ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ২২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:২২ পিএম

নরসিংদীতে চার বছর বয়সী ছেলেকে নিয়ে আন্তনগর উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়েছেন এক যুবক। এ সময় ট্রেনটির ধাক্কায় বাবা-ছেলে রেললাইনের মাঝে পড়ে যায় এবং ট্রেনটি তাদের ওপর দিয়ে চলে যায়। তবে দুজনই অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে যান। গতকাল শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নরসিংদী শহরের আরশীনগর রেলক্রসিংয়ের কাছে বীরপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন স্থানে এই ঘটনা ঘটে। 


বাবা আল-আমিন (২৭) নরসিংদী সদর হাসপাতালে এবং তার ছেলে আরিয়ান (৪) পাশের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চলন্ত ট্রেনে ছেলেকে নিয়ে ঝাঁপ দিয়ে বেঁচে যাওয়া আল-আমিন নরসিংদী শহরের পূর্ব ব্রাহ্মন্দী এলাকার হাসেম মিয়ার ছেলে।


প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে রেলওয়ে পুলিশ জানায়, গতকাল শুক্রবার বিকেলের দিকে আল-আমিন তার চার বছরের ছেলে আরিয়ানকে নিয়ে বীরপুর মসজিদের সামনে অবস্থান নেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা নোয়াখালীগামী আন্তনগর উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনটি নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেয়। পুনরায় যাত্রা শুরু করে অল্পগতিতে ট্রেনটি বীরপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় অতিক্রমের সময় আরিয়ানকে নিয়ে রেললাইনে ঝাঁপ দেন আল-আমিন। ট্রেনটির ধাক্কায় দুজনই ছিটকে রেললাইনের মাঝে পড়ে। এ সময় ট্রেনটি তাদের ওপর দিয়ে চলে যায়। এতে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত পান বাবা-ছেলে। পরে স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। 


আল-আমিনের বড় ভাই আবদুল কাদের জানান, নরসিংদী সদর হাসপাতাল থেকে নিয়ে আরিয়ানকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার মাথায় ১৬টি সেলাই দেয়া হয়েছে। আল-আমিন এখনো সদর হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন আছেন।


এ বিষয়ে নরসিংদী রেলওয়ে ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক দিলীপ চন্দ্র সরকার বলেন, এ ঘটনায় বাবা-ছেলে দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের চিকিৎসা চলছে। কপাল ভালো, ট্রেনটি তাদের ওপর দিয়ে গেলেও কেউ কাটা পড়েননি। পারিবারিক কলহের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে।




  • প্রকাশ : রবিবার ২৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:১৪ পিএম

নোয়াখালীর হাতিয়ায় তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীকে ফার্মেসি দোকানে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে মো. হেলাল উদ্দিন (৪২) নামে এক জামায়াত কর্মীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।


আজ রোববার (২৩ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার হরণী ইউনিয়নের আদর্শ গ্রাম বাজারে এ ঘটনা ঘটে।


আটক হেলাল উদ্দিন ওরফে হেলাল মাস্টার হরণী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আদর্শ গ্রামের বেলায়েত খলিফার ছেলে। তিনি স্থানীয় আদর্শ গ্রাম বাজারে একটি ফার্মেসি পরিচালনা করেন।


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত হেলাল উদ্দিন ওরফে হেলাল মাস্টার আগে স্থানীয় আদর্শ গ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন। ২-৩ বছর আগে তিনি শিক্ষকতা ছেড়ে দেন। রোববার সকালে কৌশলে তিনি ৯ বছর বয়সী ওই শিশুকে তার ফার্মেসি দোকানে ডেকে নেন। পরে দোকানের পেছনের অংশে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন। বিষয়টি প্রত্যক্ষদর্শী এক ব্যক্তি টের পেয়ে টিনের একটি ভাঙা ছিদ্র দিয়ে ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন। ইতিমধ্যে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। পরে স্থানীয় লোকজন অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি দোকান থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় উত্তেজিত জনতা তাকে আটক করে চেয়ারম্যানঘাট পুলিশ ফাঁড়িতে সোপর্দ করে।


স্থানীয়দের অভিযোগ, এর আগে গত ৪ আগস্ট একই এলাকায় এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে বিচার বসানো হয়। ওই ঘটনায় তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও ৫০টি বেত্রাঘাত ধার্য করা হয়। তিনি একসময় আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। সরকার পরিবর্তনের পর তিনি জামায়াতের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছিলেন।


