লক্ষ্মীপুরে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ৪৮ গ্রাহকের প্রায় সোয়া কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় দীর্ঘদিনের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নোয়াখালী। এ ঘটনায় মূল আসামি মো. নাছির উদ্দিন ওরফে খোকন আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
গতকাল শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেলে লক্ষ্মীপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (ক্ষমতাপ্রাপ্ত) তাসলিমা ইসলামের আদালতে তিনি জবানবন্দি দেন। আসামি খোকন (৫৫) লক্ষীপুরের সদর উপজেলার সাহাপুর গ্রামের নাছির উদ্দিনের বাড়ির মৃত আলী আকবরের ছেলে।
পিবিআই নোয়াখালী জেলা কার্যালয় জানায়, লক্ষ্মীপুর সদর থানার একটি মামলার তদন্তে উঠে এসেছে, মো. নাছির উদ্দিন ওরফে খোকন ২০১৯ সাল থেকে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক পিএলসির লক্ষ্মীপুর জেলার এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের আওতাভুক্ত মিরিকপুর শাখার একটি আউটলেটের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি মো. শহিদুল্লাহ ওরফে জিয়াকে ট্রেইলার হিসেবে নিয়োগ দেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, তারা পরস্পর যোগসাজশে গ্রাহকদের জমা দেওয়া টাকা ব্যাংকের এজেন্ট শাখায় জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেন। পরে গ্রাহকেরা টাকা উত্তোলন বা হিসাব হালনাগাদ করতে গেলে বিষয়টি সামনে আসে এবং আসামিরা আত্মগোপনে চলে যান।
পিবিআইয়ের তদন্তে জানা গেছে, ব্যাংকের সার্ভারে ত্রুটির কথা বলে ৪৮ জন গ্রাহককে ভুয়া, হাতে লেখা এবং ভুয়া বায়োমেট্রিক ফিক্সড ডিপোজিট স্লিপ দেওয়া হয়। এভাবে মোট ১ কোটি ৫ লাখ ৫৭ হাজার ৫০০ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
মামলাটি লক্ষ্মীপুর সদর থানায় ২০২৫ সালের ১ জুলাই দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪০৮, ৪০৯ ও ৪২০ ধারায় দায়ের করা হয়। লক্ষ্মীপুর সদর থানা পুলিশ ২০২৫ সালের ৩ আগস্ট মো. নাছির উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে। পরে মামলার তদন্তে অগ্রগতি না হওয়ায় লক্ষ্মীপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে তদন্তভার পিবিআই নোয়াখালী জেলার ওপর ন্যস্ত করেন।
মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করেন পিবিআই নোয়াখালী জেলার এসআই (নিরস্ত্র) মো. কামাল আব্বাস। মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন ও আত্মসাৎকৃত টাকা উদ্ধারের লক্ষ্যে আদালতের অনুমতি নিয়ে আসামিকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে জানিয়েছে পিবিআই।
পিবিআই নোয়াখালীর পুলিশ সুপার আর এম ফয়জুর রহমান বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মামলাটির নিরবচ্ছিন্ন তদন্ত পরিচালনা করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে অর্থ আত্মসাতের বিস্তারিত তথ্য বেরিয়ে আসে। পরে মূল আসামি আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। এ ঘটনায় জড়িত পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পিবিআই নোয়াখালীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মাদারীপুরের শিবচরে মাকে হত্যার পাঁচ দিন পর আড়িয়াল খাঁ নদ থেকে এক বছর বয়সী শিশু আবিরের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ সোমবার (২৪ আগস্ট) সকালে উপজেলার নিলখী এলাকার আড়িয়াল খাঁ নদ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন।
স্থানীয়রা নদে শিশুর মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে থানা-পুলিশ ও নৌ-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ আগস্ট বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শিবচর থানার মাদবরচর ইউনিয়নের বাখরেরকান্দি গ্রামের খান বাড়ির দারুস সুন্নাহ ইসলামিয়া মাদ্রাসার পাশে একটি জমির ঝোপে অজ্ঞাত এক নারীর লাশ পড়ে থাকার খবর পায় পুলিশ। পরে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে পরিচয় শনাক্ত করা হয়। নিহত ওই নারীর নাম শাম্পা খাতুন। তিনি নাটোরের লালপুর উপজেলার বেরিলাবাড়ি এলাকার ছামরুল ইসলামের মেয়ে। এ ঘটনায় তার বাবা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে শিবচর থানায় মামলা করেন।
