বিমানবন্দর চত্বরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৬:৩৩ এএম

কলকাতা বিমানবন্দরের দ্বিতীয় রানওয়ে সম্প্রসারণের জন্য রানওয়ের পাশে থাকা গৌরীপুর জামে মসজিদ বা বাঁকড়া মসজিদে নামাজ বন্ধের প্রতিবাদে মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের আজ পথে নামার ডাক দিয়েছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ও জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের পশ্চিমবঙ্গ শাখার সভাপতি সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী। 


আজ শুক্রবার দুপুরে বিমানবন্দর চত্বরে দেখা গেছে সিদ্দিকুল্লাকে। তবে আজ সকাল থেকে সেখানে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখা গেছে। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী নিরাপত্তা চাদরে মুড়ে ফেলেছে মসজিদে প্রবেশপথের সামনে বাঁকড়া এলাকা। অবাঞ্ছিত কাউকে জমায়েত করতে দেয়নি পুলিশ।


ভারতীয় ন্যায় সংহীতার ১৬৩ ধারা (পূর্বের ১৪৪ ধারা) সেখানে কার্যকর করা হয়। এর ফলে পণ্ড হয়ে গেছে জমায়েত।   


আগের দিন বৃহস্পতিবার তিনি মুসলমানদের এয়ারপোর্ট লাগোয়া বাঁকড়া এলাকার ৭ নম্বর গেটের সামনে আসার অনুরোধ করেন। পশ্চিমবঙ্গের এক কোটি মুসলমানকে কালোব্যাজ পরে প্রতিবাদ জানিয়ে নামাজে সামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করেন সিদ্দিকুল্লা। 


আজ শুক্রবার বিমানবন্দরের ৭ নম্বর গেটে জমায়েতের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ১৩৬ বছরের পুরানো মসজিদে অন্যায় ও অবৈধভাবে নামাজ বন্ধের বিরুদ্ধে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করব।


তবে আজ শুক্রবার সেখানে দেখা গেছে, সকাল থেকে বিধাননগর পুলিশের পক্ষ থেকে মাইকিং করে চলছে প্রচার। মাইকে বলা হয়, ভারতীয় ন্যায় সংহীতার ১৬৩ ধারা (পূর্বের ১৪৪ ধারা) এই এলাকায় কার্যকর করা হয়েছে। তাই একসঙ্গে চারজনের জমায়েত করা যাবে না। 


এ বিষয়ে দমদম উত্তরের বিজেপি বিধায়ক সৌরভ সিকদার বলেন, এর পেছনে কোনো বিদেশি শক্তি কাজ করছে না তো, সেটা দেখা দরকার। সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী বলেছেন, এক কোটি মুসলিম কালোব্যাজ পরে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করবেন। ধর্মের দোকান চালানোর জন্য এই ধরনের কথা বলছেন। প্রশাসন যেটা ভালো মনে করেছে, করেছে। সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী হয়তো ভুলে গেছেন সরকার বদলে গেছে, আর এই সরকারের মুখ্যমন্ত্রীর নাম শুভেন্দু অধিকারী। 


এয়ারপোর্ট ইস্যু তিনি আরও বলেন, এটা নিয়ে ৯৯ সাল থেকে আলোচনা হচ্ছে। তপন শিকদার সংসদে তুলেছিলেন। ২০০২ সালে শাহানাজ মন্ত্রণালয় জানান মসজিদ সরানোর কথা। ২০০৩ সালে বামফ্রন্ট সরকার না বলে দেয়। লাগাতার বিধানসভায় রাজ্যসভায় লোকসভায় উঠেছে। তখন থেকে সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী গোঁ ধরে বসে আছেন। শুধু আধার কার্ড দেখিয়ে ঢুকে যাচ্ছে মসজিদে। সেখান থেকে কোনো ছবি ইমেজ বাইরে গেলে সুরক্ষা বিঘ্নিত হতে পারে। 


তিনি বলেন, জিরো ভিজিবিলিটি হলে ল্যান্ডিং করা যায় না এই মসজিদের জন্য। খালি একটা ধর্মীয় আবেগকে প্রশ্রয় দেওয়ার জন্য মানুষের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলতে হবে? আন্তর্জাতিক বিমানের সংখ্যা বাড়লে কর্মসংস্থানের সুযোগ ও থাকবে। ধর্মের ব্যবসায়ী উনি। আজ ও সেখানে চলে গেছেন সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী। কোনো ঝামেলা লাগাতে চাইছেন? ওনার উদ্দেশ্যই তাই। আইন ভাঙলে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে রাজ্য সরকার। 