হরণী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির হাফেজ তারিফুল মাওলা বলেন, হেলাল জামায়াতের কোনো কর্মী নন। তিনি আগে যুবলীগ করতেন। নিজেকে বাঁচাতে ৫ আগস্টের পর একটি বড় মিছিলে তিনি ঢুকে যান।


এ বিষয়ে চেয়ারম্যানঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) সালাউদ্দিন রাসেদ বলেন, খবর পেয়ে স্থানীয়দের আটক করা অভিযুক্তকে পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে আসা হয়েছে। ভিকটিমের স্বজনেরা হাতিয়া থানায় মামলা দায়ের করবেন।  


হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে হাতিয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করবেন। মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে।


  • প্রকাশ : রবিবার ২৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:০৭ পিএম

লক্ষ্মীপুরে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ৪৮ গ্রাহকের প্রায় সোয়া কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় দীর্ঘদিনের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নোয়াখালী। এ ঘটনায় মূল আসামি মো. নাছির উদ্দিন ওরফে খোকন আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।


গতকাল শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেলে লক্ষ্মীপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (ক্ষমতাপ্রাপ্ত) তাসলিমা ইসলামের আদালতে তিনি জবানবন্দি দেন। আসামি খোকন (৫৫) লক্ষীপুরের সদর উপজেলার সাহাপুর গ্রামের নাছির উদ্দিনের বাড়ির মৃত আলী আকবরের ছেলে।


পিবিআই নোয়াখালী জেলা কার্যালয় জানায়, লক্ষ্মীপুর সদর থানার একটি মামলার তদন্তে উঠে এসেছে, মো. নাছির উদ্দিন ওরফে খোকন ২০১৯ সাল থেকে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক পিএলসির লক্ষ্মীপুর জেলার এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের আওতাভুক্ত মিরিকপুর শাখার একটি আউটলেটের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি মো. শহিদুল্লাহ ওরফে জিয়াকে ট্রেইলার হিসেবে নিয়োগ দেন।


অভিযোগ অনুযায়ী, তারা পরস্পর যোগসাজশে গ্রাহকদের জমা দেওয়া টাকা ব্যাংকের এজেন্ট শাখায় জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেন। পরে গ্রাহকেরা টাকা উত্তোলন বা হিসাব হালনাগাদ করতে গেলে বিষয়টি সামনে আসে এবং আসামিরা আত্মগোপনে চলে যান।


পিবিআইয়ের তদন্তে জানা গেছে, ব্যাংকের সার্ভারে ত্রুটির কথা বলে ৪৮ জন গ্রাহককে ভুয়া, হাতে লেখা এবং ভুয়া বায়োমেট্রিক ফিক্সড ডিপোজিট স্লিপ দেওয়া হয়। এভাবে মোট ১ কোটি ৫ লাখ ৫৭ হাজার ৫০০ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।


মামলাটি লক্ষ্মীপুর সদর থানায় ২০২৫ সালের ১ জুলাই দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪০৮, ৪০৯ ও ৪২০ ধারায় দায়ের করা হয়। লক্ষ্মীপুর সদর থানা পুলিশ ২০২৫ সালের ৩ আগস্ট মো. নাছির উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে। পরে মামলার তদন্তে অগ্রগতি না হওয়ায় লক্ষ্মীপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে তদন্তভার পিবিআই নোয়াখালী জেলার ওপর ন্যস্ত করেন।

 

মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করেন পিবিআই নোয়াখালী জেলার এসআই (নিরস্ত্র) মো. কামাল আব্বাস। মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন ও আত্মসাৎকৃত টাকা উদ্ধারের লক্ষ্যে আদালতের অনুমতি নিয়ে আসামিকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে জানিয়েছে পিবিআই।


পিবিআই নোয়াখালীর পুলিশ সুপার আর এম ফয়জুর রহমান বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মামলাটির নিরবচ্ছিন্ন তদন্ত পরিচালনা করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে অর্থ আত্মসাতের বিস্তারিত তথ্য বেরিয়ে আসে। পরে মূল আসামি আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। এ ঘটনায় জড়িত পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পিবিআই নোয়াখালীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


  • প্রকাশ : রবিবার ২৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:৪১ পিএম

