ছবি : সংগৃহীত
মার্কিন সেনাবাহিনীর ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের কয়েক হাজার সেনাকে পেন্টাগন শিগগিরই মধ্যপ্রাচ্যে পাঠাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুদ্ধ বন্ধে তেহরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নানান কথাবার্তার ভেতরেই তারা ওই অঞ্চলে সমরশক্তি আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে এ পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে।
বিষয়টি সম্বন্ধে অবগত দুই ব্যক্তি মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ আভাস দিয়েছেন।
ইরানি ভূখণ্ডে সেনা ঢোকানোর পাশাপাশি পেন্টাগনের হাতে থাকা বিকল্পের সংখ্যা বাড়াতে ট্রাম্প প্রশাসন যে মধ্যপ্রাচ্যে আরও কয়েক হাজার সেনা মোতায়েনের কথা ভাবছে, তা গত সপ্তাহেই এক প্রতিবেদনে বলেছিল সংবাদমাধ্যমটি।
এমন কিছু হলে তা সংঘাত দীর্ঘ হওয়ার সম্ভাবনাও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেবে।
চার সপ্তাহ ধরে চলা এ যুদ্ধ এরই মধ্যে তেলের দাম ও বিশ্বের শেয়ার বাজারগুলোকে অস্থির করে রেখেছে।
নতুন করে যে সেনাদের পাঠানোর কথা ভাবা হচ্ছে তাদেরকে মধ্যপ্রাচ্যের কোথায় মোতায়েন করা হবে, এবং তারা কবে ওই অঞ্চলে পৌঁছাবে তা সুনির্দিষ্টভাবে বলতে পারেননি নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলা ওই দুই কর্মকর্তা।
মার্কিন সেনাবাহিনীর ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের ওই সেনারা এখন নর্থ ক্যারোলাইনার ফোর্ট ব্র্যাগে আছেন।
এ প্রসঙ্গে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে প্রশ্ন করা হলে তারা হোয়াইট হাউসকে দেখিয়ে দেয়। হোয়াইট হাউস জানায়, সেনা মোতায়েনের সব ঘোষণা পেন্টাগন থেকে আসবে।
“যেমনটা আমরা বলে আসছি, ট্রাম্পের হাতে সব ধরনের সামরিক বিকল্পই আছে,” বলেছেন হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যানা কেলি।
ইরানের ভেতর সেনা পাঠানোর কোনো সিদ্ধান্ত এখন পর্যন্ত হয়নি, তবে নতুন করে যুক্ত হওয়ার পথে থাকা সেনারা ওই অঞ্চলে সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ অভিযানের সক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে, রয়টার্সকে এমনটাই বলেছে একটি সূত্র।
পেন্টাগন ওই অঞ্চলে তিন থেকে চার হাজার সেনা পাঠাতে যাচ্ছে, বলেছে সূত্রগুলোর একটি।
এর আগে ২০ মার্চের এক প্রতিবেদনে রয়টার্স বলেছিল, উভচর আক্রমণকারী জাহাজ ইউএসএস বক্সার, মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট ও তার সঙ্গে থাকা যুদ্ধজাহাজের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক হাজার মেরিন ও নাবিক পাঠাতে যাচ্ছে।
নতুন সেনারা যুক্ত হওয়া ছাড়াই মধ্যপ্রাচ্যে এখন ৫০ হাজারের মতো মার্কিন সেনা অবস্থান করছে।
তার সঙ্গে আরও ‘তিন-চার হাজার সেনা’ যুক্ত করার এ পরিকল্পনার খবর বাইরে আসার আগের দিনই ট্রাম্প তেহরানের সঙ্গে ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনার বরাত দিয়ে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে হামলার হুমকি দিন কয়েকের জন্য স্থগিত করেছিলেন।
তবে সোমবার ট্রুথ সোশালে ট্রাম্পের ওই মন্তব্যের পর ইরান কোনো ধরনের আলোচনার খবর অস্বীকার করেছিল।
২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত কেবল মার্কিন বাহিনীই ইরানি ভূখণ্ডে ৯ হাজার নিশানায় হামলা চালিয়েছে। এ যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১৩ মার্কিন সেনার প্রাণ গেছে এবং ২৯০ জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা।
আহতদের মধ্যে ১০ জনের জখম গুরুতর, ২৫৫ সেনা ফের দায়িত্বে নিয়োজিত হয়েছেন, বলেছেন তিনি।
চার সপ্তাহ ধরে চলা এ হামলায় ইরানের ভেতর অসংখ্য স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, প্রায় দুই হাজার বেসামরিক নিহত হয়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনী এখন হরমুজ প্রণালির দখল নেওয়াসহ ইরান যুদ্ধের নানান বিকল্প খতিয়ে দেখছে বলে সূত্রের বরাত দিয়ে আগেই একাধিক মার্কিন গণমাধ্যম জানিয়েছিল।
হরমুজ দখলে ইরানের উপকূলে মার্কিন সেনা মোতায়েনের কথা ভাবা হচ্ছে বলে জানিয়েছিল তারা।
ট্রাম্প প্রশাসন এমনকি ইরানের ৯০ শতাংশ তেল যে দ্বীপ দিয়ে রপ্তানি হয়, সেই খার্ক দ্বীপে স্থলসেনা মোতায়েনের কথাও ভাবছে বলে রয়টার্সের আগেকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল।
আদেশ পাওয়ার ১৮ ঘণ্টার মধ্যে মোতায়েনে সক্ষম ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশন প্যারাস্যুটের সাহায্যে নেমে আক্রমণ পরিচালনায় পারদর্শী।
তবে ইরানে সীমিত পরিমাণ স্থল সেনা পাঠানো হলেও তা ট্রাম্পের জন্য বড়সড় রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক।
ইরানে মার্কিন হামলা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই ব্যাপক সমালোচনা চলছে। বেশিরভাগ জরিপেই সিংহভাগ মার্কিন নাগরিকই যে এ যুদ্ধ চান না তা প্রতিফলিত হয়েছে।
দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার আগে ট্রাম্প নিজেও মধ্যপ্রাচ্যে আর কোনো যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে জড়াবেন না, এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
