কবির সুমন
গত দেড় দশকে তৃণমূল আর কবীর সুমন সমার্থক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিল।
তবে ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের ভরাডুবির পর ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে শিল্পী বললেন, ‘আমি তো তৃণমূলপন্থী নই!’
আজতক বাংলার সাক্ষাৎকারে শিল্পী বলেন, ‘আমি তো তৃণমূলের সদস্য নই, আমি তৃণমূলপন্থীও নই। আগে আমি কোনো পার্টির সদস্যও ছিলাম না। মমতা আমার প্রায় হাতে-পায়ে ধরে দাঁড় করিয়েছিলেন। পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ামাত্রই আমি পদত্যাগ করি।’
ভোটের ফল নিয়েও কথা বলেছেন কবীর সুমন। তিনি বলেন, ‘যেভাবে ভোটটা হলো, হঠাৎ সামরিক বাহিনী ঢুকল। ভাবতে পারিনি যে ট্যাংক ঢুকবে। তবে জনাদেশ কেন মমতার বিপক্ষে গেল, সেটা বলতে পারব না। কিন্তু আমি মনে করি, একাধিক ভুল হয়েছে। মানুষ সেটা ভালো চোখে নেয়নি। যেমন চাকরি। চাকরির ক্ষেত্রটা ভয়ংকরভাবে মার খেয়েছে। মানুষ সেটা ভালো চোখে নেননি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সব কাজ ঠিক করেছেন? উত্তর, না। তিনি পারেননি। আমি এবারও তৃণমূলকে ভোট দিয়েছি ঠিকই, কিন্তু আমি তৃণমূলের কাজে খুশি হতে পারিনি। দলের বহু কথা ও আচরণে মানুষ ধাক্কা খেয়েছে। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনেক ভালো কাজও করেছেন। যেমন ‘সবুজ সাথী’। বাচ্চারা সাইকেল পেয়েছে। এটা কত বড় কাজ। এসব কাজের পর হয়তো একদিন মমতার একটা মন্দির হবে।’
পাশাপাশি রাজ্যে নতুন সরকারকে স্বাগত জানিয়ে কবীর সুমন বলেন, ‘সিপিএম বা তৃণমূল আমলে মেয়েদের নিরাপত্তা কিন্তু সুনিশ্চিত ছিল। আমি আশা করব, নতুন সরকার যেন সেই ধারা বজায় রাখে। এখনো ভোট হলে আমি তৃণমূলকেই দেব। তবে সে রকম কোনো কমিউনিস্ট পার্টি এলে আমি এই বুড়ো বয়সেও তাদের সদস্য হওয়ার চেষ্টা করব। আমি তাদের জন্য গান বাঁধব। তাদের পাশে থাকব।’
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান তিনটি সংবাদমাধ্যমকে হোয়াইট হাউস থেকে কার্যক্রম চালাতে না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল শুক্রবার ট্রাম্প এ-সংক্রান্ত একটি নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞায় পড়া তিনটি সংবাদমাধ্যম হলো-সিএনএন, পলিটিকো এবং এমএস নাও।
হোয়াইট হাউসের এ নিষেধাজ্ঞাকে স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের ওপর ট্রাম্পের আঘাতের সর্বশেষ নজির বলে মনে করছেন অনেকেই।
এ তিনটি সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে ভুয়া খবর প্রচারের অভিযোগ তুলেছেন ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে নিয়ে লেখা বা প্রতিবেদন করার সময় তাদের ক্রমাগত মিথ্যা ও মনগড়া লেখার সুযোগ থাকা উচিত নয়।’
ট্রাম্প আরও লেখেন, ‘ভুয়া খবর প্রচার করা অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের তালিকাও আসছে।’
ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে ট্রাম্প জানান, নির্দিষ্ট কোনো ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নয়; বরং গত কয়েক বছরে প্রকাশিত ধারাবাহিক প্রতিবেদনগুলোর কারণে তিনি তিনটি সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
হোয়াইট হাউসকে ‘জনগণের বাড়ি’ বলেও উল্লেখ করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘জনগণের বাড়িতে তাদের (ওই সংবাদমাধ্যমগুলোকে) ঢুকতে দিতে হবে-এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।’
এ সময় ট্রাম্পের কাছে জানতে চাওয়া হয়, ভুয়া খবর প্রচার করা অন্যান্য সংবাদমাধ্যম কোনগুলো। তখন ট্রাম্প ওয়াশিংটন পোস্ট আর নিউইয়র্ক টাইমসের নাম উল্লেখ করেন। ভবিষ্যতে এসব সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দেন তিনি। ট্রাম্পের এ পদক্ষেপ আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে, সেটা প্রায় নিশ্চিত।
কেননা বিশেষজ্ঞদের মতে, এ পদক্ষেপ মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। ওই সংশোধনী নাগরিকদের মতপ্রকাশের এবং স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের অধিকার নিশ্চিত করেছে।
কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির নাইট ফার্স্ট অ্যামেন্ডমেন্ট ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক জামেল জেফার এক বিবৃতিতে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এমন নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি অসাংবিধানিক। কেননা সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর অধীন হোয়াইট হাউসের প্রেস পুল একটি ‘পাবলিক ফোরাম’ হিসেবে বিবেচিত। তাই কোনো সাংবাদিকের দৃষ্টিভঙ্গির কারণে তাঁকে সেখান থেকে বাদ দেওয়ার এখতিয়ার প্রেসিডেন্টের নেই।
