হাসপাতালের নোংরা মেঝে পরিষ্কার করতে বাধ্য করা হয়েছে এক রোগীর মাকে—এমন একটি হৃদয়বিদারক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের মধ্যপ্রদেশের দামো জেলা হাসপাতালে। হাসপাতালের নিজস্ব সেবা ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা থাকতে কেন একজন অসহায় রোগীর স্বজনকে দিয়ে এই কাজ করানো হলো, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে এবং বিভিন্ন মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
দেশটির সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রদেশের দামো জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীর মাকে জোরপূর্বক হাসপাতাল চত্বরের মেঝে থেকে ময়লা পরিষ্কার করানোর এই অভিযোগ সামনে আসে। এই ন্যক্কারজনক ঘটনাটি সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের অবহেলা, হাসপাতালের কর্মীদের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা এবং সাধারণ রোগীদের স্বজনদের সঙ্গে অমানবিক আচরণের বিষয়টি আবার নতুন করে উসকে দিয়েছে।
তবে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া সংক্ষিপ্ত ওই ভিডিওটি থেকে ঘটনার পেছনের আসল প্রেক্ষাপট বা ঠিক কী পরিস্থিতিতে ওই মহিলাকে মেঝেসাফাইয়ের কাজ করতে বলা হয়েছিল, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি।
এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে সাফাই গেয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, সম্প্রতি নয় বরং এই ভিডিওটি দেড় থেকে দুই মাস আগের পুরনো একটি ঘটনা। পুরো বিষয়টি নিয়ে হাসপাতাল প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিও দেওয়া হয়েছে।
ভারতের উত্তর প্রদেশের মিরাটে মার্চেন্ট নেভির কর্মকর্তা সৌরভ রাজপুতকে হত্যার দায়ে তার স্ত্রী মুসকান রাস্তোগি ও স্ত্রীর প্রেমিক সাহিল শুক্লাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ১২৬টি শুনানি ও ২২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বুধবার (১৪ অক্টোবর) এ রায় ঘোষণা করেন জেলা জজ অরবিন্দ কুমার মিশ্র। এর দুই সপ্তাহ আগে দুজনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। খবর এনডিটিভির।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩ মার্চ মিরাটের ইন্দ্রা নগরে নিজেদের বাড়িতে সৌরভকে হত্যার পরিকল্পনা করেন মুসকান ও সাহিল। প্রথমে খাবারের সঙ্গে ওষুধ মিশিয়ে সৌরভকে অচেতন করেন তার স্ত্রী। পরে সাহিল বাড়িতে পৌঁছালে দুজন মিলে তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন।
হত্যার পর বাথরুমে সৌরভের মরদেহ টুকরো টুকরো করা হয়। এরপর দেহের খণ্ডিত অংশগুলো একটি বড় নীল প্লাস্টিকের ড্রামে ভরে তাতে বালি, পানি ও সিমেন্টের মিশ্রণ ঢেলে দেওয়া হয়। মরদেহের অস্তিত্ব গোপন করতেই এভাবে ড্রামটি সিমেন্ট দিয়ে বন্ধ করে দেন তারা। মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে ড্রামটি আদালতে উপস্থাপন করা হয়।ঘটনার পর মুসকান ও সাহিল হিমাচল প্রদেশে পালিয়ে যান। এদিকে, সৌরভ বেঁচে আছেন এবং ব্যবসায়িক কাজে বাইরে রয়েছেন—এমন ধারণা তৈরি করতে স্বামীর ফোন ব্যবহার করে স্বজনদের বার্তা পাঠাতেন মুসকান।
তবে স্বজনদের সন্দেহ হলে ১৭ মার্চ তারা স্থানীয় প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে সৌরভের বাড়িতে যান। এ সময় সৌরভ ও মুসকানের ছয় বছর বয়সী মেয়ে প্রতিবেশীদের বলে, ‘বাবা ড্রামের ভেতর।’ পরে পুলিশ ড্রামটি কেটে সেখান থেকে মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করে। এর দুই দিন পর মুসকান ও সাহিলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষ পারিপার্শ্বিক, প্রযুক্তিগত ও ভৌত প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করে। স্থানীয় দোকানিরা সাক্ষ্য দেন, অভিযুক্তরা তাদের কাছ থেকে নীল ড্রাম, সিমেন্ট, বালি ও মাংস কাটার ছুরি কিনেছিলেন। এ ছাড়া মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড ও টাওয়ারের অবস্থানসংক্রান্ত তথ্যের মাধ্যমে অপরাধের সময় ঘটনাস্থলে সাহিলের উপস্থিতির বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
