ছবি : সংগৃহীত
বিশ্বের যেকোনো জায়গায় সামরিক হামলা চালানো, ক্ষতিকর শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া আর মিত্রদের সঙ্গে মিলে নিজের সীমানার বাইরে পর্যন্ত প্রভাব খাটানো-এসব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে এক বিশাল শক্তি আছে।
শুধু রাষ্ট্র হিসেবে নয়, বেসরকারি কোম্পানি, বিদেশি সরকার এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য নেটওয়ার্ককে ব্যবহার করেও তারা প্রভাব বিস্তার করতে পারে। এমন ক্ষমতার সমাহার খুব কম দেশেরই আছে।
কিন্তু এই শক্তি ধরে রাখা সহজ নয়। কারণ, এই ক্ষমতা টিকে আছে একটি নির্দিষ্ট বৈশ্বিক ব্যবস্থার ওপর। সামরিক শক্তি ব্যবহার মানে রক্তপাত, বিপুল অর্থ খরচ এবং আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা কমে যাওয়া। শুল্ক ও আর্থিক নিষেধাজ্ঞা দিলে অন্য দেশগুলো বিকল্প বাণিজ্য ও লেনদেনের পথ খুঁজতে শুরু করে।
আবার মিত্রদের সঙ্গে জোটও সব সময় মসৃণ থাকে না; দায়িত্ব ভাগাভাগি নিয়ে মতবিরোধ তৈরি হয়। তাই যুক্তরাষ্ট্র চাইলে ইরানের ওপর আরও চাপ বাড়াতে পারে। কিন্তু এতে সেই বৈশ্বিক ব্যবস্থাই দুর্বল হয়ে পড়তে পারে, যার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা দাঁড়িয়ে আছে।
ইরানের অবস্থা একেবারে আলাদা। তাদের সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তি সীমিত, মিত্রও কম। কিন্তু তাদের ভৌগোলিক অবস্থান এমন যে তারা অন্যদের ওপর খরচের বোঝা চাপিয়ে নিজে লাভ করতে পারে।
ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর বা আইআরজিসি আগে থেকেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়া জাহাজগুলোর কাছ থেকে টোল আদায়ের চেষ্টা করেছে, যেন এই পথই আয় করার উৎস হয়। এখন ইরানের কর্মকর্তারা ও রাষ্ট্রঘনিষ্ঠ গণমাধ্যম একই অঞ্চলের সমুদ্রতলের ডেটা কেব্ল বা সাবমেরিন কেব্লগুলোর ওপরও ফি বসানোর কথা বলছে।
এটা শুধু ডেটার প্রবাহ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি নয়, বরং প্রযুক্তি খাতের একটি বড় দুর্বল জায়গায় আঘাত। অ্যামাজন, গুগল, মেটা, মাইক্রোসফট-এই বড় মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো রাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। তাদের ক্লাউড ও ডেটা সেন্টার পুরোপুরি নির্ভর করে সাবমেরিন কেব্ল সংযোগের ওপর।
ইরান এখন ভূগোলকে শুধু একটি সংকীর্ণ পথ হিসেবে নয়, বরং আয়ের উৎস হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে। তাদের ভৌগোলিক অবস্থানকে ব্যবহার করে তেলবাহী জাহাজকে চাপে ফেলা যায়। একইভাবে এখন কেব্লের মালিক, ক্লাউড সেবাদাতা এবং প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকেও চাপে ফেলতে চায় তারা।
সাবমেরিন কেব্লগুলোর মানচিত্র দেখলে বোঝা যায়, বিষয়টি কতটা গুরুত্বপূর্ণ। ইরানের কাছাকাছি থাকা ফ্যালকন, গালফ ব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল-মধ্যপ্রাচ্য-উত্তর আফ্রিকা, কুয়েত-ইরান ও ইউএই-ইরান কেব্লগুলো পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালি দিয়ে গেছে। ফলে এই ডিজিটাল অবকাঠামোও এখন সেই একই উত্তেজনাপূর্ণ এলাকায় রয়েছে, যেখানে জাহাজ চলাচল ও নৌ টহল হয়।