ট্রাম্পের এমন নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরও গতকাল বিকেলে ওই তিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের হোয়াইট হাউস থেকে দায়িত্ব পালন করে যেতে দেখা গেছে। এক বিবৃতিতে সিএনএন জানিয়েছে, হোয়াইট হাউস থেকে সংবাদ সংগ্রহ করা সাংবাদিকদের পাশে রয়েছে তারা।
সংবাদমাধ্যটি বিবৃতিতে আরও জানায়, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, সরকারের কোনো ধরনের বাধা বা হস্তক্ষেপ ছাড়াই সংবাদ সংগ্রহের অধিকার আমাদের আছে। এখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়েছেন, তা কার্যকর করা হলে সেটি হবে এ মৌলিক ও সংবিধানে সুরক্ষিত অধিকারের ওপর বেআইনি আঘাত।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট দিয়ে পলিটিকো বলেছে, তারা বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা চালিয়ে যাবে এবং সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর আওতাধীন অধিকার জোরালোভাবে রক্ষায় লড়াই করবে।
সংবাদমাধ্যমটি যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসন এবং ভবিষ্যতের যেকোনো প্রশাসনের বিষয়ে এখনকার মতো নিরপেক্ষভাবে সংবাদ প্রকাশ করে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পর এমএস নাও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
জাতিসংঘের লোগো
জাতিসংঘের বার্ষিক সাধারণ অধিবেশনকে সামনে রেখে নিউইয়র্কে জড়ো হচ্ছেন বিশ্বনেতারা। ইতিমধ্যে সংস্থাটির পরবর্তী মহাসচিব নির্বাচনের তোড়জোড় শুরু হয়েছে। নতুন নেতা বাছাইয়ে গতকাল শুক্রবার তৃতীয় দফার অনানুষ্ঠানিক ভোটাভুটি করেছে নিরাপত্তা পরিষদ।
তবে এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলা এ গোপন ভোটেও কোনো প্রার্থী স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে যেতে পারেননি। নিরাপত্তা পরিষদের এ ভোটাভুটির আনুষ্ঠানিক কোনো ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি। বৈঠক শেষে পরিষদের বর্তমান সভাপতি ও জাতিসংঘে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জেরোম বোনাফন্ট শুধু জানান, তৃতীয় দফার খসড়া ভোটাভুটি সম্পন্ন হয়েছে।
বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হতে এখন আট প্রার্থী লড়ছেন। তবে প্রথম দুই দফার অনানুষ্ঠানিক ভোটেও কোনো একক প্রার্থী স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে থাকতে পারেননি।
নানা সংকটে থাকা জাতিসংঘে এবার একজন নারী মহাসচিব দেখতে চায় নিরাপত্তা পরিষদের কয়েকটি সদস্যদেশ। ইতিমধ্যে তারা নিজেদের এ পছন্দের কথা প্রকাশ করেছে।
দ্বিতীয় দফার গোপন ভোটে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন গায়ানার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যারোলিন রদ্রিগেজ-বার্কেট। দ্বিতীয় অবস্থানে ছিলেন কোস্টারিকার রেবেকা গ্রিনস্প্যান। আর জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রধান আর্জেন্টিনার রাফায়েল গ্রোসি ছিলেন তৃতীয় স্থানে।
মহাসচিব পদের অন্য প্রার্থীরা হলেন সেনেগালের ম্যাকি স্যাল, ইকুয়েডরের ইভন এ-বাকি ও মারিয়া ফার্নান্দা এস্পিনোসা, চিলির মিশেল ব্যাসেলেট এবং উগান্ডার ওলারা ওতুন্নু।
নিরাপত্তা পরিষদের ভেটো ক্ষমতাসম্পন্ন স্থায়ী পাঁচ সদস্য হলো যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, ফ্রান্স ও রাশিয়া। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুঞ্জন রয়েছে, ক্ষমতাধর এ পাঁচ দেশের সমঝোতায় শেষ মুহূর্তে হুট করে নতুন কোনো সমঝোতার প্রার্থীকে দৃশ্যপটে নিয়ে আসা হতে পারে।
বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কূটনীতিক বলেন, ‘যদি অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এমন কিছু ঘটে, তবে সেটি বড় সংকট তৈরি করবে।’
মহাসচিব হতে হলে একজন প্রার্থীকে ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদে অন্তত ৯টি ভোট পেতে হয়। একই সঙ্গে স্থায়ী পাঁচ পরাশক্তির কারও ভেটো পাওয়া যাবে না। অথচ বর্তমানে এ পাঁচ পরাশক্তির মধ্যে গভীর বিভক্তি ও মতবিরোধ রয়েছে। কোনো প্রার্থী নিরাপত্তা পরিষদের এ বাধা পার হতে পারলে চূড়ান্ত নিয়োগের জন্য তাঁর নাম পাঠানো হবে জাতিসংঘের সব সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত সাধারণ পরিষদে।
নির্দিষ্ট কোনো পছন্দের প্রার্থীর নাম উল্লেখ না করে বৃহস্পতিবার বক্তব্য দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা। তিনি বলেন, প্রার্থীদের অবশ্যই জাতিসংঘকে মূল লক্ষ্যে ফিরিয়ে নিতে হবে এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নে প্রকাশ্যে প্রতিশ্রুতি দিতে হবে।
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘অযৌক্তিক, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও তথাকথিত “ওক” (অতিসচেতন প্রগতিশীল) মতাদর্শ সংস্থাটির কার্যকারিতা নষ্ট করেছে। নতুন মহাসচিবকে অবশ্যই এসব বাদ দিয়ে বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার মূল দায়িত্বে জাতিসংঘকে ফিরিয়ে আনতে হবে।’
