ছবি : সংগৃহীত
ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজে ইউক্রেনের হামলার পর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে যুদ্ধ হরমুজ প্রণালি, লোহিত সাগরের গণ্ডি ছাড়িয়ে কাস্পিয়ান সাগর পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়ার। এখন পর্যন্ত আলোচনা থেকে কোনো ফলপ্রসূ সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তাদের আগের স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়িত হয়নি। তবে সংলাপ চলছে। এই হামলা তেহরানের কাছ থেকে আলোচনার টেবিলে সুবিধা পাওয়ার জন্যও চালানো হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত শনিবার ইরানের জাহাজে আঘাত হানে ইউক্রেন।
ইরান জানায়, এতে তাদের এক নাবিক নিহত ও আরেকজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ইউক্রেনের কূটনীতিকদের তলব করেছে তেহরান।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি হামলার তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দূরপাল্লার ওই হামলায় ইরানের সামরিক কার্গো বহনকারী জাহাজ ও রুশ রণতরীতে হামলা চালিয়েছে কিয়েভ। তিনি মস্কোর বিরুদ্ধে ইরানকে সহায়তা অভিযোগও তুলেছেন। এমন একটি সময় এসব ঘটনা ঘটল, যখন থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যুক্তরাষ্ট্র টানা ১৩ দিন হামলার পর ইরানে আঘাত হানা বন্ধ করেছে।
ইরান বর্তমানে দক্ষিণ উপকূল নিয়ে চাপের মুখে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ দিয়ে রেখেছে। অন্যদিকে, ইরানের মিত্র ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরে নৌযান চলাচলে বাধা দিচ্ছে। কাস্পিয়ান সাগরে যুদ্ধ গড়ালে ইরানের ওপর চাপ বাড়বে। তারা সেখান দিয়ে নৌযান পার করতে পারবে না। এতে নতুন করে অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়বে ইরান।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এরই মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নীতিপ্রধান কাজা কাল্লাসের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুসারে, আরাঘচি এই আক্রমণের নিন্দা জানিয়েছেন এবং তিনি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আন্তর্জাতিক মহলকে দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা কখনও প্রত্যক্ষভাবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে জড়ায়নি।
ইরান এর আগে জানিয়েছে, যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগীদের ওপর হামলা করবে তারা। সেই সময় যুক্তরাজ্যকে উদ্দেশ্য করে হুঁশিয়ারি দিয়েছিল তেহরান। যুক্তরাজ্য শুরু থেকে এ সংঘাতে প্রত্যক্ষভাবে না জড়ালেও যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতিরক্ষামূলক আক্রমণ চালাতে নিজেদের ঘাঁটি ব্যবহার করতে দিয়েছিল। সেটি নিয়েই ক্ষুব্ধ হয় ইরান। পরে জবাবে যুক্তরাজ্য জানায়, তাদের বাহিনী প্রতিরক্ষার জন্য প্রস্তুত সব সময়।
যেখানে মিল দুই যুদ্ধের
রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানোর পর ইউক্রেনকে অস্ত্র ও রসদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের যেসব উদ্যোগ অতীতে দেখা গেছে, সেগুলোতেও যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ছিল। অন্যদিকে, ইরানের দিকে অতীতে বেশ কয়েক দফায় ইউক্রেন অভিযোগ তুলেছে, তারা শাহেদ ড্রোন দিয়ে রাশিয়াকে সহায়তা করছে। ইরান যুদ্ধের প্রথম দফায় ইউক্রেন উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোকে ইরানের ড্রোন ঠেকানোর প্রযুক্তি দিতে পারবে বলেও জানিয়েছিল।
ইরান ও ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে বেশ কিছু মিল রয়েছে। অন্যতম বড় মিলটি হলো, দুই পরাশক্তি নিজের তুলনায় কম ক্ষমতাধর রাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে আটকে গেছে। ইউক্রেনের ইরানের জাহাজে হামলা চালানোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সম্পৃক্ততা আছে কিনা, তা এখনও অস্পষ্ট। তবে দুই যুদ্ধ পরিস্থিতিই যে এটির মধ্যে দিয়ে আরও ঘনীভূত হতে পারে, সে আশঙ্কা তীব্র।
