• প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬, সময় : ৫:১৬ এএম
  • আপডেট : মঙ্গলবার ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬, সময় : ৫:১৬ এএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬, সময় : ৫:১৬ এএম

চারপাশে সাদা বরফের চাদর, হাড়কাঁপানো কনকনে ঠান্ডা। তিন-চার ফুট উঁচু বরফের স্তূপে পা ডুবে যাচ্ছে প্রতি পদক্ষেপে। 


এমন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে যেখানে জীবন থমকে যাওয়ার কথা, সেখানে এক তরুণ চলছেন অদম্য সাহস নিয়ে। গলায় বরমালা, পরনে বিয়ের সাজ; 


কিন্তু কোনো দামি গাড়ি বা পাল্কি নয়, খাড়া পাহাড় আর বরফ পায়ে মাড়িয়েই চললেন তিনি। বিয়ের পর একইভাবে বরের হাত ধরে দীর্ঘ পথ হেঁটে নতুন জীবনে পা রাখলেন এক নববধূ।


হৃদয়স্পর্শী এই ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের হিমাচল প্রদেশের মান্ডি জেলার সরজ অঞ্চলে। গত কয়েকদিনের প্রবল তুষারপাতে মান্ডির জনজীবন কার্যত অচল হয়ে পড়ে। 


রাস্তাঘাট ঢেকে যায় পুরু বরফের আস্তরণে। পাত্র গীতেশ ঠাকুরের বিয়ের কথা ছিল ভাইচরি গ্রামের তরুণী ঊষা ঠাকুরের সঙ্গে। কিন্তু আবহাওয়া এতটাই খারাপ ছিল যে, কোনো যানবাহন চলাচলের উপায় ছিল না।


তাই কোনো উপায় না পেয়ে প্রিয়তমার কথা ভেবে গীতেশ কয়েকজন বরযাত্রীকে নিয়ে পায়ে হেঁটেই রওনা দেন। প্রায় ৭ কিলোমিটার তুষারঢাকা দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে অবশেষে তিনি পৌঁছান কনের বাড়িতে।


সেখানে প্রথা মেনে বিয়ের সব আচার শেষ হয়। পরদিন সকালে শুরু হয় আরও কঠিন পরীক্ষা। পাল্কি নেওয়া বিপজ্জনক হওয়ায় নববধূ ঊষাও বরের হাত ধরে বরফ মাড়িয়ে হাঁটা শুরু করেন। 


প্রায় ৪ ঘণ্টা লড়াই চালিয়ে, খাড়া পাহাড় ডিঙিয়ে তারা যখন নিরাপদে গীতেশের গ্রামে পৌঁছান, তখন বরযাত্রীদের মুখে জয়ের হাসি। হিমাচলের এই নবদম্পতির এমন সাহসী ভিডিও এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল। নেটিজেনরা বলছেন, সত্যিকারের ভালোবাসা যে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগকেও হার মানাতে পারে, তারই প্রমাণ দিলেন গীতেশ-ঊষা।




বিশ্বের বৃহত্তম প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর মিসরে

  • প্রকাশ : রবিবার ২৬ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৬:৪৭ পিএম

সামরিক শক্তির ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনকে পেছনে ফেলে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামরিক প্রশাসনিক কমপ্লেক্স ‘দ্য অক্টাগন’ উন্মোচন করেছে মিশর। দেশটির রাজধানী কায়রো থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার পূর্বে নবনির্মিত নিউ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ক্যাপিটালে ২২ হাজার একর বিশাল এলাকাজুড়ে এই অত্যাধুনিক ও বিশালাকার প্রতিরক্ষা সদর দপ্তরটি নির্মাণ করা হয়েছে। 


