জাতীয় শহীদ সেনা দিবস উপলক্ষে এক মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

  • প্রকাশ : বুধবার ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, সময় : ১২:০৩ পিএম

পিলখানায় সেনা কর্মকর্তাদের হত্যার ঘটনা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে নস্যাৎ করার একটি অপপ্রয়াস ছিল বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 


বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় শহীদ সেনা দিবস উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসে আর্মি মাল্টিপারপাস হলে শহীদ পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময় সভা ও ইফতার মাহফিলে তিনি এই মন্তব্য করেন।


লিখিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ও স্বাধীনতা-পরবর্তী দেশ গঠনে সেনাবাহিনীর রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। সেনাবাহিনী আমাদের সার্বভৌমত্বের প্রতীক। 


আমি মনে করি, পিলখানার এই মর্মান্তিক ঘটনা ছিল আমাদের সার্বভৌমত্বকে নস্যাতের একটি অপপ্রয়াস। পিলখানার ঘটনার পরিক্রমায় আমাদের জাতীয় নিরাপত্তাকাঠামোর দুর্বলতা ফুটে ওঠে। তাই বহির্বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তাকাঠামোকে আরও আধুনিক, সময়োপযোগী ও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে আমাদের সরকার কাজ করবে। একই সঙ্গে শহীদ পরিবারের সদস্যদের কল্যাণে তাদের সন্তানদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও আমরা পুনর্ব্যক্ত করছি।


শহীদদের আত্মার শান্তি কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাহে রমজানের এই পড়ন্ত বিকেলে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের, ’৯০-এর গণআন্দোলন এবং ’২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে শাহাদাতবরণকারী সকল ছাত্র-জনতাকে। গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সংঘটিত বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে শাহাদাতবরণকারী ৫৭ জন দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন বীর শহীদকে। তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত শহীদ পরিবারবর্গের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।


২৫ ফেব্রুয়ারি রক্তাক্ত হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আজ ২৫ ফেব্রুয়ারি; জাতির ইতিহাসে এক রক্তাক্ত ও বেদনাবিধুর দিন। এই দিনটি এলে প্রকৃতি যেন আবার স্মৃতি ও শোকের ভারে নীরব হয়ে যায়, বাতাসে ভেসে আসে সেই বিভীষিকাময় মুহূর্তের আর্তনাদ। আমাদের হৃদয় গভীর বেদনায় ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির এই নির্মম ঘটনা আমাদের জাতীয় জীবনে এক গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে, যার বেদনা সময় পেরিয়ে আজও বহমান।


তারেক রহমান বলেন, ঘটনার দীর্ঘ ১৭ বছর পরে শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত এই প্রাঙ্গণে আজ আমার কণ্ঠ ভারী হয়ে আসছে। আমি কেবল একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে নয়, একজন সেনা পরিবারের সদস্য হিসেবে, একজন সহযোদ্ধার সন্তানের মতো আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি। ২০০৯ সালের সেই বিভীষিকাময় ঘটনায় ৫৭ জন মেধাবী ও দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাসহ সর্বমোট ৭৪টি প্রাণ ঝরে গিয়েছিল। প্রতিটি নাম একটি পরিবারের আলো নিভে যাওয়ার গল্প, প্রিয়জন হারানোর বেদনাবিধুর অধ্যায়, একটি সন্তানের পিতৃহীন হওয়ার ইতিহাস, একটি স্বপ্নের অসমাপ্ত মহাকাব্য।


তিনি বলেন, আমি দেশে প্রত্যাবর্তনের পরপরই বনানী সামরিক কবরস্থানে গিয়ে শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে উপলব্ধি করেছি, গত ১৭ বছরে আপনাদের দুর্বিসহ সংগ্রাম, অপরিসীম ত্যাগ আর দ্বারে দ্বারে ঘুরে বিচার না পাওয়ার নিদারুণ যন্ত্রণা। 