ঠাকুরগাঁওয়ের বিজিবির অভিযানে হরিপুর সীমান্তে বিপুল পরিমাণ মাদকদব্য উদ্ধার করা হয়। (২৩ আগষ্ট রোববার) ভোর রাত ৪ টার সময় ঠাকুরগাঁও ব্যাটালিয়ন (৫০ বিজিবি)’র অধীনস্থ  কাঠালডাঙ্গী বিওপির টহলদল বিশেষ অভিযানে উল্লেখিত মাদকদ্রব্য আটক করে। যার আনুমানিক সিজার মূল্য ধরা হয়েছে ১ লাখ ৫৮ হাজার টাকা।




আজ রোববার ঠাকুরগাঁও ব্যাটালিয়ন (৫০ বিজিবি)’র পক্ষ থেকে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ সীমান্তে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি চোরাচালান প্রতিরোধে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন কৌশলী পরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমে সফল অভিযান পরিচালনা করছে। এরই ধারাবাহিকতায় নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঠাকুরগাঁও ব্যাটালিয়ন (৫০ বিজিবি) এর অধীনস্থ কাঠালডাঙ্গী বিওপি’র হাবিলদার মোঃ মোফাজ্জল হোসেনের নেতৃত্বে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।


অভিযানে কাঠালডাঙ্গী বিওপি’র টহলদল কর্তৃক দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত মেইন পিলার ৩৭০ হতে আনুমানিক ৩শ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ‘গেরুয়াডাঙ্গী’ নামক স্থানে অভিযান পরিচালনা করে মালিকবিহীন অবস্থায় ২৫৩ বোতল ভারতীয় ফেনসিডিল এবং ১৪৪ বোতল এস্কাফ সিরাপ আটক করা হয়।


বিজিবি কর্তৃক মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধমূলক 'জিরো টলারেন্স' নীতির বাস্তবায়নের পাশাপাশি এ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান, মাদকদ্রব্য, মানব পাচার এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা কামনা করেছে বিজিবি।

‘ফিল্মি স্টাইলে’ পাচার হাওয়া কোটি টাকা মূল্যের চুল উদ্ধার

চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার রুহুল কবির খানের তড়িৎ অ্যাকশন


  • প্রকাশ : রবিবার ২৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:০৪ পিএম

মাদক ও চোরাচালানের বিরুদ্ধে চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ রুহুল কবীর খানের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বেশ আগে থেকেই শুরু হয়েছে। তবে এবার কোনো মাদক বা সোনা নয়, চুয়াডাঙ্গা পুলিশ দেখাল কোটি টাকার ‘চুল’ উদ্ধারের এক অবিশ্বাস্য কৃতিত্ব! কুরিয়ার সার্ভিস থেকে ফিল্মি স্টাইলে গায়েব হয়ে যাওয়া বিশাল এক চুলের চালান মাত্র কয়েক ঘণ্টার ঝটিকা অভিযানে উদ্ধার করে তাক লাগিয়ে দিয়েছে জেলা পুলিশ।




পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেল ৩টার দিকে দামুড়হুদা থানার পোড়াপাড়া এলাকা থেকে একটি কাভার্ড ভ্যানে থাকা কোটি টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ স্টাইলে ছিনতাই হয়ে যায়। কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে প্রসেসিংয়ের জন্য এই চুলগুলো নেওয়া হচ্ছিল, যার বাজারমূল্য কোটি টাকারও বেশি।


দামি এই চুলের চালান এভাবে হুট করে হাওয়া হয়ে যাওয়ার খবরটি পৌঁছায় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবিরের কাছে। ঘটনা শোনামাত্রই তিনি কোনো সময় নষ্ট না করে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা, দামুড়হুদা থানা এবং পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) ও ডিএসবি-র একাধিক চৌকস টিমকে মাঠে নামার নির্দেশ দেন।


এসপির নিখুঁত দিকনির্দেশনায় চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে। প্রাথমিক তদন্তের অংশ হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চুল বহনকারী গাড়ি, সংশ্লিষ্ট ঘর এবং কুরিয়ার সার্ভিসের ম্যানেজারকে দ্রুত ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়। ডিবির ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে বেরিয়ে আসে ভেতরের তথ্য।