গত ৪ জুলাই ২০২৬ তারিখে মিশরের রাষ্ট্রপতি আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি আনুষ্ঠানিকভাবে এই ‘স্টেট স্ট্র্যাটেজিক কমান্ড হেডকোয়ার্টার্স’ বা অক্টাগন কমপ্লেক্সটির উদ্বোধন করেন। এলাকার দিক থেকে এই কমপ্লেক্সটির আয়তন প্রায় ৫ কোটি ৫ লাখ বর্গফুট, যা যুক্তরাষ্ট্রের পেন্টাগনের মোট আয়তন ও মেঝের স্থানকে ছাড়িয়ে গেছে।


মিরীয় সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন শাখা ও কমান্ডের প্রতীক হিসেবে আটটি আন্তঃসংযুক্ত অষ্টভুজাকার ভবনের সমন্বয়ে এই পুরো কমপ্লেক্সটি নকশা করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ভবনের চারপাশে অবস্থিত এই অষ্টভুজাকার ভবনগুলোতে মূল অপারেশনাল কমান্ড, লজিস্টিক সেন্টার এবং জাতীয় জরুরি ব্যবস্থাপনা ইউনিটের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলো পরিচালনা করা হবে। এই বিশাল প্রকল্পটির প্রধান লক্ষ্য হলো মিশরের সমস্ত সামরিক বাহিনীকে একটি একক, সমন্বিত এবং অত্যন্ত সুরক্ষিত কাঠামোর আওতায় নিয়ে আসা, যা আপদকালীন সময়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সংকট মোকাবেলার গতি বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।


পুরো প্রাঙ্গণটিকে ১৩টি বিশেষায়িত জোনে বিভক্ত করা হয়েছে এবং যেকোনো ধরনের বহিরাগত হামলা কিংবা সংকটের সময় সামরিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এতে তৈরি করা হয়েছে বিস্তর ভূগর্ভস্থ বা আন্ডারগ্রাউন্ড বাংকার।


আধুনিক ডিজিটাল অবকাঠামো, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম এবং অত্যন্ত সুরক্ষিত যোগাযোগ নেটওয়ার্কে সুসজ্জিত এই অক্টাগন রিয়েল-টাইমে সামরিক বাহিনীর সব শাখার মধ্যে সমন্বয় সাধন করতে সক্ষম। কায়রো থেকে প্রধান সরকারি ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নতুন প্রশাসনিক রাজধানীতে স্থানান্তরের যে মহাপরিকল্পনা মিশর হাতে নিয়েছে, এই প্রজেক্টটি তারই একটি অন্যতম কৌশলগত অংশ।


কাস্পিয়ান সাগর

  • প্রকাশ : রবিবার ২৬ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১:৩৩ পিএম

কাস্পিয়ান সাগরে ইরানের একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইউক্রেনের হামলায় বিস্ফোরণে একজন নাবিক নিহত এবং আরেকজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে তেহরান। 


এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তেহরানে নিযুক্ত ইউক্রেনের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে হামলার বিষয়ে ইউক্রেন আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।


ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার বরাতে জানা গেছে, শনিবার সংঘটিত এ হামলাকে ইরান ‘শত্রুতাপূর্ণ ও অপরাধমূলক’ কর্মকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, ইউক্রেনের নেতৃত্ব হামলার বিষয়টি স্বীকার করেছে। তেহরানের ভাষ্য, এটি ইরানের বিরুদ্ধে কিয়েভের ‘অযৌক্তিক ও বৈরী নীতির’ ধারাবাহিকতা। একই সঙ্গে জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে তারা।


ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে এ ঘটনার কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি হামলায় জড়িত ব্যক্তি ও তাদের সমর্থকদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানান। আরাগচির ভাষ্য, এ হামলা জাতিসংঘ সনদের ২(৪) অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন এবং এর ফলে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।


ঘটনার বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি-বিষয়ক প্রধান কাজা কালাসের সঙ্গেও টেলিফোনে কথা বলেন আরাগচি। টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তার দপ্তর জানায়, কাস্পিয়ান সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশা করছে তেহরান।


অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, কাস্পিয়ান সাগরে দূরপাল্লার হামলায় ইউক্রেন ‘খুবই গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য’ অর্জন করেছে। হামলায় একটি রুশ যুদ্ধজাহাজ এবং ইরান-সংশ্লিষ্ট সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে ব্যবহৃত একটি জাহাজে আঘাত হানা হয়েছে। তবে ইরান যে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার অভিযোগ তুলেছে, সেটির নাম তিনি উল্লেখ করেননি।


জেলেনস্কি আরও অভিযোগ করেন, রাশিয়া উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত বিভিন্ন সামরিক স্থাপনার স্যাটেলাইট চিত্র ইরানকে সরবরাহ করছে, যা হামলার পরিকল্পনা ও ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নে ব্যবহৃত হচ্ছে। তার দাবি, ১৯ ও ২০ জুলাই বাহরাইন, জর্ডান ও কুয়েতের কয়েকটি বিমানঘাঁটির ওপর রাশিয়ার স্যাটেলাইট নজরদারি চালানো হয়েছে।


এদিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের সময় ইরানের হামলার মুখে পড়া কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও কুয়েতকে ড্রোন প্রতিরোধ প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ারও প্রস্তাব দিয়েছে ইউক্রেন। এ লক্ষ্যে দেশগুলোতে বিশেষজ্ঞ পাঠানো হয়েছে বলে কিয়েভ জানিয়েছে।


২০২২ সালে ইরান রাশিয়াকে শাহেদ ড্রোন সরবরাহ করার পর থেকেই কিয়েভ ও তেহরানের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। ইউক্রেনের দাবি, রাশিয়া ইরানি প্রযুক্তির এসব ড্রোন ব্যবহার করে ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে এবং যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তারা ইরানি নকশার ৪৪ হাজারের বেশি ড্রোন ভূপাতিত করেছে।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ২৬ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১:০৫ পিএম

ইরানে টানা দুই সপ্তাহ ধরে হামলা চালানোর পর গত দুই দিন ধরে সব ধরনের হামলা বন্ধ রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। মূলত ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করার কাজে ব্যবহৃত ‘ইন্টারসেপ্টর ’ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।


রোববার (২৬ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।


প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার শীর্ষ সামরিক উপদেষ্টাদের মধ্যে মিসাইল ইন্টারসেপ্টরের মজুত দ্রুত কমে যাওয়া নিয়ে আলোচনা হয়। ওই আলোচনার পরই সপ্তাহের শেষ দিকে নির্ধারিত বড় ধরনের বিমান হামলার পরিকল্পনা থেকে পিছিয়ে আসে ওয়াশিংটন।


এর আগে গত শুক্রবার(২৪ জুলাই) ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন, ইরানের ওপর বিমান হামলা আরও জোরদার করা হবে। তবে শীর্ষ সামরিক পরামর্শকদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকের পর তিনি তার সেই অবস্থান পরিবর্তন করেন। 


সংবাদমাধ্যমটিকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দুটি পৃথক সূত্র জানিয়েছে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ডেন কেইন ব্যক্তিগতভাবে ট্রাম্পকে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে ইরানে বড় ধরনের আক্রমণ চালাতে পারে, তবে এর জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও সেনাদের সুরক্ষায় নিয়োজিত ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের মজুত সংকটজনক হারে কমে যেতে পারে।


এ ছাড়া ট্রাম্প প্রশাসনের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, লাগাতার তীব্র হামলা চালিয়ে ইরানকে আলোচনার টেবিলে বাধ্য করা যাবে কি না, তা নিয়েও হোয়াইট হাউসের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও সন্দেহ তৈরি হয়েছে। 


সাম্প্রতিক মার্কিন হামলার ফলে ইরানিদের মধ্যে উল্টো জাতীয়তাবাদী ঐক্য জোরদার হয়েছে এবং তারা বিদেশি হুমকি মোকাবিলায় একাট্টা হয়েছেন।


