মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

  • প্রকাশ : বুধবার ১২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:২২ এএম

ইরানের সঙ্গে পরিস্থিতি ‘বেশ ভালোভাবেই চলছে’ বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালী মার্কিন বাহিনীর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যে জয়েন্ট বেজ অ্যান্ড্রুজে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।


ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের পরিস্থিতি ভালোভাবেই চলছে– একেবারেই ভালো চলছে।


হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণভাবে আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এর ওপর আমাদেরই পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ আছে, অন্য কারো নয়, কেবল আমাদেরই। আমাদের নৌবাহিনী অবিশ্বাস্য রকমের ভালো এবং আমাদের দেশের জন্য সবকিছু দারুণভাবে এগোচ্ছে।’


তিনি আরও বলেন, ‘আমি ইরানকে বিশ্বাস করি না।


ইরানকে অবিশ্বাস করার ক্ষেত্রে আমিই সবার আগে থাকব, তারা আমার সঙ্বেগ প্রতিনিয়ত মিথ্যা কথা বলেছে। এই মুহূর্তে হরমুজ প্রণালীর ওপর আমাদের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে, তাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।’


এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান নতুন করে সমঝোতায় পৌঁছানোর কাছাকাছি রয়েছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তান। একইসঙ্গে মধ্যস্থতাকারী কাতার জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী পরিচালনা ও জাহাজ চলাচল নিয়ে ইরান ও ওমানের আলোচনা ‘অগ্রসর পর্যায়ে’ রয়েছে। তবে কূটনৈতিক অগ্রগতির মধ্যেই উপসাগর ও লোহিত সাগরে জাহাজে নতুন করে হামলার ঘটনায় উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।


মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ব্লুমবার্গ নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ জানান, পরিস্থিতি আবারও শান্তি বা চুক্তির অনুকূলে এগোচ্ছে।


তিনি বলেন, গত দুই-তিন দিনের সংকেত বলছে, আমরা কোনো ধরনের সমঝোতার খুব কাছাকাছি।


সূত্র: আল জাজিরা




  • প্রকাশ : বুধবার ১২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:০৭ পিএম

দিল্লির যন্তর মন্তরে পুনরায় আন্দোলন শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দ্বীপকে। বুধবার (১২ আগস্ট) এক অনুষ্ঠানে গিয়ে তিনি বলেন, খুব শিগগিরই যন্তর মন্তরে দ্বিতীয় ধাপের আন্দোলন শুরু হবে। তবে ঠিক কোন কারণে আন্দোলন শুরু করা হবে সেটি উল্লেখ করেননি তিনি।


অভিজিৎ বলেন, “ইন্সটাগ্রামে অনেকে কমেন্ট করছেন যে কখন যন্তর মন্তরের সিজন-২ শুরু হবে। আমি তাদের বলতে চাই খুব শিগগিরই সিজন-২ (আন্দোলন) শুরু হবে।”


সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, ককরোচ জনতা পার্টি গত কয়েকদিন ধরেই দেশটির বিভিন্ন জায়গায় চলা তরুণদের অন্যান্য আন্দোলনের সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করার চেষ্টা করছে। এরমধ্যেই অভিজিৎ এমন মন্তব্য করলেন।


তবে কোন কারণে আন্দোলন শুরু করবেন সেটি স্পষ্ট করেননি তিনি। এছাড়া নরেন্দ্র মোদি সরকারের কাছে কি দাবি জানাবেন সেটিও উল্লেখ করেননি তিনি।



উত্তরপ্রদেশের স্কুল শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সমর্থন


ভারতের উত্তরপ্রদেশের একটি স্কুল শিক্ষার্থীরা সম্প্রতি হামিরপুর নামে একটি স্থানের ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টরের অফিসের দিকে মিছিল নিয়ে যায়। তাদের দাবি ছিল, স্কুলে যাওয়ার রাস্তাটি ঠিক করে দিতে হবে। ওই মিছিলে প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী ও ১০০ অভিভাবক অংশ নেন। অভিজিৎ দ্বীপকে এ আন্দোলনে সমর্থন জানিয়েছেন।


তিনি বলেছেন, স্কুলে যাওয়ার রাস্তার দিকে অন্তত এক দশক আগে সরকারের নজর দেওয়া উচিত ছিল।


ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিযোগ করেছেন, তারা তাদের দলের বৈঠক আয়োজনের জন্য কোনো ভেন্যু পাচ্ছেন না। সব জায়গা থেকে বলা হচ্ছে উপর মহল থেকে ভেন্যু না দিতে নির্দেশ দেওয়া আছে।


তিনি বলেছেন, যদিও তারা বৈঠকের জন্য একটি হল পেয়েছিলেন। কিন্তু এটির মালিককে বৈঠকের দিন সকালে হুমকি দেওয়া হয়।


তার মতে, এই হুমকি ও চাপ দিচ্ছে নরেন্দ্র মোদির হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপি। যারা দেশের তরুণদের ভয় পায়।


সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া


  • প্রকাশ : বুধবার ১২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:০৩ পিএম

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হাবড়ায় পাকিস্তানি এক নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। তাদের দাবি, ওই ব্যক্তি সন্দেহভাজন পাকিস্তানি জঙ্গি ও গুপ্তচর। গ্রেপ্তারের ঘটনাস্থলটি ভারত-বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী।


এসটিএফ জানিয়েছে, রানা রউফ নামে ওই ব্যক্তি পাকিস্তানের ফয়সালাবাদের বাসিন্দা। দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর সঙ্গে রানার যোগাযোগ আছে। ২০১২ সালের দিকে তিনি নেপাল সীমান্ত দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশ করেন। এরপর ভারতীয় জাল পরিচয়পত্র ব্যবহার করে কলকাতায় থাকতেন। রানাকে গ্রেপ্তার করা হয় মঙ্গলবার গভীর রাতে। এসটিএফ জানিয়েছে, কলকাতার তপসিয়া এলাকায় ওয়াহাব নামে থাকতেন রানা। সেখানে কাঠমিস্ত্রি হিসেবে কাজ করতেন। তাঁর দায়িত্ব ছিল ভারতীয় সেনা, রেল, নৌ বাহিনী সম্পর্কে আইএসআইয়ের কাছে তথ্য পাচার করা।


তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, সম্প্রতি ভারত থেকে বাংলাদেশে পালানোর পরিকল্পনা ছিল রানার। এজন্য তিনি হাবড়ায় গিয়েছিলেন। পরে সেখানে এসটিএফের গোপন অভিযানে গ্রেপ্তার হন। তাঁর মোবাইল ফোনে একাধিক পাকিস্তানি নম্বরে কথোপকথনের তথ্য এবং সেনা, নৌ ও রেল সংক্রান্ত ছবি পাওয়া গেছে।


রানাকে জাল নথি তৈরি করে দেওয়ার অভিযোগে তপসিয়া থেকে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে তাঁর পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। প্রাথমিক তদন্তের পর গোয়েন্দারা জানতে পারেন, ভারতে অনুপ্রবেশের পর রানা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামো ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের কাজে যুক্ত ছিলেন।


এই ঘটনার কয়েকদিন আগে বর্ধমানে দুজনকে গ্রেপ্তার করে এসটিএফ। তাদের বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ ছিল। তারা শুভেন্দুর গতিবিধির ওপর নজর রাখছিলেন।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ১২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:০৬ পিএম

কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে অভিযান চলছে। ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৫৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছে ২ হাজার ৭০০ মানুষ। 


এদিকে, বুধবার (১২ আগস্ট) কালি ও পেরেইরাসহ ক্ষতিগ্রস্ত শহরগুলোতে জীবিতদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চলছে বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে আল-জাজিরা।


সোমবার (১০ আগস্ট) লাতিন দেশ কলম্বিয়ায় ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। কলম্বিয়ার ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য মতে, এই শতাব্দীতে কলম্বিয়ায় এটিই ছিল সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প। সোমবার রাত পর্যন্ত ভূমিকম্প পরবর্তী ২১টি কম্পন (আফটার শক) রেকর্ড করা হয়েছে এবং আরও হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।


জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় দপ্তরের (ওসিএইচএ) তথ্য অনুযায়ী, এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে প্রায় ৫ হাজার বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া আরও অনেক ভবন সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে যার অধিকাংশ আবাসিক ভবন ছিল।


জানা গেছে, স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটে পশ্চিম কলম্বিয়ায় আঘাত হানা এ ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কালি, পেরেইরা ও চোকো অঞ্চল। তবে, প্রত্যন্ত চোকো অঞ্চলের ক্ষয়ক্ষতির পুরো তথ্য এখনো জানা যায়নি।


