ছবি- সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, সময় : ৯:৩২ এএম

প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) নতুন মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন মেজর জেনারেল কায়ছার রশীদ চৌধুরী। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান গত সোমবার ঢাকা সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে মোহাম্মদ কায়ছার রশীদ চৌধুরীকে মেজর জেনারেল র‍্যাঙ্ক ব্যাজ পরিয়ে দেন।


কায়ছার রশীদ চৌধুরী ২৯তম বিএমএ লং কোর্সের দ্বিতীয় সেরা ক্যাডেট হিসেবে কমিশন লাভ করেছিলেন। বর্তমানে তিনি তাঁর কোর্সের প্রথম কর্মকর্তা।


দেশ-বিদেশে নানা সম্মানজনক সামরিক কোর্স সম্পন্ন করার অভিজ্ঞতা রয়েছে মেজর জেনারেল কায়ছার রশীদ চৌধুরীর। তিনি বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্য থেকে দুবার সাফল্যের সঙ্গে স্টাফ কোর্স সম্পন্ন করেছেন। এ ছাড়া তিনি তুরস্ক থেকে আর্টিলারি বেসিক কোর্স এবং পাকিস্তান থেকে গানারি স্টাফ কোর্স সম্পন্ন করেন।


দীর্ঘ সামরিক জীবনে কায়ছার রশীদ চৌধুরী নানা গুরুত্বপূর্ণ পদে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। পার্বত্য চট্টগ্রামে তিনি আর্টিলারি ব্রিগেডের ব্রিগেড মেজর (বিএম) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এ ছাড়া ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজে (ডিএসসিএসসি) তিন বছরের বেশি সময় ধরে প্রশিক্ষক (ডিরেক্টিং স্টাফ) এবং প্রধান প্রশিক্ষক (চিফ ইনস্ট্রাক্টর) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। স্কুল অব আর্টিলারিতেও তিন মেয়াদে প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করেছেন।


মেজর জেনারেল কায়ছার রশীদ চৌধুরী ২০১৯ সালে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে কর্মরত থাকা অবস্থায় তাঁর প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ শীর্ষ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ (টপ টিসিসি) হিসেবে সম্মান অর্জন করে। তাঁর পুরো কার্যকালেই বাংলাদেশ এই শীর্ষ স্থান ধরে রাখে। শান্তি রক্ষা মিশনে বাংলাদেশের বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য ডেপ্লয়মেন্ট বা নতুন সুযোগ সৃষ্টিতে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।




ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১:১৫ পিএম

বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।


আবহাওয়ার বিশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও পাশের উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত নিম্নচাপটি ঘণীভূত হয়ে একই এলাকায় গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে।


ঘূর্ণিবায়ুর ওই চক্র সোমবার সকাল ৯টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে প্রায় ৪২৫ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৩০ কিলোমিটার পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ২০ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ২৬০ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল। সেই সময় গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার, যা দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছিল।


নিম্নচাপ কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে। গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে সমুদ্রবন্দর, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও লাগোয়া বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার উপর দিয়ে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।


এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দকে আগের মতোই ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার সব নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।


দেশজুড়ে বৃষ্টির আভাস


আবহাওয়ার সকালের নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়েছে, গভীর নিম্নচাপটি সোমবার সন্ধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ-উত্তর উড়িষ্যা উপকূল অতিক্রম করতে পারে। আর মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, বিহার, গভীর নিম্নচাপের কেন্দ্রস্থল ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে৷


মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের উপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে জানিয়ে বুলেটিনে বলা হয়েছে, এদিন সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের বেশিরভাগ জায়গায় এবং রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।


সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টি হতে পারে।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১২:৪০ পিএম

কক্সবাজারের মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর দেশজুড়ে গ্যাস সরবরাহে তৈরি হওয়া সংকট এখন তীব্র আকার ধারণ করেছে। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন জেলা ও শিল্পাঞ্চলে এর প্রভাব পড়েছে। দিনের পর দিন রান্নার জন্য চুলায় আগুন জ্বালানো যাচ্ছে না। সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘ সারিতে বাড়ছে ভোগান্তি। গ্যাসের অভাবে বন্ধ হওয়ার পথে শিল্পকারখানা।


সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার মহেশখালীর এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগার পর সেটি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত টার্মিনাল পুরোপুরি সচল হতে সাত থেকে ১৫ দিন সময় লাগতে পারে। ফলে আবাসিক, শিল্প, সিএনজি ও বিদ্যুৎ খাতে সংকট আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।


দেশে বর্তমানে দৈনিক প্রায় ২৬৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মাধ্যমে ৯০ থেকে ১১০ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ হয়। একটি টার্মিনাল বন্ধ হওয়ায় সরবরাহ কমেছে প্রায় ৪৫ কোটি ঘনফুট। ফলে চাহিদার তুলনায় গ্যাস ঘাটতি আরও বেড়েছে। 


