ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:০৭ পিএম

ভারতের ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) জানিয়েছে, কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ও অ্যাক্টিভিস্ট ধ্রুব রাঠী এবং অভিনেতা প্রকাশ রাজ ‘ভোট চুরি’র প্রতিবাদে বেঙ্গালুরু ও দিল্লিতে আয়োজিত বিক্ষোভে যোগ দেবেন। গতকাল বুধবার ইনস্টাগ্রামে এক ভিডিও বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে তরুণদের এ দলটি। ভিডিওটিতে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের সঙ্গে ধ্রুব রাঠী ও প্রকাশ রাজকে দেখা গেছে। 


অভিজিৎ দীপকে ঘোষণা করেছেন, বৃহস্পতিবার বেঙ্গালুরুর ফ্রিডম পার্কে ‘আমাদের ভোট বাঁচাও, গণতন্ত্র বাঁচাও’ (সেভ আওয়ার ভোটস, সেভ ডেমোক্রেসি) স্লোগানের অধীনে আয়োজিত বিক্ষোভে রাঠী এবং রাজ অংশগ্রহণ করবেন।


স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর)-এর মাধ্যমে ব্যাপক পরিসরে ভোটারদের নাম বাদ পড়ার অভিযোগ তুলেছে ছাত্রসংগঠন, রাজনৈতিক গোষ্ঠী এবং নাগরিকদের একটি জোট। সে জোটের অধীনেই আগামী ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে আয়োজিত বৃহত্তর সমাবেশেও এই দুজনের যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।


বিপুলসংখ্যক যোগ্য ভোটারকে ভোটার তালিকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, এমন অভিযোগকে কেন্দ্র করেই এই বিক্ষোভগুলো আবর্তিত। তারা এসআইআর-কেন্দ্রিক কার্যক্রমকে ‘ভোট চুরি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। আয়োজকরা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আরও বেশি স্বচ্ছতার দাবি জানিয়েছেন।


আজ বৃহস্পতিবার বেঙ্গালুরুতে সমাজকর্মী ও নাগরিকদের ফ্রিডম পার্কে একত্রিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে, আর ১০ অক্টোবর দিল্লির বিক্ষোভটিকে আয়োজকরা ‘ভোট চুরি’র বিরুদ্ধে বৃহত্তর জাতীয় আন্দোলন হিসেবে তুলে ধরছেন।



সর্বশেষ সব খবর

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর নিদাল মালিক হাসান

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:২৫ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে ২০০৯ সালে গুলি চালিয়ে ১৩ জনকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর নিদাল মালিক হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আগামী ৩ ডিসেম্বর ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কথা রয়েছে। ইতোমধ্যে এ পদ্ধতিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অনুমোদন দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।


পেন্টাগনের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড। ওই কর্মকর্তা জানান, ফায়ারিং স্কোয়াডে গুলি করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচারের এমন সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রে নজিরবিহীন। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের ভাষ্য, এ ধরনের অপরাধের গুরুতর পরিণতি মানুষকে বোঝাতেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়াটি জনসমক্ষে দেখানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।


মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক মনোরোগ চিকিৎসক নিদাল মালিক হাসান দাবি করেছিলেন, মুসলিম বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের প্রতিশোধ নিতেই তিনি ওই হামলা চালিয়েছিলেন। বর্তমানে তাকে কানসাসের ফোর্ট লিভেনওয়ার্থে বন্দি রাখা হয়েছে।


স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ‘হিউম্যান ইভেন্টস ডেইলি’ পডকাস্টে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ হাসানের মৃত্যুদণ্ড জনসমক্ষে কার্যকরের পরিকল্পনার কথা বলছেন।


হেগসেথ জানান, আগামী ৩ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার বেলা ১টায় ফায়ারিং স্কোয়াডে গুলি করে হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। হামলাটি যে দিন, সময়ে ও স্থানে ঘটেছিল, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দিন, আনুমানিক সময় ও স্থানও তার সঙ্গে মিলিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। তার ভাষায়, এটি ছিল ‘খুবই সহজ সিদ্ধান্ত’।


হেগসেথ আরও বলেন, ‘মানুষ যেন এটি দেখতে পারে এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যক্রমটি জনসমক্ষে হয়, তা আমরা নিশ্চিত করব। কারণ মানুষকে বুঝতে হবে, এ ধরনের কাজের জন্য গুরুতর পরিণতি ভোগ করতে হয়।’


এর আগে গত সোমবার পেন্টাগন জানায়, মেজর নিদাল মালিক হাসানের ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথের সুপারিশে অনুমোদন দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে কখন ও কোথায় তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব সেনাবাহিনীর সচিবকে দেওয়া হয়েছে।


