ছবি : সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নতুন করে জটিল হয়ে উঠছে ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের দ্রুত অগ্রগতিতে। ইয়েমেনের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোখা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর কৌশলগত কয়েকটি দ্বীপের দিকে এগিয়ে গেছে হুথিরা। এতে লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রান্তের গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালি ঘিরে তাদের প্রভাব আরও বেড়েছে।
হুথিদের এই অগ্রগতি শুধু ইয়েমেনের যুদ্ধকেই নতুন মাত্রা দেয়নি, বরং সৌদি আরবের নিরাপত্তা, তেল রপ্তানি এবং আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য নিয়েও নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে চলাচল সীমিত হয়ে পড়ায় সৌদি আরব এখন লোহিত সাগরের নৌপথের ওপর বেশি নির্ভরশীল।
মোখা দখল, কৌশলগত দ্বীপের দিকে অগ্রসর
১০ সেপ্টেম্বর ইয়েমেনের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোখা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর লোহিত সাগরের উপকূল ধরে আরও দক্ষিণে অগ্রসর হয়েছে হুথি বাহিনী। তারা কৌশলগত হানিশ দ্বীপপুঞ্জেও পৌঁছেছে বলে ইয়েমেন সরকারের সামরিক সূত্র দাবি করেছে।
এই অগ্রগতির ফলে বাব আল-মান্দেব প্রণালির ওপর হুথিদের প্রভাব আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। লোহিত সাগরের সঙ্গে এডেন উপসাগর এবং পরবর্তী সময়ে ভারত মহাসাগরের যোগাযোগ তৈরি করে এই প্রণালি। ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য এর গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।
হুথিদের এই অগ্রগতি এমন সময় ঘটল, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরান যুদ্ধ নভেম্বরের মধ্যবর্তী মার্কিন নির্বাচনের পর শেষ হতে পারে।
বাব আল-মান্দেব কেন এত গুরুত্বপূর্ণ
হুথিরা যদি বাব আল-মান্দেবের ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারে, তাহলে ইরানের জন্য এটি বড় কৌশলগত সুবিধা তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালির মতো বাব আল-মান্দেবও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ পথ। হরমুজ দিয়ে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন হতো। যুদ্ধের কারণে সেই পথ কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সৌদি আরবের জন্য লোহিত সাগরের রুট আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
চলতি বছরের মার্চ থেকে জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে বাব আল-মান্দাব দিয়ে সৌদি আরবের সমুদ্রপথে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় আট গুণ বেড়েছে। ২০২৪ সালে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪১ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী এমন পণ্যের মোট পরিবহনের প্রায় ৫ শতাংশ।
ফলে বাব আল-মান্দেবে বড় ধরনের বাধা তৈরি হলে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কা আসতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে আন্তর্জাতিক বাজারেও।
সৌদি জাহাজকে লক্ষ্য করার হুমকি
হুথি নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনের মানবিক কার্যক্রম সমন্বয় কেন্দ্র জানিয়েছে, লোহিত সাগরে অন্যান্য নৌযানের চলাচল নিরাপদ থাকবে। তবে সৌদি আরবের জাহাজগুলো এই নিরাপত্তার আওতায় থাকবে না বলে জানানো হয়েছে।
অর্থাৎ সৌদি জাহাজকে লক্ষ্য করে হুথিদের অবরোধ ও হামলার হুমকি অব্যাহত রয়েছে। এরই মধ্যে জুলাইয়ে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণা করেছিল হুথিরা। চলতি মাসে তারা হামলা আরও জোরদার করেছে।
হুথিদের হামলার মধ্যে সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর খামিস মুশাইতে ২৪ ঘণ্টায় চতুর্থবারের মতো জরুরি সতর্কতা জারি করেছে দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ।
জাতিসংঘের সতর্কবার্তা
ইয়েমেন পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে বিশেষ দূত হ্যান্স গ্রুন্ডবার্গ সতর্ক করে বলেছেন, ইয়েমেনের যুদ্ধ এখন আরও নতুন ও বিপজ্জনক পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।