ইউক্রেন এখন কী বলছে
জেলেনস্কি সামাজিক মাধ্যম এক্সে এক পোস্টে লিখেছেন, কাস্পিয়ান সাগরে দূরপাল্লার হামলা চালিয়ে অত্যন্ত দৃঢ় ফল পেয়েছে ইউক্রেন। তিনি রাশিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন, ‘জুলাইয়ের শুরু থেকে আমরা উপসাগরীয় রাষ্ট্র ও সেখানে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনায় রাশিয়ার স্যাটেলাইটের সক্রিয় নজরদারির বিষয়টি লক্ষ্য করেছি। ওই ছবিগুলো পরে ইরানে পৌঁছেছে।’
জেলেনস্কি আরও জানান, রাশিয়ার স্যাটেলাইটগুলো ১৯ ও ২০ জুলাই চারটি বিমানঘাঁটিতে নজরদারি চালায়। এর মধ্যে দুটি বাহরাইনে, একটি জর্ডানে ও একটি কুয়েতে অবস্থিত। তিনি বলেন, ‘রাশিয়াকে অবশ্যই থামাতে হবে। এই যুদ্ধ থামাতে হবে। আগ্রাসীর ওপর চাপ অবশ্যই কাজ করবে।
সংলাপ যে পর্যায়ে রয়েছে
জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের দূত মাইক ওয়াল্টজ গতকাল রোববার জানিয়েছেন, ট্রাম্প সাম্প্রতিক সময়ে হামলা থামিয়েছেন কূটনীতিকে সুযোগ করে দিতে। তবে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কী ধরনের আলোচনা চলছে, সে বিষয়ে কিছু জানাননি তিনি। টানা দুই রাত যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা না চালানোর পর ওই মন্তব্য করেন তিনি।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমায়েল বাঘায়ি গতকাল জানান, সংঘাতের সম্প্রসারণ ঠেকাতে দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা চলছে। তিনিও এ বিষয়ে বিস্তারিত আর কোনো তথ্য দেননি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, কাতার, মিসর, পাকিস্তান ও অন্যান্য আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীরা ওয়াশিংটন ও তেহরানকে ১০ দিন যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছে। মূলত দেশ দুটি যাতে গত মাসে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনায় বসার সুযোগ পায়, সে লক্ষ্যেই এটি করা হয়েছে।
এদিকে, ওমানের সঙ্গেও আলোচনা চলছে ইরানের। ইসমায়েল বাঘায়ি গতকাল জানান, ওমানের সঙ্গে চলমান আলোচনায় হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল-সংক্রান্ত বিষয়াদি নিয়ে অগ্রগতি হয়েছে। কীভাবে দুই দেশ নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে নৌযান চলাচলের বিষয়টিকে সামাল দেবে, তা নিয়ে আলাপ হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালি কীভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে, সে বিষয়গুলোও আলোচনায় উঠে এসেছে।
প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্র চায় না হরমুজে ইরানের নিয়ন্ত্রণ থাকুক। অন্যদিকে, ইরান হরমুজে নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিকে সার্বভৌমত্বের অংশ বলে মনে করে। দ্বিতীয় দফায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ এই নিয়ন্ত্রণকে ঘিরেই শুরু হয়েছিল।
ইরানের অবকাঠামো ঠিক করার নির্দেশ
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের হামলা বন্ধ হওয়ার পরপরই দেশের ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামোগুলো ঠিক করার নির্দেশ দিয়েছেন। এসব অবকাঠামোর মধ্যে রেলপথ, আন্তর্জাতিক পারাপার করিডোর রয়েছে। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বিদ্যমান যোগাযোগ পথ ঠিক করা কৌশলগত অগ্রাধিকার বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষ
স্পেনে মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনার পর দেশটিতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) থেকে এই রাষ্ট্রীয় শোক কার্যকর হয়েছে। খবর- বিবিসি।