এই ভূমিকম্পে কলম্বিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম শহর কালিতে অন্তত ৯৫ জন নিহত হয়েছেন। রাজধানী বোগোতা থেকে ২৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত এই শহরটিতে প্রায় ২২ লাখ মানুষ বসবাস করেন। ভূমিকম্পে শহরটির প্রায় ৪৫টি ভবন পুরোপুরি বা আংশিকভাবে ধসে পড়েছে।


কালি শহরের দক্ষিণাঞ্চলের ভ্যানেসা নামের একটি ভবন পুরোপুরি ধসে পড়েছে। সাততলা এই আবাসিক ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রায় ২০ জন আটকে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। হাতুড়ি, কোদাল ও ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে কংক্রিটের স্তর সরানোর চেষ্টা করছেন উদ্ধারকারীরা। তাদের সঙ্গ দিচ্ছেন শত শত স্বেচ্ছাসেবক।


জানা গেছে, ভবনটি ধসে পাশের একটি নার্সারি স্কুলের ওপর পড়ে। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক ম্যাক্সিমিলিয়ানো হেরেরা জানিয়েছেন, নার্সারিটির ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রায় ১৭ জন শিশু আটকে থাকাতে পারে।


আন্তর্জাতিক রেসকিউ কমিটির কলম্বিয়া ও ভেনেজুয়েলা কার্যক্রমের উপপরিচালক ক্যামিলা গোমেজ বলেছেন, এমন একটি অঞ্চলে ভূমিকম্পটি আঘাত হেনেছে, যেখানে আগে থেকেই গভীর সংকট রয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পুরো চিত্র এখনো মূল্যায়ন করা হচ্ছে এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে জরুরি সহায়তার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।


সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল–আসাদ

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৭:১১ পিএম

সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ এবং দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় দারা প্রদেশের রাজনৈতিক নিরাপত্তাবিষয়ক সাবেক প্রধান আতেফ নাজিবকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দেশটির গৃহযুদ্ধের সময় সংঘটিত অপরাধের দায়ে তাঁদের দোষী সাব্যস্ত করার পর এ সাজা দেওয়া হলো।


উল্লেখ্য, সিরিয়ার ইসলামপন্থী নেতা আহমেদ আল-শারার (বর্তমান প্রেসিডেন্ট) নেতৃত্বে দেশটির বিদ্রোহীরা বাশার আল-আসাদ সরকারকে উচ্ছেদ করার সময় তৎকালীন এই প্রেসিডেন্ট পালিয়ে রাশিয়ায় চলে যান। এখনো সেখানেই অবস্থান করছেন তিনি।


আজ মঙ্গলবার দামেস্কের ফৌজদারি আদালত বাশার আল–আসাদকে ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের’ দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেন। আর আতেফ নাজিবকে পরিকল্পিত ‘হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের’ দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।


আদালত বলেছেন, ২০১১ সালে দারা প্রদেশে বাশার আল–আসাদ সরকারের সংঘটিত অপরাধগুলো মানবতাবিরোধী অপরাধের পর্যায়ে পড়ে।


প্রসঙ্গত, আরব বসন্তে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে স্বৈরশাসকদের পতন ঘটেছিল। কিন্তু এ ক্ষেত্রে সিরিয়ার বাশার আল-আসাদ ছিলেন ব্যতিক্রম। তিনি টিকে গিয়েছিলেন। তিনি তাঁর নৃশংস স্বৈরশাসন চালিয়ে যান আরও এক যুগের বেশি।


তবে আরব বসন্তের ১৩ বছরের মাথায় ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদের পতন ঘটে নাটকীয়ভাবে। তাঁর পতনের মধ্য দিয়ে সিরিয়ায় আসাদ পরিবারের ৫৩ বছরের শাসনের অবসান ঘটে।


সিরিয়ায় আসাদ পরিবারের শাসন শুরু হয়েছিল গত শতকের সত্তরের দশকে। বাশার আল-আসাদের বাবা হাফিজ আল-আসাদের হাত ধরে।


হাফিজ আল-আসাদ ১৯৭১ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ২০০০ সালে তাঁর মৃত্যু হয়। বাবার মৃত্যুর পর সিরিয়ার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন বাশার আল-আসাদ।


বাশার আল-আসাদ সরকার হটানোর অভিযানে নেতৃত্ব দেয় আল–শারার বিদ্রোহী গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস)


