ড্যান্সিং গার্ল

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৮ জুন, ২০২৬, সময় : ৬:৪৮ এএম

শিল্প-সাহিত্যে শ্লীলতা-অশ্লীলতার সীমারেখা নিয়ে বিতর্ক যুগ যুগ ধরে। এটা ঠিক শ্লীলতা দেখায় সাধারণের চোখ আর শিল্পী-সাহিত্যিকের চোখ এক নয়। সাধারণের কাছে যা নগ্নতা, শিল্পীর তুলিতে বা সাহিত্যিকের কলমে তা হয়ে ওঠে সৌন্দর্য্য। 


আবার শিল্পকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে অশ্লীলতাকে স্বাভাবিক করার চেষ্টাও কম নয়। কাটতি বাড়াতেও অনেকে নগ্নতা বা অশ্লীলতাকে শিল্পের আড়াল দেয়ার চেষ্টা করেন। ভারতে আবার শিল্পে শালীনতা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে।


এবার বিতর্কের কেন্দ্রে ’ড্যান্সিং গার্ল’। সিন্ধু সভ্যতার সবচেয়ে পরিচিত মুখ, চার ইঞ্চি উচ্চতার ব্রোঞ্জ মূর্তি ’ড্যান্সিং গার্ল’-এর কপালটাই খারাপ। চার হাজার বছর আগে মহেঞ্জোদারোর কোনো শিল্পী নিপুণ দক্ষতায় আপন মনের মাধুরি মিশিয়ে বানিয়েছিলেন তাকে। তারপর দীর্ঘ সময় মাটির নিচেই চাপা পড়েছিল সেটি।


ঠিক এক'শ বছর আগে ১৯২৬ সালে পুরাতাত্ত্বিক খননের সময় মহেঞ্জোদারোর একটি সাধারণ বাড়ির ধ্বংসাবশেষ থেকে উদ্ধার করা হয় ‘ড্যান্সিং গার্ল’কে। 


আগের চার হাজার বছর আরামে ঘুমালেও উদ্ধারের পর থেকেই তার ঘুম হারাম। গত এক'শ বছরে বারবার বিতর্কের কেন্দ্রে ছিল ড্যান্সিং গার্ল। শালীনতার সীমা নিয়ে বিতর্ক তো আছেই, আছে মালিকানা বিতর্ক, ধর্মীয় বিতর্ক, এমনকি নামকরণ নিয়েও নানা মত আছে।

 

বিতর্ক যতই হোক, তাতে কিন্তু ড্যান্সিং গার্লের সৌন্দর্য্যের কমতি হয় না।


চার হাজার আগে বানানো এমন নিখূঁত ভাস্কর্য বরং আধুনিক সময়ের শিল্পবোদ্ধাদেরও বিস্মিত করে। চার ইঞ্চি উচ্চতার ড্যান্সিং গার্লের দাঁড়ানোর ভঙ্গিতে তিনটি বাঁক আছে, একেবারে ত্রিভঙ্গ মূর্তি। এর ডান হাতটি কোমরে রাখা এবং বাঁ হাতটি বাম উরুর ওপর আলতো করে নামানো। এর ডান পা সোজা এবং বাঁ পাটি হাঁটু থেকে সামান্য বাঁকানো। মূর্তির মাথাটি সামান্য পেছনের দিকে হেলানো এবং থুতনিটি আত্মবিশ্বাসের সাথে উঁচানো। এর চোখ দুটি বড় এবং নিচের দিকে অর্ধ-নিমীলিত। ঠোঁট দুটি বেশ চওড়া এবং নাকটি চ্যাপ্টা, যা আদি ভারতীয় উপমহাদেশের জনগোষ্ঠীর শারীরিক বৈশিষ্ট্যের ইঙ্গিত দেয়। 


সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো ড্যান্সিং গার্লের সাজসজ্জা। কাঁধ থেকে কবজি পর্যন্ত পুরো বাঁ হাতটি প্রায় ২৪-২৫টি চুড়ি বা বালা দিয়ে ঢাকা। ডান হাতে রয়েছে চারটি বালা—দুটি কনুইয়ের ওপরে এবং দুটি কবজিতে। তার গলায় রয়েছে তিন পাটির নেকলেস। মাথার চুলগুলো অত্যন্ত পরিপাটি করে বাঁধা ও খোঁপা করে ঘাড়ের একপাশে ঝুলানো। চার হাজার বছর আগে সমস্যা না হলেও আমাদের আধুনিক মানুষদের সমস্যা হলো ড্যান্সিং গার্লের গায়ে কোনো পোশাক নেই। এখানেই বারবার সামনে চলে আসে বিতর্ক।


ভারতে সাম্প্রতিক বিতর্ক উস্কে দিয়েছে পাঠ্যপুস্তকে নতুন স্টাইলের ড্যান্সিং গার্লের অন্তর্ভূক্তি। ভারতের ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং- এনসিইআরটি প্রণীত ষষ্ঠ শ্রেনীর সমাজবিজ্ঞান বইতে ‘ড্যান্সিং গার্ল’-এর ছবিতে বুক থেকে নিচের বেশকিছু অংশ ঢেকে দেওয়া হয়েছে। এ নিয়েই বিতর্কের ঝড়। 


অনেকেই বলছেন, ড্যান্সিং গার্ল চার হাজার পুরোনো চমৎকার একটি শিল্পকর্ম। এটিকে আধুনিক সময়ের শ্লীল-অশ্লীলের চশমায় দেখাই উচিত নয়। সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের এই সমালোচনায় সায় দিচ্ছেন এনসিইআরটি-এর টেক্সটবুক ডেভেলপমেন্ট কমিটির প্রধান মাইকেল ড্যানিও নিজেই। তার মতে, নগ্নতা মানেই অশ্লীল, এই ভাবনা ভিক্টোরিয়ান নৈতিকতার অংশ। 


আমরা ঔপনিবেশিকতার থেকে ভারতীয় শিক্ষাকে মুক্ত করার কথা বলেও এই মূর্তিকে যদি যথাযথভাবে উপস্থাপন না করি, তাহলে বুঝতে হবে কোথাও একটা বড় সমস্যা রয়েছে।’


তিনি আরো বলেন, ‘ক্লাস সিক্সের শিক্ষকদের সঙ্গে আমরা কথা বলেছিলাম। কারও মনে হয়নি এই মূর্তি অশ্লীল। তবু আমাকে বলা হয়েছিল এই মূর্তি ক্লাস সিক্সের বাচ্চাদের জন্য উপযুক্ত নয়, আমাদের টিমও এই কথার সঙ্গে একমত হতে পারেনি।’ বোঝাই যাচ্ছে বেচারা ড্যানিও ইচ্ছার বিরুদ্ধে চাপের মুখে ড্যান্সিং গার্লকে অবগুণ্ঠিত করেছেন।


বিতর্কের মূল প্রশ্ন হলো, পুরোনো  প্রাচীন ভারতীয় শিল্পকলাকে আধুনিক নৈতিকতার মানদণ্ডে বিচার করা যায় কি না বা উচিত কি না। অনেকেই বলছেন, এটা ইতিহাসের সঙ্গে অন্যায়, স্পষ্ট ইতিহাস বিকৃতি। শালীনতার আধুনিক চশমায় সবকিছু বিচার করলে, খাজুরাহো, ইলোরাসহ ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রাচীন ভাস্কর্যকেও পাল্টে দিতে হবে বা আড়াল করতে হবে।