নিদাল মালিক হাসান মার্কিন সেনাবাহিনীর মেজর পদমর্যাদার একজন মনোরোগ চিকিৎসক ছিলেন। ২০০৯ সালের ৫ নভেম্বর ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটির একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে তিনি গুলি চালান। এতে ১৩ জন নিহত ও ৩২ জন আহত হন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ১২ জন সক্রিয় সেনাসদস্য এবং একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য ছিলেন।


হামলার পর হাসান দাবি করেন, মুসলিম দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের প্রতিশোধ নিতেই তিনি এ ঘটনা ঘটিয়েছিলেন। ২০১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন।


তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে ১৯৬১ সালের পর এটি হবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সামরিক মৃত্যুদণ্ড। একই সঙ্গে ১৯৪৫ সালের পর মার্কিন সামরিক বাহিনীতে ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রথম ঘটনা হবে এটি।

সর্বশেষ সব খবর

নাভি পিল্লাই

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:৫০ পিএম

শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠায় প্রচেষ্টার জন্য এ বছর শান্তিতে নোবেল পেয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত দক্ষিণ আফ্রিকার নাভানেথেম নাভি পিল্লাই। নরওয়েজীয় নোবেল কমিটি জানিয়েছে, সর্বজনীন আইনি নীতির প্রতি অঙ্গীকার ও দৃঢ় নৈতিক অবস্থান পিল্লাইয়ের দীর্ঘ কর্মজীবনের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। বাংলাদেশ সময় শুক্রবার বিকেলে নরওয়ের অসলোতে এই পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। 


নোবেল প্রাইসের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, বর্ণবাদী শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করা নেলসন ম্যান্ডেলাসহ অন্যদের পক্ষে আইনি লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে পিল্লাইয়ের দীর্ঘ কর্মজীবনের শুরু হয়। পরে তিনি গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি আন্তর্জাতিক মামলায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন।


নাভি পিল্লাই বিভিন্ন রাষ্ট্র ও জাতীয় নেতাদের জবাবদিহির আওতায় এনেছেন। সহিংসতা ও সংঘাতের শিকার মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছেন। দায়িত্ব পালনকালে তিনি বারবার আইনের শাসন মেনে চলার ক্ষেত্রে ব্যক্তি ও রাষ্ট্রের দায়িত্বের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

সর্বশেষ সব খবর

কানাডার পতাকা

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:৪৯ পিএম

কানাডায় শরণার্থী বা রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করার অনলাইন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনছে দেশটির সরকার। আগামী ৩ নভেম্বর থেকে ইমিগ্রেশন, রিফিউজিস অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডার (আইআরসিসি) পোর্টালে নতুন আবেদনপ্রক্রিয়া চালু হবে। এতে অসম্পূর্ণ আবেদন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন কিছু প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে এবং আগে দেওয়া তথ্য পর্যালোচনা করতে হবে।


কানাডার সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নির্দেশনা অনুযায়ী, নতুন ব্যবস্থার আগে বর্তমান পদ্ধতিতে আবেদন সম্পন্ন করতে চাইলে ২ নভেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিটের মধ্যে (কানাডার পূর্বাঞ্চলীয় সময়) আবেদন জমা দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন জমা দেওয়া হলে নতুন পদ্ধতির কারণে অতিরিক্ত তথ্য দিতে হবে না, যদি না আইআরসিসি আলাদাভাবে তা চায়।


যারা আইআরসিসির অনলাইন পোর্টালে শরণার্থী আবেদনের কাজ শুরু করেছেন, কিন্তু ২ নভেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিটের মধ্যে তা জমা দিতে পারবেন না, তাঁদের নতুন পদ্ধতিতে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে আগে দেওয়া ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। তবে আবেদনকারীদের নতুন প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে এবং আগের দেওয়া তথ্যগুলো পর্যালোচনা করতে হবে।


অন্যদিকে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যারা আবেদন জমা দেবেন, তাদের শুধু নতুন পদ্ধতি চালুর কারণে আবার আবেদন করতে হবে না। তবে প্রয়োজন হলে ইমিগ্রেশন বিভাগ অতিরিক্ত তথ্য চাইতে পারবে।


কানাডার সীমান্তে দেশটির বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সির (সিবিএসএ) মাধ্যমে আবেদন শুরু করা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে কিছুটা ভিন্ন নিয়ম রয়েছে। তারা আবেদনটি আইআরসিসির পোর্টাল অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা না দিলে নতুন প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে এবং আগের তথ্য পর্যালোচনা করতে হবে।


আর যাদের সীমান্তে আবেদন শুরু হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পোর্টাল অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আবেদন যুক্ত করা হয়নি, তাদের আগে সংগৃহীত তথ্য সংরক্ষিত না-ও থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে নিজের ও পরিবারের তথ্য আবার দিতে হবে।


