অনুমোদন পেল পদ্মা ব্যারাজ

  • প্রকাশ : বুধবার ১৩ মে, ২০২৬, সময় : ৫:১৯ এএম

কয়েক দফা পেছানোর পর অবশেষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পেলো পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প। 


প্রকল্পের মোট প্রস্তাবিত ব্যয় ৩৩ হাজার ৪৭৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদী, কৃষি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় দীর্ঘদিনের সংকট নিরসনে বড় উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা নদীর পানি সংরক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করে স্বাদু পানির প্রবাহ ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। 


জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০৩৩ মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। আজ বুধবার (১৩ মে) সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একনেক সভায় মোট ১৬টি প্রকল্প উপস্থাপন করা হয়। 


এর মধ্যে ১১ নম্বর কার্যতালিকায় রাখা হয়েছিল পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প। এর আগে প্রকল্পটি কয়েক দফা একনেক সভায় উপস্থাপন করা হয়েছিল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় প্রকল্পটি একনেক সভায় উপস্থাপন করা হলেও অনুমোদন দেওয়া হয়নি।


একনেক সভায় উপস্থিত থাকা একজন কর্মকর্তা বলেন, পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।


সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রায় ৩৭ শতাংশ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে, কমবে লবণাক্ততা, প্রাণ ফিরে পাবে মৃতপ্রায় নদীগুলো-একই সঙ্গে কৃষি, মৎস্য ও পরিবেশে আসবে ইতিবাচক পরিবর্তন।


শুষ্ক মৌসুমে গঙ্গার ৩৫ থেকে ৪০ হাজার কিউসেক পানি ভাগীরথী-হুগলি নদীতে প্রবাহিত করার জন্য এবং দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের সঙ্গে সংযুক্ত কলকাতা বন্দরের নাব্য উন্নত করার জন্য ১৯৭৫ সালে পশ্চিমবঙ্গে ফারাক্কা ব্যারাজ নির্মাণ করে ভারত। 


ফারাক্কা ব্যারাজের উজানে পানি প্রত্যাহারের ফলে বাংলাদেশে পদ্মা নদীর প্রবাহ মারাত্মকভাবে কমেছে এবং দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের হিসনা-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতি, চন্দনা-বারাশিয়া, ইছামতি ও বড়াল নদী শুকিয়ে গেছে।


ফারাক্কা ব্যারাজের নেতিবাচক প্রভাব থেকে বাংলাদেশকে বাঁচাতে প্রথম পর্যায়ে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প হাতে নিচ্ছে সরকার। এ প্রকল্পটি সার্বিকভাবে বাস্তবায়ন করতে ৫০ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা ব্যয় হবে বলে জানিয়েছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। 


পদ্মা বাঁধ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা নদীর পানি সংরক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের নদী ব্যবস্থায় স্বাদু পানির প্রবাহ নিশ্চিত করা। তবে, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে ভারতের ফারাক্কা ব্যারাজ সংক্রান্ত ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায়। ১৯৯৬ সালে হওয়া গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে।


সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সত্তরের দশকে ভারত পশ্চিমবঙ্গে ফারাক্কা ব্যারাজ নির্মাণের মাধ্যমে পদ্মা নদী থেকে পানি প্রত্যাহার করার ফলে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশ অংশে পদ্মার স্বাভাবিক প্রবাহ মারাত্মকভাবে কমেছে। ফলে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদী-খালগুলোতে লবণাক্ততার মাত্রা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে, যা কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন, বনায়ন, নৌ-চলাচল, সুপেয় পানির প্রাপ্যতা এবং সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যসহ সামগ্রিক ইকোসিস্টেমের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।


পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের উদ্দেশ্য


বৃহত্তর কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, ফরিদপুর, রাজশাহী, পাবনা ও বরিশাল জেলার বিস্তৃত অঞ্চলের জন্য পদ্মা নদী ভূ-উপরিস্থ সুপেয় পানির একমাত্র উৎস হওয়ায় এ অঞ্চলের উন্নয়ন পদ্মার পানির যথাযথ ব্যবস্থাপনার ওপর নির্ভরশীল। পদ্মা নদীতে প্রবাহিত পানি বর্ষা পরবর্তীসময়ে সংরক্ষণ এবং শুষ্ক মৌসুমে নিয়ন্ত্রিত প্রবাহই এ সমস্যা সমাধানের একমাত্র উপায়। 