ভোটাভুটিতে নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্য গোপন ব্যালটে প্রার্থীদের মূল্যায়ন করে। এ ক্ষেত্রে প্রতিটি ব্যালটে তিনটি বিকল্প থাকে। এগুলো হলো ‘উৎসাহিত করা’, ‘নিরুৎসাহিত করা’ অথবা ‘মতামত নেই’।
কয়েক দফা অনানুষ্ঠানিক ভোটের পর স্থায়ী পাঁচ সদস্যকে ভিন্ন রঙের ব্যালট দেওয়া হবে। তবে ঠিক কত দফা পর তা দেওয়া হবে, তা নির্দিষ্ট নয়। ফলে বোঝা যাবে কোনো স্থায়ী সদস্য ভেটো দিয়েছে কি না। তবে কোন দেশ ভেটো দিয়েছে, তা জানা যাবে না।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
একই দিনে একের পর এক ধাক্কা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবনে এরকম শুক্রবার আগে এসেছে কিনা সন্দেহ। আগেই ভেঙে খান খান হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস। এবার পশ্চিমবঙ্গের দুই বিধানসভা উপ-নির্বাচনের আগে খোয়ালেন দলীয় নাম ও প্রতীক।
অন্যদিকে, নমিনেশন জমা দেওয়ার সময় সীমা শেষ হওয়ার পর নন্দীগ্রামের মত হেভিওয়েট আসন থেকে নমিনেশন তুলে নিলেন মমতার প্রার্থী। আবার রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে তড়িঘড়ি করে কংগ্রেসকে সমর্থন জানালেন মমতা। এক ঘণ্টার মধ্যে খুনের মামলায় গ্রেপ্তার করা হলো নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থীকে।
দলের নতুন নাম
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের নতুন নাম হলো ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’। তাদের প্রতীক ‘ফুটবলার’। অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের নাম হলো ‘ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেস’। প্রতীক হলো ‘খাম’। পশ্চিমবঙ্গের দুই বিধানসভা আসনে উপনির্বাচনের আগে প্রতীক যুদ্ধে ইতি টেনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরের এমনই অন্তর্বর্তী নাম ও প্রতীক চূড়ান্ত করেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন।
আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগরের উপনির্বাচনে মমতা ও ঋতব্রত শিবিরের প্রার্থীদের এই প্রতীক এবং এই দলের নামেই নির্বাচনে লড়াই করতে হবে। আজ শুক্রবার দুপুরে বিজ্ঞপ্তি জারি করে এই সিদ্ধান্ত জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
বিধানসভা উপনির্বাচনের লড়াই করার জন্য তৃণমূল কংগ্রেসের বিবাদমান দুই গোষ্ঠীই নতুন দলের নাম ও প্রতীকের জন্য নিজেদের পছন্দের তালিকা নির্ধারিত সময় আজ শুক্রবার সকাল ১১টার মধ্যে নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়। সূত্রের খবর, এর আগে গতকাল দিবাগত রাত ১২টার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী দলের নাম ও প্রতীকের জন্য তিনটি করে বিকল্প জমা দেয়। অন্যদিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী আজ শুক্রবার সকালে তাদের পছন্দের তালিকা পাঠায়।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পর ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যাওয়া তৃণমূল কংগ্রেসে দলের নাম ও নাম প্রতীকের দখল নিয়ে বিস্তর জলঘোলা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ভারতের নির্বাচন কমিশন অন্তর্বর্তী নির্দেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে গড়া দল ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং দলের ‘জোড়াফুল’ প্রতীক আপাতত স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে কমিশন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নেওয়া পর্যন্ত নির্বাচনে দুই গোষ্ঠীই ওই নাম বা প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না।
এদিকে, আগামী ৬ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের দুই বিধানসভার উপনির্বাচন। যেখানে তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও প্রতীক চেয়ে আবেদন করেছে দুই পক্ষের চারজন প্রার্থী। এমন অবস্থায় নির্বাচন কমিশনে দুই পক্ষের শুনানি চলমান অবস্থায় থাকায় সাক্ষ্য প্রতিবেদন প্রকাশ করতে পারছিল না কমিশন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে কমিশন তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও প্রতীক স্থগিত করে। আজ শুক্রবার সকাল ১১টা ছিল নতুন নাম ও প্রতীক কমিশনে জমা করার জন্য শেষ সময়।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন কমিশনে কালীঘাটের পক্ষ থেকে যে তিনটি নাম পাঠানো হয়েছিল সেগুলো হলো- ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’, ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস মমতা’ ও ‘তৃণমূল মমতা কংগ্রেস’।
প্রতীক চাওয়া হয়েছিল খেলারত ফুটবল খেলোয়াড় (কমিশনের তালিকায় ৬৫ নম্বর), আর একটি ক্রিকেট ব্যাট (তালিকায় ৮ নম্বর)।
অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের কাছে বিকল্প হিসেবে দলের তিনটি নাম ও প্রতীক পাঠিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেসের ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবির। তারা দলের নাম চেয়েছে ‘ন্যাশনালিস্ট তৃণমূল কংগ্রেস’, ‘ওয়েস্টবেঙ্গল তৃণমূল কংগ্রেস’ও ‘ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেস’—এই তিন নামের কোনো একটি। পাশাপাশি আবেদন জানানো হয়েছিল খাম, টর্চ ও ব্ল্যাকবোর্ড প্রতীকের জন্য। দুই তরফেই নতুন নাম ও প্রতীকের আবেদনে সাড়া পাওয়ার পরও আজ শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে নাম ও প্রতীক চূড়ান্ত করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে কমিশন।
২০২৬ সালে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের পর দলীয় বিবাদের জেরে প্রথমবার দলীয় নাম ও প্রতীক ছাড়াই নির্বাচনী ময়দানে নামতে চলেছে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠী।
দলীয় প্রতীক খাম নিয়ে অভিযোগ
এদিকে ঋতব্রতপন্থি ‘ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস’কে নির্বাচন কমিশন প্রতীক চিহ্ন হিসেবে খাম অনুমোদন দেওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দিয়েছে আইএসএফ (ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট)। আইএসএফ’র প্রতীকও খাম, নন্দীগ্রামে দাঁড়িয়েছেন আইএসএফ প্রার্থী। কী হবে আইএসএফ প্রার্থীর প্রতীক ভবিষ্যৎ?— এ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। হাতছাড়া হতে পারে পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকী ও বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকীর দল ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্টের (আইএসএফ) অত্যন্ত পরিচিত প্রতীক ‘খাম’।
মনোনয়নপর্ব শেষ হওয়ার পর প্রার্থী প্রত্যাহার মমতার
দলের নাম প্রতীক খাওয়ানোর পর আবারও চূড়ান্ত ধাক্কা খেলেন মমতা। যে বিধানসভা উপনির্বাচনে লড়াই করার জন্য নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী নাম ও প্রতীক নিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়; সেই নির্বাচন থেকেই সরে দাঁড়ালেন মমতার প্রার্থী।
পশ্চিমবঙ্গের হাইভোল্টেজ কেন্দ্র শুভেন্দুর ছেড়ে আসা নন্দীগ্রাম কেন্দ্রের উপনির্বাচনের লড়াই থেকেই সরে দাঁড়ালেন মমতা সর্বভারতীয় তৃণুমল কংগ্রেসের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে। এমন সময় সঞ্চিতা প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেছেন; যখন মনোনয়নপর্ব শেষ হয়ে গেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কলকাতায় এসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করে ‘আশীর্বাদ’ চেয়েছিলেন তিনি। ময়দানের পূর্ত দপ্তরের ছাউনিতে নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির ভোট পরিচালক শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেন সঞ্চিতা। সঙ্গে ছিলেন তার স্বামী সত্যজিৎ প্রধানও। এরপরেই তীব্র কল্পনা-জল্পনা শুরু হয়।
যদিও সঞ্চিতা সে সময় বলেছিলেন, ‘শুভেন্দু নন্দীগ্রামের পুরোনো বিধায়ক এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, তাই তার কাছে এসে দেখা করেছেন। কিন্তু আজ শুক্রবার বিকেলে তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন। ফলে নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসে’র আর কোনো প্রার্থী থাকলো না।
নন্দীগ্রাম আসনে কালীঘাট শিবিরের প্রার্থী হিসেবে গত ১৩ সেপ্টেম্বর সঞ্চিতার নাম ঘোষণা হয়েছিল। অন্যদিকে ঋতব্রত শিবিরও এই কেন্দ্রে প্রার্থী করেছে মহম্মদ এতেশামুল হককে। ফলে একই দলের দুই গোষ্ঠীর দুই প্রার্থীকে ঘিরে নন্দীগ্রামের লড়াই এমনিতেই আলাদা মাত্রা পেয়েছিল। তবে সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে আজ শুক্রবার বিকেলে যেভাবে ভোটের লড়াই থেকে মমতার প্রার্থী নন্দীগ্রামের লড়াই থেকে সরে দাঁড়ালেন; তা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে ৷
প্রসঙ্গত, নন্দীগ্রামে বিজেপি ইতিমধ্যেই প্রার্থী করেছে হাসিরানি রথকে। তিনি প্রয়াত চন্দ্রনাথ রথের মা। চন্দ্রনাথ ছিলেন শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী। ফলে নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে বিজেপির প্রচারে আবেগের একটি মাত্রাও যুক্ত হয়েছে। আপাতত ৬ অক্টোবরের ভোটকে সামনে রেখে প্রচার শুরু করেছে সব দল।
কংগ্রেসকে সমর্থনের বার্তা মমতার
মমতার নিজের প্রার্থী প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর কালীঘাটের বাড়িতে সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ‘নন্দীগ্রামে আমরা লড়ব না, সিস্টার পার্টি কংগ্রেসকে সমর্থন করছি। তাতে ইন্ডিয়া জোটকে শক্তিশালী করা হবে।’ অর্থাৎ, আগামী ৬ অক্টোবরের উপনির্বাচনে নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থন করছে ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’। রেজিনগর কেন্দ্রের উপনির্বাচনে কি লড়বেন মমতা? নাকি সেখানেও অন্য কাউকে সমর্থন দেবেন? তা নিয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানালেন পশ্চিমবঙ্গের এই নেত্রী।
