ছবি: সংগৃহীত।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগণনা চলছে। এরই মধ্যে কিছু আসনে ফলাফলের তথ্য পাওয়া গেছে।
বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা না হলেও বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে পাওয়া হিসাব অনুযায়ী এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি এগিয়ে রয়েছে ৫টি আসনে। কেন্দ্রভিত্তিক ফল ঘোষণার পর আসনভিত্তিক সামগ্রিক ফল প্রকাশ করবেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। পরে তা নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে স্থাপিত ফল সংগ্রহ ও পরিবেশন কেন্দ্র থেকে ঘোষণা করা হবে।
যেসব আসনে ফলাফলের তথ্য পাওয়া গেছে সেগুলো হলো-
ঝিনাইদহ-১ আসনে এগিয়ে বিএনপির আসাদুজ্জামান
ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) আসনে বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষিত না হলেও বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে পাওয়া ফলাফলের হিসাবে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বিজয়ী হয়েছেন বলে জানা গেছে। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৭১ হাজার ৫৭৮ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের এএসএম মতিউর রহমান পেয়েছেন ৫৫ হাজার ভোট। ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ইউএনও মাহফুজুর রহমান বলেন, সমস্ত কেন্দ্রের ফলাফল না আসলেও প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে ধানের শীষের প্রার্থী মো. আসাদুজ্জামান অনেক ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে আছেন।
ভোলা-৩ আসন জয়ের পথে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ
ভোলা-৩ (লালমোহন-তজুমদ্দিন) আসনে সপ্তম বারের মতো সংসদ সদস্য হতে যাচ্ছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)। দুই উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে মোট ১১৯ কেন্দ্রের মধ্যে ১১৯ কেন্দ্রের সবগুলো ফলাফল পাওয়া গেছে। কেন্দ্র থেকে দলীয় এজেন্টদের পাওয়া তথ্যে হাফিজ উদ্দিন আহমদ ধানের শীষ প্রতীকে ১১৯ কেন্দ্রে পেয়েছেন ১ লাখ ৫১ হাজার ৭৭৪ ভোট। ১১ দলীয় জোটের মুহা. নিজামুল হক নাঈম (ফুলকপি) পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৬৬০ ভোট।
লালমোহন উপজেলার মোট ৮৩ কেন্দ্রের মধ্যে সবগুলো কেন্দ্রে হাফিজ উদ্দিন আহমদ (ধানের শীষ) পেয়েছেন ১ লাখ ৩ হাজার ২৬৯ ভোট। ১১ দলীয় জোটের মুহা. নিজামুল হক নাঈম (ফুলকপি) পেয়েছেন ৪১ হাজার ৭৮ ভোট। তজুমদ্দিন উপজেলার ৩৬ কেন্দ্রের সবগুলোর ফলাফলে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী পেয়েছেন ৪৮ হাজার ৫০৫ ভোট। ফুলকপি প্রতীকের প্রার্থী পেয়েছেন ১৪ হাজার ৫৮২ ভোট। উপজেলা সককারী রিটার্নিং অফিসার মো. শাহ আজীজ জানান, পূর্ণাঙ্গ ফলাফল পেতে রাত ১১টা থেকে ১২টা বাজতে পারে।
হবিগঞ্জ–৪ আসনে এগিয়ে বিএনপির সৈয়দ ফয়সল
হবিগঞ্জ–৪ (মাধবপুর–চুনারুঘাট) আসনে জয়ের দ্বারপ্রান্তে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী বিএনপি নেতা সৈয়দ মো. ফয়সল। এ আসনের ১৮৪টি কেন্দ্রের মধ্যে ১২৫টি আসনের প্রাথমিক ফলাফল অনুসারে ৮০ হাজারেরও বেশি ভোটে এগিয়ে সৈয়দ ফয়সল। প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যায়, ১২৫টি কেন্দ্রে সৈয়দ মো. ফয়সল পেয়েছেন ১ লাখ ৩২ হাজার ২৮৪ ভোট। সমপরিমাণ আসনে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী, ইসলামী ফ্রন্টের মোমবাতি প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা গিয়াস উদ্দিন পেয়েছেন ৫১ হাজার ৯৪৮ ভোট।
ঠাকুরগাঁও -১ আসনে বিএনপির মির্জা ফখরুল এগিয়ে
ঠাকুরগাঁও -১ (সদর) আসনের ৯৩টি কেন্দ্রে ১ লাখ ১৫ হাজার ৭৭ ভোট পেয়ে এগিয়ে আছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (ধানের শীষ)। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন (দাঁড়িপাল্লা) ৬৭ হাজার ৫১৮ ভোট পেয়েছেন।