আজ শুক্রবার বিমানবন্দরের ৭ নম্বর গেটে জমায়েতের আহ্বান জানিয়ে সিদ্দিকুল্লা বলেন, ১৩৬ বছরের পুরানো মসজিদে অন্যায় ও অবৈধভাবে নামাজ বন্ধের বিরুদ্ধে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করব। সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ এলাকার লোকজন ওখানে নামাজ পড়তে যাবে। আমি অনুরোধ করব, আমাদের যেন নামাজ আদায় করতে দেওয়া হয়। যদি ঢুকতে না দেয় তাহলে ধস্তাধস্তি করব না। আমরা শান্তিপ্রিয়। আর বাংলার এক কোটি মুসলমানদের কাছে অনুরোধ, কালোব্যাজ পরে নামাজ পড়তে আসবেন। আল্লাহ কাছে দোয়া করে চলে আসুন। কোনো বিক্ষোভ প্রদর্শনের দরকার নেই। কোনো মাইকিং, ক্যানভাস কিছু থাকবে না।


সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী অভিযোগ করেন, যদি সত্যিই উন্নয়নমূলক কাজের জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে অন্তত একটি নোটিশ দেওয়া যেত। গত ২৪ বছর ধরে এয়ারপোর্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাদের সরকারি যোগাযোগ রয়েছে। একটি চিঠি দেওয়া বা আলোচনায় বসতে তাদের অসুবিধা কোথায় ছিল? তাদের সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে, তা ঠিক হয়নি। এলাকায় হিন্দু-মুসলিম সবাই মিলেমিশে থাকেন। আমরা বারবার পুনর্বাসন বা স্থানান্তরের কথা বলছি না। এটি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিষয় নয়, কেন্দ্রীয় সরকারের বিষয়। কেন্দ্রীয় সরকারের উচিত- দারুল উলুম দেওবন্দ, জমিয়তে উলেমা-এ-হিন্দ এবং সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটির দায়িত্বশীলদের সঙ্গে আলোচনা করা। প্রয়োজন হলে আমরাও তাদের সঙ্গে থাকব, যাতে আইন মেনে এবং আলোচনার মাধ্যমে কীভাবে স্থানান্তরের সমাধান করা যায়, তা নির্ধারণ করা যায়।  


এ বিষয়ে বুধবার রাতে সংশ্লিষ্ট থানায় গেলেও তাদের অভিযোগ নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন সিদ্দিকুল্লা। তার দাবি, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সহযোগিতা মেলেনি। সিদ্দিকুল্লাহর বক্তব্য, ‘আমরা ১১ তারিখে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তিনবার ফোন করেছি। এয়ারপোর্ট থানায় এবং নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থানায় দু’ঘণ্টা ধরে ঘুরেছি। কিন্তু কেউ আমাদের সঙ্গে কথা বলার প্রয়োজনও মনে করেননি। তবুও আমরা বলতে চাই, আমরা শান্তিপ্রিয় মানুষ। গোটা বাংলায় এমন একটি ঘটনাও দেখানো যাবে না, যেখানে আমরা আইন ভেঙেছি। আমরা সব সময় আইন মেনেই চলেছি। মুসলিমরা শুধু নামাজ পড়তে যাবেন। কোনো অশান্তি হবে না। কেউ রাস্তায় নামবেন না, কোনো জোরজবরদস্তি হবে না, মাইকিংও হবে না। আমরা শুধু এই ব্যাজ পরে শান্তিপূর্ণভাবে নমাজ আদায় করতে যাব। এতে আপত্তির কী আছে?’


