সিরিয়ায় অবিস্ফোরিত একটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র। ফাইল ছবি: এপি
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির সুযোগ নিয়ে নিজেদের সমরাস্ত্র পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে ইরান। মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া অথবা ভূগর্ভে লুকিয়ে রাখা ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য গোলাবারুদ উদ্ধারে তেহরান তাদের তৎপরতা আরও জোরদার করেছে।
মার্কিন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ের সঙ্গে পরিচিত আরও দুটি সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ এ খবর জানিয়েছে।
ওয়াশিংটনের আশঙ্কা, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি আবারও সামরিক অভিযান শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন, তবে ইরান যেন মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে হামলা চালাতে পারে, সে জন্যই তারা তাদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা দ্রুত পুনর্গঠন করতে চাইছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা এবং ইরানকে যেকোনও পারমাণবিক উপাদান থেকে বঞ্চিত করার লক্ষ্যে নতুন সামরিক পদক্ষেপসহ বিভিন্ন বিকল্প পর্যালোচনার জন্য গত বৃহস্পতিবার তার জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার ওই বৈঠকে ট্রাম্প ও তার নিরাপত্তা দলকে মার্কিন সামরিক অবরোধের সার্বিক পরিস্থিতি ও বিভিন্ন বিকল্প সম্পর্কে ব্রিফ করেছেন।
শুক্রবার ট্রাম্প বলেছেন, এখন ইরান ইস্যুতে তার সামনে দুটি পথ রয়েছে। তিনি বলেন, আমরা কি তাদের বিস্ফোরণে উড়িয়ে একেবারে শেষ করে দেব? না কি আমরা একটি চুক্তির চেষ্টা করব? এই দুটি বিকল্পই রয়েছে।
হামলা চালাতে চান কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, মানুষ হিসেবে আমি চাই না। কিন্তু এটি একটি পথ।
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানান, মে মাসের মাঝামাঝিতে ট্রাম্পের চীন সফর রয়েছে। ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক থাকা চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বেইজিংয়ে ট্রাম্পের এই বৈঠকটি এর আগে ইরান যুদ্ধের কারণে একবার স্থগিত করা হয়েছিল। হোয়াইট হাউস এবার এই সফরকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং এতে আর কোনও বিলম্ব চায় না। তাই সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে এই সফরের বিষয়টিও ট্রাম্পের বিবেচনায় রয়েছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ বিমান হামলা শুরু করার পর ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়, যা বিশ্ববাজারে তেলের দাম এক লাফে বাড়িয়ে দেয়। এর জবাবে ট্রাম্প ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ জারি করেন। সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার পর্যন্ত ৪১টি জাহাজকে এই প্রণালি পারাপারে বাধা দেওয়া হয়েছে। এরপর যুদ্ধ বন্ধ ও হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে আলোচনার জন্য গত ৮ এপ্রিল একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তবে সেই আলোচনা এখন পর্যন্ত কোনও ফল বয়ে আনেনি।
গত ১৬ এপ্রিল পেন্টাগনে মার্কিন প্রতিরক্ষাসচিব পিট হেগসেথ বলেন, ইরান যে তাদের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে, তার ইঙ্গিত ওয়াশিংটনের কাছে রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা জানি আপনারা কোন কোন সামরিক সরঞ্জাম সরাচ্ছেন এবং কোথায় সরাচ্ছেন। যখন আপনারা ধ্বংস হয়ে যাওয়া স্থাপনা থেকে সমরাস্ত্র উদ্ধারে ব্যস্ত, যা আপনারা ঠিক এই মুহূর্তে করছেন, আমরা তখন কেবল আরও শক্তিশালী হচ্ছি। আপনারা আপনাদের অবশিষ্ট লাঞ্চার ও ক্ষেপণাস্ত্র উদ্ধার করছেন ঠিকই, কিন্তু সেগুলো প্রতিস্থাপন করার কোনও ক্ষমতা আপনাদের নেই।’
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরান যুদ্ধে ট্রাম্পের সব লক্ষ্য অর্জন করেছে। তিনি বলেন, ‘ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে, তাদের উৎপাদন কেন্দ্রগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, তাদের নৌবাহিনীকে ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং তাদের প্রক্সিদের দুর্বল করা হয়েছে। এই সফল সামরিক অভিযানের পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সামনে সব পথ খোলা রয়েছে। তবে তিনি সব সময় কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দেন।’
