প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১২ মার্চ, ২০২৬, সময় : ৫:০৫ এএম

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, জাতীয় সংসদকে জাতীয় কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু না করে বিতাড়িত ফ্যাসিস্ট সরকার অকার্যকর করে ফেলেছিল। আমরা এই মহান জাতীয় সংসদকে সকল যুক্তি তর্ক আর জাতীয় সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে চাই। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনের শুরুতেই সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বৈঠকের সভাপতির নাম প্রস্তাব করতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো সংসদে বক্তব্য রাখেন। পরে তারেক রহমান সংসদের প্রথম বৈঠকের সভাপতি হিসেবে খন্দকার মোশাররফ হোসেনর নাম প্রস্তাব করেন।


দেশে আজ থেকে আবারও কাঙ্খিত সংসদীয় গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সমৃদ্ধ নিরাপদ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি দল মত ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে দেশের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছি। আমার রাজনীতি দেশ এবং জনগণের স্বার্থ রক্ষা করার রাজনীতি। এই লক্ষ্য অর্জনে আমি গণতান্ত্রিক জনগণের সমর্থন ও সহযোগিতা চাই। এই মহান জাতীয় সংসদে সকল দলের নির্বাচিত প্রত্যেক সংসদ সদস্যের সমর্থন ও সহযোগিতা চাই। 


সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে সংসদ নেতা তারেক রহমান বলেন, আমাদের দল কিংবা মত কিংবা কর্মসূচি ভিন্ন হতে পারে। কিন্তু তাবেদার মুক্ত, ফ্যাসিবাদ মুক্ত একটি স্বাধীন সার্বভৌম নিরাপদ স্বনির্ভর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় আমাদের মধ্যে কোনো বিরোধ থাকতে পারে না। বিরোধ নেই। 


প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় সংসদকে জাতীয় কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু না করে বিতাড়িত ফ্যাসিস্ট সরকার অকার্যকর করে ফেলেছিল। আমরা এই মহান জাতীয় সংসদকে সকল যুক্তি তর্ক আর জাতীয় সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে চাই। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের নির্মমতার শিকার অসংখ্য মানুষের কান্না, আর হাজারো প্রাণের আত্মত্যাগের মধ্যে দিয়ে অবশেষে আজ থেকে পুনরায় যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে জনপ্রতিধিত্বশীল জাতীয় সংসদ। আমরা একটি ন্যায়ভিত্তিক গণতান্ত্রিক মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করতে পেরেছি। 


তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধসহ এ পর্যন্ত দেশে গণতন্ত্র এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে যারা শহীদ হয়েছেন সংসদ শুরুর এই যাত্রা লগ্নে তাদেরকে স্মরণ করছি। এই আন্দোলনে আহত মানুষকে তাদের স্বাচ্ছন্দের জীবন হারাতে হয়েছে। যেসব মানুষ নির্যাতন, নিপীড়ন, রাজনৈতিক হয়রানি কিংবা মিথ্যা মামলা শিকার হয়ে সর্বস্ব হারিয়েছেন তাদের স্মরণ করছি। 


সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় খালেদা জিয়া সংসদীয় গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিলেন। সেই গণতন্ত্রকে প্রহসনের রূপ দিয়ে জাতীয় সংসদকে হাস্যরসের খোরাকে পরিণত করা হয়েছিল। দেশের তাবেদারি শাসন শোষণ কায়েম করা হয়েছিল। দেশের সংসদীয় গণতন্ত্র এবং জনগণের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার জন্য তিনি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত লড়াই করেছেন। জীবনে কখনও স্বৈরাচার কিংবা ফ্যাসিবাদের সঙ্গে আপস করেননি। দেশে আজ থেকে আবারও সেই কাঙ্খিত সংসদীয় গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হলো। সংসদীয় রাজনীতির প্রতিষ্ঠাতা খালেদা জিয়া দেশ ও জনগণের সাফল্যে এই শুভ মুহূর্তটি দেখে যেতে পারেননি। আজ তাই এই জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে আমরা দেশ এবং জনগণের স্বার্থে আপসসীন নেতৃত্ব ব্যক্তিত্ব স্মরণীয় বরণীয় অনুকরণীয় রাজনীতিবিদকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি।


রাষ্ট্রপতি প্রয়াত জিয়াউর রহমানকে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা উল্লেখ করে তাঁর উক্তি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তিনি বলেছিলেন জনগণই যদি রাজনৈতিক দল হয় তাহলে আমি সেই দলেরই আছি। অর্থাৎ ব্যক্তি কিংবা দলের স্বার্থ নয়, জনগণের স্বার্থই সবচাইতে বড়। এটাই বিএনপির রাজনীতি।’ তিনি বলেন, আমি প্রথমবারের মতো বিএনপি থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছি। জাতীয় সংসদের সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত হয়েছি। জাতীয় সংসদে দলের প্রতিনিধিত্ব করলেও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি এই জাতীয় সংসদে দেশের প্রতিনিধিত্ব করছি। দল মত ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে দেশের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছি। আমার রাজনীতি দেশ এবং জনগণের স্বার্থ রক্ষা করার রাজনীতি। 