এ বিষয়ে দমদম উত্তরের বিজেপি বিধায়ক সৌরভ সিকদার বলেন, ‘এই বাংলায় কোনো জামায়তি, শরিয়তি আইন চলবে না। এখানকার শান্তিপূর্ণ মুসলমান ভাইদের কাছে অনুরোধ, কারও উসকানিতে আইন ভাঙার কাজ করবেন না। এখানে দেশ সবার আগে। নিরাপত্তা সবার আগে। নিরাপত্তা, দেশের প্রশ্নে কখনও ধর্ম বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। 


সিদিকুল্লার বিরুদ্ধে তিনি বলেন, ‘ওনার মতো লোকেরা ধর্ম নিয়ে ব্যবসা করে। ওরা যা খুশি বলতে পারে। আপনারা কোনো উসকানিতে পা দেবেন না।’


মসজিদ সংক্রান্ত বিষয়ে মুখ খুলেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও। তিনি বলেছেন, ওই এলাকায় যদি মসজিদ না হয়ে হনুমানজির মন্দিরও থাকত, সেটিকেও সরানো হতো।


প্রসঙ্গত, এয়ারপোর্টের দ্বিতীয় রানওয়ে সম্প্রসারণের জন্য গৌরীপুর জামে মসজিদ বা বাঁকড়া মসজিদকে সরানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। এরই মধ্যেই ওই মসজিদে নামাজ পড়া বন্ধ রয়েছে। এয়ারপোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়া সূত্রে জানানো হয়েছে, এয়ারপোর্টের সম্প্রসারণ ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ওই মসজিদ অন্যত্র সরানো দরকার। মসজিদটির জন্য প্রবলভাবে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। লাখ লাখ যাত্রীর জীবন ঝুঁকিপূর্ণ হচ্ছে। মসজিদটি রানওয়ে সংলগ্ন হওয়ায় সেকেন্ডারি রানওয়ে সম্প্রসারণের কাজ বিঘ্নিত হচ্ছে। সেকেন্ডারি রানওয়ে থেকে মাত্র ১৬৫ মিটার দূরে রয়েছে এই মসজিদ। 


আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল সুরক্ষাবিধি স্পষ্ট বলছে, রানওয়ে থেকে যেকোনো কাঠামোর ন্যূনতম দূরত্ব অন্তত ২৪০ মিটার হওয়া বাধ্যতামূলক। এছাড়া যারা বিমানবন্দরের ভেতরে নামাজ পড়তে ঢুকছেন, তাদের জন্য কোনো বৈধ পাস ইস্যু হয় না। শুধুমাত্র আধার কার্ডের ভিত্তিতে বিমানবন্দরের রানওয়ের কাছে পৌঁছে তারা নামাজ পড়েন। বিমানবন্দরের নিরাপত্তার জন্য এই বিষয়টিও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।





ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৪৫ এএম

ভারতের পাঞ্জাবের অমৃতসরে গলিতে পার্ক করা স্কুটার সরানো নিয়ে বিরোধের জেরে গুলিতে নিহত হয়েছেন ২৭ বছর বয়সি এক যুবক। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে আনন্দ অ্যাভিনিউ এলাকায় নিজের বাড়ির সামনেই তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় একই এলাকার তিন ভাইয়ের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছে পুলিশ। নিহতের বাবার দাবি, অভিযুক্তরা তার ছেলের বন্ধু ছিলেন।

নিহত অমিত সাবরওয়াল একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বিপণন বিভাগে কাজ করতেন। অভিযুক্তরা হলেন অভি শাহ, সানি শাহ ও ঋতিক শাহ। গেট হাকিমা থানার পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান চালানোর পাশাপাশি এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

অমিতের বাবা বলেন, নিজের বন্ধুদের গুলিতেই তার ছেলের মৃত্যু হয়েছে। কারও সঙ্গে অমিতের শত্রুতা ছিল না। হোন্ডা অ্যাকটিভা স্কুটার সরানো নিয়ে বিরোধ থেকেই ঘটনার সূত্রপাত। ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, রাতে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা ও পার্টি শেষে বাড়ি ফেরেন অমিত। এরপর গলিতে পার্ক করা একটি অ্যাকটিভা স্কুটার সরানো নিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে বিরোধ তীব্র হলে অভি শাহ দেশি পিস্তল দিয়ে গুলি চালান বলে অভিযোগ উঠেছে।

অমিতের বাবার ভাষ্য, রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাড়ির সামনেই তার ছেলেকে লক্ষ্য করে ছয় রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। এর মধ্যে দুটি গুলি মাথায় এবং একটি করে কোমর ও পায়ে লাগে। বাড়ির ভেতরে থাকা পরিবারের সদস্যরা পটকার মতো শব্দ শুনে বাইরে বেরিয়ে অমিতকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও পথেই তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় পাঞ্জাবের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আম আদমি পার্টি (আপ) সরকারের সমালোচনা করেছেন বিজেপি নেতা রবনীত সিং বিট্টু।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, ‘রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান কবে এই লাগামহীন রক্তপাতের দায় নেবেন? ফাঁকা দাবি আর প্রচারণার কৌশল বন্ধ করুন। পাঞ্জাবের মানুষের জীবন রক্ষাকে অগ্রাধিকার দিন।’