রাজধানীর কিছু এলাকায় রান্না প্রায় বন্ধ


গ্যাস সংকটে সবচেয়ে বড় ভোগান্তিতে পড়েছেন আবাসিক গ্রাহকরা। রাজধানীর মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, কলাবাগান, কাঁঠালবাগান, মিরপুর, বাড্ডা, রামপুরা ও বাসাবোসহ বিভিন্ন এলাকায় দিনের বেশির ভাগ সময় গ্যাস থাকছে না। কোথাও সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গ্যাসের চাপ এতটাই কম থাকছে যে, রান্না করাই সম্ভব হচ্ছে না।

অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে বৈদ্যুতিক চুলা, ইন্ডাকশন কুকার ও এলপিজি সিলিন্ডারের ওপর নির্ভর করছে। কেউ কেউ গভীর রাতে গ্যাসের চাপ কিছুটা বাড়লে তখন পরদিনের জন্য রান্না সেরে রাখছেন।


রাজধানীর মনসুরাবাদ এলাকার বাসিন্দা আসমা বেগম বলেন, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত গ্যাস থাকে না। বাধ্য হয়ে বাজার থেকে খাবার কিনে খেতে হচ্ছে। এভাবে আর কত দিন চলা যায়?


মালিবাগের বাসিন্দা মোর্শেদা সেতু বলেন, সকাল থেকে গ্যাসের চাপ এতটাই কম ছিল যে, কোনো রান্না করা সম্ভব হয়নি। রাত ৯টার পর গ্যাস এলেও শুধু ভাত রান্না করতেই প্রায় এক ঘণ্টা সময় লেগেছে। অন্য কোনো রান্না করা সম্ভব হয়নি।


কাঁঠালবাগানের বাসিন্দা মার্জিয়া আক্তার বলেন, দুপুরে প্রায় এক ঘণ্টা চুলায় কড়াই বসিয়ে রেখেও তেল গরম করা যায়নি। ছোট শিশুর জন্য সময়মতো খাবার তৈরি করতে না পেরে প্রতিদিন বাইরে থেকে খাবার কিনতে হচ্ছে।


সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘ সারি


গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে সিএনজি স্টেশনগুলোতেও। রাজধানী থেকে জেলা শহর–সবখানেই গ্যাসের চাপ কম থাকায় অনেক স্টেশন দিনের দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকছে। যেসব স্টেশন খোলা রয়েছে, সেখানে মধ্যরাত থেকেই যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেক চালক গ্যাস না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।


সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভারশন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ফারহান নূর বলেন, একটি স্টেশন স্বাভাবিকভাবে পরিচালনার জন্য অন্তত ১৫ পিএসআই গ্যাসচাপ প্রয়োজন। কিন্তু অনেক এলাকায় এখন ৪ থেকে ৫ পিএসআই, কোথাও আবার ২ পিএসআইরও কম চাপ পাওয়া যাচ্ছে। এ অবস্থায় স্বাভাবিকভাবে গ্যাস বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না।


মুন্সীগঞ্জে মাটির চুলায় ফিরছে মানুষ


মুন্সীগঞ্জে দিনের কোনো সময়ই রান্নার জন্য পর্যাপ্ত গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও গ্যাস এলেও চাপ এত কম যে চুলায় শুধু টিমটিম করে আগুন জ্বলছে। এতে রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না।


শহরের মালপাড়া, মানিকপুর, খালইস্ট, হাটলক্ষ্মীগঞ্জ, দেওভোগ ও মধ্য কোটগাঁও এলাকায় অধিকাংশ বাসাবাড়িতে গ্যাস সংকট দেখা গেছে।

অনেক পরিবার কাঠের জ্বালানিতে মাটির চুলায় রান্না করছে। কেউ কেউ এলপিজি সিলিন্ডারের ওপর নির্ভর করছে। অনেক পরিবার সকালের খাবার হোটেল থেকে কিনে খাচ্ছে।


গ্যাস না থাকায় শিল্পকারখানার উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে। মেশিন চালাতে না পারায় প্রতিদিন লোকসান গুনছেন উদ্যোক্তারা। দীর্ঘদিন সংকট চললে অনেক কারখানা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।


মুক্তারপুর তিতাস গ্যাসের ব্যবস্থাপক শরীফুল ইসলাম বলেন, সারাদেশেই গ্যাস সংকট চলছে। সরবরাহ বাড়লে মুন্সীগঞ্জ ও মিরকাদিম এলাকায় পরিস্থিতির উন্নতি হবে।


