়, কেবল সেদিন যেন স্কুলটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়—সেই ইচ্ছাতেই ছুটির লোভে এই বোমাতঙ্কের নাটক সাজিয়েছিল ওই কিশোরী।
দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় ভারতের ‘জুভেনাইল জাস্টিস অ্যাক্ট’-এর প্রযোজ্য ধারা অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আইন মেনে পরবর্তী আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
ফ্রান্সের পর এবার বিক্ষোভ ও সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ইতালি। শনিবার (২৪ অক্টোবর) দেশটির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রোম, তুরিন ও বোলোনিয়ায় কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করেছে পুলিশ। এদিকে সহিংসতা দমনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইতালির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাত্তেও পিয়ান্তেদোসি।
তুরিনে বিক্ষোভকারীদের একাংশ পুলিশকে লক্ষ্য করে বোতল ও আতশবাজি ছুড়লে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। একইভাবে রোমে মিছিল চলাকালে বোতল ছোড়ার ঘটনা ঘটলে পুলিশ জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। বার্তা সংস্থা আনাদোলু ও ইতালির সংবাদ সংস্থা আনসার প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
বোলোনিয়ায়ও বিক্ষোভকারীদের বোতল ও পটকা নিক্ষেপের পর পুলিশ তাদের পিছু হটিয়ে দেয়। এ ছাড়া মিলান ও ফ্লোরেন্সে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। এসব শহরের কেন্দ্রীয় এলাকার কয়েকটি অংশে বিক্ষোভকারীদের প্রবেশ ঠেকিয়ে দেয় পুলিশ।
এদিকে গত সপ্তাহান্তে বিক্ষোভের সময় সংঘটিত সহিংসতার তদন্তে ইতালির বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়েছে কর্তৃপক্ষ। মিলান ও পার্শ্ববর্তী মনজা শহরসহ মোট ২২টি শহরে দেড় শতাধিক স্থানে তল্লাশি চালানো হয়েছে।
আনসার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশের প্রতি হুমকি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলার পরিকল্পনা, যানবাহন ভাঙচুর এবং ভবনে আগুন দেওয়ার ষড়যন্ত্রের অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাত্তেও পিয়ান্তেদোসি জানিয়েছেন, যেসব শহরকে নিরাপত্তার দিক থেকে বিশেষভাবে সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, সেখানে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বিক্ষোভের নামে সহিংসতা ছড়ানোর চেষ্টা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইরানে আজ নতুন করে আবারও হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্থানীয় সময় শনিবার জানান রোববার হামলা শুরু হতে পারে। আর নয়ত ইরানের সঙ্গে ‘বড় চুক্তি’ হতে পারে। ইরানে মার্কিনিরা যে কোনো সময় হামলা চালাতে পারে এমন আশঙ্কা করা হচ্ছে কয়েকদিন ধরেই। এমন সময় ট্রাম্প জানালেন রোববারই এ হামলা শুরু হতে পারে।
সাংবাদিকরা ট্রাম্পকে ইরানে হামলার ব্যাপারে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, “আমরা হামলার ব্যাপারে ভাবছি, সম্ভবত আগামীকাল (আজ রোববার) হতে পারে।”
তবে ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত অনুযায়ী চুক্তিতে রাজি হয় তাহলে নতুন হামলা থেকে তারা বাঁচতে পারবে বলেও জানান ট্রাম্প।
তিনি বলেন, “ইরানিরা চুক্তি চায়। কিন্তু সমস্যা হলো তারা কী চুক্তি মানার ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকতে পারবে?”
ট্রাম্প দাবি করেন তার লক্ষ্য ছিল ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র না তৈরি করতে পারে।
গত বছরের জুনে ইরানে বি-২ বোমারু দিয়ে ইরানিদের পারমাণবিক অবকাঠামোতে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। তবে ট্রাম্প বলেছেন, যদি এ বছর তিনি আবারও ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত না দিতেন তাহলে গত বছরের হামলাটি হয়ত ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে আটকানোতে যথার্থ হতো না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট সাংবাদিকদের কাছে আরও দাবি করেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুদ্ধের আগের মতো তেল আসছে। তবে তিনি এর পক্ষে কোনো প্রমাণ দেননি।
ইরান যদি চুক্তি না করে তাহলে সামরিকভাবে তাদের এতে বাধ্য করা হবে মন্তব্য করে ট্রাম্প বলেন, “আমার কাজটি হয়ত সম্পন্ন করতে হবে। আর নয়ত তারা হয়ত চুক্তি করবে। কিন্তু আমি নিশ্চিত নই। সামরিক হামলা বা চুক্তি যেভাবেই হোক আমরা জিতব।”
সূত্র: আনাদোলু
ছবি: সংগৃহীত