সেই তথ্যের সূত্র ধরে রাত গভীর হতেই অভিযানে নামেন পুলিশ সদস্যরা। অবশেষে রাত সাড়ে ৩টার দিকে চুয়াডাঙ্গা হাউসহাউস এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় কোটি টাকা মূল্যের সেই নিখোঁজ চুল অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের এমন তড়িৎ ও সমন্বিত অ্যাকশনের কারণেই এত বড় একটি চালান উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া চুলের মালিকপক্ষের কেউ এখনো যোগাযোগ করেননি। তবে মালিকপক্ষ এসে এজাহার বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করলেই পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। চুয়াডাঙ্গা পুলিশের এই সফল অভিযান এখন পুরো এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।


এছাড়া গত কয়ো মাস যাবৎ মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করে মাদক সেবনকারী, মাদক ব্যবসায়ী ও কারবারিদের বিরুদ্ধে এক মূর্তমান আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার রুহুল কবীর খানের তৎপরতায়।


কাঁধে করে নিয়ে যাচ্ছেন সার

  • প্রকাশ : রবিবার ২৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:০৫ পিএম

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সার না পেয়ে জোট বেঁধে ডিলার পয়েন্টের গুদামের দরজা ভেঙে ১৯৭ বস্তা সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরে পুলিশের তৎপরতায় ৩৩ জন কৃষক ৩৩ বস্তা সার ফেরত দিয়েছেন। তবে বাকি সার এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। আজ রোববার সকাল ১১টার দিকে উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের মেসার্স শাহ আমানত ডিলার পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে।


স্থানীয়রা জানান, শিলখুড়ি ইউনিয়নে সার বিক্রির জন্য ডিলার হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন শাহ আমানত ট্রেডার্সের মালিক তাইফুর রহমান মুকুল। তাঁর নামে মোট ১ হাজার ৩২০ বস্তা সার বরাদ্দ রয়েছে। এর মধ্যে গুদামে ৩৪০ বস্তা সার মজুত ছিল।


আজ সকাল থেকেই সার কেনার জন্য ডিলার পয়েন্টে দুই শতাধিক কৃষক জড়ো হন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও ডিলার পয়েন্টের দরজা না খোলায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন তারা। একপর্যায়ে কৃষকেরা গুদামের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে সার নিয়ে যেতে শুরু করেন। এ সময় তারা ১৯৭ বস্তা সার নিয়ে যান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং গুদামে থাকা বাকি সার রক্ষা করে।


ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন বলেন, শিলখুড়ি ইউনিয়নে সারের চাহিদা প্রায় ৪ হাজার বস্তা। বিপরীতে বরাদ্দ হয়েছে ১ হাজার ৩২০ বস্তা। বাস্তবে উত্তোলন করা সার আরও কম ছিল। ফলে কৃষকেরা সার না পাওয়ার শঙ্কা থেকে গুদাম থেকে সার নিয়ে যান।


তিনি বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের থামায়। এর মধ্যে ১৯৭ বস্তা সার নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পুলিশের তৎপরতায় ৩৩ জন কৃষক ৩৩ বস্তা সার ফেরত দিয়েছেন। বাকি সার উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

২৫ আগস্ট যাত্রা শুরু সিলেট উন্নয়ন কতৃপক্ষের

নগরীসহ সিলেটের চার উপজেলাকে সিউকের আওতায় আনার প্রস্তাব


  • প্রকাশ : রবিবার ২৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:৩১ পিএম

আগামী ২৫ আগস্ট (মঙ্গলবার) আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু রতে যাচ্ছে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিউক)। এদিন দুপুরে সিউকের প্রধান কার্যালয়ের উদ্বোধন হবে। এ উপলক্ষে রোববার দুপুরে অস্থায়ী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সিউক। এতে জানানো হয়- সিউকের আওতাধীন এলাকা নির্ধারণের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। এতে সিলেট সদর, দক্ষিণ সুরমা, গোলাপগঞ্জ ও বিশ্বনাথ উপজেলার ৪১টি ইউনিয়ন ও সিটি করপোরেশন এলাকা অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। 


প্রস্তাবিত এলাকার আয়তন প্রায় ১ হাজার ১৬৮ বর্গকিলোমিটার। প্রস্তাবিত এলাকার পাহাড়, টিলা, নদী ও খালসহ প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য অপরিবর্তিত রেখে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার কথা বলা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে সিউক চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, সিলেট ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকাকে পরিকল্পিত, সমন্বিত, টেকসই ও আধুনিক পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে যাত্রা শুরু করছে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিউক)। মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয়ের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হবে। একই দিন বেলা ১১টায় নগরের বন্দরবাজার-সংলগ্ন এলাকায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও আয়োজন করা হয়েছে। 


