সারজিস আলম
জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, আমরা দেখছি এখানে জামায়াতের এমপি থাকলেও টেন্ডার হতে না হতে সরকারি প্রত্যেকটি অফিসে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলের অত্যাচারে কর্মকর্তা কর্মচারী ঠিকমতো অফিস করতে পারেনা। ওখানে আবার কিছু কর্মকর্তা কর্মচারী নিজেকে সরকারি কর্মচারীর চেয়ে বিএনপির লোক হিসেবে পরিচয় দিতে ভালো লাগে। তারা তাদের সঙ্গে মিলে টেন্ডারবাজি ও লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করছে।
আজ মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে নীলফামারীর জলঢাকা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক পথসভায় এসব মন্তব্য করেন।
সারজিস আলম বলেন, বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গণভোটকে অবৈধ বললেও একই আদেশে অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে বৈধ বলা যায় না। যেই আদেশের বলে একই সঙ্গে গণভোট হলো এবং নির্বাচন হলো, সেই আদেশের নির্বাচন বৈধ হয়, তাহলে গণভোট কীভাবে অবৈধ হয়? এক মায়ের পেট থেকে দুই যমজ সন্তান এসেছে, এক যমজ সন্তান বৈধ আরেকটা অবৈধ এটা তো কোনোদিন হতে পারে না।
সারজিস আলম বলেন, এই গণভোট যদি অবৈধ হয় তাহলে আপনি সালাহউদ্দিন আহমদ অবৈধ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। জনাব তারেক রহমান অবৈধ প্রধানমন্ত্রী। বিএনপি সরকার অবৈধ সরকার। কথা ভেবে-চিন্তে বলবেন। ৫০ শতাংশ মানুষ ভোট দিয়ে বিএনপিকে ক্ষমতায় বসিয়েছে, কিন্তু ৭০ শতাংশ মানুষ ভোট দিয়ে এই গণভোটের পক্ষে রায় দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এসব অনিয়ম প্রতিহত করতে হবে। মনে রাখবেন জুলুম যদি শুরু হয় তার বিরুদ্ধে যদি প্রতিবাদ না করেন কথা না বলেন টেনে না ধরেন, সেটা এমন এক পর্যায়ে যাবে সেখান থেকে আর ফিরে আসার উপায় থাকবেনা। আমরা সালাউদ্দিন আহমেদকে মনে করাতে চাই যে তাকে ভারতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আমরা মনে করাতে চাই তিনি জুলুমের শিকার হয়েছিলেন। আমরা আরও মনে করাতে চাই তারেক রহমানকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে দেশের বাহিরে পাঠানো হয়েছিল। আমরা মনে করাতে চাই তিনিও সতেরো বছর জুলুমের শিকার হয়েছেন। কিন্তু যে পঞ্চাশ পারসেন্ট মানুষ ভোট দিয়ে বিএনপিকে ক্ষমতায় পাঠিয়েছে সে মানুষ সত্তর পারসেন্ট ভোট দিয়েছে গণভোটের পক্ষে, জুলাই সনদের পক্ষে ও সংস্কারের পক্ষে। যে আদেশের ফলে বিএনপি নির্বাচিত সরকার হয়েছে। যে আদেশের ফলে গণভোট হয়েছে সেটি নাকি অবৈধ।
আমরা জনাব সালাউদ্দিন আহমেদ ও তারেক রহমানকে শুধু একটা কথা বলতে চাই, এক মায়ের যদি একসঙ্গে দুই জমজ সন্তান হয় এক সন্তান বৈধ আরেক সন্তান অবৈধ হতে পারেনা। যদি সংস্কার অবৈধ হয়, জুলাই সনদ যদি অসাংবিধানিক হয় তাহলে সালাউদ্দিন আহমেদ, তারেক রহমান বিএনপি সরকার সবকিছু অবৈধ। আপনারা যদি গণভোট বাস্তবায়ন না করেন তাহলে আগামীর বাংলাদেশে এই বিএনপির কবর রচিত হবে ইনশাল্লাহ।
সারজিস আলম আরও বলেন, বিএনপি সরকার কিছুদিন আগে আট হাজার কোটি টাকার একটা উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছেন। এই প্রকল্প টা নিয়েছেন শুধুমাত্র বিএনপির এমপিদের জন্য। এখন বিএনপি সরকার ও তারেক রহমানের কাছে আমাদের প্রশ্ন বিএনপি যে বর্তমানে সরকারে আছে তারা কি শুধু ধানের শীর্ষের সরকার নাকি যেখানে শুধু বিএনপি জিতেছে তিনি সেখানের সরকার। নাকি তারা বাংলাদেশের সরকার এবং ৩০০ আসনের সরকার এই উত্তরটা তাদের দিতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা একটু প্রশাসনের দিকে নজর দিতে চাই। গনঅভ্যুত্থানের আগে দেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা বলতো 'র' এর হেড কোয়ার্টার ভারতে ও ভারতের গোয়েন্দার সংস্কার আরেকটা হেড কোয়ার্টার আছে ক্যান্টনমেন্টে। বিএনপির সরকারকে বলতে চাই আমার এই সেনাবাহিনী আমার সার্বভৌমত্বের প্রতীক, শক্তির প্রতীক, ঐতিহ্যের প্রতীক সেনাবাহিনীকে বাংলাদেশের সবথেকে শক্তিশালী বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে৷