মঙ্গলবার প্রকাশিত রয়টার্স/ইপসসের সর্বশেষ জরিপ বলছে, ইরানে হামলায় সম্মতি আছে মাত্র ৩৫% মার্কিন নাগরিকের, গত সপ্তাহেও এ হার ছিল ৩৭ শতাংশ। অন্যদিকে হামলার বিরোধিতা করছেন ৬১ শতাংশ, গত সপ্তাহের তুলনায় যা দুই শতাংশ বেশি।
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও গাদি আইজেনকোট
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট (নেসেট) নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি জোটের সঙ্গে বিরোধী জোটের সমানে-সমান লড়াইয়ের আভাস মিলেছে। নির্বাচনের ফলাফল এতটাই কাছাকাছি যে, এখনই চূড়ান্ত কোনো পূর্বাভাস দেওয়া যাচ্ছে না।
সামান্য ব্যবধানে নেতানিয়াহু জোটের এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত মিললেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন থেকে তা বেশ দূরে। দুটি বুথফেরত জরিপের তথ্যের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে,গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট এবং বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর শিবিরের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা সমান-সমান। আর তৃতীয় একটি জরিপে নেতানিয়াহুর শিবির সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে।
বিবিসি বলছে, ইসরায়েলের ‘কান এলেভেন’ এবং ‘চ্যানেল থার্টিন’ নিউজ নেটওয়ার্ক তাদের বুথফেরত জরিপের যে তথ্য প্রকাশ করেছে, সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বী জোট দুটির প্রত্যেকটিই ৫১টি করে আসন পেতে পারে বলে আভাস দেওয়া হয়েছে। শেষ মুহূর্তে এসে চ্যানেল-টুয়েলভ তাদের বুথফেরত জরিপ সংশোধন করেছে। তাদের নতুন বুথফেরত জরিপ অনুযায়ী, আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন জোটকে সামান্য পিছিয়ে ৫০টি আসনে এবং নেতানিয়াহুর জোটকে ৫২টি আসনে দেখানো হয়েছে।
এর আগে, তারা ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর জোটের চাইতে বিরোধী জোটকে কিছুটা এগিয়ে দেখিয়েছিল। সর্বশেষ বুথফেরত জরিপ অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর জোট নেসেটে একক বৃহত্তম দল হতে যাচ্ছে। অন্যদিকে চ্যানেল টুয়েলভের বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে, নেতানিয়াহুর জোট ৫২ আসনে জিতেছে। আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ৪৯ আসনে জিতেছে। আরব লিস্ট জিতেছে ১৯ আসনে।
তবে বুথফেরত জরিপের বরাতে বিবিসি বলছে, আরব দলগুলো ১৭টি বা তারও বেশি আসনে জয়ী হয়ে এ যাবতকালের মধ্যে তাদের সেরা ফলাফল অর্জন করার পথে রয়েছে।
এরই মধ্যে ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচনী কমিটি থেকে আনুষ্ঠানিক ভোট গণনা ও ফলাফল আসতে শুরু করেছে। স্থানীয় সময় মধ্যরাত থেকে আনুষ্ঠানিক গণনা শুরু হয়েছে যা এখনও চলছে। ভোর ৪টা পর্যন্ত প্রায় ২৫ শতাংশ ভোট গণনা করা হয়েছে। তবে ভোট গণনা সম্পন্ন হতে কয়েক দিন সময় লেগে যেতে পারে।
এখন পর্যন্ত কোনো জোটেরই স্পষ্ট জয়ের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না। অর্থাৎ ১২০ আসনের পার্লামেন্টে কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন নিশ্চিত করতে পারেনি। যদিও নির্বাচনের ফলাফল এখন পর্যন্ত চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা যাচ্ছে না। তবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা অত্যন্ত তীব্র রূপ নিয়েছে।
সাবেক সেনাপ্রধান আইজেনকোট নবগঠিত ‘ইয়াশার’ দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনিই মূলত বিরোধী শিবিবের ‘চেঞ্জ ব্লক’ এর প্রধান মুখ। এই জোটটি মূলত বিরোধী দলগুলোর সমন্বয়ে গঠিত যাদের সবার লক্ষ্য- নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানো।
সরকার গঠনে দীর্ঘ আলোচনা-দরকষাকষি হতে যাচ্ছে
সরকার গঠনের জন্য সম্ভবত দলগুলোর মধ্যে সামনের দিনগুলোতে সপ্তাহ বা মাসব্যাপী দীর্ঘস্থায়ী আলোচনা ও দরকষাকষি হতে যাচ্ছে, যেখানে একাধিক বিকল্প পথ খোলা রয়েছে।
নেসেটের ১২০টি আসনের সবকটিতেই এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে দেশটির ইতিহাসে কোনো দলই এককভাবে কখনো সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। আগে থেকেই সেখানে জোটবদ্ধভাবে সরকার গঠিত হয়ে আসছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামাস-নিয়ন্ত্রিত হামলার পর এটিই ইসরায়েলের প্রথম আইনসভা (পার্লামেন্ট) নির্বাচন।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ক্ষমতায় থাকছেন, নাকি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আধিপত্যের অবসান ঘটছে তা নির্ধারণে ভোট দিচ্ছেন দেশটির নাগরিকেরা। গাজায় যুদ্ধ, ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুতি, দুর্নীতির অভিযোগ এবং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর নিরাপত্তা ব্যর্থতা নিয়ে বিতর্কের মধ্যে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এ নির্বাচন। প্রধান দুই রাজনৈতিক শিবিরের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
