প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, যে কোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারাজ মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি তিস্তা ব্যারাজ মাস্টারপ্ল্যানকে জাতীয় অগ্রাধিকার উল্লেখ করে বলেন, ‘দেশের পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কৃষিকে সহায়তা দেওয়া এবং উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার উন্নয়নে যে কোনো মূল্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।' আজ দুপুরে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘নদী, খাল ও সেচ অবকাঠামোয় বড় ধরনের বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের দীর্ঘদিনের পানি ব্যবস্থাপনার সমস্যা সমাধানে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
তারেক রহমান বলেন, 'বিশেষ করে রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলের মানুষের অন্যতম বড় উদ্বেগের বিষয় পানি। সংসদ সদস্যরা নিয়মিত পদ্মা ও তিস্তা নদী নিয়ে বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। আমরা এসব সমস্যা সমাধানে সর্বাত্মক কাজ করে যাচ্ছি। '
সারা বছর কৃষির জন্য পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'এ লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি বলেন, বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ করে শুষ্ক মৌসুমে কৃষিসহ অন্যান্য খাতে তা ব্যবহার করা হবে।'
তিনি আরো বলেন, 'পদ্মা ব্যারাজের মাধ্যমে বর্ষার অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ করা হবে। যেন পুরো শুষ্ক মৌসুম এবং বছরের অন্যান্য সময় কৃষি ও প্রয়োজনীয় খাতে সেই পানি সরবরাহ করা যায়।'
প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'দীর্ঘদিন ধরে সমন্বিত নদী ব্যবস্থাপনা, পানি সংরক্ষণ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তঃনদী সংযোগের অভাবে বাংলাদেশ ভুগছে। এর ফলে অনেক নদীর নাব্যতা হারিয়ে গেছে এবং বিভিন্ন এলাকায় সেচ ও পানির সংকট তৈরি হয়েছে।'
তিনি বলেন, 'আমি এমন এলাকা পরিদর্শন করেছি, যেখানে বর্ষায় চারদিকে পানি থাকলেও অল্প দূরের কৃষকরা পানির অভাবে জমিতে সেচ দিতে পারেন না।তবে এই সমস্যা সমাধানে দেশব্যাপী নদী ও খাল খনন এবং পুনঃখনন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।’
আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'পানি প্রবাহ, সেচব্যবস্থা এবং বন্যা ব্যবস্থাপনা যাতে উন্নত করা যায় এ লক্ষ্যে খাল খনন কর্মসূচি চলছে। গত তিন মাসে প্রায় ৯শ’ কিলোমিটার খাল খনন বা পুনঃখনন করা হয়েছে।'
কৃষকদের জন্য সরকারের সহায়তার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকারের অন্যতম প্রথম সিদ্ধান্ত ছিল ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ এবং তার সুদ মওকুফ করা। এতে প্রায় ১৩ লাখ কৃষক উপকৃত হয়েছেন।'
তিনি বলেন, 'কৃষকদের সরাসরি সহায়তা দেওয়ার জন্য সরকার বিশেষ কৃষক কার্ড চালু করেছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রায় ৪৩ লাখ কৃষক এই কার্ডের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা এবং অন্তত ১০টি অতিরিক্ত সেবা পাবেন। আমরা কৃষকদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছি। '
যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়েও সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, 'দক্ষ জনশক্তি বিদেশে পাঠানো এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সেবার পরিধি বাড়াতে সরকার কাজ করছে।'
এর অংশ হিসেবে প্রবাসীদের বিভিন্ন সেবা সহজলভ্য করতে এবং বিদেশে তাঁদের ভোগান্তি কমাতে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য নয়, জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।'
তিনি অভিযোগ করেন, 'দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, দুর্বল পরিকল্পনা ও অবহেলার কারণে দেশের জ্বালানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানকে অবহেলা করে বিদেশি কোম্পানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা তৈরি করা হয়েছে।'
প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'বর্তমান সরকার এখন জ্বালানির উৎস বহুমুখীকরণ, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং জ্বালানি ব্যবহারে দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে, যাতে আমদানি নির্ভরতা কমানো যায়।'
মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংকটের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'এ পরিস্থিতি আবারও প্রমাণ করেছে যে আমদানি নির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ।'