নিহতের বাবা ও মামলার বাদী ছামরুল ইসলাম জানান, প্রায় তিন বছর আগে মাদারীপুর সদর উপজেলার বড়মেহের এলাকার সাহাবুদ্দিন হাওলাদারের সঙ্গে শাম্পা খাতুনের বিয়ে হয়। তাদের এক বছর বয়সী ছেলে আবির ছিল। একটি মামলায় শাম্পার স্বামী কারাগারে থাকাকালে শিবচরের বাখরেরকান্দি এলাকার রতন মোল্লার ছেলে ফারুক মোল্লার সঙ্গে তার পরিচয় হয়।
পুলিশের দাবি, ফারুকের বাড়িতে শম্পাকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। পরে তার মরদেহ জঙ্গলে ফেলে রাখা হয়। একই ঘটনায় শিশু আবিরকে শ্বাসরোধে হত্যার পর আড়িয়াল খাঁ নদে ফেলে দেওয়া হয়।
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রাজৈর থেকে ফারুক মোল্লাকে গ্রেফতার করে শিবচর থানা-পুলিশ ও র্যাব-৮। তার কাছ থেকে শাম্পার ব্যবহৃত চেইন, ওড়না ও এক জোড়া জুতা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তাররা হলেন- মো. আবু রায়হান হৃদয় (২৪) ও মোছা. সুরাইয়া পারভীন স্বরনী (১৯)
পঞ্চগড়ে এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে আটক রেখে জোরপূর্বক অশ্লীল ভিডিও ধারণ এবং ওই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে হানিট্রাপ চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তাররা হলেন- মো. আবু রায়হান হৃদয় (২৪) ও মোছা. সুরাইয়া পারভীন স্বরনী (১৯)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ জুলাই পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের গেট থেকে হানিট্রাপ চক্রের ৪-৫ জন সদস্য ওই ব্যবসায়ীকে জোরপূর্বক অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে আটক রেখে জোরপূর্বক অশ্লীল ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে ভিডিওটি সামাজিকভাবে ছড়িয়ে দিয়ে সম্মানহানি করার ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে টাকা-পয়সা হাতিয়ে নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পঞ্চগড় সদর থানায় এজাহার দায়ের করলে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। মামলার তদন্তের ধারাবাহিকতায় অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গত ২৩ আগস্ট ওই দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার আবু রায়হান হৃদয় দিনাজপুর জেলার কাহারোল উপজেলার রামপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি বর্তমানে পঞ্চগড় সদর উপজেলার রাজনগর খালপাড়া এলাকায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছিলেন। অপর আসামি সুরাইয়া পারভীন স্বরনী পঞ্চগড় পৌরসভার কায়েতপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
পরে গ্রেপ্তার দুই আসামিকে পঞ্চগড় চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে তারা ঘটনার বিষয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, মামলাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির
সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় প্রস্তাবিত ১৮৮ একর জমির নতুন বিসিক শিল্পনগরীর স্থান পরিদর্শন করেছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি। এ সময় হাইটেক পার্কে এআই ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন করে নতুন ফ্রিল্যান্সার তৈরির উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। গত শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে দক্ষিণ সুরমার শাহপরাণ (রহ.) বাইপাসসংলগ্ন এলাকায় প্রস্তাবিত শিল্পনগরীর স্থান পরিদর্শন করেন মন্ত্রী।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী বলেন, ‘সাধারণ স্পেস ও অন্যান্য সুবিধা বাদ দিয়ে প্রস্তাবিত এই বিসিক শিল্পনগরীতে প্রায় ১১০ একর জমিতে নিট প্লট বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব হবে। শিল্পের আকারের ওপর ভিত্তি করে প্লটের সংখ্যা নির্ধারিত হবে। সড়ক কর্তৃপক্ষের সাথে ইতোমধ্যে কথা হয়েছে, বাইপাসের বর্তমান সড়কটি ভবিষ্যতে ৬ লেনের মহাসড়কে উন্নীত হচ্ছে, যার ডিপিপি তৈরির কাজ চলছে। এটি ঢাকা-সিলেট মূল মহাসড়কের একটি বিকল্প মহাসড়ক হিসেবে ব্যবহৃত হবে।’