এ প্রেক্ষাপটে পদ্মা নদীতে রাজবাড়ীর পাংশা এলাকায় একটি বাঁধ নির্মাণ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য স্থানে আনুষঙ্গিক অবকাঠামো নির্মাণের জন্য আলোচ্য প্রকল্পের স্থান নির্বাচন করা হয়েছে।


সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রকল্পটি মোট ৫০ হাজার ৪৪৩ কোটি ৬৪ লাখ ৫২ হাজার টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০৩৩ মেয়াদে বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়েছিল। 


তবে সম্পূর্ণ প্রকল্পটি এক ধাপে বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অর্থায়নের সংস্থান, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং তদারকি/সমন্বয়ে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টির ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব ও ব্যয় বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাছাড়া, প্রকল্পে প্রস্তাবিত বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ পরবর্তী সংশ্লিষ্ট নদী সিস্টেম জলাধার থেকে প্রাপ্ত প্রবাহের সঙ্গে হাইড্রোলোজিক্যাল ও মরফোলজিক্যালভাবে ধীরে ধীরে অভিযোজিত হবে। ফলে খননসহ সংশ্লিষ্ট কাজগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করার সুযোগ রয়েছে বিধায় প্রকল্পের কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা বাস্তবসম্মত হবে।


এ প্রেক্ষাপটে প্রকল্পটি দুটি পর্যায়ে বিভক্ত করে বাস্তবায়নের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে সুপারিশ করেছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নকারী সংস্থা বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। এজন্য প্রথম ধাপে ৩৩ হাজার ৪৭৪ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে।


পাউবো জানায়, প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে ব্যারাজের মূল অবকাঠামো নির্মাণসহ হিসনা-মাথাভাঙ্গা নদী সিস্টেম ও গড়াই-মধুমতি নদী সিস্টেম পুনর্খনন এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রয়োজন অনুযায়ী বাস্তবায়নযোগ্য অতিরিক্ত/সহায়ক অবকাঠামো এবং অবশিষ্ট নদী সিস্টেমগুলোর (চন্দনা-বারাশিয়া, বড়াল ও ইছামতি নদী সিস্টেম) পুনরুদ্ধার কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। 


এছাড়া, প্রথম পর্যায়ে মূল ব্যারাজ ও গড়াই অফটেক স্ট্রাকচারে দুটি হাইড্রো-পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপনের সংস্থান রাখা হয়েছে, যার মাধ্যমে বিনা জ্বালানিতে প্রায় ১১৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে।


প্রকল্পটির প্রথম পর্যায় বাস্তবায়নের ফলে সংশ্লিষ্ট নদী সিস্টেম খনন এবং প্রবাহ বৃদ্ধির সম্মিলিত প্রভাবে সুন্দরবনসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রকল্প এলাকার লবণাক্ততার অনুপ্রবেশ হ্রাসসহ জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধার এবং নদী ফলস্বরূপ, এ অঞ্চলের কৃষি, মৎস্য, বনায়ন, নৌচলাচল, গার্হস্থ্য পানির প্রাপ্যতা এবং ইকো-সিস্টেম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 


তাছাড়া স্বাদু পানির প্রবাহ হ্রাসের কারণে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াসহ শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোর নদী এবং খালগুলোতে লবণাক্ততার উচ্চ ঘনত্বের কারণে এলাকার জনসাধারণের জীবন ও জীবিকা প্রতিনিয়ত গুরুতর হমকির সম্মুখীন হচ্ছে।


নদীর সিস্টেম পুনরুজ্জীবিত করা


নদীর সিস্টেম বলতে বোঝায় একটি প্রধান নদীর সঙ্গে যুক্ত তার শাখা নদী, উপনদী, খাল, বিল, জলাধার ও পানিপ্রবাহের পুরো নেটওয়ার্ক। পদ্মা ব্যারাজের মাধ্যমে হিসনা-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতি, চন্দনা-বারাশিয়া, বড়াল ও ইছামতি পাঁচটি নদীর সিস্টেম পুনরুজ্জীবিত করা হবে। 


বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে (সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাট জেলা) লবণাক্ততার অনুপ্রবেশ হ্রাস; স্বাদু পানি সরবরাহ নিশ্চিত করে সুন্দরবন ইকোসিস্টেমের ভারসাম্য পুনরুদ্ধার, জীববৈচিত্র্য ও বনসম্পদ সংরক্ষণ করা হবে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদীগুলোর পলি অপসারণ করে যশোরের ভবদহসহ অন্যান্য এলাকার জলাবদ্ধতা হ্রাস ও পদ্মানির্ভর এলাকার নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে।