কুড়িগ্রাম-৪ আসনে জামায়াত প্রার্থী এগিয়ে
কুড়িগ্রাম-৪ (রৌমারী, রাজীবপুর ও চিলমারী) আসনে বেসরকারি ফলাফলে বিজয়ী হয়েছেন ১১ দলীয় জোট সমর্থিত জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক। ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক নিয়ে তিনি তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ও আপন বড় ভাই বিএনপি প্রার্থী আজিজুর রহমানকে ২০ হাজর ৯৯৮ ভোটে পরাজিত করেছেন। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মোট ভোট পান ৭৮ হাজার ৯৪৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আজিজুর রহমান ধানের শীষ প্রতীকে পান ৫৭ হাজার ৯৪৫ ভোট।
সুনামগঞ্জের ৫টি আসনে এগিয়ে বিএনপি
সুনামগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির কামরুজ্জামান কামরুল বিজয়ী হয়েছেন। তারঁ নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতের তোফায়েল আহমদ খান।
সুনামগঞ্জ-২ আসনে (দিরাই ও শাল্লা) বিএনপির প্রার্থী মো. নাছির চৌধুরী এগিয়ে আছেন। বিএনপি প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট রুদ্র মিজান জানিয়েছেন, রাত আটটা পর্যন্ত ১১১টি কেন্দ্রের মধ্যে ৮৮টি কেন্দ্রের ফল পেয়েছেন তাঁরা। ৮৮টি কেন্দ্রে নাছির চৌধুরী ধানের শীষ প্রতীকে ৭৪ হাজার ২৮৯ ভোট পেয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শিশির মনির পেয়েছেন ৪২ হাজার ৪৬৭ ভোট। ৮৮ কেন্দ্রে নাছির চৌধুরী ৩১ হাজার ৮২০ ভোটে এগিয়ে আছেন। এরই মধ্যে নাছির চৌধুরীকে অভিনন্দনও জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ শিশির মনির।
বৃহস্পতিবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে শিশির মনির লিখেছেন, ‘আমার আসনে বিজয়ী ধানের শীষ প্রার্থী নাসির উদ্দিন চৌধুরীকে অভিনন্দন। আপনাকে ফুলেল শুভেচ্ছা।’
সুনামগঞ্জ-৩ আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র আনোয়ার হোসেন।
সুনামগঞ্জ-৪ আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির নূরুল ইসলাম নূরুল। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মো. সামছ উদ্দিন।
সুনামগঞ্জ-৫ আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছেন জামায়াতের আবু তাহির মোহাম্মদ আব্দুস সালাম।
রাজবাড়ীর ২ আসনেই এগিয়ে বিএনপি
রাজবাড়ীর দুটি আসনেই এগিয়ে আছেন বিএনপি প্রার্থীরা। রাজবাড়ী-১ (রাজবাড়ী সদর-গোয়ালন্দ) আসনে ১৫৬টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৪৪ কেন্দ্রে বিএনপির আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম (ধানের শীষ) পেয়েছেন ১ লাখ ৪৪ হাজার ৮৮২ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ৯২ হাজার ২৭৮ ভোট।
রাজবাড়ী-২ (পাংশা-বালিয়াকান্দি-কালুখালী) আসনে ১৯৮ কেন্দ্রের মধ্যে ৬৮টি কেন্দ্রের ফল পাওয়া গেছে। বিএনপির হারুন অর-রশিদ (ধানের শীষ) পেয়েছেন ৭৬ হাজার ৭৪৩ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপির জামিল হিজাযী (শাপলা কলি) পেয়েছেন ২২ হাজার ১৫১ ভোট।
পাবনার ৫টি আসনের ৩টিতে জামায়াত, ২টিতে বিএনপি
পাবনার ৫টি সংসদীয় আসনের মধ্যে জামায়াত তিনটিতে এবং দুটি আসনে বিএনপি বিজয়ী হয়েছে। পাবনা-১ (সাঁথিয়া) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ড.ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ২৮ হাজার ৬২৪ ভোট পেয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ভিপি শামসুর রহমান পেয়েছেন ১ লাখ ৩ হাজার ৬৫৮ ভোট। পাবনা ২ (সুজানগর-বেড়া) আসনের বিএনপির অ্যাডভোকেট একেএম সেলিম রেজা হাবিব, পাবনা-৩ (চাটমোহর-ভাঙ্গুড়া-ফরিদপুর) আসনে জামায়াতের মাওলানা আছগার আলী, পাবনা ৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনে জামায়াতের অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল এবং পাবনা ৫ (সদর) আসনের বিএনপির অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বিজয়ী হয়েছেন।