কানাডার শরণার্থী ও অভিবাসন ব্যবস্থার আধুনিকায়নের বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবে অনলাইন আবেদনপ্রক্রিয়ায় এই পরিবর্তন আনা হচ্ছে। গত ২৬ মার্চ বিল সি-১২ রাজকীয় সম্মতি পাওয়ার পর আইনে পরিণত হয়। আইনটির লক্ষ্য শরণার্থী আবেদনপ্রক্রিয়া আধুনিক করা, যোগ্যতা যাচাইয়ের নিয়ম পরিবর্তন এবং অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় তথ্য আদান-প্রদান উন্নত করা।


নতুন অনলাইন পদ্ধতির মাধ্যমে আবেদন জমা দেওয়ার আগে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ের প্রক্রিয়া আরও কাঠামোবদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


কানাডার অভিবাসন বিভাগের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নতুন পদ্ধতি চালুর ফলে অসম্পূর্ণ আবেদনকারীদের অতিরিক্ত কিছু ধাপ অনুসরণ করতে হলেও আগে থেকে দেওয়া ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষিত থাকবে-যদি আবেদনটি আইআরসিসির পোর্টালে শুরু করা হয়ে থাকে।


সূত্র: ইমিগ্রেশন, রিফিউজিস অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডা (আইআরসিসি)।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:২৭ পিএম

বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালিতে একের পর এক শক্তিশালী বিস্ফোরণের খবর জানিয়েছে ইরানের সংবাদমাধ্যম। অনুমোদনহীন পথে চলাচল করা তেলবাহী ট্যাংকারগুলো ওই এলাকায় পেতে রাখা সমুদ্রের মাইনে আঘাত করে থাকতে পারে এবং এরই জেরে বিস্ফোরণ হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।


তবে বিস্ফোরণের কারণ, হতাহত কিংবা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রণালিটিতে জাহাজ চলাচলে ইরানের সতর্কতার মধ্যেই বিস্ফোরণের এই ঘটনা ঘটল।


সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও বার্তাসংস্থা আনাদোলু বলছে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির দক্ষিণ অংশে অনুমোদনহীন পথে চলাচল করা তেলবাহী ট্যাংকারগুলো ওই এলাকায় পেতে রাখা সমুদ্রের মাইনে আঘাত করে থাকতে পারে। আর এর জেরেই বিস্ফোরণ হয়েছে বলে ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি অজ্ঞাতনামা সামরিক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে।


অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) গভীর রাতে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথটির দক্ষিণ অংশে এসব বিস্ফোরণ ঘটে।


তবে বিস্ফোরণের সংখ্যা, কোন কোন ট্যাংকার এতে জড়িত, হতাহতের সম্ভাব্য সংখ্যা কিংবা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।


আল জাজিরা বলছে, হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যে এই বিস্ফোরণের খবর সামনে এসেছে। ইরান এরই মধ্যে তেহরানের অনুমোদন ছাড়া নির্ধারিত পথের বাইরে দিয়ে জাহাজ চলাচল না করার বিষয়ে সতর্ক করেছে।


এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, আগামী নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনের আগে ইরানে কোনো হামলা চালাবে না যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে দুই দেশ ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।


স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ফলপ্রসূ আলোচনা’ চলছে। আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে কোনো সময়ই হামলা চালানো হবে না বলেও তিনি ঘোষণা দেন।


আট মাস ধরে চলা এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর থেকে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও এর প্রভাব পড়েছে। যুদ্ধের কারণে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমেছে এবং নভেম্বরের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জন্যও পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠেছে।


কংগ্রেসে নিজেদের অল্প ব্যবধানে থাকা সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখাই এখন দলটির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।


সাম্প্রতিক রয়টার্স/ইপসোসের এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৬০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ইরান পরিস্থিতি মোকাবিলায় ট্রাম্পের ভূমিকার প্রতি অসন্তুষ্ট। এমনকি রিপাবলিকানদের মধ্যেও প্রায় চারজনের একজন ট্রাম্পের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানির দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এ সময়ে জীবনযাত্রার ব্যয়ই মার্কিন ভোটারদের প্রধান উদ্বেগ হিসেবে উঠে এসেছে।

সর্বশেষ সব খবর

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:১৬ এএম

আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনের আগে ইরানে কোনো নতুন সামরিক হামলা চালানো হবে না বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনা চলছে বলেও দাবি করেন তিনি। খবর আল জাজিরার।


ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে লিখেছেন, আমরা ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা করছি।


ট্রাম্প জানান, ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ এখনো কার্যকর রয়েছে এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন স্বাভাবিকভাবে প্রবাহিত হচ্ছে।


পোস্টে ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যেকোনো সময়েই আমরা ইরানে কোনো হামলা চালাব না।


এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এক বিবৃতিতে জানান, সার্বিক পরিস্থিতি ও প্রস্তাবের শর্তগুলো বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তেহরান তাদের সুনির্দিষ্ট জবাব যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করবে।

