চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে অবস্থিত বন্ডেড অ্যাক্সেসরিজ প্রতিষ্ঠান জ্যাস অ্যাকসেসরিজ (বিডি) লিমিটেডে অভিযান চালিয়ে বন্ড সুবিধায় আমদানি করা ১৩ লাখ ৩৫ হাজার ২৭৫ দশমিক ৮ কেজি কাঁচামালের ঘাটতি পেয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। এসব কাঁচামালের শুল্ক-কর বাবদ প্রায় ৯ কোটি ১০ লাখ ৪৭ হাজার ১৫৪ টাকা রাজস্ব ঝুঁকিতে পড়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। আজ সোমবার এক সংবাদ বিবৃতিতে এসব তথ্য জানায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
এনবিআর জানায়, অভিযানে অনলাইন নথিতে থাকা মজুতের সঙ্গে বাস্তব মজুতের বড় ধরনের এমন অসংগতি পেয়েছে সংস্থাটি। জ্যাস অ্যাকসেসরিজ বিডি লিমিটেড বন্ডেড সুবিধার আওতায় এলডিপিই, এইচডিপিই, এলএলডিপিই, পিপি, জিপিপিএস, এইচআইপিএস, বিওপিপি, ডুপ্লেক্স বোর্ড ও রাবার থ্রেড ইয়ার্নসহ বিভিন্ন ধরনের কাঁচামাল শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানি করে।
পরিদর্শনের সময় প্রতিষ্ঠানের অনলাইন ইউপি বা কাঁচামাল ব্যবহারের অনুমতি সংক্রান্ত তথ্যের সঙ্গে বন্ডেড ওয়্যারহাউসে বাস্তবে থাকা কাঁচামালের পরিমাণ মিলিয়ে দেখা হয়। এতে বড় ধরনের অসংগতি ধরা পড়ে।
নথিপত্র অনুযায়ী, অনলাইন ইউপির হিসাবে প্রতিষ্ঠানটির বন্ডেড ওয়্যারহাউসে ১৯ লাখ ২০ হাজার ৮৫৭ কেজি কাঁচামাল থাকার কথা। কিন্তু সরেজমিনে পাওয়া গেছে মাত্র ৫ লাখ ৮৫ হাজার ৫৮১ দশমিক ২ কেজি।
অর্থাৎ নথিতে থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে পাওয়া যায়নি ১৩ লাখ ৩৫ হাজার ২৭৫ দশমিক ৮ কেজি কাঁচামাল। পরিমাণের হিসাবে ঘাটতি প্রায় ১৩ দশমিক ৩৫ লাখ কেজি।
সর্বশেষ আমদানি করা বিল অব এন্ট্রিতে ঘোষিত মূল্য অনুসারে না পাওয়া এসব কাঁচামালের মোট শুল্কায়নযোগ্য মূল্য প্রায় ২৪ কোটি ৯৬ লাখ ৬৭ হাজার ৬৪১ টাকা এবং সংশ্লিষ্ট শুল্ক-করাদির পরিমাণ প্রায় ৯ কোটি ১০ লাখ ৪৭ হাজার ১৫৪ টাকা।
বন্ড সুবিধায় শুল্কমুক্তভাবে আমদানিকৃত বিপুল পরিমাণ কাঁচামালের এ ধরনের ঘাটতির বিষয়টি কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে। কাঁচামালগুলো অনুমোদিত উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রমে যথাযথভাবে ব্যবহৃত হয়েছে কিনা, নাকি বন্ড সুবিধার অপব্যবহারের মাধ্যমে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে-তা অধিকতর যাচাই করা হচ্ছে। বিস্তারিত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় দলিলপত্র যাচাই শেষে প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি ও সিটিটিকে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে বন্দর রক্ষা কমিটির অবস্থান কর্মসূচি
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বাতিলের দাবি জানিয়েছে বন্দর রক্ষা আন্দোলনের নেতারা। অন্যথায় ৮ অক্টোবর চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা। আজ সোমবার সকালে বন্দরের প্রশাসনিক ভবনের বাইরে অবস্থান কর্মসূচি থেকে এসব ঘোষণা দেওয়া হয়।
চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটির ব্যানারে এই কর্মসূচিতে সরকারদলীয় শ্রমিক দল ও বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারাও অংশ নেন।কর্মসূচির কারণে বন্দরের প্রশাসনিক ভবনের দিকে যানবাহন চলাচল বেলা দেড়টা পর্যন্ত বন্ধ ছিল। এ সময় পুলিশ, বন্দর নিরাপত্তা বিভাগসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
১ অক্টোবর অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ১৫ বছরের জন্য বিদেশি অপারেটরের মাধ্যমে পরিচালনার জন্য রেয়াতি চুক্তির খসড়া নীতিগতভাবে অনুমোদন করা হয়। এখন কিছু প্রক্রিয়াগত কাজ সেরে চুক্তির পালা। চুক্তির আগেই বন্দর রক্ষা আন্দোলনের বানারে এই কর্মসূচির ঘোষণা এল।
আজকের অবস্থান কর্মসূচিতে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকন বলেন, ৮ অক্টোবর ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে এনসিটি ইজারা দেওয়ার বিষয়ে চুক্তি হতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে। যদি তা-ই হয়, তাহলে চুক্তি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর বন্ধ হয়ে যাবে। এমন আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি সরকারকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান।
বন্দর রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব ফজলুল কবির বলেন, সরকার যখন অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বিনিয়োগ বাড়ানোর মতো বড় চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে, তখন এনসিটি ও সিসিটির মতো কৌশলগত অবকাঠামো দীর্ঘমেয়াদি ইজারা দিতে কেন এত তাড়াহুড়া করছে, তা জনগণের কাছে ব্যাখ্যা করতে হবে।
জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার বললেন, বর্তমান বন্দর চেয়ারম্যান ডিপি ওয়ার্ল্ডের স্বার্থে কাজ করছেন। বন্দর ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন। তিনি বন্দর চেয়ারম্যানকে প্রত্যাহারের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
জাতীয়তাবাদী বন্দর শ্রমিক দলের নেতা হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম সরকার এনসিটি ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ বন্ধ করবে। শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে। কিন্তু আমরা হতাশ।’
ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের (টিইউসি) সভাপতি তপন দত্ত ঘোষণা দেন, দাবি আদায়ে ১৩ অক্টোবর চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যানকে ঘেরাও করা হবে। কার্যালয় থেকে বের হতে দেওয়া হবে না।
ডক শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন বললেন, বিদেশিদের ইজারা নিয়ে সরকার আমাদের বুঝিয়ে দেবে অন্যথায় আমরা নিজেরাই বুঝে নেব। এভাবে আমরা আর বসে থাকব না।
জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শ ম জামাল উদ্দিন বলেন, বন্দরের পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশিদের হাতে দেওয়া হলে তারা নামমাত্র কর দিয়ে বড় অংশের অর্থ নিয়ে যেতে পারে বলে তাঁদের আশঙ্কা। দেশীয় জনবল দিয়ে বন্দর পরিচালনা করলে এর আয় দেশের অর্থনীতিতেই থাকবে।
কর্মসূচিতে বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি এস কে খোদা তোতন, ডক শ্রমিক দলের সভাপতি মো. হারুন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি অশোক সাহা, বাসদ মার্ক্সবাদী চট্টগ্রাম জেলার সমন্বয়ক শফিউদ্দিন কবির আবিদ প্রমুখ বক্তব্য দেন।
ছবি : সংগৃহীত
বান্দরবানের থানচি উপজেলার তিন্দুবাজার এলাকায় পর্যটকবাহী একটি জিপগাড়ি (স্থানীয়ভাবে চাঁদের গাড়ি নামে পরিচিত) খাদে পড়ে দুই পর্যটক ঘটনাস্থলে নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন পাঁচজন।
আজ সোমবার বিকেল পৌনে চারটায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বলিপাড়া ব্যাটালিয়নের (৩৮ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ইয়াসির আরাফাত স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
দুর্ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে থানচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কানন সরকার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বলেন, আটজনের একটি পর্যটক দল চাঁদের গাড়িতে করে আলীকদম থেকে তিন্দুবাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে গাড়িটি খাদে পড়ে যায়। তিন্দু ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ক্রানি অং মারমা জানিয়েছেন, তিন্দুবাজারের মাত্র আধা কিলোমিটার আগে খাড়া পাহাড়ি সড়ক দিয়ে নামার সময় গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলে দুজন নিহত হয়েছেন। তিন্দুবাজারটি সাঙ্গুনদের রাজাপাথর বা বড়পাথর এলাকায়। সাঙ্গুর উজানে রাজাপাথর হয়ে রেমাক্রী এবং নাফাখুমে ভ্রমণের জন্য পর্যটকেরা এই পথে যাতায়াত করেন।
ঘটনাস্থল থেকে ফল ব্যবসায়ী মো. বেলাল থানচির স্থানীয় সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, নিহত দুজন হচ্ছেন মো. জসীম ও মো. জিয়াবুল। তাঁদের বাড়ি কক্সবাজারের খুটাখালী। আহত ব্যক্তিরা হলেন মো. রাসেল, লিটন শিকদার, কাদের হোসেন, শাহজালাল হোসেন, মো. লিটন।
বিজিবি বলীপাড়া ৩৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইয়াসির আরাফাত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, তিন্দু বিজিবি ক্যাম্পের ৬০০ মিটার দূরে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। বিজিবির সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে আলীকদম স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পাঠায়। নিহত দুজনের লাশ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া চলছে।
থানচি থানার ওসি কানন সরকার জানিয়েছেন, লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসার জন্য তাঁরা তিন্দু যাচ্ছেন। সেখানে গেলে দুর্ঘটনার ব্যাপারে আরও বিস্তারিত জানাতে পারবেন।
'সর্বজনীন বাসস্থান টেকসই নগরয়াণ'এই প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে ঠাকুরগাঁওয়ে বিশ্ব বসতি দিবস পালন উপলক্ষে র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ও গণপূর্ত বিভাগের সহযোগীতায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে একটি র্যালি বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে । পরে জেলা প্রশাসক এর সম্মেলন কক্ষে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় ঠাকুরগাঁও গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জনাব মো. মাজিদার রহমানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল হক ,বিশেষ অতিথির হিসেবে বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ নাজমুল হক সুমন, গণপূর্ত বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী মোঃ রেজাউল করিম , উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোশাররফ হোসেন সরকার ও আখতারুজ্জামান প্রমুখ।
সভায় বক্তারা বিশ্ব বসতি দিবসে সবার জন্য টেকসই নগর গগরায়ণ তোলার বিষয়ে নানা দিক নিয়ে আলোচনা করেন।
মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে রিপা আক্তারকে (২৭) নামক গৃহবধূকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন কর্তৃক শারীরিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় নির্যাতনের শিকার হওয়া গৃহবধূকে বাঁচাতে এসে মারধরের শিকার হয় ওই গৃহবধুর মা রুবি আক্তার (৫২)ও ছোট বোন ফাতেমা জান্নাত রিয়া (২২)। গত ২ অক্টোবর সন্ধ্যায় উপজেলার ভাগ্যকুল ইউনিয়নের মান্দ্রা গ্রামে এ নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা রুবি আক্তার বাদী হয়ে শ্রীনগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত দেবর হাসান হাওলাদারকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করেছে।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, মান্দ্রা গ্রামের প্রবাসী জসিম হাওলাদারের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে হয় রুবি আক্তারের মেয়ে রিপা আক্তারের। বিয়ের পর থেকেই পারিবারিক নানা কারণে শ্বশুরবাড়ির লোকজন রিপার ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। গত ২ অক্টোবর শাশুড়ি মনোয়ারা বেগম, দেবর হাসান হাওলাদার ও ননদ রুপা মার্জিনা আক্তার মিলে তাকে শারীরিক নির্যাতন করে। নির্যাতনের শিকার রিপা বিষয়টি মোবাইল ফোনে তার পরিবারকে জানালে তার মা রুবি আক্তার ও বোন ফাতেমা জান্নাত রিয়া তাকে নিজ বাড়িতে ফিরিয়ে নিতে আসেন। এসময় শ্বশুরবাড়ির লোকজন এসে কাঠের লাঠি ও লোহার রড দিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। বোনকে বাঁচাতে গেলে রিয়াকে মারধর করা হয় এবং মেয়েকে রক্ষা করতে গেলে মা রুবি আক্তারের মাথায় লাঠি দিয়ে সজোরে আঘাত করা হলে তিনি ঘটনাস্থলেই সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন।পরে স্থানীয় লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন। বর্তমানে তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শ্রীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জুয়েল মিঞা জানান, ঘটনার পরপরই লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে মামলার অন্যতম আসামি হাসান হাওলাদারকে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করেছে।
জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে যাওয়ার আট দিন পর নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী থানার একটি মামলায় আসামি হয়েছেন মো.আমির হোসেন ওরফে ইলিয়াস (৩৯) নামে এক যুবক। তার দাবি, ঘটনার সময় তিনি সৌদি আরবের জেদ্দা অবস্থান করছিলেন। ইলিয়াস সোনাইমুড়ী উপজেলার আমিশাপাড়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের আবিরপাড়া-শোকরপুর গ্রামের নতুন বাড়ির শামছুল হকের ছেলে।
ভুক্তভোগী পরিবারের ভাষ্য, ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের প্রায় দুই মাস পর ইলিয়াস সৌদি আরবে চলে যান। পরে চলতি বছরের ২০ মে ছুটিতে দেশে ফেরেন। এরপর গত ১২ সেপ্টেম্বর জীবিকার তাগিদে আবারও সৌদি আরবে যান। এর আট দিন পর ২০ সেপ্টেম্বর সোনাইমুড়ী থানায় করা একটি মামলায় তাকে ১২ নম্বর আসামি করা হয়। মামলায় মোট ১৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।
গণমাধ্যমের কাছে ইলিয়াস অভিযোগ করেন, তিনি একসময় যুবলীগের স্থানীয় কর্মী ছিলেন। তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় আসামি করা হয়েছে। “আমি গত ১২ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবে এসেছি। পরে জানতে পারি, ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে সোনাইমুড়ী হাইওয়ে সড়কে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলের অভিযোগে পুলিশ বাদী হয়ে ওই দিনই মামলা করে। মামলায় আমাকেও আসামি করা হয়। যাহার মামলার নম্বর ১৬। অথচ ওই সময় আমি সৌদি আরবে অবস্থান করছি।”
ইলিয়াস আরও অভিযোগ করেন, মামলা থেকে তার নাম বাদ দেওয়ার কথা বলে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি তার সঙ্গে যোগাযোগ করে টাকা দাবি করছেন। টাকা দিলে মামলা তুলে নেওয়া হবে বলেও তাকে জানানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও নোয়াখালীর পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ইলিয়াস।
এ বিষয়ে সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ কনস্টেবল আল আমিন সরদার
চট্টগ্রাম নগরে ছিনতাইকারী সন্দেহে তিন যুবককে ধাওয়া করতে গিয়ে বাসের ধাক্কায় গুরুতর আহত পুলিশ কনস্টেবল আল আমিন সরদার (২৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। আজ সোমবার ভোরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এর আগে রোববার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ওয়াসা মোড়ের ইস্পাহানি চেকপোস্ট এলাকায় দায়িত্ব পালনের সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে। আল আমিন সরদার সিএমপির অর্ডার ম্যানেজমেন্ট শাখায় কর্মরত ছিলেন। ২০২২ সালে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন। তার বাড়ি মাদারীপুর জেলায়। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত এবং এক সন্তানের জনক।
পুলিশ জানায়, রোববার সকালে ওয়াসা মোড়ের চেকপোস্টে দায়িত্ব পালনের সময় আল আমিনসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য সন্দেহজনকভাবে হাঁটতে থাকা তিন যুবককে থামার সংকেত দেন। এ সময় তাদের একজন পালানোর চেষ্টা করলে চেকপোস্টের ইনচার্জ এএসআই হিরণ মিয়া তার পিছু নেন। আল আমিনও মোটরসাইকেল নিয়ে অন্য পথ দিয়ে গিয়ে ওই যুবককে আটকানোর চেষ্টা করেন।
একপর্যায়ে আল আমিন মসজিদের পশ্চিম ফটকের দিকে এগিয়ে গেলে লিডার্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি বাস দ্রুতগতিতে এসে তাকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে চেকপোস্টে থাকা পুলিশ সদস্যরা স্থানীয়দের সহায়তায় বাসের চালক ও স্টাফকে আটক করেন।
আহত আল আমিনকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা আইসিইউতে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার ভোরে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় বাস চালক মোশাররফ (৩৮) ও স্টাফ জয় দাসকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বাসটিও জব্দ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সড়ক পরিবহন আইনে মামলা করা হয়েছে।
কোতোয়ালী থানার ওসি জাহেদুল কবির বলেন, চমেকের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কনস্টেবল আল আমিনের মৃত্যু হয়েছে। তার লাশের সুরতহাল সম্পন্ন হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।