(বাঁয়ের থেকে) জামিল আহমেদ লিমন, নাহিদা এস বৃষ্টি এবং সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার লিমনের রুমমেট হিশাম আবুঘরবেহ
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে নিখোঁজ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে এমনটাই জানিয়েছেন নাহিদার ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত।
তবে তাঁর মরদেহ এখনো পাওয়া যায়নি। এর আগে গতকাল শুক্রবার নিখোঁজ আরেক বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের (২৭) ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করেছে ফ্লোরিডার স্থানীয় পুলিশ।
যুক্তরাষ্ট্রে ১৭ এপ্রিল নিখোঁজ হন লিমন ও বৃষ্টি। দুজনই ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার পিএইচডি শিক্ষার্থী। ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন লিমন।
অন্যদিকে নাহিদা পিএইচডি করছিলেন কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে। নিখোঁজ হওয়ার আগের দিন দুজনকে সর্বশেষ ক্যাম্পাসে দেখা গিয়েছিল।
বৃষ্টির ভাই জাহিদ হাসান তাঁর বোনের মৃত্যুর খবর জানিয়ে আজ শনিবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। ইতিমধ্যে সাড়ে সাত শতাধিক শেয়ার হওয়া এই পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আমার বোন আর নেই। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।’
নিখোঁজ শিক্ষার্থী বৃষ্টির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাহিদ হাসান।
আজ দুপুরে তিনি বলেন, ‘আমাদের আজ ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় পুলিশ ফোন করেছে। ওকে (বৃষ্টি) এখনো পাওয়া যায়নি, রিকভার (উদ্ধার) করা যায়নি। ওই সাসপেক্টর (গ্রেপ্তার হিশাম আবুঘরবেহ) নিশ্চিত করেছে, এটা আসলে দুজনের। সন্দেহভাজন ব্যক্তিটি আরেকটা বডি (মরদেহ) আসলে ডিসপোজ (নষ্ট করা) করতেছিল।’
যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় পুলিশের বরাতে জাহিদ হাসান বলেন, ‘আর আমাকে বলছে, মৃতদেহ পাওয়া যাবে কি না, সেটার নিশ্চয়তা তারা এখনো দিতে পারছে না। সেখানকার স্থানীয় পুলিশ আমাকে ফোন করে এমনটাই বলেছে।’
অন্যান্য গণমাধ্যম জাহিদ হাসানের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, বৃষ্টির বাসায় রক্তের মধ্যে পড়ে থাকা দেহের একটি অংশের সঙ্গে তাঁর ডিএনএর মিল পাওয়া গেছে। তবে পূর্ণাঙ্গ মরদেহ পাওয়া যাবে কি না, তার কোনো নিশ্চয়তা তারা দিতে পারেনি।
এর আগে গতকাল আরেক নিখোঁজ শিক্ষার্থী জামিলের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ। ফ্লোরিডার হিলসবরোর স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এক সংবাদ সম্মেলনে ফ্লোরিডার ট্যাম্পার হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধারের কথা জানায়।
তাঁদের নিখোঁজের ঘটনায় হিশাম সালেহ আবুঘরবেহ নামে ২৬ বছরের আমেরিকার এক নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় পুলিশ। তিনি জামিলের সঙ্গে একই কক্ষে থাকতেন। তবে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাঁর পারিবারিক বাড়ি থেকে।
ছবি : সংগৃহীত
ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজে ইউক্রেনের হামলার পর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে যুদ্ধ হরমুজ প্রণালি, লোহিত সাগরের গণ্ডি ছাড়িয়ে কাস্পিয়ান সাগর পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়ার। এখন পর্যন্ত আলোচনা থেকে কোনো ফলপ্রসূ সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তাদের আগের স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়িত হয়নি। তবে সংলাপ চলছে। এই হামলা তেহরানের কাছ থেকে আলোচনার টেবিলে সুবিধা পাওয়ার জন্যও চালানো হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত শনিবার ইরানের জাহাজে আঘাত হানে ইউক্রেন।