একই সঙ্গে রেলওয়ের নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ধরনের ত্রুটি পাওয়া গেলে তা দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
দুর্ঘটনার বিষয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বলেন, চলতি বছরের শুরুতে স্পেনের একই রেলপথে ঘটে যাওয়া অন্য আরেকটি দুর্ঘটনায় ৪৮ জন নিহত হয়েছিল। তবে প্রাথমিক পর্যালোচনায় মনে হচ্ছে, বর্তমান দুর্ঘটনার সঙ্গে পূর্বের ওই ঘটনার কোনো মিল নেই। তবুও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের পরই এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
উচ্চগতির রেলব্যবস্থার ওপর জনসচেতনতা ও আস্থা ফেরানোর ওপর জোর দিয়ে পেদ্রো সানচেজ আরও বলেন, স্পেনের মতো দেশে একই বছরে উচ্চগতির ট্রেনের দুটি দুর্ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই খাতে যাত্রীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাবে।
দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনে ধাক্কা দেয় আরেক ট্রেন, ঝরল ৬৮ প্রাণ
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে স্পেনের মধ্যাঞ্চলের তোলেদো প্রদেশে ঘটে এ দুর্ঘটনা। যে দুটি ট্রেন দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে; সেগুলোর দুটিই ছিল দ্রুতগতির ট্রেন। আর দুটি ট্রেন মাদ্রিদ থেকে সোয়েদাদে যাচ্ছিল। ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন অন্ত ৬৮ জন। এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে পরিবহনমন্ত্রী বলেছেন, যেখানে দুর্ঘটনা ঘটেছে সেই অঞ্চলটির রেললাইনের প্রধান এলজেডবি সিগন্যালে ত্রুটি দেখা দেয়। পরে সেখানে থাকা সব ট্রেনকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে থামার সংকেত দেওয়া হয়।
যারমধ্যে ছিল দুর্ঘটনার শিকার হওয়া ‘রেনফে হাইস্পিড ট্রেন’ এবং ‘ইরো ট্রেন’। ওই সময় রেনফে ট্রেনটি পেছনে ছিল। আর ইরো ট্রেনটি ২৫ কিলোমিটার সামনে ছিল।
সিগন্যালে ত্রুটি দেখা দেওয়ার স্পেনের সরকারি রেলঅবকাঠামো পরিচালনা সংস্থা (আদিফ) ট্রেন পরিচালনার কমান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে নেয়।
এরপর যিনি কমান্ডে ছিলেন তিনি ‘রেনফে হাইস্পিড ট্রেনটিকে’ চলার অনুমতি দেন। যদিও সিগন্যালে লালবাতি ছিল।
কিন্তু ২৫ কিলোমিটার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ‘ইরো ট্রেনটি’ দাঁড়িয়েই ছিল।
লালবাতি সত্ত্বেও ‘রেনফে হাইস্পিড ট্রেনটিকে’ শুধুমাত্র চলার অনুমতিই দেওয়া হয়নি, এটিকে কোনো গতির সীমাও বেধে দেওয়া হয়নি। ফলে ‘রেনফে হাইস্পিড ট্রেনটি’ ২০০ কিলোমিটার গতিতে গিয়ে ২৫ কিলোমিটার সামনে থাকা ‘ইরো ট্রেনকে’ সজোরে ধাক্কা মারে।
স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষ
স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে ৬৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৮০ জন। আজ বুধবার দেশটির কাস্তিয়া-লা মাঞ্চা অঞ্চলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। কাস্তিয়া-লা মাঞ্চা অঞ্চল সরকারের বরাতে বার্তাসংস্থা রয়টার্স ও এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে।
ওই অঞ্চলের সরকারের মুখপাত্র এস্তের পাদিয়া এএফপিকে বলেন, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় আজ সকাল ৯টার দিকে মাদ্রিদ থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দক্ষিণে উরদা পৌর এলাকায় সরকারি একটি ট্রেনের সঙ্গে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইরিওর একটি ট্রেনের সংঘর্ষ ঘটে।
ঘটনার পর থেকে মাদ্রিদ থেকে দক্ষিণ স্পেনে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। দুর্ঘটনাস্থলে একাধিক দমকলবাহিনী, তিনটি হেলিকপ্টার ও দুটি ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা ইউনিট কাজ করছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, রেললাইনের ওপর এবং আশপাশে দুটি ট্রেনের ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে রয়েছে। আতঙ্কিত যাত্রীরা দ্রুত সরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