নারায়ণগঞ্জে স্থবির শিল্পাঞ্চল


গ্যাস সংকটে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার ও রূপগঞ্জ উপজেলার শিল্পাঞ্চলে নেমে এসেছে স্থবিরতা। বস্ত্র, স্পিনিং, নিটিং, ডাইং ও কম্পোজিট কারখানাগুলো প্রয়োজনীয় গ্যাসের চাপ না পাওয়ায় উৎপাদন কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে।


আড়াইহাজারে দেড় শতাধিক বড় শিল্পকারখানা রয়েছে। এসবের মধ্যে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানে গ্যাস সরবরাহ প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে। শ্রমিকরা কারখানায় গেলেও কাজ করতে পারছেন না।


শিল্পমালিকরা জানান, বয়লার চালানোর জন্য অন্তত ১৫ পিএসআই গ্যাস চাপ প্রয়োজন। কিন্তু অনেক কারখানায় চাপ নেমে এসেছে এক থেকে দুই পিএসআইয়ে।

রূপগঞ্জের ভূলতা, গোলাকান্দাইল, রূপসী, তারাব, কাঞ্চন ও বরপা এলাকার শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোতেও একই চিত্র। উৎপাদন কমে যাওয়ায় সময়মতো পণ্য সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।


ভূলতার একটি স্পিনিং কারখানার চেয়ারম্যান মোহাম্মদ খোরশেদ আলম বলেন, গ্যাসের চাপ প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। দিনের বেলায় অধিকাংশ মেশিন চালানো সম্ভব হচ্ছে না। উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে, বিদেশি ক্রেতাদের কাছে সময়মতো পণ্য পাঠানো কঠিন হয়ে পড়ছে।


কুমিল্লায় আবাসিক গ্রাহকদের ভোগান্তি


কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সংকট চরমে পৌঁছেছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অধিকাংশ এলাকায় রান্নার মতো গ্যাসের চাপ থাকছে না। নগরীর বাগিচাগাঁও, নতুন চৌধুরীপাড়া, চর্থা, রানীর বাজার, ঠাকুরপাড়া, হজরতপাড়া, নুরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় সংকট বেশি।


অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে বৈদ্যুতিক চুলা কিনেছে। শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোতেও বেড়েছে উৎপাদন খরচ। কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় দীর্ঘদিনের গ্যাস সংকট এখন আরও প্রকট হয়েছে। জিয়ারকান্দি, মাছিমপুর, বাতাকান্দি ও আশপাশের এলাকার বাসিন্দারা জানান, দিনের অধিকাংশ সময় গ্যাস থাকে না।


বাখরাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ বলছে, অবৈধ সংযোগ, পাইপলাইনের লিকেজসহ নানা কারণে গ্যাস অপচয় হচ্ছে। সংকট সমাধানে নতুন বিতরণ লাইন নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।


টঙ্গীতে তিতাস অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ


গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবিতে গাজীপুরের টঙ্গীতে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন গ্রাহকরা। রোববার বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৫৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা গোপালপুর সাহারা মার্কেট এলাকায় তিতাস কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন।


বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, নিয়মিত গ্যাসের বিল পরিশোধ করলেও দীর্ঘদিন ধরে বাসাবাড়িতে স্বাভাবিক গ্যাস সরবরাহ মিলছে না। এতে নারী, শিশু, শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।


তারা বলেন, দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ‘নো গ্যাস, নো বিল’ কর্মসূচিসহ বৃহত্তর আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হবে।

বিক্ষোভ শেষে তিতাস গ্যাস টঙ্গী জোনের ব্যবস্থাপক মো. মেজবাউর রহমানের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।


অন্যান্য জেলায় ভোগান্তি


সিরাজগঞ্জে গ্যাস সরবরাহ কম থাকায় অন্তত দুটি সিএনজি ফিলিং স্টেশন অচল হয়ে পড়েছে। চালকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। ময়মনসিংহে ভোর পর্যন্ত কয়েকটি স্টেশনে অল্প সময়ের জন্য গ্যাস থাকলেও সকাল ১০টার পর অধিকাংশ স্টেশন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। নরসিংদীতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও গ্যাস না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন চালকেরা। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গ্যাসের চাপ শূন্যে নেমে যাওয়ায় একাধিকবার সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয়েছে।

বিষয় : গ্যাস


আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের কাছে অভিযোগপত্র দাখিল

  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১১:৫৭ এএম

তের বছর আগে ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে হত্যাযজ্ঞের অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করেছে প্রসিকিউশন। 


সোমবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের কাছে অভিযোগপত্র দাখিল করেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন। অভিযোগপত্রে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। আজ মামলাটির ওপর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। 


এ মামলায় বর্তমানে নয়জন আসামি গ্রেপ্তার রয়েছেন। তারা হলেন—সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহিদুল হক, পুলিশের সাবেক উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোল্যা নজরুল ইসলাম, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা মণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল, সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবু।


পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন শেখ হাসিনা, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ এবং পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদসহ আরও অনেকে। তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদনও করেছে প্রসিকিউশন।