ক্ষমতার প্রথম দিকে বাশার আল-আসাদ সংস্কারের ব্যাপারে উদ্যোগী হন। বাবার ২৯ বছরের শাসনামলের বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা তিনি শিথিল করেন। কিন্তু পরে সংস্কারকের ভূমিকা থেকে বাবা হাফিজ আল-আসাদের মতোই একজন কর্তৃত্ববাদী ‘স্বৈরশাসকে’ পরিণত হন।


সিরিয়ায় আরব বসন্তের ঢেউ লাগে ২০১১ সালের মার্চে। দেশটিতে শুরু হয় বাশার আল-আসাদবিরোধী বিক্ষোভ। বিক্ষোভ দমনে সহিংস উপায় বেছে নেন বাশার।


সরকারি দমন-পীড়নের মুখে একপর্যায়ে বাশার আল-আসাদবিরোধীরা হাতে অস্ত্র তুলে নেন। শুরু হয় এক রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ।


সিরিয়াজুড়ে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী বাশার আল-আসাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামে। এ লড়াইয়ে একের পর এক এলাকা বাশার আল-আসাদ সরকারের হাতছাড়া হয়।


সিরিয়া সংকটে জড়িয়ে পড়ে আঞ্চলিক শক্তি থেকে বৈশ্বিক পরাশক্তি। বিশেষ করে রাশিয়া ও ইরান বাশার আল-আসাদের পক্ষ নিয়ে তাঁকে রক্ষায় সামরিক শক্তি নিয়োগ করে।


লেবাননের ইরানপন্থী প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহও সক্রিয়ভাবে বাশার আল-আসাদের পাশে দাঁড়ায়।


মিত্রদের সামরিক সহায়তা নিয়ে ২০২০ সাল নাগাদ আলেপ্পোসহ সিরিয়ার মূল শহরগুলোর নিয়ন্ত্রণ ফিরে পান বাশার আল-আসাদ। তখন থেকে সিরিয়ার সিংহভাগ এলাকায় চলছিল বাশার আল-আসাদের শাসন। তবে দেশটিতে সংঘাত, রক্তপাত পুরোপুরি থেমে থাকেনি।


সিরিয়ায় প্রায় ১৩ বছরের গৃহযুদ্ধে ৬ লাখের বেশি মানুষ নিহত হন। বাস্তুচ্যুত হন ১ কোটি ৩০ লাখের বেশি মানুষ। গৃহযুদ্ধে ভয়াবহ মানবিক সংকটে পড়ে সিরিয়া। কিন্তু এদিকে সামান্যতম ভ্রুক্ষেপ না করে বাশার আল-আসাদ তাঁর ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে ব্যস্ত থাকেন।


ঠেকানো যায়নি পতন


হঠাৎ বিশ্বের নজর সিরিয়া থেকে অন্যত্র সরে যায়। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ শুরু করে রাশিয়া। এই অভিযান শুরুর পর রাশিয়ার সামরিক অগ্রাধিকারে চলে আসে ইউক্রেন যুদ্ধ।


২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় নির্বিচার হামলা শুরু করে ইসরায়েল। গাজা যুদ্ধ ঘিরে আঞ্চলিক উত্তেজনা বেড়ে যায়। ইসরায়েল-হিজবুল্লাহও সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। আবার ইরান-ইসরায়েলের মধ্যে বড় ধরনের পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটে।


পরের বছর ২০২৪-এর নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। এ নির্বাচনের দিকে মধ্যপ্রাচ্যসহ পুরো বিশ্বের দৃষ্টি ছিল। নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প জয়ী হয়ে চমক দেন।


এসব বৈশ্বিক ঘটনার ডামাডোলে সিরিয়া ইস্যু হারিয়ে যেতে বসেছিল। তবে নভেম্বর মাসেরই (২০২৪) শেষ দিকে সিরিয়ার বিদ্রোহীদের আচমকা ও বিস্ময়কর অগ্রযাত্রার মধ্য দিয়ে আবার বৈশ্বিক নজরের কেন্দ্রে চলে আসে সিরিয়া।


২৭ নভেম্বর সিরিয়ার বিদ্রোহী যোদ্ধারা নতুন করে, নতুন উদ্যমে বাশার আল-আসাদ সরকারবিরোধী অভিযান শুরু করেন। এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন বিদ্রোহী গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস)।


পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে ২৮ নভেম্বর মস্কোয় ছুটে যান বাশার আল-আসাদ। তিনি রাশিয়ার কাছে সামরিক সহায়তা চান। তাঁকে টিকিয়ে রাখার আবেদন জানান। কিন্তু রাশিয়ার চিন্তায় তখন ইউক্রেন। তাই মস্কো আর আগের মতো বাশার আল-আসাদকে সামরিক সহায়তা দিতে আগ্রহ দেখায়নি।


দারুণ হতাশা নিয়ে দেশে ফেরেন বাশার আল-আসাদ। তবে তিনি তাঁর মস্কো সফরের ব্যর্থতা চেপে রাখেন। ঘনিষ্ঠ সহযোগী, সামরিক কমান্ডারদের মিথ্যা আশার বাণী শোনান। বিদ্রোহীদের সমূলে নির্মূলের হুমকি দেন।


অভিযান শুরুর মাত্র চার দিনের মাথায় ৩০ নভেম্বর সিরিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর আলেপ্পো দখল করে নেন বিদ্রোহীরা। বিদ্রোহী যোদ্ধাদের অভিযানের মুখে সিরিয়ার বিভিন্ন কৌশলগত অবস্থান থেকে পালিয়ে যেতে থাকেন সরকারি সেনাসদস্যরা।


বাশার আল-আসাদকে টিকিয়ে রাখতে রাশিয়া নামকাওয়াস্তে বিদ্রোহীদের ওপর বিমান হামলা চালায়। অন্যদিকে আলেপ্পো থেকে বিদ্রোহীদের দামেস্ক যাওয়া ঠেকাতে মধ্যবর্তী হামা শহরে যোদ্ধা পাঠায় হিজবুল্লাহ। কিন্তু এসব বিদ্রোহীদের অগ্রযাত্রা থামাতে ব্যর্থ হয়।


একই বছরের ৫ ডিসেম্বর হামা দখল করে নেন বিদ্রোহীরা। তাঁরা দুর্বার গতিতে রাজধানী দামেস্কের দিকে অগ্রসর হতে থাকেন। বিদ্রোহীদের হাতে তৃতীয় বৃহত্তম শহর হোমসের পতন হয় ৭ ডিসেম্বর। এরপর দামেস্কের কাছের দেরা ও সুয়েইদা শহরের নিয়ন্ত্রণ হারায় সরকারি বাহিনী।


৭ ডিসেম্বর বাশার আল-আসাদ তাঁর সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে বৈঠক করেন। বৈঠকে দেশটির শীর্ষস্থানীয় সেনা ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা অংশ নেন। বৈঠকে বাশার আল-আসাদ এ বলে নিশ্চয়তা দেন যে রুশ বাহিনী তাঁকে সহায়তা করতে এগিয়ে আসবে।


৭ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ সিরিয়ার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ আল-জালালির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন বাশার আল-আসাদ। এই ফোনালাপে মাঠের কঠিন পরিস্থিতির কথা বাশার আল-আসাদকে জানিয়েছিলেন আল-জালালি। জবাবে বাশার আল-আসাদ বলেছিলেন, ‘আগামীকাল, আমরা বিষয়টি দেখব।’


তবে বিষয়টি পরদিন আর দেখার সুযোগ হয়নি বাশার আল-আসাদের। ৮ ডিসেম্বর ভোরে রাজধানীতে ঢুকে পড়েন বিদ্রোহী যোদ্ধারা। বিদ্রোহীদের দামেস্ক দখলের মুখে বাশার আল-আসাদ এদিন ভোরে একটি উড়োজাহাজে করে রাজধানী ছাড়েন। দামেস্ক থেকে যান সিরিয়ার উপকূলীয় শহর লাতাকিয়ায়।


লাতাকিয়ার রুশ বিমানঘাঁটি থেকে বাশার আল-আসাদকে মস্কোয় উড়িয়ে নেওয়া হয়। তিনি এমনভাবে দেশ ছাড়েন যে তাঁকে বহনকারী উড়োজাহাজটিকে রাডারে শনাক্ত করা পর্যন্ত যায়নি।


এরপর বিদ্রোহী যোদ্ধারা ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন, ‘জালিম শাসক বাশার আল-আসাদ পালিয়েছেন। দামেস্ক মুক্ত হয়েছে। সিরিয়া মুক্ত হয়েছে। একটি অন্ধকার যুগের সমাপ্তি হয়েছে। সূচনা হয়েছে এক নতুন যুগের।’


