২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সারা দেশে কমপক্ষে ৬০০টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ১৫৮ জন রাজনৈতিক কর্মী নিহত হয়েছেন।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব সহিংস ঘটনায় সাত হাজার ৮২ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৫৫০টি অর্থাৎ ৯১ দশমিক ৭ শতাংশ ঘটনায় বিএনপির সম্পৃক্ততা ছিল। নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের সম্পৃক্ততা ছিল ১২৪টি অর্থাৎ ২০ দশমিক ৭ শতাংশ ঘটনায়। আর জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি যথাক্রমে ৭ দশমিক ৭ ও ১ দশমিক ২ শতাংশ ঘটনায় জড়িত ছিল।
প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ১১ ডিসেম্বর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার ৩৬ দিনের মধ্যে কমপক্ষে ১৫ জন রাজনৈতিক নেতা ও কর্মী নিহত হয়েছেন।
গতকাল সোমবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে 'কর্তৃত্ববাদ পতন-পরবর্তী দেড় বছর: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি' শীর্ষক পর্যবেক্ষণভিত্তিক গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।
জুলাই আন্দোলনের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে সম্পর্কিত ৮৩৭টি হত্যা মামলাসহ এক হাজার ৭৮৫টি মামলা ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে দায়ের হয়। এর মধ্যে ৬৬৩টি মামলা ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়, যার মধ্যে ৪৫৩টিই হত্যা মামলা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাত্র ১০৬টি মামলায় চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৩১টি হত্যা মামলা রয়েছে, যা তদন্তের ধীর অগ্রগতি নির্দেশ করে। এসব মামলায় এ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের ১২৮ জন সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আন্দোলনের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য এক হাজার ১৬৮ জন কর্মরত এবং সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ৭৬১টি মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে ৬১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এ পর্যন্ত ৪৫০টি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে, এর মধ্যে ৪৫টি আমলে নেওয়া হয়েছে। এসব মামলায় ২০৯ জনকে অভিযুক্ত এবং ৮৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে ১০৫ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ১২টি মামলা আইসিটিতে বিচারাধীন।
টিআইবি জানায়, অনেক অভিযুক্ত ব্যক্তি দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। অভিযোগ রয়েছে, সেনাবাহিনী, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তাদের পালাতে সহায়তা করেছেন।
জুলাই আন্দোলনের পর মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে টিআইবি উদ্বেগ জানিয়েছে। প্রতিবেদনে অনুমান করা হয়েছে, সারা দেশে প্রায় দেড় লাখ লোককে এসব মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে, 'মামলা বাণিজ্য', প্রতিশোধমূলক মামলা, রাজনৈতিক হয়রানি ও চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে মামলায় নামের অন্তর্ভুক্তি কিংবা মামলা থেকে নাম বাদ দেওয়ার প্রতিশ্রুতির বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত। অনেক ক্ষেত্রে, চাপের কারণে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো যথাযথ তদন্ত ছাড়াই মামলা নিয়েছে।
টিআইবি আইসিটিতে নিযুক্ত বিচারক এবং প্রসিকিউটরদের যোগ্যতা এবং রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে।
এতে আরও বলা হয়েছে, সাংবাদিকদের হত্যা মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে, যা বিচার ব্যবস্থার অপব্যবহার নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলছে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান সতর্ক করে বলেন, মব সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে।
তিনি আরও বলেন যে, বাংলাদেশে মব সহিংসতার ঘটনা 'আসলে সরকারের ভেতর থেকেই শুরু হয়েছিল'।
তিনি বলেন, সচিবালয়ে প্রথম মবের উৎপত্তি হয়েছিল। সরকারের বাইরের শক্তি যাদের আজ মব বলি, তারা ক্ষমতায়িত হয়েছে সেই মবের কারণে। এতে সরকারের নৈতিক ভিত্তিও দুর্বল হয়েছে।
নির্বাচন-সম্পর্কিত সহিংসতা সম্পর্কে, ইফতেখারুজ্জামান সতর্ক করে বলেন, “আমরা সবাই আশা করি একটিও হত্যাকাণ্ড ঘটবে না, তবে আমরা এর নিশ্চয়তা দিতে পারি না। আমরা মনে করি সহিংসতার ঝুঁকি কেবল ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নয়, পরবর্তী কয়েক দিন পর্যন্তও থাকবে।”
তিনি বলেন, ‘সরকার ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন এবং তাদের পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা, দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা রয়েছে। তবে, তিনি বাংলাদেশের অতীত নির্বাচনী ইতিহাস বিবেচনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে নির্বাচন খুব কমই সম্পূর্ণরূপে সহিংসতামুক্তভাবে হয়েছে, এবার সহিংসতা রোধে পূর্ববর্তী নির্বাচন থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত। ’