রায় ঘোষণার আগে মুসকানের বাবা-মা আদালতকে জানান, সৌরভ ভালো মানুষ ছিলেন এবং অভিযুক্তদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলে তাদের আপত্তি নেই। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তারের পর থেকে মুসকানের পরিবারের সদস্যরা কারাগারে তার সঙ্গে দেখা করতে যাননি।
নেহা বোরা
প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ৬ষ্ঠ কেন্দ্রীয় কাউন্সিল ও সাধারণ সম্মেলন উপলক্ষে শুভেচ্ছা ও সংহতি বার্তা জানিয়েছেন ভারতের প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন ‘অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন’ (আইসা)-র সর্বভারতীয় সভাপতি নেহা বোরা।
গতকাল মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) নিজেদের ফেসবুক পেজে ভিডিও বার্তাটি শেয়ার করে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট।
ভিডিও বার্তায় নেহা বোরা বলেন, ভারতজুড়ে এখন যে জেন-জি আন্দোলন চলছে, তা মূলত শুরু হয়েছে বাংলাদেশকে দেখে। আমাদেরকে পথ দেখানোর জন্য ও ভারতের তরুণ সমাজের প্রতি সমর্থন জুগিয়ে যাওয়ার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। আমরা জানি, বাংলাদেশে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল তা ছিল, গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার লড়াই। বর্তমানে ভারতে যে বিক্ষোভ চলছে, তার উদ্দেশ্যেও এক।
তিনি আরও বলেন, আমরা আপনাদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করছি। আপনাদের কাছ থেকে আমরা অনুপ্রেরণা পেয়েছি ও আপনাদের করা আন্দোলন থেকে শিখতে পেরেছি। আশা করি, আপনারা ও আমরা মিলে একটি ভালো দক্ষিণ এশিয়া গড়তে পারবো।
সূত্র: সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ফেসবুক পেজ
অনুমতি ছাড়া ভারতের দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রবেশ করে বিক্ষোভ করার ঘটনায় ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) শীর্ষ দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে পাঁচ দিনের বিচারিক জেল হেফাজতে পাঠিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে মুচলেকার শর্ত ভঙ্গ ও সরকারি কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনে বাধা দেয়াসহ কয়েকটি অভিযোগ আনা হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, মঙ্গলবার (১৩ অক্টোকর) পুলিশের ব্যারিকেড পেরিয়ে যন্তর মন্তরে ঢুকে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেন তারা। এরপরই তাদেরকে আটক করা হয়। পুলিশের অভিযোগ, তারা আগে দেয়া মুচলেকার শর্ত ভঙ্গ করেছেন। তবে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এ পদক্ষেপকে ভিন্নমত দমনের চেষ্টা বলে সমালোচনা করেছেন।
সংবাদমাধ্যম বলছে, ককরোচ জনতা পার্টির দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে পাঁচ দিনের বিচারিক জেল হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে জামিনের শর্ত ভঙ্গ এবং সরকারি কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনে বাধা দেয়াসহ কয়েকটি অভিযোগ আনা হয়েছে। একই ঘটনায় অজিঙ্কা শিন্দের বিরুদ্ধেও মামলা হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে তিন নেতাকে দিল্লির মন্দির মার্গে একজন ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজির করা হয়। পরে তাদেরকে পাঁচ দিনের বিচারিক জেল হেফাজতে পাঠানো হয়।