তিনি বলেন, 'সরকারের বৃহত্তর লক্ষ্য হলো এমন একটি শক্তিশালী ও সহনশীল অর্থনীতি গড়ে তোলা, যা বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন লক্ষ্য বাস্তবায়নে সহায়ক হবে।'
শিক্ষা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষিত ও নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন জনগোষ্ঠীই দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ। তবে আগের শাসনামলে শিক্ষা ব্যবস্থা পরিকল্পিতভাবে দুর্বল করা হয়েছিল। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার উপযোগী করে গড়ে তুলতে শিক্ষা খাতে ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন।
এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। বাজেট এ অধিবেশনে প্রথমে বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান এবং পরে সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য রাখেন।
ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
হাটহাজারীতে সেনাবাহিনীর ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুর্ঘটনায় আহত ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিনকে দেখতে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) গেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেল পৌনে ৩টার দিকে সিএমএইচে পৌঁছে আহত সেনা কর্মকর্তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে, বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে সেনাবাহিনীর ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলন চলাকালে একটি ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন গুরুতর আহত হন। একই ঘটনায় দুই সেনাসদস্য নিহত হন।
দুর্ঘটনার পর আহত ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিনকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে করে তাকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়।
নিহত দুই সেনাসদস্য হলেন—রাজশাহীর পবা উপজেলার দামকুড়া ইউনিয়নের তাসনিম রিফাত এবং নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আবু বকর সিদ্দিক পিয়াস।
এদিকে, ট্যাংকের ফায়ারিং অনুশীলনের সময় কী কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলছে।
প্রতীকী ছবি
সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এ সময়ে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো মৃত্যু হয়নি। শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ১০ এপ্রিল থেকে এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ হাজার ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে ৯১২ জন মারা গেছে আর হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ১০০ জন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে নতুন করে ১ হাজার ৭৭ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে গত ১০ এপ্রিল থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ১ লাখ ৬৯ হাজার ৮২২ জনের শরীরে।
একই সময়ে ৩৪ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে গত ১০ এপ্রিল থেকে এখন পর্যন্ত দেশে ১৯ হাজার ৯৬৭ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।
এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৪০৮ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এর পরে রয়েছে সিলেট বিভাগ, সেখানে মারা গেছে ১৫৭ জন। এ ছাড়া বরিশালে ৫৭, চট্টগ্রামে ৬৮, খুলনায় ৩৮, ময়মনসিংহে ৭৭, রাজশাহীতে ৯৩ ও রংপুর বিভাগে ১৪ জন মারা গেছে।
ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানি পাওয়ারের গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটের একটি কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে সংকটে থাকা বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা আরও চাপের মুখে পড়ছে। এর সঙ্গে দেশে বাড়ছে লোডশেডিং। কয়লা স্বল্পতার কারণে এক মাস ধরে সীমিত বিদ্যুৎ উৎপাদন করছিল আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র। কয়লা সরবরাহ বাড়ার পর গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর উৎপাদন বাড়ছিল। কিন্তু গতকাল দিবাগত রাত ১২টার দিকে হঠাৎ করে কারিগরি ত্রুটির কারণে বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি জানিয়েছে, ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানি পাওয়ারের কেন্দ্রটির সক্ষমতা এক হাজার ৬০০ মেগাওয়াট। কয়লা সরবরাহে সমস্যা হওয়ায় ৭ আগস্ট