প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির রাজনীতি জনগণের জীবনমান উন্নয়ন এবং স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার রাজনীতি। প্রতিটি পরিবার স্বনির্ভর করাই আমাদের রাজনীতির লক্ষ্য। প্রতিটি পরিবারকে স্বনির্ভর করার মাধ্যমেই বিএনপি একটি স্বনির্ভর সমৃদ্ধ নিরাপদ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এই লক্ষ্য অর্জনে আমি গণতান্ত্রিক জনগণের সমর্থন ও সহযোগিতা চাইছি। এই মহান জাতীয় সংসদে সকল দলের নির্বাচিত প্রতিজন সংসদ সদস্যের সমর্থন এবং সহযোগিতা আশা করছি।  সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি আমাদের দল কিংবা মত কিংবা কর্মসূচি ভিন্ন হতে পারে। কিন্তু তাবেদার মুক্ত, ফ্যাসিবাদ মুক্ত একটি স্বাধীন সার্বভৌম নিরাপদ স্বনির্ভর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় আমাদের মধ্যে কোনো বিরোধ থাকতে পারে না। বিরোধ নেই। 


নতুন সরকার যাত্রার শুরুতে স্পিকার কিংবা ডেপুটি স্পিকার উপস্থিত না থাকার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পতিত পরাজিত বিতাড়িত ফ্যাসিস্ট সরকারের জনবিরোধী এবং গণবিরোধী কর্মকাণ্ডের ফলে যে জনরোষ তৈরি হয়েছে বা জনরোষ তৈরি হয়েছিল তাতে এই মহান সংসদের সাবেক স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাদের কেউ কারাগারে, কেউ নিখোঁজ কিংবা কেউ পলাতক। দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী এবং তাঁবেদারি শাসন শোষণের পর জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে আজ আমাদের এক বিশেষ পরিস্থিতিতে জাতীয় সংসদের কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী, সংসদের প্রথম অধিবেশনের সভাপতিত্ব করার জন্য প্রবীণ রাজনীতিবিদ খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম প্রস্তাব করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সংসদীয় রীতিনীতির ইতিহাসে এই ধরনের পরিপ্রেক্ষিত নজিরবিহীন নয়। ১৯৭৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান ওই সংসদের সদস্য মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগিশের নাম প্রস্তাব করেছিলেন।



গতির অভাবে সিডিউল ঠিক রাখতে পারছে না ট্রেন

সঠিক সময়ে ট্রেন পৌঁছানোই ট্রেনের যাত্রী পরিষেবার মূল বিষয়


ট্রেন

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:৪৬ এএম

দেশে বর্তমানে ১৪০ কিমি.র গতিসম্পন্ন ট্রেন চলাচল করছে ৬৫ কিলোমিটার গতিতে। অথচ শুধু রেলপথ বা ইঞ্জিন-কোচ সংস্কার হলেই ট্রেনে ফেরানো সম্ভব অন্তত একশ কিলোমিটার গতি। আর গতির অভাবে সিডিউল ঠিক রাখতে পারছে না বাংলাদেশ রেলওয়ের ট্রেনগুলো। গতি ফিরিয়ে আনতে পারলে একই সময়ে দ্বিগুণ সংখ্যক ট্রেন পরিচালনা সম্ভব হবে।


বর্তমানে রেলের যাত্রীবাহী ট্রেন রয়েছে ২৮৫টি। তার মধ্যে ১২০টি আন্তঃনগর ট্রেন। আর মাত্র ৩টি বিরতিহীন ট্রেন। সঠিক সময়ে ট্রেন পৌঁছানোই ট্রেনের যাত্রী পরিষেবার মূল বিষয়। তাছাড়া যাত্রীসেবা ও সুরক্ষার অন্যান্য কার্যক্রমও রয়েছে। কিন্তু গত দুই যুগ ধরেই রেল থেকে উধাও হয়ে গেছে ওই মূল তিনটি বিষয়ই। ফলে নিয়মে পরিণত হয়েছে ট্রেনের ঘণ্টার পর ঘণ্টার ট্রেন দেরি করে চলা। বাংলাদেশ রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।




সূত্র মতে জানা গেছে, দেশের রেলপথে কোনো ট্রেনই যথাযথ গতিতে চালানো সম্ভব হচ্ছে না। এদেশে ১২০ কিংবা ১৪০ কিলোমিটার গতি নিয়ে ট্রেন চালানো স্বপ্নের বিষয় এখনো। মূলত জরাজীর্ণ ইঞ্জিন, রুট এবং জনবল সংকট এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে দিন দিন আরো প্রকট হচ্ছে রেলের ইঞ্জিন সংকট। এমন পরিস্থিতিতে বেশি গতির ট্রেন দুর্ঘটনায় পড়ার শঙ্কা থাকে। বর্তমানে জরাজীর্ণ বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রায় ৮৫ শতাংশ রুট। যদিও প্রতি অর্থবছরই বরাদ্দ থাকে রেলপথের চলমান সংস্কার কার্যকর রাখতে। কিন্তু ওই বরাদ্দের বেশির ভাগই লুটপাট হয়ে যায়।