আগেই বলেছে, গত শত বছরে বারবার বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে আসে ড্যান্সিং গার্ল। ১৯২৬ সালে যখন মূর্তিটি উদ্ধার হয়, তখন ভারতবর্ষ ছিল অবিভক্ত ব্রিটিশ ভারত। আবিষ্কারের পর প্রথমে এটিকে অবিভক্ত ব্রিটিশ ভারতের লাহোরে রাখা হয়েছিল। দিল্লী তখন নতুন রাজধানী। তাই দিল্লিকে নতুন করে সাজাতে হরপ্প-মহেঞ্জাদারোয় উদ্ধার হওয়া পুরাকীর্তি দিল্লীতে এনে ঠাঁই দেয়া হয় জাতীয় জাদুঘরে। 


কিন্তু ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর সিন্ধু সভ্যতার বেশিরভাগ এবং মূল অংশ পাকিস্তানের অন্তর্ভূক্ত হয়। তাই পাকিস্তান সিন্ধু সভ্যতার পুরাকীর্তি ফেরত চায়। দীর্ঘ আলোচনায় দুপক্ষ অর্ধেক অর্ধেক ভাগাভাগিতে সম্মত হয়। কিন্তু শালীনতার দোহাই দিয়ে পাকিস্তান ড্যান্সিং গার্লকে নেয়নি। 


দেশভাগের পর লাখো মানুষকে ধর্মীয় কারণে দেশ ছাড়তে হয়েছে। শালীনতার দোহাইয়ে একটা ব্রোঞ্জ মূর্তিও ফিরে পায়নি তার শিকড়। পাকিস্তানের মহেঞ্জাদারো থেকে উদ্ধার হওয়া ড্যান্সিং গার্ল এখন দিল্লির জাতীয় জাদুঘরে! 


২০১৭ সালে বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষক দাবি করেন, এই মূর্তিটি আসলে ‘দেবী পার্বতী’র রূপ। তবে মূলধারার ঐতিহাসিকেরা এই ধর্মীয় ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করেছেন।


ড্যান্সিং গার্ল নিয়ে বিতর্কের আসলে শেষ নেই। ২০২৩ সালে আন্তর্জাতিক মিউজিয়াম মেলার আসর বসে ভারতে। ওই মেলার মাসকট ঠিক করা হয় ড্যান্সিং গার্লকে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ওই মাসকট উদ্বোধন করতেই নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়। মাসকটে ড্যান্সিং গার্লকে পরানো হয়েছিল গোলাপী রংয়ের ব্লাউজ জাতীয় পোশাক।


আর নিম্নাঙ্গে ছিল গুজরাতি ঐতিহ্যবাহী নকশা সংবলিত একটি হলুদ ধুতির মতো পোশাক। সমালোচকেরা অভিযোগ করেন, বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক ধ্যানধারণার সাথে মেলাতে গিয়ে প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক সত্যকে বিকৃত ও জোরপূর্বক ‘শালীন’ করার চেষ্টা করা হয়েছে।


সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, ড্যান্সিং গার্লের নামকরণ নিয়েও আছে বিতর্ক। মহেঞ্জদোরোর উদ্ধার কাজে নেতৃত্ব দেয়া ব্রিটিশ প্রত্নতাত্ত্বিক জন মার্শাল উদ্ধারের পর এর নাম দিয়েছিলেন ‘ড্যান্সিং গার্ল’। তখন ব্রিটিশরা ভারতের নাচনেওয়ালীদের সাথে সময় কাটাতে ভালোবাসতেন। আদর করে তারা নৃত্যপটিয়সী নারীদের নাম দিয়েছিলেন ‘নচ গার্ল’। হয়তো ‘নাচ’কেই ইংরেজি উচ্চারণে ’নচ’ বলা হতো। উদ্ধারের পর মার্শালের হয়তো মূর্তিটির ভঙ্গিকে নাচের মূদ্রা মনে হয়েছে, তাই তিনি নাচ গার্লদের সাথে মিলিয়ে নাম দিয়েছিলেন ‘ড্যান্সিং গার্ল’। 