থেকে কেন্দ্রটি উৎপাদন কমিয়েছে। দিনের বেলায় প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দিলেও সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত চাহিদা অনুযায়ী প্রায় এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত সরবরাহ করছে তারা। ৯ সেপ্টেম্বর (বুধবার) রাতে এক পর্যায়ে সরবরাহ এক হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের বেশি হলেও রাত ১২টার পর একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে উৎপাদন ৭৩২ মেগাওয়াটে নেমে আসে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় আদানি থেকে পাওয়া গেছে ৭৩২ মেগাওয়াট। আজ শুক্রবার সকাল ৮টায় ৭৩৪, ৯টায় ৭৩৭, ১০টায় ৭২৪ ও সকাল ১১টায় ৭৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করে আদানি পাওয়ার।
২০১৭ সালে আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তি করে পিডিবি। ঝাড়খন্ডের আদানির কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বিদ্যুৎকেন্দ্রের বয়লারে সমস্যা হয়েছে। এটি শীতল হতে ৪৮ ঘণ্টা লাগতে পারে। এরপর ত্রুটি মেরামতের কাজ শুরু হবে। তাই, উৎপাদন বাড়তে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গতকাল সন্ধ্যার পিক আওয়ারে লোডশেডিং ২ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়েছিল এবং আদানির ইউনিটটি বন্ধ হওয়ার ফলে আজ তা আরও বাড়তে পারে।
গত মাসের শেষ দিকে কেন্দ্রটিতে উৎপাদন ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করে এবং তা দিনের বেলায় প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট ও সন্ধ্যায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত পৌঁছে।
সর্বশেষ উৎপাদন তথ্য অনুযায়ী, পিডিবি গ্যাসভিত্তিক প্ল্যান্ট থেকে প্রায় ৫ হাজার মেগাওয়াট, কয়লা থেকে সাড়ে ৪ হাজার মেগাওয়াট এবং তরল জ্বালানি থেকে ২ হাজার থেকে ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। ফলে ১৬ হাজার মেগাওয়াটের চাহিদার বিপরীতে সামগ্রিক উৎপাদন ১৩ হাজার থেকে ১৪ হাজার মেগাওয়াটের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় সরবরাহের বড় ধরনের ঘাটতি থেকে যাচ্ছে।
আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের বন্ধ থাকা ইউনিটটি পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় গ্রিডের ওপর বাড়তি চাপ অব্যাহত থাকবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
টোকিওতে এলএনজি প্রোডিউসার-কনজুমার কনফারেন্সে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ জ্বালানি পরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত
বিশ্ব জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা ও সরবরাহ বিঘ্নের মধ্যে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এলএনজি সরবরাহ অবকাঠামো সম্প্রসারণের পরিকল্পনা তুলে ধরেছে বাংলাদেশ। এর অংশ হিসেবে ২০২৮ সালের মধ্যে মহেশখালীতে দৈনিক ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) ক্ষমতার আরও একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) এবং ২০৩০ সালের মধ্যে মাতারবাড়ীতে ১ হাজার এমএমসিএফডি ক্ষমতার ল্যান্ডভিত্তিক টার্মিনাল চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। জাপানের টোকিওতে আজ শুক্রবার অনুষ্ঠিত ‘১৫তম এলএনজি প্রোডিউসার-কনজুমার কনফারেন্স ২০২৬’-এ বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ জ্বালানি পরিকল্পনা তুলে ধরে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এসব তথ্য জানান। টোকিওর দ্য ওয়েস্টিন হোটেলে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিল ‘অ্যাডভান্সিং এলএনজি ফর দ্য ফিউচার: রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড রিলায়েবিলিটি’।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভূরাজনৈতিক পরিবর্তন, সরবরাহ বিঘ্ন এবং বাজারের অস্থিতিশীলতার কারণে জ্বালানি নিরাপত্তাকে শুধু জ্বালানি প্রাপ্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার সুযোগ নেই। নির্ভরযোগ্যতা, সরবরাহের বৈচিত্র্য, সাশ্রয়ী মূল্য ও নমনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়ে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, শিল্পায়ন, নগরায়ণ ও বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ায় দেশে জ্বালানির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন, সার, শিল্পকারখানা ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমে প্রাকৃতিক গ্যাস গুরুত্বপূর্ণ হলেও দেশীয় উৎপাদন দিয়ে বাড়তি চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে আমদানি করা এলএনজি দেশের গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দুটি এফএসআরইউয়ের মাধ্যমে দৈনিক ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে। দেশে বছরে এলএনজির চাহিদা প্রায় ৭ মিলিয়ন টন। এ চাহিদা পূরণে নতুন অবকাঠামো তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে এলএনজি সরবরাহ সক্ষমতায় আরও ৩ থেকে ৪ মিলিয়ন টন যোগ হতে পারে। ২০৩১ থেকে ২০৪০ সালের মধ্যে এ সক্ষমতা বাড়িয়ে ১৭ থেকে ১৮ মিলিয়ন টনে নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এলএনজি সংগ্রহের ক্ষেত্রে সরবরাহের উৎস ও পদ্ধতিতেও বৈচিত্র্য আনার কথা তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, সরকার জি-টু-জি, আন্তর্জাতিক দরপত্র এবং সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির মাধ্যমে বিভিন্ন উৎস থেকে এলএনজি সংগ্রহ করছে।
আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকার বিনিয়োগবান্ধব নীতি নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি সম্প্রতি ঘোষিত ‘বাংলাদেশ অফশোর বিডিং রাউন্ড ২০২৬’-এর কথাও তুলে ধরেন। আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত উন্মুক্ত এ দরপত্রে মুনাফা স্থানান্তর, কর পরিশোধে সরকারি সহায়তা এবং দীর্ঘমেয়াদি রাজস্ব স্থিতিশীলতার মতো সুযোগ রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।
বিশ্ব জ্বালানি বাজারের পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে বাংলাদেশ কাজ করতে আগ্রহী বলেও সম্মেলনে জানান প্রতিমন্ত্রী।
সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।
ভারতের সঙ্গে বিগত সরকারের করা ১০১টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ও চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার। এ পর্যালোচনার ফলাফল শিগগিরই জানানো হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। শুক্রবার জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় সরকারদলীয় অন্যান্য হুইপ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে বৃহস্পতিবার সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শেষ হয়।
চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহারের চুক্তি এবং এর আওতায় বন্ধুরাষ্ট্রের জাহাজ চলাচল নিয়ে প্রশ্ন করা হলে চিফ হুইপ বলেন, আমরা চুক্তিগুলো নিয়ে আলোচনা করছি এবং সেটার ফল অনতিবিলম্বে আপনারা পাবেন।
চিফ হুইপ জানান, সংসদের তৃতীয় অধিবেশন ৯ কার্যদিবস চলেছে। এ সময়ে ছয়টি বিল উত্থাপন ও পাস হয়েছে। বিভিন্ন বিধিতে মোট ১ হাজার ৬৭৮টি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নিজে ১৫টি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন।
সংবিধান অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় পরপর সংসদের অধিবেশন বসার ধারাবাহিকতায় তৃতীয় অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে উল্লেখ করে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, আগামী অধিবেশনও একই ধারায় অনুষ্ঠিত হবে।
ছবি : সংগৃহীত
পবিত্র হজের ২০২৭ সালের নিবন্ধন কার্যক্রম চলছে। সৌদি সরকারের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে হজযাত্রীদের নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের পর নিবন্ধনের সময় আর বাড়ানো হবে না। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ-২ শাখা থেকে গত ৯ সেপ্টেম্বর জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৭ সালের হজে বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত কোটা ৭৮ হাজার ৫০০ জন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ হাজার ৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ২ হাজার ৬৭৬ জনের নিবন্ধনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
গত ২৭ জুলাই থেকে হজের নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন হওয়ার পর বাংলাদেশের চূড়ান্ত হজযাত্রীর সংখ্যা সৌদি কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
এরপর চূড়ান্ত হজযাত্রীর সংখ্যার ভিত্তিতে সৌদি পর্বের অর্থ প্রেরণ, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ভিসার আবেদন, টিকাদান, হজ প্রশিক্ষণসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।
হজে গমনেচ্ছু ব্যক্তি, হজ এজেন্সি, হজ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়।
নিবন্ধন ও হজসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজবিষয়ক ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।