সূত্র জানায়, বর্তমানে বাংলাদেমের রেলপথে মাইলের পর মাইল যথাযথ পাথর নেই। আর পুরো রেলপথের অধিকাংশ স্থানে স্লিপার, ডগস্পাইক (হুক), ফিশপ্লেট খোলা রয়েছে। তাছাড়া বর্তমানে রেলওয়ে সেতুর মধ্যে প্রায় ৬৬ শতাংশই মেয়াদোত্তীর্ণ। বিশেষ করেআখাউড়া থেকে সিলেট রেলপথ খুবই জরাজীর্ণ। ফলে ওই পথে কখনো কখনো ট্রেন চলে ৫ থেকে ১০ শতাংশ গতিতে। তাছাড়া জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ, ভৈরব-কিশোরগঞ্জ রেলপথও প্রায় তিন যুগ ধরে জরাজীর্ণ। ফলে প্রায়শই ওসব লাইনে দুর্ঘটনা ঘটছে। পাশাপাশি রেলপথে বৈধ কিংবা অবৈধ লেভেল ক্রসিংগুলো মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে রেলের ২৭০টি ইঞ্জিন রয়েছে। তবে ওসব ইঞ্জিনের ৭৭ শতাংশই মেয়াদোত্তীর্ণ। বিগত আওয়ামী সরকার প্রায় ১৬ বছরে রেলে সোয়া ১ লাখ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করলেও বাস্তবে তার বেশিরভাগই লোপাট হয়ে গেছে।


অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, ট্রেনের গতি বাড়ানোসহ যাত্রীদের সেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেশ কয়েকটি প্রকল্প নেয়া হচ্ছে। জরাজীর্ণ লাইন থাকায় ট্রেনে গতি উঠানো সম্ভব হচ্ছে না। পূর্ণাঙ্গ গতির ট্রেন হলে যাত্রীদের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাস বাড়তো। তাতে আয়ের পাশাপাশি যাত্রীসেবা ও সুরক্ষাও বাড়তো। রেলের জন্য নতুন করে উচ্চগতির ইঞ্জিন ও কোচ কেনা হচ্ছে।


একটি সূত্র জানায়, ঢাকা থেকে কক্সবাজারের ৪৮০ কিলোমিটার দূরত্বের পথপৌঁছাতে ট্রেনের ৩ ঘণ্টা ৪০ মিনিট সময় লাগার কথা। আর ঢাকা-পঞ্চগড়ের ৬৩৯ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রমে ৪ ঘণ্টা ৫০ মিনিট সময় লাগার কথা। কিন্তু ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে ট্রেন পৌঁছাতেই প্রায় ৯ ঘণ্টা সময় লাগছে আর পঞ্চগড়ে যেতে সময় লাগছে ১২ ঘণ্টা। ফলে ট্রেনগুলো গড়পড়তা (আন্তঃনগর, মেইল ও কমিউটার) ৫০ শতাংশ সময়ানুবর্তিতাও ধরে রাখতে পারছে না। সেক্ষেত্রে ট্রেনের গতি বাড়ানোর কার্যক্রম বাস্তবায়নে রেল সংশ্লিষ্ট কতিপয় কর্তকর্তা গড়িমসি করে। অভিযোগ রয়েছে, বিলম্বে ট্রেন পরিচালনার ক্ষেত্রে বাস মালিকদের সঙ্গে রেলওয়ে বিভাগ ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশ রয়েছে। তাছাড়া মালবাহী ট্রেন পরিচালনায় চলছে চরম নৈরাজ্য। যদিও বিগত অর্থবছরেও বাংলাদেশ রেলওয়ে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা লোকসান গুনেছে। 


এদিকে এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) মো. নাজমুল হোসেন জানান, যাত্রীবাহী ট্রেনের গতি বাড়ানো ছাড়া বিকল্প নেই। গতি বাড়ানোর সঙ্গে আয় বাড়ার সম্পর্ক রয়েছে। গতি বাড়লে ঢাকা-যশোর ও ঢাকা-কক্সবাজার রেলপথে বেশি সংখ্যক ট্রেন পরিচালনা করা সম্ভব। কিন্তু ইঞ্জিন ও কোচ পাওয়া যাচ্ছে না।


সংসদে মাহবুব উদ্দিন খোকন। ফাইল ছবি

  • প্রকাশ : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:০০ এএম

আপিল বিভাগে একটি মামলায় জরিমানার আদেশ নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের সঙ্গে কথোপকথনের এক পর্যায়ে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীসহ পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের এজলাস ত্যাগের বিষয়টি জাতীয় সংসদে তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান।