তিনি আরও লেখেন, ‘মানুষ যখন নিজের বাড়ির দরজার সামনেও নিরাপদ নয়, তখন তা প্রশাসনের চরম ব্যর্থতাকে প্রকাশ করে। অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।’

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ বিষয়ে রাজ্য সরকারের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

অমিত হত্যাকাণ্ডের মাত্র তিন সপ্তাহ আগে, গত ৩ অক্টোবর অমৃতসরে দিনের বেলায় গুলিতে নিহত হন ২৯ বছর বয়সী মধুসূদন ‘ম্যাড’ সান্ধু। তিনি পাঞ্জাবের পরিচিত কুইয়ার মেকআপশিল্পী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট নির্মাতা ছিলেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৬টার দিকে লোহরকা রোডে নিজের সেলুনের কাছে একটি গাড়ি ধোয়ার স্থানে অপেক্ষা করার সময় মোটরসাইকেলে আসা দুই হামলাকারী তাকে লক্ষ্য করে কাছ থেকে একাধিক গুলি ছোড়ে। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

হত্যাকাণ্ডের পর ‘গোল্ডি ধিল্লোঁ গ্যাং’-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে দায় স্বীকারের দাবি করা হয়। পরে গুজরাটে পালিয়ে যাওয়া কথিত বন্দুকধারী পরমিন্দর কাকা ও তার কয়েকজন সহযোগীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

অক্টোবর মাসে পাঞ্জাবে একের পর এক লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে। এসব ঘটনা রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও তীব্র করেছে।

আলোচিত ঘটনাগুলোর মধ্যে রয়েছে মাদকবিরোধী কর্মী পরবিন্দর সিং ঝোটার হত্যাকাণ্ড। মানসা শহরে একটি মেডিকেল স্টোরের মালিকের বিরুদ্ধে আসক্তি সৃষ্টিকারী ওষুধ অবৈধভাবে বিক্রির অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ করার সময় ফেসবুকে সরাসরি সম্প্রচারের মধ্যেই তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। পরে ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো (সিবিআই) মামলাটির তদন্তভার নেয়।

এরপর বাটালায় ৪০ বছর বয়সী বিক্রমজিৎ সিংকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করার ঘটনাও সামনে আসে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণেই তার ওপর হামলা চালানো হয়েছিল।


হরমুজে ৭ জাহাজে মাইন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি ইরানের। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:২১ পিএম

হরমুজ প্রণালিতে সাতটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করার দাবি করেছে ইরান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এই জলপথে জাহাজ চলাচলে সহায়তা অব্যাহত রাখলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।


বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।


আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার রাতভর হামলার শিকার হওয়া সাতটি জাহাজের মধ্যে চারটি থেকে তেল স্থানান্তরের কাজ চলছিল। হামলার পর জাহাজগুলোতে আগুন ধরে যায়। অন্য তিনটি জাহাজ মাইনে আঘাত হানার পর চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে বলে দাবি করেছে ইরান। তবে এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। হামলায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজগুলোর কোন দেশের পতাকা ছিল, সে বিষয়েও বিস্তারিত জানানো হয়নি।


 হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে হুঁশিয়ারি দিয়েছে আইআরজিসি। তাদের বক্তব্য, ওয়াশিংটন যদি প্রণালির অন্যান্য অংশ দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচলে সহায়তা করে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোও ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে সংঘাত এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোতেও ছড়িয়ে পড়বে।’ এটিকে তারা গুরুতর সতর্কবার্তা হিসেবে উল্লেখ করেছে।


বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হতো। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই জলপথে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।


কিম জং উন। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:০৪ পিএম

সীমান্তের নতুন সেতু অতিক্রম করে উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন চীনের দানদং শহরে অত্যন্ত গোপনে এক ঝটিকা সফর সম্পন্ন করেছেন। দীর্ঘ ১২ বছর আগে নির্মিত ‘নিউ ইয়ালু রিভার ব্রিজ’ আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় এই প্রতীকী সফর অনুষ্ঠিত হলো। শনিবারের (২৪ অক্টোবর) এই একদিনের ঝটিকা সফর শেষে তিনি ইতোমধ্যেই স্বদেশে ফিরে গেছেন।


