ছবি: সংগৃহীত।
ভারতঘনিষ্ঠ নেতা শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর বাংলাদেশে চীনের প্রভাব আরও বাড়ছে বলে মনে করছেন রাজনীতিক ও বিশ্লেষকেরা। যদিও তাদের মতে, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতকে পুরোপুরি উপেক্ষা করার সুযোগ বাংলাদেশের নেই।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট দিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। নির্বাচনে এগিয়ে থাকা দুই প্রধান দলই ঐতিহাসিকভাবে ভারতের সঙ্গে শেখ হাসিনার মতো ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখেনি। ২০০৯ থেকে টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগের কার্যক্রম এখন নিষিদ্ধ, আর তিনি স্বেচ্ছা নির্বাসনে দিল্লিতে অবস্থান করছেন।
এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছে চীন। সাম্প্রতিক সময়ে ভারত সীমান্তের কাছে একটি ড্রোন কারখানা স্থাপনের লক্ষ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছে বেইজিং। চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনকে প্রায়ই ঢাকায় বাংলাদেশি রাজনীতিক, কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠক করতে দেখা যাচ্ছে।
চীনা দূতাবাসের ফেসবুক পোস্ট অনুযায়ী, এসব বৈঠকে বিলিয়ন ডলার মূল্যের অবকাঠামো প্রকল্পসহ দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী তারেক রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ মনে করে, শেখ হাসিনার অপরাধে ভারত সহযোগী ছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘যে দেশ একজন সন্ত্রাসীকে আশ্রয় দিচ্ছে এবং আমাদের দেশকে অস্থিতিশীল করতে দিচ্ছে, তার সঙ্গে সম্পর্ক বা ব্যবসা করতে মানুষ রাজি হবে না।’
তবে তারেক রহমান নিজে তুলনামূলক সংযত সুরে কথা বলেছেন। গত সপ্তাহে রয়টার্সকে তিনি বলেন, ‘আমরা সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব চাইবো, তবে অবশ্যই আমার জনগণ ও দেশের স্বার্থ রক্ষা করে।’
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ঢাকা–দিল্লি সম্পর্ক আরও খারাপ হয়েছে, বিশেষ করে ক্রিকেটকে ঘিরে। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগে ভারতের হিন্দু সংগঠনগুলোর চাপে বাংলাদেশি তারকা ক্রিকেটার মুস্তাফিজুর রহমানকে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগ (আইপিএল)-এর একটি দল থেকে বাদ দেওয়া হয়।
এর জবাবে ঢাকা আইপিএলের সম্প্রচার নিষিদ্ধ করে। পাশাপাশি, টি২০ ক্রিকেট বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচ ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় সরানোর অনুরোধ জানানো হয়। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করলে বাংলাদেশ টুর্নামেন্ট থেকেই বাদ পড়ে।
বাংলাদেশ-ভারত দুই দেশই একে অপরের জন্য ভিসা প্রদানে কড়াকড়ি আরোপ করেছে। শেখ হাসিনার পতনের পর থেকে ভারত ও বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের প্রকাশ্য বৈঠকও খুব কম দেখা গেছে। তবে গত ডিসেম্বর ঢাকায় তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। সে সময় তিনি তারেক রহমানের মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় ভারতের পক্ষ থেকে সমবেদনা জানান।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার একাধিকবার শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য ভারতকে অনুরোধ জানালেও তাতে সাড়া মেলেনি। বিশেষ করে ঢাকার একটি আদালত গত বছর তাকে অভ্যুত্থানের সময় প্রাণঘাতী দমন অভিযান চালানোর দায়ে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পর এই দাবি জোরালো হয়।
জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই সহিংসতায় প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত এবং হাজার হাজার মানুষ আহত হন। তবে শেখ হাসিনা এসব হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