এ ঘটনাকে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ আখ্যা দিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, জনগণের ন্যায়বিচার পাওয়ার শেষ আশ্রয়স্থল বিচার বিভাগে এমন ঘটনা কী বার্তা দিচ্ছে।


জবাবে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেছেন, ঘটনাটি রাষ্ট্রের তিন অঙ্গের মধ্যে কোনো অঙ্গের সঙ্গে ঘটেনি। এটি একজন আইনজীবীর আচরণের বিষয়। তবে ওই আচরণকে তিনি সমর্থন করছেন না।


বুধবার জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে বিষয়টি তোলেন নাজিবুর রহমান। তিনি বলেন, “আমাদের সম্মানিত সংসদ সদস্য বার-এর প্রেসিডেন্ট জনাব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। উনার সাথে প্রধান বিচারপতির একটি বদানুবাদের ঘটনা ঘটে, যার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি এবং সকল আপিল বিভাগের বিচারপতি তাদের এজলাস ত্যাগ করেন এবং গতকালকে তারা আর কোর্টে ফিরে আসেননি।”


মঙ্গলবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে আপিল বিভাগ একটি মামলায় আদেশ দেয়। একই বিষয়ে একাধিক রিট আবেদন এবং আগের মামলার তথ্য গোপনের অভিযোগে রিট আবেদনকারী মো. নূর আলম ও তার আইনজীবী সুফিয়া আহামেদকে পাঁচ লাখ টাকা করে মোট ১০ লাখ টাকা জরিমানা (কস্ট) করা হয়।


জরিমানার টাকা ৩০ দিনের মধ্যে ঢাকা শিশু হাসপাতালে জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।


আদেশ দেওয়ার সময় আইনজীবী সুফিয়া আহামেদ আদালতে ছিলেন। তবে তার সিনিয়র আইনজীবী হিসেবে এসব মামলায় যুক্ত ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন তখন আদালতে ছিলেন না।


দুপুরের পর এজলাসে গিয়ে ব্যারিস্টার খোকন প্রধান বিচারপতির কাছে ওই নারী আইনজীবীর পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা মওকুফের অনুরোধ করেন।


তার ভাষ্য ছিল, একজন জুনিয়র ল’ইয়ার হিসেবে ৫ লাখ টাকা ‘কস্ট’ অনেক বেশি হয়ে গেছে, এটা মাফ করে দেওয়া দরকার।


ওই কথোপকথনের একপর্যায়ে তিনি আপিল বিভাগে মামলা কমে যাওয়া এবং এর ফলে আইনজীবীদের আয় কমে যাওয়ার প্রসঙ্গ তোলেন।


সেই ঘটনা বর্ণনা করে ব্যারিস্টার খোকন পরে সাংবাদিকদের বলেন, “আমি মাননীয় প্রধান বিচারপতিকে বললাম, যে আপনি মাননীয় প্রধান বিচারপতি হওয়ার পরে আসলে মামলা-টামলা খুব একটা হচ্ছে না আপিল বিভাগে। আইনজীবীদের ইনকাম কমে গেছে।"


খোকনের দাবি, তার বক্তব্যের উদ্দেশ্য ছিল আপিল বিভাগে বেঞ্চের সংখ্যা কমে যাওয়ার কারণে মামলার শুনানি কমে যাওয়ার বিষয়টি বোঝানো।


তবে প্রধান বিচারপতি তখন খোকনের কাছে জানতে চান, তিনি প্রধান বিচারপতি হওয়ার পরই আইনজীবীদের আয় কমে গেছে–এমন কিছু খোকন বোঝাতে চাইছে কি না।


খোকন একই বক্তব্য আবার বলার চেষ্টা করলে প্রধান বিচারপতি তাকে বলেন, তার ওই বক্তব্য ‘অ্যাবসোলিউটলি আদালত অবমাননার শামিল’।


এরপর প্রধান বিচারপতি জানান, তিনি আর আদালতে দিনের কার্যক্রমে অংশ নেবেন না। এরপর তিনি এবং বেঞ্চের অন্য বিচারকরা এজলাস ছেড়ে উঠে যান।


সকালের ঘটনার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন জানিয়ে সংসদ সদস্য নাজিবুর বলেন, “একজন আইনজীবী বারংবার সত্যকে গোপন করে রিট করার কারণে পেনাল্টি হিসেবে জরিমানা করা হয়, যার পরিপ্রেক্ষিতে এই ঘটনাটির সূত্রপাত হয়।”


তিনি বলেন, “মাহবুব উদ্দিন খোকন শুধু একজন আইনজীবী নন, তিনি সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এবং সংসদের একজন সদস্য।


“এ ধরনের যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা, আমরা বিচার বিভাগের স্বাধীনতার কথা বলি। জনগণের ন্যায়বিচার পাওয়ার যে সর্বশেষ আশ্রয়স্থল, সেটা হলো বিচার বিভাগ। এ ধরনের ঘটনা জনগণকে কী মেসেজ দিচ্ছে, এটা আমাদেরকে চিন্তা করা উচিত।”


অতীতের একটি ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদী আমলে প্রধান বিচারপতিকে অস্ত্রের মুখে কিন্তু তার পদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছিল।”


এরপর ‘ঘর পোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলে ডরায়’ প্রবাদটি মনে করিয়ে দিয়ে নাজিবুর বলেন, “এ ধরনের ঘটনা সে ধরনের বার্তা দিচ্ছে কিনা, এটা কিন্তু আমাদেরকে খতিয়ে দেখতে হবে।”


‘এক অঙ্গ আরেক অঙ্গের ওপর প্রভাব বিস্তার করবে না’


রাষ্ট্রের তিন অঙ্গের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্যের বিষয়টিও তোলেন নাজিবুর রহমান।


তিনি বলেন, “বিশেষ করে আমাদের রাষ্ট্রের যে তিনটি প্রধান অঙ্গ রয়েছে, বিচার বিভাগ—তার স্বাধীনতা আমরা চাই, সকলে এটার ব্যাপারে কথা বলেছে। এটা যেমন সার্বভৌম নয়, একই সাথে সংসদও সার্বভৌম নয় এবং এক্সিকিউটিভ, সেটাও সার্বভৌম নয়।”


এই সংসদ সদস্য লেন, “এই তিনটা মিলে জনগণ যে সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক, যেভাবে ক্ষমতা দিয়েছে, সেই ক্ষমতাকে আমাদেরকে সেইভাবে ব্যবহার করতে হবে, একটা অঙ্গ আরেক অঙ্গের উপরে কোনো প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করবে না, এটাই আমাদের জন্য প্রযোজ্য, এটাই যথার্থ।”


এ বিষয়ে জনগণকে আশ্বস্ত করতে আইনমন্ত্রীর বক্তব্য চান তিনি। তখন স্পিকার বলেন, সংসদ সদস্য ক্ষমতার পৃথকীকরণের প্রেক্ষাপটে আইনমন্ত্রীর কাছে বিষয়টি জানতে চেয়েছেন। আইনমন্ত্রী চাইলে তখনই অথবা পরে কার্যপ্রণালী বিধির ৩৫০ বিধিতে বক্তব্য দিতে পারেন।


জবাবে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, বিষয়টি ‘আলোচনার দাবি রাখে’।


তবে তিনি বলেন, “সেপারেশন অফ পাওয়ারের যে থিওরি, তা এখানে অ্যাপ্লাই করে না মাননীয় স্পিকার।”


তার ব্যাখ্যা, ঘটনাটি একজন আইনজীবীর আচরণের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং সেই আইনজীবী সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি।


আইনমন্ত্রী বলেন, “সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের তিনটা অর্গানের কোনো অর্গানের পার্ট নয়। ইট ইজ অ্যান ইনফরমাল বডি, ইট ইজ অ্যান অ্যাসোসিয়েশন অফ দ্য মেম্বারস হু আর প্র্যাকটিসিং ইন দ্য সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ।”


তিনি বলেন, ওই আইনজীবী বিচার বিভাগ, আইন বিভাগ বা শাসন বিভাগের কোনো অঙ্গকে প্রতিনিধিত্ব করেননি।


তবে আইনমন্ত্রী এও বলেন, “দ্যাট ডাজ নট মিন আই অ্যাম জাস্টিফাইং দ্যাট অ্যাকশন।”


আইনমন্ত্রী বলেন, আদালতে আইনজীবী ও বেঞ্চের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের ঘটনা নতুন নয়।


তিনি বলেন, “এটা অনেক সময় দেখা যায় এটা বার অ্যান্ড বেঞ্চের রিলেশনশিপের ব্যাপার। অনেক সময় মনে হচ্ছে যে আমরা ফাইট করছি বারে। কোনো সময় আদার সাইডের লইয়ারের সাথে, কোনো সময় আমরা বেঞ্চের সাথে। কিন্তু বের হওয়ার পরে আমরা কিন্তু এক হয়ে যাই।”


এ প্রসঙ্গে তিনি নিজের পেশাজীবনের একটি ঘটনার উদাহরণ দেন।


আসাদুজ্জামান বলেন, একটি মামলায় ড. কামাল হোসেন, রফিকুল হক ও ব্যারিস্টার সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ এক পক্ষে এবং ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ অন্য পক্ষে ছিলেন।


বিচারকের একটি প্রশ্নের পর রফিকুল হক বলেছিলেন, “আমার ৫০ বছরের প্র্যাকটিসের জীবনে আমি এরকম কোনো সাবমিশন শুনি নাই।”


এর জবাবে রোকনউদ্দিন মাহমুদ বলেছিলেন, “আমার মত মানুষের বাচ্চা ৫০ দিনে এটা শিখতে পারে, কিন্তু যাদের ব্রেন নাই তারা ৫০ বছরেও শিখবে না।”