পদ্মানির্ভর এলাকার প্রধান পাঁচ নদী-সিস্টেম পুনরুজ্জীবিতকরণের পাশাপাশি নদী পুনর্খনন ড্রেজিং ও রেগুলেটর দেওয়া হবে।


কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে মৃতপ্রায় হিসনা নদী পুনরুদ্ধার করে ‘হিসনা অফটেক’ নির্মাণ করা হবে। এটা ভারত সীমান্ত থেকে প্রায় ১৯ কিলোমিটার দূরে। রাজবাড়ীর পাংশায় চন্দনা অফটেক হবে। এটা ভারত সীমান্ত থেকে প্রায় ৬৭ কিলোমিটার দূরে। কুষ্টিয়ায় গড়াই অফটেক নির্মাণ হবে, ভারত সীমান্ত থেকে যেটি প্রায় ৫৭ কিলোমিটার দূরে।


প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে হিসনা-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতি, চন্দনা-বারাশিয়া এবং জি-কে সেচ প্রকল্পে প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। পদ্মার মতো বড় নদীর ক্ষেত্রে পরবর্তীতে হাইড্রো-মরফোলজিক্যাল অবস্থার পরিবর্তন অস্বাভাবিক নয় বিধায় প্রকল্প বাস্তবায়নকালে এর গতি-প্রকৃতি পরিবর্তিত হতে পারে।


এ প্রেক্ষাপটে নদীগুলোর হাইড্রো-মরফোলজিক্যাল অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নকালে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সমীক্ষা হালনাগাদ করার প্রয়োজন হতে পারে। সে কারণে ডিপিপিতে কিছু পরামর্শক সেবার সংস্থান রাখা হয়েছে।


পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রম


রাজবাড়ী জেলার পাংশা পয়েন্টে ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ ব্যারাজ নির্মাণ করা হবে। এতে থাকবে ৭৮টি স্পিলওয়ে গেট (প্রতিটির প্রস্থ ১৮ মিটার), ১৮টি আন্ডার স্লুইসগেট, ১৪ মিটার প্রশস্ত একটি নেভিগেশন লক, দুটি ২০ মিটার প্রশস্ত ফিস পাস এবং ব্যারাজের ওপর দিয়ে একটি রেলওয়ে সেতু। পাশাপাশি প্রায় ১১৩ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।


গড়াই অফটেক এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো ১৫টি স্পিলওয়ে, ফিস পাস, নেভিগেশন লক, গাইড বাঁধ, অ্যাপ্রোচ এমব্যাঙ্কমেন্ট ইত্যাদি করা হবে। চন্দনা অফটেক অবকাঠামোতে চারটি স্পিলওয়ে নির্মাণ হবে। হিসনা অফটেক অবকাঠামোতে পাঁচটি স্পিলওয়ে হবে।


পদ্মা ব্যারাজ সংশ্লিষ্ট ইলেকট্রিক ওয়ার্কস এবং হাইড্রো পাওয়ার প্ল্যান্ট নির্মাণের ফলে ৭৬ দশমিক ৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ মিলবে। গড়াই অফটেক সংশ্লিষ্ট ইলেকট্রিক ওয়ার্কস এবং হাইড্রো পাওয়ার প্ল্যান্ট নির্মাণে ৬ দশমিক ৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ মিলবে। 


গড়াই-মধুমতি নদী ড্রেজিং হবে, ১৩৫ দশমিক ৬০ কিলোমিটার খনন হবে। হিসনা নদী সিস্টেমে নিষ্কাশন পুনর্খনন হবে ২৪৬ দশমিক ৪৬ কিলোমিটার। এফ্ল্যাক্স বাঁধ নির্মাণ হবে ১৮০ কিলোমিটার।


পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের এলাকা


পদ্মা ব্যারাজের মোট প্রকল্প এলাকা বাংলাদেশের মোট এলাকার প্রায় ৩৭ শতাংশ, যা দেশের চারটি বিভাগের ২৬টি জেলার ১৬৩টি উপজেলায় বিস্তৃত। তবে প্রকল্পটির প্রথম পর্যায়ের কার্যক্রম বাস্তবায়নের ফলে দেশের চারটি বিভাগের ১৯টি জেলার ১২০টি উপজেলা উপকৃত হবে।