এদিকে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে জানান, আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে পাঁচ দিনের বিচারিক হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। এ পদক্ষেপের সমালোচনা করে তিনি সরকারের বিরুদ্ধে ভিন্নমত দমনের অভিযোগ তোলেন।
দিল্লি পুলিশের সূত্রের দাবি, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা আবারও ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১৬৩ ধারা লঙ্ঘন করেছেন। পুলিশের দাবি, একই ধরনের অপরাধে পুনরায় জড়িত হওয়ায় তারা আগে যে মুচলেকা দিয়েছিলেন, তার শর্তও ভঙ্গ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আদালত তাদের বিচারিক হেফাজতে পাঠিয়েছেন।
এর আগে মঙ্গলবার সকালে পুলিশের ব্যারিকেড পেরিয়ে যন্তর মন্তরে প্রবেশ করে বিক্ষোভ দেখানোর পর শিন্দে, দাস ও রাঙ্কাকে আটক করা হয়। এ সময় তারা ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেন।
এদিকে অজিঙ্কা শিন্দেকে ব্যক্তিগত মুচলেকায় মুক্তি দেয়া হয়েছে বলে এক্সে দেয়া পোস্টে জানিয়েছেন সিজেপির আইনি দলের প্রধান রত্না সিং।
এর আগে এক ঘটনায় ৫০ হাজার রুপির মুচলেকা দিয়ে মুক্তি পেয়েছিলেন তারা। সেই সঙ্গে এক বছরের মধ্যে শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গের কোনো ঘটনায় জড়াবেন না বলেও অঙ্গীকার করেছিলেন। এবার তাদের বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশ ও মুচলেকার শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ তাদের পুনরায় অপরাধে জড়িত ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করছে।
এর আগে এক্সে দেয়া এক পোস্টে সিজেপির আইনি দলের প্রধান রত্না সিং লিখেছিলেন, ‘আজ যন্তর মন্তরের ঘটনায় সংসদ মার্গ থানায় সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা ও অজিঙ্কা শিন্দেকে গ্রেপ্তার করেছে দিল্লি পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশ, মুচলেকার শর্ত ভঙ্গ, সরকারি কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনে বাধা দেয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে।’
রত্না সিং আরও অভিযোগ করেন, গভীর রাত পর্যন্ত তিন নেতাকে তাদের আইনজীবীদের সঙ্গে দেখা করতে দেয়া হয়নি। রাত ৩টার দিকে একটি ব্যক্তিগত ভ্যানে করে তাদের সংসদ মার্গ থানায় নেয়া হয়।
এর আগে গত শনিবার দিল্লিতে বিক্ষোভের সময় আটক হওয়ার পর রাঙ্কা ও দাস এক বছরের জন্য শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার মুচলেকায় সই করেছিলেন বলে দাবি করা হচ্ছে।
সংবাদমাধ্যম বলছে, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগে সিজেপিসহ বিভিন্ন সংগঠনের চলমান বিক্ষোভের মধ্যে দিল্লিতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এর মধ্যেই এই গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটল।
গত ১১ অক্টোবর দিল্লির পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমার এক আদেশে রামলীলা ময়দান, বুরারি মাঠ ও সিবিডি মাঠকে বিক্ষোভ ও সমাবেশের নির্ধারিত স্থান হিসেবে ঘোষণা করেন। একই আদেশে অনুমোদিত বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে যন্তর মন্তরের নাম বাদ দেয়া হয়।
সিজেপি এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে। দলটির বক্তব্য, রাজধানীর কেন্দ্রস্থল থেকে বিক্ষোভ সরিয়ে নিলে জনসমাবেশের দৃশ্যমানতা ও প্রভাব কমে যাবে।
পাকিস্তানের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী সরদার মুহাম্মদ ইউসুফ