আইনমন্ত্রী বলেন, পরে ইশতিয়াক আহমেদ তাকে ব্যক্তিগত আক্রমণ না করতে বললে রোকনউদ্দিন মাহমুদ বলেন, “আপনি দালালি করবেন না।”


আদালতে এমন তর্কের পরও পরে ওই আইনজীবীদের একসঙ্গে চা খেতে দেখেছিলেন বলে সংসদে জানান আসাদুজ্জামান।


মঙ্গলবারের ঘটনার বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, প্রধান বিচারপতি যেভাবে আদালত থেকে উঠে গিয়েছিলেন, তাতে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীর আচরণ ‘যথাযথ ছিল না’ বলে তাদের মনে হয়েছে।


তিনি বলেন, “কালকে মাননীয় প্রধান বিচারপতি যেভাবে কোর্ট থেকে উঠে গেলেন, এই উঠে যাওয়াটা আমাদের কাছে নিশ্চিতভাবেই মনে হয়েছে দ্য লইয়ার হু ডেমোনস্ট্রেটেড দ্যাট কন্ডাক্ট ওয়াজ নট প্রপার।”


আইনমন্ত্রী বলেন, বুধবার প্রধান বিচারপতি আদালতে বসে আদালত অবমাননার রুল দিতে পারেন বলে তাদের ধারণা হয়েছিল। কিন্তু তা হয়নি।


তিনি বলেন, “সকাল ৯টায় উঠেই উনি আবার কিন্তু যথারীতি কাজ শুরু করেছেন এবং ওই লয়ারও সেই মাননীয় প্রধান বিচারপতির কোর্টে গিয়ে স্বাভাবিকভাবে মামলা করেছেন বলে খবর পেয়েছি।”


ঘটনাটি সংসদে তোলার জন্য নাজিবুর রহমানকে ধন্যবাদ জানান আইনমন্ত্রী।


তিনি বলেন, “এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে কেউ ঘটাবেন না বলে আমরা প্রত্যাশা রাখি এবং এটা আমাদের সংবিধানের আর্টিকেল ২১-এ আমাদের নাগরিক হিসেবে দায়িত্ব রয়ে গেছে।”


পরে সংসদে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে বক্তব্য দেওয়ার চেষ্টা করেন মাহবুব উদ্দিন খোকন।


তিনি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আগের দিনের ঘটনা বর্ণনা করতে চাইলে স্পিকার তাকে শুধু বিশেষ ব্যাখ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে বলেন।


ডেপুটি স্পিকার বলেন, “আপনার যদি বিশেষ ব্যাখ্যা থাকে তা দিন। আইনমন্ত্রী সুন্দরভাবে বলেছেন। আমি ওই বারের ক্ষুদ্র সদস্য। আপনি ওই বারের সভাপতি। আমার মনে হয়, আইনমন্ত্রী যেভাবে ব্যাখ্যা দিয়েছেন, মহান সংসদে তা গ্রহণযোগ্য হয়েছে। আর নতুন করে যদি যুক্ত করার না থাকে তাহলে বসুন।”


এরপরও মাহবুব উদ্দিন খোকন ঘটনার বিস্তারিত বলতে চাইলে ডেপুটি স্পিকার তাকে থামান।


ডেপুটি স্পিকার বলেন, “জুডিশিয়াল বিষয়ে অভ্যন্তরীণ কথা বলা শোভা পাচ্ছে না। আইনমন্ত্রী সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা দিয়েছেন। আপনি বসুন।”


একপর্যায়ে সংসদ কক্ষে হইচই শুরু হলে স্পিকার মাহবুব উদ্দিন খোকনের মাইক বন্ধ করে দেন।


মাহবুব উদ্দিনের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে এজলাস ছাড়লেন প্রধান বিচারপতি



আ. লীগ সরকার শুধু ঋণখেলাপিই করেনি, হিসাবেও গড়মিল করেছিল: প্রধানমন্ত্রী

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:৩৭ এএম

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সংশ্লিষ্টরা শুধু বিপুল ঋণখেলাপিই করেনি, এর হিসাবেও গড়মিল করেছিল বলে মন্তব্য করেছেন সংসদনেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে বাংলাদেশকে ঋণখেলাপির অপবাদ থেকে বের করে আনতে কাজ করছে।


বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। 


এ সময় দেশে গ্যাস, জ্বালানি ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতিটি ক্ষেত্রেই দুর্নীতি প্রকট বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এসব সমস্যা সম্পর্কে জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলো অবগত রয়েছে। এমনকি সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে পরিকল্পিতভাবে সমাধানে কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার বলেও উল্লেখ করেন তিনি।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বঙ্গোপসাগর থেকে গ্যাস উত্তোলনে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। নির্দিষ্ট কোনো দেশকে সুবিধা দিতেই গ্যাস উত্তোলন করা হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


সরকার ক্ষমতায় আসার পর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং দেশের এফএসআরইউতে আগুন লাগার কারণে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট আরও তীব্র হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, সংকট কাটাতে এরই মধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।


গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে বিরোধী জোটের লংমার্চ কর্মসূচির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গাড়ির লংমার্চ করলেই যদি সমস্যার সমাধান হতো, তাহলে সরকারই সবার আগে লংমার্চে যেতো।  


তিনি আরও বলেন, কিছু মানুষকে সুবিধা দিতে কুইক রেন্টাল প্রক্রিয়া চালু করে বিগত সরকার দেশকে আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত করেছে। একই সঙ্গে দেশের সংকটকে কেন্দ্র করে উসকানি দেওয়া হলে এতে পতিত ফ্যাসিস্টরাই লাভবান হবে বলেও সতর্ক করেন প্রধানমন্ত্রী।


বিদ্যুৎ সংকট মোকাবেলায় আমদানিনির্ভরতার পরিবর্তে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে জোর দেওয়ার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। তার আশা, এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ভবিষ্যতে সৌরবিদ্যুতের বড় উৎপাদনকারী দেশে পরিণত হবে।


এ ছাড়া দেশে বর্তমানে বাকস্বাধীনতা অবাধ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাকস্বাধীনতা যেন বাকশালীনতা লঙ্ঘনের কারণ না হয়। গালাগালির সংস্কৃতির বিরুদ্ধে বিবেকবান নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা থাকবে, তবে তা যেন শত্রুতায় রূপ না নেয়— এ বিষয়েও সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।


স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:৫১ পিএম

টিকা দেওয়ার পরও হামের সংক্রমণ না কমায় দেশে আবারও বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হওয়ার কথা বলেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।


তিনি বলেছেন, আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর এ ক্যাম্পেইন শুরু হচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকায় এক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ তথ্য দিয়েছেন বলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।


সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ইতোমধ্যে অধিকাংশ টিকা ইউনিসেফের মাধ্যমে দেশে এসে পৌঁছেছে। অবশিষ্ট টিকাও আগামী ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশে পৌঁছাবে।


হামের প্রাদুর্ভাব ও মৃত্যু বেড়ে যাওয়ায় সমালোচনার মধ্যে সরকার জরুরি ভিত্তিতে দেশের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ৩০টি উপজেলায় ৫ এপ্রিল থেকে ছয় মাস থেকে ৫৯ মাস বা পাঁচ বছর বয়সি টিকা দেওয়া শুরু করে।


এরপর ১২ এপ্রিল শুরু হয় চার সিটি করপোরেশন এলাকায়। ২০ এপ্রিল সারা দেশে একই বয়সি শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি শুরু করে সরকার, যা শেষ হয় ২০ মে।


তারপরও সংক্রমণ কমছে না। সরকারি হিসাবে হামে আক্রান্ত হয়ে এবং হামের উপসর্গ নিয়ে বুধবার পর্যন্ত ১০০২ জনের মৃত্যু হয়েছে।


স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “হামের টিকা ক্যাম্পেইন শেষ করার পরও যখন সংক্রমণ অব্যাহত থাকার বিষয়টি দেখা যায়, তখন সরকার অবশিষ্ট কার্যক্রম পরিচালনা করে।”


এ কার্যক্রমের আওতায় নতুন করে ১৪ লাখ শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হয়েছে, বলেন তিনি।


মন্ত্রী বলেন, বিগত সরকার দেশে কোনো টিকা রেখে যায়নি। এমন পরিস্থিতিতে বর্তমান সরকার মাত্র ২১ দিনের মধ্যে ১ কোটি ৮৫ লাখ শিশুর জন্য টিকা সংগ্রহ করে টিকাদান কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে।


ঢাকার হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর চাপ কমাতে প্রান্তিক পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবা জোরদার করার কথা বলেছেন সাখাওয়াত হোসেন।


তিনি বলেন, “প্রতিটি হাসপাতালে আইসোলেশন বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং মোবাইল হাসপাতালের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। উপজেলা পর্যায়েই রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি টারশিয়ারি হাসপাতালগুলোর ওপর চাপ কমাতে সোসাইটি অব মেডিসিনের মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ের চিকিৎসকদের সঙ্গে সমন্বয় ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”


ধানমণ্ডির ইউনিভার্সিটি উইমেন্স ফেডারেশন কলেজে ‘বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে সেমিনারটি আয়োজন করে অ্যাসোসিয়েশন ফর ডিজঅ্যাবলড পিপল (এডিপি) ও রোটারি ক্লাব আহসান মঞ্জিল।


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:১৫ পিএম

প্রধানমন্ত্রী সকালে সচিবালয়ে অফিস করেন। নিজের দপ্তরে প্রবেশের আগে ডিজিটাল হাজিরা দেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।


গত বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পরিপত্রে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর সঙ্গে দাপ্তরিক যোগাযোগ, নথিপত্র ও সারসংক্ষেপ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তাদের পদবির আগে ‘মহামান্য’, ‘মাননীয়’ বা অন্য কোনো সম্মানসূচক শব্দ লিখিতভাবে ব্যবহার করা যাবে না।


মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই প্রতিবেদককে বলেন, “সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের এই নির্দেশনা কেবল কাগজে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রধানমন্ত্রী নিজের কার্যালয়েই তা বাস্তবায়ন শুরু করেছেন। তার কাছে উপস্থাপন করা ফাইল ও অন্যান্য সরকারি নথিতে ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী’ না লিখে শুধু ‘প্রধানমন্ত্রী’ ব্যবহারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।”


মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ‘মাননীয়’ শব্দ বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ধারাবাহিক ইতিবাচক উদ্যোগের অংশ। এর মাধ্যমে পদমর্যাদার আনুষ্ঠানিক বিশেষণের চেয়ে দায়িত্ব, জনসেবা এবং দেশ ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতাকে সামনে আনার বার্তা দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী।


একই সঙ্গে দাপ্তরিক শৃঙ্খলার ক্ষেত্রেও হাজিরার প্রথা অনুসরণ করে নজির তৈরির চেষ্টা করছেন প্রধানমন্ত্রী। 


কার্যালয়ে প্রবেশের সময় অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতো প্রধানমন্ত্রীও নিয়মিত অনলাইন হাজিরা দিচ্ছেন। দিনের কাজ শেষে কার্যালয় ছাড়ার সময়ও নির্ধারিত পদ্ধতিতে বের হওয়ার হাজিরা দিয়ে অফিস ত্যাগ করছেন।


সরকারপ্রধান হয়ে দাপ্তরিক নিয়ম নিজের ক্ষেত্রে প্রয়োগের মাধ্যমে প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও নিয়ম মেনে চলার বার্তা দিয়েছেন তিনি।


প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা জানান, প্রধানমন্ত্রীর ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রশাসনে সময়ানুবর্তিতা, জবাবদিহি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের অংশ। রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকা ব্যক্তিই যখন সাধারণ দাপ্তরিক নিয়ম মেনে চলেন, তখন প্রশাসনের অন্যদের কাছেও একই নিয়ম অনুসরণের প্রত্যাশা আরও স্পষ্ট হয়েছে।


প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা ও অপ্রয়োজনীয় আড়ম্বর কমাতেও একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারি কার্যক্রম ও প্রচারণায় তার ছবি ব্যবহার না করা, প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকলে গাড়ির সংখ্যা কমিয়ে আনা এবং তার চলাচলের সময় সাধারণ মানুষের জন্য ট্রাফিক সিগন্যাল বন্ধ না রাখার মতো উদ্যোগ এরই মধ্যে নেওয়া হয়েছে।


প্রধানমন্ত্রী দেশে ও দেশের বাইরে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান ছাড়া পতাকাবাহী গাড়ি ব্যবহার করছেন না। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এমন একটি বার্তা দেওয়া হচ্ছে যে, রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তি বিশেষ সুবিধা বা বিশেষ সম্বোধনের পরিবর্তে নিয়ম ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার অংশ হিসেবেই দায়িত্ব পালন করবেন।


  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:৪৪ পিএম

নব্বই দশকের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় রিমান্ড শেষে অভিনেতা আশরাফুল হক ওরফে ডনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। 


গতকাল বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত এ আদেশ দেন। এর আগে তাঁকে আদালতে হাজির করে কারাগারে রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। 


সিআইডি সূত্র জানায়, রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গত ৯ আগস্ট ডনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেদিনই তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে ১২ আগস্ট তাঁর জামিন আবেদন করা হলে তা নামঞ্জুর করেন আদালত। গত ২৭ আগস্ট আদালত তাঁর পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ৬ সেপ্টেম্বর তাঁকে রিমান্ডে নেয় তদন্ত সংস্থা সিআইডি। চার দিনের রিমান্ড শেষে গতকাল তাঁকে আদালতে হাজির করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে মামলার ঘটনার সঙ্গে তাঁর জড়িত থাকার তথ্য মিলেছে। 


আদালতে উপস্থাপন করা পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়, ডন মামলার এজাহারভুক্ত পলাতক আসামিদের চেনেন বলে জানিয়েছেন। সালমান শাহর ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে তিনি বিভিন্ন বিষয়ে অবগত ছিলেন। কিন্তু সালমান শাহর মৃত্যুর বিষয় ও মামলার অভিযোগ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি কৌশলের আশ্রয় নেন। অনেক তথ্য কৌশলে গোপন করেন। তবে মামলার ঘটনার আগে-পরে তাঁর আচরণ ও কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়ে অনেক তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। 


তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক মুজিবুর রহমান জানান, আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাঁর কাছ থেকে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। 


১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি হত্যাকাণ্ডের শিকার নাকি আত্মহত্যা করেন- সেই প্রশ্নের মীমাংসা এখনও হয়নি।