‘ধীরে ধীরে প্রভাব বাড়াচ্ছে চীন’
নির্বাচনের আগে বিএনপি ও তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী একে অপরের বিরুদ্ধে বিদেশি শক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ তুলেছে। জামায়াতের দাবি, বিএনপি ভারতের ঘনিষ্ঠ। অন্যদিকে বিএনপি পাকিস্তানের সঙ্গে জামায়াতের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরছে।
সাম্প্রতিক এক জনসভায় তারেক রহমান বলেন, ‘দিল্লিও নয়, পিন্ডিও নয়—সবার আগে বাংলাদেশ।’ এখানে তিনি ভারতের রাজধানী দিল্লি ও পাকিস্তানের সেনা সদর দপ্তর রাওয়ালপিন্ডির কথা উল্লেখ করেন।
ভারতীয় কর্মকর্তারা ব্যক্তিগতভাবে স্বীকার করেছেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না থাকায় বাংলাদেশে নতুন সরকার যে-ই গঠন করুক, তাদের সঙ্গেই দিল্লিকে কাজ করতে হবে। এ বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।
গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে চীনই সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার। দুই দেশের বার্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১৮ বিলিয়ন ডলার, যার প্রায় ৯৫ শতাংশই চীন থেকে আমদানি।
শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর চীনা কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে শত শত মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। হাসিনার শাসনামলে আদানি গ্রুপসহ একাধিক ভারতীয় সংস্থা বাংলাদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণ করলেও তার পতনের পর নতুন কোনো চুক্তি হয়নি।
নয়াদিল্লিভিত্তিক থিংক ট্যাংক সেন্টার ফর সোশ্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক প্রোগ্রেসের জ্যেষ্ঠ ফেলো কনস্টান্টিনো জাভিয়ার বলেন, ‘ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কের সংকটকে কাজে লাগিয়ে চীন প্রকাশ্য ও আড়াল—দুইভাবেই ধীরে ধীরে নিজের প্রভাব বাড়াচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা কমে যাওয়া এবং ট্রাম্পের শুল্কযুদ্ধের সুযোগ নিয়ে চীন নিজেকে আরও নির্ভরযোগ্য ও পূর্বানুমেয় অর্থনৈতিক অংশীদার হিসেবে তুলে ধরতে পেরেছে।’
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ চীনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করবে। কারণ বেইজিং তুলনামূলকভাবে বেশি অর্থনৈতিক প্রণোদনা দেয় এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার সময় হিন্দু সংখ্যালঘু ইস্যুতে ভারতের মতো বিতর্কে জড়ায় না।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের থমাস কিয়ান বলেন, ‘ঢাকা ও দিল্লি যদি সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে না পারে, তাহলে বাংলাদেশের পরবর্তী সরকারের জন্য বেইজিংয়ের দিকে পুরোপুরি ঝুঁকে পড়ার সম্ভাবনা আরও বাড়বে।’
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন নয়
তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, চীনের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর হওয়া মানেই ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা নয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লাইলুফার ইয়াসমিন বলেন, ‘বাংলাদেশের জন্য চীন ও ভারত—দুই দেশকেই প্রয়োজন। বিষয়টি বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখতে হবে। চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত হলেও কোনো সরকারই ভারতকে উপেক্ষা করার মতো অবিবেচক হবে না।’
তিনদিক থেকে ভারতের সীমান্তবেষ্টিত বাংলাদেশ বাণিজ্য, ট্রানজিট ও নিরাপত্তা সহযোগিতার জন্য প্রতিবেশী দেশটির ওপর নির্ভরশীল। অন্যদিকে, স্থলসীমান্ত ব্যবস্থাপনার জন্য ঢাকার সঙ্গে স্থিতিশীল সম্পর্ক প্রয়োজন ভারতেরও। শেখ হাসিনা ভারতে বিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সহযোগিতা করেছিলেন।