সৌদি আরবের ওপর পরিচালিত যেকোনো আক্রমণকে পাকিস্তানের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন পাকিস্তানের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী সরদার মুহাম্মদ ইউসুফ। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) আরব নিউজের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
ইসলামাবাদের ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনের পর আরব নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মন্ত্রী সরদার মুহাম্মদ ইউসুফ জানান, দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় পাকিস্তান সৌদি আরবের নিরাপত্তাকে নিজেদের নিরাপত্তার অংশ মনে করে।
রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথি মালিশিয়ার সাম্প্রতিক হামলায় একজন পাকিস্তানি নাগরিক নিহত এবং আরো ১১ জন আহত হওয়ার পটভূমিতে তিনি এই বক্তব্য দেন।
মন্ত্রী ইউসুফ বলেন, পবিত্র হারামাইন শরিফাইন ও হিজাজ-ই-মুকাদ্দাসের নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন করার চক্রান্ত কোনো মুসলিম সহ্য করবে না। তিনি উল্লেখ করেন, উমরাহ যাত্রীদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো একটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা, কারণ ধর্মপ্রাণ মানুষ সেখানে কেবল পাপমোচনের উদ্দেশ্যে যান, কারো সঙ্গে লড়াই করতে নয়।
সৌদি আরবকে কার্যকর সুরক্ষা দিতে ইতোমধ্যে পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং গত আগস্টে তুরস্কসহ ত্রিদেশীয় ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তিগুলোর শর্ত অনুযায়ী মিত্র যেকোনো একটি দেশের ওপর আক্রমণকে সব দেশের ওপর যৌথ হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের অন্যান্য ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ও সংসদ সদস্যরাও অংশ নেন। জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম পাকিস্তানের মহাসচিব মাওলানা আবদুল গফুর হায়দারী, পাক-সৌদি সংহতি পরিষদের পৃষ্ঠপোষক সিনেটর ড. হাফিজ আবদুল করিম এবং জমিয়তে উলামায়ে পাকিস্তানের প্রধান শাহ ওয়াইস নূরানী যৌথভাবে সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং উমরাহ যাত্রীদের নিরাপত্তার ওপর আঘাতকে চরম সীমালঙ্ঘন বলে আখ্যা দেন।
সূত্র: আরব নিউজ
সৌদি আরামকোর সদর দপ্তরে তেলের ট্যাংক
সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় শহর দাহরানে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর সদর দপ্তর কমপ্লেক্সে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে একটি প্রশাসনিক ভবনে আগুন ধরে যায়। তবে আগুনের ব্যাপ্তি সীমিত ছিল। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি। গতকাল বুধবার সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাত তীব্র হয়ে ওঠার মধ্যে এ হামলার ঘটনা ঘটল।
এর আগে আরামকোর একটি সূত্র রয়টার্সকে জানায়, মঙ্গলবার রাতে দাহরানে কোম্পানিটির সদর দপ্তর কমপ্লেক্সে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে কমপ্লেক্সের একটি অফিস টাওয়ারের ওপরের তিনটি তলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই সূত্র এবং এ বিষয়ে অবগত আরও দুজন রয়টার্সকে জানান, ভবনটিতে আগুন জ্বলছিল।
সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানায়, হামলার পর কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়। তবে ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।
আরামকোর দাহরান কমপ্লেক্সে কোম্পানিটির একটি বড় পরিচালনকেন্দ্র রয়েছে। এর আগে কমপ্লেক্সটির কাছে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন বলে রয়টার্সকে জানিয়েছিলেন ছয়টি সূত্র।