মোখার নিয়ন্ত্রণ হুথিদের হাতে যাওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথের প্রবেশপথে তাদের সরাসরি উপস্থিতি তৈরি হয়েছে। এতে নৌযান চলাচলের স্বাধীনতা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি জেনিফার নাইডহার্ট ডি অর্টিজ হুতিদের ইরানের ‘এজেন্ট ও হাতিয়ার’ হিসেবে অভিযুক্ত করেছেন। তার দাবি, হুথিদের উত্তেজনা বৃদ্ধি গ্রহণযোগ্য নয় এবং যারা তাদের কর্মকাণ্ডে সহায়তা করছে, তাদের পরিণতির দায় নিতে হবে।
ইরান-সৌদি সংঘাতের নতুন মাত্রা
ইরান ও সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বিস্তার নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে। ইরান সরাসরি সৌদি আরবের সঙ্গে সংঘাতে না গিয়ে ইয়েমেন, লেবানন ও ইরাকের মতো দেশে মিত্র ও সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে প্রভাব ধরে রেখেছে বলে মনে করা হয়।
হুথিদের সাধারণত ইরান-সমর্থিত ‘প্রতিরোধ অক্ষের’ অংশ হিসেবে দেখা হলেও তাদের নিজস্ব সংগঠন, স্বার্থ ও রাজনৈতিক লক্ষ্যও রয়েছে। ইয়েমেনের দীর্ঘ যুদ্ধে তারা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহারে উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা তৈরি করেছে।
২০১৪ সালে হুথিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করার পর সংঘাত বড় আকার নেয়। ২০১৫ সালে সৌদি আরবের নেতৃত্বে একটি সামরিক জোট হুতিদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে। লক্ষ্য ছিল তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আবদ-রাব্বু মনসুর হাদির সরকারকে পুনরায় ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনা।
২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় বড় ধরনের লড়াই বন্ধ হলেও এবার নতুন করে সংঘাত তীব্র হয়েছে। চলতি সপ্তাহে হুতিদের হামলায় সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের তেল স্থাপনাও লক্ষ্যবস্তু হয়েছে এবং কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন।
তেলের বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব
হুথিদের অগ্রগতির খবর প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়েছে। বৃহস্পতিবার ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম একপর্যায়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৫ ডলারের ওপরে উঠে যায়, যা প্রায় ৪ শতাংশ বৃদ্ধি।
যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের জাতীয় গড় দামও প্রথমবারের মতো গ্যালনপ্রতি ৬ ডলার ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে গ্যাসবাডি।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দুই নৌপথ—হরমুজ ও বাব আল-মান্দাব—একই সময়ে সংঘাতের ঝুঁকিতে পড়ায় জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
পাকিস্তানের সতর্কবার্তা, ইরানের অস্বীকার
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পাকিস্তান ইরানকে হুথিদের নিয়ন্ত্রণে রাখার আহ্বান জানিয়েছে বলে সৌদি, পাকিস্তানি ও ইরানি সূত্র জানিয়েছে। সৌদি আরবের পক্ষ থেকে পাকিস্তান এই সতর্কবার্তা তেহরানের কাছে পৌঁছে দেয়।
তবে এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা বলেছেন, ইরান হুথিদের নিয়ন্ত্রণ করে না।
এদিকে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সাম্প্রতিক মক্কা চুক্তিও পরিস্থিতিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। চুক্তি অনুযায়ী, কোনো একটি সদস্য দেশ হামলার শিকার হলে সেটিকে সব সদস্যের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করার কথা বলা হয়েছে। এরই মধ্যে সৌদি আরবে পাকিস্তানের সেনা ও যুদ্ধবিমান মোতায়েনের খবরও এসেছে।
সামনে আরও বড় সংকটের আশঙ্কা
ইয়েমেন উপকূলে হুথিদের অগ্রগতি এমন এক সময়ে ঘটছে, যখন ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে উপসাগরীয় নৌপথে বড় ধরনের উত্তেজনা চলছে। হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি এখন বাব আল-মান্দাব ও লোহিত সাগরও সংঘাতের ঝুঁকিতে।