ডেটা যেখানে ব্যবহার করা হয়, সেখানে কর বসানো যায় না। কিন্তু যেখান দিয়ে ডেটা চলাচল করে, সেই পথ যদি নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তখন সেখানেই চাপ তৈরি করা যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় কোম্পানি ঝুঁকিতে থাকলেও তাদের অফিস বা শহর তাদের আসল দুর্বল জায়গা নয়। তাদের আসল দুর্বলতা হলো সমুদ্রের নিচের কেব্ল যেগুলো বিভিন্ন দেশের জলসীমা আর সরু সমুদ্রপথগুলোয় বিছানো আছে। এই জায়গাগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেই রাষ্ট্রগুলো অনুমতি দিয়ে বা আটকে রেখে প্রভাব খাটাতে পারে।
ইরান ঠিক এ জায়গাকেই কাজে লাগাতে চাইছে। সহজভাবে বললে-লাভটা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে, কিন্তু দুর্বল জায়গাটা নির্দিষ্ট কিছু স্থানে। আর সেই জায়গাগুলো ধরেই চাপ তৈরি করা সম্ভব।
এ ধরনের ক্ষমতা আগের যুগের থেকে আলাদা। আগে শক্তি মানে ছিল তেল, খনিজ, জমি বা বন্দর নিজের দখলে রাখা। এখন ইরান দেখাচ্ছে, এসবের মালিক না হয়েও সুবিধা নেওয়া যায়। এর জন্য শুধু একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নিয়ন্ত্রণ বা হুমকি তৈরি করতে পারলেই যথেষ্ট।
সমুদ্রতলের কেব্ল আমাদের মনে করিয়ে দেয়, ডিজিটাল দুনিয়াও আসলে খুব বাস্তব অবকাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে। ‘ক্লাউড’ কোনো ভাসমান জিনিস নয়, এর ভিত্তি সমুদ্রের নিচে। ডেটা চলাচল নির্ভর করে নির্দিষ্ট ল্যান্ডিং স্টেশন, মেরামতের জাহাজ, লাইসেন্স, মালিকানা এবং নিরাপত্তার ওপর। এ কারণে কেব্লগুলো আধুনিক সংঘাতে সহজ লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠেছে। এর সামান্য ক্ষতিও বড় অর্থনৈতিক, সামরিক ও আর্থিক প্রভাব ফেলতে পারে।
হরমুজ প্রণালিকে এখন আর শুধু খোলা বা বন্ধ- এভাবে দেখা ঠিক হবে না। সেখানে কিছু জাহাজ চলাচল করছে। তবে অনেক সময় সেগুলো চলছে ইরানের সঙ্গে বোঝাপড়ার মাধ্যমে। অর্থাৎ চলাচল এখন আর স্বাভাবিক অধিকার নয়, বরং শর্তসাপেক্ষ সুবিধা।
সাবমেরিন কেব্ল নিয়েও ইরান একই কৌশল প্রয়োগ করতে চাইছে। এর জন্য তাদের যুক্তরাষ্ট্রকে হারাতে হবে না বা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ও ডেটার প্রবাহ বন্ধ করতে হবে না। শুধু এতটাই দরকার- এই প্রবাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করা, যাতে নিরাপত্তারও একটা মূল্য দাঁড়িয়ে যায়।
ট্রাম্প প্রশাসন সম্ভবত শুরুতেই এই ফি আরোপের দাবিকে চ্যালেঞ্জ করবে, যাতে এটি গ্রহণযোগ্যতা না পায়। তারা বিমা কোম্পানি ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করে আগেই পরিস্থিতি সামলাতে চাইবে। একই সঙ্গে তারা নিশ্চিত করতে চাইবে, কেব্ল মেরামতের কাজ যেন কোনোভাবে আটকে না পড়ে।
ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র নতুন কেব্ল রুট, নতুন ল্যান্ডিং পয়েন্ট এবং মেরামতব্যবস্থার উন্নতি করে এই ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করতে পারে। উদ্দেশ্য শুধু হরমুজ খোলা রাখা নয়, বরং অনিরাপত্তা থেকে লাভ করার সুযোগ কমিয়ে দেওয়া।
সাবমেরিন কেব্লে ফি বসানোর কথা ইরান বলছে ঠিকই, কিন্তু এটা পুরোপুরি বাস্তবে হবে কি না, তা নিশ্চিত নয়। তবে এতে বোঝা যায়, ইরান কী করতে চাইছে।
সাধারণভাবে যখন কোনো দেশ চাপ দেয়, তখন তারও খরচ হয়। কিন্তু ইরান এমন একটা উপায় খুঁজছে, যেখানে সে অন্যদের ওপর চাপ দেবে, আবার সেখান থেকেই টাকা আয়ও করবে। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের মতো বড় শক্তি না হয়েও নিজের ভৌগোলিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে ইরান চাইছে, বিশ্ব যেন ঝামেলা এড়াতে বাধ্য হয়ে তার জন্য একটা ‘মূল্য’ দেয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইরানে আজ নতুন করে আবারও হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্থানীয় সময় শনিবার জানান রোববার হামলা শুরু হতে পারে। আর নয়ত ইরানের সঙ্গে ‘বড় চুক্তি’ হতে পারে। ইরানে মার্কিনিরা যে কোনো সময় হামলা চালাতে পারে এমন আশঙ্কা করা হচ্ছে কয়েকদিন ধরেই। এমন সময় ট্রাম্প জানালেন রোববারই এ হামলা শুরু হতে পারে।