সংবাদ সম্মেলনে সিউকের চেয়ারম্যান বলেন, সিলেটকে পরিকল্পিত, সমন্বিত, টেকসই ও আধুনিক পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে কর্তৃপক্ষ কাজ করবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর, পেশাজীবী সংগঠন, সুশীল সমাজসহ বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। ২৫ আগস্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। উদ্বোধক হিসেবে থাকবেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের।সিউকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রবাসী ও বৈদেশিক কল্যাণ এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুরও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। এছাড়া সিলেটের বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং সাংবাদিকেরা উপস্থিত থাকবেন। সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইনে কর্তৃপক্ষকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা ও কার্যাবলি দেওয়া হয়েছে। 


এর মধ্যে রয়েছে ভূমির যৌক্তিক ব্যবহার নিশ্চিত করা, ভবন নির্মাণ, অনুমোদন, সংরক্ষণ ও অপসারণসংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা, নতুন আবাসন প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন এবং নিম্নবিত্ত ও বস্তিবাসী মানুষের আবাসন সমস্যা নিরসনে উদ্যোগ নেওয়া। এছাড়া আধুনিক ও আকর্ষণীয় নাগরিক সুবিধা তৈরি ও সংরক্ষণ, পর্যাপ্ত বনায়ন, পরিবেশদূষণ প্রতিরোধে প্রকল্প গ্রহণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়ন, উড়ালসেতু, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং নালা-খাল-নর্দমার উন্নয়নসহ বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সুযোগ রয়েছে কর্তৃপক্ষের।


কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক পরিকল্পনায় সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের স্থায়ী কার্যালয়ে কার্যক্রম স্থানান্তর, দুটি জোনাল অফিস স্থাপনের জন্য স্থান নির্বাচন, বিভিন্ন আবাসন প্রকল্পে ভবন, পার্ক, রাস্তা ও ফুটপাতের পাশে উপযোগী সবুজ স্থায়ী বৃক্ষরোপণ এবং গ্রিন বিল্ডিং সার্টিফিকেশনের ব্যবস্থা করার বিষয় রয়েছে। সিলেট সিটি করপোরেশনের সংলগ্ন এলাকায় নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ফ্ল্যাট নির্মাণ, কর্তৃপক্ষের আওতাভুক্ত এলাকায় পরিকল্পিত নগরায়ণ ও ভূমির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা, সিলেট-আম্বরখানা সড়কসংলগ্ন আবাসিক এলাকার উন্নয়ন, বাদাঘাট এলাকায় বিদ্যমান রেললাইনসংলগ্ন আবাসিক এলাকার উন্নয়ন এবং বিভিন্ন সংযোগ সড়ক, বাইপাস ও ফ্লাইওভার নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের রাজস্ব খাতে ৬৭টি ক্যাটাগরিতে ৭১৪টি পদ সৃষ্টির প্রস্তাব করা হয়েছে। পদগুলোর যৌক্তিকতা, বেতন স্কেল, নিয়োগযোগ্যতা নির্ধারণ ও প্রবিধানমালা প্রণয়ন করে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।


এরই মধ্যে স্থায়ী ও আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় জনবল নিয়োগের মাধ্যমে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। স্থায়ী দপ্তরের জন্য জমি পেতে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অস্থায়ী কার্যালয়ও স্থাপন করা হয়েছে। সিউকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের পাশাপাশি স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইমারত নির্মাণ আইন ১৯৫২, বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) ২০২০ এবং সিউক আইন ২০২৩ অনুযায়ী প্রকৌশলী, স্থপতি ও কারিগরি প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত করার কার্যক্রম চলছে। রিয়েল এস্টেট ডেভেলপারদেরও তালিকাভুক্ত করা হচ্ছে। গণবিজ্ঞপ্তি জারির মাধ্যমে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পরিত্যক্ত বা অবৈধ দখলে থাকা জমি উদ্ধার করে মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


সিউকের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম শুরুর পর সরকারি বিভিন্ন দপ্তর, পেশাজীবী সংগঠন ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হবে। স্থপতি ও ডেভেলপারদের নিয়ে আধুনিক নগর পরিকল্পনা বিষয়ে সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও কর্মশালার আয়োজনেরও পরিকল্পনা রয়েছে।


সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন সিউকের নির্বাহী পরিচালক মো. সাদি উর রহিম জাদিদ।