হুথিরা বাব আল-মান্দাবের ওপর প্রভাব বাড়াতে পারলে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি, আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে তেলের দাম বাড়লে ইরান যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের প্রচেষ্টাও আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
সব মিলিয়ে ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে হুথিদের অগ্রগতি এখন আর শুধু একটি দেশের গৃহযুদ্ধের বিষয় নয়। এটি সৌদি আরবের নিরাপত্তা, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিশ্ব জ্বালানি বাজার সবকিছুর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হয়ে পড়েছে।
সূত্র: রয়টার্স, আল-জাজিরা, বিবিসি
স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষ
স্পেনে মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনার পর দেশটিতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) থেকে এই রাষ্ট্রীয় শোক কার্যকর হয়েছে। খবর- বিবিসি।
একই সঙ্গে রেলওয়ের নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ধরনের ত্রুটি পাওয়া গেলে তা দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
দুর্ঘটনার বিষয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বলেন, চলতি বছরের শুরুতে স্পেনের একই রেলপথে ঘটে যাওয়া অন্য আরেকটি দুর্ঘটনায় ৪৮ জন নিহত হয়েছিল। তবে প্রাথমিক পর্যালোচনায় মনে হচ্ছে, বর্তমান দুর্ঘটনার সঙ্গে পূর্বের ওই ঘটনার কোনো মিল নেই। তবুও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের পরই এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
উচ্চগতির রেলব্যবস্থার ওপর জনসচেতনতা ও আস্থা ফেরানোর ওপর জোর দিয়ে পেদ্রো সানচেজ আরও বলেন, স্পেনের মতো দেশে একই বছরে উচ্চগতির ট্রেনের দুটি দুর্ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই খাতে যাত্রীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাবে।
দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনে ধাক্কা দেয় আরেক ট্রেন, ঝরল ৬৮ প্রাণ
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে স্পেনের মধ্যাঞ্চলের তোলেদো প্রদেশে ঘটে এ দুর্ঘটনা। যে দুটি ট্রেন দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে; সেগুলোর দুটিই ছিল দ্রুতগতির ট্রেন। আর দুটি ট্রেন মাদ্রিদ থেকে সোয়েদাদে যাচ্ছিল। ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন অন্ত ৬৮ জন। এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে পরিবহনমন্ত্রী বলেছেন, যেখানে দুর্ঘটনা ঘটেছে সেই অঞ্চলটির রেললাইনের প্রধান এলজেডবি সিগন্যালে ত্রুটি দেখা দেয়। পরে সেখানে থাকা সব ট্রেনকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে থামার সংকেত দেওয়া হয়।
যারমধ্যে ছিল দুর্ঘটনার শিকার হওয়া ‘রেনফে হাইস্পিড ট্রেন’ এবং ‘ইরো ট্রেন’। ওই সময় রেনফে ট্রেনটি পেছনে ছিল। আর ইরো ট্রেনটি ২৫ কিলোমিটার সামনে ছিল।
সিগন্যালে ত্রুটি দেখা দেওয়ার স্পেনের সরকারি রেলঅবকাঠামো পরিচালনা সংস্থা (আদিফ) ট্রেন পরিচালনার কমান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে নেয়।
এরপর যিনি কমান্ডে ছিলেন তিনি ‘রেনফে হাইস্পিড ট্রেনটিকে’ চলার অনুমতি দেন। যদিও সিগন্যালে লালবাতি ছিল।
কিন্তু ২৫ কিলোমিটার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ‘ইরো ট্রেনটি’ দাঁড়িয়েই ছিল।
লালবাতি সত্ত্বেও ‘রেনফে হাইস্পিড ট্রেনটিকে’ শুধুমাত্র চলার অনুমতিই দেওয়া হয়নি, এটিকে কোনো গতির সীমাও বেধে দেওয়া হয়নি। ফলে ‘রেনফে হাইস্পিড ট্রেনটি’ ২০০ কিলোমিটার গতিতে গিয়ে ২৫ কিলোমিটার সামনে থাকা ‘ইরো ট্রেনকে’ সজোরে ধাক্কা মারে।
স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষ
স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে ৬৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৮০ জন। আজ বুধবার দেশটির কাস্তিয়া-লা মাঞ্চা অঞ্চলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। কাস্তিয়া-লা মাঞ্চা অঞ্চল সরকারের বরাতে বার্তাসংস্থা রয়টার্স ও এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে।