সাংবাদিকরা ট্রাম্পকে ইরানে হামলার ব্যাপারে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, “আমরা হামলার ব্যাপারে ভাবছি, সম্ভবত আগামীকাল (আজ রোববার) হতে পারে।”
তবে ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত অনুযায়ী চুক্তিতে রাজি হয় তাহলে নতুন হামলা থেকে তারা বাঁচতে পারবে বলেও জানান ট্রাম্প।
তিনি বলেন, “ইরানিরা চুক্তি চায়। কিন্তু সমস্যা হলো তারা কী চুক্তি মানার ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকতে পারবে?”
ট্রাম্প দাবি করেন তার লক্ষ্য ছিল ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র না তৈরি করতে পারে।
গত বছরের জুনে ইরানে বি-২ বোমারু দিয়ে ইরানিদের পারমাণবিক অবকাঠামোতে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। তবে ট্রাম্প বলেছেন, যদি এ বছর তিনি আবারও ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত না দিতেন তাহলে গত বছরের হামলাটি হয়ত ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে আটকানোতে যথার্থ হতো না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট সাংবাদিকদের কাছে আরও দাবি করেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুদ্ধের আগের মতো তেল আসছে। তবে তিনি এর পক্ষে কোনো প্রমাণ দেননি।
ইরান যদি চুক্তি না করে তাহলে সামরিকভাবে তাদের এতে বাধ্য করা হবে মন্তব্য করে ট্রাম্প বলেন, “আমার কাজটি হয়ত সম্পন্ন করতে হবে। আর নয়ত তারা হয়ত চুক্তি করবে। কিন্তু আমি নিশ্চিত নই। সামরিক হামলা বা চুক্তি যেভাবেই হোক আমরা জিতব।”
সূত্র: আনাদোলু
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজে ৭ জাহাজে মাইন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি ইরানের। ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে সাতটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করার দাবি করেছে ইরান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এই জলপথে জাহাজ চলাচলে সহায়তা অব্যাহত রাখলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার রাতভর হামলার শিকার হওয়া সাতটি জাহাজের মধ্যে চারটি থেকে তেল স্থানান্তরের কাজ চলছিল। হামলার পর জাহাজগুলোতে আগুন ধরে যায়। অন্য তিনটি জাহাজ মাইনে আঘাত হানার পর চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে বলে দাবি করেছে ইরান। তবে এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। হামলায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজগুলোর কোন দেশের পতাকা ছিল, সে বিষয়েও বিস্তারিত জানানো হয়নি।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে হুঁশিয়ারি দিয়েছে আইআরজিসি। তাদের বক্তব্য, ওয়াশিংটন যদি প্রণালির অন্যান্য অংশ দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচলে সহায়তা করে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোও ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে সংঘাত এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোতেও ছড়িয়ে পড়বে।’ এটিকে তারা গুরুতর সতর্কবার্তা হিসেবে উল্লেখ করেছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হতো। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই জলপথে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