ইরান জানায়, এতে তাদের এক নাবিক নিহত ও আরেকজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ইউক্রেনের কূটনীতিকদের তলব করেছে তেহরান।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি হামলার তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দূরপাল্লার ওই হামলায় ইরানের সামরিক কার্গো বহনকারী জাহাজ ও রুশ রণতরীতে হামলা চালিয়েছে কিয়েভ। তিনি মস্কোর বিরুদ্ধে ইরানকে সহায়তা অভিযোগও তুলেছেন। এমন একটি সময় এসব ঘটনা ঘটল, যখন থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যুক্তরাষ্ট্র টানা ১৩ দিন হামলার পর ইরানে আঘাত হানা বন্ধ করেছে।
ইরান বর্তমানে দক্ষিণ উপকূল নিয়ে চাপের মুখে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ দিয়ে রেখেছে। অন্যদিকে, ইরানের মিত্র ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরে নৌযান চলাচলে বাধা দিচ্ছে। কাস্পিয়ান সাগরে যুদ্ধ গড়ালে ইরানের ওপর চাপ বাড়বে। তারা সেখান দিয়ে নৌযান পার করতে পারবে না। এতে নতুন করে অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়বে ইরান।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এরই মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নীতিপ্রধান কাজা কাল্লাসের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুসারে, আরাঘচি এই আক্রমণের নিন্দা জানিয়েছেন এবং তিনি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আন্তর্জাতিক মহলকে দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা কখনও প্রত্যক্ষভাবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে জড়ায়নি।
ইরান এর আগে জানিয়েছে, যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগীদের ওপর হামলা করবে তারা। সেই সময় যুক্তরাজ্যকে উদ্দেশ্য করে হুঁশিয়ারি দিয়েছিল তেহরান। যুক্তরাজ্য শুরু থেকে এ সংঘাতে প্রত্যক্ষভাবে না জড়ালেও যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতিরক্ষামূলক আক্রমণ চালাতে নিজেদের ঘাঁটি ব্যবহার করতে দিয়েছিল। সেটি নিয়েই ক্ষুব্ধ হয় ইরান। পরে জবাবে যুক্তরাজ্য জানায়, তাদের বাহিনী প্রতিরক্ষার জন্য প্রস্তুত সব সময়।
যেখানে মিল দুই যুদ্ধের
রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানোর পর ইউক্রেনকে অস্ত্র ও রসদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের যেসব উদ্যোগ অতীতে দেখা গেছে, সেগুলোতেও যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ছিল। অন্যদিকে, ইরানের দিকে অতীতে বেশ কয়েক দফায় ইউক্রেন অভিযোগ তুলেছে, তারা শাহেদ ড্রোন দিয়ে রাশিয়াকে সহায়তা করছে। ইরান যুদ্ধের প্রথম দফায় ইউক্রেন উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোকে ইরানের ড্রোন ঠেকানোর প্রযুক্তি দিতে পারবে বলেও জানিয়েছিল।
ইরান ও ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে বেশ কিছু মিল রয়েছে। অন্যতম বড় মিলটি হলো, দুই পরাশক্তি নিজের তুলনায় কম ক্ষমতাধর রাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে আটকে গেছে। ইউক্রেনের ইরানের জাহাজে হামলা চালানোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সম্পৃক্ততা আছে কিনা, তা এখনও অস্পষ্ট। তবে দুই যুদ্ধ পরিস্থিতিই যে এটির মধ্যে দিয়ে আরও ঘনীভূত হতে পারে, সে আশঙ্কা তীব্র।
ইউক্রেন এখন কী বলছে
জেলেনস্কি সামাজিক মাধ্যম এক্সে এক পোস্টে লিখেছেন, কাস্পিয়ান সাগরে দূরপাল্লার হামলা চালিয়ে অত্যন্ত দৃঢ় ফল পেয়েছে ইউক্রেন। তিনি রাশিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন, ‘জুলাইয়ের শুরু থেকে আমরা উপসাগরীয় রাষ্ট্র ও সেখানে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনায় রাশিয়ার স্যাটেলাইটের সক্রিয় নজরদারির বিষয়টি লক্ষ্য করেছি। ওই ছবিগুলো পরে ইরানে পৌঁছেছে।’
জেলেনস্কি আরও জানান, রাশিয়ার স্যাটেলাইটগুলো ১৯ ও ২০ জুলাই চারটি বিমানঘাঁটিতে নজরদারি চালায়। এর মধ্যে দুটি বাহরাইনে, একটি জর্ডানে ও একটি কুয়েতে অবস্থিত। তিনি বলেন, ‘রাশিয়াকে অবশ্যই থামাতে হবে। এই যুদ্ধ থামাতে হবে। আগ্রাসীর ওপর চাপ অবশ্যই কাজ করবে।
সংলাপ যে পর্যায়ে রয়েছে
জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের দূত মাইক ওয়াল্টজ গতকাল রোববার জানিয়েছেন, ট্রাম্প সাম্প্রতিক সময়ে হামলা থামিয়েছেন কূটনীতিকে সুযোগ করে দিতে। তবে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কী ধরনের আলোচনা চলছে, সে বিষয়ে কিছু জানাননি তিনি। টানা দুই রাত যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা না চালানোর পর ওই মন্তব্য করেন তিনি।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমায়েল বাঘায়ি গতকাল জানান, সংঘাতের সম্প্রসারণ ঠেকাতে দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা চলছে। তিনিও এ বিষয়ে বিস্তারিত আর কোনো তথ্য দেননি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, কাতার, মিসর, পাকিস্তান ও অন্যান্য আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীরা ওয়াশিংটন ও তেহরানকে ১০ দিন যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছে। মূলত দেশ দুটি যাতে গত মাসে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনায় বসার সুযোগ পায়, সে লক্ষ্যেই এটি করা হয়েছে।
এদিকে, ওমানের সঙ্গেও আলোচনা চলছে ইরানের। ইসমায়েল বাঘায়ি গতকাল জানান, ওমানের সঙ্গে চলমান আলোচনায় হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল-সংক্রান্ত বিষয়াদি নিয়ে অগ্রগতি হয়েছে। কীভাবে দুই দেশ নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে নৌযান চলাচলের বিষয়টিকে সামাল দেবে, তা নিয়ে আলাপ হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালি কীভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে, সে বিষয়গুলোও আলোচনায় উঠে এসেছে।
প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্র চায় না হরমুজে ইরানের নিয়ন্ত্রণ থাকুক। অন্যদিকে, ইরান হরমুজে নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিকে সার্বভৌমত্বের অংশ বলে মনে করে। দ্বিতীয় দফায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ এই নিয়ন্ত্রণকে ঘিরেই শুরু হয়েছিল।
ইরানের অবকাঠামো ঠিক করার নির্দেশ
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের হামলা বন্ধ হওয়ার পরপরই দেশের ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামোগুলো ঠিক করার নির্দেশ দিয়েছেন। এসব অবকাঠামোর মধ্যে রেলপথ, আন্তর্জাতিক পারাপার করিডোর রয়েছে। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বিদ্যমান যোগাযোগ পথ ঠিক করা কৌশলগত অগ্রাধিকার বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর বিমান হামলা বন্ধ রাখলে তেহরানও পাল্টা হামলা চালাবে না বলে জানিয়েছে ইরান।
দেশটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যতক্ষণ হামলা স্থগিত রাখবে, ততক্ষণ ইরানও সামরিক অভিযান বন্ধ রাখবে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টানা ১৩ রাত ধরে চলা মার্কিন বিমান হামলার পর গত শুক্রবার রাতে অভিযান স্থগিত করে পেন্টাগন। এরপর শনিবার ও রোববার যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কোনো হামলার খবর পাওয়া যায়নি। একই সময়ে ইরানও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি থাকা প্রতিবেশী দেশগুলোতে কোনো পাল্টা হামলা চালায়নি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইরানের ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের অবস্থান একই আছে-হামলার জবাব হামলা। হামলা বন্ধ হলে ইরানও অভিযান বন্ধ রাখবে। এ বার্তা ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে জানানো হয়েছে।’
এদিকে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কূটনীতির জন্য আরও সময় দিতে হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার ভাষ্য, আলোচনার জন্য কিছুটা সুযোগ তৈরি করতেই এই বিরতি দেওয়া হয়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে টানা দুই সপ্তাহের অভিযানে পূর্বনির্ধারিত বেশির ভাগ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা শেষ হয়ে এসেছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত কমে যাওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। এ কারণে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বড় ধরনের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরুর ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ সূত্রের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা বন্ধের সিদ্ধান্তকে তেহরান এখনো স্থায়ী নীতিগত পরিবর্তন হিসেবে দেখছে না। ওই সূত্রের দাবি, ইরানে ‘আশার চেয়ে সংশয়ই বেশি’ এবং অনেকের ধারণা, এই বিরতি কৌশলগত, প্রকৃত অর্থে যুদ্ধবিরতির ইঙ্গিত নয়।
