সম্মেলনে ডা. জুবাইদা রহমান
ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক গ্লোবাল কোয়ালিশন সামিটে অংশ নিয়ে শিশুদের ভবিষ্যৎ গঠনে জোরালো বার্তা দিয়েছেন ডা. জুবাইদা রহমান। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ফার্স্ট লেডি ও রাষ্ট্রনেতাদের সহধর্মিণীদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই সম্মেলনে তিনি শিশুদের জন্য মানসম্মত শিক্ষা, সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপদে বেড়ে ওঠার পরিবেশ নিশ্চিত করতে বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান।
মঙ্গলবার ও বুধবার (২৪ ও ২৫ মার্চ) অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে বিশ্বের ৪০টিরও বেশি দেশের ফার্স্ট লেডি ও রাষ্ট্রনেতাদের সহধর্মিণীরা অংশ নেন। শিশুদের কল্যাণ, শিক্ষা ও সম্ভাবনা উন্নয়নে উচ্চপর্যায়ের এই সম্মেলনকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এতে অংশ নিতে দুই দিনের সরকারি সফরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানীতে অবস্থান করছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের আমন্ত্রণে ‘একসাথে ভবিষ্যৎ গড়া: গ্লোবাল কোয়ালিশন সামিট’ এ অংশ নিতে তার এই সফর।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ওয়ার্কিং সেশনে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, আজ এই ঐতিহাসিক ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার: গ্লোবাল কোয়ালিশন সামিট’ শীর্ষ সম্মেলনে আপনাদের সঙ্গে যোগ দিতে পারাটা আমার জন্য সম্মানের। আমি ফার্স্ট লেডিকে (মেলানিয়া ট্রাম্পকে) আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই, কারণ তিনি সারা বিশ্ব থেকে আমাদের এমন একটি মহৎ উদ্দেশ্যে একত্রিত করেছেন যা প্রতিটি জাতিকে স্পর্শ করে। আমাদের শিশুদের ভবিষ্যৎ ও সম্ভাবনা নিয়ে আমরা কথা বলছি। আমরা উপলব্ধি করি যে, প্রতিটি দেশের ভবিষ্যৎ সেই দেশের শিশুদের জীবনেই লেখা থাকে। আজ আমরা শিশুদের যেমন যত্ন করি, শিক্ষায় যে বিনিয়োগ করি এবং যে মূল্যবোধ গড়ে তুলি, তাই আগামী দিনে জাতিকে গড়ে দেবে।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, আমার দেশের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে এখানে এসেছি। আমার স্বামী, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে, আমাদের সদ্য নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রগতিশীল জাতি গঠনের লক্ষ্যে আমাদের সরকার ইতোমধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং ‘ফার্মার্স কার্ড’ এর মতো উদ্যোগ চালু করেছে, যা পরিবারগুলোকে আর্থিক সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে শক্তিশালী করে এবং শিশুদের নিরাপদ ও যত্নশীল পরিবেশে বেড়ে ওঠাও নিশ্চিত করে। একজন চিকিৎসক হিসেবে, আমি প্রতিটি শিশুর জন্য সহজলভ্য ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে গভীরভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ; যেখানে শুধু চিকিৎসার উপরই নয়, জীবনের একেবারে প্রাথমিক পর্যায় থেকে প্রতিরোধের উপরও জোর দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন-জেডআরএফ এবং ‘সুরভী‘র (সামাজিক এবং অলাভজনক সংগঠন) শিক্ষা, যুব উন্নয়ন এবং জনকল্যাণের প্রসারের কাজ আমার অঙ্গীকারকে আরও দৃঢ় করেছে। আমরা বিশ্বাস করি যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দায়িত্বশীল ব্যবহার শিক্ষাব্যবস্থাকে আমূল পরিবর্তন করতে পারে, বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো দেশ, যেখানে প্রশিক্ষিত শিক্ষক এবং উপকরণের সহজলভ্যতা এখনও অধরা। আমাদের সরকার ডিজিটালি উন্নতি করার জন্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়কেই প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দিয়ে সজ্জিত করছে। আমাদের সরকার শিক্ষকদের ট্যাবলেট কম্পিউটার সরবরাহ করছে, শিক্ষণ উপকরণ হালনাগাদ করছে, ডিজিটাল পাঠ্যক্রম এবং উদ্ভাবনী পদ্ধতি চালু করছে। শ্রেণিকক্ষগুলো মাল্টিমিডিয়ার ব্যবস্থা করছে, যা দলবদ্ধ কাজ, সৃজনশীলতা এবং আদর্শ স্থাপনে উৎসাহিত করছে।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, প্রযুক্তি, বিশেষ করে শিক্ষাপ্রযুক্তি (এডটেক), শহুরে ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে বৈষম্য কমাতে একটি কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে। একইসঙ্গে, আমরা এই সরঞ্জামগুলোর নিরাপদ ও নৈতিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যাতে শিশুরা একটি নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশে বেড়ে ওঠে। নারী ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের একটি শক্তিশালী ঐতিহ্য রয়েছে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া নারী অধিকারকে এগিয়ে নিয়েছিলেন এবং দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষা চালু করেছিলেন। আমাদের সরকার স্নাতকোত্তর স্তর পর্যন্ত নারীদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সরকারি খাতের ভিত্তি স্থাপন করে লাখ লাখ নারীর জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছেন। এই প্রচেষ্টাগুলো প্রমাণ করে, যখন নারীর ক্ষমতায়ন হবে, তখন পরিবারগুলো শক্তিশালী হয় এবং শিশুরা সমৃদ্ধি লাভ করে। আমরা অংশীদারিতের গুরুত্বও স্বীকার করি। বেসরকারি খাত এবং আমরা বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে নিরাপদ ডিজিটাল পরিসর প্রসারিত করতে, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিতে, অভিভাবকদের ক্ষমতায়ন করতে এবং সকলের জন্য শিক্ষার মান উন্নত করতে চাই। শক্তিশালী প্রযুক্তিগত সহযোগিতার মাধ্যমে আমরা প্রতিটি অঞ্চলকে সংযুক্ত করতে, প্রতিটি শিশুকে সুরক্ষিত করতে চাই। একসঙ্গে, আমরা এমন একটি প্রজন্ম গড়ে তুলতে পারি যা হবে সহনশীল, সহানুভূতিশীল এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত।
সমাপনী মন্তব্যে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, জ্ঞান বিনিময় এবং যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ, সমৃদ্ধ ও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব।
ছবি : সংগৃহীত
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, যুদ্ধের কারনে ফ্লাইট বিপর্যয়ে সৌদি আরবে নির্ধারিত সময়ে পৌঁছাতে না পারা এবং পরবর্তীতে আকামার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া বাংলাদেশি কর্মীরা পুনরায় দেশটিতে প্রবেশের সুযোগ পাবেন। তারা পরবর্তীতে যেতে পারলে ইলেকট্রনিক সিস্টেমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এন্ট্রি সম্পন্ন হবে এবং তারা প্রবেশের অনুমতি পাবেন।
আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর ইস্কাটন রোডের নিউ ইস্কাটনস্থ বিয়াম ফাউন্ডেশন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা জানান।
প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী বলেন, সরকার ও রিক্রুটিং এজেন্সি এক হয়ে কাজ করলে জনশক্তি রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব। কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় কমাতে হবে। ৩ লাখ টাকায় যেখানে যাওয়া সম্ভব, সেখানে ৭-৮ লাখ টাকা নেয়া অনুচিত। ব্যবসা হালাল উপায়ে পরিচালনা করুন এবং কর্মীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় থেকে বিরত থাকুন, যাতে সেই অর্থ তুলতে তুলতেই কর্মীদের সময় পার না হয়ে যায়।
তিনি জানান, কর্মীদের বিদেশ গমন প্রক্রিয়া সহজীকরণ ও ভিসার বৈধতা দ্রুত যাচাইয়ে বিএমইটিতে আধুনিক প্রযুক্তি চালুর কাজ চলছে। পাশাপাশি যেকোনো অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য উন্মুক্ত ইমেইল সেবা চালু ও প্রচারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
গন্তব্য দেশের আইনকানুন যথাযথভাবে মেনে চলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রচার-প্রচারণায় সরকারের পাশাপাশি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে।
অনুষ্ঠানে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. এনামুল হক চৌধুরী এবং গেস্ট অব অনার হিসেবে বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া উপস্থিত ছিলেন।
প্রতীকী ছবি
দেশে ২৪ ঘণ্টায় উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে নিশ্চিত হামে ১০৪ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ১২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে হামে ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৩৩ জনে। সোমবার (২৬ অক্টোবরর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, রোববার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গ নিয়ে ঢাকা বিভাগেই ৩ জন মারা গেছেন। এ সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ৪৬৬ জন রোগী এসেছে।
বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে ৫৫৯ জন, রাজশাহীতে ৩২, সিলেটে ১৫৭ , চট্টগ্রামে ৩১১ জন, বরিশালে ১৩৪, ময়মনসিংহে ৮৮, খুলনায় ১২২, এবং রংপুরে ৬৩ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৯৭ হাজার ৯৯৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৯০ হাজার ৩৬ জন চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে।
গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে সন্দেহজনক হামের রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২২ হাজার ৫২২ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছেন ২৩ হাজার ৪৭৮ জন।
স্যাটেলাইট চিত্রে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণবের’ শক্তভাবে পেঁচানো মেঘের স্তর। একটি সুষ্পষ্ট কেন্দ্রীয় ঘূর্ণন দেখা যাচ্ছে। (ছবি: ইন্ডিয়া টুডে)
বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি ঘণীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এ পরিণত হয়েছে। এটি পূর্বমধ্য বঙ্গোপসাগর ও আশেপাশের এলাকায় অবস্থান করছে। আজ সোমবার আবহাওয়ার ৬ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এটি আজ সকাল ৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৮২০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ৭৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল।
ঘূর্ণিঝড়টি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আজ মধ্যরাত নাগাদ পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। পরবর্তীতে উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় আকারে বুধবার ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে।
চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক বলেন, ঘূর্ণিঝড়টির বাংলাদেশের দিকে আসার আশঙ্কা খুব কম। এটির অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে যাওয়ার আশঙ্কা বেশি। যদিও বাংলাদেশের ওপর এর প্রভাব একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করে এ অঞ্চলের ১৩টি দেশ। জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার আঞ্চলিক প্যানেলের সদস্য দেশগুলো হলো– বাংলাদেশ, ভারত, ইরান, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, ওমান, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইয়েমেন। এসব দেশের প্রস্তাবিত নামের তালিকা থেকে পর্যায়ক্রমে ঘূর্ণিঝড়ের নাম নির্ধারণ করা হয়। তালিকা অনুযায়ী, পরবর্তী ঘূর্ণিঝড়ের নাম ‘অর্ণব’। নামটি বাংলাদেশের প্রস্তাব করা, যার অর্থ সাগর। তবে বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে সক্রিয় দুটি লঘুচাপের মধ্যে যেটি আগে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেবে, সেটিই এই নাম পাবে।
এর পরের নাম ‘মুরাসু’, যা প্রস্তাব করেছে ভারত। তামিল ভাষায় মুরাসু বলতে ঐতিহ্যবাহী ঢোল বা ডঙ্কাকে বোঝায়। ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের উদ্দেশ্য পূর্বাভাস, সতর্কবার্তা ও জনসাধারণের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান সহজ করা। একই সময়ে একাধিক ঘূর্ণিঝড় সক্রিয় থাকলে নামের মাধ্যমে সেগুলো আলাদা করে শনাক্ত করা যায়।
চার দিন বৃষ্টির আভাস
এদিকে আজ সোমবার চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু'এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।
মঙ্গলবার খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের দুই-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।
বুধবার রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দুই-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
বৃহস্পতিবার রংপুর, রাজশাহী এবং খুলনা বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং ঢাকা, ময়মনসিংহ, সিলেট, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে দেশের কোথাও কোথাও ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।
জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও মৈত্রী লীগের সভাপতি তারো আসো ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও প্রযুক্তি হস্তান্তর জোরদারে সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার জাপানের স্থানীয় সময় বেলা ৩টায় জাপান-বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী লীগের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এ সহযোগিতা চান। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও মৈত্রী লীগের সভাপতি তারো আসো। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন এ তথ্য জানান। সাক্ষাতে দুই দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন উভয় পক্ষ।
উপপ্রেস সচিব জানান, জাপান-বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী লীগের নেতৃত্ব দিয়ে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদারে অব্যাহত অবদানের জন্য তারো আসোকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২০০৬ সালে বিএনপির তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে জাপান সফরের সময় তারো আসোর সঙ্গে সাক্ষাতের স্মৃতিচারণ করেন। এ সময় তারো আসো বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার সাক্ষাতের কথাও স্মরণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, উপপ্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকাকালে তারো আসো বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে ইতিবাচক ও গঠনমূলক ভূমিকা রেখেছেন। বাংলাদেশের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সম্পৃক্ততা দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।
সাক্ষাতে জাপান-বাংলাদেশ সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তারো আসো বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যার বড় একটি অংশ তরুণ। দেশে বর্তমানে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে, যা বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। এ পরিস্থিতিতে জাপানি কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগে অত্যন্ত আগ্রহী।
তারেক রহমান বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে তার সরকার বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে কিছু আইনি পরিবর্তনও আনা হচ্ছে। শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে সরকারের নেওয়া উদ্যোগের কথাও বৈঠকে তুলে ধরেন।
বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষরের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তি হস্তান্তর জোরদারে তারো আসোর সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার বাস্তবায়ন ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে জাপানের অব্যাহত সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
সাক্ষাতে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক) ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, গবেষণা কর্মকর্তা মো. আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী এবং প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
জাপানের প্রতিনিধিদলে তারো আসোর সঙ্গে ছিলেন দেশটির সাবেক মন্ত্রী ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ইয়াসুতোশি নিশিমুরা, ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী তাতসুনোরি ইবায়াশিসহ দেশটির সংসদের জ্যেষ্ঠ সদস্যরা।
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির
সরকার অনুমোদন দিলে প্রয়োজনে ক্রসফায়ার করতেও পুলিশ পিছপা হবে না বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। সোমবার (২৬ অক্টোবর) চকবাজার ‘কমিউনিটি ইসলামিক ব্যাংক সিস্টেম’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ কথা জানান তিনি।
সুখে-শান্তিতে বসবাস নিশ্চিত করতে পুলিশের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, স্বাধীনতা রয়েছে বলে কেউ যা ইচ্ছা তা করতে পারেন না।
আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যেকোনো ঘটনায় কথায় কথায় পুলিশের ওপর দায় চাপানোও সমীচীন নয়।
আইজিপি আরও বলেন, পাড়া-মহল্লায় মাদকের বিস্তার ও মাদক কারবারের সঙ্গে পতিত আওয়ামী লীগের পাশাপাশি পুলিশের কিছু সদস্যের জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
তিনি জানান, এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অংশ হিসেবে গত দুই মাসে ২৭ জন পুলিশ সদস্যকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
প্রতীকী ছবি
বঙ্গোপসাগরের গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে। এটির নাম অর্ণব, যা বাংলাদেশের দেওয়া। ঝড়ের কেন্দ্রে বাতাসের গতিবেগ উঠে যাচ্ছে ঘণ্টায় ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত। সোমবার (২৬ অক্টোবর) এমন তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, পূর্বমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘণীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড় “অর্ণব”-এ পরিণত হয়ে বর্তমানে পূর্বমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় (১৫.৪° উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৯.০° পূর্ব দ্রাঘিমাংশ) অবস্থান করছে।
এটি আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ০৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৮২০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৪৫ কি.মি. দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ৭৮৫ কি.মি. দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৪৫ কি.মি. দক্ষিণে অবস্থান করছিল।
ঘূর্ণিঝড়টি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আজ সোমবার মধ্যরাত নাগাদ পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। পরে উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় আকারে আগামী ২৮ অক্টোবর ভারতের অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কি.মি. এর মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কি.মি., যা দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কি.মি. পর্যন্ত বাড়ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে।
এ অবস্থায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ০১ (এক) নম্বর (পুনঃ) ০১ (এক) নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে ০২ (দুই) নম্বর পুনঃ ০২ (দুই) নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।