টিআইবি প্রধান জুলাই-পরবর্তী জবাবদিহিতা প্রক্রিয়া নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, আন্দোলনের সময় হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে সাংবাদিকদের গণহারে মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এই ধরনের পদক্ষেপ কি ন্যায়বিচারের কাজ নাকি প্রতিশোধের কাজ, তা জানতে চেয়ে সতর্ক করে বলেন, এটি প্রকৃত অপরাধী এবং কর্তৃত্ববাদের দোসরদের শনাক্ত করা কঠিন করে তোলে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘রাজনীতিবিদ এবং আমলারা জুলাইয়ের আন্দোলন থেকে কিছুই শেখেননি এবং তারা তাদের নিজস্ব স্বার্থ রক্ষায় মনোনিবেশ করেছেন। ফলস্বরূপ, তারা জনগণের কাছে জবাবদিহিতাপূর্ণ সরকার গঠনের লক্ষ্যে ঐকমত্য কমিশনের সামনে উত্থাপিত প্রস্তাবগুলোর বিরোধিতা করেন।’
তিনি আরও বলেন, যদি নোট অব ডিসেন্টের মৌলিক ধারণা গৃহীত হয়, তাহলে ঐকমত্যের মাধ্যমে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলি এখনো বাস্তবায়ন করা যেতে পারে।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘সংখ্যাগরিষ্ঠদের মতামতকে প্রাধান্য দেওয়ার রীতি বিশ্বব্যাপী প্রচলিত। তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এমনটি হবে কি না, সেটি দেখার বিষয়। গণভোটের রায় 'হ্যাঁ'-এর পক্ষে গেলে সে ক্ষেত্রে যারা সরকারে যাবে, তাদের সদিচ্ছার ওপর সংস্কার বাস্তবায়ন নির্ভর করবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার তাদের সম্পদের বিবরণী জনসমক্ষে প্রকাশ করে একটি উদাহরণ স্থাপন করতে পারত, কিন্তু তা করেনি।’
ইফতেখারুজ্জামান সাম্প্রতিক দুটি অধ্যাদেশ- সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশ এবং মিডিয়া কমিশন অধ্যাদেশের সমালোচনা করে বলেন, গণমাধ্যমকে ইচ্ছাকৃতভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে এবং নতুন ঝুঁকি তৈরি করা হয়েছে।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে পেশাদারত্বের সঙ্গে নিরাপদে কাজ করুক- এ চিন্তাভাবনা অন্তর্বর্তী সরকার ধারণ করেছে কি না। দুটি মিডিয়া কমিশন লোকদেখানো পদক্ষেপ ছাড়া আর কিছু নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বিচার বিভাগীয় সংস্কার সম্পর্কে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে বিচার বিভাগীয় নিয়োগ কমিটি গঠন এবং একটি স্বাধীন বিচার বিভাগীয় সচিবালয়ের দিকে অগ্রসর হওয়া।
তবে, তিনি উল্লেখ করেন, এসব পদক্ষেপ কতটুকু কার্যকর হবে, তার জবাব পরবর্তী সরকারকে দিতে হবে। এ ছাড়া বিচারব্যবস্থার ভেতরে দলীয়করণ এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।
তিনি রাজনৈতিক দলগুলোকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং পেশাজীবী সংস্থাগুলোকে রাজনীতিমুক্ত রাখার জন্য দৃঢ় অঙ্গীকারবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
হাটহাজারীতে সেনাবাহিনীর ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুর্ঘটনায় আহত ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিনকে দেখতে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) গেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেল পৌনে ৩টার দিকে সিএমএইচে পৌঁছে আহত সেনা কর্মকর্তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে, বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে সেনাবাহিনীর ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলন চলাকালে একটি ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন গুরুতর আহত হন। একই ঘটনায় দুই সেনাসদস্য নিহত হন।
দুর্ঘটনার পর আহত ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিনকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে করে তাকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়।
নিহত দুই সেনাসদস্য হলেন—রাজশাহীর পবা উপজেলার দামকুড়া ইউনিয়নের তাসনিম রিফাত এবং নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আবু বকর সিদ্দিক পিয়াস।
এদিকে, ট্যাংকের ফায়ারিং অনুশীলনের সময় কী কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলছে।
প্রতীকী ছবি
সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এ সময়ে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো মৃত্যু হয়নি। শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ১০ এপ্রিল থেকে এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ হাজার ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে ৯১২ জন মারা গেছে আর হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ১০০ জন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে নতুন করে ১ হাজার ৭৭ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে গত ১০ এপ্রিল থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ১ লাখ ৬৯ হাজার ৮২২ জনের শরীরে।
একই সময়ে ৩৪ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে গত ১০ এপ্রিল থেকে এখন পর্যন্ত দেশে ১৯ হাজার ৯৬৭ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।
এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৪০৮ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এর পরে রয়েছে সিলেট বিভাগ, সেখানে মারা গেছে ১৫৭ জন। এ ছাড়া বরিশালে ৫৭, চট্টগ্রামে ৬৮, খুলনায় ৩৮, ময়মনসিংহে ৭৭, রাজশাহীতে ৯৩ ও রংপুর বিভাগে ১৪ জন মারা গেছে।
ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানি পাওয়ারের গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটের একটি কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে সংকটে থাকা বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা আরও চাপের মুখে পড়ছে। এর সঙ্গে দেশে বাড়ছে লোডশেডিং। কয়লা স্বল্পতার কারণে এক মাস ধরে সীমিত বিদ্যুৎ উৎপাদন করছিল আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র। কয়লা সরবরাহ বাড়ার পর গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর উৎপাদন বাড়ছিল। কিন্তু গতকাল দিবাগত রাত ১২টার দিকে হঠাৎ করে কারিগরি ত্রুটির কারণে বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি জানিয়েছে, ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানি পাওয়ারের কেন্দ্রটির সক্ষমতা এক হাজার ৬০০ মেগাওয়াট। কয়লা সরবরাহে সমস্যা হওয়ায় ৭ আগস্ট থেকে কেন্দ্রটি উৎপাদন কমিয়েছে। দিনের বেলায় প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দিলেও সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত চাহিদা অনুযায়ী প্রায় এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত সরবরাহ করছে তারা। ৯ সেপ্টেম্বর (বুধবার) রাতে এক পর্যায়ে সরবরাহ এক হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের বেশি হলেও রাত ১২টার পর একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে উৎপাদন ৭৩২ মেগাওয়াটে নেমে আসে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় আদানি থেকে পাওয়া গেছে ৭৩২ মেগাওয়াট। আজ শুক্রবার সকাল ৮টায় ৭৩৪, ৯টায় ৭৩৭, ১০টায় ৭২৪ ও সকাল ১১টায় ৭৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করে আদানি পাওয়ার।
২০১৭ সালে আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তি করে পিডিবি। ঝাড়খন্ডের আদানির কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বিদ্যুৎকেন্দ্রের বয়লারে সমস্যা হয়েছে। এটি শীতল হতে ৪৮ ঘণ্টা লাগতে পারে। এরপর ত্রুটি মেরামতের কাজ শুরু হবে। তাই, উৎপাদন বাড়তে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গতকাল সন্ধ্যার পিক আওয়ারে লোডশেডিং ২ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়েছিল এবং আদানির ইউনিটটি বন্ধ হওয়ার ফলে আজ তা আরও বাড়তে পারে।
গত মাসের শেষ দিকে কেন্দ্রটিতে উৎপাদন ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করে এবং তা দিনের বেলায় প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট ও সন্ধ্যায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত পৌঁছে।
সর্বশেষ উৎপাদন তথ্য অনুযায়ী, পিডিবি গ্যাসভিত্তিক প্ল্যান্ট থেকে প্রায় ৫ হাজার মেগাওয়াট, কয়লা থেকে সাড়ে ৪ হাজার মেগাওয়াট এবং তরল জ্বালানি থেকে ২ হাজার থেকে ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। ফলে ১৬ হাজার মেগাওয়াটের চাহিদার বিপরীতে সামগ্রিক উৎপাদন ১৩ হাজার থেকে ১৪ হাজার মেগাওয়াটের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় সরবরাহের বড় ধরনের ঘাটতি থেকে যাচ্ছে।
আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের বন্ধ থাকা ইউনিটটি পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় গ্রিডের ওপর বাড়তি চাপ অব্যাহত থাকবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
টোকিওতে এলএনজি প্রোডিউসার-কনজুমার কনফারেন্সে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ জ্বালানি পরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত
বিশ্ব জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা ও সরবরাহ বিঘ্নের মধ্যে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এলএনজি সরবরাহ অবকাঠামো সম্প্রসারণের পরিকল্পনা তুলে ধরেছে বাংলাদেশ। এর অংশ হিসেবে ২০২৮ সালের মধ্যে মহেশখালীতে দৈনিক ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) ক্ষমতার আরও একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) এবং ২০৩০ সালের মধ্যে মাতারবাড়ীতে ১ হাজার এমএমসিএফডি ক্ষমতার ল্যান্ডভিত্তিক টার্মিনাল চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। জাপানের টোকিওতে আজ শুক্রবার অনুষ্ঠিত ‘১৫তম এলএনজি প্রোডিউসার-কনজুমার কনফারেন্স ২০২৬’-এ বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ জ্বালানি পরিকল্পনা তুলে ধরে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এসব তথ্য জানান। টোকিওর দ্য ওয়েস্টিন হোটেলে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিল ‘অ্যাডভান্সিং এলএনজি ফর দ্য ফিউচার: রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড রিলায়েবিলিটি’।