এর আগে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলে হুমকির জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে নিয়মিত হামলা চালানোর কথা জানায়। পাল্টা জবাবে ইরান উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে অবস্থিত পানি লবণমুক্তকরণ স্থাপনায় হামলা চালায়। বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেলের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় অঞ্চলটির পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।
তবে হামলা আপাতত বন্ধ থাকলেও পরিস্থিতি যে পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি, সেটি স্পষ্ট। তেহরানের একজন ব্যবসায়ী রয়টার্সকে বলেন, ‘দেশের সবাই অনিশ্চয়তার মধ্যে আছে। যুদ্ধ শেষও হচ্ছে না, আবার পুরোপুরি এগোচ্ছেও না। এই পরিস্থিতি খুবই ক্লান্তিকর।’
ধর্মেন্দ্র প্রধান। ছবি : সংগৃহীত
একসময় প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে ছাত্ররাজনীতিতে পরিচিতি পেয়েছিলেন ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। প্রায় তিন দশক পর সেই প্রশ্নফাঁস ইস্যুকেই ঘিরে সৃষ্ট আন্দোলনের মুখে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করতে হয়েছে তাকে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি, নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালে কংগ্রেস-শাসিত ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন জানকী বল্লভ পট্টনায়েক। সে সময় একটি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ভুবনেশ্বরে রাজ্য সচিবালয়ের সামনে প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থী বিক্ষোভে অংশ নেন। সেই আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ছিলেন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)-এর ছাত্রনেতা ধর্মেন্দ্র প্রধান।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের ঘনিষ্ঠদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, মাত্র ১৮ বছর বয়সে তিনি ছাত্ররাজনীতিতে যুক্ত হন। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর ছাত্রসংগঠন এবিভিপির সক্রিয় সংগঠক হিসেবে দ্রুত পরিচিতি লাভ করেন। উৎকল বিশ্ববিদ্যালয়ে নৃবিজ্ঞান বিষয়ে পড়াশোনা করা ধর্মেন্দ্র ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৭ সালের মধ্যে দুই দফা এবিভিপির জাতীয় সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
ওই সময় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওড়িশাজুড়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়। আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে পুলিশের লাঠিচার্জের মুখেও পড়তে হয়েছিল ধর্মেন্দ্র প্রধানকে।
বর্তমানে ভুবনেশ্বরের আরএমডি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ এবং ধর্মেন্দ্র প্রধানের সাবেক জুনিয়র প্রশান্ত রাউত সেই সময়ের স্মৃতিচারণ করে বলেন, সচিবালয়ের সামনে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে প্রায় ১,৫০০ শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে ধর্মেন্দ্র প্রধান গুরুতর আহত হন এবং তার শরীরের কয়েকটি হাড়ও ভেঙে যায়।
প্রশান্ত রাউত আরও দাবি করেন, ছাত্ররাজনীতির সময় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের হামলারও শিকার হয়েছিলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। এক পর্যায়ে তার প্রাণহানির আশঙ্কাও তৈরি হয়েছিল।
ছাত্রজীবনের সেই আন্দোলনই পরবর্তী সময়ে বিজেপিতে তার রাজনৈতিক উত্থানের ভিত্তি তৈরি করে। কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসমন্ত্রী এবং দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা উন্নয়নমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর ২০২১ সালে তিনি ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব নেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ওড়িশায় বিজেপির সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে রাজ্যটিতে প্রথমবার সরকার গঠন করে বিজেপি এবং দীর্ঘদিনের বিজু জনতা দলের শাসনের অবসান ঘটে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিট-ইউজি (NEET-UG)-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তীব্র আন্দোলন শুরু হয়। রাজধানী নয়াদিল্লিসহ বিভিন্ন স্থানে হাজারো শিক্ষার্থী বিক্ষোভে অংশ নেন এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেন।
আন্দোলন দমনে পুলিশের লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপের ঘটনায় বহু শিক্ষার্থী আহত হন। আহতদের মধ্যে ২১ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। এ ঘটনার পর আন্দোলন আরও বেগবান হয় এবং বিরোধী দলগুলোও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জোরালো করে।
ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত শনিবার (২৫ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। ফলে যে প্রশ্নফাঁসবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক পরিচিতি তৈরি হয়েছিল, প্রায় তিন দশক পর সেই একই ইস্যুই তার মন্ত্রিত্বের ইতি টানল।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করা একটি রিল ভিডিও বিশ্বরেকর্ড গড়েছে। পোস্ট করার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভিডিওটি ৩০ কোটিরও বেশি ভিউ অর্জন করে ইনস্টাগ্রামের একক ভিডিওর সর্বোচ্চ ভিউয়ের আগের রেকর্ড ভেঙেছে।
সম্প্রতি দেশজুড়ে শিক্ষার্থী আন্দোলনের মধ্যে তরুণদের লক্ষ্য করে মোদী পরপর দুটি রিল ভিডিও প্রকাশ করেন। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ও শুক্রবার (২৪ জুলাই) গভীর রাতে ধারণ করা ভিডিও দুটিতে তিনি তুলনামূলক অনানুষ্ঠানিক ভঙ্গিতে কথা বলেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
এর আগে ইনস্টাগ্রাম রিলে সর্বোচ্চ ভিউয়ের রেকর্ড ছিল জনপ্রিয় ইউটিউবার আইশোস্পিডের দখলে। বিশ্বকাপ ফাইনালের পর কে-পপ ব্যান্ড বিটিএসের সদস্যদের সঙ্গে ধারণ করা একটি ভিডিও সেই রেকর্ড গড়েছিল।
ভারতে চলমান আন্দোলনের সূত্রপাত হয় নিট মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে। গত ৩ মে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ১২ মে তা বাতিল করা হয়। পরে আন্দোলনের নেতৃত্বে গঠিত হয় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি), যা অল্প সময়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে কর্মসূচি পালন করে।
ক্রমবর্ধমান আন্দোলনের মুখে শেষ পর্যন্ত শনিবার (২৫ জুলাই) কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ান ধর্মেন্দ্র প্রধান। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
১০ কোটিরও বেশি ইনস্টাগ্রাম অনুসারী থাকা সত্ত্বেও মোদির এমন সেলফি-ধাঁচের রিল ভিডিও প্রকাশের ঘটনা খুবই বিরল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তরুণদের সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করতেই তিনি এই কৌশল নিয়েছেন। তবে সমালোচকদের একাংশের দাবি, শিক্ষার্থী আন্দোলনের চাপ সামলাতেই এই নতুন প্রচার কৌশল বেছে নেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভিডিওটির রেকর্ডসংখ্যক ভিউ ভারতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যাপক প্রভাব এবং রাজনৈতিক যোগাযোগে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বকেই সামনে এনেছে।
ভারতের বেঙ্গালুরুতে ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে এক মুসলিম দম্পতিকে প্রকাশ্যে হেনস্তা ও মারধরের অভিযোগে এক চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