মঙ্গলবার ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটের ১২০টি আসনে ভোটগ্রহণ চলছে। দেশটিতে প্রায় ৭৩ লাখ নিবন্ধিত ভোটার রয়েছেন। নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং পরবর্তী সরকার গঠনের সমীকরণ।
ইসরায়েলের নির্বাচনী ব্যবস্থায় ভোটাররা সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করেন না; বরং পছন্দের রাজনৈতিক দলকে ভোট দেন। প্রতিটি দল নির্বাচনের আগে প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করে। নেসেটে আসন পেতে একটি দলকে অন্তত ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ ভোট পেতে হয়। প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১২০টি আসন বণ্টন করা হয়। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসন।
এর আগের জনমত জরিপে দেখা গেছে, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ডানপন্থি জোটের সঙ্গে ইহুদি নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে পারে। তবে ভোটে নেতানিয়াহুকে হারালেই যে ক্ষমতা থেকে সরানো যাবে, বিষয়টা এমন নয়। আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) নির্বাচনী ব্যবস্থায় পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে দলগুলোকে জোট গঠন নিয়ে আলোচনা করতে হয়। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসন। দেশটির ইতিহাসে এখনো কোনো দল এককভাবে এই ‘ম্যাজিক ফিগার’ স্পর্শ করতে পারেনি।
সাম্প্রতিক জনমত জরিপ অনুযায়ী, বিরোধী জোট ৫২টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর জোট পেতে পারে ৫০টি। ফলে কারা সরকার গঠন করবে, তা নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে অন্য কয়েকটি দল। এরমধ্যে ফিলিস্তিনিদের নেতৃত্বাধীন দলগুলোও আছে।
জনমত জরিপে কিছুটা পিছিয়ে আছে নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টি। কিন্তু বর্তমান মিত্র ও নতুন জোটসঙ্গীদের কাছে থেকে পর্যাপ্ত সমর্থন নিশ্চিত করতে পারলে তিনি আবারও প্রধানমন্ত্রীর পদে থাকতে পারেন। নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের মিত্রদের মধ্যে আছে- কট্টর ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের ওতজমা ইহুদিত ও অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচের রিলিজিয়াস জায়োনিজম পার্টি।
অতি-কট্টর ইহুদিদের দল শাস ও ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজমও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। দল দুটি অতীতে একাধিকবার নেতানিয়াহুর জোট সরকারে যোগ দিয়েছে। তবে পরে জোট ছেড়েও গেছে। সবশেষ ২০২৫ সালে তারা জোট থেকে বেরিয়ে যায়।
সেপ্টেম্বর মাসের শেষ দিকে চারটি বিরোধী দল নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করতে চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। সেগুলো হলো ইয়াশার পার্টি, দ্য ডেমোক্র্যাটস, ইসরায়েল বেইতেনু ও টুগেদার পার্টি। দলগুলোর জোট জানায়, ইসরায়েলকে একটি ইহুদি ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে তারা ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। এই জোটটি সরকার গঠন করলে কে নেতৃত্ব দেবেন তা এখনো ঘোষণা করেনি। তবে ইয়াশার পার্টির নেতা ও সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটকে প্রধানমন্ত্রী পদের সবচেয়ে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটও সম্ভাব্য প্রার্থী। তিনি ইয়ার লাপিদের সঙ্গে টুগেদার জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
ইসরায়েলের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ আরব ও ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত। তাদের প্রতিনিধিত্ব করে রাজনৈতিক দল রাআম ও জয়েন্ট লিস্ট নামের একটি জোট। তারা প্রায় ১৩টি আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাআম ‘ইউনাইটেড আরব লিস্ট’ নামেও পরিচিত। ২০২১ সালে তারা নাফতালি বেনেটের জোট সরকারে যোগ দিয়েছিল। ইসরায়েলের কোনো সরকারে অংশ নেওয়া প্রথম আরব নেতৃত্বাধীন দল এটি।
রাআমের নেতা মানসুর আব্বাস ইঙ্গিত দিয়েছেন, সরকার গঠন করতে বিরোধীদের নেতৃত্বাধীন জোটের যদি অতিরিক্ত আসনের প্রয়োজন হয়, তাহলে তিনি সমঝোতায় রাজি হতে পারেন। তবে আইজেনকোটসহ বিরোধী নেতাদের অধিকাংশই এ ধরনের জোট গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন।
জোট সরকার চাইলে প্রয়োজনীয় ৬১ আসন পূরণের জন্য বাইরের দলের কাছে থেকে সমর্থন নিতে পারবে। এক্ষেত্রে ওই দলকে সরকারে অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি নয়। ঠিক এ জায়গাতেই নির্ধারক হতে পারে আরব ও ফিলিস্তিনপন্থি দলগুলো। হাদাশ, তাআল ও বালাদ নামের তিনটি গোষ্ঠীকে নিয়ে গঠিত জয়েন্ট লিস্ট জানিয়েছে, নেতানিয়াহু বিরোধী জোটে যোগ না দিলেও তারা সমর্থন দেবে। বিনিময়ে দলটি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি এবং সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনসহ কিছু শর্ত পূরণের দাবি জানিয়েছে। তবে এ ধরনের সমঝোতা হলে দলত্যাগ এবং গুরুত্বপূর্ণ নীতির বিষয়ে মতবিরোধের কারণে সরকার টিকে থাকার ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