ওই অঞ্চলের সরকারের মুখপাত্র এস্তের পাদিয়া এএফপিকে বলেন, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় আজ সকাল ৯টার দিকে মাদ্রিদ থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দক্ষিণে উরদা পৌর এলাকায় সরকারি একটি ট্রেনের সঙ্গে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইরিওর একটি ট্রেনের সংঘর্ষ ঘটে।
ঘটনার পর থেকে মাদ্রিদ থেকে দক্ষিণ স্পেনে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। দুর্ঘটনাস্থলে একাধিক দমকলবাহিনী, তিনটি হেলিকপ্টার ও দুটি ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা ইউনিট কাজ করছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, রেললাইনের ওপর এবং আশপাশে দুটি ট্রেনের ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে রয়েছে। আতঙ্কিত যাত্রীরা দ্রুত সরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
দুর্ঘটনার পর মাদ্রিদে একটি সম্মেলন বাতিল করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। একইসঙ্গে নির্বাচনী প্রচারের সব কার্যক্রম স্থগিত করেছে তার দল।
এ বছর দেশটিতে এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বড় ধরনের ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটল। এর আগে জানুয়ারিতে দক্ষিণাঞ্চলীয় আদামুজ গ্রামের কাছে দুটি দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে ৪৬ জন নিহত হন।
যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের কক্ষে বক্তৃতা চলাকালে কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মঞ্চের দিকে এগিয়ে এসে বাধা দিলে তাকে পিছিয়ে যেতে বলেছেন জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ। গতকাল মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) এ ঘটনা ঘটে।
কিউবার সরকার নিজেদের নেতাদের সম্পদশালী করেছে আর জনগণ ভুগছে এমন অভিযোগ করে ওয়াল্টজ বলেন, আমরা জানি। আমরা জানি, তা কোথায় গেছে। আর আজ আমরা তা বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে এখানে এসেছি।
কিউবার প্রতিনিধিদল তার বক্তব্যে বাধা দিতে চাইলে পাল্টা জবাব দেন ওয়াল্টজ। তিনি বলেন, আমি জানি, আপনারা এটা শুনতে পছন্দ করেন না। এটা আমেরিকা, বন্ধু। এটা জাতিসংঘ। এটা আপনাদের কমিউনিস্ট একনায়কতন্ত্র নয়। আপনারা আমাকে থামাতে পারবেন না।
সাধারণ পরিষদের সভাপতি শৃঙ্খলা ফেরানোর চেষ্টা করে প্রতিনিধিদের মনে করিয়ে দেন, জবাব দেওয়ার সুযোগ তারা পাবেন। তবু কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ পারিয়া মঞ্চের দিকে এগোতে থাকেন।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ওয়াল্টজ বলেন, এই ব্যক্তির এই মঞ্চ থেকে সরে যাওয়া উচিত। যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে তিনি আমাকে ভয় দেখাতে পারবেন না। তিনি আরও বলেন, আমি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি। পিছিয়ে যান! পিছিয়ে যান, রাষ্ট্রদূত। সরে যান! এটা হাভানা নয়।
কিউবার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক দশকের পুরোনো অবরোধ নিয়ে সাধারণ পরিষদের বার্ষিক বিতর্কের সময় এ বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। ওয়াল্টজ সদস্য দেশগুলোকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আহ্বান জানানো প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করতে অনুরোধ করছিলেন। পরে কিউবাকে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হলে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াল্টজকে মিথ্যাবাদী বলে অভিযোগ করেন এবং সাধারণ পরিষদের সভাপতিকে তাকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে বলেন।
রদ্রিগেজ বলেন, ‘মি. ওয়াল্টজ আবারও মিথ্যা বলছেন।’
তার যুক্তি, মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য এ ফোরাম ও সদস্য দেশগুলোর মর্যাদার সঙ্গে বেমানান এবং কিউবার সরকার ও জনগণের প্রতি অবমাননাকর।