আমি বিশ্বাস করি, পিলখানার ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণ করা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব। ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির ঘটনাকে ইতিহাসে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা না দিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না। তাই সেনাবাহিনী ও আপনাদের সঙ্গে আলোচনা করে ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির স্মৃতিকে অম্লান করে রাখতে বর্তমান সরকার কাজ করবে।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর শিকড় আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাসে প্রোথিত। ১৯৭১ সালের যেদিন চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন- সেদিন সেনাবাহিনীর সাথে তদানীন্তন ইপিআরের সদস্যরা বেতারকেন্দ্রে দায়িত্বে নিয়োজিত থেকে গৌরবময় ইতিহাসের সাক্ষী হয়েছে এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্ন থেকে সেনাবাহিনীর সাথে অবিস্মরণীয় অবদান রেখে চলেছে। পরবর্তীকালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে সুসংহত করতে বিশেষ গুরুত্বারোপ করে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ শুরু করেন।


তিনি বলেন, সেনাবাহিনী থেকে যোগ্য ও মেধাবী অফিসারদের প্রেষণে প্রেরণের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়। ১৯৭৮ সালে এই বাহিনীর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ঘটনা হলো সামরিক কায়দায় নতুন করে পুনর্গঠিত হওয়া। পূর্বের উইংসমূহকে পরিবর্তন করে ব্যাটালিয়নে রূপান্তর করা হয়। দুইটি নতুন ব্যাটালিয়ন সংযোজন করে বাহিনীর সংগঠনকে পরিবর্ধিত করা হয়।


দীর্ঘ সংগ্রামের পর আজ জনগণের রায়ে নির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনা করছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, দেশের প্রশ্নে আমরা সীমান্ত বাহিনীকে আরও আধুনিক ও সুসংহত করব। আমাদের সদস্যরা দেশপ্রেম ও পেশাগত উৎকর্ষতায় সীমান্তে দায়িত্ব পালন করবে।


২০০৯ সালে পিলখানার ঘটনায় নিহত শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, মাহে রমজান আমাদের সংযম ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা দেয়। মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করি- তিনি যেন শহীদদের আত্মাকে শান্তিতে রাখেন, তাঁদের পরিবারকে ধৈর্য ও শক্তি দান করেন এবং আমাদের রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানসমূহকে ন্যায়, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধের পথে পরিচালিত করেন।


অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীসহ পিলখানায় নিহত শহীদ পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য রাখেন।


অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ. কে. এম. শামসুল ইসলাম, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানও ছিলেন। পরে প্রধামন্ত্রী শহীদ পরিবারের সাথে ইফতার করেন।





প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৬:২২ পিএম

দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এতে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে প্রাণহানি ৮১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়াও গত একদিনে নতুন করে আরও ৬৯১ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ দেখা গেছে। আজ শনিবার (২৫ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত একদিনে হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা বিভাগেই ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সবমিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে শনিবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও উপসর্গে মোট ৮১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গে ৭২১ জন ও হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।


এদিকে সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৭৮ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে আরও ৬১৩ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে। 


এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে শনিবার পর্যন্ত মোট ১ লাখ ২২ হাজার ৭৬৩ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে এই সময়ে মোট ১৫ হাজার ২৭২ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে শনিবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৫ হাজার ২৯৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ১ লাখ ১ হাজার ৫৩৫ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন।


ডেঙ্গুতে আক্রান্ত আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৬:১০ পিএম

দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনকই রয়ে গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর এডিসবাহিত এই রোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০ জনে। আজ শনিবার (২৫ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদফতরের পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে নতুন করে ৪৩৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে বরিশাল বিভাগে ৮৩ জন, ঢাকা বিভাগের (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৭৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৭৫ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৪৬ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৪১ জন, খুলনা বিভাগে ৪১ জন, রংপুর বিভাগে ৩০ জন, রাজশাহী বিভাগে ২৬ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১৯ জন এবং সিলেট বিভাগে একজন রোগী ভর্তি হয়েছেন।


স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত দেশে মোট ১২ হাজার ৬৪০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে ৬১ দশমিক ৪ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৮ দশমিক ৬ শতাংশ নারী। 


এদিকে, একই সময়ে ডেঙ্গু থেকে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১১ হাজার ৪৯৭ জন।


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ২:৪২ পিএম

সব বাধা অতিক্রম করে দেশকে এগিয়ে নিতে চায় সরকার বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে নভো থিয়েটারে দুই দিনব্যাপী ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বিইএআর সামিটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। এ সময় তিনি স্বনির্ভর ও প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ গড়ারও আশাবাদ ব্যক্ত করেন। 