অন্যদিকে ইসরায়েলের পার্লামেন্টে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের নিয়ম আছে। সাধারণত যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অর্থনৈতিক সংকটের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে এ ধরনের সরকার গঠন করা হয়। তবে রাজনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যেও জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠন করতে দেখা গেছে। ২০২০ সালের মে মাসে পরপর তিনটি নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলো সরকার গঠনে ব্যর্থ হয়। তখন নেতানিয়াহু ও ‘ব্লু অ্যান্ড হোয়াইট’ দলের নেতা বেনি গান্তজ ঐক্যের সরকার গঠন করেন। তবে এক বছরের মধ্যে তাদের সমঝোতা ভেঙে যায়।
২০২৩ সালে হামাসের নেতৃত্বে ইসরায়েলে হামলার পর গান্তজ ও তাঁর দলের সদস্যরা নেতানিয়াহুর জোটে যোগ দেন। এটিকেও জরুরি পরিস্থিতিতে গঠিত ঐক্যের সরকার হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল। ক্ষমতা ভাগাভাগির সমঝোতার আওতায় দুই রাজনৈতিক নেতা পালাক্রমে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনে সম্মত হতে পারেন। ২০২০ সালে নেতানিয়াহু ও গান্তজ এ ধরনের সমঝোতায় রাজি হয়েছিলেন। তবে গান্তজ দায়িত্ব নেওয়ার আগে জোট ভেঙে যায়।
২০২১ সালের জুনে নাফতালি বেনেট প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ইয়ার লাপিদের সঙ্গে একই ধরনের সমঝোতা করেন। চুক্তি অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময় পর তাঁদের মধ্যে দায়িত্ব হস্তান্তরের কথা ছিল। কিন্তু ২০২২ সালের জুনে বেনেটের জোট পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায়।
পরে জুলাই মাসে তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন লাপিদ। ইসরায়েলে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন নেসেটের সদস্যদের সমর্থনে। কিন্তু সরকার গঠন নিয়ে দলগুলো অচলাবস্থায় পড়লে এমন কাউকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেছে নেওয়া হতে পারে যিনি সবার কাছে গ্রহণযোগ্য। এক্ষেত্রে ওই ব্যক্তি কোনো নির্দিষ্ট জোটের বিরোধী শিবিরের সদস্যও হতে পারেন।
কোনো জোটই যদি সরকার গঠনে পর্যাপ্ত সমর্থন জোগাড় করতে না পারে তাহলে ইসরায়েল আবারও রাজনৈতিক সংকটের মুখে পড়বে। যা নতুন করে নির্বাচন আয়োজনের দিকে গড়াবে। স্থিতিশীল সরকার গঠনে বারবার ব্যর্থতার কারণে দেশটিতে ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে পাঁচবার নির্বাচন হয়। এবারও তেমনটা হলে নতুন সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তত্ত্ববধায়ক প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করতে পারেন।
ভোটগ্রহণ শেষে ইসরায়েলি টেলিভিশন চ্যানেলগুলো ভোট-পরবর্তী জরিপের ফল প্রচার করবে। জরিপ থেকে ফলাফল সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যাবে। এরপর আসতে শুরু করবে প্রকৃত ভোটের ফল। নির্বাচনে কারা বিজয়ী হতে যাচ্ছে, সে সম্পর্কে আভাস পাওয়া যাবে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে। তবে পুরো চিত্র স্পষ্ট হতে কয়েকদিন, এমনকি কয়েক সপ্তাহও লাগতে পারে।
কোনো একক দল বা জোট পার্লামেন্টে স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে পরিস্থিতি পরিষ্কার হতে আরও সময় লাগতে পারে। আশা করা হচ্ছে আগামী ৩০ অক্টোবরের মধ্যে চূড়ান্ত ভোট গণনা শেষ হবে। আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশ করা হবে ৪ নভেম্বর।
স্টারলিংক
ইলন মাস্কের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংক ব্যবহারকারীদের ওপর বিশ্বজুড়ে নজরদারি চালাতে বড় আকারের ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের ফাঁদ পেতেছিল ইসরায়েলি এক বিজ্ঞাপন প্রযুক্তি কোম্পানি। জাপানের এক ডিজিটাল ডিফেন্স বা সাইবার নিরাপত্তা কোম্পানির অনুসন্ধানে এমন তথ্য উঠে এসেছে। বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত ছয়টি ভিন্ন সূত্রের বরাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে রয়টার্স।
যুক্তরাষ্ট্র ও টোকিওভিত্তিক সাইবার নিরাপত্তা কোম্পানি ‘ট্রেন্ড মাইক্রো’র অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ‘ট্রেন্ডএআই’-এর গবেষকরা বলছেন, স্পেসএক্সের স্টারলিংক ব্যবহারকারীদের ডিজিটাল বিজ্ঞাপন দেখানোর ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে কাজ করছিল ইসরায়েলি কোম্পানি ‘ডিসকভার-টেক’।
এসব বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের ভৌগোলিক অবস্থান শনাক্তকরণসহ অন্যান্য উপায়ে নজরদারি চালানো হচ্ছিল।
নিজের নেটওয়ার্ক ডেটা বিশ্লেষণ করে ‘ট্রেন্ডএআই’ বলেছে, স্টারলিংক ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করে বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞাপন নিলামে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা বড় কোম্পানিগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে ডিসকভার-টেক।
বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশে স্টারলিংক ট্রাফিকের ওপর শীর্ষ দরদাতা ছিল কোম্পানিটি। যার মধ্যে এমন বেশ কয়েকটি দেশও রয়েছে, যেখানে স্টারলিংক সেবা আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ বা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত।
বিডিং হচ্ছে একটি জটিল ডিজিটাল নিলাম ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে বিজ্ঞাপনদাতারা ব্যবহারকারীর ব্রাউজার ও অ্যাপের ভেতরের বিজ্ঞাপনের জায়গা দখল করে।
এ বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি স্পেসএক্স। বিষয়টি নিয়ে ডিসকভার-টেক ও এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও সাড়া দেননি তারা।
১৫ অক্টোবর স্টারলিংক ব্যবহারকারীদের ওপর এমন নজরদারি নিয়ে এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ট্রেন্ডএআই। তবে প্রতিবেদনে সরাসরি ডিসকভার-টেকের নাম উল্লেখ না করে এর পেছনে দায়ী পক্ষকে ‘একটি বিজ্ঞাপন প্রযুক্তি’ কোম্পানি হিসেবে বর্ণনা করে কোম্পানিটিকে ‘শ্যাডো-আর্থ-৭৯’ ছদ্মনামে চিহ্নিত করা হয়।
সূত্রগুলো বলেছে, ‘শ্যাডো-আর্থ-৭৯’ ডিসকভার-টেকের জন্য ব্যবহৃত ট্রেন্ডএআই-এর নিজস্ব কোডনেইম।
প্রতিবেদনে ডিসকভার-টেকের নাম প্রকাশ না করার কারণ সম্পর্কে সরাসরি কিছু না বললেও বিবৃতিতে ট্রেন্ডএআই বলেছে, ভুল তথ্যের ঝুঁকি এড়ানো ও হাইপ তৈরি করে এমন নাম ব্যবহার না করার নীতি থেকেই তারা এটা করেছে। যাতে ডিজিটাল নিরাপত্তারক্ষীরা বিভ্রান্ত না হন, ঝুঁকির অগ্রাধিকার ঠিক থাকে ও অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো পদক্ষেপ তৈরি না হয়।
বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের সরকারগুলো যখন স্যাটেলাইট ইন্টারনেট টার্মিনালের প্রসার নিয়ন্ত্রণে লড়াই করছে তখনই স্টারলিংক ব্যবহারকারীদের ট্র্যাকিং বা নজরদারি করার উপায় খুঁজে বের করা এক ধরনের লাভজনক শিল্পে রূপ নিয়েছে।
যেহেতু এসব টার্মিনাল স্থানীয় টেলিকম কোম্পানির পরিবর্তে সরাসরি স্পেসএক্সের স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ডেটা আদান-প্রদান করে ফলে এরা খুব সহজেই স্থানীয় ইন্টারনেট নিষেধাজ্ঞা বা সেন্সরশিপ এড়িয়ে যেতে পারে।
যুদ্ধক্ষেত্রে যোগাযোগ স্থাপন ও সমন্বয়েও বড় ভূমিকা রাখছে এ প্রযুক্তি, বিশেষ করে ইউক্রেইন যুদ্ধের সামনের সারির যোগাযোগ ও ড্রোন হামলার দিকনির্দেশনায় স্টারলিংক গুরুত্বপূর্ণ সংস্থান হয়ে উঠেছে।
এর আগে, মে মাসে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘হারেৎস’ ও ওয়েবসাইট ‘ইন্টেলিজেন্স অনলাইন’ আলাদা প্রতিবেদনে বলেছিল, ইসরায়েলি মালিকানাধীন বেশ কিছু কোম্পানি ক্লায়েন্টদের কাছে স্টারলিংক ব্যবহারকারীদের শনাক্ত ও ট্র্যাক করার বিভিন্ন কৌশল বিক্রি করছে।
হারেৎস প্রতিবেদনে লিখেছিল, বিজ্ঞাপন ডেটার সুযোগ নেওয়াই ছিল ট্র্যাকিং প্রক্রিয়ার অন্যতম প্রধান ভিত্তি।
ডিসকভার-টেকের বিরুদ্ধে ব্যাপক নজরদারির অভিযোগ
যেদিন ট্রেন্ডএআই ‘শ্যাডো-আর্থ-৭৯’ সংক্রান্ত তাদের প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে ঠিক একই দিন কানাডীয় সাইবার ওয়াচডগ ‘সিটিজেন ল্যাব’ ও নিউ ইয়র্কের বিজ্ঞাপন প্রযুক্তি বিষয়ক কোম্পানি ‘কনফিয়েন্ট’ সরাসরি ডিসকভার-টেকের নাম উন্মোচন করেছে।
উভয় গোষ্ঠীই বলেছে, ইসরায়েলি কোম্পানিটি বিজ্ঞাপন নিলামের সুযোগটির অপব্যবহার করেছে। এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য পুনরায় নিলামে অংশ নেওয়া কোম্পানির কাছে গোপন সূত্রে পৌঁছে যেত।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দরদাতারা এ ফাঁস হওয়া তথ্য সংগ্রহ ও একত্র করে অন্যান্য তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে ব্যবহারকারীর পরিচয় প্রকাশ করতে পারে। ফলে ওয়েবজুড়ে তাদের গতিবিধির ওপর নজর রাখা ও কিছু কিছু ক্ষেত্রে নজরদারি সফটওয়্যারের মাধ্যমে তাদের সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা সম্ভব।
সিটিজেন ল্যাব ও কনফিয়েন্ট বলেছে, গণমাধ্যম, সরকার ও প্রযুক্তি কোম্পানির মতো বেশ কিছু সংবেদনশীল নেটওয়ার্কের ভেতরেও এসব বিজ্ঞাপন দেখানো হয়েছিল।
এ তদন্তের মুখে গুগলের পাশাপাশি কমকাস্টসহ অন্যান্য প্রধান প্রযুক্তি কোম্পানি তাদের বিভিন্ন বিজ্ঞাপন প্ল্যাটফর্ম থেকে ডিসকভার-টেককে সম্পূর্ণ সরিয়ে দিয়েছে বলে জানিয়েছে।
বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত সূত্রের বরাতে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত একটি প্রধান প্রযুক্তি কোম্পানি ও একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা সম্প্রতি নিজস্ব তদন্ত শুরু করেছে যে ডিসকভার-টেকের তৈরি এ বিজ্ঞাপনী ফাঁদে তাদের কর্মীরাও পড়েছিলেন কি না।
ইয়েমেন ও দক্ষিণ সুদানে শীর্ষ বিজ্ঞাপনদাতা
ট্রেন্ডএআই-এর প্রতিবেদনে কিছু সন্দেহজনক বিডিং প্যাটার্ন উল্লেখ করে বলা হয়, ‘শ্যাডো-আর্থ-৭৯’ কোনো স্বাভাবিক বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপনী কার্যক্রম পরিচালনা না করে ‘নজরদারি ও ট্র্যাকিং অবকাঠামো’ চালাচ্ছিল।