তবে আধুনিক গবেষকদের মতে, এটি কেবলই একজন আত্মবিশ্বাসী নারীর প্রতিকৃতি এবং আদিম সমাজে একে কোনো অশ্লীল দৃষ্টিকোণ থেকে তৈরি করা হয়নি। বিতর্ক যাই হোক নাম আর পাল্টায়নি।


আসলে আমরা যতই বিতর্ক করি, যতই শালীনতার চশমায় দেখি, ইতিহাস বদলানো যাবে না। অতীতকে বর্তমানের নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে ঢেকে না রেখে, তার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটকে বোঝার চেষ্টা করাই সভ্যতার জন্য মঙ্গলজনক।




ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৪৫ এএম

ভারতের পাঞ্জাবের অমৃতসরে গলিতে পার্ক করা স্কুটার সরানো নিয়ে বিরোধের জেরে গুলিতে নিহত হয়েছেন ২৭ বছর বয়সি এক যুবক। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে আনন্দ অ্যাভিনিউ এলাকায় নিজের বাড়ির সামনেই তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় একই এলাকার তিন ভাইয়ের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছে পুলিশ। নিহতের বাবার দাবি, অভিযুক্তরা তার ছেলের বন্ধু ছিলেন।

নিহত অমিত সাবরওয়াল একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বিপণন বিভাগে কাজ করতেন। অভিযুক্তরা হলেন অভি শাহ, সানি শাহ ও ঋতিক শাহ। গেট হাকিমা থানার পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান চালানোর পাশাপাশি এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

অমিতের বাবা বলেন, নিজের বন্ধুদের গুলিতেই তার ছেলের মৃত্যু হয়েছে। কারও সঙ্গে অমিতের শত্রুতা ছিল না। হোন্ডা অ্যাকটিভা স্কুটার সরানো নিয়ে বিরোধ থেকেই ঘটনার সূত্রপাত। ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, রাতে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা ও পার্টি শেষে বাড়ি ফেরেন অমিত। এরপর গলিতে পার্ক করা একটি অ্যাকটিভা স্কুটার সরানো নিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে বিরোধ তীব্র হলে অভি শাহ দেশি পিস্তল দিয়ে গুলি চালান বলে অভিযোগ উঠেছে।

অমিতের বাবার ভাষ্য, রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাড়ির সামনেই তার ছেলেকে লক্ষ্য করে ছয় রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। এর মধ্যে দুটি গুলি মাথায় এবং একটি করে কোমর ও পায়ে লাগে। বাড়ির ভেতরে থাকা পরিবারের সদস্যরা পটকার মতো শব্দ শুনে বাইরে বেরিয়ে অমিতকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও পথেই তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় পাঞ্জাবের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আম আদমি পার্টি (আপ) সরকারের সমালোচনা করেছেন বিজেপি নেতা রবনীত সিং বিট্টু।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, ‘রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান কবে এই লাগামহীন রক্তপাতের দায় নেবেন? ফাঁকা দাবি আর প্রচারণার কৌশল বন্ধ করুন। পাঞ্জাবের মানুষের জীবন রক্ষাকে অগ্রাধিকার দিন।’

তিনি আরও লেখেন, ‘মানুষ যখন নিজের বাড়ির দরজার সামনেও নিরাপদ নয়, তখন তা প্রশাসনের চরম ব্যর্থতাকে প্রকাশ করে। অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।’

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ বিষয়ে রাজ্য সরকারের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

অমিত হত্যাকাণ্ডের মাত্র তিন সপ্তাহ আগে, গত ৩ অক্টোবর অমৃতসরে দিনের বেলায় গুলিতে নিহত হন ২৯ বছর বয়সী মধুসূদন ‘ম্যাড’ সান্ধু। তিনি পাঞ্জাবের পরিচিত কুইয়ার মেকআপশিল্পী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট নির্মাতা ছিলেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৬টার দিকে লোহরকা রোডে নিজের সেলুনের কাছে একটি গাড়ি ধোয়ার স্থানে অপেক্ষা করার সময় মোটরসাইকেলে আসা দুই হামলাকারী তাকে লক্ষ্য করে কাছ থেকে একাধিক গুলি ছোড়ে। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

হত্যাকাণ্ডের পর ‘গোল্ডি ধিল্লোঁ গ্যাং’-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে দায় স্বীকারের দাবি করা হয়। পরে গুজরাটে পালিয়ে যাওয়া কথিত বন্দুকধারী পরমিন্দর কাকা ও তার কয়েকজন সহযোগীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

অক্টোবর মাসে পাঞ্জাবে একের পর এক লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে। এসব ঘটনা রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও তীব্র করেছে।

আলোচিত ঘটনাগুলোর মধ্যে রয়েছে মাদকবিরোধী কর্মী পরবিন্দর সিং ঝোটার হত্যাকাণ্ড। মানসা শহরে একটি মেডিকেল স্টোরের মালিকের বিরুদ্ধে আসক্তি সৃষ্টিকারী ওষুধ অবৈধভাবে বিক্রির অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ করার সময় ফেসবুকে সরাসরি সম্প্রচারের মধ্যেই তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। পরে ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো (সিবিআই) মামলাটির তদন্তভার নেয়।

এরপর বাটালায় ৪০ বছর বয়সী বিক্রমজিৎ সিংকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করার ঘটনাও সামনে আসে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণেই তার ওপর হামলা চালানো হয়েছিল।


হরমুজে ৭ জাহাজে মাইন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি ইরানের। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:২১ পিএম

হরমুজ প্রণালিতে সাতটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করার দাবি করেছে ইরান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এই জলপথে জাহাজ চলাচলে সহায়তা অব্যাহত রাখলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।


বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।


আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার রাতভর হামলার শিকার হওয়া সাতটি জাহাজের মধ্যে চারটি থেকে তেল স্থানান্তরের কাজ চলছিল। হামলার পর জাহাজগুলোতে আগুন ধরে যায়। অন্য তিনটি জাহাজ মাইনে আঘাত হানার পর চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে বলে দাবি করেছে ইরান। তবে এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। হামলায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজগুলোর কোন দেশের পতাকা ছিল, সে বিষয়েও বিস্তারিত জানানো হয়নি।


 হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে হুঁশিয়ারি দিয়েছে আইআরজিসি। তাদের বক্তব্য, ওয়াশিংটন যদি প্রণালির অন্যান্য অংশ দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচলে সহায়তা করে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোও ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে সংঘাত এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোতেও ছড়িয়ে পড়বে।’ এটিকে তারা গুরুতর সতর্কবার্তা হিসেবে উল্লেখ করেছে।


বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হতো। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই জলপথে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।


কিম জং উন। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:০৪ পিএম

সীমান্তের নতুন সেতু অতিক্রম করে উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন চীনের দানদং শহরে অত্যন্ত গোপনে এক ঝটিকা সফর সম্পন্ন করেছেন। দীর্ঘ ১২ বছর আগে নির্মিত ‘নিউ ইয়ালু রিভার ব্রিজ’ আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় এই প্রতীকী সফর অনুষ্ঠিত হলো। শনিবারের (২৪ অক্টোবর) এই একদিনের ঝটিকা সফর শেষে তিনি ইতোমধ্যেই স্বদেশে ফিরে গেছেন।


সফরকালে কিম জং উনের সঙ্গী ছিলেন চীনের চতুর্থ শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা ওয়াং হুনিং। তিনি চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের পক্ষ থেকে উত্তর কোরীয় নেতার কাছে আন্তরিক শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন। দুই নেতা একসঙ্গে স্থানীয় একটি অটোমোবাইল কারখানা পরিদর্শন করেন এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। এসময় কিম জানান, চীনের সঙ্গে ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব রক্ষা এবং ব্যবহারিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে প্রস্তুত রয়েছে পিয়ংইয়ং।


বিশেষ এই সফরটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যা ১৯৫০-১৯৫৩ সালের কোরিয় যুদ্ধে চীনের অংশগ্রহণের বর্ষপূর্তির ঠিক আগের দিন। সেই স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দানদং-এর কোরিয় যুদ্ধ স্মৃতিসৌধে যান কিম ও ওয়াং। সেখানে উত্তর কোরিয়ার পক্ষে যুদ্ধ করে প্রাণ উৎসর্গকারী চীনা সৈন্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন কিম জং উন। সফর শেষে নতুন সেতুর গোড়ায় এসে কিমকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানান ওয়াং হুনিং।


বিশ্লেষকদের মতে, ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নতুন চার লেনের সেতু চালুর মাধ্যমে চীন ও উত্তর কোরিয়ার বাণিজ্যের বড় বাধা দূর হলো। তবে কেবল অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বেইজিং ও মস্কোর সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ থেকে নিজের অবস্থান শক্ত করার কৌশল হিসেবেই কিম জং উনের এই হঠাৎ ও রহস্যময় চীন সফরকে দেখছেন আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশেষজ্ঞরা।


সূত্র:আল-জাজিরা


ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৫৭ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে আবারও বড় ধরনের হামলা বা কড়া অবরোধের চিন্তাভাবনা করছেন। তবে এতে একটুও দমে না গিয়ে ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, পারস্য উপসাগরে তারা কোনো মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে ঘেঁষতে দেবে না।


ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আলি আবদুল্লাহি কড়া ভাষায় ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, পারস্য উপসাগরে আবার মার্কিন সৈন্য পাঠানোর স্বপ্ন ট্রাম্পকে কবরে নিয়ে যেতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে তারা নাকি ইরানের সামরিক শক্তি ধ্বংস করেছে, অথচ নিজেদের যুদ্ধজাহাজগুলো ইরানের সীমানার কাছে পাঠাতে তারা ভয় পাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যেকোনো হামলার উপযুক্ত জবাব দিতে তেহরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত।


 চীনে কিম জং উনের ২৪ ঘন্টার ‘রহস্যজনক’ সফর


এই সংঘাতের আতঙ্কে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু-হু করে বেড়ে প্রতি ব্যারেলে ১১৭ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ ‘হরমুজ প্রণালি’-তে একের পর এক তেলবাহী জাহাজে হামলা চলছে। পাশাপাশি ইয়েমেনের হুথি যোদ্ধাদের সঙ্গে সৌদি আরবের লড়াইও নতুন করে বেড়ে চলেছে।


সংঘাত থামাতে ইস্তাম্বুলে তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইউরোপীয় দেশগুলো বৈঠক করলেও সেখানে যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান উপস্থিত ছিল না। তুরস্ক সতর্ক করেছে, ইরানে নতুন হামলা পুরো অঞ্চলে আগুন জ্বালিয়ে দেবে। তবে ইরান পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, মার্কিন হামলা ও অত্যাচার না থামলে তারা কোনো আলোচনায় বসবে না এবং হরমুজ প্রণালিও মুক্ত করবে না।


সূত্র: আল-জাজিরা



মেগান মার্কেল ও তার বাবা থমাস মার্কেল। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৩৬ পিএম

ব্রিটিশ রাজপরিবারের বধূ ও প্রিন্স হ্যারির স্ত্রী মেগান মার্কেলের বাবা থমাস মার্কেলের বিরুদ্ধে শিশুদের যৌন নিপীড়নের আপত্তিকর ছবি জমানোর এক মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর চরম ক্ষোভ ও গভীর মানসিক কষ্ট প্রকাশ করেছেন ডাচ অব সাসেক্স মেগান। এক বিবৃতিতে তিনি জানান, এমন বিভৎস খবর শুনে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত ও বিপর্যস্ত। ঘটনার শিকার হওয়া নিরীহ শিশুদের নিরাপত্তার কথা ভেবে তিনি গভীরভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।


যুক্তরাজ্যের ‘দ্য সান’ পত্রিকার একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়, মেগানের সৎ ভাই থমাস মার্কেল জুনিয়র ফিলিপাইনে তাদের বাবার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে এই আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও উদ্ধার করেন। তার দাবি, বাবার ড্রয়ার ও কম্পিউটারের হার্ডড্রাইভে শত শত শিশু নির্যাতনের ছবি ছিল। এরপরই তিনি ফিলিপাইন পুলিশ, যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই এবং শিশু সুরক্ষা সংস্থায় গিয়ে সরাসরি অভিযোগ করেন। ফিলিপাইন প্রশাসন ও যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই বর্তমানে যৌথভাবে এই ঘটনার তদন্ত করছে। তবে মেগানের বাবা থমাস মার্কেল সিনিয়র তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।


বর্তমানে ফ্লোরিডায় চিকিৎসাধীন ৮২ বছর বয়সি থমাস জানান, তার ছেলে সম্পূর্ণ মিথ্যা গল্প ফেঁদেছে। মেগানের বোন সামান্থা মার্কলও বাবার পক্ষে কথা বলেছেন। তিনি দাবি করেন, এই কম্পিউটারগুলো দুই বছর ধরে অন্য মানুষদের হাতে ছিল এবং তার ভাই বানিয়ে বানিয়ে মিথ্যা অভিযোগ করছেন। এই ঘটনার পর মেগান মার্কেল তার বাবার সঙ্গে দীর্ঘদিনের দূরত্বের আসল কারণ স্পষ্ট করেছেন। তিনি জানান, আজ থেকে আট বছর আগে অর্থাৎ ২০১৮ সালেই পুলিশের পক্ষ থেকে তার বাবার বিরুদ্ধে কিছু আপত্তিকর অভিযোগের বিষয়ে তাকে জানানো হয়েছিল।


মেগান বলেন, এতদিন সংবাদমাধ্যমে নানা কথা ছড়ানো হলেও, মূলত সন্তানদের সুরক্ষার কথা ভেবেই তিনি বাবাকে নিজের পরিবার থেকে দূরে রেখেছিলেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এবার অন্তত মানুষ বুঝতে পারবে যে কেন তিনি এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং তিনি আশা করেন ভুক্তভোগী শিশুরা যেন দ্রুত ন্যায়বিচার পায়।



বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:০৩ পিএম

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের জন্য সামনে এক বড় ধরণের ‘চমক’ অপেক্ষা করছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি সেনাদের ওপর হামলার ঘটনার পর সেখানে বড় ধরণের সামরিক অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি তিনি এই মন্তব্য করেন।


ইসরাইলের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু স্পষ্ট জানান, ফিলিস্তিনকে কোনোভাবেই স্বাধীন রাষ্ট্র হতে না দেওয়া তাদের নির্বাচনের মূল লক্ষ্য। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের সোজা উত্তর না দিয়ে তিনি বলেন, হঠাৎ এবং আচমকা পদক্ষেপ নেওয়াই তার বেশি পছন্দ। নেতানিয়াহু আরও জানান, ফিলিস্তিন থেকে আসা যেকোনো সংকট মোকাবিলায় কিছু গোপন কৌশল ব্যবহার করা হবে, যা এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না। তবে ফিলিস্তিনি প্রশাসনের জন্য খুব শীঘ্রই এক বড় ধাক্কা আসতে চলেছে।



মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের দাবি তুলে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন ছাড়াই তারা আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের আওতায় আরও কয়েকটি আরব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বের চুক্তি বাড়াবেন। অন্তত দুটিরও বেশি দেশের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, সেই দেশগুলো ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের কোনো শর্ত দেবে না, কারণ তারা ভালো করেই জানে যে ইসরাইল তা কখনোই মেনে নেবে না।


সূত্র: আল-জাজিরা