সরকারি তথ্যে দেখা যায়, রাজনৈতিক টানাপোড়েন সত্ত্বেও দুই দেশের বার্ষিক বাণিজ্য প্রায় ১৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে স্থিতিশীল রয়েছে, যেখানে বাংলাদেশের তুলনায় ভারতের রপ্তানি বেশি। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় আদানি গ্রুপ বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়িয়েছে, যদিও হাসিনার সময় নির্ধারিত উচ্চ শুল্কের সমালোচনা করেছে ঢাকা।
১৯৭১ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারত সহায়তা করলেও, পানি বণ্টন, সীমান্তে হত্যা এবং শেখ হাসিনার অজনপ্রিয় শাসনকে ভারত বৈধতা দিয়েছে—এমন ধারণা দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের সম্পর্কে বিরূপ প্রভাব ফেলেছে।
জেন জি–সমর্থিত ও জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা ভারতের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।
দলের প্রধান নাহিদ ইসলাম রয়টার্সকে বলেন, ‘এটি শুধু নির্বাচনি বক্তব্য নয়। তরুণদের মধ্যে ভারতের আধিপত্য গভীরভাবে অনুভূত হয় এবং এটি নির্বাচনের অন্যতম প্রধান ইস্যু।’
ছবি : সংগৃহীত
এখন থেকে মোটরসাইকেলের সামনের অংশে রেজিস্ট্রেশন নম্বর এক লাইনে লেখার অনুমতি দিতে পারবে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। পাশাপাশি মোটরসাইকেলের নকশা অনুযায়ী একাধিক মাপের নম্বরপ্লেট ব্যবহারের অনুমতিও দিতে পারবে সংস্থাটি। মোটরসাইকেলের সামনের নম্বরপ্লেট প্রদর্শনের নিয়মে পরিবর্তন এনে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
মূলত মোটরসাইকেলের সামনের অংশে নম্বরপ্লেট স্থাপন ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রদর্শনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিধিগত জটিলতা দূর করতে সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২ সংশোধন করেছে সরকার। সংশোধিত বিধিমালায় মোটরসাইকেলের সামনের নম্বরপ্লেটের নকশা, আকার, অক্ষরের উচ্চতা ও নম্বর লেখার বিন্যাসে পরিবর্তনের সুযোগ রাখা হয়েছে। এর ফলে মোটরসাইকেলের কাঠামো ও নকশা বিবেচনায় সামনে নম্বরপ্লেট স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পথ আরও সুগম হলো।
রোববার (১ নভেম্বর) প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ১২২ ধারায় দেওয়া ক্ষমতাবলে সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২-এর ৩৬ বিধি সংশোধন করা হয়েছে।
সংশোধিত বিধিমালায় বলা হয়েছে, মোটরসাইকেলের সামনের অংশে রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রদর্শনের ক্ষেত্রে আগে নির্ধারিত পদ্ধতির পাশাপাশি নম্বরটি একটি আনুভূমিক রেখায় লেখার অনুমতি দিতে পারবে কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া মোটরসাইকেলের নকশা অনুযায়ী সামনের রেজিস্ট্রেশন চিহ্ন একাধিক মাপের (দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ) বিপরীতমুখী রেট্রো-রিফ্লেক্টিভ প্লেটের ওপর প্রদর্শনের অনুমতি দিতে পারবে বিআরটিএ।
নতুন বিধিমালায় সামনের নম্বরপ্লেটের অক্ষরের উচ্চতা, জেলা বা অঞ্চলের নাম নির্দেশকারী অক্ষরের মাত্রা, যানবাহনের শ্রেণি নির্দেশকারী অক্ষরের উচ্চতা, প্লেটের ওপরের অংশে ফাঁকা জায়গা, দুটি সংখ্যার মধ্যবর্তী ফাঁকা জায়গা এবং দ্বিতীয় লাইনের সংখ্যাগুলোর মধ্যে হাইফেনের দৈর্ঘ্য নির্ধারণের ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে কর্তৃপক্ষকে।
এ ছাড়া একই লাইনে রেজিস্ট্রেশন নম্বর লেখার ক্ষেত্রে জেলা বা অঞ্চলের নাম নির্দেশকারী অক্ষর এবং যানবাহনের শ্রেণি নির্দেশকারী অক্ষরের পর নির্ধারিত দৈর্ঘ্যের হাইফেন ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, সড়ক পরিবহন বিধিমালার ৩৬ বিধির উপবিধি (১০) থেকে ‘মোটরসাইকেল এবং’ শব্দ দুটি বাদ দেওয়া হয়েছে। সংশোধিত বিধিমালা অবিলম্বে কার্যকর হবে।