বগুড়ায় তারেক রহমান বিজয়ী হচ্ছেন
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়া-৬ (সদর) আসন থেকে বিপুল ভোটে জয়ী হতে যাচ্ছেন। তিনি ১৫০টি কেন্দ্রের সবগুলোতেই বিজয়ী হয়েছেন। বগুড়া সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাফতুন আহম্মেদ খান রুবেল জানান, ৬৭টি কেন্দ্রের ফলাফলে তারেক রহমান পেয়েছেন ১ লাখ ১৫ হাজার ৩২ ভোট। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লার জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল পেয়েছেন ৩৮ হাজার ৩৫৬ ভোট।
চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে জামায়াত প্রার্থী জয়ী
১৮০টি কেন্দ্রের মধ্যে বিএনপির প্রার্থী শরিফুজ্জামান শরীফ ১ লাখ ৫১ হাজার ৮৪৮ ভোট পেয়েছেন। জামায়াতের প্রার্থী মাসুদ পারভেজ রাসেল পেয়েছেন ২ লাখ ১১ হাজার ১৫৫ ভোট।
ফরিদপুর–২ আসনে এগিয়ে বিএনপি
এ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির শামা ওবায়েদ ইসলাম (১,২১,০৮১) ভোট পেয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রিকশা প্রতীকে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আকরাম আলী ৮৭ হাজার ২৫০ ভোট পেয়েছেন।
মৌলভীবাজার-৪ আসনে বিএনপি জয়ী
মৌলভীবাজার–৪ (শ্রীমঙ্গল–কমলগঞ্জ) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মুজিবুর রহমান চৌধুরী (হাজী মুজিব) ধানের শীষ প্রতীকে ১,৬৯,৬০৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় ঐক্যজোট সমর্থিত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী শেখ নূরে আলম হামিদী রিকশা প্রতীকে পেয়েছেন ৪৯,১৮৯ ভোট। বিএনপি প্রার্থী ১,২০,৪১৯ ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হন। এছাড়া বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী মহসিন মিয়া মধু ফুটবল প্রতীকে ৩৩,৯১১, এনসিপি মনোনীত প্রার্থী প্রীতম দাশ শাপলা কলি প্রতীকে ৪,৮৭৫, বাসদ মনোনীত প্রার্থী মো. আবুল হাসান মই প্রতীকে ৯৬৯ এবং জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী মোাহাম্মদ জরিপ হোসেন লাঙ্গল প্রতীকে ৯১০ ভোট পেয়েছেন। কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল উপজেলার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বরিশাল-৫ আসনে বিএনপি জয়ী
১৭৬ কেন্দ্রে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার ১ লাখ ৩১ হাজার ৪৩১ ভোট পেয়েছেন। হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী ফজলুল করিম পেয়েছেন ৯৩ হাজার ৫২৮ ভোট।
মাগুরা ২টি আসনে বিএনপি প্রার্থী জয়ী
মাগুরা -১ আসনে বিএনপি প্রার্থী মনোয়ার হোসেন খান ১৮৪১৮৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রার্থী জামায়াতে ইসলামের অবদুল মতিন পেয়েছেন ৮৩৭৮৩। এ আসনে ৫২টি কেন্দ্রে হ্যাঁ ভোট পড়েছে ৫৫৩৬৬। না ভোট পড়েছে ৩১৬২২। মাগুরা-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী নিতাই রায় চৌধুরী ১৫০১৮০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রার্থী জামায়াতে ইসলামের মুশতারশেদ বিল্লা পেয়েছেন ১১৭৮০৭। এ আসনে ২৭টি কেন্দ্রে হ্যাঁ ভোট পড়েছে ১১৬০৫টি। না ভোট ১০০৪২টি।
চুয়াডাঙ্গার ২ আসনে জামায়াত প্রার্থী জয়ী
চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে জামায়াত প্রার্থী মো রুহুল আমিন ভোট পেয়েছেন ২ লাখ ১০ হাজার ১১১ ভোট। বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ১ লাখ ৬৩ হাজার ২৯৯ ভোট পেয়েছেন। ৪৬ হাজার ৮১২ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াত প্রার্থী। এ আসনে ভোট কেন্দ্র ১৭৪টি।
চুয়াডাঙ্গা -১ আসনে ১৮০টি কেন্দ্রের ফলাফলে ১১ দলীয় জোট (জামায়াত) প্রার্থী মাসুদ পারভেজ রাসেল পেয়েছেন ২ লাখ ১১ হাজার ১৫৫ ভোট। বিএনপি প্রার্থী শরীফুজ্জান শরীফ পেয়েছেন ১ লাখ ৫১ হাজার ৮৪৮ ভোট। দলীয় অফিস সূত্রে মাসুদ পারভেজ রাসেল ৫৯ হাজার ৩০৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