স্টারলিংক ব্যবহারকারীদের ওপর তাদের এ নজরদারির অতিরিক্ত ঝোঁক ছাড়াও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, সিরিয়া, লিবিয়া, ইয়েমেন ও দক্ষিণ সুদানে সবচেয়ে বেশি বিজ্ঞাপন কিনেছে ‘শ্যাডো-আর্থ-৭৯’।
এ ছাড়া, আফগানিস্তানে তারা ছিল দ্বিতীয় বৃহত্তম বিজ্ঞাপন ক্রেতা। অথচ এসব আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞাগ্রস্ত বা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলোতে পশ্চিমা বৈধ পণ্যের বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপনের চাহিদা বলতে গেলে একেবারেই শূন্য।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, হাঙ্গেরি, ইসরায়েল, মিসর, আজারবাইজান ও ভেনিজুয়েলাসহ কয়েকটি দেশে বিস্ময়কর রকম একক প্রাধান্য বিস্তার করে বিপুল পরিমাণ বিড জিতেছে ইসরায়েলি প্রযুক্তি কোম্পানিটি।
বিষয়টির সঙ্গে জড়িত একাধিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ট্রেন্ডএআই-এর গবেষকরা নিশ্চিত ছিলেন, এ বিডিং কার্যক্রমের পেছনে ছিল ডিসকভার-টেক। তারা প্রতিবেদনে কোম্পানিটির নাম প্রকাশ করার বিষয়েও প্রাথমিক আলোচনা করেছিলেন।
তবে আইনি জটিলতা ও ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে ট্রেন্ডএআই-এর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের আপত্তিতে শেষ পর্যন্ত নাম প্রকাশের বিষয়টি বাদ দেওয়া হয়।
সাইবার নিরাপত্তা শিল্পে এ ধরনের ‘সেলফ-সেন্সরশিপ’ সাধারণ বিষয়, বিশেষ করে যখন নীতিনির্ধারকরা আশঙ্কা করেন যে, কোনো বড় নজরদারি চক্রকে এভাবে উন্মোচন করলে তা তাদের ব্যবসার ওপর প্রতিশোধের হুমকি হতে পারে।
এ বছরের শুরুতে বৈশ্বিক এক সাইবার নজরদারি অভিযানের ওপর রিপোর্ট প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রের সাইবার নিরাপত্তা কোম্পানি ‘পালো অল্টো’।
গবেষকরা চীনা হ্যাকারদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে শতভাগ নিশ্চিত থাকার পরও কৌশলগত কারণে প্রতিবেদনেটি থেকে চীনের সরাসরি নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, চীনে কোম্পানিটির ব্যবসা ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম সুরক্ষার স্বার্থেই এমন পদক্ষেপ নিয়েছিল পালো অল্টো।
তবে পালো অল্টো পরবর্তীতে এই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে, তাদের প্রতিবেদনে সরাসরি নাম না থাকাটা চীনের কোনো নীতি বা বাণিজ্যিক চাপের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও শীর্ষ ব্যবসায়ী গৌতম আদানের বিরুদ্ধে ‘স্বজনতোষী পুঁজিবাদে’র অভিযোগ তোলা একটি তথ্যচিত্র সোমবার (২৬ অক্টোবর) ইন্টারনেট থেকে অবিলম্বে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্ট। আদানি এন্টারপ্রাইজের পক্ষ থেকে দায়ের করা মানহানি মামলায় আদালত এই আদেশ প্রদান করেন।আদানি এন্টারপ্রাইজেস আদালতে দাবি করেছে, ওই প্রামাণ্যচিত্রে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য রয়েছে। এতে কোম্পানির বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। আদালতও বলেছে, এটি কোনো সংবাদ প্রতিবেদন বা প্রাতিষ্ঠানিক তথ্যভিত্তিক কাজ নয়; বরং একধরনের নাট্যরূপায়ণ বা ডিকনস্ট্রাক্টেড বিবরণ।
প্রামাণ্যচিত্রটি পোস্ট করেছেন হটমেইলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা সাবীর ভাটিয়া। ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই মার্কিন উদ্যোক্তার পোস্ট করা ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে লাখ লাখ মানুষ দেখেছেন। আদানি পক্ষ ৫০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়েছে বলে ভাটিয়া নিজেই এক্সে জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, সত্য আমার পক্ষেই আছে। এই প্রামাণ্যচিত্র আদানি এন্টারপ্রাইজকে নাড়া দিতে পেরেছে।
মোদির বিরুদ্ধে বিরোধীরা দীর্ঘদিন ধরে আদানির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের অভিযোগ তুলে আসছেন। তাদের দাবি, আদানি গ্রুপ নানা সরকারি সুবিধা পেয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার ও আদানি গ্রুপ দু’পক্ষই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।আদানি এন্টারপ্রাইজেস আদালতে বলেছে, সরকারি নীতি বা ব্যবসায়িক কেন্দ্রীকরণ নিয়ে গঠনমূলক সমালোচনা বন্ধ করতে তারা চায় না। কিন্তু ভাটিয়া বস্তুনিষ্ঠ তথ্য গোপন করে মনগড়া অভিযোগ তুলেছেন বলে তাদের অভিযোগ।
এখনও পর্যন্ত আদানি এন্টারপ্রাইজেস, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বা সাবীর ভাটিয়ার পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। সামাজিক মাধ্যম কোম্পানিগুলোও এ বিষয়ে এখনও কিছু বলেনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সাবেক মিস সুইজারল্যান্ড ও মডেল বিয়াট্রিস কিউল
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তুলেছেন সাবেক মিস সুইজারল্যান্ড ও মডেল বিয়াট্রিস কিউল। ১৯৯৩ সালের নভেম্বরে নিউইয়র্কের প্লাজা হোটেলে ট্রাম্প তার ওপর এই নির্যাতন চালান বলে ডেমোক্র্যাটদের এক তদন্তকারী দলের কাছে তিনি দাবি করেন।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