গত ২৮ অক্টোবর সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের বিআরটিএ সংস্থাপন শাখা থেকে প্রজ্ঞাপনটি জারি করা হয়। এতে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বাক্ষর করেন উপসচিব আল-আমীন মো. নুরুল ইসলাম।
অপরদিকে মোটরসাইকেলের সম্মুখভাগে ম্যানুয়াল নম্বরপ্লেট সংযোজনের সময়সীমা বৃদ্ধি করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোটরসাইকেলের সম্মুখভাগে ম্যানুয়াল নম্বরপ্লেট সংযোজনের সুযোগ থাকছে।
এর আগে মোটরসাইকেলের সম্মুখভাগে ম্যানুয়াল নম্বরপ্লেট সংযোজনের নির্ধারিত সময়সীমা ১৫ নভেম্বরের পরিবর্তে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছিল। বিপুলসংখ্যক মোটরসাইকেলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নম্বরপ্লেট সংযোজন সম্পন্ন করা কঠিন বিবেচনায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এই সময় বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছিল।
এর আগে সড়ক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা জোরদারের লক্ষ্যে মোটরসাইকেলের পেছনে অনুমোদিত আরএফআইডি নম্বরপ্লেটের পাশাপাশি ১৫ নভেম্বরের মধ্যে সামনের দিকেও ম্যানুয়াল নম্বরপ্লেট সংযোজন বাধ্যতামূলক করেছিল বিআরটিএ। এক গণবিজ্ঞপ্তিতে সব মোটরসাইকেল মালিককে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেয়ার পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নম্বরপ্লেট সংযোজন না করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও সতর্ক করেছিল সংস্থাটি।
রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে শুরু হয়েছে বাংলাদেশ সোলার এক্সপো-২০২৬। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
এবারের বাংলাদেশ সোলার এক্সপোর মূল প্রতিপাদ্য ‘প্রতি ইঞ্চি ছাদ কাজে লাগাই, সৌরবিদ্যুতে আয় বাড়াই’।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মঞ্চে উপস্থিত রয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, অর্থসচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মিরানা মাহরুখ।এ ছাড়া অনুষ্ঠানে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত রয়েছেন।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মির্জা ফয়সল আমীন এবং সংরক্ষিত মহিলা আসন-২৩-এর উপনির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য এলিজা জামানের শপথগ্রহণ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) হওয়ার কথা রয়েছে।নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণ সংসদ ভবনস্থ স্পিকারের অফিসকক্ষে অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীরবিক্রম) সংসদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন।
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নবনির্বাচিত দুজন সংসদ সদস্যের শপথ মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হবে।
এর আগে শনিবার মির্জা ফয়সল আমীনকে বিজয়ী ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন।গত ২৯ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন ধানের শীষ প্রতীকে ২ লাখ ২৭ হাজার ৯১৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৫১৩ ভোট।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তৎকালীন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় নির্বাচন কমিশন (ইসি) ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য ঘোষণা করে।
অপরদিকে সোমবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসন-২৩ এর শূন্য পদে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী এলিজা জামানকে ‘সংসদ সদস্য’ হিসেবে নির্বাচিত ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
গত ১ অক্টোবর বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করায় আসনটি শূন্য হয়। পরে ১২ অক্টোবর নির্বাচন কমিশন এ আসনে উপনির্বাচনের তপসিল ঘোষণা করেছিল। তপসিল অনুযায়ী আগামী ১২ নভেম্বর ভোটগ্রহণের কথা থাকলেও একক প্রার্থী থাকায় আর ভোটের প্রয়োজন হয়নি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