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভূরাজনৈতিক পরিবর্তন, সরবরাহ বিঘ্ন এবং বাজারের অস্থিতিশীলতার কারণে জ্বালানি নিরাপত্তাকে শুধু জ্বালানি প্রাপ্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার সুযোগ নেই। নির্ভরযোগ্যতা, সরবরাহের বৈচিত্র্য, সাশ্রয়ী মূল্য ও নমনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়ে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, শিল্পায়ন, নগরায়ণ ও বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ায় দেশে জ্বালানির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন, সার, শিল্পকারখানা ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমে প্রাকৃতিক গ্যাস গুরুত্বপূর্ণ হলেও দেশীয় উৎপাদন দিয়ে বাড়তি চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে আমদানি করা এলএনজি দেশের গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দুটি এফএসআরইউয়ের মাধ্যমে দৈনিক ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে। দেশে বছরে এলএনজির চাহিদা প্রায় ৭ মিলিয়ন টন। এ চাহিদা পূরণে নতুন অবকাঠামো তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে এলএনজি সরবরাহ সক্ষমতায় আরও ৩ থেকে ৪ মিলিয়ন টন যোগ হতে পারে। ২০৩১ থেকে ২০৪০ সালের মধ্যে এ সক্ষমতা বাড়িয়ে ১৭ থেকে ১৮ মিলিয়ন টনে নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এলএনজি সংগ্রহের ক্ষেত্রে সরবরাহের উৎস ও পদ্ধতিতেও বৈচিত্র্য আনার কথা তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, সরকার জি-টু-জি, আন্তর্জাতিক দরপত্র এবং সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির মাধ্যমে বিভিন্ন উৎস থেকে এলএনজি সংগ্রহ করছে।
আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকার বিনিয়োগবান্ধব নীতি নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি সম্প্রতি ঘোষিত ‘বাংলাদেশ অফশোর বিডিং রাউন্ড ২০২৬’-এর কথাও তুলে ধরেন। আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত উন্মুক্ত এ দরপত্রে মুনাফা স্থানান্তর, কর পরিশোধে সরকারি সহায়তা এবং দীর্ঘমেয়াদি রাজস্ব স্থিতিশীলতার মতো সুযোগ রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।
বিশ্ব জ্বালানি বাজারের পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে বাংলাদেশ কাজ করতে আগ্রহী বলেও সম্মেলনে জানান প্রতিমন্ত্রী।
সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।
ভারতের সঙ্গে বিগত সরকারের করা ১০১টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ও চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার। এ পর্যালোচনার ফলাফল শিগগিরই জানানো হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। শুক্রবার জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় সরকারদলীয় অন্যান্য হুইপ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে বৃহস্পতিবার সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শেষ হয়।
চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহারের চুক্তি এবং এর আওতায় বন্ধুরাষ্ট্রের জাহাজ চলাচল নিয়ে প্রশ্ন করা হলে চিফ হুইপ বলেন, আমরা চুক্তিগুলো নিয়ে আলোচনা করছি এবং সেটার ফল অনতিবিলম্বে আপনারা পাবেন।
চিফ হুইপ জানান, সংসদের তৃতীয় অধিবেশন ৯ কার্যদিবস চলেছে। এ সময়ে ছয়টি বিল উত্থাপন ও পাস হয়েছে। বিভিন্ন বিধিতে মোট ১ হাজার ৬৭৮টি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নিজে ১৫টি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন।
সংবিধান অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় পরপর সংসদের অধিবেশন বসার ধারাবাহিকতায় তৃতীয় অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে উল্লেখ করে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, আগামী অধিবেশনও একই ধারায় অনুষ্ঠিত হবে।
ছবি : সংগৃহীত
পবিত্র হজের ২০২৭ সালের নিবন্ধন কার্যক্রম চলছে। সৌদি সরকারের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে হজযাত্রীদের নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের পর নিবন্ধনের সময় আর বাড়ানো হবে না। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ-২ শাখা থেকে গত ৯ সেপ্টেম্বর জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৭ সালের হজে বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত কোটা ৭৮ হাজার ৫০০ জন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ হাজার ৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ২ হাজার ৬৭৬ জনের নিবন্ধনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
গত ২৭ জুলাই থেকে হজের নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন হওয়ার পর বাংলাদেশের চূড়ান্ত হজযাত্রীর সংখ্যা সৌদি কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
এরপর চূড়ান্ত হজযাত্রীর সংখ্যার ভিত্তিতে সৌদি পর্বের অর্থ প্রেরণ, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ভিসার আবেদন, টিকাদান, হজ প্রশিক্ষণসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।
হজে গমনেচ্ছু ব্যক্তি, হজ এজেন্সি, হজ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়।
নিবন্ধন ও হজসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজবিষয়ক ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।