রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
আগামী ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়তে চান মো. সাহাবুদ্দিন। তাঁর এ পরিকল্পনা তুলে ধরে আজ বৃহস্পতিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
রয়টার্স বলছে, রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবন থেকে হোয়াটসঅ্যাপে সাক্ষাৎকারটি দিয়েছেন। মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারে তিনি ‘অপমানিত বোধ’ করছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে সাহাবুদ্দিন বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক। এর বাইরে পদটি মূলত আনুষ্ঠানিক। দেশের কার্যনির্বাহী ক্ষমতা থাকে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার হাতে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিল্লিতে চলে যাওয়ার পর সাহাবুদ্দিনের অবস্থান গুরুত্ব পায়। সংসদ ভেঙে দেওয়ার পর সাহাবুদ্দিনই ছিলেন দেশের শেষ সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ।
হোয়াটসঅ্যাপে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রয়টার্সকে তিনি বলেন, ‘আমি বিদায় নিতে আগ্রহী। আমি এখান থেকে চলে যেতে চাই। নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত আমাকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব রয়েছে বলেই আমি এ অবস্থানে আছি।’
রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বলেন, প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস তাঁর সঙ্গে প্রায় সাত মাস কোনো ধরনের সাক্ষাৎ করেননি। রাষ্ট্রপতির গণমাধ্যম বিভাগ কেড়ে নেওয়া হয়েছে।
বিভিন্ন দেশের দূতাবাস থেকে নিজের ছবি সরিয়ে ফেলার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সব কনস্যুলেট, দূতাবাস ও হাই কমিশনে রাষ্ট্রপতির ছবি ছিল। এগুলো হঠাৎ করে এক রাতের মধ্যে সরিয়ে ফেলা হয়।’
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘এতে মানুষের কাছে ভুল বার্তা যায়। মানুষজন ভাবতে পারে, রাষ্ট্রপতিকে হয়ত সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আমি খুব অপমানিত বোধ করেছি।’
সাহাবুদ্দিনের ভাষ্য, ছবি সরিয়ে ফেলার বিষয়ে তিনি মুহাম্মদ ইউনূসকে চিঠি লিখেছিলেন, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
রয়টার্স দাবি করেছে, রাষ্ট্রপতির মন্তব্যগুলো নিয়ে তাঁরা প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসের প্রেস উইংয়ের কাছে মন্তব্য চেয়েছিল, কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া মেলেনি।
রাষ্ট্রপতি জানান, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন তিনি। জেনারেল ওয়াকার তাঁকে স্পষ্ট বলে দিয়েছেন, ক্ষমতা দখলের কোনো ইচ্ছা তাঁর নেই।
রয়টার্স লিখেছে, ২০২৪ সালের আগস্টে প্রাণঘাতী বিক্ষোভের সময় সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার হস্তক্ষেপ না করায় শেখ হাসিনা সরকারের পতন নির্ধারিত হয়ে যায়। বাংলাদেশের সামরিক শাসনের ইতিহাস থাকলেও জেনারেল ওয়াকার ‘গণতন্ত্রের প্রত্যাবর্তন চান’।
রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বলেন, শুরুতে কিছু শিক্ষার্থী তাঁর পদত্যাগের দাবি জানালেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কোনো রাজনৈতিক দল তাঁর পদত্যাগ চাননি।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি এবং ইসলামী দল জামায়াতে ইসলামীর আগামী সরকার গঠনের দৌড়ে এগিয়ে থাকতে পারে বলে জনমত জরিপের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এর আগে এই দুই দল ২০০৬ সাল পর্যন্ত জোট সরকারে ছিল।
শেখ হাসিনা দেশত্যাগের পর তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছিলেন কি না জানতে চাইলে সাহাবুদ্দিন উত্তর দিতে চাননি। তিনি রয়টার্সকে বলেন, রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর থেকেই তিনি স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করছেন, কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন।
৭৫ বছর বয়সী সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় পাঁচ বছরের জন্য বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। চুপ্পু নামেই বেশি পরিচিত সাবেক এই ছাত্রলীগ নেতা মো. আবদুল হামিদের উত্তরসূরি হন। ছাত্রজীবনে পাবনা জেলা ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন সাহাবুদ্দিন। পরে সামলেছেন পাবনা যুবলীগের সভাপতির দায়িত্ব। ১৯৭১ সালে পাবনা জেলার স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন তিনি, মুক্তিযুদ্ধেও সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর তার দল আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকে গ্রেপ্তার করে সে সময় ক্ষমতাদখলকারীরা। সাহাবুদ্দিনকেও তখন কারাবরণ করতে হয়।