কংগ্রেস প্রার্থীকে গ্রেপ্তার
এদিকে মমতা কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থন জানানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে। নন্দীগ্রামে উপনির্বাচনে বিধানসভার কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন মিলন প্রধান। দাবি করেছিলেন, সম্প্রতি প্রচার কাজ শুরু করবেন। সূত্রের খবর, আজ দুপুর থেকে অনেকক্ষণ ধরেই তাকে ফোনে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরবর্তীকালে জেলা পুলিশ জানিয়েছে, তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আগামীকাল শনিবার হলদিয়া মহকুমা আদালতে তোলা হবে। পুরোনো একটি খুনের মামলায় তার নামে ওয়ারেন্ট ছিল—এই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে কলকাতা পুলিশ।
দিনভর ঘটনাপ্রবাহ প্রসঙ্গে যা বললেন মমতা, ঋতব্রত, শুভেন্দু ও অধীর
এদিকে দলের নাম এবং প্রতীক হারানোর পর সংবাদ সম্মেলন করে সরাসরি নির্বাচন কমিশনের দিকে আঙুল তুলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার স্পষ্ট অভিযোগ, উপনির্বাচনের জন্য প্রার্থীরা মনোনয়ন জমা দিয়ে দিয়েছিল, প্রত্যাহারের সময়সীমার একদিন আগে এইভাবে দলীয় নাম আর প্রতীক স্থগিত করে দেওয়া বেআইনি। মমতার সাফ কথা, ‘'আজ গণতন্ত্রের কালো অধ্যায়। অগণতান্ত্রিক, রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। যদিও এটা অন্তর্বর্তী নির্দেশ, তবুও আমরা মাথা নত করব না।’
মমতার প্রশ্ন— ‘২৮ বছরের দলের প্রতীক এভাবে কীভাবে ছিনিয়ে নেওয়া যেতে পারে? দলের অ্যাকাউন্টও ফ্রিজ করে দিয়েছে। এখানে অনেক বেনামি রাজনৈতিক দল আছে, তাদের প্রতীক তো নিচ্ছে না। তৃণমূল নেত্রী পরিষ্কার জানিয়েছেন, ‘প্রতি পাঁচ বছর অন্তর আমরা একদম তৃণমূল থেকেই দলের অভ্যন্তরীণ নির্বাচন করি। আমাদের সব সাংগঠনিক নির্বাচন আমরা করেছি। তার রেকর্ড আছে, কমিশনকেও সব রেকর্ড দেওয়া আছে। তাও এ ধরনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এটা ঠিক নয়।’ কমিশনকে নিশানা করে তার বক্তব্য, মধ্যরাতে গণতন্ত্র হত্যা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, বিধানসভায় সংবাদ সম্মেলন করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন আমাদের তৃতীয় বিকল্প নামটি দিয়েছে। প্রতীকে প্রথম চয়েস খাম চেয়েছিলাম। সেটা পেয়েছি। নির্বাচন কমিশনের যোগ্যতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। অন্যপক্ষ যে নাম পেয়েছে সেখানে ব্যক্তি গুরুত্ব পেয়েছে। আমরা জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা গণতন্ত্রকে গুরুত্ব দেওয়ার চেষ্টা করেছি। রাজনীতিতে মালিকানা হয় না। জোড়াফুল থেকে ফুটবল; এটা ওনারাই বলতে পারবে। যুবভারতীর সামনে থেকে গলাকাটা ফুটবলটা সরে গেছে বলে হয়তো ওনারা ফুটবল দিয়েছে।’
পুরো ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘আমার আর এই নিয়ে বলার কিছু নেই। এটা নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত। নির্বাচন কমিশন নিয়ম মেনে সব পক্ষের কথা শুনে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। উনি নিজের দলকে এক রাখতে পারেননি, দুই, তিন, চার ভাগ হয়েছে দল। এর দায়-দায়িত্ব ওনার। এর সঙ্গে আমাদের বিজেপির সরাসরি রোল নেই। তবে আমি একটা কথা বলি, নির্বাচনের গণনার দিন হলদিয়ায় বলেছিলাম। আর যেই থাকুক, এনারা থাকবেন না। তার কারণ, অতি দর্পে হত লঙ্কা। দম্ভ যার হবে সেই দম্ভে সে চূর্ণ হবে। কারণ, হিন্দু ধর্মকে গন্ধা ধর্ম বলা। মহা কুম্ভকে মৃত্যু কুম্ভ বলা হয়। রাম মন্দির প্রতিষ্ঠার দিনে রাম মন্দির মানি না বলে মিছিল করা। ভগবান পুরুষোত্তম মহারাজ রামচন্দ্রের অভিশাপে সব ধ্বংস হয়ে গেছে।’
মিলন প্রধানের গ্রেপ্তার নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি অধীর চৌধুরী বলেন, ‘নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করা হচ্ছে। গ্রেপ্তার করার অর্থ, কংগ্রেস প্রার্থীকে ভয় পাচ্ছে বিজেপি। গ্রেপ্তার করার মাধ্যমে বিজেপি প্রমাণ করে দিল, তারা নৈতিকভাবে পরাজিত।’
ছবি : সংগৃহীত
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের কোহাটে মসজিদের কাছে বোমা হামলায় অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৫০ জনের বেশি। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের সময় পুলিশ সদর দপ্তরের কাছে এ হামলা হয়। খবর আলজাজিরার।
কোহাটের জেলা সদর হাসপাতালের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলার পর হাসপাতালে ১৬টি মরদেহ এবং ৫০ জনের বেশি আহত ব্যক্তিকে নেওয়া হয়েছে। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