প্রসিকিউশন জানায়, ওই সমাবেশ ঘিরে ঢাকাসহ চারটি স্থানে ৬১ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৫৮ জনকে সনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে  ঢাকায় ৩২, নারায়ণগঞ্জে ২০, চট্টগ্রামে ৫ ও কুমিল্লায় একজন নিহতের পরিচয় শনাক্ত করেছে তদন্ত সংস্থা।


এর আগে ১৯  জুলাই এ মামলায় খসড়া তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। পরে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম তাঁর কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘খসড়া প্রতিবেদনে শেখ হাসিনা ছাড়াও সাবেক পুলিশপ্রধান বেনজীর আহমেদ, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজসহ বেশ কয়েকজনের নাম এসেছে। আমরা যাচাই-বাছাই করে দেখব।’


ওই দিন তিনি বলেন, ‘গতকাল হেফাজতে ইসলামের সিনিয়র নায়েবে আমির আব্দুল হামিদের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে আসে একটি প্রতিনিধি দল। এতে আল্লামা মামুনুল হক, মুফতি হারুন ইজহার, মুফতি মীর ইদ্রিস প্রমুখ ছিলেন। হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে খসড়া প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করেছি।’


প্রেস ব্রিফিংয়ে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক বলেন, শুরু থেকেই তারা দাবি করে আসছেন, নিহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি। তাঁর মতে, সেই সময় রাষ্ট্রীয়ভাবে মরদেহ গুম করার চেষ্টা হয়েছিল। ফলে তদন্ত প্রতিবেদনে অনেক তথ্য অন্তর্ভুক্ত হয়নি। তবে তাদের কাছে সংরক্ষিত প্রামাণ্য তথ্য অনুযায়ী ৬১ জন নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:৩৪ এএম

প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে কিংবা রাতে ঘুমানোর আগে টুথপেস্ট দিয়ে দাঁত ব্রাশ করা মানুষের নিত্য অভ্যাস। শিশু থেকে বয়স্ক– সব বয়সী মানুষের ব্যবহৃত নিত্যপ্রয়োজনীয় টুথপেস্ট নিয়ে এবার উদ্বেগজনক তথ্য সামনে এসেছে। 


দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া বিভিন্ন ব্র্যান্ডের টুথপেস্টের প্রায় চারটির মধ্যে তিনটিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। শুধু প্রাপ্তবয়স্কদের নয়, শিশুদের জন্য বাজারজাত টুথপেস্টেও মিলেছে এই ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা।


এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (এসডো) এক বছরের গবেষণায় বাজারের ১৯টি ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা পরীক্ষা করে দেখেছে, এর মধ্যে ২৬টিতে, অর্থাৎ ৭৬ দশমিক ৫ শতাংশ নমুনায় মাইক্রোপ্লাস্টিক রয়েছে। গবেষণায় প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০ থেকে সর্বোচ্চ ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে। রোববার রাজধানীর লালমাটিয়ায় এসডোর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ‘মাইক্রোপ্লাস্টিক ইন টুথপেস্ট’ শীর্ষক গবেষণার ফল প্রকাশ করা হয়। 


সংস্থাটি বলছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি প্রমাণিত হয়েছে। বাংলাদেশে বাজারজাত টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে এটিই প্রথম বৈজ্ঞানিক গবেষণা। গবেষণার উদ্দেশ্য কোনো নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডকে লক্ষ্যবস্তু করা নয়; বরং ভবিষ্যতের নীতিনির্ধারণে ব্যবহারযোগ্য বৈজ্ঞানিক তথ্যভান্ডার তৈরি করা।


এক বছরে সংগ্রহ ও পরীক্ষাগার বিশ্লেষণ

গবেষণাটি পরিচালিত হয়েছে ২০২৫ সালের জুলাই থেকে গত জুন পর্যন্ত। এই সময় দেশের বিভিন্ন সুপারশপ, খুচরা দোকান ও পাইকারি বাজার থেকে স্থানীয় ও আমদানি করা ১৯টি ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ইকোটক্সিকোলজি (ইএইচই) গবেষণাগারে এসব নমুনার বিশ্লেষণ করা হয়। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন এলাকার দুই হাজার ৭৬০ জন ভোক্তার ওপর চালানো হয় একটি জরিপ।


পরীক্ষার ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাংলাদেশে উৎপাদিত ২৫ নমুনার মধ্যে ২২টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। ভিয়েতনাম থেকে আমদানি করা দুটি নমুনার দুটিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক মিলেছে। থাইল্যান্ডের দুটি নমুনার একটিতে এবং ভারতের পাঁচটি নমুনার একটিতে এই ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে।