পেশায় আইনজীবী মো. সাহাবুদ্দিন ১৯৮২ সালে বিসিএস (বিচার) ক্যাডারে যোগ দেন। বিচারকের বিভিন্ন পদে চাকরি শেষে ২০০৬ সালে জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে অবসর নেন। ২০০১ সালের বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ওপর হামলার অভিযোগ তদন্তে যে কমিশন হয়েছিল, সাহাবুদ্দিন ছিলেন তার প্রধান। জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক মহাসচিব সাহাবুদ্দিন বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় আইন মন্ত্রণালয়ের নিযুক্ত করা সমন্বয়কারী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি ২০১১ সাল থেকে ২০১৬ সাল দুদকের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মনোনীত হন। আওয়ামী লীগের সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিলে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন।
ছবি : সংগৃহীত
মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল জানার পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। বিগত বছরগুলোতে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠিয়ে ফলাফল জানা গেলেও এবার শিক্ষার্থীদের ১৬১৪০ নম্বরে মেসেজ পাঠাতে হবে।
বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ৩১ অক্টোবর বেলা ১১টায় সারাদেশে একযোগে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে। শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অনলাইন ও এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানতে পারবেন।
এসএমএসে ফল জানার নতুন নিয়ম
মোবাইল ফোনের মেসেজ অপশনে গিয়ে ইংরেজিতে HSC লিখে একটি স্পেস দিতে হবে। এরপর শিক্ষা বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর, রোল নম্বর ও পরীক্ষার বছর লিখে ১৬১৪০ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে। উদাহরণ: ‘HSC DHA 123456 2026’ লিখে পাঠাতে হবে ১৬১৪০ নম্বরে।
অনলাইনে ফল জানার নিয়ম
এসএমএসের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে ফল পাওয়া যাবে। এছাড়া, নিচের দুটি ওয়েবসাইট থেকেও ফল জানা যাবে। সেগুলো হলো- eduboardresult.gov.bd ও educationboardresults.gov.bd। শিক্ষা বোর্ড, শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা পত্রিকা অফিসে সরাসরি কোনো ফলাফল পাওয়া যাবে না।
পুনর্নিরীক্ষণ আবেদন শুরু ১ নভেম্বর
এদিকে, প্রকাশিত ফল পুনর্নিরীক্ষণ ও উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের জন্য আগামী ১ নভেম্বর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করা যাবে। এ-সংক্রান্ত আবেদনপ্রক্রিয়া ও নির্দেশনা শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।
চলতি বছর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা গত ২ জুলাই শুরু হয়, যা শেষ হয় ৮ আগস্ট। তবে, বন্যার কারণে চট্টগ্রাম বোর্ডের কয়েকটি বিষয়ের লিখিত পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে স্থগিত পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ায় ওই বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৯ সেপ্টেম্বর।
এবার দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেন ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী।
আশকোনা হজ ক্যাম্প
যাত্রীদের টিকিট-সংক্রান্ত সেবা সহজ করতে রাজধানীর আশকোনা হজ ক্যাম্পে পুনরায় চালু করা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের টিকিট বিক্রির কাউন্টারের সময়সূচি সংশোধন করা হয়েছে। নতুন সময়সূচি অনুযায়ী, রোববার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এ কাউন্টারে সেবা পাওয়া যাবে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংশোধনী বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এর আগে, গত ২৮ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আশকোনা হজ ক্যাম্পের টিকিট বিক্রির কাউন্টারের সেবার সময়সূচি উল্লেখ করা হয়েছিল। সংশোধনীতে জানানো হয়েছে, নতুন সময়সূচি অনুযায়ী কাউন্টারটিতে সেবা দেয়া হবে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বলাকায় অবস্থিত বিক্রয় বুথে কারিগরি জটিলতা দেখা দেওয়ায় যাত্রীদের টিকিট-সংক্রান্ত সেবা স্বাভাবিক রাখতে আশকোনা হজ ক্যাম্পের কাউন্টারটি পুনরায় চালু করা হয়েছে। এ ছাড়া টিকিট পুনরায় ইস্যু করার প্রয়োজন হলে যাত্রীরা আশকোনা হজ ক্যাম্পের কাউন্টারের পাশাপাশি বিমানের মতিঝিল বিক্রয়কেন্দ্র থেকেও সেবা নিতে পারবেন।
টয়োটার মোতোমাচি কারখানা পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