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট গত ২৫ মার্চ ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, মে মাসে ট্রাম্পের চীন সফরের আগেই এই যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবে। তবে বর্তমান যুদ্ধবিরতি ও অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা তার এই সময়সীমাকে কীভাবে প্রভাবিত করবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
ইরান অবশ্য দাবি করে আসছে যে, তাদের এখনও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার এবং নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করার ক্ষমতা রয়েছে। গত সপ্তাহে এনবিসি নিউজ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগন ইরানকে প্রায় পরাজিত বলে ঘোষণা করলেও মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য বলছে, যুদ্ধ শুরুর আগের অনেক সামরিক সক্ষমতা এখনও ইরানের রয়েছে। এর মধ্যে শুধু তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রই নয়, বরং দেশটির বিমানবাহিনীর অর্ধেকেরও বেশি বিমান এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর অর্ধেকের বেশি অংশ এখনও অক্ষত রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টা ভেস্তে যাওয়ার পর যুদ্ধ পুনরায় শুরু হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ফলে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারের কাজ আরও ত্বরান্বিত করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান হয়তো ডামি বা নকল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সেগুলো ছড়িয়ে দিয়ে তাদের মূল অস্ত্রাগারের একটি অংশ রক্ষা করতে পেরেছে।
গত বুধবার ওভাল অফিসে ট্রাম্প নিজেও স্বীকার করেছেন যে ইরানের কাছে এখনও কিছু ক্ষেপণাস্ত্র রয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘তাদের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, তবে এর প্রায় ৮২ শতাংশ ধ্বংস হয়ে গেছে। তাদের ড্রোনও রয়েছে, তবে তার বেশিরভাগই শেষ।’
এদিকে অন্তর্বর্তীকালীন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সোমবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, ইরানের কাছে এখন মাত্র অর্ধেক ক্ষেপণাস্ত্র অবশিষ্ট রয়েছে। তিনি বলেন, ‘ইরানে মূল্যস্ফীতি আরও খারাপ হয়েছে, খরা চলছে এবং তাদের অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়েছে। বিশ্বজুড়ে তারা কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি। এখন তাদের হাতে মাত্র অর্ধেক ক্ষেপণাস্ত্র আছে, কোনও কারখানা নেই এবং কোনও নৌ ও বিমানবাহিনী নেই। সবই ধ্বংস হয়ে গেছে, তাই তারা এখন অনেক বেশি দুর্বল।’
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজে ৭ জাহাজে মাইন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি ইরানের। ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে সাতটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করার দাবি করেছে ইরান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এই জলপথে জাহাজ চলাচলে সহায়তা অব্যাহত রাখলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার রাতভর হামলার শিকার হওয়া সাতটি জাহাজের মধ্যে চারটি থেকে তেল স্থানান্তরের কাজ চলছিল। হামলার পর জাহাজগুলোতে আগুন ধরে যায়। অন্য তিনটি জাহাজ মাইনে আঘাত হানার পর চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে বলে দাবি করেছে ইরান। তবে এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। হামলায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজগুলোর কোন দেশের পতাকা ছিল, সে বিষয়েও বিস্তারিত জানানো হয়নি।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে হুঁশিয়ারি দিয়েছে আইআরজিসি। তাদের বক্তব্য, ওয়াশিংটন যদি প্রণালির অন্যান্য অংশ দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচলে সহায়তা করে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোও ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে সংঘাত এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোতেও ছড়িয়ে পড়বে।’ এটিকে তারা গুরুতর সতর্কবার্তা হিসেবে উল্লেখ করেছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হতো। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই জলপথে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
কিম জং উন। ছবি: সংগৃহীত
সীমান্তের নতুন সেতু অতিক্রম করে উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন চীনের দানদং শহরে অত্যন্ত গোপনে এক ঝটিকা সফর সম্পন্ন করেছেন। দীর্ঘ ১২ বছর আগে নির্মিত ‘নিউ ইয়ালু রিভার ব্রিজ’ আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় এই প্রতীকী সফর অনুষ্ঠিত হলো। শনিবারের (২৪ অক্টোবর) এই একদিনের ঝটিকা সফর শেষে তিনি ইতোমধ্যেই স্বদেশে ফিরে গেছেন।
সফরকালে কিম জং উনের সঙ্গী ছিলেন চীনের চতুর্থ শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা ওয়াং হুনিং। তিনি চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের পক্ষ থেকে উত্তর কোরীয় নেতার কাছে আন্তরিক শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন। দুই নেতা একসঙ্গে স্থানীয় একটি অটোমোবাইল কারখানা পরিদর্শন করেন এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। এসময় কিম জানান, চীনের সঙ্গে ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব রক্ষা এবং ব্যবহারিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে প্রস্তুত রয়েছে পিয়ংইয়ং।
বিশেষ এই সফরটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যা ১৯৫০-১৯৫৩ সালের কোরিয় যুদ্ধে চীনের অংশগ্রহণের বর্ষপূর্তির ঠিক আগের দিন। সেই স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দানদং-এর কোরিয় যুদ্ধ স্মৃতিসৌধে যান কিম ও ওয়াং। সেখানে উত্তর কোরিয়ার পক্ষে যুদ্ধ করে প্রাণ উৎসর্গকারী চীনা সৈন্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন কিম জং উন। সফর শেষে নতুন সেতুর গোড়ায় এসে কিমকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানান ওয়াং হুনিং।
বিশ্লেষকদের মতে, ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নতুন চার লেনের সেতু চালুর মাধ্যমে চীন ও উত্তর কোরিয়ার বাণিজ্যের বড় বাধা দূর হলো। তবে কেবল অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বেইজিং ও মস্কোর সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ থেকে নিজের অবস্থান শক্ত করার কৌশল হিসেবেই কিম জং উনের এই হঠাৎ ও রহস্যময় চীন সফরকে দেখছেন আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র:আল-জাজিরা
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে আবারও বড় ধরনের হামলা বা কড়া অবরোধের চিন্তাভাবনা করছেন। তবে এতে একটুও দমে না গিয়ে ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, পারস্য উপসাগরে তারা কোনো মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে ঘেঁষতে দেবে না।
ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আলি আবদুল্লাহি কড়া ভাষায় ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, পারস্য উপসাগরে আবার মার্কিন সৈন্য পাঠানোর স্বপ্ন ট্রাম্পকে কবরে নিয়ে যেতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে তারা নাকি ইরানের সামরিক শক্তি ধ্বংস করেছে, অথচ নিজেদের যুদ্ধজাহাজগুলো ইরানের সীমানার কাছে পাঠাতে তারা ভয় পাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যেকোনো হামলার উপযুক্ত জবাব দিতে তেহরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
চীনে কিম জং উনের ২৪ ঘন্টার ‘রহস্যজনক’ সফর
এই সংঘাতের আতঙ্কে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু-হু করে বেড়ে প্রতি ব্যারেলে ১১৭ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ ‘হরমুজ প্রণালি’-তে একের পর এক তেলবাহী জাহাজে হামলা চলছে। পাশাপাশি ইয়েমেনের হুথি যোদ্ধাদের সঙ্গে সৌদি আরবের লড়াইও নতুন করে বেড়ে চলেছে।
সংঘাত থামাতে ইস্তাম্বুলে তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইউরোপীয় দেশগুলো বৈঠক করলেও সেখানে যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান উপস্থিত ছিল না। তুরস্ক সতর্ক করেছে, ইরানে নতুন হামলা পুরো অঞ্চলে আগুন জ্বালিয়ে দেবে। তবে ইরান পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, মার্কিন হামলা ও অত্যাচার না থামলে তারা কোনো আলোচনায় বসবে না এবং হরমুজ প্রণালিও মুক্ত করবে না।
সূত্র: আল-জাজিরা
মেগান মার্কেল ও তার বাবা থমাস মার্কেল। ছবি: সংগৃহীত
ব্রিটিশ রাজপরিবারের বধূ ও প্রিন্স হ্যারির স্ত্রী মেগান মার্কেলের বাবা থমাস মার্কেলের বিরুদ্ধে শিশুদের যৌন নিপীড়নের আপত্তিকর ছবি জমানোর এক মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর চরম ক্ষোভ ও গভীর মানসিক কষ্ট প্রকাশ করেছেন ডাচ অব সাসেক্স মেগান। এক বিবৃতিতে তিনি জানান, এমন বিভৎস খবর শুনে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত ও বিপর্যস্ত। ঘটনার শিকার হওয়া নিরীহ শিশুদের নিরাপত্তার কথা ভেবে তিনি গভীরভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
যুক্তরাজ্যের ‘দ্য সান’ পত্রিকার একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়, মেগানের সৎ ভাই থমাস মার্কেল জুনিয়র ফিলিপাইনে তাদের বাবার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে এই আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও উদ্ধার করেন। তার দাবি, বাবার ড্রয়ার ও কম্পিউটারের হার্ডড্রাইভে শত শত শিশু নির্যাতনের ছবি ছিল। এরপরই তিনি ফিলিপাইন পুলিশ, যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই এবং শিশু সুরক্ষা সংস্থায় গিয়ে সরাসরি অভিযোগ করেন। ফিলিপাইন প্রশাসন ও যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই বর্তমানে যৌথভাবে এই ঘটনার তদন্ত করছে। তবে মেগানের বাবা থমাস মার্কেল সিনিয়র তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
বর্তমানে ফ্লোরিডায় চিকিৎসাধীন ৮২ বছর বয়সি থমাস জানান, তার ছেলে সম্পূর্ণ মিথ্যা গল্প ফেঁদেছে। মেগানের বোন সামান্থা মার্কলও বাবার পক্ষে কথা বলেছেন। তিনি দাবি করেন, এই কম্পিউটারগুলো দুই বছর ধরে অন্য মানুষদের হাতে ছিল এবং তার ভাই বানিয়ে বানিয়ে মিথ্যা অভিযোগ করছেন। এই ঘটনার পর মেগান মার্কেল তার বাবার সঙ্গে দীর্ঘদিনের দূরত্বের আসল কারণ স্পষ্ট করেছেন। তিনি জানান, আজ থেকে আট বছর আগে অর্থাৎ ২০১৮ সালেই পুলিশের পক্ষ থেকে তার বাবার বিরুদ্ধে কিছু আপত্তিকর অভিযোগের বিষয়ে তাকে জানানো হয়েছিল।
মেগান বলেন, এতদিন সংবাদমাধ্যমে নানা কথা ছড়ানো হলেও, মূলত সন্তানদের সুরক্ষার কথা ভেবেই তিনি বাবাকে নিজের পরিবার থেকে দূরে রেখেছিলেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এবার অন্তত মানুষ বুঝতে পারবে যে কেন তিনি এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং তিনি আশা করেন ভুক্তভোগী শিশুরা যেন দ্রুত ন্যায়বিচার পায়।
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের জন্য সামনে এক বড় ধরণের ‘চমক’ অপেক্ষা করছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি সেনাদের ওপর হামলার ঘটনার পর সেখানে বড় ধরণের সামরিক অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি তিনি এই মন্তব্য করেন।
ইসরাইলের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু স্পষ্ট জানান, ফিলিস্তিনকে কোনোভাবেই স্বাধীন রাষ্ট্র হতে না দেওয়া তাদের নির্বাচনের মূল লক্ষ্য। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের সোজা উত্তর না দিয়ে তিনি বলেন, হঠাৎ এবং আচমকা পদক্ষেপ নেওয়াই তার বেশি পছন্দ। নেতানিয়াহু আরও জানান, ফিলিস্তিন থেকে আসা যেকোনো সংকট মোকাবিলায় কিছু গোপন কৌশল ব্যবহার করা হবে, যা এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না। তবে ফিলিস্তিনি প্রশাসনের জন্য খুব শীঘ্রই এক বড় ধাক্কা আসতে চলেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের দাবি তুলে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন ছাড়াই তারা আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের আওতায় আরও কয়েকটি আরব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বের চুক্তি বাড়াবেন। অন্তত দুটিরও বেশি দেশের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, সেই দেশগুলো ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের কোনো শর্ত দেবে না, কারণ তারা ভালো করেই জানে যে ইসরাইল তা কখনোই মেনে নেবে না।
সূত্র: আল-জাজিরা