ব্যাংক খাত নিয়ে অভিযোগ তুলে সারজিস আলম বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার যেমন এস আলমের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংক দখল করেছিল, বিএনপিও একই পথে হাঁটছে। আমরা দেখছি তারা ব্যাংক দখলের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে এস আলমের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংক দখল শুরু করেছে। বিএনপি ২০২৬ সালে ক্ষমতায় এসে একই বছর ইসলামী ব্যাংক দখলের পাঁয়তারা শুরু করেছে তাদের দলীয় নেতা আর এস আলমের বেয়াই ও শ্বশুরের মাধ্যমে।
তিনি আরও বলেন, গত পরশুদিন ইসলামী ব্যাংকে আরেকজনকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। সরাসরি এস আলমকে ফিরিয়ে আনতে পারেনি চক্ষুলজ্জার ভয়ে, তাই এস আলমের বেয়াইকে ফিরিয়ে এনেছে। অথচ এই এস আলম আওয়ামী লীগের সময়ে মানুষের প্রায় ৯৯ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। এখন ভাগ-বাটোয়ারার রাজনীতির কারণে তাদের পুনর্বাসন করা হচ্ছে।
গণঅধিকার পরিষদের নেতা নুরুল হক নুর, রাশেদ খাঁন এবং গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান জোনায়েদ সাকীর সমালোচনাও করেন সারজিস আলম।
তিনি বলেন, যাদের আমরা একসময় সংস্কারের পক্ষে কথা বলতে দেখেছি, আন্দোলনে দেখেছি, তারা আজ একটা প্রতিমন্ত্রীর লোভে বিবেক বিক্রি করে দিয়েছে। জোনায়েদ সাকি, যার মুখে প্রথম সংস্কারের কথা শুনেছি, তিনি একটা প্রতিমন্ত্রীর লোভে সংসদে গিয়ে এমন হারিয়ে গেছেন যে টর্চলাইট, হারিকেন দিয়েও খুঁজে পাওয়া যায় না। তারেক রহমানের অবস্থা এতটাই বাজে হয়েছে, বিএনপির এতটাই খারাপ দিন এসেছে যে রাশেদ খাঁনের মতো একটা মিথ্যা প্রোপাগান্ডাবাজকে তিনি সহকারী বানিয়েছেন।
পঞ্চগড়ে ছাত্রলীগের এক নেতার জামিন প্রসঙ্গ তুলে বিচার বিভাগ ও প্রশাসনের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দেন সারজিস আলম।
তিনি বলেন, কয়েকদিন আগে পঞ্চগড় জেলা ছাত্রলীগের যে সভাপতি জুলাই আন্দোলনে আমার ভাইদের পিটিয়েছে, রক্তাক্ত করেছে, তার জামিন হয়ে যায়। পুলিশকে বলতে চাই, জেলা জজকে বলতে চাই, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে বলতে চাই, হাইকোর্টের বিচারকদের বলতে চাই আপনাদের মধ্যে অনেকেই এখনো মনে মনে আওয়ামী লীগের দালাল।
আগামী অভ্যুত্থানে অফিসে বসে থাকা, কোর্টে বসে থাকা, থানায় বসে থাকা, প্রশাসনে বসে থাকা দালালদের বিরুদ্ধে সবার আগে অভ্যুত্থান হবে। প্রত্যেকের নামের তালিকা করা হবে। কোন ডিসি, কোন এসপি, কোন ওসি, কোন ইউএনও দেশের মানুষের আগে দলের দালালি করে, তাদের নাম পোস্টার করে দেয়ালে লাগিয়ে দেওয়া হবে। এর আগে অনেকে পার পেয়ে গিয়েছে, আগামীতে আপনারা পার পাবেন না ইনশাআল্লাহ।
প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে সারজিস আলম বলেন, আওয়ামী লীগ ছিল, এখন নেই। বিএনপি আজ আছে, আগামীতে নাও থাকতে পারে। কিন্তু জনগণ থাকবে, রাষ্ট্র থাকবে। তাই দলের দাস হিসেবে নয়, কোনো ব্যক্তির দালাল হিসেবে নয়, জনগণের জন্য কাজ করুন। জনগণই আপনাদের সম্মান রক্ষা করবে।
এসময়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন, দলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক উত্তর অঞ্চলসহ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সড়কে ‘শৃঙ্খলা ফেরানোর’ চেষ্টার অংশ হিসেবে ই-রিকশা নিবন্ধন করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনার দিয়ে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) থেকে কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।
ডিএসসিসির এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়,কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ই-রিকশার নিবন্ধনে মঙ্গলবার থেকে প্রতিটি ১০০ টাকা মূল্যের আবেদন ফরম বিতরণ করা হবে। নগর ভবন ও ডিএসসিসির সব আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে ফরম সংগ্রহ করা যাবে।
সম্প্রতি স্থানীয় সরকার বিভাগের জারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিক্সা (ই-রিক্সা) চলাচল বিধিমালা, ২০২৬ অনুসরণ করে এ নিবন্ধন পরিচালিত হচ্ছে।আবেদনকারীর যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
নিবন্ধনের আবেদনকারীকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে।
নির্ধারিত ফি জমা দেওয়া সাপেক্ষে আবেদনপত্রের সঙ্গে কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে। যেমন- জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত অনুলিপি, সদ্য তোলা দুই কপি পাসপোর্ট আকারের ছবি, ফি জমার মূল রসিদ, নির্ধারিত ফরমে ফিটনেস সার্টিফিকেট।