সফরকালে কিম জং উনের সঙ্গী ছিলেন চীনের চতুর্থ শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা ওয়াং হুনিং। তিনি চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের পক্ষ থেকে উত্তর কোরীয় নেতার কাছে আন্তরিক শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন। দুই নেতা একসঙ্গে স্থানীয় একটি অটোমোবাইল কারখানা পরিদর্শন করেন এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। এসময় কিম জানান, চীনের সঙ্গে ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব রক্ষা এবং ব্যবহারিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে প্রস্তুত রয়েছে পিয়ংইয়ং।


বিশেষ এই সফরটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যা ১৯৫০-১৯৫৩ সালের কোরিয় যুদ্ধে চীনের অংশগ্রহণের বর্ষপূর্তির ঠিক আগের দিন। সেই স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দানদং-এর কোরিয় যুদ্ধ স্মৃতিসৌধে যান কিম ও ওয়াং। সেখানে উত্তর কোরিয়ার পক্ষে যুদ্ধ করে প্রাণ উৎসর্গকারী চীনা সৈন্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন কিম জং উন। সফর শেষে নতুন সেতুর গোড়ায় এসে কিমকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানান ওয়াং হুনিং।


বিশ্লেষকদের মতে, ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নতুন চার লেনের সেতু চালুর মাধ্যমে চীন ও উত্তর কোরিয়ার বাণিজ্যের বড় বাধা দূর হলো। তবে কেবল অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বেইজিং ও মস্কোর সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ থেকে নিজের অবস্থান শক্ত করার কৌশল হিসেবেই কিম জং উনের এই হঠাৎ ও রহস্যময় চীন সফরকে দেখছেন আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশেষজ্ঞরা।


সূত্র:আল-জাজিরা


ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৫৭ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে আবারও বড় ধরনের হামলা বা কড়া অবরোধের চিন্তাভাবনা করছেন। তবে এতে একটুও দমে না গিয়ে ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, পারস্য উপসাগরে তারা কোনো মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে ঘেঁষতে দেবে না।


ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আলি আবদুল্লাহি কড়া ভাষায় ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, পারস্য উপসাগরে আবার মার্কিন সৈন্য পাঠানোর স্বপ্ন ট্রাম্পকে কবরে নিয়ে যেতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে তারা নাকি ইরানের সামরিক শক্তি ধ্বংস করেছে, অথচ নিজেদের যুদ্ধজাহাজগুলো ইরানের সীমানার কাছে পাঠাতে তারা ভয় পাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যেকোনো হামলার উপযুক্ত জবাব দিতে তেহরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত।


 চীনে কিম জং উনের ২৪ ঘন্টার ‘রহস্যজনক’ সফর


এই সংঘাতের আতঙ্কে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু-হু করে বেড়ে প্রতি ব্যারেলে ১১৭ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ ‘হরমুজ প্রণালি’-তে একের পর এক তেলবাহী জাহাজে হামলা চলছে। পাশাপাশি ইয়েমেনের হুথি যোদ্ধাদের সঙ্গে সৌদি আরবের লড়াইও নতুন করে বেড়ে চলেছে।


সংঘাত থামাতে ইস্তাম্বুলে তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইউরোপীয় দেশগুলো বৈঠক করলেও সেখানে যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান উপস্থিত ছিল না। তুরস্ক সতর্ক করেছে, ইরানে নতুন হামলা পুরো অঞ্চলে আগুন জ্বালিয়ে দেবে। তবে ইরান পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, মার্কিন হামলা ও অত্যাচার না থামলে তারা কোনো আলোচনায় বসবে না এবং হরমুজ প্রণালিও মুক্ত করবে না।


সূত্র: আল-জাজিরা



মেগান মার্কেল ও তার বাবা থমাস মার্কেল। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৩৬ পিএম