কোন টুথপেস্টে সবচেয়ে বেশি

গবেষণায় সবচেয়ে বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে মেডিপ্লাস ফ্লুরাইড জেল টুথপেস্টে। প্রতি ১০০ গ্রামে এতে ৩২০টি কণা শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া ক্লোজআপ রেড হট ও ক্লোজআপ মেন্থল ফ্রেশে ১৬০টি করে, কোদোমো আলট্রা শিল্ড ফর্মুলায় ১৪০টি, সিগন্যাল গ্রিন টিতে ১২০টি, পেপসোডেন্ট অ্যাডভান্স সল্ট ও হিমালয়া কমপ্লিট কেয়ারে ১০০টি করে এবং সেনসোডাইন ফ্রেশ মিন্টে ৮০টি কণা পাওয়া গেছে। এ ছাড়া পেপসোডেন্ট সেনসিটিভ এক্সপার্ট, হোয়াইট প্লাস রেড, হোয়াইট প্লাস প্রো সেনসিটিভ জেল, মেরিল বেবি স্ট্রবেরি, সিগন্যাল হোয়াইটেনিং ও মেডিপ্লাস টিজিপি ফর্মুলা টুথপেস্টে ৬০টি করে কণা শনাক্ত হয়েছে।


অন্যদিকে এএমপিএম হার্বাল, মেডিপ্লাস ডিএস, পেপসোডেন্ট জার্মিচেক+, মেরিল বেবি অরেঞ্জ, ম্যাজিক হারবাল, মেসওয়াক ও ক্লোজআপ মেন্থল ফ্রেশ স্যাশেতে ৪০টি করে কণা পাওয়া গেছে। ডেন্টিন জেল, পেপসোডেন্ট কিডস অরেঞ্জ, ক্লোজআপ লেমন সি সল্ট, ব্রাশআপ হোয়াইটেনিং জেল এবং হোয়াইট প্লাস প্রো সেনসিটিভে পাওয়া গেছে ২০টি করে কণা।


মাইক্রোপ্লাস্টিক মেলেনি আটটিতে

গবেষণায় আটটি টুথপেস্টে কোনো শনাক্তযোগ্য মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি। এগুলো হলো জেনফ্রেশ, প্যারাসুট জাস্ট ফর বেবি (ম্যাঙ্গো), ক্লোজআপ রেড-হট জিংক ফ্রেশ টেকনোলজি, প্যারোডনট্যাক্স এক্সপার্ট গাম কেয়ার, সেনসোডাইন ফ্রেশ জেল, কোলগেট ম্যাক্সফ্রেশ, কোলগেট অ্যাক্টিভ সল্ট এবং কোদোমো অরেঞ্জ।


শিশুদের টুথপেস্টও মুক্ত নয়

শিশুদের জন্য বাজারজাত করা ছয়টি টুথপেস্টও গবেষণার আওতায় আনা হয়। এর মধ্যে চারটিতে অর্থাৎ, প্রায় ৬৭ শতাংশ নমুনায় মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। এসব টুথপেস্টে প্রতি ১০০ গ্রামে ২০ থেকে ১৪০টি পর্যন্ত কণা শনাক্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ১৪০টি কণা পাওয়া যায় কোদোমো আলট্রা শিল্ড ফর্মুলায়। মেরিল বেবি স্ট্রবেরিতে পাওয়া গেছে ৬০টি, মেরিল বেবি অরেঞ্জে ৪০টি এবং পেপসোডেন্ট কিডস অরেঞ্জে ২০টি কণা। তবে প্যারাসুট জাস্ট ফর বেবি ও কোদোমো অরেঞ্জে কোনো মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি।


মোড়কে নেই কোনো তথ্য

গবেষণায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে। পরীক্ষা করা কোনো টুথপেস্টের মোড়কে মাইক্রোপ্লাস্টিক কিংবা ব্যবহৃত সিনথেটিক পলিমারের তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। এসডো বলছে, এর ফলে ভোক্তারা সচেতনভাবে পণ্য বেছে নেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। একই সঙ্গে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর জন্যও বাজার তদারকি কঠিন হয়ে পড়ছে।


সংবাদ সম্মেলনে এসডোর মহাসচিব ও সিনিয়র টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার ড. শাহরিয়ার হোসেন বলেন, গবেষণায় ব্যবহৃত সব নমুনা সরাসরি সুপারশপ, খুচরা বিক্রেতা ও বাজার থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। ফলে নকল বা ভেজাল পণ্য গবেষণার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ ছিল না। তিনি বলেন, প্রতিদিন ব্যবহৃত একটি পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকতে পারে এ বিষয়টি অধিকাংশ ভোক্তারই অজানা। তাই টুথপেস্টের উপাদান লেবেলে উল্লেখ বাধ্যতামূলক করা, জনসচেতনতা বাড়ানো এবং নিয়ন্ত্রক তদারকি জোরদার করা জরুরি।


ভোক্তাদের সচেতনতা সীমিত

গবেষণার অংশ হিসেবে পরিচালিত ভোক্তা জরিপে দেখা গেছে, টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি সম্পর্কে সাধারণ মানুষের সচেতনতা এখনও খুবই সীমিত। জরিপে অংশ নেওয়া ৪১ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষ বলেছেন, তারা আগে কখনও এ বিষয়ে শোনেননি। ৩১ দশমিক ৩ শতাংশ বলেছেন, শুনেছেন তবে বিস্তারিত জানেন না। মাত্র ২৬ দশমিক ৯ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, তারা এ বিষয়ে সচেতন। জরিপে আরও দেখা গেছে, ৮২ দশমিক ৫ শতাংশ উত্তরদাতা নিয়মিত টুথপেস্ট ব্যবহার করেন এবং ৯০ দশমিক ৬ শতাংশ নিয়মিত টুথব্রাশ ব্যবহার করেন। ৫৬ দশমিক ৯ শতাংশ দিনে একবার এবং ৪০ দশমিক ৬ শতাংশ দিনে দুইবার দাঁত ব্রাশ করেন।


টুথপেস্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্র্যান্ড হিসেবে উঠে এসেছে মেডিপ্লাস। জরিপে অংশ নেওয়া ৩৫ দশমিক ৬ শতাংশ উত্তরদাতা এই ব্র্যান্ড ব্যবহার করেন। এর পর রয়েছে ক্লোজআপ ও পেপসোডেন্ট, যেগুলো ব্যবহার করেন ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ করে উত্তরদাতা। কোলগেট ব্যবহার করেন ১১ দশমিক ৩ শতাংশ।


মান সংশোধনের উদ্যোগ নেবে বিএসটিআই

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউটের (বিএসটিআই) উপপরিচালক (রসায়ন) মো. মনজুরুল করিম বলেন, বর্তমানে টুথপেস্টের জাতীয় মানে ৪০টি অনুমোদিত উপাদান এবং কণার আকারের সীমা নির্ধারণ রয়েছে। কিছু উৎপাদক কম খরচে ওজন বাড়ানোর উদ্দেশ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যবহার করতে পারেন, যা একটি খারাপ চর্চা। তিনি জানান, ২০১৯ সাল থেকেই প্রসাধনী পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যবহারের বিষয়টি বিএসটিআইয়ের নজরে রয়েছে। ইতোমধ্যে ফেসওয়াশ ও ফেসপ্যাকের মান সংশোধন করা হয়েছে। এখন টুথপেস্টের মানেও একই ধরনের সংশোধনের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।


নীতিমালা নেই, বাধ্যতামূলক নয় পরীক্ষা

এসডো বলছে, বাংলাদেশে বর্তমানে টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের জন্য কোনো জাতীয় মানদণ্ড, অনুমোদিত সীমা, পরীক্ষার পদ্ধতি কিংবা বাধ্যতামূলক লেবেলিং নীতি নেই। ফলে উৎপাদকরা এ বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশে বাধ্য নন এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থারও কার্যকর নজরদারির সুযোগ সীমিত।


সংস্থাটির চেয়ারম্যান সৈয়দ মারগুব মোরশেদ বলেন, বিশ্বাসযোগ্য বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতেই কার্যকর জননীতি প্রণয়ন করা উচিত। এই গবেষণা টুথপেস্টের মানদণ্ড উন্নয়ন, নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা জোরদার এবং ভোক্তা ও পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।


স্বাস্থ্য ও পরিবেশে সম্ভাব্য ঝুঁকি

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দাঁত ব্রাশের সময় টুথপেস্টের সঙ্গে বেরিয়ে যাওয়া মাইক্রোপ্লাস্টিক বর্জ্য পানির মাধ্যমে পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে। পরে তা নদী, জলাশয় ও খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশ করতে পারে। খাদ্য ও পানীয়ের মাধ্যমে এসব ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা মানবদেহেও প্রবেশের শঙ্কা রয়েছে। 


আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গবেষণায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের সংস্পর্শের সঙ্গে শ্বাসতন্ত্র, পরিপাকতন্ত্র, রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা, হৃদরোগ, স্নায়ুতন্ত্র ও প্রজননস্বাস্থ্যের সম্ভাব্য ঝুঁকির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে এসব প্রভাব সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আরও বিস্তৃত গবেষণার প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।


গবেষণার ফল প্রকাশের পর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় একটি পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শুধু ভোক্তার স্বাস্থ্য নয়, পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টিকেও সামনে নিয়ে এসেছে। তাই দ্রুত জাতীয় মানদণ্ড প্রণয়ন, বাধ্যতামূলক লেবেলিং, নিয়মিত পরীক্ষাগার তদারকি এবং উৎপাদকদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।