জাপান সফরের অংশ হিসেবে দেশটির নাগোয়া শহরে অবস্থিত টয়োটার মোতোমাচি কারখানা পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার সকালে তিনি কারখানার গাড়ি সংযোজন (অ্যাসেম্বলি) প্রক্রিয়া ঘুরে দেখেন। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন এ তথ্য জানিয়েছেন।
পরিদর্শনকালে টয়োটা মোটর করপোরেশনের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাসাহিকো মোয়েদা, টয়োটা সুশো করপোরেশনের গতিশীলতা বিভাগের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শিগেরু হারাদা এবং প্রতিষ্ঠানটির প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) শিনিচিরো ওতসুকাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।
এ ছাড়া এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন ও গবেষণা কর্মকর্তা আবদুস সাত্তার পাটোয়ারীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
ছবি : সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরে দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের উপকূলীয় নিরাপত্তা সক্ষমতা জোরদারে টহল জাহাজ দেওয়ার অনুদান সংক্রান্ত চুক্তিসহ মোট ৪টি সহযোগিতা স্মারক সই হয়েছে। এছাড়া দুটি প্রকল্পে পাওয়া গেছে ৪ হাজার ৬৫৬ বিলিয়ন ইয়েন অর্থাৎ ২৯৫.৫ মিলিয়ন ডলার ঋণের প্রতিশ্রুতি।
টোকিওর বাংলাদেশ দূতাবাসে সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এ তথ্য তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমানের রুমন, উপ প্রেস সচিব শাহাদাত হোসেন স্বাধীন।
প্রতিমন্ত্রীর তথ্যানুযায়ী, সফরকালে বাংলাদেশের উপকূলীয় নিরাপত্তা সক্ষমতা জোরদার করতে টহল জাহাজ দেওয়ার অনুদান সংক্রান্ত চুক্তি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে অনুদান হিসেবে জাপান বাংলাদেশকে সর্বোচ্চ ২১২ কোটি ইয়েন (১৩.৪৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) দেবে।
এছাড়া জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং ব্যবসায়িক পরিবেশের উন্নয়ন বিষয়ক একটি সহযোগিতার স্মারক (এমওসি) সই হয়েছে।
জাপানের কৃষি, বন ও মৎস্য মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের কৃষি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির জন্য দুই দেশের মধ্যে কর্মসংস্থান বিষয়ক এমওসি হয়।
জাপানের কৃষি, বন ও মৎস্য মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মধ্যেও সহযোগিতার একটি স্মারক সই হয়েছে। এছাড়া জাপানের পরিবেশ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত সহযোগিতার বিষয়ে সই হয়েছে লেটার অব ইনটেন্ট বা প্রাথমিক সমঝোতাপত্র।
যে দুটি প্রকল্পে ঋণের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে সেগুলো হল, বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়ন ও উপজেলা গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (ফেজ ২)। এর মধ্যে বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়ন প্রকল্পে ১ হাজার ৫৮৮ বিলিয়ন ইয়েন (১০০.৮ মিলিয়ন ডলার) ঋণের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে উপজেলা গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (ফেজ ২) এর জন্য পাওয়া গেছে ৩ হাজার ৬৮ বিলিয়ন ইয়েন (১৯৪.৭ মিলিয়ন ডলার) ঋণের প্রতিশ্রুতি।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফরে জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেটরো) মাধ্যমে বেসরকারি খাতেও ১৭টি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে বলে তথ্য দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন। এ ব্যাপারে বিস্তারিত পরে জানানো হবে বলেছেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, “বেসরকারি খাতেও দুই দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৭টি সমঝোতা স্মারকসহ বিভিন্ন চুক্তি ও সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে প্রায় ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্ভাব্য বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
“এসব বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে প্রায় দুই লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে।”