উল্লেখ্য, এমন কৌশলগত সংশয়ের মাঝেই গত শুক্রবার ও শনিবার(২৫ জুলাই) রাতে ইরানি ভূখণ্ডে নতুন করে কোনো হামলা চালায়নি মার্কিন বাহিনী।



ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ২৬ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১১:২৯ এএম

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগকে ‘গণতন্ত্রের জয়’ হিসেবে দেখছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতারা। ৩৬ দিনের টানা আন্দোলনের ফলে বিজেপি সরকার তাদের দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে বলে বিশ্বাস তাদের। শিক্ষার্থী ও যুবকদের স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণের ফলে আন্দোলন সফল হয়েছে বলে মনে করছে সিজেপি।


এই সফল আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া সিজেপি নেতারা রাজনীতিতে যোগ দেবেন কি না, এ নিয়ে সব স্তরে কৌতুহল তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি সিজেপির দুই মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকার সাক্ষাৎকার নিয়েছে। পূর্ণকালীন রাজনীতিতে যোগ দেবেন কি না, এমন প্রশ্নে তাদের মধ্যে একজন বলেছেন, “ভারতে কখনোই কোনো কিছুকে না বলবেন না।”


তবে সিজেপি এখনই পূর্ণকালীন রাজনীতিতে নামার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, যুব নেতৃত্বাধীন তৃণমূল আন্দোলনকে শক্তিশালী করাই তাদের অগ্রাধিকার।


রানকা এনডিটিভিকে বলেছেন, “আমার মনে একমাত্র যে বিষয়টি কাজ করছে তা হল, বাড়িতে ফেরা ও ঘুমানো, বিশ্রাম নেবো আর পরিবারের সঙ্গে দেখা করবো। গত কয়েক মাস ধরে আমি বাড়ি থেকে দূরে আছি আর আমি সত্যিই আরাম করতে চাই। গত দুই মাসে যা যা ঘটেছে তা আমাদের সবাইকেই কাবু করে ফেলেছে বলে আমার ধারণা।


“এটা গর্বের মুহূর্ত। এটা সত্যি খুশি হওয়ার, স্বস্তি পাওয়ার মুহূর্ত। এরপর কী হয় দেখবো আমরা।”


তিনি রাজনৈতিক জীবনের কথা নাকচ করে দিচ্ছে কি না, সরাসরি এমন প্রশ্নে তিন বলেন, “আমি যা অনুভব করি ভারতে কখনোই কোনো কিছুকে না বলতে নেই।”


সৌরভ দাস জোর দিয়ে জানিয়েছেন, রাজনীতি তাদের দলের তাৎক্ষণিক উদ্দেশ্য নয়।


তিনি বলেছেন, “আমাদের লক্ষ্য খুব স্পষ্ট। এই আন্দোলনকে তৃণমূল পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে, কারণ ইতোমধ্যে (দেশে) ৭৫০ থেকে ৮০০ মতো রাজনৈতিক দল আছে। এগুলোর কোনোটিই তরুণদের ইচ্ছাকে পূর্ণতা দিতে সক্ষম না।


“আর আমরা এই আন্দোলনকে তৃণমূল পর্যায়ে নিয়ে যেতে চাই যেন ক্ষমতায় থাকা যেকোনো রাজনৈতিক দল বা নেতা তরুণদের জন্য কাজ করতে সমর্থ হয় আর তাদের দাবি পূরণ করে। এই মুহূর্তে এটাই আমাদের কর্মসূচী।”


ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে জানিয়েছেন, আন্দোলনের পথ থেকে এখনই সরছেন না তারা। লিখিতভাবে সরকার সব দাবি মেনে নেওয়ার কথা না জানালে অবস্থান মঞ্চ ছাড়বেন না তার


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ২৬ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১১:২১ এএম

মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক ১৫ দিনের সংঘাতে বিভিন্ন মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে থাকা ১১টি যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার ধ্বংস করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ১৭টি অত্যাধুনিক নজরদারি ও অপারেশনাল ড্রোন ধ্বংসের দাবিও করেছে বাহিনীটি। শনিবার আইআরজিসির এক বিবৃতির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা ও মেহের নিউজ এজেন্সি।


আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেবি বলেন, ৮ থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত চলা ১৫ দিনের লড়াইয়ে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তার দাবি, ওই সময়ে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর হামলায় ১১টি মার্কিন যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার ধ্বংস হয়।


তিনি আরও দাবি করেন, ধ্বংস হওয়া ১৭টি ড্রোনের মধ্যে আটটি ছিল সংযোজনের অপেক্ষায় থাকা (আনপ্যাকড) ড্রোন।


আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, ধ্বংস হওয়া সামরিক সরঞ্জামের মধ্যে একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান, যা একটি হ্যাঙ্গারের ভেতরে ছিল, একটি পি-৮ সামুদ্রিক টহল বিমান, একটি সি-১৭ পরিবহন বিমান এবং আটটি আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী (ট্যাংকার) বিমান রয়েছে।


তবে আইআরজিসির এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।


হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা ইস্যুকে কেন্দ্র করে চলতি মাসে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয়। ৮ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, গত মাসে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি-সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক আর কার্যকর নেই।


এরপর থেকেই দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে। এর প্রভাব পড়েছে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে। পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।


এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বিমান হামলায় ইরানে ৫৯ জন নিহত এবং ৫৯২ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ ও তথ্যকেন্দ্রের প্রধান হোসেইন কারমানপুরের বরাত দিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করেছে মেহের নিউজ এজেন্সি।


এর আগে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত পূর্ববর্তী দফার মার্কিন হামলায় ইরানে মোট ৩ হাজার ৩৭৫ জন নিহত হন বলে ইরানের দাবি। নিহতদের মধ্যে ২ হাজার ৮৭৫ জন পুরুষ এবং ৪৯৬ জন নারী ছিলেন। এছাড়া জরুরি চিকিৎসা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময়ে ১১৮ জন চিকিৎসাকর্মী আহত এবং ২৬ জন নিহত হন।

 


নতুন শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন প্রহ্লাদ যোশী

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১১:১০ পিএম

প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে টানা আন্দোলনের মুখে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর ভারতের নতুন শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন প্রহ্লাদ যোশী। তিনি তার বর্তমান দায়িত্বের পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করবেন।


আজ শনিবার সন্ধ্যায় ভারতের রাষ্ট্রপতির দপ্তর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় খাদ্য ও ভোক্তা বিষয়কমন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশীকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর কয়েক ঘণ্টা আগে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ঘিরে চলমান আন্দোলনের মধ্যে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। 


পদত্যাগপত্রে তিনি বলেন, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে চার দশকের বেশি সময় কাজ করেছেন তিনি। চলমান পরিস্থিতিকে ‘রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি’ যেন অপব্যবহার করতে না পারে, সে কারণেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।


ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ছিল দিল্লির যন্তর মন্তরে টানা ৩৫ দিন ধরে চলা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান দাবি। তার পদত্যাগের পর আন্দোলনকারী সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) কেন্দ্র সরকারের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়।


প্রহ্লাদ যোশী বর্তমানে কেন্দ্রীয় খাদ্য ও ভোক্তা বিষয়কমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। নতুন দায়িত্ব পাওয়ার আগের দিন তিনি বলেছিলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় অনিয়মের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, কিছু ‘অসামাজিক শক্তি’ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে।


তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদের অধিকার রয়েছে। তবে আন্দোলন যাতে অন্য কোনো পক্ষের স্বার্থে ব্যবহৃত না হয়, সে বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সতর্ক থাকা উচিত।