এদিকে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট জানিয়েছে, তারা দাহরানে একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে। ক্ষেপণাস্ত্রটির ধ্বংসাবশেষ একটি আবাসিক এলাকায় পড়ে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি জোট।
ইয়েমেনে নতুন করে তীব্র হয়ে ওঠা গৃহযুদ্ধে দেশটির সরকারি বাহিনীকে সমর্থন দিচ্ছে সৌদি আরব। এর জবাবে গত এক সপ্তাহ ধরে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়ছে হুতিরা।
এর মধ্যে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কয়েক দফা হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত শনিবারের হামলায় ১৩ জন নিহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গত এক দশকের মধ্যে সৌদি আরবে এটিকে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। পরবর্তী হামলাগুলোর কারণে দেশটিতে ফ্লাইট চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়।
সৌদি সিভিল ডিফেন্স গতকাল বুধবার জানায়, হুতিদের ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে। সেগুলোর ধ্বংসাবশেষ রিয়াদে পড়ে চারজন আহত হন। তাঁদের মধ্যে দুজন নারী, একজন পুরুষ ও একটি শিশু রয়েছে। ধ্বংসাবশেষের আঘাতে রাজধানীর ১৫টি বাড়ি সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এর আগে ইয়েমেনের রাজধানী সানায় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের হামলার কঠোর জবাব দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল হুতিরা। গোষ্ঠীটির মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে দাহরানে সৌদি আরামকোর সদর দপ্তর ও রিয়াদের একটি তেল শোধনাগারের নাম উল্লেখ করেছিলেন।
পোপ চতুর্দশ লিও
ক্যাথলিক খ্রিষ্টানদের সর্বোচ্চ ধর্মগুরু পোপ চতুর্দশ লিওর ফুসফুসে ক্যানসার ধরা পড়েছে। তবে সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার ডান ফুসফুসের আক্রান্ত অংশটি কেটে বাদ দেওয়া হয়েছে। ভ্যাটিকানের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, অস্ত্রোপচার ‘সফল’ হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত কোনো জটিলতা দেখা দেয়নি।
মঙ্গলবার রোমের জেমেল্লি হাসপাতালে ৭১ বছর বয়সী পোপের অস্ত্রোপচার করা হয়। প্রায় ৯০ মিনিট ধরে চলা এই প্রক্রিয়ায় তার ডান ফুসফুসের 'লোয়ার লোব' বা নিচের অংশটি পুরোপুরি কেটে বাদ দেওয়া হয়।
পরে ভ্যাটিকানের এক মেডিকেল বুলেটিনে বলা হয়, "জ্ঞান ফেরার পর পোপ স্বাভাবিক ছিলেন এবং কিছুক্ষণ পর্যবেক্ষণে রাখার পর তাকে নিজের কেবিনে স্থানান্তর করা হয়েছে।"
অস্ত্রোপচারের সময় অপসারণ করা ফুসফুসের টিস্যু পরীক্ষায় তার ‘পালমোনারি অ্যাডেনোকারসিনোমা’ শনাক্ত হয়। এটি ফুসফুসের ক্যানসারের একটি সাধারণ ধরন। অস্ত্রোপচারের আগে করা পরীক্ষাতেও এই ক্যানসারের সন্দেহ করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে ভ্যাটিকান।
পোপের প্রধান সার্জন ডা. স্তেফানো মার্গারিটোরা এবং ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. লুইগি কার্বোনের নেতৃত্বে ‘ভিডিও-অ্যাসিস্টেড’ প্রযুক্তির সাহায্যে তার অস্ত্রোপচার করা হয়।
মূলত ক্যানসার আক্রান্ত সব টিস্যু নির্মূল করার জন্যই ফুসফুসের ওই অংশটি পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়েছে বলে ভ্যাটিকান জানিয়েছে। ক্যানসারটি শরীরের অন্য কোথাও ছড়িয়ে পড়েছে কি না, তা জানতে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।
সিএনএনের খবরে বলা হয়, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় পোপের ফুসফুসে একটি অস্বাভাবিক গুটি ধরা পড়ে। পরে চিকিৎসকরা সেটি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণের পরামর্শ দেন। তবে তার শরীরে অসুস্থতার কোনো লক্ষণ ছিল না।
২০ অক্টোবর পর্যন্ত সব প্রকাশ্য কর্মসূচি বাতিল
সুস্থ হয়ে উঠতে পোপকে প্রায় এক সপ্তাহ হাসপাতালে থাকতে হতে পারে। ভ্যাটিকান জানিয়েছে, আগামী ২০ অক্টোবর পর্যন্ত পোপের সব প্রকাশ্য কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে।
গত রোববার সেন্ট পিটার্স স্কয়ারে প্রার্থনা শেষে সমবেত মানুষের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় পোপ নিজেই ফুসফুসে গুটি শনাক্ত হওয়ার কথা জানান। তিনি বলেছিলেন, এটি প্রাথমিক পর্যায়েই ধরা পড়েছে এবং নির্দিষ্ট একটি অংশে সীমাবদ্ধ রয়েছে। চিকিৎসকদের পরামর্শে তিনি অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তবে ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার পর রোগটির পর্যায়, এটি লসিকাগ্রন্থিসহ শরীরের অন্য কোথাও ছড়িয়েছে কি না এবং পরবর্তী চিকিৎসা কী হবে—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়।
রয়টার্সকে দেওয়া বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুসফুসের ক্যানসার বিশেষজ্ঞ স্টিফেন লিউ বলেন, রোগের পূর্বাভাস বুঝতে টিউমারের আকার এবং লসিকাগ্রন্থিতে ক্যানসার ছড়িয়েছে কি না, তা জানা জরুরি।
“ক্যানসার ছোট হলে এবং লসিকাগ্রন্থিতে না ছড়ালে অস্ত্রোপচারেই রোগ নিরাময় হতে পারে। তবে চূড়ান্ত পরীক্ষায় ক্যানসারের বিস্তার বেশি পাওয়া গেলে পরিস্থিতি কম আশাব্যঞ্জক হতে পারে।”
পোপের সুস্থতা কামনায় ভক্তরা
পোপের অস্ত্রোপচারের খবর বিশ্বজুড়ে ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ভ্যাটিকানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কার্ডিনাল পিয়েত্রো পারোলিন মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, পোপের অস্ত্রোপচারের খবর তাকে উদ্বিগ্ন করেছে।
তবে অসুস্থতার বিষয়টি দ্রুত শনাক্ত হওয়ায় এবং পোপ শান্ত থাকার কারণে তার সুস্থ হয়ে ওঠার ব্যাপারে তারা আশাবাদী। পোপের সুস্থতা কামনায় মঙ্গলবার রোমের জেমেল্লি হাসপাতালের বাইরে জড়ো হন অনেক মানুষ। তাদের কেউ কেউ তাকে শুভকামনা জানাতে এবং প্রার্থনা করতে সেখানে অপেক্ষা করেন।
হাসপাতালে যাওয়ার সময় গাড়ির পেছনের জানালা দিয়ে হাত নেড়ে শুভেচ্ছার জবাব দেন পোপ। হাসপাতালে পৌঁছে কর্মকর্তাদের সঙ্গে হাত মেলানোর পর তিনি ভেতরে প্রবেশ করেন।
দক্ষিণ আমেরিকা সফর নিয়ে অনিশ্চয়তা
রয়টার্স লিখেছে, আগামী ৬ থেকে ১৭ নভেম্বর উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও পেরু সফরের কথা রয়েছে পোপের। ১১ দিনের এই সফরের মধ্যে পেরুর অংশটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সেখানে তিনি বহু বছর বিশপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
এখন নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী তিনি সফরে বের হতে পারবেন কি না, তা নির্ভর করবে তার সুস্থ হতে কতটা সময় লাগবে, তার ওপর।
যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে ১৯৫৫ সালে রবার্ট প্রেভোস্ট নামে জন্ম নেওয়া পোপ চতুর্দশ লিও ২০২৫ সালের মে মাসে ক্যাথলিক চার্চের প্রধান নির্বাচিত হন। তিনি পোপ ফ্রান্সিসের উত্তরসূরি।
টেনিস খেলা ও সাঁতার কাটার মত শারীরিক কর্মকাণ্ডে অভ্যস্ত পোপ লিওর গুরুতর কোনো স্বাস্থ্যসমস্যার কথা আগে জানা যায়নি। তবে ১৯৮৫ সালে পেরুতে থাকার সময় টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়ে তাকে একবার হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল।
ভ্যাটিকার বলেছে, পোপ হাসপাতালে থাকলেও তাদের দৈনন্দিন কার্যক্রম চলবে। তবে যেসব সিদ্ধান্তে পোপের স্বাক্ষর বা অনুমোদন প্রয়োজন, সেগুলো তার সুস্থ হয়ে ওঠা পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া হতে পারে।