প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে সেহরি, ইফতার ও তারাবির সময় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। আজ বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর।
বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকারের প্রতি জনগণের যে এত বিপুল জনসমর্থন-সেটার জায়গা থেকে প্রধানমন্ত্রী আমাদের মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, জনগণ আমাদের কাছ থেকে যে সুশাসন এবং জবাবদিহিতা চায়, সেক্ষেত্রে আমরা স্ব-স্ব মন্ত্রণালয়ের যারা দায়িত্বে আছি, তারা যেন যেকোনো ধরনের প্রভাব এবং স্বজনপ্রীতির ঊর্ধ্বে থেকে কাজ করি এবং বিশেষ করে দুর্নীতির প্রশ্নে যেন আমাদের একটা শক্ত অবস্থান থাকে।’
‘আগামীতে যে রমজান শুরু হচ্ছে, এই রমজানকে কেন্দ্র করে দ্রব্যমূল্য স্বাভাবিক রাখা প্লাস হচ্ছে সেহরি, ইফতার, তারাবির সময়টা যেন বিদ্যুৎ নিরবচ্ছিন্ন থাকে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যেন স্বাভাবিক থাকে এবং সরকারের যে কমিটমেন্ট, বিশেষ করে নির্বাচনের সময় প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন জায়গায় জনসভায় যে বিষয়গুলো বলেছেন- ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড সেগুলো কীভাবে ইমিডিয়েটলি আসলে কিছু দৃশ্যমান কাজ করা যায়, সেই বিষয়গুলো নিয়েও তিনি আমাদের নির্দেশনা দিয়েছেন, আলোচনা করেছেন।’
নুর বলেন, ‘বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর একটি ঘোষণা ছিল যে, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বিষয়ে সরকারের একটি উদ্যোগ থাকবে। সেটি নিয়েও তিনি আলোচনা করেছেন যে, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বিষয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে কী করা যায়। সামগ্রিকভাবেই সমস্ত বিষয়গুলো নিয়ে আলাপ-আলোচনা হয়েছে।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যেহেতু আমি দুটো নির্দিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছি, আমাদের জায়গা থেকে আমরা একটা বিষয় তার দৃষ্টিতে আনার চেষ্টা করেছি, আমাদের শ্রমবাজারের বড় একটা অংশ মিডল ইস্ট বেজড। মিডল ইস্টের সঙ্গে কিন্তু শ্রমবাজার ওপেনের ক্ষেত্রে সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সময় সেটার একটা ধারাবাহিকতা ছিল।
কিন্তু মাঝখানে নানাবিধ কারণে সেটার একটা ছন্দপতন হয়েছে, বন্ধ হয়েছে অনেক জায়গার শ্রমবাজার। সেখানে শ্রমবাজার ওপেন করার জন্য যদি প্রধানমন্ত্রী একটি সফর দেন মিডল ইস্টে, সেটা আমাদের জন্য একটা সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচন করতে পারে। আমাদের জায়গা থেকে এটিও বলেছি, তার জায়গা থেকেও আরও কিছু পরামর্শ আমাদের দিয়েছেন যেগুলো কাজের ক্ষেত্রে আমরা মেনে চলব।’
এছাড়া সরকার ১৮০ দিনের একটি পরিকল্পনা নেবে বলেও জানান তিনি।
ছবি : সংগৃহীত
প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে কিংবা রাতে ঘুমানোর আগে টুথপেস্ট দিয়ে দাঁত ব্রাশ করা মানুষের নিত্য অভ্যাস। শিশু থেকে বয়স্ক– সব বয়সী মানুষের ব্যবহৃত নিত্যপ্রয়োজনীয় টুথপেস্ট নিয়ে এবার উদ্বেগজনক তথ্য সামনে এসেছে।
দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া বিভিন্ন ব্র্যান্ডের টুথপেস্টের প্রায় চারটির মধ্যে তিনটিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। শুধু প্রাপ্তবয়স্কদের নয়, শিশুদের জন্য বাজারজাত টুথপেস্টেও মিলেছে এই ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা।
এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (এসডো) এক বছরের গবেষণায় বাজারের ১৯টি ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা পরীক্ষা করে দেখেছে, এর মধ্যে ২৬টিতে, অর্থাৎ ৭৬ দশমিক ৫ শতাংশ নমুনায় মাইক্রোপ্লাস্টিক রয়েছে। গবেষণায় প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০ থেকে সর্বোচ্চ ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে। রোববার রাজধানীর লালমাটিয়ায় এসডোর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ‘মাইক্রোপ্লাস্টিক ইন টুথপেস্ট’ শীর্ষক গবেষণার ফল প্রকাশ করা হয়।
সংস্থাটি বলছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি প্রমাণিত হয়েছে। বাংলাদেশে বাজারজাত টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে এটিই প্রথম বৈজ্ঞানিক গবেষণা। গবেষণার উদ্দেশ্য কোনো নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডকে লক্ষ্যবস্তু করা নয়; বরং ভবিষ্যতের নীতিনির্ধারণে ব্যবহারযোগ্য বৈজ্ঞানিক তথ্যভান্ডার তৈরি করা।
এক বছরে সংগ্রহ ও পরীক্ষাগার বিশ্লেষণ
গবেষণাটি পরিচালিত হয়েছে ২০২৫ সালের জুলাই থেকে গত জুন পর্যন্ত। এই সময় দেশের বিভিন্ন সুপারশপ, খুচরা দোকান ও পাইকারি বাজার থেকে স্থানীয় ও আমদানি করা ১৯টি ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ইকোটক্সিকোলজি (ইএইচই) গবেষণাগারে এসব নমুনার বিশ্লেষণ করা হয়। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন এলাকার দুই হাজার ৭৬০ জন ভোক্তার ওপর চালানো হয় একটি জরিপ।
পরীক্ষার ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাংলাদেশে উৎপাদিত ২৫ নমুনার মধ্যে ২২টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। ভিয়েতনাম থেকে আমদানি করা দুটি নমুনার দুটিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক মিলেছে। থাইল্যান্ডের দুটি নমুনার একটিতে এবং ভারতের পাঁচটি নমুনার একটিতে এই ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে।
কোন টুথপেস্টে সবচেয়ে বেশি
গবেষণায় সবচেয়ে বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে মেডিপ্লাস ফ্লুরাইড জেল টুথপেস্টে। প্রতি ১০০ গ্রামে এতে ৩২০টি কণা শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া ক্লোজআপ রেড হট ও ক্লোজআপ মেন্থল ফ্রেশে ১৬০টি করে, কোদোমো আলট্রা শিল্ড ফর্মুলায় ১৪০টি, সিগন্যাল গ্রিন টিতে ১২০টি, পেপসোডেন্ট অ্যাডভান্স সল্ট ও হিমালয়া কমপ্লিট কেয়ারে ১০০টি করে এবং সেনসোডাইন ফ্রেশ মিন্টে ৮০টি কণা পাওয়া গেছে। এ ছাড়া পেপসোডেন্ট সেনসিটিভ এক্সপার্ট, হোয়াইট প্লাস রেড, হোয়াইট প্লাস প্রো সেনসিটিভ জেল, মেরিল বেবি স্ট্রবেরি, সিগন্যাল হোয়াইটেনিং ও মেডিপ্লাস টিজিপি ফর্মুলা টুথপেস্টে ৬০টি করে কণা শনাক্ত হয়েছে।
অন্যদিকে এএমপিএম হার্বাল, মেডিপ্লাস ডিএস, পেপসোডেন্ট জার্মিচেক+, মেরিল বেবি অরেঞ্জ, ম্যাজিক হারবাল, মেসওয়াক ও ক্লোজআপ মেন্থল ফ্রেশ স্যাশেতে ৪০টি করে কণা পাওয়া গেছে। ডেন্টিন জেল, পেপসোডেন্ট কিডস অরেঞ্জ, ক্লোজআপ লেমন সি সল্ট, ব্রাশআপ হোয়াইটেনিং জেল এবং হোয়াইট প্লাস প্রো সেনসিটিভে পাওয়া গেছে ২০টি করে কণা।
মাইক্রোপ্লাস্টিক মেলেনি আটটিতে
গবেষণায় আটটি টুথপেস্টে কোনো শনাক্তযোগ্য মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি। এগুলো হলো জেনফ্রেশ, প্যারাসুট জাস্ট ফর বেবি (ম্যাঙ্গো), ক্লোজআপ রেড-হট জিংক ফ্রেশ টেকনোলজি, প্যারোডনট্যাক্স এক্সপার্ট গাম কেয়ার, সেনসোডাইন ফ্রেশ জেল, কোলগেট ম্যাক্সফ্রেশ, কোলগেট অ্যাক্টিভ সল্ট এবং কোদোমো অরেঞ্জ।
শিশুদের টুথপেস্টও মুক্ত নয়
শিশুদের জন্য বাজারজাত করা ছয়টি টুথপেস্টও গবেষণার আওতায় আনা হয়। এর মধ্যে চারটিতে অর্থাৎ, প্রায় ৬৭ শতাংশ নমুনায় মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। এসব টুথপেস্টে প্রতি ১০০ গ্রামে ২০ থেকে ১৪০টি পর্যন্ত কণা শনাক্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ১৪০টি কণা পাওয়া যায় কোদোমো আলট্রা শিল্ড ফর্মুলায়। মেরিল বেবি স্ট্রবেরিতে পাওয়া গেছে ৬০টি, মেরিল বেবি অরেঞ্জে ৪০টি এবং পেপসোডেন্ট কিডস অরেঞ্জে ২০টি কণা। তবে প্যারাসুট জাস্ট ফর বেবি ও কোদোমো অরেঞ্জে কোনো মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি।
মোড়কে নেই কোনো তথ্য
গবেষণায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে। পরীক্ষা করা কোনো টুথপেস্টের মোড়কে মাইক্রোপ্লাস্টিক কিংবা ব্যবহৃত সিনথেটিক পলিমারের তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। এসডো বলছে, এর ফলে ভোক্তারা সচেতনভাবে পণ্য বেছে নেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। একই সঙ্গে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর জন্যও বাজার তদারকি কঠিন হয়ে পড়ছে।
সংবাদ সম্মেলনে এসডোর মহাসচিব ও সিনিয়র টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার ড. শাহরিয়ার হোসেন বলেন, গবেষণায় ব্যবহৃত সব নমুনা সরাসরি সুপারশপ, খুচরা বিক্রেতা ও বাজার থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। ফলে নকল বা ভেজাল পণ্য গবেষণার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ ছিল না। তিনি বলেন, প্রতিদিন ব্যবহৃত একটি পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকতে পারে এ বিষয়টি অধিকাংশ ভোক্তারই অজানা। তাই টুথপেস্টের উপাদান লেবেলে উল্লেখ বাধ্যতামূলক করা, জনসচেতনতা বাড়ানো এবং নিয়ন্ত্রক তদারকি জোরদার করা জরুরি।
ভোক্তাদের সচেতনতা সীমিত
গবেষণার অংশ হিসেবে পরিচালিত ভোক্তা জরিপে দেখা গেছে, টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি সম্পর্কে সাধারণ মানুষের সচেতনতা এখনও খুবই সীমিত। জরিপে অংশ নেওয়া ৪১ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষ বলেছেন, তারা আগে কখনও এ বিষয়ে শোনেননি। ৩১ দশমিক ৩ শতাংশ বলেছেন, শুনেছেন তবে বিস্তারিত জানেন না। মাত্র ২৬ দশমিক ৯ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, তারা এ বিষয়ে সচেতন। জরিপে আরও দেখা গেছে, ৮২ দশমিক ৫ শতাংশ উত্তরদাতা নিয়মিত টুথপেস্ট ব্যবহার করেন এবং ৯০ দশমিক ৬ শতাংশ নিয়মিত টুথব্রাশ ব্যবহার করেন। ৫৬ দশমিক ৯ শতাংশ দিনে একবার এবং ৪০ দশমিক ৬ শতাংশ দিনে দুইবার দাঁত ব্রাশ করেন।
টুথপেস্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্র্যান্ড হিসেবে উঠে এসেছে মেডিপ্লাস। জরিপে অংশ নেওয়া ৩৫ দশমিক ৬ শতাংশ উত্তরদাতা এই ব্র্যান্ড ব্যবহার করেন। এর পর রয়েছে ক্লোজআপ ও পেপসোডেন্ট, যেগুলো ব্যবহার করেন ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ করে উত্তরদাতা। কোলগেট ব্যবহার করেন ১১ দশমিক ৩ শতাংশ।
মান সংশোধনের উদ্যোগ নেবে বিএসটিআই
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউটের (বিএসটিআই) উপপরিচালক (রসায়ন) মো. মনজুরুল করিম বলেন, বর্তমানে টুথপেস্টের জাতীয় মানে ৪০টি অনুমোদিত উপাদান এবং কণার আকারের সীমা নির্ধারণ রয়েছে। কিছু উৎপাদক কম খরচে ওজন বাড়ানোর উদ্দেশ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যবহার করতে পারেন, যা একটি খারাপ চর্চা। তিনি জানান, ২০১৯ সাল থেকেই প্রসাধনী পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যবহারের বিষয়টি বিএসটিআইয়ের নজরে রয়েছে। ইতোমধ্যে ফেসওয়াশ ও ফেসপ্যাকের মান সংশোধন করা হয়েছে। এখন টুথপেস্টের মানেও একই ধরনের সংশোধনের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
নীতিমালা নেই, বাধ্যতামূলক নয় পরীক্ষা
এসডো বলছে, বাংলাদেশে বর্তমানে টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের জন্য কোনো জাতীয় মানদণ্ড, অনুমোদিত সীমা, পরীক্ষার পদ্ধতি কিংবা বাধ্যতামূলক লেবেলিং নীতি নেই। ফলে উৎপাদকরা এ বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশে বাধ্য নন এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থারও কার্যকর নজরদারির সুযোগ সীমিত।
সংস্থাটির চেয়ারম্যান সৈয়দ মারগুব মোরশেদ বলেন, বিশ্বাসযোগ্য বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতেই কার্যকর জননীতি প্রণয়ন করা উচিত। এই গবেষণা টুথপেস্টের মানদণ্ড উন্নয়ন, নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা জোরদার এবং ভোক্তা ও পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
স্বাস্থ্য ও পরিবেশে সম্ভাব্য ঝুঁকি
গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দাঁত ব্রাশের সময় টুথপেস্টের সঙ্গে বেরিয়ে যাওয়া মাইক্রোপ্লাস্টিক বর্জ্য পানির মাধ্যমে পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে। পরে তা নদী, জলাশয় ও খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশ করতে পারে। খাদ্য ও পানীয়ের মাধ্যমে এসব ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা মানবদেহেও প্রবেশের শঙ্কা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গবেষণায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের সংস্পর্শের সঙ্গে শ্বাসতন্ত্র, পরিপাকতন্ত্র, রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা, হৃদরোগ, স্নায়ুতন্ত্র ও প্রজননস্বাস্থ্যের সম্ভাব্য ঝুঁকির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে এসব প্রভাব সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আরও বিস্তৃত গবেষণার প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
গবেষণার ফল প্রকাশের পর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় একটি পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শুধু ভোক্তার স্বাস্থ্য নয়, পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টিকেও সামনে নিয়ে এসেছে। তাই দ্রুত জাতীয় মানদণ্ড প্রণয়ন, বাধ্যতামূলক লেবেলিং, নিয়মিত পরীক্ষাগার তদারকি এবং উৎপাদকদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
এসডোর নির্বাহী পরিচালক সিদ্দীকা সুলতানা বলেন, এই গবেষণার মাধ্যমে বাংলাদেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক শূন্যতা পূরণ হয়েছে। এর ফলাফল ভবিষ্যতে ওরাল কেয়ার পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিকের মানদণ্ড নির্ধারণ, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং তথ্যভিত্তিক নীতিমালা প্রণয়নে সহায়ক হবে।
স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক লাইন ডিরেক্টর দন্ত চিকিৎসক অধ্যাপক মো. মোশাররফ হোসেন খন্দকার বলেন, মুখ পরিষ্কারে ব্যবহৃত পণ্যগুলোতে এ ধরনের ক্ষতিকর উপাদান থাকা উচিত নয়। দাঁতের সুরক্ষায় ফ্লোরাইড, কার্বনেট ও সিলিকাকে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় মনে করা হয়। মাইক্রোপ্লাস্টিক তার ঘর্ষণ ক্ষমতার কারণে দাঁত সাদা করতে পারলেও, এটি দাঁতের এনামেলের ওপর বিরূপ ও ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মাহমুদা তামান্না খান বলেন, গবেষণায় যে বিষয়টি উন্মোচিত করেছি, এর ওপর ভিত্তি করে আমরা কাজ করতে আগ্রহী। বিএসটিআইকে সব ধরনের সহায়তা দিতে আমরা প্রস্তুত। সরকারি সংস্থা ও এনজিওগুলো একযোগে কাজ করলেই ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন ও প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি করতে সরকার নতুন নীতিমালা ও মূল্যবোধভিত্তিক কারিকুলাম প্রণয়নের কাজ করছে। এ লক্ষ্যে দেশের আটটি বিভাগে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নিয়ে ধারাবাহিক কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। সিলেট বিভাগ দিয়ে এ কর্মসূচির সূচনা হয়েছে।
তিনি আজ (রবিবার) সিলেট নগরীর পিটিআই অডিটোরিয়ামে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস আয়োজিত বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা, মনিটরিং, জবাবদিহিতা ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি পরিবর্তিত প্রত্যাশা শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় সেশন পরিচালনা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, উন্নত বিশ্বের শিক্ষা ব্যবস্থা হুবহু অনুসরণ নয় বরং বাংলাদেশের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফলাফলভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। প্রাথমিক পর্যায়ে Foundational Learning শতভাগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ধর্মীয়, পারিবারিক ও নাগরিক মূল্যবোধকে নতুন কারিকুলামে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দেশবরেণ্য বিশেষজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় কারিকুলাম প্রণয়নের কাজ এগিয়ে চলছে। একই সঙ্গে শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের জন্য নতুন নীতিমালার প্রথম খসড়া আগামী ১৭ আগস্টের মধ্যে প্রস্তুত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, নীতিমালা চূড়ান্ত হওয়ার আগে শিক্ষকদের বেতন কাঠামো নিয়ে মন্তব্য করা সমীচীন নয়। তবে শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা ও জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। বর্তমানে মিড-ডে মিল কর্মসূচি পাইলট পর্যায়ে রয়েছে। এর বাস্তবায়নে পাওয়া ত্রুটি সংশোধনে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের তদারকি, কারখানা পরিদর্শন, খাদ্য প্রযুক্তিবিদ নিয়োগ ও বিদ্যালয়ভিত্তিক ‘মাদার্স কমিটি’ গঠনসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পাইলটিং সফল হলে ২০২৭ সালের শুরু থেকে কর্মসূচিটি সারা দেশে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ২০২৮ সালে নতুন কারিকুলাম চালুর সঙ্গে সঙ্গে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকেও নীতিমালার আওতায় আনা হবে। এসব বিদ্যালয়ের কারিকুলাম, শিক্ষকের মান, অবকাঠামো ও শিক্ষা ক্যালেন্ডার নিয়মিত মনিটরিং করা হবে। একই সঙ্গে বিদ্যমান নীতিমালার আওতায় অধিদপ্তরের কার্যক্রম পরিচালিত হবে এবং নতুন নীতিমালা কার্যকর হওয়ার পর তা বাস্তবায়ন করা হবে।
সিলেটের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাখওয়াত এরশেদের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. মাসুদ রানা। এসময় সিলেট বিভাগের প্রাথমিক শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
এনসিপিসহ একাধিক বিরোধী রাজনৈতিক দল সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে আসছে। তবে এ বিষয়ে আপাতত সরকার আমলে নেওয়ার মতো কোনো উপাদান দেখেনি বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, ‘এখন যারা তার (সাবেক রাষ্ট্রপতি) বিরুদ্ধে বক্তব্য দিচ্ছে, তাদের সেটা অধিকার আছে। আমরা গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে কী প্রত্যাশা করি? রাজনৈতিকভাবে মানুষের কথা বলার স্বাধীনতা থাকবে, প্রতিবাদ করার স্বাধীনতা থাকবে। সেটা আছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, বিরোধীদলের পক্ষ থেকে এনসিপি এবং অন্যান্যরা তার বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ উত্থাপন করছে। সেটা করতে পারে। কিন্তু আমরা আমলে নেওয়ার মতো কোনো বক্তব্য ওখানে নেই।’
আজ রোববার দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘পুলিশের সাহসিকতা ও প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কার ও সম্মাননা প্রদান’ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
বিদায়ী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকেও ‘সুরক্ষা ও নিরাপত্তা’ দেওয়া হবে
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সংবিধানে রাষ্ট্রপতিকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। যার ফলে তার বিরুদ্ধে আদালতে ফৌজদারি আইনে মামলা করা যায় না।
এছাড়া পদ ছেড়ে দেওয়ার পরও একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘সুরক্ষা ও নিরাপত্তা’ দেওয়ার বিধান রয়েছে। সেই হিসেবে, সদ্য পদত্যাগ করা রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকেও ‘সুরক্ষা ও নিরাপত্তা’ দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ‘তিনি (মো. সাহাবুদ্দিন) সাংবিধানিকভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বিধি-বিধান অনুযায়ী করেছেন। আমরা রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা পেয়েছি। এখন সেই সময়টায় সংবিধান অনুসারে, তিনি প্রিভিলেজড এবং ইমিউনিটি আছে তার, ফৌজদারি অপরাধ ইত্যাদির বিষয়ে কোনো আদালতে মামলা করা যায় না।’
সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ‘সুরক্ষা ও নিরাপত্তা’র বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, তিনি আইনানুগ যা সুবিধা পাবেন অবশ্যই পাবেন এবং তার প্রটেকশনের জন্য এসএসএফ-পিজিআর সুবিধা পাওয়ার ছয় মাসের বিধান আছে। এছাড়া পুলিশ এবং অন্যান্য সংস্থার মাধ্যমে তার নিরাপত্তার বিষয় গ্রহণ করা হবে।
এদিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, লন্ডনে চিকিৎসা নিতে গিয়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে সরাসরি আলাপ করেছেন-এমন কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য সরকারের কাছে নেই।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা পত্রিকায় দেখেছি। কোনো পত্রিকা এরকম একটা নিউজ দিল, কী তথ্য প্রমাণ আছে সেটা তাকেই জিজ্ঞেস করতে হয়। আমাদের কাছে সে রকম কোনো তথ্য নেই। আর কথা বলার জন্য লন্ডন যেতে হয় নাকি? আজকালকার ইন্টারনেটের দুনিয়ায় লন্ডন গিয়ে কারও সঙ্গে কথা বলতে হয় না, এটা আমার কাছে অলিক মনে হয়। কথা বলতে চাইলে তো এখান থেকেও বলা যায়।’
এর আগে, গত ২৩ জুলাই একটি জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছিল যে, চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন যুক্তরাজ্যে (লন্ডন) গিয়ে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনালাপ করেছেন।
রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং ব্যাংকের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তখনকার সময়ের কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা দেশের প্রচলিত আইনানুসারে চলবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘সেই সময় দায়িত্ব পালনকালীন তার বিরুদ্ধে কি কোনো অভিযোগ কেউ দিয়েছিল? দিয়ে থাকলে সেটা তখনকার সময়ে যদি কোনো কিছুর রেকর্ড করে থাকে সেটা তখনকার বিষয়, বিধি-বিধান অনুসারে চলবে, আইনানুসারে চলবে।’
পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও নিশ্চিত করেন, সংবিধানে আইনগতভাবে যা যা সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তা পাওয়ার কথা, তার সবই নিয়ম অনুযায়ী পাবেন সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
তিনি বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তাঁর বিশেষ সুরক্ষার জন্য এসএসএফ, পিজিআরসহ ছয় মাসের একটি নির্দিষ্ট আইনি বিধান রয়েছে। সেই ছয় মাসের নিরাপত্তার পূর্ণ সুযোগ তিনি নিয়ম অনুযায়ী পাবেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও তাঁর নিরাপত্তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আইনানুগভাবে তিনি যেসব সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার যোগ্য, তার সবই পাবেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতাচ্যুত হওয়া শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে জাতীয় সংসদ কর্তৃক নির্বাচিত হয়ে রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিন বছর তিন মাস দায়িত্বে ছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
লন্ডনে চিকিৎসা নিতে গিয়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে সরাসরি আলাপ করেছেন- এমন কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য সরকারের কাছে নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
আজ রোববার দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘পুলিশের সাহসিকতা ও প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কার ও সম্মাননা প্রদান’ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা পত্রিকায় দেখেছি। কোনো পত্রিকা এরকম একটা নিউজ দিল, কী তথ্য প্রমাণ আছে সেটা তাকেই জিজ্ঞেস করতে হয়। আমাদের কাছে সে রকম কোনো তথ্য নেই। আর কথা বলার জন্য লন্ডন যেতে হয় নাকি? আজকালকার ইন্টারনেটের দুনিয়ায় লন্ডন গিয়ে কারও সঙ্গে কথা বলতে হয় না, এটা আমার কাছে অলিক মনে হয়। কথা বলতে চাইলে তো এখান থেকেও বলা যায়।’