অভিযোগ, ওই চিকিৎসক দম্পতিকে ভারত থেকে একবার বিতাড়িত করা হয়েছিল বলেও দাবি করেন। তবে দম্পতির জাতীয়তা বা অভিবাসন-সংক্রান্ত তথ্য এখনো যাচাই করা হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। খবর দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (২২ জুলাই) সকালে এ ঘটনা ঘটে। পরদিন বৃহস্পতিবার অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. নগেন্দ্রাপ্পাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, বেঙ্গালুরুতে নিজস্ব ক্লিনিক পরিচালনা করেন ডা. নগেন্দ্রাপ্পা। বুধবার সকালে তিনি ২৩ বছর বয়সী নাসরিনা ও তার স্বামী মোহাম্মদ বিলালের পথরোধ করেন।
নাসরিনার অভিযোগ, প্রথমে তাদের জাতীয়তা নিয়ে হিন্দি ভাষায় গালিগালাজ করেন অভিযুক্ত চিকিৎসক। পরে তাকে টেনে-হিঁচড়ে মারধর করা হয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, এরপর তার স্বামী বিলালের ওপরও হামলা চালানো হয়। বিলালের মাথা ও পিঠে একাধিকবার আঘাত করা হয় এবং একপর্যায়ে তাকে মাটিতে ফেলে লাথি মারা হয়। এছাড়া ঘটনাটি পুলিশকে জানালে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ঘটনায় বেঙ্গালুরুর বেলান্দুর থানায় অভিযুক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মারধর, নারীর শ্লীলতাহানি, বেআইনিভাবে পথরোধ এবং অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
গ্রেপ্তারের আগে ডা. নগেন্দ্রাপ্পা নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ঘটনার একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। ভিডিওতে তাকে ওই দম্পতিকে ‘বাংলাদেশি’ বলে উল্লেখ করতে এবং তারা একবার ভারত থেকে বিতাড়িত হওয়ার পর আবার ফিরে এসেছে বলে দাবি করতে শোনা যায়।
অন্যদিকে, ভিডিওতে মোহাম্মদ বিলালকে কন্নড় ভাষায় বলতে শোনা যায়, তিনি প্রায় ২০ বছর ধরে বেঙ্গালুরুতে বসবাস করছেন। একই ভিডিওতে চিকিৎসককে বিলালের গায়ে হাত তুলতেও দেখা যায়।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন অভিযুক্ত ডা. নগেন্দ্রাপ্পা।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলিদের সঙ্গে যুদ্ধে মার্কিন সহযোগীদের সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরান। যারাই যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা করবে তারাই ইরানের বৈধ ও নিশ্চিত লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে বলে জানিয়েছে দেশটি।
এই সতর্কবার্তায় সুনির্দিষ্টভাবে যুক্তরাজ্য এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এসব দেশের ওপর বিশেষ নজর রাখছে ইরান- এমন ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
ইরানের ইসলামী রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে যদি কোনো দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সাহায্য বা সমর্থন করে, তবে সেই দেশকে বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে গণ্য করা হবে।
মোহেব্বি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, সম্প্রতি মার্কিন B-1 বোমারু বিমানগুলো যুক্তরাজ্যের বিমানঘাঁটি ব্যবহার করেছে। এই ধরনের সহযোগিতা বজায় থাকলে তারা ইরানের 'নিশ্চিত এবং বৈধ লক্ষ্যবস্তু' হয়ে উঠবে বলে তিনি সতর্ক করেন।
আইআরজিসি দাবি করেছে যে, যেকোনো ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপ বা উত্তেজনা মোকাবিলা করার জন্য তারা সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা এবং কৌশলগত প্রস্তুতি তৈরি করে রেখেছে।
এই বিবৃতির মাধ্যমে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, অঞ্চলটিতে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা কতটা তীব্র এবং ইরান মূলত এই অঞ্চলে পশ্চিমা ও প্রতিবেশী দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বা লজিস্টিক সহায়তা দেওয়া থেকে বিরত রাখতে এই প্রতিরোধমূলক অবস্থান নিয়েছে।
হোসেইন মোহেব্বি আরও বলেন, ‘প্রতিটি সম্ভাব্য পরিস্থিতির জন্য আমাদের আলাদা পরিকল্পনা রয়েছে।’
তবে আইআরজিসির এসব দাবির বিষয়ে যুক্তরাজ্য বা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।