ডিএসসিসির ঘোষণা অনুযায়ী, আবেদন ও কাগজপত্র যাচাইয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদণ্ড এবং নিরাপত্তাবৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ই-রিকশার উপযুক্ততা পরীক্ষা ও কারিগরি ছাড়পত্র গ্রহণ বাধ্যতামূলক।
এ ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তি তার একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে সর্বোচ্চ ৫টি আবেদন ফরম সংগ্রহ ও ই-রিক্সার নিবন্ধন গ্রহণ করতে পারবেন। ফরম সংগ্রহ বা জমা দিলেই নিবন্ধন নিশ্চিত হবে না; সব মানদণ্ডে উত্তীর্ণ বাহনকেই সনদ দেওয়া হবে।
ভারতীয় ফেন্সিডিল জাতীয় মাদকদ্রব্য (আরসি কাফ)। ছবি: সংগৃহীত
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর সীমান্তে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ২৯ বোতল ভারতীয় ফেন্সিডিল জাতীয় মাদকদ্রব্য (আরসি কাফ) উদ্ধার করেছে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)। গত ১ নভেম্বর দিবাগত রাতে সীমান্তবর্তী এলাকায় পরিচালিত এ অভিযানে মালিকবিহীন অবস্থায় মাদকদ্রব্যগুলো উদ্ধার করা হয়।
৪২ বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ বাশালগাঁও বিওপির দায়ীত্বপূর্ণ এলাকায় বিশেষ চোরাচালানবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় মালিকবিহীন অবস্থায় ২৯ বোতল ভারতীয় ফেন্সিডিল জাতীয় মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেন বিজিবি সদস্যরা।
উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত চোরাচালানিদের শনাক্ত করতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারী ও তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে বিজিবি।
দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান জানান, সীমান্তে মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি নিয়মিত টহল ও নজরদারীর পাশাপাশি অপরাধী চক্রের গতিবিধি এবং তাদের ব্যবহৃত কৌশল শনাক্তে কাজ করছে। সীমান্তের যেকোনো স্থানে সন্দেহজনক তৎপরতার তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বিজিবির লক্ষ্য শুধু মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা নয়, বরং এর সঙ্গে জড়িত চোরাচালান চক্রের তৎপরতা বন্ধ করাও। এ লক্ষ্যে সীমান্তজুড়ে বিজিবি সদস্যরা সর্বদা সতর্ক ও সজাগ রয়েছেন।
সভার আয়োজন। ছবি: সংগৃহীত
চেয়ারম্যান প্রার্থী হাজী জিয়াউর রহমান জিয়া।
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ১০নং হবিরবাড়ী ইউনিয়নে গণসংযোগ ও মতবিনিময় চালিয়ে যাচ্ছেন সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হাজী জিয়াউর রহমান জিয়া। এলাকার মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়িয়ে তাঁদের সমস্যা, প্রত্যাশা ও উন্নয়ন ভাবনা জানার পাশাপাশি জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নিজের সম্ভাব্য প্রার্থিতার বিষয়টি তুলে ধরছেন তিনি।
হাজী জিয়াউর রহমান জিয়া ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা যুবদলের অন্যতম সদস্য ও হবিরবাড়ী ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকার শ্রমজীবী, খেটে খাওয়া ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন দুর্যোগ ও সংকটের সময় সহযোগিতা করে থাকেন তিনি। এ ছাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন মসজিদ ও মাদরাসায় আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছেন বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
নির্বাচন সামনে রেখে ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম, পাড়া-মহল্লা ও হাটবাজারে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও মতবিনিময় করছেন জিয়া। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে এলাকার নাগরিকসেবা, যোগাযোগব্যবস্থা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও সামাজিক সমস্যার বিষয়ে তাঁদের মতামত জানার চেষ্টা করছেন তিনি।