তিনি বলেন, “এই নতুন বিসিকটি ৩ কিলোমিটার সংযোগ সড়কের মাধ্যমে দক্ষিণ সুরমার গোটাটিকর ও আলমপুরের বিদ্যমান বিসিক শিল্পনগরীর সাথে যুক্ত করা হবে। কাছেই রেললাইন, গ্যাস লাইন ও বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইন রয়েছে এবং পাশে জলাশয় থাকায় এটি শিল্পনগরীর জন্য একটি আদর্শ স্থান। সিলেটের স্থানীয় ও প্রবাসী বিনিয়োগকারী সহ দেশের সর্বস্তরের উদ্যোক্তারা এখানে বিপুল সংখ্যায় বিনিয়োগ করবেন বলে আমরা আশাবাদী।”
আইটি ও ডিজিটাল খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘হাইটেক পার্কের পূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করতে আগামী মাসের প্রথম শনিবারে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টাকে সাথে নিয়ে পুনরায় সিলেট পরিদর্শন করব। সেখানে একটি এআই ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন করে নতুন ফ্রিল্যান্সার তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উদ্যোক্তাদের জন্য কম সুদে ঋণ, প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবে সরকার।’
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, শিল্প সচিব আব্দুন নাসের খান, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিউক) চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, বিসিকের চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ টিটু, সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. নুরের জামান চৌধুরী, বিসিকের জিএম (প্ল্যানিং) ড. ফরহাদ আহমেদ, বিসিক সিলেট জেলা কার্যালয়ের ডিজিএম প্রকৌশলী ম. সুহেল হাওলাদার, মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সিলেট নগরের শাহপরান ইসলামাবাদ এলাকায় ৬৫ বছর বয়সী এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রোববার দিবাগত রাতে নিজ বাসার কাছ থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় শাহাব উদ্দিনকে উদ্ধার করেন স্বজনেরা। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
শাহাব উদ্দিন বিয়ানীবাজার উপজেলার চারখাই এলাকার বাসিন্দা। তিনি পরিবার নিয়ে শাহপরান এলাকায় নিজের বাসায় থাকতেন। চারখাই বাজারে তার ভোগ্যপণ্যের ব্যবসা রয়েছে।
পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, দুই ছেলে ও দুই মেয়ের বাবা শাহাব উদ্দিনের এক ছেলে ফ্রান্সে থাকেন। নিহতের ছোট ছেলে রেদোয়ান আহমদ জানান, রাতে স্থানীয় একজনের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, তার বাবাকে কয়েকজন ব্যক্তি আটকে রেখেছেন। খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে বাবাকে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখেন। তার ঘাড়ে ধারালো অস্ত্রের তিনটি আঘাতের চিহ্ন ছিল। শরীরের বিভিন্ন অংশও রক্তাক্ত ছিল। পরে স্বজনেরা শাহাব উদ্দিনকে হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেন।
তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই পথের মধ্যে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থলে যায়। পরে শাহাব উদ্দিনের মরদেহ উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
শাহাব উদ্দিনের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তার সঙ্গে কারও বিরোধ ছিল বলে তাদের জানা নেই। তার স্ত্রীও কারও সঙ্গে তার শত্রুতা বা বিরোধের কথা জানেন না বলে জানিয়েছেন।