দুর্ঘটনার পর মাদ্রিদে একটি সম্মেলন বাতিল করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। একইসঙ্গে নির্বাচনী প্রচারের সব কার্যক্রম স্থগিত করেছে তার দল।
এ বছর দেশটিতে এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বড় ধরনের ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটল। এর আগে জানুয়ারিতে দক্ষিণাঞ্চলীয় আদামুজ গ্রামের কাছে দুটি দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে ৪৬ জন নিহত হন।
যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের কক্ষে বক্তৃতা চলাকালে কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মঞ্চের দিকে এগিয়ে এসে বাধা দিলে তাকে পিছিয়ে যেতে বলেছেন জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ। গতকাল মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) এ ঘটনা ঘটে।
কিউবার সরকার নিজেদের নেতাদের সম্পদশালী করেছে আর জনগণ ভুগছে এমন অভিযোগ করে ওয়াল্টজ বলেন, আমরা জানি। আমরা জানি, তা কোথায় গেছে। আর আজ আমরা তা বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে এখানে এসেছি।
কিউবার প্রতিনিধিদল তার বক্তব্যে বাধা দিতে চাইলে পাল্টা জবাব দেন ওয়াল্টজ। তিনি বলেন, আমি জানি, আপনারা এটা শুনতে পছন্দ করেন না। এটা আমেরিকা, বন্ধু। এটা জাতিসংঘ। এটা আপনাদের কমিউনিস্ট একনায়কতন্ত্র নয়। আপনারা আমাকে থামাতে পারবেন না।
সাধারণ পরিষদের সভাপতি শৃঙ্খলা ফেরানোর চেষ্টা করে প্রতিনিধিদের মনে করিয়ে দেন, জবাব দেওয়ার সুযোগ তারা পাবেন। তবু কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ পারিয়া মঞ্চের দিকে এগোতে থাকেন।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ওয়াল্টজ বলেন, এই ব্যক্তির এই মঞ্চ থেকে সরে যাওয়া উচিত। যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে তিনি আমাকে ভয় দেখাতে পারবেন না। তিনি আরও বলেন, আমি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি। পিছিয়ে যান! পিছিয়ে যান, রাষ্ট্রদূত। সরে যান! এটা হাভানা নয়।
কিউবার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক দশকের পুরোনো অবরোধ নিয়ে সাধারণ পরিষদের বার্ষিক বিতর্কের সময় এ বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। ওয়াল্টজ সদস্য দেশগুলোকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আহ্বান জানানো প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করতে অনুরোধ করছিলেন। পরে কিউবাকে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হলে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াল্টজকে মিথ্যাবাদী বলে অভিযোগ করেন এবং সাধারণ পরিষদের সভাপতিকে তাকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে বলেন।
রদ্রিগেজ বলেন, ‘মি. ওয়াল্টজ আবারও মিথ্যা বলছেন।’
তার যুক্তি, মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য এ ফোরাম ও সদস্য দেশগুলোর মর্যাদার সঙ্গে বেমানান এবং কিউবার সরকার ও জনগণের প্রতি অবমাননাকর।
পরবর্তীতে সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া একটি পোস্টে ওয়াল্টজ দাবি করেন, কিউবার কমিউনিস্ট নেতারা তাঁদের বিলাসবহুল রিয়েল এস্টেট সম্পদের বিষয়টি গোপন রাখতে চান। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, তিনি উপযুক্ত প্রমাণ নিয়েই উপস্থিত হয়েছিলেন, যা কিউবার প্রতিনিধিদলের পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব হয়নি।
সূত্র: ফক্স নিউজ
ছবি : সংগৃহীত
সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেডে ইসরায়েলি দূতাবাসের নিরাপত্তায় নিয়োজিত এক পুলিশ কর্মকর্তার ওপর ছুরি নিয়ে হামলা চালিয়েছে এক কিশোর। গতকাল মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) মধ্যরাতের পর এ ঘটনা ঘটে। আত্মরক্ষায় ওই পুলিশ কর্মকর্তা গুলি চালালে হামলাকারী নিহত হন।