পরবর্তীতে সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া একটি পোস্টে ওয়াল্টজ দাবি করেন, কিউবার কমিউনিস্ট নেতারা তাঁদের বিলাসবহুল রিয়েল এস্টেট সম্পদের বিষয়টি গোপন রাখতে চান। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, তিনি উপযুক্ত প্রমাণ নিয়েই উপস্থিত হয়েছিলেন, যা কিউবার প্রতিনিধিদলের পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব হয়নি।
সূত্র: ফক্স নিউজ
ছবি : সংগৃহীত
সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেডে ইসরায়েলি দূতাবাসের নিরাপত্তায় নিয়োজিত এক পুলিশ কর্মকর্তার ওপর ছুরি নিয়ে হামলা চালিয়েছে এক কিশোর। গতকাল মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) মধ্যরাতের পর এ ঘটনা ঘটে। আত্মরক্ষায় ওই পুলিশ কর্মকর্তা গুলি চালালে হামলাকারী নিহত হন।
সার্বিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইভিৎসা দাচিচ ঘটনাটিকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন। এ ঘটনার পর দেশটিতে সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কা সর্বোচ্চ পর্যায়ে নেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে পুলিশি নিরাপত্তাও বাড়ানো হয়েছে।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও ঘটনাটিকে ‘সন্ত্রাসী হামলার চেষ্টা’ বলে উল্লেখ করেছে। তারা জানিয়েছে, সার্বিয়ার কর্তৃপক্ষ এ ঘটনার তদন্ত করছে।হামলার সময় দূতাবাসে কোনো কর্মী ছিলেন না। ফলে দূতাবাসের কেউ আহত হননি।
যেভাবে হামলার ঘটনা ঘটেসার্বিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, কালো পোশাক পরা ওই কিশোর দূতাবাসের বাইরে নিরাপত্তারক্ষীদের বুথের দরজা খুলে ভেতরে থাকা পুলিশ কর্মকর্তার ওপর ছুরি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
বেলগ্রেডের উচ্চতর সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয় জানিয়েছে, হামলাকারী একটি ছুরি ছুড়ে মারলে তা ওই পুলিশ কর্মকর্তার বাম গালে লাগে।পরে পুলিশ কর্মকর্তা নিজের অস্ত্র বের করে কয়েকটি গুলি ছোড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই হামলাকারীর মৃত্যু হয়। আহত পুলিশ কর্মকর্তার আঘাত গুরুতর নয় বলে জানানো হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাচিচ বলেন, হামলাকারীর কাছে দুটি ছুরি ছিল।
আইএসের সমর্থক সন্দেহে তদন্ত
সার্বিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, নিরাপত্তা সংস্থাগুলো আগে থেকেই হামলাকারীর ওপর নজর রাখছিল। সে ইসলামিক স্টেট বা আইএসের সমর্থক ছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
দাচিচ বলেন, হামলাকারীর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে আইএসের সমর্থনে কালো পতাকার ছবি ছিল।
হামলাকারী পশ্চিম সার্বিয়ার সাবাচ শহরের বাসিন্দা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তার পরিচয় ও হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে তদন্ত চলছে।
ঘটনার পর দূতাবাসের আশপাশের এলাকা ঘিরে ফেলে পুলিশ। নিরাপত্তা জোরদার করা হয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতেও। সরকার পরিবর্তনের পর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগসার্বিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ পার্লামেন্ট নির্বাচনের কয়েকদিনের মাথায় এ হামলার ঘটনা ঘটল। রোববারের নির্বাচনে সাবেক প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্দার ভুসিচের দীর্ঘদিনের শাসনের অবসান ঘটে। প্রায় দুই বছর ধরে চলা বিক্ষোভের পর শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন আন্দোলন নির্বাচনে জয় পায়।
তবে নতুন সরকার গঠিত না হওয়ায় এখনো পুলিশসহ গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ ভুসিচ ও তার মিত্রদের হাতে রয়েছে।অন্যদিকে, ইসরায়েলেও মঙ্গলবার পার্লামেন্ট নির্বাচন হয়েছে। বুথফেরত জরিপে সেখানে কোনো পক্ষের স্পষ্ট জয়ের আভাস পাওয়া যায়নি।
তবে সার্বিয়ায় সরকার পরিবর্তন এবং ইসরায়েলে নির্বাচনের সঙ্গে বেলগ্রেডের দূতাবাসে হামলার সরাসরি কোনো যোগসূত্র পাওয়া যায়নি।
আগেও হামলার শিকার হয়েছিল দূতাবাস
বেলগ্রেডে ইসরায়েলি দূতাবাসে এর আগেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। ২০২৪ সালের জুনে ক্রসবো নিয়ে হামলা চালিয়ে এক ব্যক্তি দূতাবাসের নিরাপত্তায় নিয়োজিত এক সার্বীয় পুলিশ কর্মকর্তাকে আহত করেন। পরে ওই হামলাকারীকেও গুলি করে হত্যা করা হয়।