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ২৬ অক্টোবর চার দিনের সরকারি সফরে সস্ত্রীক জাপানে যান। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানসহ উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে আছেন।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে আজ বঙ্গভবনে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের চার সদস্যের প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শুধু চাকরি প্রত্যাশী নয়, বরং দক্ষ, উদ্ভাবনী ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোক্তা তৈরিতে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি বলেন, পরিবর্তিত বিশ্বপরিস্থিতি ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির চাহিদা বিবেচনায় উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও দক্ষতার পাশাপাশি উদ্ভাবনী চিন্তা, গবেষণা এবং উদ্যোক্তা সক্ষমতা বিকাশে গুরুত্ব দিতে হবে।
আজ দুপুরে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বঙ্গভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং-এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিদল বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।
তাঁরা জানান, যুগের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং সর্বশেষ প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন বিষয়ে পাঠদান ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, মজলুম জননেতা মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি অবিস্মরণীয় নাম।
মাওলানা ভাসানীর স্মৃতিবিজড়িত এ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের গুণগত মানসম্পন্ন শিক্ষা প্রদানের পাশাপাশি যুগোপযোগী জ্ঞান, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতায় প্রশিক্ষিত করে দেশের উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সচিবগণ ও কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নুরুল হক নুর
নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকেই মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক। আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাজধানীতে উইটনেস ফাউন্ডেশন আয়োজিত অভিবাসন সংলাপ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) মাধ্যমে একজন কর্মীর যেতে আনুমানিক ১ লাখ ৫৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা খরচ হতে পারে।
বেসরকারি এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর খরচও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে নির্ধারণ করা হবে।
নুরুল হক বলেন, নভেম্বরের শুরুতে মালয়েশিয়ায় কর্মীদের মেডিকেল পরীক্ষা শুরু হলে দুই থেকে চার দিনের মধ্যে পরীক্ষার প্রক্রিয়া শেষ করে কর্মীরা যেতে পারবেন। নভেম্বরের ১ তারিখ অথবা প্রথম সপ্তাহে ফ্লাইট চালু হতে পারে।
তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার সঙ্গে আলোচনা করে মেডিকেল পরীক্ষার অনুমোদিত কেন্দ্রগুলোর তালিকা চূড়ান্ত করা হচ্ছে। ৩১ অক্টোবরের মধ্যে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ তালিকা চূড়ান্তভাবে প্রকাশ করবে বলে বাংলাদেশকে জানিয়েছে। দুই দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষ নিজ নিজ ওয়েবসাইটে তালিকা প্রকাশ করবে। মেডিকেল পরীক্ষার খরচও নির্ধারণ করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চালুর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া সরকারের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। কিছু কাজ এখনো বাকি রয়েছে, সেগুলো সম্পন্ন করতে আরো কিছুটা সময় লাগবে। তবে নভেম্বর থেকে কর্মী পাঠানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা চালু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি জানান, মালয়েশিয়ার অনুমোদিত ৩৩৮টি বড় নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের তালিকা পাওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ। ইতিমধ্যে বিভিন্ন কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠানের চাহিদাপত্র (ডিমান্ড লেটার) জমা দেওয়া হয়েছে।
মালয়েশিয়ার বিদেশি কর্মী নিয়োগের নির্ধারিত ব্যবস্থা এফডব্লিউসিএমএস এবং বাংলাদেশ দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট সেবার মাধ্যমে এসব চাহিদাপত্র জমা দেওয়া হচ্ছে। তবে বাংলাদেশ দূতাবাসের সত্যায়ন ছাড়া কোনো চাহিদাপত্র গ্রহণযোগ্য হবে না বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তার ভাষ্য, চাহিদাপত্র সত্যায়নের পাশাপাশি কর্মীদের মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে। কোন কোন মেডিকেল কেন্দ্রে পরীক্ষা করা যাবে, তা দুই দেশের আলোচনার ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে।
অনুমোদনহীন মেডিকেল কেন্দ্রে পরীক্ষা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে উল্লেখ করে নুরুল হক বলেন, মেডিকেল পরীক্ষা শুরুর বিষয়ে সরকার ইতিমধ্যে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। অনুমোদিত কেন্দ্রের বাইরে পরীক্ষা না করতে কর্মীদের সতর্ক থাকতে হবে।