সর্বশেষ সব খবর

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৩৮ পিএম

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন কয়েক দিন আগে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডকে ইরানে আবার বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।


এই নির্দেশনায় হামলা চালানোর কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচির উল্লেখ ছিল না এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। 


তবে মার্কিন ও ইসরায়েলি সূত্রগুলো জানাচ্ছে, মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই এবং সম্ভবত ইসরায়েলি নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগেই এ হামলা চালানো হতে পারে।


আগামী তিন থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে আবার যুদ্ধ শুরু হলে তা মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ, যুদ্ধের প্রভাবে তেলের দাম বেড়ে যেতে পারে।


পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে বলেন, প্রতিরক্ষা দপ্তরের কাজ হলো প্রেসিডেন্টের কাছে সামরিক বিকল্প তৈরি ও তা উপস্থাপন করা।


হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্পের কাছে সব ধরনের পথ খোলা রয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে তিনি সেগুলোর প্রয়োগ করতে পারেন।


ওই কর্মকর্তা দাবি করেন, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে। ইরানের অর্থনীতি ভঙ্গুর অবস্থায় থাকায় যুক্তরাষ্ট্র অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। ইরান ধ্বংস হয়ে গেছে, এখন দুটি উপায়ের যেকোনো একটির মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হবে- সহজ পথ অথবা কঠিন পথ। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হাতেই সব কার্ড রয়েছে এবং তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য যা ভালো, সেটাই করবেন।


সংবাদমাধ্যম দ্য আটলান্টিক গতকাল বুধবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, ট্রাম্প মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই ইরানে হামলা চালানোর বিষয়ে চিন্তাভাবনা করছেন।


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শুক্রবার ক্যাম্প ডেভিডে ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা দল যুদ্ধ এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে কয়েক ঘণ্টা ধরে বৈঠক করেছে।


একজন ইসরায়েলি কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছেন, বৈঠকের একটি অংশে ইরানে আবার বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর সম্ভাব্য বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।


বৈঠকের পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, এতে ‘দীর্ঘমেয়াদি’ পররাষ্ট্রনীতি পরিকল্পনার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।


মার্কিন কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনায় কোনো অগ্রগতি হয়নি। কাতারি মধ্যস্থতাকারীরা এখনো যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা প্রস্তাবের বিষয়ে ইরানি জবাবের অপেক্ষায় রয়েছেন। ওই প্রস্তাবে পারমাণবিক কর্মসূচিতে ছাড় দেওয়ার দাবি অন্তর্ভুক্ত ছিল।


দ্বিতীয় একজন ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেন, ‘ইরানে আবার বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করা নিয়ে আলোচনা জোরদার হয়েছে। নির্বাচনের আগে হামলা চালানোর সম্ভাবনা খুব বেশি নেই, তবে আমরা তা উড়িয়ে দিচ্ছি না। মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর হামলার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।’


পর্দার আড়ালে কী হচ্ছে


প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গতকাল ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলেছেন। টানা কয়েক সপ্তাহ কথা না হওয়ার পর কয়েক দিনের মধ্যে তাঁদের এটি দ্বিতীয় ফোনালাপ।


এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু ‘৭ অক্টোবরের গণহত্যার শিকার ব্যক্তিদের স্মরণ ও শ্রদ্ধা’ নিয়ে কথা বলেছেন।


প্রথম ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানান, নেতানিয়াহু ইরান ইস্যুতে তাঁর জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে বৈঠক করার পরেই ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর ফোনে আলাপ হয়।


যুদ্ধবাজ ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু গত সোমবার মার্কো রুবিওর সঙ্গে কথা বলেছিলেন।


ইরানে যদি আবার বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু হয়, তবে তা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে করবে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এতে অংশ নেবে।


দুই ইসরায়েলি কর্মকর্তা দাবি করেন, ইরানি শাসকগোষ্ঠী বর্তমানে চরম হতাশ ও আতঙ্কে রয়েছে, যার ফলে তারা আগে হামলা চালিয়ে বসতে পারে।


ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানান, ইরানিরা ইতিমধ্যে দুটি আকস্মিক হামলার শিকার হয়েছে। তারা তৃতীয় কোনো আকস্মিক হামলার মুখোমুখি হতে চায় না।


যুদ্ধ আবার শুরু হলে তা ইসরায়েলি নির্বাচনেও প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ, প্রতিশোধ হিসেবে ইরান দেশটিতে শত শত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে পারে। নতুন করে এই উত্তেজনা বৃদ্ধি কিংবা কেবল টান টান উত্তেজনা বা জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হওয়াটাও রাজনৈতিকভাবে নেতানিয়াহুকে সুবিধা দিতে পারে। নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে তাঁকে ঘিরে বিরোধীদের আক্রমণ কমে যেতে পারে।

সর্বশেষ সব খবর