শিল্পকারখানাকেন্দ্রিক গুরুত্বপূর্ণ জনপদ হবিরবাড়ী ইউনিয়নে উন্নয়নের সম্ভাবনার পাশাপাশি নাগরিকসেবা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। শিল্পাঞ্চলের উপযোগী সড়ক ও যোগাযোগব্যবস্থা, জলাবদ্ধতা নিরসন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের মতো বিষয়গুলো স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশার ক্ষেত্রেও নাগরিকসেবার মানোন্নয়ন, এলাকার সমস্যার দ্রুত সমাধান এবং জনপ্রতিনিধির সঙ্গে সহজে যোগাযোগের সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে, সাধারণ মানুষ যেন নিজেদের সমস্যা ও অভিযোগ সরাসরি জনপ্রতিনিধিকে জানাতে পারেন এবং উন্নয়ন কার্যক্রমে তাঁদের মতামত প্রতিফলিত হয় এমন একটি জবাবদিহিমূলক স্থানীয় সরকারব্যবস্থা প্রত্যাশিত।
সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী জিয়া জানান, দলীয় মনোনয়ন পেলে এবং নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পেলে ইউনিয়ন পরিষদকে সাধারণ মানুষের আরও কাছাকাছি নিয়ে যেতে চান তিনি। স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও জনসম্পৃক্ততা নিশ্চিত করার পাশাপাশি এলাকার প্রয়োজন অনুযায়ী উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিতে চান তিনি।
হাজী জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, “হবিরবাড়ী একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল। এখানে তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, খেলাধুলার পরিবেশ গড়ে তোলা এবং যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে সামাজিক উদ্যোগ বাড়ানো প্রয়োজন। দল আমাকে মনোনয়ন দিলে এবং জনগণ নির্বাচিত করলে সবার মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে ইউনিয়নের উন্নয়নে কাজ করতে চাই। আমার লক্ষ্য হবে সাধারণ মানুষের সমস্যার কথা শোনা এবং সাধ্যমতো সেগুলোর সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া।”
তিনি আরও বলেন, এলাকার উন্নয়নকে শুধু রাস্তাঘাট ও অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নাগরিকসেবার মানোন্নয়ন, সামাজিক সম্প্রীতি, যুবসমাজকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়গুলোও গুরুত্ব পাওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয় মানুষের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগের মাধ্যমে তাঁদের প্রত্যাশা ও অগ্রাধিকার সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার চেষ্টা করছেন জিয়াউর রহমান জিয়া। তাঁর এই গণসংযোগ আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক তৎপরতারই অংশ। তবে দলীয় মনোনয়ন এবং নির্বাচনে তাঁর চূড়ান্ত প্রার্থিতা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, নির্বাচনে যিনিই জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হোন, তিনি যেন দল-মতনির্বিশেষে সবার জন্য কাজ করেন এবং হবিরবাড়ী ইউনিয়নের নাগরিকসেবা, পরিকল্পিত উন্নয়ন ও জনদুর্ভোগ নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখেন।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে এসএসসি নির্বাচনী (টেস্ট) পরীক্ষা চলাকালে ফিলিপনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কার্যালয় লক্ষ্য করে দুটি বোমা জাতীয় বস্তু বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে বিকট শব্দে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুর ৩ টা ৪৫ ঘটিকায় দিকে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও শিক্ষার্থী সূত্রে জানা গেছে,বিদ্যালয়ে টেস্ট পরীক্ষা চলাকালে প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান আসাদ পাঁচ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মোবাইল ফোন জব্দ করেন।এ সময় তানজিন রহমান রিদু নামে এক শিক্ষার্থীকে পরীক্ষার নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়।পরে ওই শিক্ষার্থী কয়েকজন বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ে এসে প্রধান শিক্ষকের কার্যালয় লক্ষ্য করে দুটি বোমা জাতীয় বস্তু নিক্ষেপ করে বলে অভিযোগ উঠেছে।এতে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
তানজিন রহমান রিদু ফিলিপনগর ইউনিয়নের চরসাদিপুর গ্রামের মিন্টুর ছেলে ও জামায়াত নেতা খাজা আহামেদের ক্যাডার বলে জানা গেছে।
ঘটনার সময় ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী,মোটরসাইকেলটি কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও ফিলিপনগর ইউনিয়নে জামায়াত মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী খাজা আহমেদের।
এ বিষয়ে খাজা আহমেদের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রশ্ন শুনে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, পরীক্ষার হলে নিয়ম ভঙ্গের কারণে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করে। এরপর বিদ্যালয়ের পাশে দুটি বোমা বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়।খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে কাজ করছে।ঘটনাস্থল থেকে একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।তদন্তে মোটরসাইকেলটির মালিক হিসেবে জামায়াত নেতা খাজা আহমেদের নাম পাওয়া গেছে।এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ বলেন, ঘটনাটি শুনে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট মো. রুহুল কবির রিজভী
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠায় সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম. সাইফুর রহমানের অবদান স্মরণ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট মো. রুহুল কবির রিজভী। তাঁর দূরদর্শী চিন্তা সিলেটে উচ্চশিক্ষা ও কৃষিশিক্ষার নতুন দিগন্ত খুলেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সোমবার (২ নভেম্বর) সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠায় এম. সাইফুর রহমানের অবদান এ অঞ্চলের মানুষ চিরদিন মনে রাখবে। শিক্ষার প্রসারে তাঁর আগ্রহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কৃষির উন্নয়ন প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, সমন্বিত কৃষিনীতি থাকলে দেশের সমৃদ্ধি আরও দ্রুত ও টেকসই হবে। কৃষি দেশের খাদ্যনিরাপত্তা, গ্রামীণ অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের মূল ভিত্তি।
তিনি বলেন, কৃষির উন্নয়নে উৎপাদন, বাজার, প্রযুক্তি ও কৃষকের জীবনমানকে গুরুত্ব দিতে হবে। দেশের পতিত জমি চিহ্নিত করে চাষের আওতায় আনতে হবে। এতে কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং খাদ্য আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে।
তিনি আরও বলেন, উর্বর কৃষিজমি রক্ষা করা জরুরি। উন্নয়ন পরিকল্পনায় পতিত বা কম উৎপাদন শীল জমি ব্যবহারে গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে কার্যকর ভূমি ব্যবহার নীতিমালা বাস্তবায়ন করতে হবে।
কৃষকদের সহায়তার বিষয়ে রিজভী বলেন, হতদরিদ্র কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড চালুর উদ্যোগ ইতিবাচক। তবে প্রকৃত কৃষকেরা সুবিধা পাচ্ছেন কি না, তা নিয়মিত তদারকি করতে হবে।
এর আগে জাতীয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি শুরু হয়। বেলুন ও সাদা পায়রা উড্ডয়ন করা হয়। কেক কাটা, বৃক্ষরোপণ ও বর্ণাঢ্য র্যালির আয়োজনও ছিল। পরে ‘সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়: প্রতিষ্ঠা, অর্জন ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জাতীয় দিবস উদযাপন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহবুব ইকবালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সফি উল্যাহ মজুমদার।
বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, সংসদ সদস্য মোছাঃ তাহসিনা রুশদীর লুনা ও মোহাম্মদ আব্দুল মালিক।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান মিফতাহ্ সিদ্দিকী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার ড. এ.টি.এম. মাহবুব-ই-ইলাহী।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ডিন কাউন্সিলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. শাহজাহান মজুমদারসহ শিক্ষক, কর্মকর্তা ও আমন্ত্রিত অতিথিরা।
প্রধান বক্তার বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার বলেন, শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্যের মূল ভিত্তি। কৃষির আধুনিকায়ন ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি উদ্ভাবনেও গুরুত্ব দিতে হবে। গবেষণার সুফল কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।