হোয়াইট হাউস এই অভিযোগ অস্বীকার করে একে ভুয়া খবর বলে আখ্যা দিয়েছে। হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র জানান, ট্রাম্প অ্যাপস্টাইন সংক্রান্ত সমস্ত বিষয় থেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন। ডেমোক্র্যাটদের উন্মোচিত প্রতিবেদনটিকে ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঐতিহাসিক সাফল্যের ওপর ভর করে তৈরি হওয়া রিপাবলিকানদের ঊর্ধ্বমুখী গতি থেকে আমেরিকানদের মনোযোগ সরানোর জন্য উন্মাদ ডেমোক্র্যাটদের একটি মরিয়া চেষ্টা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে হোয়াইট হাউস।
ডেমোক্র্যাটিক কমিটির কর্মচারীদের সঙ্গে কয়েক সপ্তাহের সাক্ষাৎকারে ২৪ বছর বয়সে ট্রাম্পের সঙ্গে নিজের প্রথম সাক্ষাতের কথা জানান কিউল। তিনি জানান, ট্রাম্প তাকে ভিসা ও নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছিলেন, ‘আমি তোমার যত্ন নেব।’ পরবর্তীতে ট্রাম্পের এক প্রতিনিধি তাকে প্লাজা হোটেলের ওপরের তলায় ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করতে নিয়ে যান।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘প্রবেশ মাত্রই ট্রাম্প কিউলকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরেন এবং জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন; এই প্রক্রিয়ায় তার পোশাক ছিঁড়ে যায় এবং শরীরের একাধিক স্থানে রক্তপাত ও আঘাতের চিহ্ন তৈরি হয়।’
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কিউল এই ধর্ষণকে ‘নৃশংস’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ঘটনার পর ট্রাম্প তাকে বিছানার ধারে বসিয়ে পুনরায় ভিসা ও ভর্তির প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং চুপ থাকতে বলে বলেন, ‘শো চলতেই হবে।’
এর আগে ২০২৪ সালের অক্টোবরে ডেইলিমেইলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কিউল ট্রাম্পের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ এনেছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন, ‘তিনি আমাকে ঠোঁটে ও ঘাড়ে চুমু খেয়েছিলেন। তিনি আমার পোশাক তোলার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি আমার শরীরের সর্বত্র স্পর্শ করছিলেন।’ তবে সেই সময় কিউল জানান, তিনি কথা বলে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং তার উচ্চতার কারণে তিনি বেঁচে গিয়েছিলেন।
২০ বছর আগেই কিউল তার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে এই ঘটনার কথা জানিয়েছিলেন বলে ডেইলিমেইল উল্লেখ করে এবং তখন ট্রাম্পের তৎকালীন প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিটের অভিযোগটি ভুয়া বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন।
কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য জেমি রাসকিন এক বিবৃতিতে বলেন, ‘পাঁচজন নারী অ্যাপস্টাইনের উপস্থিতিতে বা তার সান্নিধ্যে সরাসরি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের অভিযোগ এনেছেন; অন্যরা ইঙ্গিত দিয়েছেন, অ্যাপস্টাইন বা ম্যাক্সওয়েল তাদের ট্রাম্পের কাছে পাচারের চেষ্টা করেছিলেন।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘প্রেসিডেন্টকে রক্ষা করতে ট্রাম্পের বিচার বিভাগ এই অপরাধগুলো ধামাচাপা দিচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।’
আসন্ন ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র এক সপ্তাহ আগে প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হলো। নির্বাচন সামনে রেখে ট্রাম্পের অ্যাপস্টাইন সংক্রান্ত নথি ব্যবস্থাপনা এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে দেখা দেওয়া মূল্যস্ফীতি রিপাবলিকান প্রার্থীদের রাজনৈতিক চাপের মুখে ফেলেছে।
সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ
তেহরান সফরে মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধি দল
সম্প্রতি গঠিত মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় একযোগে কাজ করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছে ইরান। সোমবার রাতে ইরানের রাজধানী তেহরানে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ বিষয়ে মক্কা জোটের তিন মূল সদস্য দেশ সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মতৈক্য প্রতাশ করে দেশটি।
বৈঠক শেষে তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইরান এবং মক্কা চুক্তিভুক্ত দেশগুলো আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখা এবং পারস্পরিক সংলাপ ও আলোচনা অব্যাহত রাখার ব্যাপারে সম্পূর্ণ সম্মত হয়েছে। গতকালের তেহরান সফরে প্রতিনিধি দল ইরানের প্রেসিডেন্ট এবং জাতীয় নিরাপত্তা প্রধানের সঙ্গে পৃথক সৌজন্য সাক্ষাৎ ও দ্বিপক্ষীয় সংলাপে মিলিত হন।
সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বৈঠকে অংশ নিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের উপসচিব আলী বাঘেরি কানি, সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান আল সৌদ, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির ও তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিন।