সৌরভ গাঙ্গুলী ও ডোনা গাঙ্গুলী

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:৪৩ পিএম

ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআই পুলিশের সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, গত প্রায় ছয় মাস ধরে সৌরভের নামে একাধিক হুমকির চিঠি আসছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পাওয়া চিঠিগুলোর ভাষা আগের তুলনায় বেশি গুরুতর। এসব চিঠিতে সৌরভ ও ডোনা গাঙ্গুলীকে সরাসরি হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠজনদেরও ক্ষতি করার হুমকি দেয়া হয়েছে বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।


ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ তদন্তে নেমেছে। হুমকির চিঠিগুলোর বিষয়বস্তু, সেগুলো কীভাবে পাঠানো হয়েছে এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চিঠিগুলোর প্রেরককে শনাক্ত করতে কুরিয়ার ব্যবস্থার তথ্যও যাচাই করছেন তদন্তকারীরা।


প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, হুমকির চিঠিগুলো একটি নিবন্ধিত কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে পাঠানো হয়ে থাকতে পারে। এর মধ্যে একটি চিঠি উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বেলঘরিয়া এলাকার কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে পাঠানো হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করছে পুলিশ। এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে সংশ্লিষ্ট কুরিয়ার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন তদন্তকারীরা।


চিঠি পাঠানোর ঘটনায় ব্যবহৃত হয়েছে বলে ধারণা করা একটি মোবাইল নম্বরের সন্ধানও পেয়েছে পুলিশ। নম্বরটির অবস্থান, ব্যবহারকারী এবং তার সঙ্গে হুমকির চিঠি পাঠানোর কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


তদন্তকারীরা এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হতে পারেননি যে ছয় মাস ধরে পাঠানো সব কটি চিঠির পেছনে একই ব্যক্তি রয়েছে কি না। এর সঙ্গে একাধিক ব্যক্তি কিংবা কোনো সংগঠিত চক্র জড়িত কি না, সেটিও তদন্তের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


সৌরভ গাঙ্গুলী বর্তমানে সিএবির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। ক্রিকেটার হিসেবে ভারতের অন্যতম সফল অধিনায়ক হিসেবে পরিচিত সৌরভ পরবর্তী সময়ে বিসিসিআইয়ের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। তার বিরুদ্ধে দেয়া সাম্প্রতিক হুমকির বিষয়টি তাই গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে কলকাতা পুলিশ। 


হুমকির উৎস দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা চলছে বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।


ডোনাল্ড ট্রাম্প

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:১১ পিএম

ইরানের পক্ষ থেকে হামলা চালিয়ে তাঁকে হত্যার চেষ্টা করা হতে পারে-এমন সম্ভাব্য হুমকির পর গত মাসে গোপনে তুরস্ক ছেড়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি নির্ধারিত এয়ারফোর্স ওয়ানের পরিবর্তে ছোট একটি উড়োজাহাজে করে তুরস্ক ছাড়েন। গতকাল সোমবার এ খবর প্রকাশ করেছে প্রভাবশালী মার্কিন গণমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট।


নাম প্রকাশ না করে একজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, গত ৮ জুলাই আঙ্কারায় ট্রাম্প প্রথমে এয়ারফোর্স ওয়ানে ওঠেন। পরে উড়োজাহাজটির সঙ্গে লাগোয়া একটি খাবার সরবরাহের (ক্যাটারিং) কনটেইনার ট্রাকে চলে যান।


এরপর ওই ট্রাকে করে ট্রাম্পকে একটি ছোট আকারের সি-৩২এ উড়োজাহাজে নিয়ে যাওয়া হয়। সেটি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে যুক্তরাজ্যে পৌঁছে দেয়। সে সময় সংবাদমাধ্যম ও কয়েকজন কর্মকর্তাকে এমন ধারণা দেওয়া হয়েছিল যে ট্রাম্প তখনো এয়ারফোর্স ওয়ানেই রয়েছেন।


এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছিল, ইরানের পক্ষ থেকে হুমকির কারণে ট্রাম্প কাতারের উপহার হিসেবে পাওয়া বোয়িং ৭৪৭-৮ উড়োজাহাজে (নতুন এয়ারফোর্স ওয়ান) করে দেশে ফেরেননি। তিনি এ উড়োজাহাজে করেই তুরস্ক গিয়েছিলেন।


ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে গত মাসে আঙ্কারায় যান ট্রাম্প। 