এসডোর নির্বাহী পরিচালক সিদ্দীকা সুলতানা বলেন, এই গবেষণার মাধ্যমে বাংলাদেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক শূন্যতা পূরণ হয়েছে। এর ফলাফল ভবিষ্যতে ওরাল কেয়ার পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিকের মানদণ্ড নির্ধারণ, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং তথ্যভিত্তিক নীতিমালা প্রণয়নে সহায়ক হবে।


স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক লাইন ডিরেক্টর দন্ত চিকিৎসক অধ্যাপক মো. মোশাররফ হোসেন খন্দকার বলেন, মুখ পরিষ্কারে ব্যবহৃত পণ্যগুলোতে এ ধরনের ক্ষতিকর উপাদান থাকা উচিত নয়। দাঁতের সুরক্ষায় ফ্লোরাইড, কার্বনেট ও সিলিকাকে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় মনে করা হয়। মাইক্রোপ্লাস্টিক তার ঘর্ষণ ক্ষমতার কারণে দাঁত সাদা করতে পারলেও, এটি দাঁতের এনামেলের ওপর বিরূপ ও ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।


পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মাহমুদা তামান্না খান বলেন, গবেষণায় যে বিষয়টি উন্মোচিত করেছি, এর ওপর ভিত্তি করে আমরা কাজ করতে আগ্রহী। বিএসটিআইকে সব ধরনের সহায়তা দিতে আমরা প্রস্তুত। সরকারি সংস্থা ও এনজিওগুলো একযোগে কাজ করলেই ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।

সিলেটে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে


প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

  • প্রকাশ : রবিবার ২৬ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:৪৫ পিএম

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন ও প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি করতে সরকার নতুন নীতিমালা ও মূল্যবোধভিত্তিক কারিকুলাম প্রণয়নের কাজ করছে। এ লক্ষ্যে দেশের আটটি বিভাগে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নিয়ে ধারাবাহিক কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। সিলেট বিভাগ দিয়ে এ কর্মসূচির সূচনা হয়েছে।


তিনি আজ (রবিবার) সিলেট নগরীর পিটিআই অডিটোরিয়ামে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস আয়োজিত বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা, মনিটরিং, জবাবদিহিতা ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি পরিবর্তিত প্রত্যাশা শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় সেশন পরিচালনা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন। 


প্রতিমন্ত্রী বলেন, উন্নত বিশ্বের শিক্ষা ব্যবস্থা হুবহু অনুসরণ নয় বরং বাংলাদেশের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফলাফলভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। প্রাথমিক পর্যায়ে Foundational Learning শতভাগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ধর্মীয়, পারিবারিক ও নাগরিক মূল্যবোধকে নতুন কারিকুলামে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দেশবরেণ্য বিশেষজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় কারিকুলাম প্রণয়নের কাজ এগিয়ে চলছে। একই সঙ্গে শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের জন্য নতুন নীতিমালার প্রথম খসড়া আগামী ১৭ আগস্টের মধ্যে প্রস্তুত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।


তিনি বলেন, নীতিমালা চূড়ান্ত হওয়ার আগে শিক্ষকদের বেতন কাঠামো নিয়ে মন্তব্য করা সমীচীন নয়। তবে শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা ও জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। বর্তমানে মিড-ডে মিল কর্মসূচি পাইলট পর্যায়ে রয়েছে। এর বাস্তবায়নে পাওয়া ত্রুটি সংশোধনে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের তদারকি, কারখানা পরিদর্শন, খাদ্য প্রযুক্তিবিদ নিয়োগ ও বিদ্যালয়ভিত্তিক ‘মাদার্স কমিটি’ গঠনসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পাইলটিং সফল হলে ২০২৭ সালের শুরু থেকে কর্মসূচিটি সারা দেশে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।


প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ২০২৮ সালে নতুন কারিকুলাম চালুর সঙ্গে সঙ্গে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকেও নীতিমালার আওতায় আনা হবে। এসব বিদ্যালয়ের কারিকুলাম, শিক্ষকের মান, অবকাঠামো ও শিক্ষা ক্যালেন্ডার নিয়মিত মনিটরিং করা হবে। একই সঙ্গে বিদ্যমান নীতিমালার আওতায় অধিদপ্তরের কার্যক্রম পরিচালিত হবে এবং নতুন নীতিমালা কার্যকর হওয়ার পর তা বাস্তবায়ন করা হবে।


সিলেটের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাখওয়াত এরশেদের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. মাসুদ রানা। এসময় সিলেট বিভাগের প্রাথমিক শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

  • প্রকাশ : রবিবার ২৬ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৬:৩২ পিএম

এনসিপিসহ একাধিক বিরোধী রাজনৈতিক দল সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে আসছে। তবে এ বিষয়ে আপাতত সরকার আমলে নেওয়ার মতো কোনো উপাদান দেখেনি বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। 