খুলনা বিভাগের কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, মাগুরা, যশোর, নড়াইল, বাগেরহাট, খুলনা ও সাতক্ষীরা, ঢাকা বিভাগের রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ, রাজশাহী বিভাগের পাবনা, রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং বরিশাল বিভাগের পিরোজপুর জেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। চারটি বিভাগের ১৯টি জেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে।


পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের লক্ষ্যমাত্রা


প্রকল্পের আওতায় শুষ্ক মৌসুমে প্রায় দুই হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনমিটার পানি সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে, যা হিসনা-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতী, চন্দনা-বারাশিয়া, ইছামতী ও বড়াল নদী ব্যবস্থায় প্রবাহ ফিরিয়ে আনবে। এতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লবণাক্ততা কমবে, সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্র রক্ষা পাবে এবং প্রায় ১৯ লাখ হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত হয়ে কৃষি উৎপাদন বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রকল্পের অর্থনৈতিক অভ্যন্তরীণ মুনাফার হার ধরা হয়েছে ১৭ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ।


সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রকল্পের লক্ষ্য হলো, শুষ্ক মৌসুমে (জানুয়ারি-মে) হিসনা-মাথাভাঙ্গায় ২৩৯, গড়াই-মধুমতিতে ২৩০, চন্দনা-বারাশিয়ায় ৮০, বড়াল ও ইছামতি নদী সিস্টেমে ২২ এবং গোদাগাড়ি পাম্প হাউজে ২৫, জি-কে প্রকল্পে ৬৪ এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ৩ কিউসেক পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা। 


বৃহত্তর কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পাবনা ও রাজশাহী অঞ্চলের নিট চাষযোগ্য এলাকা প্রায় ২৮ দশমিক ৮০ লাখ হেক্টর জমিতে সেচের জন্য প্রয়োজনীয় পানির সংস্থান নিশ্চিত করা। এছাড়া, প্রকল্পের মাধ্যমে আনুমানিক ১১৩ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা।


বাঁধের ডেক/করিডোরকে বহুমুখী অবকাঠামোগত সংযোগের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে সড়ক সংযোগ, বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন এবং গ্যাস ট্রান্সমিশন পাইপলাইন স্থাপন ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। প্রকল্প এলাকায় ধান প্রায় ২৩ দশমিক ৯০ লাখ টন এবং প্রায় ২ দশমিক ৩৪ লাখ টন মাছ উৎপাদন বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে বার্ষিক আনুমানিক প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ সামাজিক ও অর্থনৈতিক রিটার্ন অর্জন হবে।


বুয়েটের বন্যা ও পানি ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মাশফিকুস সালেহীন বলেন, প্রস্তাবিত এ প্রকল্পটি মূলত বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীন একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। বিগত সরকারগুলোর সময় বিভিন্ন কারণে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা ও দ্বিধা তৈরি হয়। প্রকল্পটির মাধ্যমে শুষ্ক মৌসুমে পানিপ্রবাহ বাড়লে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণ ও কিছু ক্ষেত্রে পুনরুদ্ধার সম্ভব।


তিনি আরও বলেন, তবে ব্যারাজের উজানে ক্ষয় এবং ভাটিতে পলি জমার মতো মরফোলজিক্যাল ও পরিবেশগত ঝুঁকি রয়েছে, যা উন্নত নকশা ও প্রযুক্তির মাধ্যমে মোকাবিলা করতে হবে।



সর্বশেষ সব খবর
  • প্রকাশ : বুধবার ২৯ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১২:৩৫ পিএম
  • আপডেট : বুধবার ২৯ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১২:৩৫ এএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


সিআইডির প্রধান হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন

  • প্রকাশ : বুধবার ২৯ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১২:৩৫ পিএম

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর নতুন প্রধান হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (অ্যাডিশনাল আইজিপি) ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন। বুধবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর সিআইডি সদর দপ্তরে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন তিনি। সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু তালেব বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।


এর আগে, গত ২৮ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে সিআইডির প্রধান হিসেবে পদায়ন করা হয়। দায়িত্ব গ্রহণের আগে তিনি প্রেষণে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)-এর পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এনএসআইতে কর্মরত থাকাকালেই তিনি অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতি লাভ করেন।


ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন ১৯৯৫ সালে ১৫তম বিসিএসের মাধ্যমে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন। প্রায় তিন দশকের কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে দায়িত্ব পালন করে তদন্ত, গোয়েন্দা কার্যক্রম, প্রশিক্ষণ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।