কুষ্টিয়া-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী রেজা আহমেদ জয়ী
এ আসনে বিএনপির প্রার্থী ধানের শীষের প্রতীকে রেজা আহমেদ ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী দাঁড়িপাল্লার প্রতীকে মাওলানা বেলাল উদ্দীন ৮৫ হাজার ৮৫ ভোট পেয়েছেন।
ঢাকা-২০ (ধামরাই) আসনে বিএনপি জয়ী
এ আসনে বিএনপি প্রার্থী তমিজ উদ্দিন (ধানের শীষ) নির্বাচিত হয়েছেন। ১৪৭টি কেন্দ্রে তিনি ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ৬০ হাজার ৪২৮। নিকটতম জামায়াত সমর্থিত এনসিপির প্রার্থী নাবিলা তাসনিদ (শাপলা কলি) ভোট পেয়েছেন ৫৬ হাজার ৩৪৩। খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুফতি আশরাফ আলী (দেয়াল ঘড়ি) পেয়েছেন ৯ হাজার ৮৩ ভোট, জাতীয় পার্টির আহছান খান (লাঙ্গল) পেয়েছেন ৩ হাজার ৭৬ ভোট, এবি পার্টির কর্নেল হেলাল উদ্দিন (ঈগল) পেয়েছেন ৪৭৮ ভোট ও জাসদের প্রার্থী আরজু মিয়া (মোটরগাড়ি) পেয়েছেন ১৯৮ ভোট।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় অনূর্ধ্ব-১৮ দলের ক্রিকেটার মেহেদী হাসান হৃদয়।
কয়েক মাস ধরে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় অনূর্ধ্ব-১৮ দলের ক্রিকেটার মেহেদী হাসান হৃদয়। তবে শেষ পর্যন্ত প্রাণঘাতী ব্লাড ক্যানসারের কাছে হার মানতে হলো এই সম্ভাবনাময় বাঁহাতি পেসারকে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন হৃদয়। তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
শোকবার্তায় বিসিবি জানায়, তরুণ ক্রিকেটার মেহেদী হাসান হৃদয়ের মৃত্যুতে তারা গভীরভাবে শোকাহত। লিউকেমিয়ার সঙ্গে লড়াই করতে করতেই আজ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। চট্টগ্রাম বিভাগীয় অনূর্ধ্ব-১৮ দলের হয়ে খেলা হৃদয় ছিলেন একজন সম্ভাবনাময় বাঁহাতি পেস বোলার। তার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে বিসিবি।
অ্যাকিউট মায়েলয়েড লিউকেমিয়া (এএমএল) নামের রক্ত ও অস্থিমজ্জার দ্রুত বর্ধনশীল ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন হৃদয়। তার চিকিৎসার জন্য সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল বিসিবি ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। গত জুলাইয়ে হৃদয়ের চিকিৎসার জন্য পাঁচ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেয় বিসিবি। একই পরিমাণ অর্থ সহায়তা দেয় ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ও।
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। এটি বর্তমানে পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও আশেপাশের এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘণীভূত হতে পারে। আজ শনিবার এমন পূর্বাভাস জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
বঙ্গোপসাগরের এই সুস্পষ্ট লঘুচাপটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বলে জানা গেছে। ঘূর্ণিঝড়টি তৈরি হলে এর সম্ভাব্য লক্ষ্যস্থল হতে পারে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ বা তামিলনাড়ু উপকূল। এর প্রভাবে আগামী মঙ্গলবার দেশের উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। রাজধানী ঢাকাতেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক বলেন, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টি তৈরি হলে এর নাম হতে পারে ‘অর্ণব’।
আগামী সোমবার এটি উপকূলে আঘাত হানতে পারে। তবে বাংলাদেশে এর প্রভাব খুব বেশি অনুভূত হওয়ার আশঙ্কা নেই। এর প্রভাবে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। ঢাকায় বৃষ্টি হতে পারে মঙ্গলবারের দিকে। তবে বৃষ্টির পরিমাণ খুব বেশি নাও হতে পারে।