খাইবার পাখতুনখাওয়ার পুলিশপ্রধান জুলফিকার হামিদ জানান, বিস্ফোরকভর্তি একটি গাড়ি পুরোনো পুলিশ লাইনসের ফটকে ধাক্কা দেওয়ার পর বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের পর ঘটনাস্থলে গোলাগুলিও শুরু হয়।
পুলিশের সঙ্গে হামলাকারীদের বন্দুকযুদ্ধের সময় স্পেশাল ব্রাঞ্চ ভবনের কাছেও আরেকটি আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটে বলে জানান তিনি।
আইজি হামিদ বলেন, পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে এখন পর্যন্ত তিন হামলাকারী নিহত হয়েছেন। তবে হামলার দায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী স্বীকার করেনি।
পুলিশপ্রধান বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে খাইবার পাখতুনখাওয়ার পুলিশ ‘লোহার দেয়ালের মতো’ দাঁড়িয়ে আছে। এ ধরনের হামলা পুলিশ সদস্যদের মনোবল ভেঙে দিতে পারবে না।
তিনি আরও বলেন, নিহতদের রক্ত বৃথা যাবে না। হামলাকারী ও তাদের সহযোগীদের এর পরিণতি ভোগ করতে হবে।
এদিকে বিস্ফোরণে মসজিদের বাইরের অংশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একটি দেয়ালও ধসে পড়েছে। ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান চলছে। হামলার পর কোহাট-হাঙ্গু সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
আহতদের চিকিৎসায় কোহাটের জেলা সদর হাসপাতালে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেখানে অন্তত ২৫ জন আহতকে চিকিৎসার জন্য আনা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় পুলিশ কার্যালয় জানিয়েছে, কোহাটের আঞ্চলিক পুলিশ কর্মকর্তার কাছে ঘটনার প্রতিবেদন চেয়েছেন আইজি হামিদ। বিস্ফোরণের ধরন ও হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।
জুমার নামাজের সময় পুলিশ সদর দপ্তরের কাছে এ হামলার ঘটনায় কোহাটজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
সূত্র : আলজাজিরা ও জিউ নিউজ
ছবি : সংগৃহীত
ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের লাগাম টানতে তেহরানের কাছে সহায়তা চেয়েছে চীন। সৌদি আরব গত এক সপ্তাহে ইরান–সমর্থিত এই গোষ্ঠীর সামরিক অগ্রযাত্রার পর বেইজিংয়ের কাছে সাহায্য চেয়েছিল। এরপরই চীন একান্তে তেহরানের কাছে এ অনুরোধ জানায়। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনটি ইরানি সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে।
সূত্রগুলো জানায়, লোহিত সাগর উপকূল ও বাব আল-মানদেব প্রণালির আশপাশে হুতিরা দ্রুত অগ্রসর হয়েছে। এতে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি ও জাহাজ চলাচল আরও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সহায়তার জন্য চীনের দ্বারস্থ হয় রিয়াদ।
চীন প্রকাশ্যে সংযম, সংলাপ ও নৌপথে নিরাপদ চলাচল ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছে। তবে তেহরানকে একান্তে দেওয়া বার্তায় এর চেয়ে আরও বেশি কিছু বলা হয়েছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।
বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীন মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। বেইজিং চায় না জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোতে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ুক। এ কারণে হুতিদের ওপর প্রভাব খাটিয়ে সংঘাতের বিস্তার ঠেকাতে তেহরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে চীন।
আলোচনার বিষয়ে অবহিত সূত্রগুলো পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে এসব তথ্য জানিয়েছে। তবে বার্তাটি ঠিক কীভাবে তেহরানের কাছে পাঠানো হয়েছিল, সে বিষয়ে তারা কোনো তথ্য দেয়নি। গত বুধবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির চীন সফরের সময় বার্তাটি দেওয়া হয়েছিল কি না, সেটিও স্পষ্ট নয়।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, চীনের এই বার্তার জবাবে তেহরান বলেছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ বন্ধ না হলে এ অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরবে না।
তিনটি ইরানি সূত্র জানায়, চীনা কর্মকর্তারা তেহরানকে সরাসরি কোনো হুমকি দেননি। হুতিদের ওপর প্রভাব খাটাতে ব্যর্থ হলে তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ দেওয়া হবে, এমন কোনো ইঙ্গিতও বেইজিং দেয়নি।
এ বিষয়ে রয়টার্সের প্রশ্নের জবাবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, চীন চায় না আঞ্চলিক উত্তেজনা ইয়েমেন ও লোহিত সাগরে আরও ছড়িয়ে পড়ুক। আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা বেড়ে গেলে তাতে কোনো পক্ষেরই স্বার্থ রক্ষা হবে না।
মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, সব দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রতি সম্মান জানাতে হবে। মানুষের জীবন–জীবিকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা উচিত নয়।পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে, এমন পদক্ষেপ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে চীন। একই সঙ্গে আলোচনা–সমঝোতার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের তাগিদ দিয়েছে দেশটি।
এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সৌদি সরকারের গণমাধ্যম দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া পায়নি রয়টার্স।
বিস্তৃত আঞ্চলিক যুদ্ধের ঝুঁকি
এক দশকের বেশি সময় ধরে ইরানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার চীন। ইরানের তেলের প্রধান ক্রেতাও চীন।
পণ্যবাজারের তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইরানের সমুদ্রপথে রপ্তানি হওয়া তেলের ৮০ শতাংশের বেশি কিনেছে চীন। এর পরিমাণ ছিল দিনে গড়ে প্রায় ১৪ লাখ ব্যারেল।
এ বিষয়ে অঞ্চলটিতে দায়িত্বরত এক জ্যেষ্ঠ পশ্চিমা কূটনীতিক বলেন, হুতিদের লাগাম টানতে ইরানের ওপর চাপ দিতে পারে, বিশ্বে এমন দেশের সংখ্যা খুব বেশি নয়। তবে এই হাতে গোনা দেশগুলোর মধ্যে চীন অন্যতম।
সৌদি আরবের সুন্নি প্রভাবের বিরোধিতার মধ্য দিয়ে গত শতকের নব্বইয়ের দশকে ইয়েমেনে হুতি গোষ্ঠীটির উত্থান ঘটে। ইরানি সূত্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর মতে, হুতিদের অস্ত্র, প্রশিক্ষণ ও অর্থ দিয়ে থাকে ইরান। হুতিরা বর্তমানে তেহরানের পশ্চিমা ও ইসরায়েলবিরোধী ‘প্রতিরোধ অক্ষ’-এর অংশ।
ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার পর বৈশ্বিক জ্বালানিসংকট আরও তীব্র হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে লোহিত সাগর ও বাব আল-মানদেব প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে হুতিদের যেকোনো হুমকি সংকট আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। একই সঙ্গে তা বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকিও বাড়বে।
হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ। এ পরিস্থিতিতে লোহিত সাগরের জাহাজ বা বন্দরে হুতিদের অব্যাহত হামলা মধ্যপ্রাচ্যের দুটি প্রধান তেল রপ্তানি পথকে একই সময়ে ব্যাহত করতে পারে। এতে জ্বালানিসংকট আরও গভীর হতে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের বিস্তৃত সংঘাতে নতুন একটি ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে।
একটি সূত্র বলেছে, ইরান ও তার মিত্ররা এখন অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের দুই প্রান্তেই চাপ সৃষ্টি করছে। আর চীন দুটি নৌপথের ওপরই নির্ভরশীল।
ওয়াশিংটনভিত্তিক মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের ইরান কর্মসূচির পরিচালক অ্যালেক্স ভাতানকা বলেন, বেইজিং হয়তো ইরানের ওপর ওয়াশিংটনের চাপের বিরোধিতা করবে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে চীনের স্বার্থ ইরানের বাইরেও বিস্তৃত। চীনের তেল আমদানির প্রায় অর্ধেক আসে এ অঞ্চল থেকে। গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের (জিসিসি) দেশগুলোর সঙ্গে চীনের বাণিজ্যের পরিমাণ বছরে প্রায় ৩০ হাজার কোটি ডলার।
ভাতানকা বলেন, ‘ইরান হরমুজ প্রণালিতে চলাচল ব্যাহত করতে পারে। কিন্তু একপর্যায়ে এ সক্ষমতা এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে, যা ইরান যে শক্তির ওপর ক্রমেই বেশি নির্ভর করছে, শেষ পর্যন্ত সেই শক্তিকেই ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।’
চীনের দোটানা
তিনটি ইরানি সূত্র জানিয়েছে, বেইজিংয়ের উদ্বেগের বিষয়ে তেহরান কোনো ব্যবস্থা নেবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
সূত্রগুলো বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতের মধ্যে থাকা ইরানের জন্য চীনের সঙ্গে সম্পর্ক অর্থনৈতিক ও কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ।
যুদ্ধ ও নিষেধাজ্ঞায় ইরানের অর্থনীতি বিপর্যস্ত। দেশটির তেলশিল্প টিকিয়ে রাখতে, অর্থনৈতিক চাপ কমাতে যে বিনিয়োগ প্রয়োজন, তা দেওয়ার মতো আর্থিক সক্ষমতা থাকা হাতে গোনা কয়েকটি দেশের একটি চীন।
বেইজিং তার কূটনৈতিক প্রভাবও দেখিয়েছে। বহু বছরের বৈরিতার পর ২০২৩ সালে ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনে মধ্যস্থতা করেছিল চীন।
তবে সে প্রভাবেরও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ২০২১ সালে চীন ও ইরান ২৫ বছর মেয়াদি সহযোগিতা চুক্তি সই করে। এরপর তেলবহির্ভূত খাতে চীনের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় ইরানের ভেতরে সমালোচনা হয়েছে। উপসাগরীয় আরব দেশগুলোতে চীনের ক্রমবর্ধমান বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতির তুলনায় ইরানে এ বাণিজ্য–বিনিয়োগের পরিমাণ কম।