শাহপরান (রহ.) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন জানান, পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মনজুর আহমদ জানন, পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। পুলিশ কমিশনার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাচ্ছেন। হত্যাকাণ্ডের কারণ ও এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে।
সিলেট নগরে গত ১২ আগস্ট এক ব্যবসায়ী, তার স্ত্রী ও গৃহপরিচারিকাকে নিজ বাসায় হত্যা করা হয়েছিল। রায়নগর মিতালি আবাসিক এলাকার নিকুঞ্জ ভিলায় ওই ঘটনায় নিহত হন ব্যবসায়ী মো. আব্দুস সাত্তার (৮২), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) এবং গৃহপরিচারিকা তাহমিনা (২৫)।
পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যু রোধে ঠাকুরগাঁওয়ে শুরু হওয়া পাঁচদিনব্যাপী সাঁতার প্রশিক্ষণের সমাপনী হয়েছে। প্রশিক্ষণে সদর উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের ১শ জন শিশু অংশ নিয়েছিলেন। আজ সোমবার সকালে সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের চণ্ডীপুর গ্রামে এই প্রশিক্ষণের সমাপনী করা হয়।
আয়োজকরা জানান, ৬ থেকে ১২ বছর বয়সী ১শ শিশুকে নিয়ে এ প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করা হয়েছিলো গেল বৃহস্পতিবার। আজ তা সমাপনী করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্য ইউনিয়নের শিশুদের এ প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে। চলতি বছরে জেলায় ৩শ এর বেশি শিশুকে এই প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।
শিশুরা যাতে পানিতে পড়ে গেলে নিজেদের নিরাপদ রাখতে পারে এবং সাঁতার শেখার মাধ্যমে পানিতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে পারে-এ লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও যানান আয়োজকরা।
বেসরকারি সংস্থা সার্ভিস ইমার্জেন্সি ফর রুরাল পিপল সার্প উদ্যোগে এই সাঁতার প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছিলো।
বিষ প্রয়োগে মরে যাওয়া মাছের স্তুপ
নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাঈদ হাসান তরফদার শাকিলের মালিকানাধীন পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে চল্লিশ লক্ষ টাকার মাছ নিধন করা হয়েছে। আজ সোমবার (২৪ আগস্ট) সকালে ওই পুকুরের ছোট বড় সব ধরণের মাছ মরে ভেঁসে উঠতে থাকে।
দুপুরে ওই চেয়ারমানের গ্রামের বাড়ি শালগ্রাম গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, পুকুর পাড়ে সারি সারি মিনি ভ্যানট্রাকে বিপুল পরিমাণ বড় বড় পাঙ্গাস মাছ তুলে বাজারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। দুপুর পর্যন্ত ২৬টি ট্রাক ভর্তি করে মাছ নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানান শ্রমিকরা।
তারা জানান, মাছগুলো মরে গন্ধ ছড়ানোর ফলে বাজারে কেউ এসব মাছ কিনতে চাচ্ছেন না। খুব কম দামেও ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছেনা। ওই পুকুরে পাঙ্গাস ছাড়াও শিং, মাগুর, দেশি ফলি প্রভৃতি মাছ মরে ভেঁসে উঠছে। তখনও শ্রমিকরা পুকুরে জাল টেনে মরা মাছগুলো তুলে আনছিলেন।
পুকুরের মালিক সদর ইউপি চেয়ারম্যান সাঈদ হাসান তরফদার শাকিল জানালেন, তাদের বেশ কয়েকটি পুকুরে তিনি নিজেই দীর্ঘদিন ধরে মাছ চাষ করে আসছেন। ওই পুকুরে ১০ হাজার পাঙ্গাসের পোনা এবং আরো দামি মাছের পোনা ছেড়েছিলেন। এ সপ্তাহেই মাছগুলো তুলে বিক্রি করার কথা ছিল। ভোর থেকে মাছগুলো মরে ভেঁসে উঠতে থাকে। পুকুরের তলদেশেও অনেক মাছ মরে পড়ে রয়েছে।
তিনি জানান, কেউ গ্যাস বড়ি প্রয়োগ করার ফলেই মাছগুলো মরছে। এতে তার চল্লিশ লক্ষ টাকারও বেশি ক্ষতি হয়েছে। পুকুরের মাছ তোলা তদারকি করতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তিনি থানায় কোন অভিযোগ করার সুযোগ পাননি।
মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওমর ফারুক বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।