দেশে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার ও সম্প্রসারণে নতুন সম্ভাবনা তৈরির লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো আয়োজন করা হয়েছে ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো ২০২৬’। দুই দিনব্যাপী এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে তিনি এ এক্সপোর উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করবেন।
এর আগে রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
মন্ত্রী জানান, ‘ছাদের প্রতিটি ইঞ্চি কাজে লাগান, সৌরবিদ্যুৎ থেকে আয় বাড়ান’ প্রতিপাদ্যে ৩ ও ৪ নভেম্বর দুই দিনব্যাপী এ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। এক্সপোটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
বিদ্যুৎ বিভাগ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের (ইডকল) যৌথ উদ্যোগে প্রথমবারের মতো এ আয়োজন করা হচ্ছে।
এক্সপো উপলক্ষে সৌরবিদ্যুতের বিভিন্ন দিক, দেশব্যাপী এর ব্যবহার সম্প্রসারণ, জাতীয় জ্বালানি মিশ্রণে সৌরবিদ্যুতের অংশ বাড়ানো এবং বাড়ির ছাদ ও অব্যবহৃত জমিতে সৌর প্যানেল স্থাপনে জনগণকে উৎসাহিত করার বিষয়ে চারটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে বিদ্যুতের ঘাটতি কমানো এবং গ্রীষ্মকালে জনদুর্ভোগ ন্যূনতম পর্যায়ে নামিয়ে আনতে সরকার কাজ করছে।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০২৬-২০৩০) বাস্তবায়নে সহায়তা এবং সৌরবিদ্যুতের প্রসারে সরকারি নীতি ও প্রণোদনা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের ধারণা দেওয়াই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
প্রদর্শনীতে সৌরবিদ্যুৎ খাতের আধুনিক প্রযুক্তি তুলে ধরার পাশাপাশি বিনিয়োগকারী, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে যোগাযোগ ও অংশীদারত্ব গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি করা হবে। এতে নীতিনির্ধারক, সরকারি সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি সরবরাহকারী, উদ্যোক্তা ও সাধারণ ভোক্তারা অংশ নেবেন।
এ ছাড়া সরকারি প্রণোদনা, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, কর ও শুল্ক সুবিধা, সবুজ ও জলবায়ু অর্থায়ন, কার্বন ক্রেডিট, সৌরচালিত সেচব্যবস্থা এবং প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের বিভিন্ন বিষয় প্রদর্শনীতে তুলে ধরা হবে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আহরণ প্রক্রিয়া গতিশীল করা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ সম্পদ ব্যবস্থাপনা অধিকতর জোরদার করার লক্ষ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ পাঁচ সদস্যের ‘কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন দল’ (প্রোগ্রাম ইমপ্লিমেন্টেশন টিম - পিআইটি) পুনর্গঠন করেছে।
রোববার (১ নভেম্বর) অর্থ বিভাগের বাজেট শাখা-৩ থেকে জারি করা এই সংক্রান্ত বিশেষ প্রজ্ঞাপনটি আনুষ্ঠানিকভাবে জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়।
প্রজ্ঞাপনের কার্যকারিতা ও প্রেক্ষাপট
প্রজ্ঞাপনটি গত ২৮ অক্টোবর জারি করা হলেও তা রোববার প্রকাশ করা হয়। এতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পুনর্গঠিত এই দলের মেয়াদ ও কার্যকারিতা ২০২৬ সালের ২৪ আগস্ট থেকে কার্যকর হয়েছে বলে গণ্য হবে।
অর্থ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব আনিছুর রহমান বালীর স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনটির অনুলিপি এনবিআর চেয়ারম্যানসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রধান দপ্তরসমূহে পাঠানো হয়েছে। মূলত অর্থ বিভাগ প্রণীত ‘সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা’ (পাবলিক ফাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট - পিএফএম) সংস্কারের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পিএফএম কর্মপরিকল্পনার আওতাধীন ‘কম্পোনেন্ট-২: ডমেস্টিক রিসোর্স মোবিলাইজেশন (ন্যাশনাল বোর্ড অব রেভিনিউ)’ নামক কৌশলগত অংশ মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যেই এই দল পুনর্গঠন করা হয়েছে।