চীন এমন একটি পক্ষ, যাকে তেহরান উপেক্ষা করতে পারে না। তবে দুটি ইরানি সূত্র বলেছে, তেহরানের কাছে বেইজিংয়ের স্বার্থ অনেকগুলো বিবেচনার মধ্যে একটি মাত্র। ইরানের সিদ্ধান্ত কৌশলগত, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক নানা অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে নেওয়া হয়।
পশ্চিমা সেই কূটনীতিক বলেন, তেহরান ও বেইজিংয়ের একে অপরকে প্রয়োজন। চীন এমন একটি পক্ষ, যাকে তেহরান উপেক্ষা করতে পারে না। আর বেইজিং চায়, হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া হোক, লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল নিরাপদ থাকুক।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, চীন তার দাবির সঙ্গে বাস্তব কোনো পদক্ষেপ নেবে কি না, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ। তেহরানের ওপর নিজের প্রভাব খাটাতে চীন সত্যিই প্রস্তুত, এর প্রমাণ পাওয়া গেলে বেইজিংয়ের দৃঢ় অবস্থানের সবচেয়ে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলবে।
ছবি : সংগৃহীত
দিল্লিতে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের পর ছুরিকাঘাতে হত্যা করে মরদেহ খোলা মাঠে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চারজনের বিরুদ্ধে। অভিযুক্তদের মধ্যে তিনজনই অপ্রাপ্তবয়স্ক। কয়েক দিন পর পচে যাওয়া মরদেহ উদ্ধারের সময় তার শরীরের কিছু অংশ কুকুরে খেয়ে ফেলেছিল। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও রাতভর অভিযানের পর চার সন্দেহভাজনকে আটক করেছে পুলিশ।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, দিল্লিতে ১৭ বছর বয়সী ওই চারজনে ধর্ষণ করে। পরে তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। পরে মরদেহ একটি খোলা মাঠে ফেলে দেওয়া হয়। সেখানে মরদেহের কিছু অংশ কুকুরে খেয়েও ফেলে। পুলিশ জানিয়েছে, ধর্ষণ ও হত্যার কয়েক দিন পর গত ১৩ সেপ্টেম্বর পচে যাওয়া মরদেহ উদ্ধারের পর ভয়াবহ এই ঘটনা সামনে আসে।
পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ এতটাই পচে গিয়েছিল যে, প্রথমে সেটি নারী নাকি পুরুষের, তা-ও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ওই কিশোরী ও অভিযুক্তরা পরস্পরের পরিচিত ছিল। ঘটনার সময় সে তাদের সঙ্গে একটি টেম্পোতে করে যাচ্ছিল। অভিযোগ, টেম্পোর ভেতর তারা একসঙ্গে মদ পান করে। এরপর কিশোরীকে যৌন নির্যাতন করা হয় এবং ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। পরে তার মরদেহ ফেলে দেওয়া হয়।
পুলিশ জানায়, ১৩ সেপ্টেম্বর মধ্য দিল্লির কুশাক রোডে জয়পাল রানার মাঠের কাছে কিশোরীর পচে যাওয়া মরদেহ পাওয়া যায়। মরদেহের কিছু অংশও কুকুরে খেয়ে ফেলেছিল। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তার একটি হাত মরদেহ থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পাওয়া যায়।
কিশোরীর পরিবার তার নিখোঁজ হওয়ার কোনো অভিযোগ করেনি। পুলিশ জানিয়েছে, পরিবারের সদস্যরা তাদের বলেন, ওই কিশোরী প্রায়ই বাড়ি থেকে বের হয়ে কয়েক দিন পর আবার ফিরে আসত।
এ ঘটনায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং শিশু নির্যাতন আইন পকসোর প্রাসঙ্গিক ধারায় মামলা করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে কোনো প্রত্যক্ষদর্শী পাওয়া যায়নি এবং শুরুতে অভিযুক্তদের পরিচয়ও জানা ছিল না। এ কারণে পুলিশ দল ওই এলাকা ও আশপাশের রুটের ৫০ টির বেশি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে।
ফুটেজ বিশ্লেষণের সময় ঘটনার সম্ভাব্য সময়ের কাছাকাছি একটি টেম্পোকে ঘটনাস্থলের আশপাশ দিয়ে যেতে দেখা যায়। অন্ধকারের কারণে টেম্পোটির নম্বর স্পষ্টভাবে দেখা যায়নি। এরপর তদন্তকারীরা একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ অনুসরণ করে টেম্পোটির চলাচলের গতিপথ শনাক্ত করার চেষ্টা করেন।
গত ১৫ ও ১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যবর্তী রাতে রাতভর অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন টেম্পোটির সন্ধান পাওয়া যায়। এর চালককে শনাক্ত করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এরপর তদন্তে ওই অপরাধের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে চারজনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে তিনজন অপ্রাপ্তবয়স্ক।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাপ্তবয়স্ক অভিযুক্তের নাম শিবম ওরফে সুদামা ওরফে চুচু। সে খাড্ডা কলোনির বাসিন্দা। তিন অপ্রাপ্তবয়স্কের বয়স ১৬ ও ১৭ বছর। অভিযোগ অনুযায়ী, অপরাধে ব্যবহৃত দুটি ছুরি, অভিযুক্তদের পরা পোশাক এবং টেম্পোটি উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পুরো ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে, আটক ব্যক্তিদের প্রত্যেকের ভূমিকা নির্ধারণ করতে এবং ফরেনসিক ও প্রযুক্তিগত প্রমাণ যাচাই করতে তদন্ত চলছে।