কিম জং উন। ছবি: সংগৃহীত
সীমান্তের নতুন সেতু অতিক্রম করে উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন চীনের দানদং শহরে অত্যন্ত গোপনে এক ঝটিকা সফর সম্পন্ন করেছেন। দীর্ঘ ১২ বছর আগে নির্মিত ‘নিউ ইয়ালু রিভার ব্রিজ’ আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় এই প্রতীকী সফর অনুষ্ঠিত হলো। শনিবারের (২৪ অক্টোবর) এই একদিনের ঝটিকা সফর শেষে তিনি ইতোমধ্যেই স্বদেশে ফিরে গেছেন।
সফরকালে কিম জং উনের সঙ্গী ছিলেন চীনের চতুর্থ শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা ওয়াং হুনিং। তিনি চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের পক্ষ থেকে উত্তর কোরীয় নেতার কাছে আন্তরিক শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন। দুই নেতা একসঙ্গে স্থানীয় একটি অটোমোবাইল কারখানা পরিদর্শন করেন এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। এসময় কিম জানান, চীনের সঙ্গে ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব রক্ষা এবং ব্যবহারিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে প্রস্তুত রয়েছে পিয়ংইয়ং।
বিশেষ এই সফরটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যা ১৯৫০-১৯৫৩ সালের কোরিয় যুদ্ধে চীনের অংশগ্রহণের বর্ষপূর্তির ঠিক আগের দিন। সেই স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দানদং-এর কোরিয় যুদ্ধ স্মৃতিসৌধে যান কিম ও ওয়াং। সেখানে উত্তর কোরিয়ার পক্ষে যুদ্ধ করে প্রাণ উৎসর্গকারী চীনা সৈন্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন কিম জং উন। সফর শেষে নতুন সেতুর গোড়ায় এসে কিমকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানান ওয়াং হুনিং।
বিশ্লেষকদের মতে, ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নতুন চার লেনের সেতু চালুর মাধ্যমে চীন ও উত্তর কোরিয়ার বাণিজ্যের বড় বাধা দূর হলো। তবে কেবল অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বেইজিং ও মস্কোর সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ থেকে নিজের অবস্থান শক্ত করার কৌশল হিসেবেই কিম জং উনের এই হঠাৎ ও রহস্যময় চীন সফরকে দেখছেন আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র:আল-জাজিরা
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে আবারও বড় ধরনের হামলা বা কড়া অবরোধের চিন্তাভাবনা করছেন। তবে এতে একটুও দমে না গিয়ে ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, পারস্য উপসাগরে তারা কোনো মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে ঘেঁষতে দেবে না।
ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আলি আবদুল্লাহি কড়া ভাষায় ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, পারস্য উপসাগরে আবার মার্কিন সৈন্য পাঠানোর স্বপ্ন ট্রাম্পকে কবরে নিয়ে যেতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে তারা নাকি ইরানের সামরিক শক্তি ধ্বংস করেছে, অথচ নিজেদের যুদ্ধজাহাজগুলো ইরানের সীমানার কাছে পাঠাতে তারা ভয় পাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যেকোনো হামলার উপযুক্ত জবাব দিতে তেহরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
চীনে কিম জং উনের ২৪ ঘন্টার ‘রহস্যজনক’ সফর
এই সংঘাতের আতঙ্কে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু-হু করে বেড়ে প্রতি ব্যারেলে ১১৭ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ ‘হরমুজ প্রণালি’-তে একের পর এক তেলবাহী জাহাজে হামলা চলছে। পাশাপাশি ইয়েমেনের হুথি যোদ্ধাদের সঙ্গে সৌদি আরবের লড়াইও নতুন করে বেড়ে চলেছে।
সংঘাত থামাতে ইস্তাম্বুলে তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইউরোপীয় দেশগুলো বৈঠক করলেও সেখানে যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান উপস্থিত ছিল না। তুরস্ক সতর্ক করেছে, ইরানে নতুন হামলা পুরো অঞ্চলে আগুন জ্বালিয়ে দেবে। তবে ইরান পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, মার্কিন হামলা ও অত্যাচার না থামলে তারা কোনো আলোচনায় বসবে না এবং হরমুজ প্রণালিও মুক্ত করবে না।
সূত্র: আল-জাজিরা
মেগান মার্কেল ও তার বাবা থমাস মার্কেল। ছবি: সংগৃহীত
ব্রিটিশ রাজপরিবারের বধূ ও প্রিন্স হ্যারির স্ত্রী মেগান মার্কেলের বাবা থমাস মার্কেলের বিরুদ্ধে শিশুদের যৌন নিপীড়নের আপত্তিকর ছবি জমানোর এক মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর চরম ক্ষোভ ও গভীর মানসিক কষ্ট প্রকাশ করেছেন ডাচ অব সাসেক্স মেগান। এক বিবৃতিতে তিনি জানান, এমন বিভৎস খবর শুনে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত ও বিপর্যস্ত। ঘটনার শিকার হওয়া নিরীহ শিশুদের নিরাপত্তার কথা ভেবে তিনি গভীরভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
যুক্তরাজ্যের ‘দ্য সান’ পত্রিকার একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়, মেগানের সৎ ভাই থমাস মার্কেল জুনিয়র ফিলিপাইনে তাদের বাবার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে এই আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও উদ্ধার করেন। তার দাবি, বাবার ড্রয়ার ও কম্পিউটারের হার্ডড্রাইভে শত শত শিশু নির্যাতনের ছবি ছিল। এরপরই তিনি ফিলিপাইন পুলিশ, যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই এবং শিশু সুরক্ষা সংস্থায় গিয়ে সরাসরি অভিযোগ করেন। ফিলিপাইন প্রশাসন ও যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই বর্তমানে যৌথভাবে এই ঘটনার তদন্ত করছে। তবে মেগানের বাবা থমাস মার্কেল সিনিয়র তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
বর্তমানে ফ্লোরিডায় চিকিৎসাধীন ৮২ বছর বয়সি থমাস জানান, তার ছেলে সম্পূর্ণ মিথ্যা গল্প ফেঁদেছে। মেগানের বোন সামান্থা মার্কলও বাবার পক্ষে কথা বলেছেন। তিনি দাবি করেন, এই কম্পিউটারগুলো দুই বছর ধরে অন্য মানুষদের হাতে ছিল এবং তার ভাই বানিয়ে বানিয়ে মিথ্যা অভিযোগ করছেন। এই ঘটনার পর মেগান মার্কেল তার বাবার সঙ্গে দীর্ঘদিনের দূরত্বের আসল কারণ স্পষ্ট করেছেন। তিনি জানান, আজ থেকে আট বছর আগে অর্থাৎ ২০১৮ সালেই পুলিশের পক্ষ থেকে তার বাবার বিরুদ্ধে কিছু আপত্তিকর অভিযোগের বিষয়ে তাকে জানানো হয়েছিল।
মেগান বলেন, এতদিন সংবাদমাধ্যমে নানা কথা ছড়ানো হলেও, মূলত সন্তানদের সুরক্ষার কথা ভেবেই তিনি বাবাকে নিজের পরিবার থেকে দূরে রেখেছিলেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এবার অন্তত মানুষ বুঝতে পারবে যে কেন তিনি এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং তিনি আশা করেন ভুক্তভোগী শিশুরা যেন দ্রুত ন্যায়বিচার পায়।