পুনর্গঠিত টিমের সদস্যবৃন্দ
অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আদায়ে আধুনিক কৌশল প্রয়োগ ও তদারকি জোরদার করতে এনবিআরের অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত ৫ সদস্যের এই উচ্চপর্যায় কমিটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন:
* দলনেতা: কাজী লতিফুর রহমান — সদস্য (চলতি দায়িত্ব) (কর প্রশাসন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।
* সদস্য: মো. মনিরুজ্জামান — পরিচালক, সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি), এনবিআর।
* সদস্য: সিরাজুম মুনীর — প্রথম সচিব, কর অডিট, ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন, এনবিআর।
* সদস্য: তারেক হাসান — প্রথম সচিব, কাস্টমস নীতি, এনবিআর।
* সদস্য: নাজমা জ্যাবিন — দ্বিতীয় সচিব, কাস্টমস আধুনিকায়ন ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনা, এনবিআর।
মূল দায়িত্ব ও প্রত্যাশা
পুনর্গঠিত এই দলটি সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা (পিএফএম) কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখবে। তাদের প্রধান দায়িত্বগুলোর মধ্যে রয়েছে:
* দেশের অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণের নতুন সম্ভাবনা চিহ্নিত করা।
* কাস্টমস ও কর নীতি আধুনিকীকরণ।
* কর ফাঁকি রোধে সিআইসি ও অডিট শাখার কার্যকারিতা নিশ্চিত করা।
* কাস্টমস ডিজিটালাইজেশন ও নতুন রাজস্ব নীতি প্রণয়নের কাজ ত্বরান্বিত করা।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারের সামগ্রিক বাজেট ঘাটতি পূরণ এবং বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে একটি টেকসই ও স্বনির্ভর রাজস্ব ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এনবিআরের এই বাস্তবায়ন দল একটি কার্যকর কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করবে।
শ্রম ভবনে সংবাদ সম্মেলনে পোশাক শ্রমিকদের কারখানায় গিয়ে কাজে ফেরার আহ্বান জানান শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি বাবুল আখতার
ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে আন্দোলনরত পোশাক শ্রমিকদের কারখানায় ফিরে কাজে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শ্রমিক নেতারা। সোমবার ঢাকার বিজয়নগরে শ্রম ভবনে সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান তৈরি পোশাক শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি বোর্ডের শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি বাবুল আখতার। এ সময় ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িত না থেকেও আন্দোলনে অংশ নেওয়া শ্রমিক নেতাদের মুক্তি দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘দয়া করে আপনারা কারখানায় ফিরে কাজে যোগ দিন। আমরা আপনাদের ন্যায্য মজুরির জন্য লড়াই করব। প্রয়োজন হলে আন্দোলনে যোগ দিতে আপনাদের ডাকব।’
তিনি বলেছেন, ‘আমরা মজুরি বোর্ডে এমনভাবে কাজ করব, যাতে আগামী জানুয়ারি থেকে শ্রমিকেরা বাড়তি মজুরি হাতে পান। এ ক্ষেত্রে বিলম্ব হওয়ার কোনো কারণ নেই। সভা করার অজুহাতে নতুন মজুরি কার্যকরে কোনো বিলম্ব হতে দেব না।’
বাবুল আখতার বলেন, ‘চলমান মজুরি আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অজুহাতে কিছু শ্রমিক ও শ্রমিক নেতাকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, যেসব শ্রমিক ও শ্রমিক নেতা শুধু মজুরি–সংক্রান্ত ন্যায্য দাবি উত্থাপন বা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশগ্রহণের কারণে আটক হয়েছেন, তাঁদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া হোক এবং তাঁদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা ও ব্যবস্থা প্রত্যাহার করা হোক।’