এর আগে, গত ২৩ জুলাই একটি জাতীয় দৈনিকে বিশেষ সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছিল যে, চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন যুক্তরাজ্যে (লন্ডন) গিয়ে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনালাপ করেছেন। এদিকে এনসিপিসহ একাধিক বিরোধী রাজনৈতিক দল সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে আসছে।
তবে এ বিষয়ে আপাতত সরকার আমলে নেওয়ার মতো কোনো উপাদান দেখেনি বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘এখন যারা তার (সাবেক রাষ্ট্রপতি) বিরুদ্ধে বক্তব্য দিচ্ছে, তাদের সেটা অধিকার আছে। আমরা গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে কী প্রত্যাশা করি? রাজনৈতিকভাবে মানুষের কথা বলার স্বাধীনতা থাকবে, প্রতিবাদ করার স্বাধীনতা থাকবে। সেটা আছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, বিরোধীদলের পক্ষ থেকে এনসিপি এবং অন্যান্যরা তার বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ উত্থাপন করছে। সেটা করতে পারে। কিন্তু আমরা আমলে নেওয়ার মতো কোনো বক্তব্য ওখানে নেই।’
রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং ব্যাংকের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তখনকার সময়ের কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা দেশের প্রচলিত আইনানুসারে চলবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘সেই সময় দায়িত্ব পালনকালীন তার বিরুদ্ধে কি কোনো অভিযোগ কেউ দিয়েছিল? দিয়ে থাকলে সেটা তখনকার সময়ে যদি কোনো কিছুর রেকর্ড করে থাকে সেটা তখনকার বিষয়, বিধি-বিধান অনুসারে চলবে, আইনানুসারে চলবে।’
পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও নিশ্চিত করেন, সংবিধানে আইনগতভাবে যা যা সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তা পাওয়ার কথা, তার সবই নিয়ম অনুযায়ী পাবেন সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
তিনি বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তাঁর বিশেষ সুরক্ষার জন্য এসএসএফ, পিজিআরসহ ছয় মাসের একটি নির্দিষ্ট আইনি বিধান রয়েছে। সেই ছয় মাসের নিরাপত্তার পূর্ণ সুযোগ তিনি নিয়ম অনুযায়ী পাবেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও তাঁর নিরাপত্তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আইনানুগভাবে তিনি যেসব সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার যোগ্য, তার সবই পাবেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতাচ্যুত হওয়া শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে জাতীয় সংসদ কর্তৃক নির্বাচিত হয়ে রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিন বছর তিন মাস দায়িত্বে ছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন।
প্রধানমন্ত্রী সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬-এর উদ্বোধন করেন
সেনাবাহিনী সদর দফতরে ‘সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬’ (১ম পর্ব)-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ রোববার (২৬ জুলাই) প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি এই পর্ষদের উদ্বোধন করেন। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
আইএসপিআর জানায়, প্রথম পর্বের এই পদোন্নতি পর্ষদে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্নেল থেকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল থেকে কর্নেল পদবির যোগ্য কর্মকর্তারা পরবর্তী পদোন্নতির জন্য বিবেচিত হবেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও পার্বত্য চট্টগ্রামে দায়িত্ব পালনকালে শহীদ হওয়া এবং আহত সেনা সদস্যদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন তিনি।
পদোন্নতির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক মতাদর্শ এবং ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী কর্মকর্তাদের পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্বের গুণাবলি, শৃঙ্খলার মান, সততা, বিশ্বস্ততা, আনুগত্য ও উপযুক্ততার ওপর জোর দেয়ার নির্দেশ দেন।
দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও বিভিন্ন দুর্যোগ মোকাবিলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করার জন্য তিনি সেনাবাহিনীর সব সদস্যের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান সেনাবাহিনী প্রধান ও চিফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস)। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামসহ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরে প্রধানমন্ত্রী সেনাসদস্যদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন এবং পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন।
বঙ্গভবন ছেড়ে যাচ্ছে বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের গাড়িবহর
সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বঙ্গভবন ছেড়েছেন। শুক্রবার পদত্যাগের পর আজ রোববার বঙ্গভবন ছাড়েন তিনি। বেলা আড়াইটার কিছু আগে সপরিবারে বঙ্গভবন থেকে সাবেক রাষ্ট্রপতির গাড়িবহর বের হতে দেখা যায়। রাজধানীর গুলশানের ১২৩ নম্বর সড়কে নিজ বাসায় উঠবেন মো. সাহাবুদ্দিন।
গাড়ি বহরে রাষ্ট্রপতির গাড়িসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ১৮টি গাড়ি দেখা গেছে। টানা ৩ বছর ৪ মাস পর রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে সপরিবারে উঠছেন তিনি। পাঁচ বছরের নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ না করে ১ বছর ৮ মাস আগেই তিনি নিজের একান্ত নিবাসে ফিরে যাচ্ছেন। বঙ্গভবন ছাড়ার খবরে দুপুর থেকেই গণমাধ্যমকর্মীরা সেখানে অপেক্ষা করছিলেন। উৎসুক জনতাও বঙ্গভবনের সামনের রাস্তায় জড়ো হন। দুপুর থেকেই বঙ্গভবনের সামনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের তৎপর থাকতে দেখা গেছে।
পদত্যাগের পর গুলশানের বাড়িটির নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আজ সকাল থেকেই পুলিশ, র্যাবসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সেখানে অবস্থান করে। রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে বাড়িটির পঞ্চম তলার ফ্ল্যাটে থাকতেন তিনি। মো. সাহাবুদ্দিন বঙ্গভবন ছাড়ার পর সেখানে এখন দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
গত শনিবার সাবেক এই রাষ্ট্রপতি ফোনে সমকালকে জানান, চিকিৎসার জন্য তিনি শিগ্গির সিঙ্গাপুর অথবা ব্যাংকক যাবেন। জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) থেকে এরই মধ্যে তাকে বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তার স্ত্রী রেবেকা সুলতানাও অসুস্থ বলে জানালেন। চিকিৎসার জন্য স্ত্রীকেও সঙ্গে নিয়ে যাবেন তিনি।
সাবেক রাষ্ট্রপতি শারীরিক অসুস্থতার কারণ উল্লেখ করে শুক্রবার স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন। পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেন, তিনি হৃদ্রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছেন। সম্প্রতি তার হৃদ্যন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হওয়ায় ‘অটোনোমিক নিউরোপ্যাথি’ নামক জটিল রোগেও আক্রান্ত। এর ফলে তিনি মাঝে-মধ্যে স্বল্প সময়ের জন্য অচেতন হয়ে পড়েন।
সাবেক রাষ্ট্রপতি বলেন, বঙ্গভবন ছাড়ার প্রস্তুতি হিসেবে ক’দিন আগে থেকেই তার ব্যক্তিগত মামলাল গুলশানের বাড়িতে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল। গুলশানের বাড়িটির পরিচ্ছন্নতা ও সংস্কার কাজও ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সর্বোচ্চ ওই বাসভবনটিতে আজ শনিবারই তার শেষদিন। গত ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন।
সংবিধানের চতুর্থ ভাগের প্রথম পরিচ্ছেদের ৫৪ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কিংবা অনুপস্থিতি ও অসুস্থতার কারণে তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। সংবিধানের এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বর্তমান স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নিযুক্ত করা হবে।