প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে ইতোমধ্যেই সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন ভেরিফিকেশন ট্রেনিং এমবেডেড সিস্টেম পাওয়ার ইলেকট্রনিক্স এবং অ্যাডভান্স প্যাকেজিং— এসব ক্ষেত্রে কাজ শুরু হয়েছে। দেশের বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রবেশ করেছেন। সেমিকন্ডাক্টর খাতকে একটি জাতীয় অগ্রাধিকারভিত্তিক খাত হিসেবে আমরা বিবেচনা করছি। এই খাতের উন্নয়নে খুব সম্ভবত একক কোনো মন্ত্রণালয় বা প্রতিষ্ঠানের কাজ নয়, এটা একটা সম্মিলিত জাতীয় মিশন।  


তিনি আরও বলেন, আমরা চেষ্টা করেছি এই সেক্টরকে কীভাবে সামনে এগিয়ে নেয়া যায়, তার জন্য আমরা কতগুলো পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি; বিশেষ করে এই বাজেটে সেমিকন্ডাক্ট শিল্প তৈরির সব কাঁচামালের ওপরে সব ধরনের ট্যাক্স বা শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন সার্ভিসের রপ্তানি আয়ের ওপরে নগদ ইনসেন্টিভ বা প্রণোদনা চালুর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন উদ্যোক্তা উদ্ভাবন বাস্তবায়নের জন্য সরকার প্রথমবারের মতো বছরে ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ অনুদানও রেখেছে।  


প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের জন্য ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে সর্বাত্মক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে। বিনিয়োগবান্ধব নীতি কর সুবিধা, বন্ডের সুবিধা প্রদান এবং বিশেষায়িত অবকাঠামো নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিনিয়ত চেষ্টা করছে।


বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআইএ) এবং সিলিকন রিভার বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ সামিটে নীতিনির্ধারক, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, গবেষক, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী ও প্রবাসী বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞরা অংশ নেবেন। দুদিনে ১১টি প্লেনারি সেশন, সাতটি কৌশলগত প্যানেল আলোচনা এবং প্রযুক্তি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে।


সামিটে টেক্সাস ইনস্ট্রুমেন্টসের চিফ টেকনোলজি অফিসার ড. আহমেদ বাহাই, পারডু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দিমিত্রিওস পেরুলিসসহ আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা বক্তব্য দেবেন। এ ছাড়া গ্লোবালফাউন্ড্রিজ, এনএক্সপি, অ্যাপলাইড ম্যাটেরিয়ালস, স্যান্ডিস্ক, ক্রেডো এবং ভিয়েতনাম সেমিকন্ডাক্টর অ্যালায়েন্সের প্রতিনিধিরাও অংশ নেবেন।


সামিটের পাশাপাশি ‘বিইএআর ইনোভেশন এক্সপো ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হবে। এতে শিক্ষার্থী ও স্টার্ট-আপ উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবিত সেমিকন্ডাক্টর, এআই, রোবোটিক্স, স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি ও অন্যান্য ডিপ-টেক খাতের উদ্ভাবন ৩৫টি স্টলে প্রদর্শন করা হবে।



ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১১:৫৯ এএম

বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), বায়োটেকনোলজি ও রোবোটিক্স খাতের সক্ষমতা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সুযোগ তুলে ধরতে রাজধানীতে আজ থেকে শুরু হয়েছে ‘ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বিইএআর সামিট-২০২৬’। এরইমধ্যে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।


শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে নভো থিয়েটারে দু’দিনব্যাপী এ সামিট শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ তথ্য জানিয়েছেন।


জানা যায়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআইএ) এবং সিলিকন রিভার বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ সামিটে নীতিনির্ধারক, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, গবেষক, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী ও প্রবাসী বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞরা অংশ নেবেন। দুদিনে ১১টি প্লেনারি সেশন, সাতটি কৌশলগত প্যানেল আলোচনা এবং প্রযুক্তি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে।


সামিটে টেক্সাস ইনস্ট্রুমেন্টসের চিফ টেকনোলজি অফিসার ড. আহমেদ বাহাই, পারডু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দিমিত্রিওস পেরুলিসসহ আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা বক্তব্য দেবেন। এছাড়া গ্লোবালফাউন্ড্রিজ, এনএক্সপি, অ্যাপলাইড ম্যাটেরিয়ালস, স্যান্ডিস্ক, ক্রেডো এবং ভিয়েতনাম সেমিকন্ডাক্টর অ্যালায়েন্সের প্রতিনিধিরাও অংশ নেবেন।