তিনি বলেন, ‘আমরা শ্রমিক ভাইবোনদের আশ্বস্ত করতে চাই, মজুরি বোর্ডে আপনাদের প্রতিনিধি হিসেবে আমরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা, সততা এবং দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করব। আমরা একা কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চাই না। সব শ্রমিক ফেডারেশন, কারখানাভিত্তিক ইউনিয়ন এবং সাধারণ শ্রমিকদের মতামত নিয়ে একটি সম্মিলিত অবস্থান তৈরি করতে চাই।’
একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা সরকার ও মালিকপক্ষকে বলতে চাই, একটি গ্রহণযোগ্য মজুরিকাঠামো নির্ধারণের জন্য শ্রমিকদের বাস্তব জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি, পরিবারের মৌলিক চাহিদা এবং শিল্পের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিতে হবে।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন শ্রমিকপক্ষের স্থায়ী প্রতিনিধি আনোয়ার হোসাইন। আরও উপস্থিত ছিলেন শ্রমিক নেতা নাজমা আক্তার, আবুল হোসাইন, লাভলী ইয়াসমিন, সুলতানা বেগম প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, চলমান আন্দোলনে শ্রমিকদের কোনো উপকার হচ্ছে না; বরং এতে তাদের ন্যায্য দাবিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
আওয়াজ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক নাজমা আক্তার বলেন, এই পরিস্থিতির কারণে কারখানার মালিকেরা ক্রয়াদেশ হারাচ্ছেন। শ্রমিকদের আন্দোলনে কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী অনুপ্রবেশ করেছে কিনা, তা চিহ্নিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
রোববার তৈরি পোশাক শিল্পে শ্রমিকদের মজুরি পুনঃনির্ধারণে ৬ সদস্যের ‘নিম্নতম মজুরি বোর্ড’ গঠন করেছে সরকার। সচিবালয়ে রোববার সকাল সাড়ে ১১টায় এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন মজুরি বোর্ডের ঘোষণা দেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। দাবি পূরণ হওয়ায় সড়ক ছেড়ে কাজে ফিরে যেতে শ্রমকিদদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। শুক্রবার শ্রমিক নেতা এবং শনিবার তৈরি পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন মন্ত্রী। দুই পক্ষের আলোচনার পর রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে রোববার মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দেন তিনি।
ঘোষিত মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) শেখ আশফাকুর রহমানের নেতৃত্বে বাকি সদস্যরা হলেন, মালিক পক্ষের প্রতিনিধি বিজিএমইএর পরিচালক এ বি এম শামছুদ্দিন, শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের (বিজিআইডাব্লিউএফ) সাধারন সম্পাদক বাবুল আখতার, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশেনর যুগ্ন মহাসচিব আসিফ আইয়ুব ও নিরপেক্ষ দুই সদস্য মোসলেহ উদ্দিন আহমদ ও আনোয়ার হোসাইন। এই বোর্ড সব পদে শ্রমিকদের নূন্যতম মজুরির সুপারিশ করবে। বোর্ডের সুপারিশের ভিত্তিতে নতুন মজুরি কাঠামো ঘোষণা ও গেজেট হিসেবে প্রকাশ করবে সরকার।
সর্বশেষ ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে পোশাক খাতে ১২ হাজার ৫০০ টাকা নিম্নতম মজুরি ঘোষণা ও কার্যকর হয়। পরের মাস থেকে বর্ধিত মজুরি পেয়ে আসছেন শ্রমিকরা। সাধারণত প্রতি পাঁচ বছর পরপর পোশাক খাতে নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করে মজুরি পুনর্নির্ধারণ করা হয়। তবে গত ১০ এপ্রিল শ্রম আইন সংশোধন বিল সংসদে পাস হয়। এতে মজুরি পুনর্নির্ধারণের সময় পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে তিন বছর করা হয়। সেই হিসাবে নভেম্বর মাসে নতুন নিম্নতম মজুরি বোর্ড ঘোষণার কথা।