বেলগ্রেডের একটি অভিজাত এলাকায় অবস্থিত ইসরায়েলি দূতাবাসের কাছেই যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস। গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকায় স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রে সজ্জিত বিশেষ পুলিশ ইউনিট নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করে।
সার্বিয়ার সঙ্গে ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। নতুন হামলার পর দূতাবাস ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে।
সূত্র: এপি
ঘূর্ণিঝড় অর্ণব
ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ উপকূলে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের আঘাতে অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। গাছের নিচে চাপা পড়ে এবং বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তাদের মৃত্যু হয়।
আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অন্ধ্র প্রদেশের বিশাখাপত্তনম, অনাকাপল্লে, কাকিনাড়া, কোনাসীমা ও পশ্চিম গোদাবরী জেলায় একজন করে মারা গেছেন।
ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আজ বুধবার স্থানীয় সময় রাত ২টা থেকে সকাল ৮টার মধ্যে অন্ধ্র প্রদেশ ও ইয়ানাম উপকূল অতিক্রম করে ঘূর্ণিঝড়টি। উপকূল অতিক্রমের সময় এটি অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের রূপে ছিল। তখন বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার, যা দমকা হাওয়ায় ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছায়।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ঘূর্ণিঝড়টির স্থলভাগে প্রবেশের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এর কেন্দ্র পুরোপুরি স্থলভাগে প্রবেশ করেছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় এটি উত্তর উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে এবং ধীরে ধীরে শক্তি হারাবে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ছয় ঘণ্টার মধ্যে অর্ণব ঘূর্ণিঝড়ে এবং পরবর্তী ছয় ঘণ্টায় গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে।
এদিকে, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে রেল চলাচলের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছেন ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক বার্তায় তিনি জানান, ১০টি স্থানে গাছ পড়ে যাওয়ার মতো ছোটখাটো বিঘ্নের খবর পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মীরা দ্রুত সেগুলোর সমাধান করেছেন। রেল চলাচল নিরাপদ ও স্বাভাবিক রাখতে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
ছবি : সংগৃহীত
স্পেনে দুটি দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ৩৯ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় বুধবার সকাল ৯টার কিছু পর রেনফে ও ইরিও পরিচালিত দুটি ট্রেনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে বলে জানিয়েছে কাস্তিয়া-লা মাঞ্চা অঞ্চলের এক সরকারি মুখপাত্র।
তিনি বলেন, দুর্ঘটনার কারণ ও হতাহতের পূর্ণ সংখ্যা এখনো নির্ধারণ করা হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে একটি খাদে ট্রেনের বগিগুলো কাত হয়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে জরুরি সেবাকর্মীদের ডাকা হয়।
রেল পরিচালনাকারী সংস্থা আদিফ জানিয়েছে, মধ্য স্পেনের মোরা ও অরগাস শহরের মধ্যবর্তী এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। এতে মাদ্রিদ থেকে সেভিয়ার দিকে যাওয়া রেনফে ও ইরিওর দুটি দ্রুতগতির ট্রেন জড়িত ছিল।
তোলেদো শহরের কাছের উরদা পৌরসভার মেয়র ম্যানুয়েল গালান জানান, আহতদের রাখার জন্য একটি ক্রীড়া হল প্রস্তুত করতে জরুরি সেবাকর্মীরা তাকে অনুরোধ করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় আদিফ জানায়, দুই ট্রেনের পেছন থেকে সংঘর্ষের কারণে মাদ্রিদ-আন্দালুসিয়া দ্রুতগতির রেলপথে চলাচল স্থগিত করা হয়েছে।
তথ্যসূত্র: ইন্ডিপেন্ডেন্ট