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনকূটনীতি বিভাগের উপমন্ত্রী রায়েদ ক্রিমলিও তাদের অংশ নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, চলমান সংকটে জড়িত পক্ষগুলোর মধ্যে উত্তেজনা কমানো, সংলাপ এগিয়ে নেওয়া এবং কূটনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করার ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই সফর হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাকে সমর্থন দেবে মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের মিত্র দেশগুলো।
সামাজিক মাধ্যম এক্সে ক্রিমলি লিখেছেন, ‘আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদার এবং সেই লক্ষ্য অর্জনে অঞ্চলের সব দেশের সঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিভুক্ত দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার বিষয়টি এই সফর তুলে ধরছে।’
সংবাদ সংস্থা আনাদোলু দেশটির নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধান তেহরানের বৈঠকে অংশ নেবেন। যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার বিষয়ে আন্তরিক না হলেও ইরান কূটনীতির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি। তেহরানে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘স্পষ্ট বিষয়টি হলো মার্কিন পক্ষ আলোচনা নিয়ে আন্তরিক নয়। গত দুই বছরে যুক্তরাষ্ট্র দেখিয়েছে, তারা আলোচনার সঙ্গে নিজেদের শর্ত চাপিয়ে দেওয়ার বিষয়টিকে গুলিয়ে ফেলে।’
বাঘায়ি আরও বলেন, ‘আমরা কখনও কূটনীতির দরজা বন্ধ করিনি। নিজেদের জনগণ ও বিশ্বকে আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছি, কূটনীতির প্রতি আমাদের অঙ্গীকার আন্তরিক ও অবিচল।’
মধ্যপ্রাচ্যের আসন্ন বৈঠক সামনে রেখে নিজেদের স্বার্থ ও উদ্বেগের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়ায় আঞ্চলিক দেশগুলোর প্রশংসা করেছে ইরান। তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে ইসমাইল বাঘায়ি বলেন, ‘আঞ্চলিক দেশগুলো নিজেদের স্বার্থ ও উদ্বেগের ভিত্তিতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা করছে, কিংবা অন্তত এ ধরনের ব্যবস্থা বিবেচনা করছে, এটি আমরা ইতিবাচক অগ্রগতি বলে মনে করি।’
তিনি বলেন, ‘এই বৈঠক নিজস্ব সক্ষমতা ও উদ্যোগের ভিত্তিতে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে আরও এগিয়ে নেওয়ার পথ তৈরি করতে পারে। কয়েক দশক ধরে আমরা এই নীতির ওপর জোর দিয়ে আসছি। আমরা ধারাবাহিকভাবে বলে আসছি, অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে সেখানকার দেশগুলোর স্বার্থ ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগের ওপর নির্ভর করতে হবে।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্দেশ দিলে ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা বাহিনী। গতকাল সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে সিএনএন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় সামরিক বাহিনী এরই মধ্যে ওই অঞ্চলে মোতায়েন রয়েছে। তবে অভিযান চালানোর বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি ট্রাম্প। সম্ভাব্য এই অভিযান সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরানের সামরিক স্থাপনায় চালানো সীমিত হামলাগুলোর তুলনায় অনেক বিস্তৃত হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড ও পেন্টাগন সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর একটি বড় তালিকা তৈরি করেছে। এর মধ্যে রয়েছে পারমাণবিক স্থাপনা, সামরিক ঘাঁটি ও জ্বালানি অবকাঠামো।
আগের অভিযানগুলোতে মূলত ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা, রাডার স্থাপনা ও দ্রুত প্রতিস্থাপনযোগ্য অন্যান্য সামরিক সরঞ্জামকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। তবে নতুন পরিকল্পনায় ইরানের শাসকগোষ্ঠীর সামরিক সক্ষমতা ও অবকাঠামোর ওপর আরও ব্যাপক আঘাত হানার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ‘এটি বড় ধরনের অভিযান হবে।’
পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, বছর শেষ হওয়ার আগেই ট্রাম্প আবার বড় পরিসরে সামরিক অভিযান চালানোর নির্দেশ দিতে পারেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন মনে করেন, ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর হামলা চালানোর সম্ভাবনা বেশি।
তবে ট্রাম্প এখনও সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, এর আগেও বড় ধরনের সামরিক অভিযান অনুমোদনের কাছাকাছি গিয়ে শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছেন তিনি।
এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। পেন্টাগনের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, সামরিক অভিযানের বিভিন্ন বিকল্প পরিকল্পনা তৈরি করা প্রতিরক্ষা বিভাগের দায়িত্বের অংশ। তবে এ ধরনের পরিকল্পনা তৈরি করা মানেই প্রেসিডেন্ট হামলার নির্দেশ দিয়েছেন, এমন নয়। এদিকে ইরানে তাৎক্ষণিক সামরিক হামলার সম্ভাবনা নাকচ করেছেন ট্রাম্প। গত রোববার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আজ কোনো হামলা হবে না।’