এদিকে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে দেশের বেশির ভাগ এলাকায় বৃষ্টি নেই। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণাধীন ৫১টি স্টেশনের কোনো স্টেশনেই শুক্রবার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়নি। আবহাওয়াবিদেরা বলছেন, গত কয়েক দিনে বঙ্গোপসাগরে একের পর এক লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর পাশাপাশি পশ্চিমা বায়ুর প্রভাব বেশি থাকায় বাতাস সাগরমুখী হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের স্থলভাগে বৃষ্টির সম্ভাবনা কমে যায়। দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য বাড়ছে। দিনের বেলায় গরম থাকলেও রাত ও ভোরের দিকে তাপমাত্রা কমে আসছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে শীতের আমেজ অনুভূত হতে শুরু করেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আজ সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগের দুই-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। এই সময়ে সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। সকাল ৬টার আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল সন্দ্বীপ ও চট্টগ্রামের আমবাগানে, ৩৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ১৭ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আগামীকাল রোববার অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
সোমবার চট্টগ্রাম বিভাগের দু'এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।
মঙ্গলবার খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।
বুধবার রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস নেই
পাইপলাইনের জরুরি লিকেজ মেরামত কাজের জন্য আজ শনিবার টানা ৪ ঘণ্টা রাজধানীর বেশকিছু এলাকায় গ্যাস থাকবে না।
গতকাল শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিসন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পাইপলাইনের জরুরি লিকেজ মেরামত কাজের জন্য শনিবার দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রাজধানীর নতুন বাজার থেকে কুড়িল বিশ্বরোড পর্যন্ত রাস্তার উভয় পাশের নর্দ্দা, কালাচাঁদপুর, বসুন্ধরা, জোহার সাহারা, ভাটারা ও বারিধারা জে ব্লকসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
সাময়িক এ অসুবিধার জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার গ্রাহকদের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।
লাউ ও পেঁপে উৎপাদন
এক টাকায় চারটি লাউ। আর এক কেজি পেঁপে বিক্রি হচ্ছে মাত্র দুই থেকে তিন টাকায়। উৎপাদন খরচ তো দূরের কথা, অনেক ক্ষেত্রে ফসল তোলার শ্রমিকের মজুরি ও পরিবহন খরচও উঠছে না। তাই জমিতে ফলনভরা লাউয়ের গাছ কেটে ফেলছেন কৃষক। পেঁপে পেকে নষ্ট হচ্ছে গাছেই। অথচ রাজধানীর বাজারে একটি লাউয়ের দাম ৪০ থেকে ৬০ টাকা, পেঁপেও বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি প্রায় ৩০ টাকায়।
পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এবার লাউয়ের ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি হওয়ায় দর পড়ে গেছে। কোথাও চারটি লাউ বিক্রি হচ্ছে এক টাকায়, কোথাও প্রতিটি লাউয়ের দাম দুই থেকে পাঁচ টাকা। অথচ স্থানীয় খুচরা বাজারে একটি লাউয়ের দাম ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত।
আটোয়ারীর মির্জাপুর ইউনিয়নের তেলিপাড়া এলাকার কৃষক দুলাল ইসলাম ৪০ শতক জমিতে লাউ চাষ করেছিলেন। তাঁর খরচ হয়েছে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা। কিন্তু এ পর্যন্ত লাউ বিক্রি করে পেয়েছেন মাত্র তিন হাজার টাকা। এই অর্থে শ্রমিকের মজুরি দেওয়াও সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।
এই কৃষক আরও বলেন, দুই থেকে তিন হাজারটি লাউ বিক্রি করেও এক কেজি গরুর মাংস কেনার টাকা হয় না। লোকসানের কারণে শেষ পর্যন্ত বাগান কেটে ফেলেছেন। কিছু লাউ গরুকে খাওয়াচ্ছেন। তাঁর প্রশ্ন, কৃষক এত কষ্ট করে ফসল ফলিয়ে দাম না পেলে চাষ করবেন কীভাবে?