তিনি বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি, সারদায় প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও কারিকুলাম উন্নয়ন-সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া সিআইডির সদর দপ্তর, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা ইউনিটে বিশেষ পুলিশ সুপার হিসেবে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেন। মাঠপর্যায়ে পিরোজপুর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার হিসেবেও সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।


এ ছাড়া ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি), র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব), পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স এবং রাজশাহী, বরিশাল, রংপুর, খুলনা ও ঢাকা রেঞ্জের বিভিন্ন ইউনিটে দায়িত্ব পালন করে তিনি পেশাগত দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন।


শিক্ষাগত জীবনে তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের সিটি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে বার-অ্যাট-ল সম্পন্ন করেন। আধুনিক পুলিশিং, তদন্ত ও ফরেনসিক বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের লক্ষ্যে তিনি দেশ-বিদেশে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, কর্মশালা ও আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে মালয়েশিয়ায় ফরেনসিক ল্যাবরেটরি কোর্স, পাকিস্তানে বিশেষ আঞ্চলিক কর্মশালা এবং তুরস্কে অনুষ্ঠিত ১০তম ইন্টারপা সম্মেলনে অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য।


দায়িত্ব গ্রহণ অনুষ্ঠানে সিআইডির ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি, পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে নবনিযুক্ত সিআইডি প্রধানকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ২৯ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১২:০৯ পিএম

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে বসেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বুধবার (২৯ জুলাই) নির্বাচন ভবনের সভাকক্ষে বেলা ১১টায় বৈঠক শুরু হয়েছে।


বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি, মিয়া গোলাম পরওয়ারের নেতৃত্ব একটি প্রতিনিধি দল এবং নির্বাচন কমিশনারসহ ইসি কর্মকর্তারা বৈঠকে অংশ নিয়েছেন।


জানা গেছে, বৈঠকে বিএনপি দলীয় সাবেক এক ইসি কর্মকর্তাকে ফের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ ও স্থানীয় নির্বাচনের আইন সংশোধন নিয়ে আলোচনা হতে পারে।


সর্বশেষ সব খবর

সরোয়ার আলমগীর

  • প্রকাশ : বুধবার ২৯ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১১:০৮ এএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসনের বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের পরবর্তী সংসদ অধিবেশনে যোগ দিতে বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আপিল বিভাগ। 


বুধবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন। জামায়াত প্রার্থী চাইলে নিয়মিত আপিল করতে পারবেন বলেও জানিয়েছেন আদালত। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সরোয়ারের মনোনয়নপত্র বাতিল করেন। পরে প্রার্থিতা ফিরে পেতে হাইকোর্টে রিট করেন সরোয়ার আলমগীর। হাইকোর্ট প্রার্থিতা ফিরিয়ে দিলে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সরোয়ার অংশ নেন। তবে নির্বাচনে তার ফলাফল প্রকাশ সর্বোচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তে স্থগিত ছিল। সরোয়ারের করা রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে ৯ জুলাই রায় দেন হাইকোর্ট। রায়ে তার প্রার্থিতা বাতিলে ইসির সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষিত হয়।


হাইকোর্টের রায়ের পর চট্টগ্রাম-২ আসনে সরোয়ারকে বিজয়ী ঘোষণা করে ৯ জুলাই গেজেট প্রকাশ করে ইসি সচিবালয়। সেদিন সন্ধ্যায় সরোয়ার সংসদ সদস্যের শপথ নেন। এ অবস্থায় হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত চেয়ে জামায়াতের প্রার্থী নুরুল ১২ জুলাই আপিল বিভাগে আবেদন করেন। একই আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিনের করা ওই আবেদনে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে যোগ দেয়া থেকে সরোয়ারকে বিরত রাখার আরজিও ছিল।


আদালতে জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ও আইনজীবী আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী। সরোয়ারের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন শুনানিতে অংশ নেন। অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল শুনানিতে অংশ নেন।



সর্বশেষ সব খবর

মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৮ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৪:৪৮ পিএম

২০১৮ সালে টেকনাফে কাউন্সিলর একরামুল হকের হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তৎকালীন র‍্যাব-৭ অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (বর্তমানে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল) মিফতাহ উদ্দিন আহমেদকে সেনা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। সোমবার রাতে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।


আইএসপিআর বলেছে, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিনকে সেনা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আইন অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।


কক্সবাজারের টেকনাফের সাবেক পৌর কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করে প্রসিকিউশন (রাষ্ট্রপক্ষ)।