সামিটের পাশাপাশি ‘বিইএআর ইনোভেশন এক্সপো ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হবে। এতে শিক্ষার্থী ও স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবিত সেমিকন্ডাক্টর, এআই, রোবোটিক্স, স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি ও অন্যান্য ডিপ-টেক খাতের উদ্ভাবন ৩৫টি স্টলে প্রদর্শন করা হবে।


সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১১:০৭ এএম

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে শুক্রবার পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন তিনি। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং উপদেষ্টাদের শপথবাক্য পাঠ করান। 


এই ঘটনা ছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক মুহূর্ত। রাষ্ট্রপতির ভূমিকা তখন কেন্দ্রীয় হয়ে ওঠে। যদিও শপথ অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। এরপরই শুরু হয় আরও বড় বিতর্ক।


২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর রাষ্ট্র পরিচালনার সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় বারবার আলোচনায় আসে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের নাম। ওই দিন রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর কাছে পদত্যাগপত্র দিয়েছেন এবং তিনি তা গ্রহণ করেছেন। জরুরি ভিত্তিতে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের সিদ্ধান্তের কথাও জানান তিনি। পরদিন ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতির আদেশে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়। এরপর সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের বিষয়ে আপিল বিভাগের মতামত চান তিনি। আদালতের মতামতের ভিত্তিতে ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও অন্য উপদেষ্টাদের শপথ পড়ান মো. সাহাবুদ্দিন।


আওয়ামী লীগের আমলে রাষ্ট্রপতি পদে আসীন হওয়া মো. সাহাবুদ্দিনকে অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভও হয়েছে বিভিন্ন সময়ে। যদিও অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মো. সাহাবুদ্দিনকে অপসারণের বিষয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য হয়নি। বিশেষ করে বিএনপি তখন রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ চায়নি। ফলে নির্বাচন আয়োজন পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির পদে থেকে যান মো. সাহাবুদ্দিন।


নির্বাচন–পরবর্তী পরিস্থিতি

গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। ১৭ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়ান। এর মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি ও সরকারের রাজনৈতিক পটভূমিতে বড় ধরনের ভিন্নতা তৈরি হয়। মো. সাহাবুদ্দিন আওয়ামী লীগের মনোনীত রাষ্ট্রপতি; অন্যদিকে নতুন সরকার বিএনপির নেতৃত্বাধীন। তারপরও ক্ষমতায় এসে বিএনপি সরকার তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে সরানোর পথে যায়নি। তবে নির্বাচনের পর থেকেই তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা চলছিল।


রাষ্ট্রপতির পদত্যাগে স্পিকারের দায়িত্ব গ্রহণের সর্বশেষ নজির তৈরি হয়েছিল ২০০২ সালে। ক্ষমতাসীন বিএনপির সঙ্গে বিরোধের জেরে ওই বছরের ২১ জুন রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। তখনকার স্পিকার জমির উদ্দিন সরকার ২১ জুন থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। 


সাক্ষাৎকার ঘিরে বিতর্ক

২০২৪ সালের অক্টোবরে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মতিউর রহমান চৌধুরীকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি বলেন, তাঁর কাছে শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র নেই এবং তিনি শুনেছেন, শেখ হাসিনা পদত্যাগপত্র দেওয়ার সময় পাননি। এই বক্তব্য প্রকাশের পর দেশজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়। কারণ, ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর সেনাপ্রধান বলেছিলেন, শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেছেন। রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎকারে সেই বিবরণ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয় তখন। 


সাক্ষাৎকার প্রকাশের পর অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ছাত্রনেতারা এবং রাজনৈতিক গোষ্ঠী রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ দাবি করে। বঙ্গভবনের সামনে বিক্ষোভ হয়। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা বঙ্গভবন ঘেরাও কর্মসূচিও পালন করেন। নিরাপত্তা জোরদার করা হয় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়। 


রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের পর প্রশ্ন ওঠে, তাঁকে সরানো সম্ভব কিনা। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের জন্য সংসদে অভিশংসন প্রক্রিয়া প্রয়োজন। ফলে সে সময় অনেক সংবিধান বিশেষজ্ঞ বলেন, রাজনৈতিক দাবি থাকলেও সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রপতিকে সরানো সহজ নয়। ফলে রাজনৈতিক বিতর্ক চললেও তিনি দায়িত্বে বহাল থাকেন।


নতুন সংসদেও রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে বিতর্ক

চলতি বছর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠনের পর রাষ্ট্রপতির সংসদে ভাষণ নিয়েও বিতর্ক দেখা দেয়। সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনার সময় বিরোধী দল রাষ্ট্রপতির অতীত ভূমিকা, বিশেষ করে শেখ হাসিনার পদত্যাগ প্রসঙ্গ তুলে সমালোচনা করে। এক পর্যায়ে বিরোধী সদস্যরা ওয়াকআউট করেন। ফলে সরকার পরিবর্তনের পরও রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিনকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক শেষ হয়নি; বরং নতুন সংসদেও তা ফিরে আসে।


সব সময় বিতর্কের কেন্দ্রে ছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন

বাংলাদেশের অধিকাংশ রাষ্ট্রপতি তাদের সাংবিধানিক সীমার মধ্যেই থেকেছেন এবং খুব কমই সরাসরি রাজনৈতিক বিতর্কে জড়িয়েছেন। মো. সাহাবুদ্দিনের ক্ষেত্রে চিত্রটি ছিল ভিন্ন। দায়িত্ব নেওয়ার আগে তাঁর রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতার প্রতীক হিসেবে ব্যাখ্যা করা কিছু ঘটনা, সামাজিক মাধ্যমে পুরোনো কার্যকলাপ, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় তাঁর সাংবিধানিক ভূমিকা এবং পরে দেওয়া সাক্ষাৎকার– সব মিলিয়ে তিনি এমন এক রাষ্ট্রপতিতে পরিণত হন, যাঁকে ঘিরে বিতর্ক কখনও পুরোপুরি থামেনি।


৭৬ বছর বয়সী মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পাঁচ বছরের জন্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। যদিও রাষ্ট্রপতির পদটি সাংবিধানিকভাবে মূলত আনুষ্ঠানিক, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তাঁর ভূমিকা বিশেষ গুরুত্ব পায়।


বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মো. সাহাবুদ্দিন মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে তাঁর পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।


রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর ব্রিফিংয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:১১ এএম

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ বিষয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল। মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় পৌনে দুই বছর আগেই রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়েন মো. সাহাবুদ্দিন। অসুস্থতাকে পদত্যাগের কারণ হিসেবে দেখালেও তাঁর এই বিদায় ঘটল জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর শুরু হওয়া দীর্ঘ বিতর্কের পটভূমিতে। শুক্রবার বিকেলে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্র পাঠান মো. সাহাবুদ্দিন। পদত্যাগপত্র হাতে পাওয়ার পর সংসদ ভবনের শপথকক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে বিষয়টি জানান স্পিকার। একই সঙ্গে সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের কথাও ঘোষণা করেন স্পিকার।


তাঁর পদত্যাগে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি তাঁর দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন। দেরিতে হলেও জাতির ঘাড় থেকে স্বৈরাচারের একটা কালো ছায়া সরে গেল। সন্ধ্যায় রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে এক জরুরি ব্রিফিংয়ে শফিকুর রহমান এ কথা বলেন।


এদিকে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে ইস্তফা দেওয়া মো. সাহাবুদ্দিনকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। গতকাল সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানায় দলটি।


এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগের পূর্ণাঙ্গ বিচার নিশ্চিত করতে এবং স্বৈরাচারী ব্যবস্থার পুনরুত্থান রোধে সাহাবুদ্দিনকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে। বিএনপি যদি জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে, তাহলে দ্রুত সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেবে।


পৃথক বিবৃতিতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগকে স্বাগত জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান বলেছেন, ফ্যাসিবাদের পতনের পরই তাঁর পদত্যাগ প্রত্যাশিত ছিল। তবে নানা রাজনৈতিক বাস্তবতায় তিনি এত দিন বঙ্গভবনে বহাল ছিলেন। 


অন্যদিক মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। দুই দলই বলেছে, শুধু পদত্যাগ নয়, তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিচারও নিশ্চিত করতে হবে।