একই উপজেলার ঝলঝলি উলারচাপ এলাকার কৃষক আনসারুল ইসলাম ১০ দিন ধরে লাউয়ের বাগানের পরিচর্যা বন্ধ রেখেছেন। সার-কীটনাশকের দাম ও শ্রমিকের মজুরি বাড়লেও লাউয়ের দাম মিলছে সর্বোচ্চ পাঁচ টাকা পর্যন্ত। একজন শ্রমিককে দিনে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা দিতে হয়। এ অবস্থায় বাগানে পরিচর্যা চালিয়ে যাওয়াকে লোকসান আরও বাড়ানোর শামিল মনে করছেন তিনি।
পেঁপের বাজারেও একই চিত্র। ঢাকার অদূরে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় এবার প্রায় ৯০০ হেক্টর জমিতে পেঁপে চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
অনুকূল আবহাওয়া, উচ্চফলনশীল জাতের বিস্তার ও আবাদ বাড়ায় উৎপাদন বেড়েছে। কিন্তু বাজারে একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ পেঁপে আসায় দাম নেমে গেছে অস্বাভাবিকভাবে।
সিংগাইরে জমিতে পেঁপে বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি দুই থেকে তিন টাকা। এ দামে পণ্য বিক্রি করে জমির ভাড়া, বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমের খরচ তোলা সম্ভব হচ্ছে না। অনেক কৃষক গাছ থেকে পেঁপে তুলছেন না। কোথাও পাকা পেঁপে নষ্ট হচ্ছে। কোথাও গাছ কেটে বিকল্প ফসল চাষের প্রস্তুতি চলছে।
সিংগাইরের গোপালনগর গ্রামের কৃষক দেলোয়ার হোসেন দুই বিঘা জমিতে পেঁপে চাষে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা ব্যয় করেছেন। কিন্তু ক্রেতারা কেজিপ্রতি দুই থেকে তিন টাকার বেশি দিতে চাইছেন না। এই দামে শ্রমিক ও ভ্যানভাড়া দেওয়াই কঠিন বলে জানান তিনি।
সিংগাইরের আরেক কৃষক তাজুল সিকদার লোকসানের কারণে দুই বিঘা জমির পেঁপে গাছ কেটে ফেলেছেন। উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করে খরচের সামান্য অংশও ফেরত না পাওয়ায় অন্য ফসলের দিকে ঝুঁকছেন তিনি।
কৃষকদের আশঙ্কা, এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে আগামী মৌসুমে পেঁপে চাষে আগ্রহ কমে যাবে।
এ দিকে ঢাকার পাইকারি বাজারেও এক সপ্তাহ ধরে কাঁচা পেঁপে কেজিপ্রতি চার থেকে ১০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে খুচরা বাজারে পেঁপের দাম কেজিপ্রতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল।
গত বছরের বেশি দামের অভিজ্ঞতায় এবার কৃষক ও ব্যবসায়ীরা বেশি লাভের আশায় উৎপাদন এবং আগাম বিনিয়োগ বাড়িয়েছিলেন। কিন্তু ফলন ও সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় বাজারের হিসাব উল্টে গেছে।
কারওয়ান বাজারের পেঁপে ব্যবসায়ী মাহফুজুর রহমান গত বছর ভালো দাম পাওয়ার অভিজ্ঞতায় এবার পাঁচ জেলার কৃষকদের তিন কোটি টাকা অগ্রিম দিয়েছিলেন। তাঁর আশা ছিল, এবারও বাজার ভালো থাকবে। কিন্তু দাম পড়ে যাওয়ায় সেই বিনিয়োগ ফেরত পাওয়া নিয়েই এখন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ওই ব্যবসায়ী জানান, কয়েক দিন ধরে তিনি পেঁপে কেজিপ্রতি ছয় থেকে সাত টাকায় বিক্রি করেছেন। এক পর্যায়ে দাম নেমে আসে চার টাকায়। অথচ চুয়াডাঙ্গা ও যশোর থেকে ঢাকায় পেঁপে আনতেই কেজিপ্রতি পরিবহন খরচ চার টাকার বেশি পড়ে। তিন কোটি টাকা অগ্রিম দেওয়ার পর এর ৫০ লাখ টাকাও ফেরত পাবেন কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি। ব্যাংক ঋণ ও সুদের টাকা কীভাবে পরিশোধ করবেন, তা নিয়েও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন এই ব্যবসায়ী।
মানিকগঞ্জের সিংগাইর থেকে তিন টন পেঁপে কারওয়ান বাজারে এনেছিলেন অজি উল্যাহ। তাঁর হিসাব অনুযায়ী, জমির ভাড়া, বীজ, সারসহ উৎপাদন খরচ কেজিপ্রতি ১০ থেকে ১২ টাকা। এর সঙ্গে পরিবহন ও শ্রমিকের খরচ যোগ হয় আরও তিন টাকা।
অর্থাৎ ঢাকার বাজারে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতি কেজি পেঁপেতে খরচ দাঁড়ায় ১৩ থেকে ১৫ টাকা। অথচ তাঁকে পেঁপে বিক্রি করতে হয়েছে কেজিপ্রতি ছয় থেকে আট টাকায়। প্রতি কেজিতে লোকসান হয়েছে অর্ধেকেরও বেশি।
কারওয়ান বাজারে ২০ বছর ধরে সবজি বিক্রি করছেন আবু বকর। তিনি জানান, পেঁপের দাম এতটা কমে যেতে তিনি আগে কখনও দেখেননি।
এদিকে আগাম শীতকালীন সবজি বাজারে আসতে শুরু করলেও সব পণ্যের দাম একসঙ্গে কমেনি। বগুড়ার মহাস্থান পাইকারি বাজারে এক সপ্তাহের ব্যবধানে পটোলের দাম কেজিপ্রতি ৪০ টাকা থেকে কমে ২৫-৩০ টাকা, করলার দাম ৫৫ থেকে ৪৫ টাকা, ফুলকপির দাম ৭০-৮০ থেকে ৬০ টাকা এবং মুলার দাম ৩৫ থেকে ২২ টাকায় নেমেছে। কিন্তু বগুড়া শহরের ফতেহ আলী বাজারে পটোল ৫০-৬০ টাকা, করলা ৮০ টাকা এবং ফুলকপি ১৬০ টাকা দরে বিক্রির তথ্য পাওয়া গেছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরেজমিন উইংয়ের পরিচালক ওবায়দুর রহমান মণ্ডল বলেন, বাজারে শীতের সবজি চলে এসেছে। ফলে মানুষের এখন আগ্রহ আগাম শীতের সবজির দিকে। লাউ এবং পেঁপে সারাবছর পাওয়ার কারণে মানুষ এখন এই দুই সবজির দিকে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এ ছাড়া পেঁপে ও লাউয়ের আবাদ ও উৎপাদন দুটিই বেড়েছে। অনেক জেলায় উচ্চ ফলনশীল হাইব্রিড জাতের পেঁপে ও লাউ চাষের বিস্তার ঘটেছে। বেশি জমিতে আবাদ ও ভালো ফলনের কারণে বাজারে সরবরাহ বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে দামে।
কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, লাউ এবং পেঁপের বাজারের চিত্র কৃষিপণ্যের বিপণনব্যবস্থার একটি বড় সংকট সামনে এনেছে। উৎপাদন বাড়লেও সেই পণ্য লাভজনক দামে বিক্রি করার নিশ্চয়তা নেই কৃষকের। দ্রুত পচনশীল পণ্য দীর্ঘ সময় ধরে রেখে দাম বাড়ার অপেক্ষা করার সুযোগ কৃষকের নেই। বাজারে সরবরাহ বেড়ে গেলে দ্রুত বিক্রি করতে গিয়ে তাঁকে লোকসান মেনে নিতে হয়। সংরক্ষণাগার, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং দূরের বাজারে পণ্য পাঠানোর কার্যকর ব্যবস্থা না থাকলে এই ঝুঁকি থেকেই যায়। কম দামে পণ্য পেয়ে ভোক্তার সাময়িক স্বস্তি মিললেও উৎপাদক যদি উৎপাদন খরচই তুলতে না পারেন, তাহলে পরের মৌসুমে সেই ফসল চাষে তাঁর আগ্রহ ও সক্ষমতা- দুটিই কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
তিনি বলেন, ভারত ‘মিনিমাম সাপোর্ট প্রাইস’ নামে একটি স্কিম চালু করেছে, যা কৃষকের নিজের উৎপাদিত ফসলের নির্দিষ্ট দাম পাওয়ার নিশ্চয়তা দেয়। এ ছাড়া ‘ফসল বীমা কর্মসূচি’ও রয়েছে সেখানে। ভারতে প্রায় ২৩টি পণ্য সরকার কিনে নিয়ে মজুত করে। পরে যখন মৌসুম শেষ হয়, তখন সরকার বাজারে সেই পণ্য ছাড়ে। তাতে বাজার নিয়ন্ত্রিত থাকে। পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে ‘কৃষিমূল্য কমিশন’ গঠনের প্রস্তাবও করেন এই বিশেষজ্ঞ।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়
নভেম্বরের শুরুতেই টানা তিন দিনের ছুটি পেতে পারেন স্কুল-কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস এবং শ্যামাপূজা উপলক্ষে ছুটির সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি মিলে এ সুযোগ তৈরি হচ্ছে। সে অনুযায়ী আগামী ৬ থেকে ৮ নভেম্বর পর্যন্ত বন্ধ থাকতে পারে সরকারি-বেসরকারি স্কুল-কলেজ।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২১ অক্টোবর প্রকাশিত প্রজ্ঞাপন এবং ২০২৬ সালের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ছুটির তালিকা অনুযায়ী, আগামী ৭ নভেম্বর শনিবার জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। পরদিন ৮ নভেম্বর রবিবার হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব শ্যামাপূজা।
এর আগের দিন ৬ নভেম্বর শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে শুক্র, শনি ও রবিবার মিলিয়ে টানা তিন দিন ছুটি কাটানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য। একই সঙ্গে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতেও ছুটির সুযোগ রয়েছে।
তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছুটি নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ছুটির তালিকা ও কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছুটির তালিকায় শ্যামাপূজা উপলক্ষে ছুটির তথ্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রকাশিত ছুটির তালিকায় শ্যামাপূজার ছুটির উল্লেখ নেই। ফলে মাদরাসার শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে একই সময়ে ছুটি কার্যকর হবে কি না সেটি নিশ্চিত নয়।
ছবি : সংগৃহীত
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া একটি লঘুচাপ গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টি তৈরি হলে এর সম্ভাব্য লক্ষ্যস্থল হতে পারে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ বা তামিলনাড়ু উপকূল। এর প্রভাবে আগামী মঙ্গলবার দেশের উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। রাজধানী ঢাকাতেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টি তৈরি হলে এর নাম হতে পারে ‘অর্ণব’।
আগামী সোমবার এটি উপকূলে আঘাত হানতে পারে। তবে বাংলাদেশে এর প্রভাব খুব বেশি অনুভূত হওয়ার আশঙ্কা নেই। এর প্রভাবে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। ঢাকায় বৃষ্টি হতে পারে মঙ্গলবারের দিকে। তবে বৃষ্টির পরিমাণ খুব বেশি নাও হতে পারে।
এদিকে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে দেশের বেশির ভাগ এলাকায় বৃষ্টি নেই। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণাধীন ৫১টি স্টেশনের কোনো স্টেশনেই শুক্রবার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়নি।
আবহাওয়াবিদেরা বলছেন, গত কয়েক দিনে বঙ্গোপসাগরে একের পর এক লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর পাশাপাশি পশ্চিমা বায়ুর প্রভাব বেশি থাকায় বাতাস সাগরমুখী হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের স্থলভাগে বৃষ্টির সম্ভাবনা কমে যায়। দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য বাড়ছে। দিনের বেলায় গরম থাকলেও রাত ও ভোরের দিকে তাপমাত্রা কমে আসছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে শীতের আমেজ অনুভূত হতে শুরু করেছে।