সার্বিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইভিৎসা দাচিচ ঘটনাটিকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন। এ ঘটনার পর দেশটিতে সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কা সর্বোচ্চ পর্যায়ে নেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে পুলিশি নিরাপত্তাও বাড়ানো হয়েছে।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও ঘটনাটিকে ‘সন্ত্রাসী হামলার চেষ্টা’ বলে উল্লেখ করেছে। তারা জানিয়েছে, সার্বিয়ার কর্তৃপক্ষ এ ঘটনার তদন্ত করছে।হামলার সময় দূতাবাসে কোনো কর্মী ছিলেন না। ফলে দূতাবাসের কেউ আহত হননি।
যেভাবে হামলার ঘটনা ঘটেসার্বিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, কালো পোশাক পরা ওই কিশোর দূতাবাসের বাইরে নিরাপত্তারক্ষীদের বুথের দরজা খুলে ভেতরে থাকা পুলিশ কর্মকর্তার ওপর ছুরি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
বেলগ্রেডের উচ্চতর সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয় জানিয়েছে, হামলাকারী একটি ছুরি ছুড়ে মারলে তা ওই পুলিশ কর্মকর্তার বাম গালে লাগে।পরে পুলিশ কর্মকর্তা নিজের অস্ত্র বের করে কয়েকটি গুলি ছোড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই হামলাকারীর মৃত্যু হয়। আহত পুলিশ কর্মকর্তার আঘাত গুরুতর নয় বলে জানানো হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাচিচ বলেন, হামলাকারীর কাছে দুটি ছুরি ছিল।
আইএসের সমর্থক সন্দেহে তদন্ত
সার্বিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, নিরাপত্তা সংস্থাগুলো আগে থেকেই হামলাকারীর ওপর নজর রাখছিল। সে ইসলামিক স্টেট বা আইএসের সমর্থক ছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
দাচিচ বলেন, হামলাকারীর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে আইএসের সমর্থনে কালো পতাকার ছবি ছিল।
হামলাকারী পশ্চিম সার্বিয়ার সাবাচ শহরের বাসিন্দা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তার পরিচয় ও হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে তদন্ত চলছে।
ঘটনার পর দূতাবাসের আশপাশের এলাকা ঘিরে ফেলে পুলিশ। নিরাপত্তা জোরদার করা হয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতেও। সরকার পরিবর্তনের পর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগসার্বিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ পার্লামেন্ট নির্বাচনের কয়েকদিনের মাথায় এ হামলার ঘটনা ঘটল। রোববারের নির্বাচনে সাবেক প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্দার ভুসিচের দীর্ঘদিনের শাসনের অবসান ঘটে। প্রায় দুই বছর ধরে চলা বিক্ষোভের পর শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন আন্দোলন নির্বাচনে জয় পায়।
তবে নতুন সরকার গঠিত না হওয়ায় এখনো পুলিশসহ গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ ভুসিচ ও তার মিত্রদের হাতে রয়েছে।অন্যদিকে, ইসরায়েলেও মঙ্গলবার পার্লামেন্ট নির্বাচন হয়েছে। বুথফেরত জরিপে সেখানে কোনো পক্ষের স্পষ্ট জয়ের আভাস পাওয়া যায়নি।
তবে সার্বিয়ায় সরকার পরিবর্তন এবং ইসরায়েলে নির্বাচনের সঙ্গে বেলগ্রেডের দূতাবাসে হামলার সরাসরি কোনো যোগসূত্র পাওয়া যায়নি।
আগেও হামলার শিকার হয়েছিল দূতাবাস
বেলগ্রেডে ইসরায়েলি দূতাবাসে এর আগেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। ২০২৪ সালের জুনে ক্রসবো নিয়ে হামলা চালিয়ে এক ব্যক্তি দূতাবাসের নিরাপত্তায় নিয়োজিত এক সার্বীয় পুলিশ কর্মকর্তাকে আহত করেন। পরে ওই হামলাকারীকেও গুলি করে হত্যা করা হয়।
বেলগ্রেডের একটি অভিজাত এলাকায় অবস্থিত ইসরায়েলি দূতাবাসের কাছেই যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস। গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকায় স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রে সজ্জিত বিশেষ পুলিশ ইউনিট নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করে।
সার্বিয়ার সঙ্গে ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। নতুন হামলার পর দূতাবাস ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে।
সূত্র: এপি
ঘূর্ণিঝড় অর্ণব
ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ উপকূলে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের আঘাতে অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। গাছের নিচে চাপা পড়ে এবং বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তাদের মৃত্যু হয়।
আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অন্ধ্র প্রদেশের বিশাখাপত্তনম, অনাকাপল্লে, কাকিনাড়া, কোনাসীমা ও পশ্চিম গোদাবরী জেলায় একজন করে মারা গেছেন।
ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আজ বুধবার স্থানীয় সময় রাত ২টা থেকে সকাল ৮টার মধ্যে অন্ধ্র প্রদেশ ও ইয়ানাম উপকূল অতিক্রম করে ঘূর্ণিঝড়টি। উপকূল অতিক্রমের সময় এটি অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের রূপে ছিল। তখন বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার, যা দমকা হাওয়ায় ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছায়।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ঘূর্ণিঝড়টির স্থলভাগে প্রবেশের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এর কেন্দ্র পুরোপুরি স্থলভাগে প্রবেশ করেছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় এটি উত্তর উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে এবং ধীরে ধীরে শক্তি হারাবে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ছয় ঘণ্টার মধ্যে অর্ণব ঘূর্ণিঝড়ে এবং পরবর্তী ছয় ঘণ্টায় গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে।
এদিকে, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে রেল চলাচলের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছেন ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক বার্তায় তিনি জানান, ১০টি স্থানে গাছ পড়ে যাওয়ার মতো ছোটখাটো বিঘ্নের খবর পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মীরা দ্রুত সেগুলোর সমাধান করেছেন। রেল চলাচল নিরাপদ ও স্বাভাবিক রাখতে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
ছবি : সংগৃহীত
স্পেনে দুটি দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ৩৯ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় বুধবার সকাল ৯টার কিছু পর রেনফে ও ইরিও পরিচালিত দুটি ট্রেনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে বলে জানিয়েছে কাস্তিয়া-লা মাঞ্চা অঞ্চলের এক সরকারি মুখপাত্র।
তিনি বলেন, দুর্ঘটনার কারণ ও হতাহতের পূর্ণ সংখ্যা এখনো নির্ধারণ করা হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে একটি খাদে ট্রেনের বগিগুলো কাত হয়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে জরুরি সেবাকর্মীদের ডাকা হয়।
রেল পরিচালনাকারী সংস্থা আদিফ জানিয়েছে, মধ্য স্পেনের মোরা ও অরগাস শহরের মধ্যবর্তী এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। এতে মাদ্রিদ থেকে সেভিয়ার দিকে যাওয়া রেনফে ও ইরিওর দুটি দ্রুতগতির ট্রেন জড়িত ছিল।
তোলেদো শহরের কাছের উরদা পৌরসভার মেয়র ম্যানুয়েল গালান জানান, আহতদের রাখার জন্য একটি ক্রীড়া হল প্রস্তুত করতে জরুরি সেবাকর্মীরা তাকে অনুরোধ করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় আদিফ জানায়, দুই ট্রেনের পেছন থেকে সংঘর্ষের কারণে মাদ্রিদ-আন্দালুসিয়া দ্রুতগতির রেলপথে চলাচল স্থগিত করা হয়েছে।
তথ্যসূত্র: ইন্ডিপেন্ডেন্ট