তিনি বলেন, ‘এখন যারা তার (সাবেক রাষ্ট্রপতি) বিরুদ্ধে বক্তব্য দিচ্ছে, তাদের সেটা অধিকার আছে। আমরা গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে কী প্রত্যাশা করি? রাজনৈতিকভাবে মানুষের কথা বলার স্বাধীনতা থাকবে, প্রতিবাদ করার স্বাধীনতা থাকবে। সেটা আছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, বিরোধীদলের পক্ষ থেকে এনসিপি এবং অন্যান্যরা তার বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ উত্থাপন করছে। সেটা করতে পারে। কিন্তু আমরা আমলে নেওয়ার মতো কোনো বক্তব্য ওখানে নেই।’


আজ রোববার দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘পুলিশের সাহসিকতা ও প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কার ও সম্মাননা প্রদান’ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।


বিদায়ী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকেও ‘সুরক্ষা ও নিরাপত্তা’ দেওয়া হবে 


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সংবিধানে রাষ্ট্রপতিকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। যার ফলে তার বিরুদ্ধে আদালতে ফৌজদারি আইনে মামলা করা যায় না। 


এছাড়া পদ ছেড়ে দেওয়ার পরও একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘সুরক্ষা ও নিরাপত্তা’ দেওয়ার বিধান রয়েছে। সেই হিসেবে, সদ্য পদত্যাগ করা রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকেও ‘সুরক্ষা ও নিরাপত্তা’ দেওয়া হবে। 


তিনি বলেন, ‘তিনি (মো. সাহাবুদ্দিন) সাংবিধানিকভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বিধি-বিধান অনুযায়ী করেছেন। আমরা রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা পেয়েছি। এখন সেই সময়টায় সংবিধান অনুসারে, তিনি প্রিভিলেজড এবং ইমিউনিটি আছে তার, ফৌজদারি অপরাধ ইত্যাদির বিষয়ে কোনো আদালতে মামলা করা যায় না।’


সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ‘সুরক্ষা ও নিরাপত্তা’র বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, তিনি আইনানুগ যা সুবিধা পাবেন অবশ্যই পাবেন এবং তার প্রটেকশনের জন্য এসএসএফ-পিজিআর সুবিধা পাওয়ার ছয় মাসের বিধান আছে। এছাড়া পুলিশ এবং অন্যান্য সংস্থার মাধ্যমে তার নিরাপত্তার বিষয় গ্রহণ করা হবে।


এদিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, লন্ডনে চিকিৎসা নিতে গিয়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে সরাসরি আলাপ করেছেন-এমন কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য সরকারের কাছে নেই।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা পত্রিকায় দেখেছি। কোনো পত্রিকা এরকম একটা নিউজ দিল, কী তথ্য প্রমাণ আছে সেটা তাকেই জিজ্ঞেস করতে হয়। আমাদের কাছে সে রকম কোনো তথ্য নেই। আর কথা বলার জন্য লন্ডন যেতে হয় নাকি? আজকালকার ইন্টারনেটের দুনিয়ায় লন্ডন গিয়ে কারও সঙ্গে কথা বলতে হয় না, এটা আমার কাছে অলিক মনে হয়। কথা বলতে চাইলে তো এখান থেকেও বলা যায়।’


এর আগে, গত ২৩ জুলাই একটি জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছিল যে, চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন যুক্তরাজ্যে (লন্ডন) গিয়ে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনালাপ করেছেন। 


রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং ব্যাংকের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তখনকার সময়ের কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা দেশের প্রচলিত আইনানুসারে চলবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। 


তিনি উল্লেখ করেন, ‘সেই সময় দায়িত্ব পালনকালীন তার বিরুদ্ধে কি কোনো অভিযোগ কেউ দিয়েছিল? দিয়ে থাকলে সেটা তখনকার সময়ে যদি কোনো কিছুর রেকর্ড করে থাকে সেটা তখনকার বিষয়, বিধি-বিধান অনুসারে চলবে, আইনানুসারে চলবে।’  


পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও নিশ্চিত করেন, সংবিধানে আইনগতভাবে যা যা সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তা পাওয়ার কথা, তার সবই নিয়ম অনুযায়ী পাবেন সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।


তিনি বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তাঁর বিশেষ সুরক্ষার জন্য এসএসএফ, পিজিআরসহ ছয় মাসের একটি নির্দিষ্ট আইনি বিধান রয়েছে। সেই ছয় মাসের নিরাপত্তার পূর্ণ সুযোগ তিনি নিয়ম অনুযায়ী পাবেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও তাঁর নিরাপত্তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আইনানুগভাবে তিনি যেসব সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার যোগ্য, তার সবই পাবেন।


উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতাচ্যুত হওয়া শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে জাতীয় সংসদ কর্তৃক নির্বাচিত হয়ে রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিন বছর তিন মাস দায়িত্বে ছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন।