প্রতীকী ছবি
দাম বাড়িয়ে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১০০ থেকে বাড়িয়ে ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১১২ থেকে বাড়িয়ে ১৩০ টাকা, অকটেন ১২০ থেকে বাড়িয়ে ১৪০ টাকা এবং পেট্রলের দাম ১১৬ থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার। নতুন দাম রোববার থেকে কার্যকর হয়েছে। একইসঙ্গে রোববার থেকে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দামও বাড়ানো হয়েছে। প্রতি কেজিতে বেড়েছে ১৭ টাকা ৬২ পয়সা। বাজারে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের নতুন দাম ১ হাজার ৭২৮ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৯৪০ টাকা। অর্থাৎ ১২ কেজিতে দাম বাড়ল ২১২ টাকা। চলতি মাসে এ নিয়ে দুবার দাম বাড়ানো হলো।
এবার দেখা যাক, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি আপনার–আমার সবার জীবনে কীভাবে প্রভাব ফেলবে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি মানেই আপনার খরচের খাতা নিরবে ফুলেফেঁপে উঠবে। জীবনযাত্রার প্রায় প্রতি পদে পদে খরচ বাড়বে। নিত্যপণ্যের দাম বাড়বে, যাতায়াতের খরচ বাড়বে। এর ফলে মাসের শেষে খরচের খাতার হিসাব মেলাতে গিয়ে বোঝা যায়, এর প্রভাবটা কতটা গভীরে গেছে। ফলে সীমিত ও মধ্যবিত্তের ওপর চাপ বাড়ে, পকেটের টাকা দ্রুত ফুরায়।
বাড়তি খরচ হবে যাতায়াতে
অকটেন, পেট্রল ও ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে প্রথমেই যাতায়াতের খরচ বাড়বে। বাসভাড়া, উবার-পাঠাওয়ের মতো রাইড শেয়ারিংয়ের ভাড়া বাড়িয়ে দেবেন মালিকেরা। শেষে রিকশাভাড়াও বাড়বে। ধরা যাক, আগে অফিসে যাওয়া-আসা করতে দিনে ১০০ টাকা ভাড়া লাগত। তেলের দাম বাড়ার পর সেটি দাঁড়াল ১৩০–১৪০ টাকা, মাসে অতিরিক্ত ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা খরচ বাড়বে।
পণ্যের দাম বাড়বে
জ্বালানি তেলের কারণে পণ্য পরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধি পাবে। ইতিমধ্যে ট্রাকভাড়া বাড়তে শুরু করেছে। তাই বাজারে পণ্যের দাম বাড়বে, এটাই স্বাভাবিক। ইতিমধ্যে শাকসবজির দাম বাড়তে শুরু করেছে। ডিজেলচালিত সেচেও খরচ বাড়বে। ফলে চালের দামও বাড়তে পারে। এর ফলে বাজার থেকে আগের চেয়ে বেশি দামে পণ্য কিনতে হবে।
বাড়বে বিদ্যুৎ বিল
ডিজেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ বাড়বে। এতে বিদ্যুতের উৎপাদনমূল্য বাড়বে। ফলে সরকার ভর্তুকি কমাতে বিদ্যুতের ইউনিটপ্রতি দাম বাড়াতে পারে। যদি বিদ্যুতের দাম বাড়ায়, তাহলে মাস শেষে আপনার খরচ বাড়বে। বেশি বিদ্যুৎ বিল দিতে হবে। যেমন আগে মাসে ১ হাজার ৫০০ টাকা বিল এলে তা বেড়ে ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায় যেতে পারে, যা সংসারের খরচ বাড়াবে।
বাড়িভাড়া বাড়তে পারে
বাজারে জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাসের দাম বাড়লে বাড়িওয়ালারা বাড়িভাড়া বাড়ানোর অজুহাত তৈরি করেন। এতে আপনার খরচ বাড়বে। যেমন ১০ হাজার টাকার ভাড়া বাড়িয়ে ১১ হাজার টাকা করার কথা শুনতে হতে পারে ভাড়াটিয়াকে।
রেস্টুরেন্ট-ফাস্টফুডে খাওয়ার খরচ বাড়বে
প্রতি মাসে পরিবার-পরিজন নিয়ে রেস্টুরেন্ট বা ফাস্টফুডে খেতে যান। এবার কিন্তু সেখানে খরচ বাড়তে পারে। কারণ, এলপিজির দাম বেড়েছে। সাধারণত রেস্টুরেন্টে এলপিজি ব্যবহার করা হয়। তাই খাবারের দাম বাড়িয়ে দেবেন মালিকেরা। এতে আপনার খাবারের বিলও বাড়বে। আগে ১০০ টাকার খাবার এখন ১২০ থেকে ১৩০ টাকা হতে পারে। পরিবার নিয়ে মাসে দুবার খেলে অতিরিক্ত ২০০ থেকে ৩০০ টাকা খরচ।
ডেলিভারি চার্জ বেড়ে যায়
অনলাইনে খাবার বা পণ্য অর্ডার করলে ডেলিভারি চার্জ ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে যায়। মাসে ৮–১০ বার অর্ডার করলে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বাড়তি যায়। কিন্তু এখন ডেলিভারি চার্জ বাড়তে পারে, কারণ, যাতায়াতের খরচ বাড়ছে।
টান পড়বে সঞ্চয়ে
সার্বিকভাবে খরচ বেড়ে যাওয়ায় আপনার সঞ্চয়ে টান পড়তে পারে। যেমন আগে মাসে পাঁচ হাজার টাকা সঞ্চয় করতেন। এখন বাড়তি খরচ সামলে হয়তো তা দুই থেকে তিন হাজার টাকায় নেমে আসতে পারে।
ঘাটতি মেটাতে মাস শেষে ধারদেনা হতে পারে
তেলের মূল্যবৃদ্ধিসহ অন্যান্য কারণে সংসার খরচের চাপ সামাল দিতে মাস শেষে সীমিত ও মধ্যবিত্তের হিমশিম খেতে হয়। ফলে তাদের ধারদেনা করে চলতে হয়। আগে যেখানে মাস শেষে দুই থেকে তিন হাজার টাকা হাতে থাকত, এখন সেখানে শূন্য খাতা কিংবা ঋণের খাতায় যুক্ত হয়।
এদিকে বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্ববাজারে তেলের দাম অনেক বেড়ে যাওয়ার কারণে শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামালের দাম এর মধ্যেই অনেকাংশে বেড়েছে। ফলে বাংলাদেশের বাজারেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। এমনকি দেশে উৎপাদিত ভোগ্যপণ্যসহ বেশ কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। আবার কাঁচামালের পাশাপাশি বিদেশ থেকে পণ্য আনা এবং দেশে উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করার জন্য পরিবহন খরচও বেড়েছে।
জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামান
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সরকারি কাজে বাধা ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে করা মামলায় জামিন পেয়েছেন জামায়াত নেতা ও সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান।
এক জামিন আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি জাকির হোসেন সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রোববার এ আদেশ দেন। আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।
এর আগে ৪ অক্টোবর রিমান্ড শেষে আখতারুজ্জামানকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করা হয়। সেদিন তার জামিন আবেদন করা হলে শুনানি শেষে তা খারিজ করেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
পরে হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন তার আইনজীবী। ২ অক্টোবর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি নিয়ে অব্যবস্থাপনা, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা এবং দায়িত্ব পালনরত এক নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন, বিক্ষোভ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় সৃষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার সন্ধ্যা ৬টায় সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে এ বৈঠক শুরু হয়।
বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন এবং বিএনপির শ্রমিক সংগঠন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।
এর আগে রোববার দুপুর ১টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। এ সময় পোশাকশিল্পে চলমান শ্রমিক অসন্তোষ ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন তিনি। শ্রমিকদের আন্দোলনের মধ্যে নিজের সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরও বাতিল করেছেন শ্রমমন্ত্রী।
রোববার সকালে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দেন আরিফুল হক চৌধুরী।
তিনি বলেন, সরকার আগেই সংবাদমাধ্যম এবং শ্রমিক ও মালিকপক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় রোববার মজুরি বোর্ড গঠনের কথা জানিয়েছিল। এরপরও শ্রমিকদের সড়কে অবস্থানের কারণে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি আন্দোলনরত শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান।
এদিকে ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রোববার সকাল থেকে রাজধানীর মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ করেন পোশাকশ্রমিকেরা। মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ পরে মিরপুর-১১, ১২ ও আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রায় দুপুর দুইটা পর্যন্ত সংঘর্ষ চলে। এ সময় পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়।
এ ছাড়া গাজীপুর, ঢাকার সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলেও শ্রমিকদের বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার মধ্যে ওইসব এলাকার প্রায় ৩০০ কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
রোববার এক সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার পুনর্ব্যবহাযোগ্য জ্বালানিতে গুরুত্ব দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
রোববার (১ নভেম্বর) রাজধানীর এক পাঁচ তারকা হোটেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যেগে আয়োজিত ‘সাইন্স পলিসি ডায়লগ অন ব্ল্যাক কার্বন অ্যান্ড আদার শর্ট লাইভড ক্লাইমেট পল্যুটেন্টস’ — শীর্ষক এক সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মাহদী আমিন বলেন, অতীতের নীতির কারণে জ্বালানি খাতে আমাদের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে আমরা জ্বালানির উৎস বহুমুখী করতে চাই। সরকার পুনর্ব্যবহারযোগ্য জ্বালানিতে গুরুত্ব দিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সৌরবিদ্যুৎকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনের প্রকল্পও চালু আছে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে তেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশবান্ধব যানবাহনের ব্যবহার বাড়ানো। এ কারণে নতুন যেসব প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে, সেগুলোতে বৈদ্যুতিক যানবাহনকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক খাল খনন কর্মসূচি ও খালেদা জিয়ার সিএনজির মতো পরিবেশবান্ধব যানবাহন চালুর উদ্যেগের কথা উল্লেখ করে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, জলবায়ু সহনশীলতা বাড়াতে কার্যকর নীতি প্রণয়নে বিএনপির সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্য রয়েছে। এ ছাড়া প্লাস্টিক ও পলিথিন নিষিদ্ধকরণ এবং পাটজাত ও পরিবেশবান্ধব পণ্যের প্রসারেও উদ্যোগ নিয়েছিল বিএনপি সরকার।
বিগত বিএনপি সরকারের সময়েও দেশব্যাপী সাপ্তাহিক, মাসিক ও বার্ষিক ভিত্তিতে বৃক্ষরোপন কর্মসূচি ও বৃক্ষমেলার আয়োজন করা হয়েছে উল্লেখ করেন তিনি আরও বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমরা সেই সংস্কৃতিকে আবার নতুন করে ফিরিয়ে আনতে ও আরও বিকশিত করতে চাই।
মাহদী আমিন বলেন, আমরা সবাই এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে উন্নয়নের নামে প্রকৃতি ধ্বংস করা হবে না; বরং প্রকৃতিকে সংরক্ষণ করা হবে।
এ সময় তিনি আরও বলেন, আমরা এমন প্রকল্প ও উন্নয়ন কার্যক্রম হাতে নিতে চাই, যেখানে পরিবেশ সংরক্ষণকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। কারণ, আগামীর বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রাণ, প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য নিশ্চিত করতে হবে।
শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বিশুদ্ধ ও নির্মল বাতাসে নিঃশ্বাস নিতে পারবে। আর সে জন্য আমাদেরকে বহুমুখী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পরিবেশবান্ধব কার্যক্রমগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, পদ্মা ব্যারেজ ও তিস্তা ব্যারেজের মহাপরিকল্পনার মাধ্যমে আমরা জলাধার তৈরি করতে চাই। এর ফলে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ধরে রাখা ও পানিসম্পদের ব্যবস্থাপনা আরও সহজ হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক আব্দুস সালাম ও স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ওরজান গুসটাফসোনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন— পরিবেশ, বন ও জলবায়ু প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক ড. এ এস এম আব্দুল আওয়াল ও সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস প্রমুখ।
শপথগ্রহণ করছেন পিএসসির নবনিযুক্ত সদস্য অধ্যাপক ড. শামীমা সুলতানা
প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) নবনিয়োগপ্রাপ্ত সদস্য অধ্যাপক ড. শামীমা সুলতানাকে শপথ বাক্য পাঠ করিয়েছেন। আজ রোববার বিকাল ৩টায় সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলামের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। শপথ গ্রহণের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নবনিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে তিনি পিএসসির সদস্য পদে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী।
শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান ও সদস্য, আমন্ত্রিত অতিথি ও সুপ্রিম কোর্ট রেজিস্ট্রির কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ছবি : সংগৃহীত
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯২৯ জন। রোববার (১ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট ৪২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে অক্টোবরেই মারা গেছেন ১৭৪ জন। এছাড়া সেপ্টেম্বরে ১৪৮ জন, আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
বুলেটিনে বলা হয়, শনিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ১৯২৯ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৯২৯ জনে এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১ লাখ ৩০ হাজার ৩৮৮ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে, ৮৩১ জন। এছাড়া চট্টগ্রামে ২৫৭ জন, খুলনায় ২৫৯ জন, বরিশালে ২২৯ জন, রাজশাহীতে ১৮৫ জন, ময়মনসিংহে ৯২ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
প্রতীকী ছবি
দেশে গত একদিনে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ২ জনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও রোগটির উপসর্গ নিয়ে মোট ১ হাজার ২৫৪ জনের মৃত্যু হল। এর মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ১ হাজার ১৪৯ জন। মারা যাওয়া বাকি ১০৫ জনের হাম শনাক্ত হয়েছিল।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোববারের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত শনিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে সিলেট এবং চট্টগ্রাম বিভাগে একজন করে মারা গেছে।
এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৫১১ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এরপর সিলেট বিভাগে ২০২ জন, চট্টগ্রামে ১১১, রাজশাহীতে ৯৩, ময়মনসিংহে ৮৯, বরিশালে ৬৮, খুলনায় ৫৭ ও রংপুর বিভাগে ১৭ জন মারা গেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে অন্তত ৬৮ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। এ সময় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ২৫৫ জন। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৪৮০ জন, চট্টগ্রামে ২৬৪, সিলেটে ১২৬, বরিশালে ১২৬, খুলনায় ৮৯, ময়মনসিংহে ৮১, রংপুরে ৫১ ও রাজশাহীতে ৩৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে শনিবার পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২ লাখ ৪ হাজার ৭৮৩ জন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছে ১ লাখ ৯৬ হাজার ১৮৩ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গত ১৫ মার্চ থেকে হাম ও এর উপসর্গে আক্রান্ত এবং মৃত্যুর হিসাব রাখে। যদিও হাসপাতালে আসা সব রোগী কিংবা হাসপাতালের বাইরে থাকা সব রোগীর হাম পরীক্ষা হয় না। ফলে হাম শনাক্ত হওয়া রোগীর প্রকৃত সংখ্যা জানা কঠিন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে শুধু হাসপাতালে আসা ও ভর্তি হওয়া রোগীদের তথ্যই নথিভুক্ত করা হয়।