ব্রিটিশ রাজপরিবারের বধূ ও প্রিন্স হ্যারির স্ত্রী মেগান মার্কেলের বাবা থমাস মার্কেলের বিরুদ্ধে শিশুদের যৌন নিপীড়নের আপত্তিকর ছবি জমানোর এক মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর চরম ক্ষোভ ও গভীর মানসিক কষ্ট প্রকাশ করেছেন ডাচ অব সাসেক্স মেগান। এক বিবৃতিতে তিনি জানান, এমন বিভৎস খবর শুনে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত ও বিপর্যস্ত। ঘটনার শিকার হওয়া নিরীহ শিশুদের নিরাপত্তার কথা ভেবে তিনি গভীরভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।


যুক্তরাজ্যের ‘দ্য সান’ পত্রিকার একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়, মেগানের সৎ ভাই থমাস মার্কেল জুনিয়র ফিলিপাইনে তাদের বাবার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে এই আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও উদ্ধার করেন। তার দাবি, বাবার ড্রয়ার ও কম্পিউটারের হার্ডড্রাইভে শত শত শিশু নির্যাতনের ছবি ছিল। এরপরই তিনি ফিলিপাইন পুলিশ, যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই এবং শিশু সুরক্ষা সংস্থায় গিয়ে সরাসরি অভিযোগ করেন। ফিলিপাইন প্রশাসন ও যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই বর্তমানে যৌথভাবে এই ঘটনার তদন্ত করছে। তবে মেগানের বাবা থমাস মার্কেল সিনিয়র তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।


বর্তমানে ফ্লোরিডায় চিকিৎসাধীন ৮২ বছর বয়সি থমাস জানান, তার ছেলে সম্পূর্ণ মিথ্যা গল্প ফেঁদেছে। মেগানের বোন সামান্থা মার্কলও বাবার পক্ষে কথা বলেছেন। তিনি দাবি করেন, এই কম্পিউটারগুলো দুই বছর ধরে অন্য মানুষদের হাতে ছিল এবং তার ভাই বানিয়ে বানিয়ে মিথ্যা অভিযোগ করছেন। এই ঘটনার পর মেগান মার্কেল তার বাবার সঙ্গে দীর্ঘদিনের দূরত্বের আসল কারণ স্পষ্ট করেছেন। তিনি জানান, আজ থেকে আট বছর আগে অর্থাৎ ২০১৮ সালেই পুলিশের পক্ষ থেকে তার বাবার বিরুদ্ধে কিছু আপত্তিকর অভিযোগের বিষয়ে তাকে জানানো হয়েছিল।


মেগান বলেন, এতদিন সংবাদমাধ্যমে নানা কথা ছড়ানো হলেও, মূলত সন্তানদের সুরক্ষার কথা ভেবেই তিনি বাবাকে নিজের পরিবার থেকে দূরে রেখেছিলেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এবার অন্তত মানুষ বুঝতে পারবে যে কেন তিনি এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং তিনি আশা করেন ভুক্তভোগী শিশুরা যেন দ্রুত ন্যায়বিচার পায়।



বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:০৩ পিএম

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের জন্য সামনে এক বড় ধরণের ‘চমক’ অপেক্ষা করছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি সেনাদের ওপর হামলার ঘটনার পর সেখানে বড় ধরণের সামরিক অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি তিনি এই মন্তব্য করেন।


ইসরাইলের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু স্পষ্ট জানান, ফিলিস্তিনকে কোনোভাবেই স্বাধীন রাষ্ট্র হতে না দেওয়া তাদের নির্বাচনের মূল লক্ষ্য। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের সোজা উত্তর না দিয়ে তিনি বলেন, হঠাৎ এবং আচমকা পদক্ষেপ নেওয়াই তার বেশি পছন্দ। নেতানিয়াহু আরও জানান, ফিলিস্তিন থেকে আসা যেকোনো সংকট মোকাবিলায় কিছু গোপন কৌশল ব্যবহার করা হবে, যা এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না। তবে ফিলিস্তিনি প্রশাসনের জন্য খুব শীঘ্রই এক বড় ধাক্কা আসতে চলেছে।



মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের দাবি তুলে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন ছাড়াই তারা আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের আওতায় আরও কয়েকটি আরব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বের চুক্তি বাড়াবেন। অন্তত দুটিরও বেশি দেশের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, সেই দেশগুলো ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের কোনো শর্ত দেবে না, কারণ তারা ভালো করেই জানে যে ইসরাইল তা কখনোই মেনে নেবে না।


সূত্র: আল-জাজিরা