ওই মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়। আসামির তালিকায় সে সময় র‍্যাব–৭ (চট্টগ্রাম) এর অধিনায়কের দায়িত্বে থাকা মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ রয়েছেন। তখন কক্সবাজার র‍্যাব–৭ এর আওতায় ছিল।


একরামুল হত্যা মামলায় ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের এক দিন পর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিনকে হেফাজতে নিল সেনাবাহিনী।


২০১৮ সালের ২৬ মে রাতে কক্সবাজারের টেকনাফে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন একরামুল। তিনি ১২ বছর উপজেলা যুবলীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সভাপতি ছিলেন।


২০২১ সালে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘোষিত প্রবেশ নিষিদ্ধ কর্মকর্তার দুই কর্মকর্তার তালিকায় সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদের সঙ্গে মিফতাহ উদ্দিন আহমেদও ছিলেন। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন বরিশাল সেনানিবাসের স্টেশন কমান্ডার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

সর্বশেষ সব খবর

আফ্রিকায় আগুনে ঘুমন্ত ৬ বাংলাদেশির মৃত্যু

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৮ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৪:২৯ পিএম

দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্টার্ন কেপ প্রদেশের কুইন্সটাউন (বর্তমান কোমানি) থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরের সমো এলাকায় একটি দোকানে অগ্নিকাণ্ডে ছয় বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। 


গতকাল সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের সবার বাড়ি নারায়ণগঞ্জ জেলায়।


সূত্রে বরাতে জানা গেছে, দোকানের ভেতরের আবাসিক কক্ষে ৭ জন বাংলাদেশি ঘুমিয়ে ছিলেন। গভীর রাতে হঠাৎ আগুন ছড়িয়ে পড়লে ৬ জন ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহত অপর একজনকে উদ্ধার করে কুইন্সটাউন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে মো. ফয়সাল (২৫), মো. ফাহিম (২৮), শামীম হাসান (৩০) ও মোহাম্মদ আপন (২৪)-এর পরিচয় জানা গেছে। আরও দুইজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।


স্থানীয় সূত্রের দাবি, নিহতদের সবার বাড়ি বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার ফতুল্লা থানার আলীরটেক ও বক্তাবলী ইউনিয়ন এলাকায়। আহত আরেকজনের বাড়ি মুন্সীগঞ্জের রিকাবিবাজার এলাকায়।


অগ্নিকাণ্ডের কারণ এখনো জানা যায়নি। স্থানীয় পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত করছে।


এর আগেও দেশটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একাধিক বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন। ২০১৮ সালের ২০ অক্টোবর নর্থ ওয়েস্ট প্রদেশের ব্রিটস শহরে একটি দোকানে আগুন লেগে ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার একই পরিবারের তিনজনসহ চার বাংলাদেশি নিহত হন। 


এছাড়া ২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর কোয়াজুলু-নাটাল প্রদেশের পিটারম্যারিটজবার্গের একটি বাণিজ্যিক কমপ্লেক্সে অগ্নিকাণ্ডে আরও দুই বাংলাদেশির মৃত্যু হয়। 

সর্বশেষ সব খবর

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বঙ্গভবনে তাঁর কার্যক্রম শুরু করেছেন

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৮ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৩:৩৫ পিএম

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বঙ্গভবনে তাঁর কার্যক্রম শুরু করেছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি এ প্রথম কার্যক্রম শুরু করেন। মঙ্গলবার সকাল সোয়া ১১টায় তিনি বঙ্গভবনে পৌঁছেন। 


বঙ্গভবনের প্রধান ফটক-২ এ প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) একটি সুসজ্জিত অশ্বারোহী দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানায় এবং গার্ড অব অনার প্রদানের জায়গায় নিয়ে যায়। পরে পিজিআর-এর একটি চৌকস দল তাঁকে গার্ড অব অনার দেন।


গার্ড অব অনার শেষে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এ এস এম বাহাউদ্দিন, জনবিভাগের সচিব খান মো. নূরুল আমিন, প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এবং সহকারী সামরিক সচিব ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ রাইসুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে অক্টাগনে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।


আনুষ্ঠানিকতা শেষে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি তাঁর কার্যালয়ে উপস্থিত হন এবং সেখানকার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় সামরিক সচিব ও জনবিভাগের সচিব তাঁকে বঙ্গভবনের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে অবহিত করেন।

সর্বশেষ সব খবর