তখন বলেছিলেন, তিনি ফেরার জন্য বোয়িং-৭৪৭ (পুরোনো এয়ারফোর্স ওয়ান) ব্যবহার করবেন, যাতে যুক্তরাজ্যের একটি বিমানঘাঁটিতে থাকা মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদস্যরা নতুন উড়োজাহাজটি (কাতারের উপহারের উড়োজাহাজ) ঘুরে দেখার সুযোগ পান।


তবে নিউইয়র্ক টাইমসসহ বেশ কয়েকটি মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল, (মধ্যপ্রাচ্যে) ইরানের মিত্র সশস্ত্র বাহিনীগুলোর পক্ষ থেকে আসা একটি হুমকির কারণেই ট্রাম্পের উড়োজাহাজ পরিবর্তন করা হয়েছিল।


আঙ্কারা থেকে উড্ডয়ন করা পুরোনো উড়োজাহাজে থাকা সাংবাদিকদের জানালার পর্দা নামিয়ে রাখতে বলা হয়েছিল, যা সাধারণত শুধু যুদ্ধক্ষেত্রসংলগ্ন এলাকায় অনুসরণ করা হয়। এতে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগের সন্দেহ আরও জোরালো হয়।


উড়োজাহাজ পরিবর্তনের ঘটনায় কাতারের উপহার দেওয়া উড়োজাহাজটি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমস বলেছে, আগের এয়ারফোর্স ওয়ানের মতো এতে একই ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেই, যার মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধীব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত।


যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৯০ সাল থেকে প্রেসিডেন্টকে বহনকারী উড়োজাহাজ ‘এয়ারফোর্স ওয়ান’ হিসেবে ব্যবহৃত দুটি পুরোনো বোয়িং ৭৪৭-এর অবস্থা নিয়ে ট্রাম্প অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। পরে গত বছর কাতারের রাজপরিবারের কাছ থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া বিলাসবহুল একটি উড়োজাহাজকে দ্রুত সংস্কার করে তিনি সেটিকে এয়ারফোর্স ওয়ান হিসেবে ব্যবহার করা শুরু করেন।


গত ১ জুলাই প্রথমবারের মতো এটি ট্রাম্পকে নিয়ে নর্থ ডাকোটায় উড়াল দেয়। মাত্র কয়েক দিন পর তিনি উড়োজাহাজটিতে চড়ে প্রথম বিদেশ সফরে তুরস্কে যান।


ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন সম্পর্কে এএফপির প্রশ্নের জবাবে হোয়াইট হাউস নতুন উড়োজাহাজটির পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থার পক্ষে একটি বিবৃতি পাঠায়।


বিবৃতিতে যোগাযোগ পরিচালক স্টিভেন চিউং বলেন, নতুন এয়ারফোর্স ওয়ান একটি অত্যাধুনিক উড়োজাহাজ, যাতে উচ্চমানের নিরাপত্তাব্যবস্থা সংযোজন করা হয়েছে। এটি প্রেসিডেন্ট ও তাঁর কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।


চিউং আরও বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট সম্প্রতি যেমনটি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অনেক শত্রু তাঁর দিকে নজর রেখে চলেছে। এসব হুমকি মোকাবিলায় আমাদের হাতে থাকা সব ধরনের উপায় আমরা ব্যবহার করছি।’


নতুন এয়ারফোর্স ওয়ানের নিরাপত্তা নিয়ে প্রথম প্রশ্ন ওঠার পর গত মাসেও হোয়াইট হাউস থেকে একই বিবৃতি দেওয়া হয়েছিল।


ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, ট্রাম্প পুরোনো এয়ারফোর্স ওয়ানে ওঠার কয়েক মিনিট পর সেটির নিচ থেকে একটি ক্যাটারিং ট্রাক সরে যাচ্ছে। এরপর ক্যাটারিং ট্রাককে দূরে থাকা ছোট আকারের সি-৩২এ উড়োজাহাজের দিকে যেতে দেখা যায়।


দুটি উড়োজাহাজই যুক্তরাজ্যে অবতরণের পর ট্রাম্পকে বড় উড়োজাহাজটির সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতে দেখা যায়। এরপর নতুন করে সংস্কার ও নিরাপত্তা-উন্নয়ন করা এয়ারফোর্স ওয়ানের দিকে যান তিনি। তবে কীভাবে ট্রাম্প আবার বড় উড়োজাহাজটিতে ফিরে এসেছিলেন, তা স্পষ্ট নয় বলে ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে।