স্কুলমাঠে জমা করে রাখা হয়েছে বয়লারের গরম ছাঁই

  • প্রকাশ : সোমবার ২৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:০০ পিএম

চালু থাকা চালকলের বয়লারের চুলো থেকে লম্বা হাতলওয়ালা আঁকড়া দিয়ে বের করে আনা হচ্ছে প্রচন্ড গরম ছাঁই। সেগুলো বাইরে এনে জমা করা হচ্ছে রাস্তায়। সেখান থেকে বেলচা দিয়ে ট্রাক্টরে তুলে খোলা ট্রাক্টরযোগে প্রকাশ্য দিবালোকে ব্যস্ত সড়কে পরিবহণ করা হচ্ছে এক কিলোমিটার দূরে। রাস্তায় দুধারে গরম ছাঁই বাতাসে উড়ে অন্য যানবাহনের যাত্রীদের শরীরে পড়ছে, পড়ে থাকছে সড়কের দুপাশেও। ছাঁইগুলো নিয়ে গিয়ে ফেলা হচ্ছে একটি বিদ্যালয়ের মাঠে, একদম ক্লাস চলাকালিন সময়ে। সেখান থেকেও বাতাসে উড়ছে ছাঁই। ফলে সেখানে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসুরক্ষা মারাত্মকভাবে ব্যহত হচ্ছে।


রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে এরকমই দৃশ্য দেখা গেল নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলা সদরে। আখেড়া এলাকায় অবস্থিত মেসার্স শিউলী চালকল থেকে ছাঁই নিয়ে ফেলা হচ্ছিল জাহাঙ্গীরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে। বিদ্যালয়ের নবনির্মিত একটি ভবনের পাশে স্তুপ করে রাখা হয়েছে ছাঁইগুলো। ইতোমধ্যেই বিদ্যালয়ের মাঠের বেশিরভাগ অংশে ছাঁই দিয়েই ভরাট করা হয়েছে। মাঠের মাঝখানটায় অল্প কিছু জায়গায় ফেলা হয়েছে বিট বালু।


উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা গোলাম রব্বানী জানালেন, ওই বিদ্যালয়ের মাঠে মাটি ভরাটের জন্য এক লক্ষ সতের হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। প্রকল্পের কাজ এখনো চলছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকই প্রকল্পের চেয়ারম্যান।


জাহাঙ্গীরপুর মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইব্রাহীম হোসেন জানালেন, তিনি প্রকল্পে আট ড্রামট্রাক বালু ফেলেছেন। বয়লারের ছাঁইগুলো তিনি বিনা পয়সায় এনে নতুন ভবনের পাশের গর্ত পূরণ করছেন। এ ছাঁইগুলো প্রকল্পের আওতাভূক্ত নয়।


স্থানীয়দের অভিযোগ নতুন ভবন নির্মাণের সময় ভীত কাটার অতিরিক্ত মাটি দিয়ে মাঠ ভরাট না করে অন্যত্র বিক্রি করে দেয়া হয়। এখন ভীতের পাশের গর্ত পূরণ করা হচ্ছে ছাঁই দিয়ে। বয়লারের ছাঁই দিয়ে মাঠ ভরাটের ফলে মাটির বেয়ারিং ক্যাপাসিটি কমবে। পরে ওই স্থানে নতুন ভবন নির্মাণ দূর্বল হবে। সংশ্লিষ্ঠদের দাবি প্রকল্পে বরাদ্দকরা টাকার অর্ধেকও খরচ করা হয়নি। কিন্তু প্রধান শিক্ষক এসব অস্বীকার করেছেন।


স্থানীয় পরিবেশবিদরা বয়লারের উড়ন্ত ছাঁইদূষণের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন। রাস্তা দিয়ে চলাচলের সময় বয়লারের ছাঁই চোখে পড়ে অনেকেই দূর্ভোগের শিকার হয়েছেন। এ অবস্থায় একটি বিদ্যালয়ের মাঠে ছাঁই ফেলা কোনক্রমেই স্বাস্থ্যের জন্য ভালো হবেনা। তারা ওই বিদ্যালয়ের মাঠে ফেলা ছাঁই সরিয়ে ফেলে মাটি দিয়ে ভরাটের দাবি জানান।



সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে নবাগত এসপি

খুলনার প্রতিটি থানা হবে মানুষের আস্থা ও ভরসার স্থল


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:১৪ পিএম

খুলনার নবাগত পুলিশ সুপার (এসপি) সরকার ওমর ফারুক খুলনায় এখন থেকে কেউ অপরাধ করে আর ছাড় পাবে না। জেলার প্রতিটি থানা সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভরসার জায়গা হিসেবে গড়ে তোলা হবে। সন্ত্রাস, মাদক, ধর্ষণ ও অপরাধ মুক্ত এমন সব প্রত্যয় গতকাল মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে খুলনা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে পরিচিত ও মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা ব্যক্ত করেন। 


নবাগত এসপি আরও বলেন, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে কাজ করবে। খুলনায় অপরাধীদের সংখ্যা খুবই কম। সমাজের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ একসঙ্গে কাজ করলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ কোনো জটিল বিষয় নয়। পুলিশের একার পক্ষে সব সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। এ জন্য জনগণ ও সাংবাদিকদের সহযোগিতা প্রয়োজন।


তিনি বলেন, অপরাধ ও বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে সাংবাদিকদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ কাজ করতে চায়। গণমাধ্যমের সহযোগিতায় অপরাধের তথ্য দ্রুত পুলিশের কাছে পৌঁছালে জনগণের স্বার্থ রক্ষা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন আরও সহজ হবে।

খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার বলেন, মাদকদ্রব্য, চাঁদাবাজি, অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন অপরাধের বিরুদ্ধে পুলিশকে আরও সক্রিয় হতে হবে। এসব অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশ, জেলা প্রশাসন, সাংবাদিক সমাজ এবং সংশ্লিষ্ট সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। যারা অপরাধ করে বা অপরাধ ঘটায়, তাদের সংখ্যা খুবই কম। তাদের চেয়ে আইন মেনে চলা মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি। জনগণ ও সাংবাদিকদের সহযোগিতা এবং পুলিশের পেশাদারিত্বের মাধ্যমে খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে। মতবিনিময় সভায় খুলনা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) আবির সিদ্দিকী শুভ্র এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, এ-সার্কেল সাইফুল ইসলাম সহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:১০ পিএম

নীলফামারীর ডিমলায় ওজন ও পরিমাপে কম দেওয়া এবং বিএসটিআইয়ের গুণগত মান সনদ নিয়ে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে দুই প্রতিষ্ঠানকে মোট ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।


আজ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে বিএসটিআই বিভাগীয় কার্যালয়, রংপুর ও ডিমলা উপজেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে উপজেলার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।


অভিযানকালে উপজেলা সদরের মেসার্স আফতাব ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল ও ডিজেল পরিমাপে কম দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়। প্রতিষ্ঠানটিতে প্রতি ১০ লিটার পেট্রোলে ১ লিটার ২০ মিলিলিটার এবং প্রতি ১০ লিটার ডিজেলে ১৪০ মিলিলিটার কম দেওয়ার অপরাধে ‘ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইন, ২০১৮’-এর ২৯ ও ৪৬ ধারায় ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।




অপরদিকে, ডিমলার ডোমার রোডের বামুনিয়া এলাকায় অবস্থিত আদিল আটো মুড়ির মিলে মুড়ি পণ্যের বিএসটিআই গুণগত মান সনদ রয়েছে বলে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে ‘বিএসটিআই আইন, ২০১৮’-এর ৩০ ধারায় প্রতিষ্ঠানটিকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।


ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন ডিমলা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রওশন কবির। অভিযানে বিএসটিআই বিভাগীয় কার্যালয়, রংপুরের প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন পরিদর্শক (মেট্রোলজি) প্রকৌশলী মো. আহসান হাবিব, পরিদর্শক (মেট্রোলজি) মো. নাসির উদ্দিন এবং ফিল্ড অফিসার (সিএম) মো. জুলকারনাইন।


বিএসটিআই বিভাগীয় কার্যালয়, রংপুর জানিয়েছে, জনস্বার্থে পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং ওজন ও পরিমাপে সঠিকতা বজায় রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:৪৯ পিএম

ময়মনসিংহের ভালুকায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মিষ্টি তৈরি ও নিরাপদ খাদ্য আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আদি ধামরাই মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের কারখানাকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।


আজ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে ভালুকা পৌরসভার আদি ধামরাই মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের কারখানায় অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা করা হয়।


অর্থদণ্ড পাওয়া প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী সুশান্ত পাল (৩৮)। তার বাবার নাম বাসুদেব পাল। অভিযান-সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, এ ঘটনায় করা মামলার নম্বর ৬৬/২০২৬। নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর ৩৩ ধারায় অপরাধের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।


অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফিরোজ হোসেন।


এ সময় ময়মনসিংহ জেলা নিরাপদ খাদ্য অফিসার মাহাবুব আরিফিন রাফি, উপজেলা স্যানিটারি ইনস্পেক্টর শামসুল আলম রমিজ, পৌরসভার স্যানিটারি ইনস্পেক্টর শাহাব উদ্দিন, ময়মনসিংহ জেলা নমুনা সংগ্রহকারী কর্মকর্তা মামুন উর রশিদ, জেলা অফিস সহায়ক আব্দুল মালেক, ল্যাব টেকনিশিয়ান সারোয়ার হোসেন ও ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট মো. রাসেল মিয়া উপস্থিত ছিলেন।


নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা জানান, অভিযানের সময় কারখানাটির মিষ্টি তৈরির পরিবেশ ও উৎপাদনপ্রক্রিয়া পরিদর্শন করা হয়। এ সময় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মিষ্টি তৈরি ও নিরাপদ খাদ্য আইন লঙ্ঘনের বিভিন্ন বিষয় পাওয়া যায়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কারখানাটি পরিদর্শন করেন। আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ পাওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারীকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।


ময়মনসিংহ জেলা নিরাপদ খাদ্য অফিসার মাহাবুব আরিফিন রাফি বলেন, ‘নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তর, ময়মনসিংহ জেলা শাখার পক্ষ থেকে ভালুকার বিভিন্ন দোকান ও আদি ধামরাই মিষ্টান্ন ভাণ্ডার কারখানা পরিদর্শন করে মনিটরিং করা হয়েছে। কারখানাটিতে মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনার সময় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মিষ্টি তৈরি ও বিভিন্ন ধরনের আইন লঙ্ঘনের বিষয় দেখা যায়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কারখানাটি পরিদর্শন করেন। আইন লঙ্ঘন করে মিষ্টি তৈরির অভিযোগ পাওয়ায় নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটিকে ৩ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।’


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:১৬ পিএম

সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিউক) আওতা বাড়ানোর প্রস্তাবে গোলাপগঞ্জ ও বিশ্বনাথ উপজেলাকে অন্তর্ভুক্ত না করার আহ্বান জানিয়েছেন সিলেটের দুই সংসদ সদস্য। তাদের মতে, দূরের উপজেলা সিউকের আওতায় নেওয়া হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের নাগরিক সেবা পেতে সিলেট নগরে আসতে হতে পারে। এতে সময় ও অর্থ দুইয়েরই অপচয় হবে। 


আজ মঙ্গলবার দুপুরে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম ও অস্থায়ী কার্যালয়ের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত সুধী সমাবেশে তারা এ আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ, সরকারি কর্মকর্তা এবং দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক গুলজার আহমদ।


সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী বলেন, তিনি জানতে পেরেছেন, নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আওতা বাড়ানোর একটি পরিকল্পনা করা হয়েছে। সেই প্রস্তাবে গোলাপগঞ্জ উপজেলাকেও অন্তর্ভুক্ত করার কথা রয়েছে। 


তিনি আরও বলেন, ‘দায়িত্বশীলদের সামনেই বলছি, এই কর্তৃপক্ষের অধীনে আনার যে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে, সেখান থেকে গোলাপগঞ্জকে বাদ দিতে হবে। সিলেট সিটি করপোরেশন ও সদর এলাকার মানুষের সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দূরের কোনো উপজেলাকে যুক্ত করে সেখানকার নাগরিক সেবা ব্যাহত করার প্রয়োজন নেই।’ তাই গোলাপগঞ্জকে সিউকের সঙ্গে যুক্ত না করার আহ্বান জানান তিনি।


একই অনুষ্ঠানে সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেন, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কাজের পরিধি বাড়ানোর জন্য একটি পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। ওই পরিকল্পনায় তার সংসদীয় আসনের বিশ্বনাথ উপজেলার নামও রয়েছে। 


তিনি আরও বলেন ‘আমার আহ্বান থাকবে, এই সংস্থার সঙ্গে আমার সংসদীয় আসন বিশ্বনাথ উপজেলাকে যুক্ত করবেন না। বিশ্বনাথের নাগরিকদের যেন নাগরিক সেবা নিতে সিলেট শহরে আসতে না হয়, সেটিই তিনি চান। স্থানীয়ভাবে সেবা পাওয়ার সুযোগ থাকলে এতে মানুষের সময় ও অর্থ দুইই সাশ্রয় হবে।’


সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম ও অস্থায়ী কার্যালয়ের শুভ উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এই সুধী সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি, গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবদুল মালেক, জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক মোহাম্মদ বদরুজ্জামান সেলিম ও সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন প্রমুখ। 


অনুষ্ঠানে সিউকের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৭:৫৮ পিএম

নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন এবং গণহত্যার বিচারের দাবিতে হাজারো রোহিঙ্গার অংশগ্রহণে কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশাল সমাবেশ। 'ইউনাইটেড কাউন্সিল অব রোহিঙ্গা’ (ইউসিআর)-এর ব্যানারে মঙ্গলবার এই কর্মসূচি পালিত হয়।


সমাবেশে মিয়ানমারে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন, নাগরিকত্ব এবং মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হয়।


২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর থেকে শুরু হওয়া রোহিঙ্গা সংকটের ৯ বছর পূর্ণ হলো এই দিনে। এই দীর্ঘ সময়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাস্তবে টেকসই প্রত্যাবাসন সম্ভব হয়নি। 


সম্প্রতি মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাংলাদেশে থাকা রোহিঙ্গাদের মধ্য থেকে প্রায় ৩ লাখ ৯ হাজারকে রাখাইনের অধিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যাবাসন শুরু হবে না।




সংকটের ৯ বছর পূর্তি ও ‘জেনোসাইড ডে’ উপলক্ষে আজ উখিয়া-টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্পে বিশেষ সমাবেশ পালন করছেন রোহিঙ্গারা। নিজ দেশে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের দাবিতে সকাল থেকেই বিভিন্ন ব্লক থেকে নারী-পুরুষ ও শিশুরা ব্যানার-প্ল্যাকার্ড হাতে মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলের দিকে ছুটে যান। তাদের মুখে একই সুর 'আর নয় শরণার্থী জীবন, নিজ দেশে ফিরতে চাই।'


সমাবেশে আসা কয়েকজন রোহিঙ্গা জানিয়েছেন, নাগরিকত্বের স্বীকৃতি, নিরাপত্তার নিশ্চয়তা এবং নিজ ভিটেমাটিতে ফেরার অধিকার নিশ্চিত করেই তারা মাতৃভূমি রাখাইনে ফিরতে চান।


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:৪৫ পিএম

সিলেট নগরীর পরিকল্পিত উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিউক)। 


আজ মঙ্গলবার দুপুরে নগরীর নাইওরপুল এলাকার হোটেল ফরচুন গার্ডেনে সংস্থাটির অস্থায়ী কার্যালয়ের উদ্বোধন করা হয়। এসময় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, নতুন একটি সরকারি সংস্থার যাত্রা শুরু হওয়া সিলেটবাসীর জন্য আনন্দের বিষয়। সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে সরকারের অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের পাশাপাশি নগরের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।

সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অস্থায়ী কার্যালয়ের উদ্বোধন করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ও গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের। অনুষ্ঠানে সিলেটের বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা ও সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।


অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি আরো বলেন, সরকারি কাজ সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় থাকা জরুরি। সমন্বয়ের ঘাটতি থাকলে উন্নয়নকাজই অনেক সময় সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।


উন্নয়নকাজে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়হীনতার উদাহরণ তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, একটি সড়ক বা উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ করতে গিয়ে কখনো গ্যাসের লাইন কাটা হচ্ছে, আবার পরে সেখানে গ্যাসের লাইন বসাতে হচ্ছে। একইভাবে পানির পাইপ সরিয়ে আবার নতুন করে বসাতে হচ্ছে। এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে আন্তঃসংস্থা সমন্বয় (ইন্টার-এজেন্সি হারমনি) নিশ্চিত করা প্রয়োজন।


সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়টির দিকে বিশেষ নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যেন এ ধরনের সমন্বয়হীনতা তৈরি না হয়, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব নতুন এই সংস্থারও রয়েছে।


খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আরও বলেন, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সরকারের নির্ধারিত দায়িত্ব ও প্রত্যাশা পূরণ করবে এবং সিলেটের আগামী দিনের উন্নয়নে সহযোগী ভূমিকা পালন করবে। 


নতুন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদীর সভাপতিত্বে এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সিসিকের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট-৬ আসনের এমপি এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট-আসনের এমপি তাহসিনা রুশদি লুনা প্রমুখ। নগরীর নাইওর পুল সংলগ্ন হোটেল ফরচুন গার্ডেনে অস্থায়ী কার্যালয়ের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়াম্যান রেজউল হাসান কয়েস লোদী রোববার উদ্বোধন উপলক্ষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্টিত হয়।